ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি কারো নাও

১ম পর্ব

লেখক: samia akther nadia

সূচনা পর্ব

#তুমি_কারো_নও
#সামিয়া
---
"এই মেয়ে! তুই কে? ছাদে আসার অনুমতি কে দিয়েছে তোকে? হ্যা?"
তাসিফা ভয়ে পেছনে ফিরে তাকালো।  
হঠাৎ পেছন থেকে কারো গম্ভীর কণ্ঠস্বর শুনে বুকের ভেতর ধক করে উঠল।
-"জবাব দিচ্ছিস না কেনো?"
তাসিফা সামনের লোকটার দিকে তাকিয়ে থমকে গেল। মানুষটা দেখতে এত সুন্দর, অথচ ব্যবহারটা একদম কুকুরের মতো।
কিছুটা সাহস জুগিয়ে তাসিফা বলল,  
-"আমি এই বাসার ভাড়াটিয়া। আমি কি ছাদে আসতে পারব না? আর আপনার ব্যবহার এত বাজে কেন? অপরিচিত মানুষদের সাথে কেউ এমন করে কথা বলে?"
কথাটা শুনে লোকটা আরও রেগে গেল।  
ওকে কেউ জ্ঞান দিক, ওটা ও একদম সহ্য করতে পারে না।
-"হেই ইউ! জাস্ট শাট আপ। এই ছাদে শুধু আমি থাকি। এই ছাদের পাশের ফ্ল্যাট'টা আমার। সো এখানে শুধু আমার রাজত্ব চলবে, বাকিদের না।"
তাসিফার মুখ ফসকে বের হয়ে গেল,  
-"ছাদ কি আপনার বাপের?"
লোকটা এবার খ্যাক খ্যাক করে উঠল।  
-"শাট আপ! এই জুয়িন শিকদারের সাথে মুখে মুখে তর্ক করার ফল কিন্তু তোকে পেতে হবে।"
বলেই তাসিফার হাত টেনে ছাদ থেকে বের করে দিল।
তাসিফা হতভম্ব! ওর সাথে কি হচ্ছে ও নিজেই বুঝতে পারছে না। মনে মনে হাজারটা গালি দিল জুয়িন নামের ছেলেটাকে।
জুয়িন তাসিফাকে বের করে দিয়ে নিজের রুমে চলে গেল। ভার্সিটির জন্য রেডি হতে লাগল।
আসলে সকাল সকাল ঘুম ভেঙেই জুয়িনের মুড অফ ছিল। ফ্রেশ হয়ে ছাদে গিয়েছিল একটু ব্যায়াম করতে।  
গিয়ে দেখে একটা মেয়ে ওর ফুল গাছের ফুলগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখছে।
ব্যস! জুয়িনের মেজাজ তুঙ্গে।  
ওর জিনিসে অন্য কেউ হাত দিক, এটা ও সহ্য করতে পারে না।
তাই কুকুরের মতো খ্যাক খ্যাক করে উঠল মেয়েটার উপর।  
তবে মেয়েটার ভীতু চোখ দুইটা... জুয়িনের কাছে কেমন যেন লেগে গেল।
---
জুয়িন বড় বড় পা ফেলে সিঁড়ি বেয়ে নেমে বাইক নিয়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে বের হয়ে গেল।
আর তাসিফা দাঁড়িয়ে ওর যাওয়া দেখল। মুখ ভেঙচি দিয়ে মনে মনে বলল,  
"আমি আবারো ছাদে যাবো। তখন দেখব তুই কি করিস খাটাশ লোক!"
বলেই হন হন করে নিজের ঘরে ফিরে এলো তাসিফা। রাগে ওর কান-মাথা গরম হয়ে আছে।
হঠাৎ ড্রইং রুম থেকে ভেসে এলো ডাক,  
-"তাসিফা আম্মু? কোথায় আপনি আম্মাজান?"
তাসিফা দৌড়ে নিজের রুম থেকে ড্রইং রুমে চলে এলো।  
দেখল ওর বাবা আলমগীর আলম খবরের কাগজ পড়তে পড়তে চায়ে চুমুক দিচ্ছেন।
-"এসো আম্মু, আমার পাশে বসো।"
তাসিফা বাবার পাশে বসল।  
আলমগীর আলম সকাল থেকে বাসায় ছিলেন না। নতুন ব্যবসা দিয়েছেন সেটার কাজ সামলাতে বাইরে যেতে হয়েছিল।
বাবা মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,  
-"তাসিফা মা আমার, কাল থেকে তো তোমার ভার্সিটি লাইফ শুরু। অনেক দূর যেতে হবে তোমাকে। হ্যাঁ, অনেক বন্ধু-বান্ধবী বানাবে। তবে ভালো বন্ধু বানাবে, খারাপ না। আর বোরিং লাইফ না। শুধু পড়াশোনা আর চিল। ঠিক আছে?"
তাসিফার চোখ চকচক করে উঠল।  
-"বাবা জানো, আমি খুব এক্সাইটেড! আমার ছোটবেলা থেকে শখ ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার। অবশেষে আমার স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে।"
মেয়ের কথা শুনে আলমগীর আলমের মুখে তৃপ্তির হাসি।
ঠিক তখনই রান্নাঘর থেকে খুন্তি হাতে বেরিয়ে এলেন আয়রা বেগম।  
-"বাপ আর মেয়ে দুইটাই এক! সারাদিন বসে বসে গল্প করো। আর এদিকে আমি কাজ করতে মরে যাচ্ছি।"
স্ত্রীর রাগ দেখে আলমগীর আলম হাসলেন,  
-"আরে শান্ত হও বিবিজান। আমার মেয়েকে বকবে না। ও এখনো ছোট। ওসব কাজ-কাজ ওকে করতে হবে না।"
আয়রা বেগম আরও রেগে গেলেন,  
-"তো জামাইর বাড়ি গেলে তোমার মেয়ে কি করবে শুনি? তাসিফার বাপ?"
আলমগীর আলম মেয়ের মাথায় হাত রেখে বললেন,  
-"তা তোমাকে ভাবতে হবে না তাসিফার মা। আমার মেয়ে সব সামলে নিবে।"
হঠাৎ রান্নাঘর থেকে পোড়া গন্ধ আসতেই আয়রা বেগম "হায় হায়" করে ছুটে গেলেন।  
যাওয়ার সময় স্বামীকে একটা ঝাড়ি দিতে ভুললেন না।
---
জুয়িন ভার্সিটিতে ঢুকেই সোজা ক্লাসরুমে চলে গেল।  
ক্লাসের সব মেয়ে ওর দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। কিন্তু জুয়িনের ওসবে ভ্রুক্ষেপ নেই। ওর দুনিয়া ওর মতো।এসব জিনিসে তার ইন্টারেস্ট বা পাত্তা দেওয়ার সময় নেই।
সে এসে ধপ করে বসে পড়ল বন্ধুদের পাশে।
সিয়াম গলা ছেড়ে কবিতা ধরল,  
"গরু খায় ধান,  
তুমি আমার জান।"
জুয়িন বিরক্ত চোখে তাকালো।  
রিদ সিয়ামের পিঠে চাপড় দিয়ে বলল,  
-"শালা, তুই তো কবিতাই খাইয়া দিলি।"
সিয়াম খ্যাক করে উঠল,  
-"তো তুই তো সেটাও পারিস না।"
জুয়িন এবার ধমক দিল,  
-"শাট আপ ইয়ার!"
সাথে সাথে দুইজন চুপ হয়ে পড়ল।
রিদ ফিসফিস করে বলল,  
-"মামা, তুমি এত চটে আছো কেন?"
সিয়াম দাঁত বের করে বলল,  
-"দোস্ত জুয়িনরে লাল পানি দে। তাইলে ঠান্ডা হইয়া যাইবো।"  
বলে নিজেই হি হি করে হাসতে লাগল।
রিদ বলল,
-"বেটা চুপ কর।এই জুয়িন বল কি হয়েছে?
জুয়িন বড় করে শ্বাস নিয়ে আজকের পুরো ঘটনা বলল।তা শুনে বন্ধুরা হাসল কিছুক্ষন।
---
বিকেলে তাসিফা বেলকনিতে এলো।  
বাইরের ওয়েদারটা দারুণ লাগছিল। বৃষ্টি আসার আগ মুহূর্তটা ওর খুব পছন্দ।
ওই সময় উপন্যাসের বই পড়তে আর চা খেতে ওর খুব ভালো লাগে।
তাই ঝটপট রান্নাঘরে গিয়ে ৫ মিনিটে চা বানিয়ে বেলকনিতে চলে এলো।
বাইরে হালকা বাতাস। তাসিফার চুলগুলো হালকা উড়ছে।  
বেলকনিতে একটা টেবিল আর চেয়ার আছে। সেখানেই বসে পড়ল ও।
হাতে "হুমায়ুন আহমেদ" এর লেখা "দিঘির জলে কার ছায়া গো" উপন্যাসের বইটি।
চায়ে চুমুক দিতে দিতে বইয়ের পাতা উল্টাচ্ছে তাসিফা।
হঠাৎ বাইকের হর্নের আওয়াজে তাসিফার মনোযোগ ভাঙল। বিরক্ত হয়ে তাসিফা নিচে তাকালো।
নিচে তাকিয়েই ওর মেজাজ খারাপ হয়ে গেল। ছাদের সেই জুয়িন নামক খ্যাক খ্যাক ওয়ালা, রাগী, বেয়াদব ছেলেটা।
এবার তাসিফা কিছুটা চেঁচিয়ে বলল,  
-"এই মিয়া, এতো জোরে হর্ন কেন বাজাচ্ছেন?"
জুয়িন কিছুটা হতভম্ব হলো।  
উপরে তাকিয়ে দেখল, তিন তলার বেলকনিতে ছাদের সেই মেয়েটা বসে আছে।
জুয়িন ভ্রু কুঁচকে বলল,  
-"সো হোয়াট? হর্ন আর কীভাবে বাজায়? ডাফার।"  
বলেই বাইক ভেতরে নিয়ে গ্যারেজে পার্কিং করে নিজের বাসায় চলে গেল।
আর এদিকে তাসিফার মুখটা থমথমে হয়ে গেল। এই লোকটা শুধু ওকেই কেন অপমান করে? Why man, why? বাল!"
বিড়বিড় করে বই বন্ধ করে দিল তাসিফা।  
আজকের চা-টাও বিস্বাদ লাগছে।
#চলবে
(আমার লেখা নতুন গল্প এটি।যদি পড়ে ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই লাইক,কমেন্ট করে আমার পাশে থাকবেন।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন