একগুচ্ছ শুকতারা
শারমিন ইরান
১৮. (অর্ধাংশ)
মাহাথিরের অফিসের একটা ভালো নিয়ম আছে। যে আগে কাজ শেষ করবে চাইলেই সে ম্যানেজারকে কাজ বুঝিয়ে দিয়ে বাসায় চলে যেতে পারে। তবে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত থাকা আবশ্যক। মাহাথির, আনাস প্রায়ই আগে কাজ শেষ করে চলে যায়। তবে মাহাথির এখন ইচ্ছে করেই অতিরিক্ত সময় ধরে কাজ করে, আর আনাস করে কিছু কাজ জমা থাকার কারণে। অফিস বলতে গেলে প্রায় ফাঁকা’ই।
মাহাথির শ্রুতির ফোন কেটে দেওয়ার পরেই দেখতে পেল আনাস নিজের টেবিল ছেড়ে উঠে আসছে। চেহারায় বিরক্তি বেশ ভালো ভাবেই লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
‘কি সমস্যা?’ মাহাথির আনাসের প্রতিক্রিয়া দেখে প্রশ্ন করল।
‘ফোনটা কার ছিল?’
‘বিভার ছোটবোনের।’
‘সিরিয়াসলি মাহাতির! তুই বিভার বোনকে এইসব বললি?’
‘হ্যাঁ, তো?’
‘আমার জাস্ট তোকে কিছু বলার নেই। ভেবেছি খালাআম্মাকে হয়তো বলেছিস। তাই আসিনি। ভেবেছি জানার দরকার, উনার গুণধর ছেলের কাহিনী। কিন্তু তুই…….তুই খুবই নিচু মানসিকতার একটা কাজ করে ফেললি। তুই তো এমন না; তুই বদ/রাগী, মেজাজী, জেদি কিন্তু খারাপ নস। তাহলে এইসবের মানে কী?’ আনাসের কণ্ঠে হতাশায় ঠাই পাচ্ছেনা।
‘তোর এতো খারাপ লাগার কী হলো?’
‘খারাপ লাগছে। কারণ তুই একটা জ/ঘন্য কাজ করেছিস।’
‘কোনো জ ঘন্য কাজ করিনি। বিভার বোন আমার ফোন দিল কেন?’
‘জাস্ট এতোটুকুই? ফোন দিবেনা কেন তুই বল? তুই ওর বড় বোনের স্বামী। ফোন দিবেনা? আর ফোন দিয়েছে বলে তুই নিজেদের ব্যাপার ওকে জানিয়ে দিবি? এতোটা অবুঝ তুই? মিনিমাস সেন্স নেই? কা পুরুষের মতো কাজ করলি তুই একটা।’
‘আনাস, ভালো লাগছে না। আর তোর এতো কী যায় আসে আমার কাজকর্মে?’
মাহাথিরের কথায় আনাস নিভে গেল। এতোক্ষণ জোড়ে জোড়ে কথার কারণে ঘেমে গেছে, হাঁপাচ্ছে। নিজেকে থামিয়ে শান্ত কণ্ঠে বলল,
‘আমার কিছু যায় আসেনা, মাহাথির। কিন্তু তোর যাবে আসবে। যখন নিজের ভুলগুলো বুঝতে পারবি সেদিন তোরই সবচেয়ে বেশি যাবে আসবে। আর আমার যায় আসে বলতে আমার জীবনে কোনো বন্ধু কোনোকালেই ছিলনা। তুই প্রথম এবং শেষ। তাই শুধু চেয়েছিলাম নিজের বন্ধুটা যাতে ভালো থাকে; নিজেকে নিয়ে যাতে আর ছন্নছাড়া না থাকে। কারণ আমি জানি, সে যতোই উপরে উপরে রাগ ঝাড়ুক, তার মন অনেক ভালো। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে তোর মনটাও জ ঘন্য। নয়তো এমন নিচু কাজ করতে পারতিনা।’
আনাস নিজের টেবিলে ফিরে নিমিষেই কাগজপত্র গুছিয়ে ফেলল। ব্যাগ নিয়ে বের হতে নিবে, তখনি মাহাথির ডাকল,
‘কোথায় যাচ্ছিস?’
‘জাহান্নামে…….আমার তো ১টা বউ আছে। সে আমার জন্য অপেক্ষা করছে। তার অপেক্ষা দীর্ঘ করাতে চাইছিনা তাই বাসায় যাচ্ছি। কোনো জ ঘন্য, খারাপ মানুষের সাথে আপাতত সময় কাটানোর ইচ্ছা নেই।’
মাহাথির ভ্রু কুঁচকে আনাসের কথা শুনল। আনাসের থেকে চোখ সরিয়ে নিজের ফোনের দিকে তাকাল। যেখানে উঠে আছে তার অতি পরিচিত এক নাম্বার। নিচেই একটা সবুজ আর লাল চিহ্ন। মাহাথির ফোন কানে তুলল।
.
মাহাথির বাইক চালাচ্ছে। তার মন ভীষণ খারাপ। সে নিজের উপর ভীষণ বিরক্ত অনুভব করছে। সে এমন কেন? তার কেন এতো রাগ? কেন অন্যের পরিস্থিতি বুঝে সে রিয়্যাক্ট করেনা? কেন নিজের দিকটাই শুধু বিবেচনা করে সে? কেনইবা এতো রাগ হয় তার; যেখানে অপরপক্ষকে দোষী মনে হয়; মনে হয় সে কেন আমি যা চাই তা সে করছে না? নাহ….আর রাগ করা যাবেনা। রাগ কমাতে হবে। সে আর কারোর উপর রাগ করবে না। না মানে না।
এই প্রতিজ্ঞা সে আগেও করেছে, কিন্তু পূরণ করতে পারেনি। এইবার পূরণ করেই ছাড়বে।
নিজেকে অনেক কিছু বুঝাচ্ছে মাহাথির। সাথে এটাও বুঝাচ্ছে যে, বিভার ওপরও রাগ দেখাবে না, ওকে ইগনোর করবে। তাহলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
মাহাথির বেশ অনুতপ্ত। মাঝেমধ্যে আমরা এমন সব খারাপ কাজ করে ফেলি। যা করার পর শুধরে নেওয়ার কোনো সুযোগ থাকেনা। মাহাথিরের মনে হলো সেও এই ধরনের কাজ করেছে। আনাস যাওয়ার পর ভীষণ অস্বস্তি হচ্ছিল আনাসের কথা ভেবে। তখন মনে হলো, সত্যিই সে খুব নি চু ১ টা কাজ করেছে। এটা না করলেও হতো। কিন্তু এখন শুধরাবে কীভাবে? সাথে বন্ধুকেও কষ্ট দিল। তবে আনাসকে চেনে সে, কালই এসে বকবক শুরু করবে। তাদের তো কতোই এমন ঝগড়া হয়।
বাজারে এসে থামল মাহাথির। বিভা তখন ফোনে বলেছে যে বাসায় কিছুই নেই, শাকসবজি,মাছ নিয়ে যেতে। মাহাথির বাজারে ঢুকল।
শাকসবজি দরদাম করে মানিব্যাগ থেকে টাকা বের করে দিতে গিয়েও দিল না। শ্বাস ছেড়ে বলল, ‘আজ সবজি নিব না। রেখে দেন।’
বলেই হাঁটা ধরে চলে গেল মাংসের দোকানে। শ্রুতি বলছিল ওরা পরশু আসবে, আসলে বিভাই বা কী রান্না করে দিবে — সেই ভাবনা থেকেই কিছু ভালোমন্দ বাজার করল।
সে আরেকবার নিজেকে ধিক্কার জানাল। সে বিয়ে করে না’ই খুশি থাকতে পারে, কিন্তু বিয়ে তো হয়েছে। সে খারাপ আছে বলে শ্রুতি ওর বোনের বাড়িতে আসবে না? তার নিজের ভাইবোন থাকলেও তো আসত। আসত না?
মাহাথির বাইকে উঠতে উঠতে নিজেকে বুঝাল, এতো বাজার সদাই হলো কেবল তার শ্রুতির প্রতি করা খারাপ ব্যবহার এর সরি স্বরুপ। এরপর আর এই ব্যাপার নিয়ে ভাববে না সে। অতিরিক্ত ভেবে ফেলছে এই বিভা-শ্রুতিকে নিয়ে। এছাড়া আরোও ভাবল, কাল ২ তারিখে শ্রুতিকে ফোন করবে। বলবে যাতে নিজের বোনের বাড়িতে আসে।
নিজেকে এও বুঝাল, সে শুধুমাত্র নিজের দায়িত্ব পালন করছে। বিভার প্রতি ভালোলাগা কিংবা ভালোবাসা কোনোটাই নেই, ইহজনমে হবেওনা। শুধুমাত্র সংসার করবে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে এই যা….সমাজ ওদের বেঁধে তো দিয়েছে কিন্তু মন বাঁধতে পারেনি। দুটো মন নিজেদের মতো উড়ে বেড়াচ্ছে আকাশজুড়ে।
একগুচ্ছ শুকতারা
শারমিন ইরান
১৮. (বাকি অংশ)
ইংরেজিতে জুলাই মাস চলছে। বাংলাতে কী মাস চলছে বিভা জানেনা। হিসাব করলে বের হবে, করতে ইচ্ছে করছেনা। বাহিরের জানালা দিয়ে কী সুন্দর ঠান্ডা বাতাস! অথচ দুপুরেই কতো গরম ছিল; চামড়া পুরে যাওয়ার মতো গরম।
আজ অনেকদিন পর ভার্সিটি গিয়েছিল বিভা। অর্নাস এর চার বছরকে সে পাঁচ বছরে নিয়ে এসেছে। এরপর কতো বছরে গিয়ে থামবে তা তার জানা নেই।
আজ অনেকদিন পর দাদিআম্মার সাথে কথা হয়েছে। ব্যস্ততায় প্রায় ভুলেই বসেছিল।
মানুষটার হাঁটুর ব্যথা বেড়েছে, আগের মতো চলাচল করতে পারেনা। রুমেই নাকি থাকে সারাদিন। সময় নিয়ে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে একদিন। তার ছেলে তো ফিরেও তাকাবে না মায়ের দিকে। তাকাবে না — ব্যাপারটা এমন নয়। আসলে সে ব্যস্ততায় সময়ই বের করতে পারেনা; তার স্ত্রীও যে নিজের শ্বাশুড়ির অসুস্থতা সম্পর্কে তাকে অবগত করবে এতো ভালো বউভাগ্য আমিনার জুটেনি। আচ্ছা একটা লোক এতো খারাপ কেমন করে হতে পারে? না সে স্বামী হিসেবে ভালো, না সে বাবা হিসেবে ভালো, আর না ছেলে হিসেবে। তবে মানুষটা অনেক পরিশ্রমী। পরিশ্রমের একমাত্র লক্ষ্য — টাকা ইনকাম। এতো টাকা ইনকাম করে কী হবে? সে যখন অসহায় বোধ করবে তখন কী টাকা তাকে ভরসা দিতে পারবে? সে যখন একাকিত্ব অনুভব করবে তখন কী টাকা তাকে সঙ্গ দিতে পারবে? জীবনে সবকিছুরই প্রয়োজন আছে, তবে তা নির্দিষ্ট পরিমাণে।
রাত ১২ টার পর ৩ জুলাই হবে। বিভার জন্মদিন। বিভা জানে আজ তার জন্মদিন। সে অপেক্ষা করছে শ্রুতির ফোনের। তাকে শুভেচ্ছা জানানোর জন্য একমাত্র তার ছোটবোন'ই তো রয়েছে।
অনেকক্ষণ পেরিয়ে যাওয়ার পরও যখন ফোন এলো না বিভা মোবাইল হাতে নিয়ে দেখল কয়টা বাজে। ১২ টা ১৭ বাজে। শ্রুতি ফোন করল না যে!
প্রতিবার শ্রুতি, হামিম, দাদিআম্মু ভীষণ যত্ন করে বিভাকে জন্মদিনের উইশ করে। বিভার ভালো লাগে। মনে হয় এই পৃথিবীতে কেউ তো আছে যাদের কাছে সে মূল্যবান। দাদিআম্মুর যে এতো বয়স হয়েছে, তবুও সে দুপুরেই বিভাকে অনেক দোয়া দিয়ে দিয়েছে। সে যে মনে রেখেছে এই কতো!
কিন্তু শ্রুতির ব্যাপারটায় একটু খারাপ লাগল। মূহুর্তেই ভাবল শ্রুতি হয়তো ভুলে গিয়েছে কিংবা কাল ফোন করবে। এর আগে তো দুইজন দুইবাড়িতে না, একবাড়িতে ছিল। তাই অন্যান্য বছরের সাথে এই বছরের তুলনা চলে না।
বিভা পাশে তাকাল। মাহাথির নিজের মতো কাগজপত্রে কী যেন লেখালেখি করছে। মাহাথিরকে একবার ভাবল ডেকে বলবে যে, আজ তার জন্মদিন। থাক…কী দরকার? কাজ করছে, করুক।
বিভা নিঃশব্দে উঠে গেল। ব্যাগ থেকে কিছু একটা বের করে চলে গেল অন্যরুমে।
মাহাথির রুমের দরজায় তাকাল। অন্য রুমের আলোর প্রতিফলন বুঝিয়ে দিল যে অন্য রুমের লাইট জ্বালানো হয়েছে। কিছু একটা ভেবে মাহাথির নিজের ফোনের পাওয়ার বাটন অন করল। ৩ জুলাই। মেয়েটার জন্মদিন। তার কী উইশ করা উচিত ডেকে?
ফোন অফ করে কাজে মনোযোগ দিল মাহাথির।
.
বিভা তার মা তাহিরার ডায়েরি খুলল। ডায়েরিতে মোটামুটি তাহিরার কৈশোর থেকে বেঁচে থাকার আগ পর্যন্ত প্রায় অনেক কিছুই লেখা আছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি। বেঁচে থাকতে এই ডায়েরি কেউ পড়েনি। শেষ মূহুর্তে বিভাকে ডায়েরিটা দিয়ে শুধুমাত্র বলেছিল, এই ডায়েরি যাতে কেউ না পড়ে, কারোর হাতেই যাতে না পড়ে।
বিভা কারোর হাতে পড়তে দেয়নি। তবে শ্রুতিকে একবার দিয়েছিল। শ্রুতি কয়েক পৃষ্ঠা পড়ে আর পড়েনি, ফেরত দিয়েছে বিভাকে। শ্রুতির ভাষ্যমতে, ডায়েরি পড়লে তার মায়ের কথা বেশি মনে পড়ে, এতে তার দুঃখ আরোও বেশি হয়, কান্না পায় - তাই সে পড়ে না। পক্ষান্তরে, বিভার ডায়েরিটা পড়তে ভীষণ ভালো লাগে। মনে হয় সে তার মায়ের সাথে কথা বলছে। এই ডায়েরির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার পড়া। পৃষ্ঠা উল্টিয়ে উল্টিয়ে নিজের প্রিয় পৃষ্ঠা বের করল। বের করে পড়তে লাগল-
| আজ ৩ জুলাই। আমার জীবনের কিছু শ্রেষ্ঠ দিনের মধ্যে একটি। আজ আমি এক ফুটফুটে ফুলের মতো মেয়ের মা হলাম। মহান আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা আমার নেই। জীবনে তো তেমন কোনো ভালো কাজ আমি করিনি, তাহলে এমন ফুলের কলি আমার গর্ভে জন্ম নিলো কেমন করে?
আমার মেয়ের নাম রেখেছি বিভা। অনেক যত্ন করে এই নামটা আমি রেখেছি। বিভা নামের অর্থ দীপ্তি, সৌন্দর্য। আমার মেয়ের নাম সার্থক।
আজ আমার ভাইয়ের বউ আমার মেয়েকে দেখতে এলো। বলল মেয়ে নাকি কালো হয়েছে, আমার রঙ পায়নি। অথচ আমার মেয়ের দিকে তাকালে তার সৌন্দর্যে আমার কান্না চলে আসে। কী সুন্দর ফুটফুটে মেয়ে আমার! মাশ-আল্লাহ!
আমার নাম তাহিরা ইবনাত। এতোদিন সবাই আমাকে তাহিরা বলে ডাকত। অথচ এখন আমাকে সবাই ডাকে ‘বিভার মা’ বলে। কথাটা শুনতে এতো শান্তি লাগে! মনে হয় এই পৃথিবীতে এরচেয়ে সুন্দর শব্দ আর হতে পারেনা। আমি তাহিরা নই, আমি বিভার মা। |
বিভা মুচকি হেসে সব পড়ল। পড়তে পড়তে কখন চোখে পানি চলে এলো বুঝল না। পুরো ডায়েরি জুড়ে তাকে নিয়ে তার মায়ের শত শত পাগলামি আছে। শ্রুতির বেলায়ও বাদ যায়নি। শ্রুতির বাচ্চামো, অবুঝপনা নিয়ে তাহিরার কতো আবেগ! তার এবং শ্রুতির প্রতু অনুভূতি তো ডায়েরিতে জায়গা পেল, শুধু পেল না হামিমের প্রতি অনুভূতি। তবে সেই ডায়েরিতে হামিমকে নিয়েও ১ টা লাইন আছে। লাইনটা কিছুটা এরকম - আজ আল্ট্রাতে ধরা পরেছে আমার ছেলে হবে। আমি দুই মেয়ে, এক ছেলের মা হবো। আমার ছেলে হলে তার নাম রাখব হামিম। বিভা, শ্রুতি, হামিম। আমার যত্নের তিন জীবন্ত পুতুল। আমি তাহিরা নই, আমি বিভা, শ্রুতি আর হামিমের মা।
বিভা নিঃশ্বাস ছাড়ল। কী হতো তার মা যদি হামিমকে দেখে যেত, কী হতো যদি আর কিছুদিন থেকে তার তিন জীবন্ত পুতুলকে আগলে রাখত?
বিভা ডায়েরিটা আবার খুলল। পরের পৃষ্ঠা গুলো পড়তে নিল কিন্তু আর পড়ল না। কারণ এই পৃষ্ঠা গুলোয় তার বাবাকে নিয়ে লেখা। বন্ধ করতে গিয়েও একবার চোখ বুলিয়ে নিল -
| মেয়ে হওয়াতে আমিন খুশি হয়নি তা আমি বুঝতে পারি। মেয়ে হয়েছে তার উপর গায়ের রঙ চাপা এইটাই আমিনের সমস্যা। এতোদিন শুধু ধারণা করেছিলাম, তবে আজ বুঝতে পারছি আমিন কখনো আমাকে ভালোবাসেনি, ভালোবেসেছে আমার সাদা রঙকে। তাই তো নিজের মেয়ের প্রতি এতো অবহেলা।
আচ্ছা, এমন একটা মানুষকে আমি ভালোবাসলাম কেমন করে? সে তো আমাকে ভালোবাসেনি, আমি কেন বাসলাম?|
ঠাসস করে বন্ধ করে দিল ডায়েরিটা। এইসব পড়ে মন খারাপের মানে হয়না….
.
শুক্রবার, দুপুর ১২ টা ৪০ মিনিট।
গাড়িতে বসে আছে শ্রুতি। তার পাশেই হামিম বসা। গন্তব্য - বিভার বাড়ি।
পার্থিব সকালে উঠেই চলে গেছে অফিসে। বলে গেছে, কাজ আছে। নামাজের পর পৌঁছে যাবে ঠিক সময়ে। শ্রুতি আর তেমন কিছু বলেনি।
গত পরশুর ঘটনার পর শ্রুতির কোনো ইচ্ছা ছিল না বিভার বাড়িতে যাওয়ার। পার্থিবের বুঝানো, সাথে গতকাল মাহাথির ভাইয়ার ফোনের কারণে যাচ্ছে। মাহাথির বেশ বিনীতভাবেই বলেছে আসার জন্য, সাথে আগেরদিনের কথা ভুলে যেতে বলেছে। কিন্তু শ্রুতি মোটেও ভুলবেনা।
শ্রুতি ঠিক করল বিভাকে গিয়ে আজ সব সত্যি জিগ্যেস করবে। এরপর মিস্টার মাহাথিরের চৌদ্দটা বাজাবে। যদিও পার্থিব তাকে বুঝিয়েছে স্বামী-স্ত্রীর ব্যাপারে অতিরিক্ত নাক গলানো দৃষ্টিকটু হবে। কিন্তু শ্রুতি তো নাক, কান, হাত, পা সব গলাবে।
.
কলিংবেল বাজছে। এই সময়ে কে? বিভা ভাতের চাল ধুতে নিচ্ছিল। পাতিল টা রান্নাঘরে রেখে কিছুটা দৌড়ে গিয়ে দরজা খুলল। যাকে দেখল, তাকে দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলনা। আমিন শিকদার! কিন্তু এখানে কেন? এইভাবে না বলে কয়ে আসার মানে বিভা খুঁজে পেল না। পাশেই তার এসিস্টেন্টকে দেখে বিভা আরোও বিব্রতবোধ করল।
_____
চলবে~
#একগুচ্ছ_শুকতারা
#শারমিন_ইরান
দিব না দিব না করেও দিয়ে দিলাম। শুভ রাত্রি। 🌼