ফন্ট সাইজ:
থিম:
তুমি কারো নাও

২৪তম পর্ব

লেখক: samia akther nadia

পর্ব ২৪

#তুমি_কারো_নও 
#লেখিকা_সামিয়া
---
বিকেলে গড়িয়ে সন্ধ্যা হলো।  
তাসিফা তাসনিমের দেওয়া শাড়ি আর চুড়িগুলো পড়ে নিলো।  
টকটকে লাল সুতি শাড়ি। পাড়ে সরু সোনালি জরির লতা।  
শাড়ি কুচি করে কোমরে গুঁজে দিতেই কোমরের ভাঁজটা স্পষ্ট হয়ে উঠল।  
কালো ঘন লম্বা চুলগুলো ছেড়ে দিলো। চুলের ডগাগুলো হাটু ছুঁয়েছে।  
মুখে সামান্য ফাউন্ডেশন আর পাউডার। চোখে একটু মাস্কারা।  
কাজল দিলো না। কারণ তাসিফা কাজল দিলে তাকে পান্ডার মতো দেখতে লাগে।  
ঠোঁটে হালকা খয়েরি রঙের লিপস্টিক।  
ব্যাস, এতটুকুতেই তাসিফাকে ভীষণ সুন্দর লাগছে। একদম বউ বউ লাগছে।
তাসিফা জুয়িনের দেওয়া সলিটেয়ার ডায়মন্ড পেনড্যান্টটা গলায় দিলো না। এত দামি জিনিস। যদি হারিয়ে যায়?  
সেই ভয়ে আর পড়ল না। যত্ন করে বক্সে রেখে দিলো।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ভন্ডপার্টিরা চলে এলো।  
সাথে রিদ আর সিয়ামও এলো।  
সবাই তাসিফার রুমে এসে বসল। হইচই, আড্ডা শুরু হয়ে গেলো।
তাসিফা আড়চোখে আশেপাশে তাকিয়ে দেখল। জুয়িন এখনো আসেনি।  
রিদ তাসিফার অস্থিরতা বুঝতে পেরে হেসে বলল,  
-"জুয়িন একটু পরই চলে আসবে। টেনশন নিও না।"
তাসিফা অপ্রস্তুত হয়ে হেসে দিলো।  
-"আমি টেনশন করছি কখন বললাম?"
হঠাৎ তাসনিম তাসিফাকে জড়িয়ে ধরে বলল,  
-"আমার তাসুটাকে কি প্রিটি লাগছে ইয়ায়ার! একদম লাল পরী।"অতঃপর তাসিফার কানে ফিসফিস করে বলল,
-"জুয়িন ভাইয়া দেখলে তো ক্রাশ খাবে।"
তাসিফা লজ্জা পেয়ে বলল,  
-"থ্যাঙ্ক ইউ জানু।"
ইয়াশ নিজের চুলে হাত বুলাতে বুলাতে বলল,  
-"মোবাইলের সব সেটিংস ঠিক করেছিস?"
তাসিফা মাথা নেড়ে 'না' বলল।
সাদ ফোস করে শ্বাস ছেড়ে বলল,  
-"আমাদের দে। সব সেটিংস ঠিক করে দিচ্ছি। নাহলে তুই রাত জেগে ইউটিউব দেখে ফোন নষ্ট করে ফেলবি।"
তাসিফা উঠে টেবিল থেকে মোবাইলের বক্সটা ওদের দিকে বাড়িয়ে দিলো।
ইয়াশ আর সাদ মিলে ফোন অন করে সেটিংস ঠিক করছে।  
এরই মাঝে দরজায় টোকা পড়ল।জুয়িন এলো।
জুয়িনকে দেখে তাসিফার নিঃশ্বাস আটকে গেলো। আজ জুয়িন কালো রঙের সিল্ক পাঞ্জাবি পড়েছে।  
পাঞ্জাবির কলার আর হাতায় মিহি সুতার কাজ।  
ফিটিংস পাঞ্জাবিতে চওড়া কাঁধ আর লম্বা গড়নটা আরো সুঠাম লাগছে।  
হাতে রোলেক্সের ওয়াচ। চুলগুলো হালকা ভেজা। হয়তো তাড়াহুড়ো করে এসেছে।  
গম্ভীর মুখ। 
অন্যদিকে জুয়িনের চোখ আটকে গেলো তাসিফার দিকে।  
লাল শাড়িতে তাসিফাকে আজ অন্যরকম লাগছে। লালের সাথে সোনালি জরির পাড়।  
কাঁধ থেকে আঁচলটা একটু সরে গেছে।  
গলায়, কানে, হাতে কোনো গয়না নেই।  
শুধু খোলা চুল আর কপালে ছোট একটা টিপ।  
এই সিম্পল সাজেই মেয়েটাকে যেন পরির মতো লাগছে। জুয়িনের বুকের ভেতর ধক করে উঠল।
হঠাৎ আয়রা বেগম দরজার বাইরে থেকে ডাকলেন,  
-"সবাই এসো ড্রইং রুমে। নাস্তা দিচ্ছি।"
সবাই একে একে চলে গেলো।  
শুধু রুমে বাকি রইল তাসিফা আর জুয়িন।
জুয়িন আচমকা রুমের দরজাটা ভেতর থেকে লাগিয়ে দিলো,সবার আড়ালে।
তাসিফা চোখ বড় বড় করে তাকালো জুয়িনের দিকে। বুকের ভেতর ধুকপুক বাড়ছে।
জুয়িন ধীরে ধীরে তাসিফার কাছে এগিয়ে গেলো। পায়ের শব্দও শোনা যাচ্ছে না।
তাসিফা ড্রেসিং টেবিলের সামনে বসে আছে। জুয়িন সোজা গিয়ে তার পেছনে দাঁড়ালো।  
আয়নায় দুজনের প্রতিবিম্ব।  
তাসিফা আমতা আমতা করে বলল,  
-"কি? কিছু বলবেন?"
জুয়িন ভ্রু কুঁচকে গম্ভীর স্বরে বলল,  
-"গলায় লাগাসনি কেন?আমার দেওয়া জিনিস পছন্দ হয়নি?" কণ্ঠে রাগ মিশে আছে।
তাসিফা থতমত খেয়ে বলল,  
-"না মানে... ওটা অনেক দামি তো!যদি হারিয়ে যায় তাই আর পড়িনি।"
জুয়িন হাত বাড়িয়ে বলল,  
-"দে আমাকে।"
তাসিফা অবাক হয়ে বলল,  
-"আপ..নি পড়িয়ে দিবে..ন?"
জুয়িন জবাব দিলো না। তাসিফা কাঁপা হাতে কালো বক্স থেকে  
সলিটেয়ার ডায়মন্ড পেনড্যান্টটা জুয়িনের হাতে ধরিয়ে দিলো।
জুয়িন এক হাতে পেনড্যান্টটা নিলো।আরেক হাত দিয়ে তাসিফার ঘাড়ের থেকে কালো চুলগুলো আলতো করে সরিয়ে দিলো।চুল সরাতেই তাসিফার ফর্সা পিঠ আর ঘাড় দৃশ্যমান হয়ে উঠল।  
জুয়িন ঢক গিলে নিলো। তাসিফার সারা শরীরে কাঁটা দিয়ে উঠল।  
অস্বস্তি আর লজ্জা দুটো একসাথে ঘিরে ধরল। সে চোখ বন্ধ করে নিলো।
জুয়িন অসম্ভব যত্ন সহকারে তাসিফার গলায় পেনড্যান্টটা পড়িয়ে দিলো। চেইনের হুকটা লাগানোর সময় তার আঙুল তাসিফার ঘাড় ছুঁয়ে গেলো। তাসিফা কেঁপে উঠল।
পেনড্যান্টটা গলায় পড়তেই ডায়মন্ডটা তাসিফার গলার ঠিক মাঝখানে এক ফোঁটা শিশিরের
মতো জ্বলজ্বল করছে। লাল শাড়ির সাথে সাদা গোল্ডের চেইনটা মারাত্মক সুন্দর লাগছে।
জুয়িন আয়নার দিকে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলল,  
-"এখন পারফেক্ট লাগছে।  
তাসিফা আড়চোখে জুয়িনের দিকে তাকালো।  
জুয়িন ধীরে ধীরে তাসিফার আরো কাছে চলে এলো। আয়নায় দুজনের চোখাচোখি হলো। তাসিফার বুকের ভেতর হৃদস্পন্দন দ্বিগুণ হয়ে গেলো।  
জুয়িন একদম কাছে এসে দাঁড়ালো।  
তাসিফা জুয়িনের গরম নিঃশ্বাস নিজের ঘাড়ের কাছে টের পেলো।  
অজানা এক শিহরণে তার সারা শরীর কেঁপে উঠল। লজ্জায়, অস্বস্তিতে তাসিফা চোখ বন্ধ করে নিলো।  
জুয়িন ধীরে ধীরে তাসিফার ঘাড়ে ও পিঠে ছোট ছোট চুমো একেঁ দিতে লাগল।
তাসিফা শক্ত করে শাড়ির আঁচল খামচে ধরল।  
ঘরটা হঠাৎ করেই ভীষণ নীরব হয়ে গেলো। শুধু দুজনের নিঃশ্বাসের শব্দ।
হঠাৎ দরজার বাইরে থেকে তাসনিম চিৎকার করে বলল,  
-"তাসু, জুয়িন ভাইয়া, তোমরা কোথায়?নাস্তা ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে!"
দুজনেই চমকে উঠল। জুয়িন দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে দরজা খুলে বেরিয়ে গেলো।  
তাসিফা গলায় হাত দিয়ে পেনড্যান্টটা ছুঁয়ে লম্বা একটা শ্বাস নিলো।
----
সবাই ড্রয়িংরুমে বসে নাস্তা করছে। নাস্তার পাশাপাশি চলছে জমজমাট আড্ডা। সবাই হাসি-ঠাট্টায় ব্যস্ত।
অন্যদিকে, তাসিফা লজ্জায় জুয়িনের দিকে ফিরেও তাকাতে পারছে না।
জুয়িন আড়চোখে বারবার তাসিফার প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করছিল। মেয়েটার লজ্জায় মুখ নামিয়ে রাখা দেখে অজান্তেই তার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটে উঠল।
---
রাতে আলমগীর আলম বাসায় ফিরতেই সবাই ডাইনিং টেবিলে খেতে বসলো।
আয়রা বেগম আজ বেশ যত্ন করে বিফ বিরিয়ানি রান্না করেছেন। টেবিলজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে বিরিয়ানির দারুণ ঘ্রাণ।
সবাই একসঙ্গে খেতে খেতে আয়রা বেগমের রান্নার প্রশংসা করতে লাগল।
খাবার টেবিলে বসেও তাসিফার চোখ বারবার আড়চোখে জুয়িনের দিকে চলে যাচ্ছে। অথচ জুয়িন নিজের মতো করে মনোযোগ দিয়ে খাবার খেতে ব্যস্ত।
--
খাওয়া শেষে দেখা গেল, সবাই প্রয়োজনের চেয়ে একটু বেশিই খেয়ে ফেলেছে। তাই সবাই মিলে তাসিফার রুমে এসে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে বসল।
কিছুক্ষণ পর ইয়াশ তাসিফার নতুন মোবাইলটা তার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
-"সব ঠিক করে দিয়েছি। শুধু তুই সিমটা ঢুকিয়ে নিস।”
তাসিফা মাথা নেড়ে বলল,
-“আচ্ছা।”
রাত অনেক হয়ে যাওয়ায় এবার সবাই নিজ নিজ বাসায় ফেরার প্রস্তুতি নিতে লাগল।
জুয়িন আয়রা বেগম আর আলমগীর আলমের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলল,
-"আংকেল, আমি এখন বাসায় যাচ্ছি। কাল আবার ভার্সিটি আছে।”
আয়রা বেগমও হেসে জুয়িনের মাথায় স্নেহভরে হাত বুলিয়ে দিয়ে বললেন,
-“ঠিক আছে, যাও। আবার এসো কিন্তু।”
জুয়িন মাথা নেড়ে বলল,
-“আচ্ছা।”
এরপর যাওয়ার আগে এক পলক তাসিফার দিকে তাকাল সে। তারপর রিদ আর সিয়ামকে সঙ্গে নিয়ে নিজের ফ্ল্যাটের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে গেল।রাত বেশি হয়ে যাওয়ায় রিদ আর সিয়াম জুয়িনের বাসায় থেকে যাবে আজকের রাত'টা।
---
এক এক করে সবাই বিদায় জানিয়ে নিজ নিজ বাসায় ফিরে গেল।
তাসিফা নিজের রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে নিল। শাড়িটা বদলে আরামদায়ক টি-শার্ট আর প্যান্ট পরে নিল সে।
আজ সারাদিনের ধকলের পর ভীষণ ক্লান্ত লাগছে তার।তাই আর কোনো কিছু না ভেবেই সোজা বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়ল তাসিফা।কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্লান্তিতে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল সে।
#চলবে

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৪তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন