ফন্ট সাইজ:
থিম:
একগুচ্ছ শুকতারা

৪১তম পর্ব

লেখক: শারমিন ইরান

একগুচ্ছ শুকতারা

শারমিন ইরান

৪১.

মাহাথির তার জীবনে খুব বেশি লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে পড়েনি। তবে আজ তার লজ্জা লাগছে। ভীষণ রকমের লজ্জায়, অস্বস্তিতে উশখুশ করছে সে। চাপা স্বভাবের হওয়ায় আগে এইভাবে কোথাও আসা হয়নি। তাই স্বস্তি পাচ্ছেনা। মনে হলো সে এখানে আগ বাড়িয়ে না এলেও পারতো। আবার মনে হলো, না! এসেছে ভালো করেছে। তার সন্তান হবে এইটাতো খুশির খবর। খুশির খবরে লজ্জা কীসের? সে তো এসেছে নিজের উৎফুল্লতা, খুশিকে ভাগ করতে। আত্মীয় বাড়ি বলতে তো এইটাই। তবে বিভাকে বলেনি যে সে এসেছে। জানলে নিশ্চয়ই খুশি হবে মেয়েটা।

পার্থিব-শ্রুতিও মাহাথিরকে সকাল সকাল আশা করেনি। বাড়ির ড্রইংরুমে বসে আছে সবাই। সামনের টেবিলে সাত-আট কেজি মিষ্টি। তানহা, রুমা, আসাদ, নিয়াজ, হিমেল, হিয়া সবাই ভীষণ খুশি হয়েছে মাহাথিরের এমন আন্তরিকতায়। অভিনন্দন জানিয়েছে মাহাথিরকে। মাহাথির এসেছে অনেকক্ষণ হয়। এখ যাওয়ার সময়। সে উঠে দাঁড়াল। বিনয়ী হয়ে বলল, ‘ এখন যেতে হবে আমার। সকাল সকাল সর্বপ্রথম আপনাদের বাড়িতেই এসেছি। এখন অফিসে যাব। নয়তো সমস্যায় পড়তে হবে।’

মাহাথিরের এমন কথায় কেউ তাকে আর বারণ করল না। মাহাথির তার বাসায় সবাইকে যাওয়ার নিমন্ত্রণ জানাল। তানহা বেগম এগিয়ে এসে আদর কণ্ঠে বলল, ‘ আবার এসো বাবা কেমন? বিভাকে নিয়ে এসো। ওকে সাবধানে থাকতে বলো। বেশি কাজ করতে দিও না। আল্লাহ তোমাদের সংসারে রহমত দিক।’

মাহাথির ভদ্রভাবে বিদায় নিল। যাওয়ার আগে পার্থিব-শ্রুতির দিকে তাকিয়ে বলল,

‘ তোমরা চলে এসো। বিভা খুশি হবে।’

পার্থিব হাসির সাথে মাথা নেড়ে সায় জানাল। শ্রুতি বলে বসল, ‘ আমরা তো আজই যাব।’

মাহাথির সুন্দর হেসে বলল, ‘ এসো। খুশি হবো আমি।’

.

আজ অনেক দিন পর পার্থিব-শ্রুতি এলো। পার্থিব-শ্রুতি দু'জনে এসেছে। শ্রুতি দৌড়ে ওপরে উঠতে গেলে প্লাজুতে বেঝে পড়ে যেতে নিল। পার্থিব তড়িঘড়ি করে হাতের কবজি ধরে শাসালো, ‘ আস্তে শ্রুতি!’

পার্থিব শ্রুতির হাত ছাড়ল না। গাড়ি থেকে কিছু ফল-মিষ্টসহ ব্যাগ একহাতে বের করে অন্যহাতে শ্রুতির হাত ধরে বলল, ‘ চলুন।’

‘ এতোকিছু কেন এনেছো পার্থিব? কী দরকার ছিল?’ বিভার এমন কথায় পার্থিব বলল, ‘ অবশ্যই দরকার ছিল, আপা। আফটার অল ছোটআব্বু হচ্ছি। মিষ্টি খাওয়াব না? তবে আপনি এখনো আমাকে কংগ্রেস জানাননি। আপনি কী আমার ছোটআব্বু হওয়ার সংবাদে খুশি নন?’

পার্থিবের এমন কথায় সবাই সুন্দরকরে হেসে ফেলল। মাহাথিরও আছে বাসায়। আজ সে অফিস থেকে দ্রুতই ছুটি নিয়ে চলে এসেছে। পার্থিব বলল, ‘ আপনারা এখানে থাকুন। আমি ঘর থেকে হামিমকে নিয়ে আসি। বেচারা একা কী যে করছে!’

পার্থিব ঘরে ঢুকে দেখল হামিম বিছানায় বসে আছে। চারপাশে হাতি, ঘোড়া, মাছ সব ছড়ানো। পার্থিব সামনে এগিয়ে বলল,

‘ দিনকাল কেমন চলছে হামিম শিকদার?’

হামিম চোখ তুলে তাকাল। শান্তকণ্ঠে বলল,

‘ তুমি এতোদিন কই ছিলে?’

‘ ছিলাম কোথাও। বুকে এখনো ব্যথা করে? খারাপ লাগে? পায়ের অবস্থা কী?’

‘ না ব্যথা করেনা কোথাও। আমি একদম ভালো আছি।’

‘ গুড। চলেন। বাইরে যাই।’

হামিম দুই হাত বাড়িয়ে দিল। পার্থিব বুঝে হাসিমুখে কোলে তুলে নিল তার আটবছরের একমাত্র শালাকে। শরীরের দিক থেকে মাঝারি গড়নের হামিম। কোলে ওঠে একহাতে গলা আগলে ধরল নিজের ছোট দুলাভাইয়ের।

পার্থিব হামিমকে এনে বসাল সোফায়। হামিমের পাশেই মাহাথির। পার্থিবও বসল পাশের সিংগেল সোফায়।

শ্রুতি তার আপার দিকে তাকাল। একহাতে জড়িয়ে ধরে আছে বিভাকে। বলল,

‘ আমি যে কতো খুশি তোকে বোঝাতে পারব না, আপা। আজ আম্মুর কথা ভীষণ মনে পড়ছে। মনে হচ্ছে আম্মু থাকলে কতো খুশি হতো। তোকে কতো আদর দিতো! দাদীও দেখতি কতো খুশি হতো। কিন্তু কেউ নেই।’

বিভার হাসিমুখ মলিন হলো। দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। মন খারাপ তো তারও হচ্ছে। তবে সেও যদি এখন মন খারাপ করে তাহলে শ্রুতির আরোও মন খারাপ হবে। শ্রুতির মাথায় হাত বুলিয়ে দিল বিভা। ভীষণ যত্ন, অভিজ্ঞ কণ্ঠে বলল, ‘ আম্মু, দাদী থাকলে তো কতোকিছুই হতো শ্রুতি। কিন্তু নেই। কী করার! আমরা যারা আছি তাদের নিয়েই চলতে হবে। যারা নেই তাদের কথা ভেবে জীবন থামিয়ে দিলে চলবে? তুই আছিস, হামিম আছে, বাকিসবাই আছে। এভাবে মন খারাপ করেনা। হুম?’

শ্রুতি তার আপার কথা মেনে নিয়ে বিভার কাঁধে মাথা ঠেকিয়ে রাখল।

সবাই নিজেদের মতো গল্প করতে লাগল। শ্রুতি হঠাৎ করে বলল, ‘ আপা, নাম ঠিক করেছিস? তুই ছেলে হলে খুশি হবি নাকি মেয়ে হলে?’

মাহাথিরও তাকাল বিভার দিকে। বিভা কিছু বলতে নিবে তার আগেই হামিম বাঁধা দিয়ে দিল, ‘ ছেলে-মেয়ে কিছু হবেনা। মুরগি হবে আপোর পেটে।’

কেউ কিছুই বুঝল না। হামিম নিজের মতো খেলনা নাড়াতে নাড়াতে মাহাথিরের দিকে তাকাল। বলল, ‘ তুমি না বলেছিলে সকাল হলে আমার পেটে হাতি দিবে। কোথায়? দাও?’

‘ তোমার পেটে হাতি দিবে মানে?’ শ্রুতির প্রশ্নে মাহাথির উঠে পড়ল। সাথে সাথে দুই হাত দিয়ে হামিমকে এক কোলে তুলে নিল। হালকা ভড়কে যাওয়া কণ্ঠে বলল,

‘ কিছু না। কিছু না। বলেছিলাম খেলনা কিনে দিব তাই কাঁদছে। তোমরা থাকো আমি আর হামিম বাইরে থেকে ঘুরে আসি। পার্থিব, যাবে তুমি?’

পার্থিবও জড় বস্তুর মতো মাথা নাড়ল। বলল, ‘ চলেন ভাইয়া। ঘুরে আসি।’

মাহাথির মাথা নেড়ে হামিমকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। পিছু পিছু গেল পার্থিবও। কেউই বুঝল না ব্যাপারটা ঘোরার নয়। মাহাথির নিজের ইজ্জত বাঁচানোর চেষ্টা করেছে মাত্র।

.

পার্থিব-শ্রুতি চলে গেছে অনেকক্ষণ হয়। এসেছিল দুপুরের দিকে। গেল রাত সাড়ে ৯ টার দিকে। যাওয়ার সময় হামিমকেও নিয়ে গেছে। বিভা নিজেই এখন অসুস্থ। সেখানে হামিমকে খাওয়ানো, গোসল করানো, ঔষধ দেওয়া, পায়ের ব্যায়াম করানো ওর ওপর জুলুম হয়ে যাবে। তাছাড়া ছিল তো অনেকদিন। এখন নাহয় শ্রুতি-পার্থিবের কাছেই থাকুক।

মাহাথির এসে বসল বিভার পাশে। বিভার হাতে হাত রেখে ইতস্ততভাবে গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করল,

‘ তুমি খুশি তো বিভা?’

‘ বুঝতে পারছিনা খুশি কিনা। হয়তো খুশি। হয়তো না।’

মাহাথির আশাহত হলো। বিভার চুলে হাত বুলিয়ে বলল, ‘ আমার রাগ বাচ্চার ওপর দেখাচ্ছো?’

‘ আপনার ওপর কোনো রাগ নেই আমার।’

‘ রাগ না থাকলেও অভিমান আছে।’

‘ কিছুই নেই মাহথির।’

মাহাথির হাঁটু গেড়ে নিচে বসল। বিভার দুই হাত মুঠোয় নিয়ে বলল, ‘ প্লিজ এভাবে মুখ ফিরিয়ে নিওনা। আই এম সরি। আমার করা সব কাজের জন্য ক্ষমা চাচ্ছি আমি। প্লিজ ক্ষমা করে দাও।’

‘ করলাম ক্ষমা। এইবার উঠুন।’

‘ না, তুমি করোনি ক্ষমা। বিভা প্লিজ! আমি বুঝতে পেরেছি আমার অন্যায়টা। এইভাবে নিজেকে দূরে রেখে শাস্তি দিওনা।’

‘ ভালো লাগছেনা মাহাথির। আমি ঘুমাব।’

মাহাথিরের রাগ হচ্ছে, জেদ চাপছে। অনেক কষ্টে সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখছে। জানেনা নিজেকে আদৌও ঠিক রাখতে পারবে কিনা। তবে সে দোষও কম করেনি। আট মাসের প্রতিটা দিন একটা মানুষকে সে অবহেলা, অপমান করেছে। তার কোনো শাস্তি হবেনা? তার শাস্তি তো পাবেই সে। মাহাথির হাপ ছেড়ে উঠে পড়ল। বিভার গায়ে কাঁথা জড়িয়ে কপালে চুমু খেল। বিভাকে অবাক করে দিয়ে ঠোঁটেও চুমু খেয়ে সরে এলো। বলল, ‘ আমি জানি তুমি খুশি বিভা। তোমার মুখ একটু হলেও পড়তে পারি আমি। তোমার মুখের উজ্জ্বলতা তোমার খুশির প্রমাণ। আমিও খুশি। অনেক খুশি। অথচ নিজের খুশিটা প্রকাশ করতে পারছিনা। জানিনা কীভাবে প্রকাশ করতে হয়। তোমাকে থ্যাংকিউ এতো সুন্দর অনুভূতির সাথে আমাকে পরিচয় করানোর জন্য। তোমাকে থ্যাংকিউ আমার বুকের সূক্ষ্ম ব্যথার কারণ হওয়ার জন্য।’

.

পেরিয়ে গেছে দেড়মাসের মতো। কিছুদিন পরই বিভার ছয়মাস পড়বে। আগের তুলনায় স্বাস্থ্য ভারী হয়েছে। গালের মাংস বৃদ্ধি পেয়েছে। এক নতুন বিভার সৃষ্টি হয়েছে। যেখানে আছে নারীত্বের সৌন্দর্য, মাতৃত্বের সৌন্দর্য।

‘ মাহাথির বাবা হবে’ - তিন শব্দের কথাটা হালকা মনে হলেও এর মাঝে লুকিয়ে আছে বহু দায়িত্ব, কর্তব্য, অধিকার, ভালোবাসা, শাসনের সংমিশ্রণ। যার প্রকাশ ঘটবে তার সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পরে। তবে ভূমিষ্ট হওয়ার আগে কোনো দায়িত্ব নেই - ব্যাপারটা তেমনও নয়। তাইতো তার মধ্যে এসেছে বিশাল পরিবর্তন। সে এখন প্রতিদিন সকাল ছয়টায় ঘুম থেকে ওঠে। ঘুম থেকে ওঠেই সে নিজে ঘর-বাড়ি ঝাড়ু দেয়। নিজে হাতে লাঠি জাতীয় বস্তু দিয়ে ঘর মোছা দিয়ে এরপর মায়ের হাতের রান্না করা খাবার খেয়ে অফিসে যায়। বিভার পাঁচমাস সম্পূর্ণ হওয়ার পর থেকেই তাকে রান্নাঘরে ঢুকতে দেয়না মাহাথির। হাসিনাও নিজের ছেলের কথাই মান্য করে বিভার থেকে রান্নার দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে।

মাহাথির ঘর-বাড়ি ঝাড়ু দিচ্ছে ব্যাপারটা প্রথম প্রথম তার কাছে লজ্জা না লাগলেও অস্বস্তি লাগতো। কারণ মা কিংবা বিভা দেখে ফেলে যদি লজ্জা দেয় তখন কী হবে? তাই সে সকাল পাঁচটার এলার্ম দিয়ে সকাল সকাল উঠে পড়তো যাতে কারো চোখে তার কাজ না পড়ে। তবে এতো সকালে উঠা সম্ভব হয়ে ওঠেনা। তাইতো একটু পরে উঠেই নিজের কাজ সম্পূর্ণ করে সে। কাজটা সে করে ভীষণ ভালোবেসে। বিভা ঘর ঝাড়ু-মোছা দিতে গেলে উপুর হয়ে দিতে হবে। কোমরে চাপ পড়বে। কষ্ট হবে। কী দরকার? এর থেকে সেই নাহয় একটু কষ্ট করুক। তাছাড়া মধ্যবিত্ত পরিবার তার। শুধু শুধু এই কাজের জন্য কাজের বুয়া রাখলে দুই হাজার টাকা দিতে হবে। দুই হাজার টাকা কী কম? আম্মা যে করবে তাতেও মন সায় দেয়না। সব মিলিয়ে দায়িত্বটা নিজের কাঁধেই তুলে নিয়েছে সে। এছাড়া বিভার দেখভাল করা তো আছেই।

মাহাথির অফিসে বসে ভাবল আর একমাস পরেই সে ছুটির আবেদন করবে। তখন বিভার সাড়ে সাত/ আটমাস হবে। তখন মাহাথিরকে বিভার বেশি প্রয়োজন পড়বে। মাহাথির আনাসের টেবিলের দিকে তাকাল। আনাস বেশ দীর্ঘ একটা ছুটি কাটাচ্ছে। অবশ্য ঘুষ দিয়ে হলে সেও দীর্ঘ ছুটি কাটাতে পারবে। আনাসের মেয়ে হয়েছে জানা গেছে। মাহাথিরও তার সংবাদ জানালে আনাস অনেক খুশি হয়। অভিনন্দন জানায়। আরোও জানিয়েছে আনাসের বউ সুস্থ হলেই একবার বাসায় এসে দেখা করে যাবে।

মাহাথির বিভাকে কল করল।

‘ হ্যালো।’

‘ খেয়েছো তুমি?’

‘ হ্যাঁ খেলাম মাত্র ।’

‘ আমিও খেয়ে নিয়েছি। সাবধানে থেকো কেমন? কিছু লাগলে আম্মাকে বোলো। পাকনামি করার দরকার নেই। আর ভুলেও কিন্তু আমার রাগ বাচ্চার ওপর দেখাবা না। ওর সাথে সবসময় হাসিখুশি থাকবা। নয়তো ভয় পাবে ও।’

বিভা ভ্রু কুঁচকে মাহাথিরের কথা শুনল। মাহাথির প্রায়ই এখন এমন উল্টোপাল্টা কথা বলে যার কোনো ভিত্তি'ই বিভা খুঁজে পায়না। অথচ মাহাথির এমন কণ্ঠে বলে মনে হয় যেন বাচ্চা বিভার পেটে নয়, পেট থেকে বেরিয়ে এসেছে কোলে।

‘ আচ্ছা।’

‘ কিছু খেতে ইচ্ছে করে? আসার সময় নিয়ে আসব?’

‘ না।’

‘ সাবধানে থেকো।’

বিভা ইতস্তত করে বলল, ‘ আমার জামাকাপড়….’

শেষ করতে পারল না কথাটা। তার আগেই মাহাথির বলল, ‘ আমি ধুঁয়েছি। কোনো সমস্যা?’

মাহাথিরের এমন গম্ভীর, শান্ত কথার পিছে কিছু বলতে পারল না বিভা। উত্তর দিল,

‘ না।’

‘ গুড। ঘুমাও। আমি আসলে ব্যায়াম করবে। এখন রাখি ফোন। কাজ আছে অনেক।’

বিভা তাকিয়ে রইল ফোনের দিকে। অদ্ভূত লোক! নিজে থেকেই ফোন দিবে, ফোন দিয়ে জ্ঞান ঝাড়বে, এরপর কাজ দেখিয়ে রেখে দিবে। কোনো মানে হয় এসবের! বিভা নিজের পেটের দিকে তাকিয়ে বলল,

‘ তোমার আব্বুকে বলো ভালো হতে। বুঝেছো? নয়তো এই খারাপ লোকের সংসার আমি করবনা।’ অজানা রাগে শরীর রি রি করে উঠল বিভার।

.

গভীর রাত। থেকে থেকে কুকুরের কর্কশ কণ্ঠের ডাক শোনা যাচ্ছে।

বিভার ঘুম হঠাৎ করেই ভেঙে গেল। শরীরে যন্ত্রণা অনুভব করে উঠে বসল নিজ থেকে। পিঠে ব্যথা হচ্ছে। পিঠের যন্ত্রণা ক্রমশ নিচের দিকে যাচ্ছে। শরীর অবশ হয়ে আসছে। বিভা জানে ছয়মাসে এমন হয়। স্বাভাবিক। তবুও যেন সহ্য হচ্ছেনা। মুখ থেকে ব্যথার অস্পষ্ট আওয়াজ বের হতে লাগল। মাহাথির শুয়ে ছিল বিভার দিকে ঘুরেই। বিভার পেটে হাত রেখে। ঘুমের মধ্যে মাহাথিরের কেমন যেন লাগল। হাত দিয়ে বিভাকে পেল না। কানে গেল অস্পষ্ট আওয়াজ। চোখ খুলে বিভাকে এইভাবে বসে থাকতে দেখে ঘুম চোখ থেকে একদম সড়ে গেল। উঠে বসল মাহাথির। বিভার চোখের পানি তার চিন্তা বাড়িয়ে দিল। উদ্বিগ্ন, উতলা কণ্ঠে বলল,

‘ কী হয়েছে বিভা? কোথায় যন্ত্রণা হচ্ছে?’

বিভা মাহাথিরকে বলতে চাইল না। হাত ছাড়িয়ে নিতে চাইলে মাহাথির আবারো প্রশ্ন করল। বিভা উত্তর না দিয়ে কুঁকড়ে গেল। মাহাথির এবার নিজের রাগ সামলাতে পারল না, চেষ্টাও করল না। ধমক দিল,

‘ রাগ তুলোনা বিভা। আমাকে বলো কোথায় কষ্ট হচ্ছে? না বললে বুঝব কীভাবে?’

ধমক খেয়ে ভীষণ মন খারাপ হলো বিভার। হঠাৎ করেই। মিনমিন কণ্ঠে বলল, ‘ পিঠে।’

মাহাথির তাড়াতাড়ি বিভার পিঠে মালিশ করতে লাগল। হাত দিয়ে মালিশ করে দিতে থাকল। এতে যদি যন্ত্রণা কমে। মিনিট পনেরো পরে বিভার কান্না থামল। মাহাথির তবুও চিন্তামুক্ত হতে পারল না। গুগলে সার্চ করলো এমন ব্যাথায় করণীয় কী। সমাধান পেয়ে সেই মোতাবেক বিভার পায়ের নিচে বালিশ রেখে দিল। বিভাকে শুতে বললে বিভা শুলো না। কাতর কণ্ঠে বলল,

‘ শুলে বেশি ব্যথা করবে।’

মাহাথির আর জোড় করল না। নিজে বিভার পেছনে গিয়ে বিভাকে টেনে নিল বুকে। অর্ধশোয়া হয়ে রইল বিভাকে নিয়ে। বিভাকে প্রশ্ন করল, ‘ এভাবে কষ্ট হচ্ছে?’

বিভা ‘না’ বোধক উত্তর দিল। ভীষণ আরামে সে পরে রইল স্বামীর বুকে। মাহাথির বিভাকে এক হাতে জড়িয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল। এভাবেই পার হয়ে গেল বাকি রাত।

______

চলবে~

শব্দসংখ্যা - ১৭৯৬

#একগুচ্ছ_শুকতারা

#শারমিন_ইরান

আপনাদের সুন্দর মন্তব্যের উপহার হিসেবে এই পার্ট। তবে দুঃখিত অনেক এলোমেলো হয়েছে পার্ট টা। লিখে তৃপ্তি পাইনি। আবার এইপার্ট না দিলেও নিজের কাছে খাপছাড়া লাগতো তাই দেওয়া নয়তো স্কিপ করতাম। ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন