ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিশীথের ওপারে তুমি

১ম পর্ব

লেখক: Adiba
রাতটা ছিল অদ্ভুত নীরব।
শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলো অনেক আগেই নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। জানালার কাঁচে টুপটাপ বৃষ্টির শব্দ, দূরে কোথাও মেঘের গর্জন—সব মিলিয়ে রাতটা যেন কোনো অজানা ঘটনার অপেক্ষায় ছিল।
মায়া জানালার পাশে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে ছিল।
তার হাতে একটা পুরোনো চিঠি।
চিঠিটা এতবার পড়েছে যে কাগজের ভাঁজগুলো প্রায় মুছে গেছে। তবুও প্রতিবার পড়ার সময় তার বুকের ভেতর একই রকম একটা ব্যথা জন্ম নেয়।
চিঠির শেষ লাইনটা সে চোখ বন্ধ করেও বলতে পারে—
“যদি কোনোদিন আমাকে খুঁজতে আসো, নিশীথের ওপারে এসো। আমি অপেক্ষা করব।”
চিঠিটার নিচে কোনো নাম ছিল না।
শুধু একটা তারিখ।
সাত বছর আগের।
মায়া ধীরে ধীরে চোখ মুছে ফেলল।
সাত বছর ধরে সে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে—সবকিছু শেষ।
যে মানুষটা তাকে একদিন বলেছিল, “তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচব না,” সে মানুষটাই একদিন হঠাৎ তার জীবন থেকে হারিয়ে গিয়েছিল।
কেউ জানত না সে কোথায় গেছে।
কেউ জানত না সে বেঁচে আছে কি না।
শুধু মায়া জানত—
সে মানুষটা মরে যেতে পারে না।
কারণ তার দেওয়া শেষ প্রতিশ্রুতিটা এখনও মায়ার মনে বেঁচে আছে।
হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠল।
মায়া চমকে ফোনের দিকে তাকাল।
রাত ১২টা ১৭ মিনিট।
অচেনা নম্বর।
কয়েক সেকেন্ড ফোনটা বাজতেই থাকল।
তারপর মায়া কলটা ধরল।
—“হ্যালো?”
ওপাশে কোনো উত্তর নেই।
শুধু নিঃশ্বাসের শব্দ।
মায়ার বুক ধক করে উঠল।
—“কে বলছেন?”
কিছুক্ষণ পর খুব নিচু একটা পুরুষ কণ্ঠ ভেসে এলো—
—“তুমি এখনও সেই চিঠিটা রেখে দিয়েছ?”
মায়ার শরীর জমে গেল।
তার চোখ ধীরে ধীরে হাতে থাকা চিঠিটার দিকে চলে গেল।
কেউ জানে না এই চিঠির কথা।
কেউ না।
সে কাঁপা গলায় বলল,
—“আপনি কে?”
ওপাশ থেকে হালকা একটা হাসির শব্দ এলো।
তারপর—
—“আমাকে ভুলে গেছ, মায়া?”
মায়ার হাত থেকে চিঠিটা মেঝেতে পড়ে গেল।
এই কণ্ঠ...
অসম্ভব।
সাত বছর আগে যে কণ্ঠটা শেষবার শুনেছিল, সেই কণ্ঠই আজ আবার তার কানে বাজছে।
মায়ার ঠোঁট কাঁপতে লাগল।
—“রায়ান?”
কয়েক সেকেন্ড নীরবতা।
তারপর ওপাশ থেকে উত্তর এলো—
—“হ্যাঁ। আমি।”
মায়ার চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল।
সে কোনো কথা বলতে পারল না।
রায়ান?
সে কি সত্যিই বেঁচে আছে?
কিন্তু যদি বেঁচেই থাকে—
তাহলে এত বছর কোথায় ছিল?
আর কেন আজ?
মায়া কাঁপা গলায় বলল,
—“তুমি কোথায়?”
ওপাশ থেকে উত্তর এলো না।
বরং রায়ান বলল,
—“তুমি কি এখনও আমাকে বিশ্বাস করো?”
মায়া চোখ বন্ধ করল।
সাত বছর ধরে যে প্রশ্নের উত্তর সে নিজের কাছেও খুঁজে পায়নি, আজ সেই প্রশ্নই আবার তার সামনে।
—“আমি জানি না।”
রায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
—“জানতাম, তুমি এমনটাই বলবে।”
—“তাহলে ফোন করেছ কেন?”
—“কারণ সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে।”
মায়ার বুক কেঁপে উঠল।
—“কিসের সময়?”
রায়ানের কণ্ঠ এবার আরও নিচু হয়ে গেল।
—“তোমার জীবন বিপদে।”
মায়া কিছু বলার আগেই কলটা কেটে গেল।
সে সঙ্গে সঙ্গে নম্বরটায় আবার ফোন করল।
নম্বরটি বন্ধ।
মায়া স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে নিচে পড়ে থাকা চিঠিটা তুলে নিল।
কিন্তু এবার চিঠিটার পেছনে এমন একটা জিনিস দেখতে পেল, যেটা আগে কখনো খেয়াল করেনি।
কালো কালিতে লেখা মাত্র তিনটি শব্দ—
“তাকে বিশ্বাস করো না।”
মায়ার বুকের ভেতরটা হিম হয়ে গেল।
“তাকে” বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
রায়ানকে?
নাকি অন্য কাউকে?
ঠিক তখনই তার ঘরের দরজায় শব্দ হলো।
ঠক... ঠক... ঠক...
মায়া চমকে দরজার দিকে তাকাল।
—“কে?”
কোনো উত্তর নেই।
আবার শব্দ হলো।
ঠক... ঠক...
মায়া ধীরে ধীরে দরজার কাছে গেল।
হাতটা দরজার হাতলে রাখতেই তার ফোনে একটা মেসেজ এলো।
Unknown Number:
“দরজা খুলবে না।”
মায়ার বুকের ভেতর ধক করে উঠল।
সে দরজা থেকে হাত সরিয়ে নিল।
কয়েক সেকেন্ড পর দরজার ওপাশ থেকে খুব পরিচিত একটা কণ্ঠ ভেসে এলো—
—“মায়া, দরজা খোলো।”
মায়ার চোখ বিস্ময়ে বড় হয়ে গেল।
এই কণ্ঠ...
এটা তো—
রায়ানের কণ্ঠ।
কিন্তু রায়ান যদি ফোনে কথা বলার পরই এখানে এসে থাকে...
তাহলে এত দ্রুত কীভাবে?
আর যদি দরজার ওপাশে সত্যিই রায়ান থাকে—
তাহলে ফোনে কথা বলছিল কে?
মায়া নিঃশ্বাস বন্ধ করে দরজার দিকে তাকিয়ে রইল।
বাইরে থেকে আবার সেই কণ্ঠ—
—“মায়া... আমি জানি তুমি ভেতরে আছ।”
মায়া এক পা পিছিয়ে গেল।
তারপর হঠাৎ দরজার নিচ দিয়ে একটা সাদা খাম ভেতরে ঢুকে পড়ল।
খামের ওপর শুধু একটা নাম লেখা—
“মায়ার জন্য।”
মায়া খামটার দিকে তাকিয়ে রইল।
আর তখনই বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটা খুব ধীরে বলল—
—“সাত বছর আগে যে রাতটায় রায়ান মারা গিয়েছিল, সেই রাতের সত্যিটা জানতে চাইলে... দরজাটা খুলতেই হবে।”
মায়ার বুকের ভেতর যেন সবকিছু থেমে গেল।
রায়ান কি সত্যিই মারা গিয়েছিল?
তাহলে ফোন করেছিল কে?
আর দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে কে?
মায়া ধীরে ধীরে খামটার দিকে এগিয়ে গেল।
কিন্তু সে জানত না—
এই খামটা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর সত্যের দরজা খুলে যাবে।
চলবে...
পর্ব ২-এ:
দরজার ওপাশে কে?
রায়ান কি সত্যিই বেঁচে আছে?
আর সাত বছর আগের সেই রাতের আসল ঘটনা কী ছিল?

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন