পর্ব -6
"অভি ভাই ব্যাকস্টেজ এ একটা মাইক কাজ করছেনা"
এটা সোনা মাত্রই অভির মস্তিষ্ক তড়াক করে উঠলো। এতক্ষণ ধরে করা উল্টো পাল্টা চিন্তা কে সাইড করে স্টেজ এর দিকে দৌড়ালো। আপাতত এখন মাইক ঠিক করা দরকার। অথিতিরা আস্তে শুরু করে দিয়েছে তাদের ফুল দিয়ে বরণ ও করতে হবে অল্প কিছু সময় পরই অনুষ্ঠান শুরু হবে আর এখন মাইক খারাপ। নিজে কেই নিজে কস্তে থাকলো অভি তার জন্য আজ অনুষ্ঠান টাই না নষ্ট হয়ে যায়। অভি মাইক এর দিকে তাকিয়ে একবার চারিপাশ এ তাকালো কিছু টা দুরে দেখলো নীলা অসহায় চোখেই ওর দিকে তাকিয়ে আছে। কিছু না ভেবেই নীলার কাছে দৌঁড়ে গেলো অভি। এখন নীলা ই সাহায্য করতে পারে। দৌঁড়ে নীলার কাছে পৌঁছে হাপিয়ে হাপিয়ে বেস্ত কন্ঠে বললো।
"মিস বাংলা ডিপার্টমেন্ট একটু সাহায্য করেন দয়া করে আপনি অতিথী দের বরণ করে নেন আমার মাইক খারাপ হয়ে গেছে ওটা রিপাইর করতে হবে প্লিজ গো নাও"
অভির মূখে এই সম্বোধন টা শুনে নীলার বুক ছ্যাঁত করে উঠল। গাল দুটো হালকা লাল বর্ণ ধারণ করলো। আর তার সাথে চোখে এক মুগ্ধতা । একমনে অভি কে দেখে যাচ্ছে। ঘামে ভেজা চুপচুপে শার্ট শরিরের শক্ত পোক্ত দেহের সাথে লেগে আছে জিম করা দেহো শার্ট এর উপর দিয়ে দৃশ্যমান । হালকা বাদামি আর ধূসর মিশ্রণ এর চোখ। হাল্কা বাদামি ঠোঁট দেখে মনে হয় কোনোদিন সিগারেট ছুইনি। অবিরত হাঁপানি শ্বাস নেয়ার জন্য বুক্ত থেকে থেকে ওঠা নামা করছে। ঘাড় ছুঁই ছুঁই উলফ কাটিং চুল ঘামে লেপটানো। অগোছালো। নীল ঘোর লাগা দৃষ্টিতে আনমনেই বলে উঠল।
"এই অগোছালো ছেলেটা যদি আমার হতো?"
"এই মিস কিছু বলছি শুনছো না?? দয়া করে যাও hurry up"
অভির কথাই নীলার ধ্যান ভাঙলো নিজের এই বোকামির জন্য নিজের মাথায় ই বারি দিতে মন গেলো। হঠাৎ কিছু একটা মনে করে ঝট করে অভি র দিকে তাঁকিয়ে উত্তেজিত কন্ঠে বললো।
"অভি ভাই........!"
অভি আর কিছু বলতে দিলোনা নীলা কে। ভাই ডাকটা শুনে মস্তিষ্ক তড়াক করে উঠলো। কপোট রাগ দেখিয়ে নীলা তাড়া দিয়ে বললো।
"এই মেয়ে এই তোমার কোন জন্মের ভাই লাগী আমি হুম?? বেশী না বকে চুপ চাপ যা কাজ দিয়েছি সেটা গিয়ে করো তোমার সাথে কথা বলতেই আমার অর্ধেক সময় শেষ হয়ে গেলো।"
একটানে কথা গুলো বলতে বলতে অভি আবার স্টেজ এর দিকে দৌড় দিলো। যাওয়ার সময় আরিফ কে বলে গেলো। বরণ করার জন্য নীলা কে সব কিছু দেখিয়ে দিতে। আরিফও বাধ্য ছেলের মতো নীলার কাছে গেলো। নীলা কে দেখেই উত্তেজিত কন্ঠে বলতে লাগলো।
"ভা....... না মানে ভালো মেয়ে আসো তোমাকে দেখিয়ে দিয় সব কিছু।"
ভাবী বলতে গিয়েও বললোনা বললে অভি আস্ত রাখবেনা ওকে। নীলা ও কিছু শুনেছে বলে মনে হয়না একপলক অভির দিকে মন খারাপ মূখ করে তাকিয়ে আরিফের সাথে গেলো।
এদিকে অভি মাইক ঠিক করতে ব্যস্ত মাইক ঠিক করছে আর থেকে থেকে হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে কপালের ঘাম মুচ্ছে। জাওয়াদ অভির কাছে এসে পকেট থেকে একটা রোমাল বার করে অভি কে দিতে দিতে বলল।
"আজ একটা তোর বউ নেই বলে তার শাড়ির আঁচল দিয়ে ঘাম টা মুছে দিতে পারলোনা। নে মামা নে এই রুমাল টা আপাতত রাখ আঁচল তো আর পেলিনা রুমাল টাই রাখ। তোর এই মেলা কষ্ট আমি আর দেখতে পারছিনা।"
একি তো স্টেজ এর মাইক খারাপ কিছু ক্ষণ পর অনুষ্ঠান শুরু হবে। অভি চেষ্টা করেও পারছেনা আর এই বাঁচা ল ছেলে তাকে এসে টিটকিরি মারছে। অভি রাগ দেখিয়ে বললো।
"সর সামনে দিয়ে নাটক করিস না দিমাগ এমনেই গরম আছে "
কথাটা বলেই অভি নিজের কাজে মনোযোগ দিলো । জাওয়াদ কি ছেড়ে দিয়ার মাত্র নাকি। সে অভির কাছ ঘেষে একটু দাঁড়িয়ে মেয়েলি ভাবে ন্যাকা ন্যাকা করে বলতে লাগলো।
"কী জানু রুমাল দিচ্ছি পছন্দ হচ্ছেনা? বউ থেরাপি লাগবে নাকি? আসো কলিজা পাখি তোমাকে বৌ থেরাপি দিয়"
অভি হাসবে নাকি রাগবে বুঝলো না । আশেপাশের সবাই জাওয়াদ কীর্তি দেখে হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছে। অভি ভাবলো না এখন হাসলে এই বেডা আবার তাঁর পিছনে লাগবে তাই হাসি টাকে কোনো রকম কন্ট্রোল করে রাগ দেখিয়ে হাতের মাইক টা নিয়ে দুম দাম জাওয়াদ এর পিঠে কয়েক ঘা বসিয়ে দিলো। এবার খানিক মুচকি হেসে বলল।
"কি পাখি? রেড ফ্ল্যাগ বর থেরাপি ভালো লাগলো নাকি আরো লাগবে?"
অভির কথাই সবাই আবার হাসিতে ফেটে পড়ল। জাওয়াদ মূখ টা কাচুমাচু করে হাত দিয়ে পিঠে হাত রাখতে রাখতে বলল।
"না সোনা আসো আমি ইন্ডিয়ার মুসকান এর মতো তোমার ঐটা..... একটু না মানে রাগ করলা?"
কথা টা বলেই জাওয়াদ অভিকে ভেংচি কাটলো। অভি ও আর হাসি আটকাটে না পারলোনা। সেও অট্টহাসিতে হেঁসে ফেলল। হাসতে হাসতেই মাইক টা নিয়ে আবার জাওয়াদ কে মারতে যাবে জাওয়াদ এক দৌড় দিলো জেতে যেতে উচ্চস্বরে বলতে লাগলো।
"হালার বন্ধু একা ছিলো বলে একটু সঙ্গ দিতে আসলাম আর এই হালাই শুধু মারে। দেখবি তোর বাসর ঘরের বিছানায় বিছুটি পাতা ঘসে দিবো"
স্টেজ এ আবার ও হাসির রোল পড়ল যে যার মতো একে অপরের গায়েহেলে পড়ে হাসতে লাগলো। অভি ও হাসছে। আর দূর থেকে সেই হাসি কেউ একজন মুগদো চোখে দেখছে। তার চোখের কোনো ক্লান্তি নেই একভাবেই দেখে যাচ্ছে।
জাওয়াদ দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে অনেক টাই চলে এসেছে। ভার্সিটি গেট বরাবর। জাওয়াদ দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে এই পিছন ফিরে দেখলো হঠাৎ ই কারোর সাথে জোরে ঢাক্কা খেলো। দুজনেই মাটিতে পড়ে গেলো মেয়েটার উপর জাওয়াদ। মেয়েটা মাটিতে পুড়ো পড়ে গেছে আর জাওয়াদ কোনো রকমে মাটিতে দুই হাত দিয়ে মেয়েটার উপর পড়া থেকে বেঁচেছে। জাওয়াদ এর মুখ মেয়েটার মুখ ছুঁই ছুঁই। দুজনের নিশ্বাস একে অপরের মুখে আঁচড়ে পড়ছে। জাওয়াদ উত্থে যাবে আবার পা স্লিপ করে মেয়েটার উপর পড়লো।
"ও মাআআআআ গো মরে গেলুম। ওই কোন বেয়াদব আমাকে মারার পায়তারা করে আসছিস রে।????"
জাওয়াদ মেয়েটির কন্ঠ শুনে মেয়েটির মুখের দিকে তাঁকালো। মুখে কৃত্রিম হালকা প্রসাধনী লাগানো। চোঁখ খিচে বন্ধ করা আছে। ঠোঁট কাপছে মনে হচ্ছে বিড়বিড় করে কিছু বলছে। নিশ্চয়ই জাওয়াদ এর থিকুচি গুষ্টি উদ্ধার করেছে। জাওয়াদ ধীরে উঠে দাঁড়ালো। মেয়েটাকে হাত বাড়িয়ে তুলতে তুলতে বলতে যাবে।
"স....!!"
তখনই মেয়েটা জাওয়াদ এর হাত ঝাড়া দিয়ে ফেলে নিজেই উঠে তেজ দেখিয়ে বললো।
"এই আপনার চোখ কি পাছায় নিয়ে ঘোরেন নাকি?
যত্তসব শশানের ছাই উড়ে এসে জুড়ে বসে।"
জাওয়াদ অবাক চোখে তাকাল মেয়েটার দিকে। সে কম কিসের। সেও শুরু করলো।
"আমার চোখ নাহয় পাছায় আপনার চোখ কি পায়ের টাখনু টে নাকি আপনি দেখ চলতে পারেননা?"
"এই কাকের বাচ্ছা আমাকে কিছু বলার আগে ভেবে বলবেন আপনার মুখ ভেঙে রেখে দিবো এই ধাই কিলো হাত দিয়ে। "
মেয়েটার এই কথায় জাওয়াদ মেয়েটার হাতের দিকে তাঁকালো। ছোট্টো একটুখানি হাত বলে নাকি ধায় কিলো হাতের দিকে তাকিয়েই উচ্চস্বরে হাসতে লাগলো।
"ওই মুরগির বাচ্চার পায়ের মতো হাত টা যদি ধাই কিলো হয় তাহলে আমার হাত দেখেন 100 কিলো আসেন পাঞ্জা লড়ি হারলে আমি আপনার আর জিতলে আপনি আমার বলুন ডিল ফাইনাল?? "
মেয়েটা রেগে কিছু বলতে যাবে পাশ থেকে একটা স্যার বলে ো উঠলো।
"এই যাও অনুষ্ঠান শুরু হয়ে যাচ্ছে ঝগড়া পড়ে করবে তোমরা।"
সারিয়া আর কিছু বলতে পারলোনা। জাওয়াদ ভেঙচি কেটে যেতে যেতে বলল।
"এইযে মুরগীর বাচ্চা ডিল টা মনে রাখবেন কিন্তু।"
সারিয়া ও ভেঙছি কেটে বললো।
"আপনার ডিল আর আমার প্রতিশোধ দুটই মনে থাকবে আপনাকে মারে লাউ গাছে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে না দিয় তাহলে আমার নাম সারিয়া নয় হুহ!"
জাওয়াদ আর কিছু বললোনা সামনে যেতে যেতে মনে মনে আউরালো।
"সারিয়া....!!! ইন্টারেস্টিং "
সারিয়া সেখানে দাড়িয়ে থেকেই জাওয়াদ কে কিছুক্ষন মনে মনে ধুয়ে দিলো তারপর স্টেজ এর দিকে রওনা দিলো