ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি কারো নাও

১৪তম পর্ব

লেখক: samia akther nadia

পর্ব ১৪ 

#তুমি_কারো_নও 
#লেখিকা_সামিয়া
---
ভার্সিটির নিউ লেকচারার "তিরান সাফওয়ান" এর উপর পুরো ক্লাসের মেয়েরাই ক্রাশ খেয়েছে। স্যারের এন্ট্রি, পার্সোনালিটি আর ফরমাল লুক দেখে সবাই ঘায়েল।
তাসনিম তো বুকে হাত দিয়ে চেয়ারে বসে আছে। চোখে মুগ্ধতা। হঠাৎ সে নিজের বন্ধুদের দিকে ঘুরে ফিসফিস করে বলল,  
-"দোস্তরা! ফাইনালি তোদের দুলাভাইকে খুঁজে পেলাম।"
কথা শুনে ভন্ডপার্টির বাকি তিনজন চোখ ছোট ছোট করে তাসনিমের দিকে তাকালো। তাসনিম ওদের রিয়াকশন দেখে ফিক করে হেসে দিলো।
অন্যদিকে তিরান স্যার ক্লাস নিচ্ছেন। উনার ক্লাসে কেউ অযথা কথা বলুক বা হাসাহাসি করুক এটা তিনি একদম পছন্দ করেন না।
হঠাৎ স্যারের চোখ গেলো লাস্ট বেঞ্চের দিকে। ভন্ডপার্টি ফিসফিস করছে আর হাসছে।
সাথে সাথে স্যার কঠিন গলায় ধমকে উঠলেন,  
-"হেই ফোর ইডিয়টস! স্ট্যান্ড আপ।"
ধমক খেয়ে ভন্ডপার্টির চারজন আঁতকে উঠল। 
সঙ্গে সঙ্গে চারজনই দাঁড়িয়ে গেলো। মাথা নিচু।
হঠাৎ তিরানের চোখ গিয়ে পড়ল তাসিফার উপর। 
তাসিফা চুপচাপ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। চোখে পানি আসার মতো অবস্থা।
তাসিফার মায়াবী চেহারা আর অসহায় মুখটা দেখে তিরানের রাগটা একটু কমে গেলো। 
গলা একটু নরম করে গম্ভীর স্বরে বললেন,  
-"আমি কি আপনাদের জোকস শোনাচ্ছি? যে আপনারা খিলখিল করে হাসছেন?"
পুরো ক্লাসরুমে পিনপতন নিস্তব্ধতা। আর অন্যদিকে ভন্ডপার্টির খুব হাসি পাচ্ছে। অনেক কষ্টে নিজেদের হাসি কন্ট্রোল করে রাখছে।
তিরানের আজ প্রথম ক্লাস। তাই ভন্ডপার্টিদের আজকের মতো ছেড়ে দিলেন। তবে মনে ঠিক করে নিলেন, উনার টার্গেট লিস্টে সবসময় এই "ফোর ইডিয়টস" থাকবে।
--
ক্লাস শেষে সবাই একে একে বের হয়ে পড়ল। 
এখন ভন্ডপার্টিরা সবাই ক্যান্টিন থেকে কিছু খেয়ে নিবে। কারণ সবার পেটে ক্ষুধায় চোঁ চোঁ করছে।
হঠাৎ তাসিফার খেয়াল হলো সে নিজের মোবাইল আনতে ভুলে গিয়েছে ক্লাস থেকে। 
তাই ভন্ডপার্টিদের বলল,  
-"শোন, আমি ক্লাস থেকে একটু আসছি। আমার মোবাইল আমি ক্লাসেই ফেলে রেখে এসেছি।"
তাসিফা আর দাঁড়ালো না। ক্লাসের দিকে পা বাড়ালো।
তাসিফা ক্লাস থেকে মোবাইল নিয়ে বের হতে নিলেই তিরান স্যারের সাথে দেখা হয়ে গেলো। 
তাসিফা সালাম দিয়ে চলে যেতে নিলে তিরান গম্ভীর স্বরে ডাকল,  
-"হেই, দাঁড়াও।"
তাসিফা দাঁড়িয়ে গেলো। তিরানের দিকে তাকিয়ে বলল,  
-"স্যার, কিছু বলবেন?"
তিরান গলা পরিষ্কার করে বলল,  
-"হোয়াটস ইয়োর নেইম?"
তাসিফা বলল,  
-"জ্বি, তাসিফা আলম।"
তিরান জবাবে বলল,  
-"ওহ। ক্লাসে নিয়মিত পড়া চাই।" 
বলেই হন হন করে চলে গেলো।
তাসিফা হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। 
অতঃপর তিরান স্যারের কথা মাথা থেকে ঝেড়ে দিয়ে ক্যান্টিনের দিকে দৌড় দিলো। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতে দিতে খাবার খেতে লাগল।
---
অন্যদিকে করিডোরের এক কোণে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল জুয়িন। হাতে বাইকের চাবি অনবরত ঘোরাচ্ছিল।
দূর থেকে তাসিফাকে তিরান স্যারের সাথে কথা বলতে দেখেই ওর শরীরের রক্ত গরম হয়ে গেলো। চোয়াল শক্ত হয়ে এলো। কপালের রগ ফুলে উঠল।
দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে বলল,  
-"তিরান স্যারের তাসিফার নাম জেনে কি লাভ, হ্যাঁ?"
জুয়িনের চোখ-মুখে স্পষ্ট রাগ। তাসিফার সাথে অন্য কারো এক সেকেন্ড কথা বলাও ও সহ্য করতে পারছে না।
স্যার চলে যেতেই জুয়িন আর দাঁড়ালো না। লম্বা লম্বা পা ফেলে সোজা ক্যান্টিনের দিকে গেলো।
ক্যান্টিনে ঢুকেই দেখলো ভন্ডপার্টি একসাথে বসে হাসাহাসি করছে। আর মাঝখানে তাসিফা নুডলস খাচ্ছে, একদম নরমাল।
জুয়িনকে দেখে তাসনিম ফিসফিস করে বলল,  
-"দোস্ত, তোর ক্রাশ এখানে। কিন্তু মুড অফ লাগতেছে কেন?"
তাসিফা মাথা তুলে জুয়িনের দিকে তাকালো। 
জুয়িনের চোখ লাল। রাগে ফুঁসছে।
কিন্তু তাসিফার চোখে চোখ পড়তেই জুয়িন হুট করে চোখ সরিয়ে নিলো। কিছু না বলেই গিয়ে বসল নিজের বন্ধুদের পাশে।
তাসিফা হতভম্ব হয়ে গেলো। বুকের ভেতর কেমন মোচড় দিয়ে উঠল।
আমাকে দেখে জুয়িন ভাইয়া এভাবে চোখ কেন সরালো?আমি কি কোনো ভুল করেছি?
নুডলসের প্লেট হাতে নিয়ে তাসিফা আর খেতে পারল না।
ক্যান্টিনে সবাই খাচ্ছে। তাসনিম তাসিফার প্লেটে ধাক্কা দিয়ে বলল,  
-"কিরে? খাচ্ছিস না কেন? জুয়িন ভাইয়া আসার পর থেকেই তো তোর মুড অফ।"
তাসিফা জোর করে ঠোঁটে হাসি টেনে বলল,  
-"কিছু না। পেট ভরে গেছে।"
অথচ পেটের ভেতর মোচড় দিচ্ছে। গলা দিয়ে খাবার নামছে না।
অন্যদিকে জুয়িন নিজের বন্ধুদের সাথে বসে আছে। সামনে ধোঁয়া ওঠা কফি। কিন্তু এক চুমুকও খাচ্ছে না। শুধু আড়চোখে বারবার তাসিফাকে দেখছে। 
সিয়াম কনুই দিয়ে গুঁতো দিয়ে বলল,  
-"কিরে? এভাবে মুখ গোমড়া করে বসে আছিস কেন? কিছু হয়েছে?"
জুয়িন ভ্রু কুঁচকে বলল,  
-"কিছু হয়নি।"
সাদ দাঁত কেলিয়ে বলল,  
-"তাসিফার সাথে আজ কথা বলবি না মামা?"
জুয়িন কটমট করে বলল,  
-"কার সাথে কথা বলব? যার স্যারদের সাথে কথা বলতে ভালো লাগে?"
বলেই রাগে কফির বিল না দিয়েই উঠে চলে গেলো। 
এদিকে রিদ আর সিয়াম আহাম্মকের মতো বসে রইল।
--
তাসিফার মনটা খারাপ হয়ে আছে। 
জুয়িন তার দিকে একবারও চোখ তুলে তাকায়নি। 
যার জন্য ভার্সিটিতে সেজেগুজে আসে, সেই যদি পাত্তা না দেয়,মন খারাপ হওয়াই তো কথা।
---
রোদের তাপে রাস্তার পিচ গলে যাওয়ার মতো অবস্থা। প্রচুর গরম। দুপুরে ভার্সিটি শেষে ভন্ডপার্টিরা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। ঘামে সবার জামা ভিজে গেছে। 
রিক্সাও খালি পাওয়া যাচ্ছে না।
ইয়াশের মেজাজ খারাপ হয়ে আছে। খ্যাকখ্যাক করে উঠল,  
-"শালার মাদারবোর্ড মার্কা ভাগ্য! দরকারের সময় বা*লের রিক্সাও খুঁজে পাওয়া যায় না।"
তাসিফা বিরক্ত স্বরে বলল,  
-"কুত্তার মতো ঘেউ ঘেউ করিস না। মানুষ পাগল মনে করবে।"
ইয়াশ মুখ বাঁকিয়ে বলল,  
-"তুই খাড়াইয়া আছস ক্যান? তোর রোমিওর তো বাইক আছে। ওইটায় করে শোঁ শোঁ করে চলে যা।"
তাসিফা মুখ ফুলিয়ে বলল,  
-"রোমিও আমার দিকে আজকে এক ফোঁটাও তাকায়নি।"
সবাই একসাথে প্রশ্ন করল,  
-"কেনো?"
তাসিফা নিচু গলায় বলল,  
-"আই ডোন্ট নো।"
ঠিক তখনই একটা খালি রিক্সা আসলো। চারজন কোনোমতে ঠেসে উঠে বসলো। রিক্সাওয়ালা মামা প্যাডেল চাপতে চাপতে হাঁপাচ্ছে, আর ওরা গরমে সিদ্ধ হচ্ছে।
---
রাত ৮টা বাজছে।তাসিফা কুত্তার মতো পড়াশোনা শুরু করেছে। কারণ আগামী মাসে মিড টার্ম। কিন্তু মন বসছে না কিছুতেই।
ফোনের স্ক্রিন বারবার চেক করছে। আজ কোনো মেসেজ নেই, আর না কোনো কল।প্রতিদিন এই টাইমে জুয়িন "গাছে পানি দেওয়ার জন্য" মেসেজ দেয়। 
না হয় সরাসরি কল দেয়। কিন্তু আজ দেয়নি।
তাসিফা বই বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। ওড়না দিয়ে শরীর জড়িয়ে মা-বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে ছাদের উদ্দেশ্যে পা বাড়ালো।
ছাদে উঠেই বুক কেঁপে উঠল। পুরো ছাদ অন্ধকার। একটা লাইটও জ্বলছে না। হঠাৎ চোখ পড়ল ছাদের কোণায়। অন্ধকারে কারো ছায়া।
তাসিফা মনে মনে বলল,  
-"এই বেডায় অন্ধকারে ছাদের কোণায় দাঁড়িয়ে আছে কেন?"
আস্তে আস্তে এগিয়ে গেলো। জুয়িন টের পায়নি। 
হাতে জ্বলন্ত সিগারেট। ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে উড়ছে।
হঠাৎ পেছনে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে জুয়িনের বুক ধুক করে উঠল। ভূত ভেবে পেছনে ফিরেই এক ঘুষি বসিয়ে দিলো।
 
তাসিফা জুয়িনের ঘুষি খেয়ে কপালে আঘাত পেয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল।
জুয়িন কাছে এসে মোবাইলের লাইটের আলো ফেলতেই চমকে উঠল।  
-"তাসিফা?"
হতভম্ব হয়ে দ্রুত নিচে বসে পড়ল। তাসিফার গালে হালকা চাপড় দিয়ে ডাকতে লাগল,  
-"হেই তাসিফা। সরি, সরি। চোখ মেল বইন।"
তাসিফা অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। জুয়িন দৌড়ে নিজের বাসা থেকে এক বোতল পানি এনে তাসিফার মুখে ছিটিয়ে দিলো।
দুই মিনিট পর তাসিফা পিটপিট করে চোখ মেলে তাকালো। চারপাশ অন্ধকার। মাথা ঝিমঝিম করছে।
সামনে ঝুঁকে বসে আছে জুয়িন। তাসিফার জ্ঞান ফিরতেই জুয়িন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলো।
তাসিফা ধীরে ধীরে বসল। হঠাৎ মনে পড়ল জুয়িনের ঘুষি খেয়ে সে অজ্ঞান হয়েছিলো। 
তাসিফা কটমট করে জুয়িনের দিকে তাকিয়ে বলল,  
-"এই আপনি আমাকে ঘুষি কেন মেরেছেন?"
জুয়িন ভ্রু কুঁচকে বলল,  
-"ভূতের মতো পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলি কেন?"
তাসিফা হতভম্ব হয়ে বলল,  
-"আমি ভূতের মতো পেছনে দাঁড়িয়ে ছিলাম?"
-"হ্যাঁ।"
তাসিফা আর কথা না বাড়িয়ে হনহন করে নিচে চলে গেলো। এটার প্রতিশোধ কালকে নিবে তাসিফা।পেছন থেকে জুয়িন শুধু তাকিয়ে রইল।
#চলবে
(কেমন হয়েছে আজকের পার্টটা👉👈?)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন