ফন্ট সাইজ:
থিম:
মহাপ্রয়াণ

২৪তম পর্ব

লেখক: নাফিসা তাবাসসুম খান

মহাপ্রয়াণ

লেখনীতে : নাফিসা তাবাসসুম খান

২৪.

হঠাৎ করে এক পশলা পানি এসে পড়তেই আনাস্তাসিয়া ধরফরিয়ে উঠে বসে। তার সামনে এক কালো আলখেল্লা পরিহিত লোক মাটির জগ হাতে দাঁড়িয়ে আছে। লোকটি কর্কশ গলায় বলে উঠে,

" এই মেয়ে! ঘুম শেষ হলে উঠে আয়। এই প্রথম কাউকে দেখলাম যে নিজের মৃত্যু জেনেও এতো আরাম করে ঘোড়া বেঁচে ঘুমাচ্ছে। "

আনাস্তাসিয়া সেই লোকের কথায় কান দেয় না। আপাতত তার দৃষ্টি সেই লোকটির হাতের মাটির জগের দিকে। লোকটি আনাস্তাসিয়ার সেই দৃষ্টি অনুসরণ করে বলে,

" পানি পান করবি? "

তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে আনাস্তাসিয়ার। চোখেমুখে সব অন্ধকার দেখছে। আপাতত পানির খুব প্রয়োজন অনুভব করছে সে। তাই মাথা উপর নিচে ঝাকিয়ে সম্মতি জানায়। লোকটি একটা বিশ্রী হাসি দিয়ে বলে,

" আচ্ছা পারলে আমার হাত থেকে এই জগ নিয়ে পানি খা। "

জল তৃষ্ণায় আনাস্তাসিয়া এতো কিছু না ভেবে কোনো মতে উঠে দাঁড়িয়ে সেই লোকটির হাত থেকে জগটি নেওয়ার জন্য এগিয়ে যায়। লোকটি তাকে বাধা না দিয়ে তার হাতে জগটি দিয়ে দেয়। আনাস্তাসিয়া জগ উপর করে পানি খাওয়ার জন্য মুখ হা করতেই দেখে জগ খালি। ভিতরে এক ফোটাও পানি অবশিষ্ট নেই। আনাস্তাসিয়া হতাশ দৃষ্টি মেলে রয়। সেই লোকটা আবার বিশ্রী হাসি দিয়ে বলে,

" চল নবাবজাদী। পানির তেষ্টা পূরণ হলে এবার মরণ স্বাদ গ্রহণ করবি। "

এটুকু বলেই আনাস্তাসিয়ার হাতের শিকল ধরে টেনে তাকে নিয়ে যেতে নেয়। শিকলের টান লাগতেই আনাস্তাসিয়া ব্যাথায় আহ বলে উঠে। লোকটা ইচ্ছা করে আরো জোরে তাকে টেনে নিয়ে যায়।

হলরুমে আনাস্তাসিয়াকে নিয়ে প্রবেশ করতেই সকল ভ্যাম্পায়াররা নড়েচড়ে বসে। সকলেই ওৎ পেতে আছে রিকার্ডোর আদেশের আশায়। রিকার্ডো এই মেয়েকে মৃত্যুদণ্ড দিবে তা সকলেই জানে। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড হিসেবে তার রক্ত পানের সুযোগ দিলে সকলে বেশি খুশি হবে৷ ক্যামিলো রিকার্ডোর দিকে তাকিয়ে বুঝার চেষ্টা করছে ছেলের মনে কি চলছে৷ কিন্তু রিকার্ডোর চেহারা দেখে কিছুই বুঝা যায় না৷ বেশ শান্ত আয়েশী ভঙ্গিতে বসে আছে সে। আনাস্তাসিয়ার দিকে তাকিয়ে হাতে থাকা কাঁচের গ্লাস হতে তাজা রক্ত চুমুক দিয়ে পান করছে। আনাস্তাসিয়া একবারও চোখ তুলে তাকাচ্ছে না কারো দিকে। মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে সে। হাত ও পায়ে অসংখ্য কাঁটা দাগ। গায়ের গাউনটাও ময়লা হয়ে রঙ বদলেছে।

রিকার্ডো ইশারা দিতেই সেই কালো আলখেল্লা পরিহিত লোকটা আনাস্তাসিয়াকে হলরুমের মাঝে রেখে সেখান থেকে প্রস্থান করে। রিকার্ডো হাতের গ্লাসটা নিয়ে উঠে দাঁড়ায়৷ ধীরে ধীরে হেঁটে আনাস্তাসিয়ার কাছে যায়। ড্যানিয়েল দূর হতে এই দৃশ্য দেখে চোখ কুচকায়৷ এই ছেলে এই মেয়েকে মারা নিয়ে এতো নাটক কেন করছে তা সে বুঝতে পারছে না। এই মেয়েকে মারা এক মুহূর্তের ব্যাপার। এ নিয়ে এতো টালবাহানার কি আছে? মনে মনে আরেক কথাও ভাবাচ্ছে তাকে। ম্যাথিউ যেন ভুলেও এখন দূর্গে ফিরে না আসে৷ কাল রাতে রিকার্ডোর যে অগ্নিরূপ সকলে দেখেছে সেই অগ্নির তাপ যেন ম্যাথিউকে স্পর্শ না করে তাই চাচ্ছেন তিনি।

রিকার্ডো আনাস্তাসিয়া চারিদিক দিয়ে একবার ঘুরে এসে তার সামনে দাঁড়ায়। আনাস্তাসিয়া তবুও চোখ তুলে তাকায় না তার দিকে। রিকার্ডো এবার বলে উঠে,

" আমার কাছে তোমার জন্য একটা প্রস্তাব আছে। যদি মরতে না চাও তাহলে আমার হাতে থাকা এই গ্লাসের রক্ত পান করতে হবে তোমার। তাহলে আমি তোমাকে তোমার জীবন ভিক্ষা দিবো। "

আনাস্তাসিয়া বিস্ফোরিত চোখে তাকায় রিকার্ডোর দিকে৷ রিকার্ডো বাকা হেসে বলে,

" খুব সহজ এক কাজ দিলাম তাই না? ব্যস! এটুকু করলেই আর তোমার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে না। "

আনাস্তাসিয়া ক্রোধের চোটে এক দুঃসাহসিক কাজ করে বসে। ভরা মজলিসে সকলের সামনে রিকার্ডোকে উদ্দেশ্য করে থুতু ছুড়ে মারে। আকস্মিক ঘটনায় সকলেই হতবিহ্বল হয়ে পড়ে। আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়ে পড়ে তারা। সকলেই অপেক্ষায় আছে রিকার্ডো কি করে তা দেখার। ক্যামিলোর মেয়েটির জন্য মায়া হয়। জীবনের সবথেকে বড় ভুল করলো এটা সে। এতো বড় অপমানের পর রিকার্ডো এখন কি কি করতে পারে তা সকলের কল্পনার ও বাহিরে।

রিকার্ডো চোখ বুজে থম মেরে আছে। আনাস্তাসিয়া ক্রোধে মিশ্রিত কণ্ঠে বলে,

" এখন আমি সাদরে মৃত্যুদণ্ড গ্রহণ করতে রাজি আছি। "

রিকার্ডো চোখ মেলে আনাস্তাসিয়ার দিকে তাকায়। সকল কোভেনদের সামনে অপমানে তার চোখ দিয়ে যেন আগুন ঠিকরে বের হওয়াটাই কেবল বাকি। একহাতে পকেট হতে একটি রুমাল বের করে সেটি দিয়ে মুখ মুছে নেয়। তারপর রুমালটিকে ছুড়ে ফেলে সে। আনাস্তাসিয়া এখনো চোখ বড় করে রিকার্ডোর দিকে তাকিয়ে আছে। রিকার্ডো অতিব ঠান্ডা স্বরে বলে,

" মৃত্যুদণ্ডের আগে এই চরম দুঃসাহসিকতার পুরষ্কারও পাওয়া উচিত। "

এটুকু বলেই রিকার্ডো আনাস্তাসিয়ার চুলের মুঠি একহাতে নিয়ে জোর করে তাকে সেই গ্লাসের রক্ত পান করায়। আনাস্তাসিয়া চোখ খিচে বন্ধ করে ছিলো পুরোটা সময়। গ্লাসের রক্ত শেষ হতেই রিকার্ডো আনাস্তাসিয়াকে মেঝেতে ছুড়ে ফেলে বলে,

" এখন আমার আর তোমার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। আমিও যা পান করি তুমিও তা পান করেছ। "

আনাস্তাসিয়া রিকার্ডোর কথার দিকে ভ্রুক্ষেপ করার সুযোগ পায় না। তার আগেই তার গা গুলিয়ে বমি আসে। হলরুমের মাঝে মেঝেতেই সে বমি করে দেয়। এতে হলরুমে উপস্থিত সকলেই নাক ছিটকে ফেলে। আনাস্তাসিয়ার মনে হচ্ছে সে সম্পূর্ণ অপবিত্র হয়ে গিয়েছে। তার নিজেকে নিকৃষ্ট জীব মনে হচ্ছে। এতোটুকুতে ক্ষান্ত হয় না সে। দু হাত দিয়ে বারবার মুখের চারিদিকে লেপ্টে থাকা রক্ত মুছতে থাকে।

রিকার্ডো নিজের আসনে ফিরে গিয়ে আদেশ দেয়,

" এই মেয়েকে এখনি আমার সামনে শ্বাসরোধ করে মারা হোক। "

রিকার্ডো আদেশ দিতেই তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক কালো আলখেল্লা পরিহিত লোক এক হাত সমান একটি দড়ি হাতে এগিয়ে যায় আনাস্তাসিয়ার কাছে। আনাস্তাসিয়াকে টেনে সোজা করে বসিয়ে তার পিছনে দাঁড়িয়ে তার গলায় দড়ি ধরে। আনাস্তাসিয়া শেষ বারের মতো রিকার্ডোর দিকে তাকায়। রিকার্ডোও তার দিকেই তাকিয়ে ছিলো। দৃষ্টিমিলন হয়। রিকার্ডোর চোখে মুখে আনাস্তাসিয়া মায়ার ছিটেফোঁটাও খুঁজে পায় না৷ আশাহত হয় সে আরো একবার। মনে মনে বলে,

" পুণর্জন্ম যদি সত্যি হয় তাহলে আর কোনো জনমেই আমি তোমাকে ভালোবাসবো না। এটাই শেষবার। "

আনাস্তাসিয়ার চোখ বেয়ে এক বিন্দু অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। রিকার্ডো সাথে সাথে চোখ ফিরিয়ে নেয়। আনাস্তাসিয়া চোখ বুজে তার পরিবারের সকলের চেহারা কল্পনা করতে থাকে। কাভালায় তার নিজের বাসায় তার মা, বাবা, ক্যাথরিন ও লিয়ামের সাথে একসাথে বসে গল্প করার দৃশ্য কল্পনা করে সে। সবশেষে তার চোখে ভেসে উঠে তার ও রিকার্ডোর প্রথম সাক্ষাৎ। রক্তিম চন্দ্রগ্রহনের সময় তার দেখা পৃথিবীর সবথেকে সুন্দর সবুজ চোখ জোড়া তার মনে ভেসে উঠে। দড়ি আরো জোরে পেচিয়ে ধরলেও আনাস্তাসিয়ার মুখে স্মিত হাসি ফুটে উঠে। এই মুহুর্তে আর মৃত্যুকে ভয় পাচ্ছে না সে। মনে মনে শেষ বারের মতো বলে,

" তবে এই জনমে ভুল করে হলেও আমি তোমাকে ভালোবেসেছি৷ তাই মৃত্যুর আগ মুহূর্তেও আমার চোখে কেবল তোমার ছবিই ভাসছে। "

__________

ক্যাথরিনের মনে ইদানিং উদ্ভট অনুভূতি উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে খুব। এইযে হুটহাট আরোণকে দেখলে তার লাজে নুইয়ে পড়া। তেজ আর রাগ দেখাতে গিয়েও কেমন নরম হয়ে পড়ছে। এসব তাকে খুব বিরক্ত করছে। বারবার মনে মনে আওড়াচ্ছে এই নেকড়ের সাথে কেবল তার ঘৃণার সম্পর্ক আছে। নেকড়ের মায়াজালে ভুলেও আটকানো যাবে না। ঠিক করে সে আর আরোণের সামনে সে নরম হয়ে যাবে না মোটেও।

তার এসব ভাবনার মাঝেই লোল্যান্ডা তাকে প্রশ্ন করে,

" আমি লক্ষ্য করছি আজকাল তুমি খুব বেশি ভাবনার রাজ্যে বিচরণ করছো। রহস্য কি ক্যাথরিন? "

শেষের প্রশ্নটা লোল্যান্ডা কিছুটা সুর টেনে করে। ক্যাথরিন সেটা বুঝতে পেরে উল্টো লোল্যান্ডাকে প্রশ্ন করে,

" তুমিও তো খুব ক্রিয়াসের আশেপাশে মৌমাছির মতো ঘুরঘুর করো। রহস্য কি লোল্যান্ডা? "

লোল্যান্ডা স্পষ্ট স্বীকারোক্তি দেয়,

" আমি ক্রিয়াসকে পছন্দ করি। "

ক্যাথরিন হেসে বলে,

" তা তোমার কার্যকলাপেই স্পষ্ট প্রকাশ পায়। কিন্তু ক্রিয়াসের সাথে তোমার পরিচয় কি করে হলো? "

লোল্যান্ডা যেন এধরণের প্রশ্নের জন্য প্রস্তুতই ছিলো। তাই সে কোনো ভনিতা না করে বলা শুরু করে,

" দু বছর আগে আমি ছোট দুই ভাই ও নিজের পেটের দায়ে নিষিদ্ধ পল্লির জগতে প্রবেশ করি। সেখানে সর্বপ্রথম আমার কাছে ক্রিয়াসই এসেছিলো। আমি তখন জানতাম না তার নেকড়ে সত্তা সম্পর্কে। সেদিনের পর থেকে প্রতিদিনই ক্রিয়াসের আসা যাওয়া শুরু হয় আমার কাছে। একদিন তার আগেই অন্য কেউ আগেই আমাকে ভাড়া করে আমার কক্ষে এসে পড়েছিলো। ক্রিয়াস এসে তা জানতে পেরে আমার কক্ষে এসে রেগে সেই লোককে কিছু মুদ্রা দিয়ে সেখান থেকে যেতে বলে। লোকটি না গিয়ে উল্টো মাতাল অবস্থায় আজেবাজে কথা বলে ওকে রাগিয়ে তুলে। সেদিন প্রথম ক্রিয়াস রাগের মাথায় নিজের নেকড়ে রূপে আমার সামনে আসে। আমি প্রথমে ভয় পেয়ে গেলেও পরে মনের অজান্তেই উল্টো ওকে বাঁচানোর জন্য দৌড়ে গিয়ে দরজা ভালো করে লাগিয়ে দেই যেন কেউ ওকে এই রূপে না দেখতে পায়। সেই লোকটা ক্রিয়াসকে এই রূপে দেখে ভয়ে চেতনা হারায়। সেই রাতেই ক্রিয়াস আমাকে সেই পল্লী হতে দ্বিগুন দাম দিয়ে কিনে নিয়ে আসে। আমার ও আমার ভাইদের দায়িত্ব নেয় সে। এসবের মাঝে ঠিক কবে ওর প্রেমে পড়েছি আমি তা ঠিক খেয়াল নেই আমার। "

ক্যাথরিন এতক্ষণ ধরে অবাক হয়ে লোল্যান্ডার কথা শুনছিলো। মেয়েটা এতো সাবলীলভাবে সব বলে গেলো যেন এ সবকিছুই কতো সহজ ছিল তার জন্য। ক্যাথরিন লোল্যান্ডাকে কিছু বলবে তার আগেই কক্ষে বাতাসের গতিতে প্রবেশ করে ক্রিয়াস। তড়িঘড়ি করে বলে,

" তোমরা দুজন কক্ষেই থাকবে এবং ভুলেও বের হবে না। আর বিশেষ করে তুমি ক্যাথরিন। আলফার স্পষ্ট আদেশ যেন ভুলেও তুমি কক্ষ থেকে বের না হও। "

ক্যাথরিন প্রশ্ন করে,

" কিন্তু কি হয়েছে? "

" জ্যাকসন এসেছে। আমাদের শত্রু। বাহিরে তোমাদের সুরক্ষার জন্য আমি প্রহরীর সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছি। তবুও তোমরা কক্ষ থেকে বের হবে না। "

এটুকু বলেই ক্রিয়াস কক্ষ থেকে প্রস্থান করে। ক্যাথরিন লোল্যান্ডাকে প্রশ্ন করে,

" জ্যাকসন কে? "

" আমি জানি না। কিন্তু ক্রিয়াস তো বলে গেল তাদের শত্রু। তাহলে শত্রুই হবে হয়তো। "

ক্যাথরিন চিন্তিত গলায় বলে,

" আরোণের কোনো ক্ষতি করবে না তো? "

লোল্যান্ডা ক্যাথরিনের কথায় বেশ অবাক হয়। তবুও তাকে আশ্বস্ত করে বলে,

" চিন্তা করো না। আলফার ক্ষতি করার সামর্থ্য কারো নেই। তুমি নিশ্চিন্ত হয়ে বসো। "

ক্যাথরিনের অস্থির অনুভব হয়। সে উদ্বিগ্ন গলায় বলে,

" আমি আরোণের কাছে যাবো। "

লোল্যান্ডা বলে,

" ক্রিয়াস এইমাত্র কি বলে গেলো শুনো নি? আলফার আদেশ যেন তুমি কোথাও না যাও। "

ক্যাথরিন এগিয়ে গিয়ে আগুনের মশালটা নিতে নিতে বলে,

" তোমাদের আলফা এবং তার আদেশকে তোমরা বসে বসে মানো। আমি চললাম। "

চলবে…

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন