ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রনয়ের প্রলয়

১ম পর্ব

লেখক: মেহরিমা সারা

রাতের শেষ প্রহর। আর ঘণ্টাখানেক পরই পূর্ব আকাশে সূর্যের প্রথম কিরণ উঁকি দেবে। দিনের বেলায় যেই সড়ক অসংখ্য যানবাহনের শব্দে মুখর থাকে, সেই সড়ক এখন অস্বাভাবিক নীরব। চারপাশে ছড়িয়ে আছে এক ধরনের শূন্যতা, আর সেই শূন্যতাকে চিরে পূর্ণ গতিতে ছুটে চলেছে Yamaha R15 V4 মডেলের তিনটি বাইক।

বাইকগুলোর তীব্র গতিতে বাতাস কেটে যাওয়ার শোঁ শোঁ শব্দ নিস্তব্ধ পরিবেশে এক অদ্ভুত, প্রায় ভূতুড়ে আবহ তৈরি করেছে। সবচেয়ে সামনে থাকা বাইকটির দিকে তাকালেই বোঝা যায়, চালক যেন বাস্তব জগতে নেই। উন্মাদের মতো কখনও ডানে, কখনও বামে আঁকাবাঁকা পথে বাইক ছুটিয়ে চলেছে সে। 
যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, অথচ সে যেন সেই সম্ভাবনাকেও পাত্তা দিচ্ছে না। বেপরোয়াতাই যেন তার স্বভাব। একসময় সামনের বাইকটি এতটাই এগিয়ে যায় যে পিছনের দুজনের দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যায়। শেষ পর্যন্ত তারা হার মেনে রাস্তার পাশে বাইক থামিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর দূরে একটি পরিচিত আলো দেখা যায়। ধীরে ধীরে সেটি স্পষ্ট হয়। ডার্ক নাইট বাইকটি নিয়ে তাদের দিকেই ফিরে আসছে সে।
বাইক থামতেই বিরক্ত গলায় বলে ওঠে একজন—
— শালা, তুই এভাবে একদিন না একদিন মরবিই। দেখে নিস!
কালো হেলমেট খুলতেই এলোমেলো চুলগুলো এসে পড়ে ছেলেটার মুখের ওপর। অনায়াস ভঙ্গিতে চুল সরিয়ে সে সমুদ্রনীল চোখজোড়া তুলে তাকায় বন্ধুর দিকে। ঠান্ডা অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বলে—
— আমি তোকে আমার বোন দেব না। তাই আমাকে শালা বলার অধিকারও তোর নেই।
কথাটা বলেই সে বাইক থেকে নেমে রাস্তায় দাঁড়ায়।
এবার অন্য বাইকে বসা ছেলেটি তাড়াহুড়োর সুরে বলে ওঠে—
— দোস্ত, এবার ফিরতে হবে। আপুনি উঠে গেলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।
তার কণ্ঠে উৎকণ্ঠা স্পষ্ট। বোঝাই যাচ্ছে, সে বাড়িয়ে বলছে না। কথাটা শুনে নীল বিরক্ত মুখে ঠোঁট বাঁকায়।
— ধুর শালা! তোর আপুনিকে আমি ভয় পাই নাকি? ওই কুচুটে মহিলার নাম শুনলেই মুড চেন্জ হয়ে যায় আমার...
নীলের কথা শেষ হতেই শান মাথা নেড়ে বলে—
— আমিও আমার কোনো বোনকে তোর মতো মেয়েবাজের হাতে তুলে দেব না। তাই আমাকেও শালা বলবি না। আর আপুনিকে আমি ভয় পাই না, শুধু ওর জন্য চিন্তা হয়।
তাদের কথার মাঝেই সিজাত বিরক্ত হয়ে থামিয়ে দেয়—
— হয়েছে! তোদের বোন আদান-প্রদানের পরিকল্পনা আর শুনতে হবে না। এখন বাসায় যেতে হবে। ভোর হতে চলেছে, আর আজ আমাদের একটা গুরুত্বপূর্ণ ক্লাসও আছে।
সিজাতের কথায় মাথা দোলায় নীল।
— হুম, আমার আবার আজ একটা ডেটও আছে।
কথাটা বলতেই শান ভ্রু উঁচু করে তাকায়।
— তোর জন্য ডেট নতুন কিছু না। ওটা তুই খাবারের মতো নিয়ম করে প্রতিবারই খাস।
কথা শেষ করেই সে বাইকের গতি বাড়িয়ে সামনে ছুটে যায়। নীল ওর চলে যাওয়ার দিকে কটমট করে তাকিয়ে থাকে। তারপর সিজাতের দিকে ফিরে অসন্তুষ্ট গলায় বলে—
— দেখলি? কেমন খোঁচা মেরে গেল! আগে তো এমন ছিল না। কুচুটে বোনের সঙ্গ পেয়ে দিন দিন নিজেও কুচুটে হয়ে যাচ্ছে।
সিজাত হালকা হেসে বাইক স্টার্ট করে। নীল ফের বলে,
— মহামনীষীরা ঠিকই বলেছেন, সঙ্গদোষে লোহাও ভাসে। ওর অবস্থাও এখন তেমনই।
সিজাত হাসিটুকু সামলে গম্ভীর হয়ে বলে,
— তবে দোষটা তোরও কম না। সব সময় ওর বোনের পেছনেই কেন পড়ে থাকিস? রাহা আপুকে তো কোনোদিন দেখিনি আগে থেকে এসে তোর সঙ্গে লাগতে। তুইই গিয়ে ওনার পেছনে লাগিস।
কথা শেষ করেই সিজাত বাইক ছুটিয়ে চলে যায়।
নীল কিছুক্ষণ হাঁ করে ওর যাওয়ার দিকে তাকিয়ে থাকে। যেন কথাগুলো হজম করতে সময় লাগছে।
তারপর নিজের সঙ্গেই কথা বলার ভঙ্গিতে বিড়বিড় করে বলে,
— ওমা! কুচুটে মহিলা তো দেখছি সত্যিই জাদু জানে। এতদিন শুধু আমার ভাইকে নিজের দলে নিয়েছিল, এখন দেখি আমার বন্ধুদেরও বশ করে ফেলেছে!
কয়েক মুহূর্ত স্তব্ধ দাঁড়িয়ে থেকে সেও বাইকে উঠে বসে। ইঞ্জিন স্টার্ট দিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়।
_____________________________
শান ধীরে ধীরে বাড়ির ভেতরে ঢুকছে। তার চলাফেরার ভঙ্গি দেখে মনে হচ্ছে কোনো চোর গভীর রাতে গোপনে নিজের আস্তানায় ফিরছে। সাবধানে মেইন ডোরের লক খুলে পকেট থেকে নিজের ব্যক্তিগত চাবিটা বের করে দরজা খুলল সে। চাবিটা সবসময়ই তার কাছে থাকে। কারণ মাঝরাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়া ওদের পুরোনো অভ্যাস। বিশেষ করে নীল আর শানের। মাঝে মাঝে সিজাতও যোগ দেয়, তবে সেটা খুব কম।
এতদিন এই বিষয়টা নিয়ে কখনো কোনো সমস্যা হয়নি। যখন খুশি বের হয়েছে, যখন খুশি ফিরেছে। কেউ প্রশ্ন করেনি, কেউ বাধা দেয়নি। আসলে বাধা তো তখনই আসে যখন কেউ কিছু জানে। আর এতদিন পর্যন্ত বাড়ির কেউ জানতই না যে মাঝরাতে শান বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যায়। কিন্তু এখন পরিস্থিতি আগের মতো নেই। এখন একজন মানুষ আছে, যে অদ্ভুত নিখুঁতভাবে তার প্রতিটি কাজের হিসাব রাখে। রাহা আসার পর থেকেই যেন তার জীবনে এক নতুন দুর্ভোগের সূচনা হয়েছে। এই পর্যন্ত শতবার বিভিন্ন আকামের জন্য তার হাতে ধরা খেয়েছে সে। অবশ্য বকা খাওয়ার ক্ষেত্রে শান নিজে খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
সেই দুর্ভাগ্যের শিকার হয়েছে মেহতাব খান নীল।
রাহার দৃঢ় বিশ্বাস, তার শান্ত-স্বভাবের ভাইয়ের মধ্যে কোনো খারাপ অভ্যাস থাকার প্রশ্নই আসে না। শান যা-ই করে, সবই নীলের উসকানিতে করে। অতএব সমস্ত অপরাধের একমাত্র হোতা নীল।
এই কারণেই শান চায় না রাহা ওদের রাতের অভিযান সম্পর্কে কিছু জানতে পারুক। বাড়ির ভেতরে ঢুকে নিঃশব্দে দরজা বন্ধ করল সে। তারপর সতর্ক দৃষ্টিতে চারপাশে তাকাল। ড্রয়িংরুম নিস্তব্ধ। করিডোর ফাঁকা। কোথাও কোনো মানুষের উপস্থিতি নেই। মনে মনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল শান। বাঁচা গেছে। এমনটাই ভেবেছিল সে।
সিঁড়িতে পা রাখার জন্য ঘুরতেই পিছন থেকে ভেসে এলো একটি গম্ভীর কণ্ঠ—
— রাতে তুমি বাসায় ছিলে না?
কণ্ঠটা শোনামাত্রই শানের বুক ধক করে উঠল।
এই কণ্ঠের মালিককে চিনতে তার এক মুহূর্তও সময় লাগল না। মনে মনে অসহায়ভাবে বিড়বিড় করল সে— "যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যা হয়!" ধীরে ধীরে মাথা নিচু করে পিছনে ফিরল সে।
সামনে দাঁড়িয়ে আছে রাহা। রাইদা চৌধুরী রাহা।
সিঁড়ির নিচে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটিকে দেখে প্রথম দেখায় কাউকেই খুব ভয়ংকর মনে হবে না। ছোটখাটো গড়নের শরীর। ঢিলেঢালা নাইট ড্রেস পরা। উচ্চতায়ও শানের তুলনায় অনেকখানি ছোট। শান যেখানে প্রায় ছয় ফুট লম্বা, সেখানে রাহার উচ্চতা পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চির বেশি হবে না। তবুও এই মুহূর্তে শানের মনে হচ্ছে পুরো বাড়ির সবচেয়ে ভয়ংকর মানুষটা তার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। শানের দৃষ্টি গিয়ে থামে রাহার মুখে।
বড় বড় মায়াবী চোখ দুটো আজ অস্বাভাবিক নিস্তেজ। চোখের নিচে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট।
চোখের সাদা অংশজুড়ে ছড়িয়ে আছে লালচে আভা। মনে হচ্ছে রাতভর ঘুমায়নি।
মুহূর্তের জন্য শানের বুকের ভেতর অস্বস্তি কাজ করে ওঠে।
কিন্তু পরের মুহূর্তেই শান এর মনে হয় পরিস্থিতি তার ধারণার চেয়েও খারাপ। রাহার চোখ হঠাৎ নিচের দিকে নেমে যায়। শানের পায়ে স্পষ্ট ইনজুরির চিহ্ন। আর সেই দৃশ্যটা দেখার সঙ্গে সঙ্গেই রাহার এতক্ষণ ধরে ধরে রাখা ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়।
রাগে, উদ্বেগে আর আতঙ্কে তার কণ্ঠ কেঁপে ওঠে।
— শান! Answer me! আমি তোমাকে কিছু জিজ্ঞেস করছি!
শান তড়িঘড়ি করে সিঁড়ি থেকে নেমে আসে। প্রায় ছুটে গিয়ে রাহার সামনে দাঁড়ায়।
— শশশ... আপুনি! আস্তে কথা বলো। সবাই উঠে যাবে।
রাহা তার কথা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে। দৃষ্টি স্থির রাখে ভাইয়ের মুখে।
— আমি তোমাকে যা জিজ্ঞেস করেছি, তার উত্তর দাও।
সেই দৃষ্টির সামনে দাঁড়িয়ে শানের সমস্ত সাহস যেন কোথায় মিলিয়ে যায়। পরাজিত সৈনিকের মতো মাথা নিচু করে ফেলে সে।
— হ্যাঁ... আমি মাঝরাতে বাইরে গিয়েছিলাম।
— কার সঙ্গে?
— সিজাতের সঙ্গে।
রাহার প্রশ্নগুলো একের পর এক ছুটে আসছে।
ঠান্ডা নিয়ন্ত্রিত, প্রায় যান্ত্রিকভাবে। আর শান প্রতিবারই দ্বিধাগ্রস্ত কণ্ঠে উত্তর দিয়ে যাচ্ছে।
— সঙ্গে নীলও ছিল?
এই প্রশ্নটা শুনেই শানের মুখ আরও গম্ভীর হয়ে যায়। কারণ বিষয়টা যদি নীলকে ঘিরে হয়, তাহলে রাহা এত সহজে ছাড়ার মানুষ নয় এই খবর খান বাড়িও যাবে। শেষমেশ ধীরে ধীরে মাথা নাড়ে সে।
— হ্যাঁ... ছিল।
কয়েক সেকেন্ড নীরব থাকে রাহা। তারপর দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস বেরিয়ে আসে তার বুক থেকে। 
— তোমাকে কতবার বলেছি, ওর এসব উগ্রপনা আর বেপরোয়া কাজে জড়াবে না।
কণ্ঠস্বর উঁচু নয়। কিন্তু তাতে জমে থাকা হতাশা স্পষ্ট।
— বন্ধু বন্ধুর মতো থাকুক, তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু ও যা করে, তাতে একদিন নিজেও আহত হবে, অন্য কাউকেও করবে।
কথা বলতে বলতে আবার শানের পায়ের দিকে তাকায় সে। চোখের ভেতর রাগের সঙ্গে মিশে যায় একরাশ উদ্বেগ। তারপর দৃঢ় কণ্ঠে বলে—
— এখানেই দাঁড়িয়ে থাকো। কোথাও যাবে না। 
তারপর পিছনে এসে দাড়ানো মেডদের উদ্দেশ্যে বলে,
— ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে আসো একজন।
রাহা সোফায় বসে ধীরে ধীরে শানের আহত পা নিজের দিকে টেনে নিল। প্রথমে পরিষ্কার তুলো দিয়ে ক্ষতস্থানটা মুছে দিল। তারপর সাবধানে জমে থাকা ধুলো আর শুকিয়ে যাওয়া রক্ত পরিষ্কার করতে লাগল। এন্টিসেপটিক লাগানোর সময় শান ব্যথায় মুখ কুঁচকে ফেললেও কোনো শব্দ করল না। রাহাও কিছু বলল না। তার সমস্ত মনোযোগ ছিল ক্ষতস্থানের দিকে। তবে তার নীরবতা শানের কাছে অপরিচিত নয়। রাহা যখন খুব রেগে থাকে কিংবা খুব বেশি চিন্তিত থাকে, তখন রাহা এমনই হয়ে যায় শান কে তুমি করেই বলে। কথা কম বলে, কিন্তু কাজের মাধ্যমে সব প্রকাশ করে। শান নিঃশব্দে বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। প্রতিটা মুহূর্ত, প্রতিটা স্পর্শ, প্রতিটা যত্ন ওর ভীষণ পরিচিত, যখন কেউ ছিল না তখনই তো এই বোনই ওকে আগলে রেখেছে।ছোটবেলা থেকে এমনই ছিল রাহা। বকাঝকা করত, রাগ দেখাত, কঠিন কথা বলত, কিন্তু দিনের শেষে সবকিছুর আগে ভাইটার খেয়াল রাখত।
শান হঠাৎ করেই কয়েক বছর আগের কথা মনে করে।
যখন রাহা দেশের বাইরে ছিল। বাড়িতে সবাই ছিল, তবুও যেন কিছু একটা ছিল না।
আর রাহার এই ছোট ছোট যত্নগুলোকে সে ভীষণভাবে মিস করেছে এতগুলো বছর।
ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে রাহা ধীরে ধীরে শানের পা ছেড়ে দিল। তারপর গম্ভীর মুখে কিছুক্ষণ ভাইটার দিকে তাকিয়ে থেকে বলল—
— সামনে তোমার সেমিস্টার ফাইনাল। এখন এসব ফোর-টুয়েন্টি কাজ বাদ দিয়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দাও।
শান মাথা নিচু করেই বসে রইল।রাহা আবার বলল,
— বাবা অসুস্থ। কোম্পানির এত কাজ আমার একার পক্ষে সামলানো সবসময় সম্ভব নয়। যতই চেষ্টা করি, কিছু দায়িত্ব তো তোমাকে নিতে হবে।
তার কণ্ঠে আদেশের চেয়ে প্রত্যাশা বেশি ছিল।
— তুমি এই পরিবারের একমাত্র ছেলে, শান। এই পরিচয়ের সঙ্গে কিছু দায়িত্বও আসে। সব সময় বাচ্চাদের মতো আচরণ করলে হবে না। বড় হচ্ছো, এখন থেকে বিষয়গুলো বুঝতে শেখো।
শান ধীর দৃষ্টিতে বোনের দিকে তাকায়। রাহা কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলে,
— আর একটা কথা।
— হুম?
— নীলের সঙ্গে যতটা সম্ভব কম মিশবে।
শান মনে মনে দীর্ঘশ্বাস ফেলে। এই কথাটা না বললেও যেন চলত না। কথা যেখান থেকেই শুরু হোক, শেষ পর্যন্ত এসে নীলের ওপরই গিয়ে পড়ে।
রাহার কাছে নীল যেন পৃথিবীর সব সমস্যার মূল।
অথচ নীলের কাছেও রাহা কম কিছু নয়। দুজনের সম্পর্কটা এমন যে, তারা একে অপরকে দেখলেই যুদ্ধ শুরু করে দিতে পারে। রাহা আর কোনো কথা না বলে উঠে দাঁড়াল। তারপর ধীরে ধীরে সিঁড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করল।
শান কিছুক্ষণ তার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইল।
অবশেষে দীর্ঘ একটা নিঃশ্বাস বেরিয়ে এলো তার বুক থেকে।
ও সত্যিই বুঝতে পারে না এদের সমস্যা কী।
কথা যেভাবেই শুরু হোক, শেষ পর্যন্ত এসে দুজনই একে অপরকে দোষারোপ করেই ক্ষান্ত দেয়।
যেন পৃথিবীর সব অশান্তির জন্য অপর পক্ষই দায়ী।
নিজের রুমে না গিয়ে রাহা আবার স্টাডি রুমে ফিরে এলো।
টেবিলের ওপর ছড়িয়ে থাকা ফাইল, ল্যাপটপ আর বিভিন্ন নথিপত্র এখনও ঠিক যেভাবে রেখে গিয়েছিল, সেভাবেই পড়ে আছে।
চেয়ারে বসে কপালের দুই পাশ আলতো চাপ দিল সে।
মাথাব্যথাটা আবার বাড়ছে।
সামনেই নতুন প্রজেক্টের কাজ শুরু হবে।
এই প্রজেক্টটা কোম্পানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুরু থেকেই প্রতিটা বিষয় খুঁটিয়ে বুঝে নিতে হবে।
একটা ছোট ভুলও যেন ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ না হয়।
এই কারণেই গত কয়েকদিন ধরে প্রায় নির্ঘুম রাত কাটছে তার।
আজও রাতভর কাজ করছিল।
অনেকক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে মাথা প্রচণ্ড ব্যথা করছিল।
তাই একটু কফি বানানোর জন্য কিচেনের দিকে যাচ্ছিল সে।
আর ঠিক তখনই দেখতে পায়, কেউ একজন চোরের মতো বাড়ির ভেতরে ঢুকছে।
প্রথমে ভেবেছিল বাড়ির কোনো স্টাফ হয়তো।
কারণ এই বাড়িতে বাইরের কোনো চোর ঢোকার সুযোগ নেই।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটাই কড়া।
কিন্তু কাছে আসার পর বুঝতে পারে, সেই রহস্যময় ব্যক্তি আর কেউ নয়—
তার আদরের, কিন্তু ভীষণ ঝামেলাবাজ ভাই শান।
ঘটনাটা মনে পড়তেই রাহা বিরক্ত হয়ে মাথা নাড়ল।
তারপর ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ রেখে বিড়বিড় করে বলল—
— আদির সঙ্গে কথা বলতে হবে।
কথাটা বলেই থেমে গেল সে।
মুখে হালকা বিরক্তির ছাপ ফুটে উঠল।
— নীলকে একটু সামলানো দরকার। ছেলেটা দিন দিন নিজের সীমা ভুলে যাচ্ছে, আর সঙ্গে সবাইকেও টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
কথাটা বললেও রাহার ভেতরের উদ্বেগটা কিন্তু অন্য জায়গায়।
নীলকে সে অপছন্দ করে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।
কিন্তু তার চেয়েও বড় সত্য হলো—
ছেলেটার বেপরোয়া স্বভাব একদিন না একদিন বড় বিপদ ডেকে আনবে।
আর সেই বিপদে শান জড়িয়ে পড়ুক, এটা সে কোনোভাবেই চায় না।
ল্যাপটপের স্ক্রিনে দৃষ্টি স্থির করলেও মনটা আর কাজে বসাতে পারল না রাহা।
কেন জানি না, বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছে শানের আহত পা।
আর সেই দৃশ্যটা দেখলেই বুকের ভেতর অদ্ভুত এক অস্বস্তি জমে উঠছে।
রাগ, বিরক্তি, উদ্বেগ—সবকিছুর আড়ালে শেষ পর্যন্ত সে শুধু একটাই পরিচয়ে আটকে যায়।
একজন বড় বোন।
যে নিজের ছোট ভাইটাকে পৃথিবীর সব বিপদ থেকে আড়াল করে রাখতে চায়।
________________________
— "নেশা নেশা একি নেশা চোখে...
ভুলে থাকতে পারি না তোকে...
বেগানা এই ইচ্ছে গুলো তোকে কাছে চায়...
জানি না কীভাবে...
প্রেমেরই আবেশে স্বপ্ন যে ফিরে আসে..."
— "দিওয়ানা...
দিল যায় রে ভেসে...
দিওয়ানা...
তোকে ভালোবেসে..."
কিচেনজুড়ে গুনগুন করে ভেসে বেড়াচ্ছিল নীলের কণ্ঠ। এক হাতে ছুরি, অন্য হাতে সবজি ধরে অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে কাটাকাটি করছে সে। মুখে প্রশস্ত হাসি। মনে হচ্ছে পৃথিবীর কোনো দুশ্চিন্তাই তাকে স্পর্শ করতে পারবে না।
গানের মাঝেই হঠাৎ পেছন থেকে ভেসে এলো ভারী, গম্ভীর একটি কণ্ঠ—
— কে সেই মহান ব্যক্তি জানতে পারি, যাকে ডেডিকেট করে এত আবেগ নিয়ে গান গাওয়া হচ্ছে?
কণ্ঠটা শুনেই নীলের হাত থেমে গেল। ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাতেই দেখতে পেল আদি কিচেনের দরজার পাশে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। বুকের ওপর দুই হাত ভাঁজ করা। মুখে নির্লিপ্ত ভাব। ভাইকে দেখে নীল আবার সবজি কাটায় মন দিল।
— কে আবার? আমার MTT-কে ডেডিকেট করেই গাইছি। যদিও তোমরা কেউই তাকে আমাকে দেবে না।
কথাটা এমন স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল যেন পৃথিবীর সবচেয়ে সাধারণ সত্য উচ্চারণ করেছে।
আদি ভ্রু তুলে নীলের দিকে তাকাল। মাথা থেকে পা পর্যন্ত একবার ভালো করে পর্যবেক্ষণ করল।
তারপর শান্ত স্বরে বলল—
— তোর তো কাপড় কেনারও সামর্থ্য নেই। আবার MTT-এর স্বপ্ন দেখিস কীভাবে?
ছুরির গতি মুহূর্তেই থেমে গেল।
— এক্সকিউজ মি?
— ভুল বললাম?
— অবশ্যই ভুল বলেছ!
— তাহলে শুধু একটা টাওয়েল পরে কিচেনে দাঁড়িয়ে আছিস কেন?
কথাটা বলেই আদি ঠোঁট চেপে হাসি আটকে রাখার চেষ্টা করল। নীল নিচে তাকিয়ে নিজের অবস্থা দেখে মুখ কুঁচকাল। সত্যিই তো।
শাওয়ার নিয়ে পেটের তাড়ায় সরাসরি কিচেনে চলে এসেছে। কোমরে শুধু একটা সাদা টাওয়েল জড়ানো। তবে এই মুহূর্তে ভুল স্বীকার করার কোনো ইচ্ছে তার নেই।
— এটা ফ্যাশন।
— হ্যাঁ, নিশ্চয়ই।
আদি মাথা নেড়ে কফির মগ হাতে তুলে নিল।
কিছুক্ষণ নীরব থাকার পর হঠাৎ বলল—
— তা এমন কী মহৎ কাজ করলি, যে ভোরবেলাতেই এত ক্ষুধা লেগে গেছে?
প্রশ্নটা শুনে নীলের ভ্রু কুঁচকে গেল। ইঙ্গিতটা বুঝতে তার এক সেকেন্ডও লাগল না।
আর ঠিক তখনই মাথার ভেতর একটাই নাম ভেসে উঠল— রাহা।
নিশ্চয়ই ওই ত্যাদড় মহিলা কিছু বলেছে।
নইলে আদি হঠাৎ করে এই প্রসঙ্গ তুলবে কেন?
মনে মনে বিরক্তিতে দাঁত চেপে ধরল নীল।
"এই মেয়েটা সত্যিই আমার জীবনটাকে প্যাঁচ প্যাঁচ করে দিল।"
আগে যখন ইচ্ছা বাইক নিয়ে বেরিয়েছে যেখানে খুশি গেছে, যা খুশি করেছে, কেউ প্রশ্ন করেনি, কেউ হিসাব চায়নি। কিন্তু রাহা আসার পর থেকে যেন পুরো পৃথিবী ওর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। সবাই হঠাৎ করেই তার অভিভাবক হয়ে গেছে। আর যদি ব্যাপারটা বাবা পর্যন্ত পৌঁছে যায়— তাহলে শেষ।
তার প্রাণের চেয়েও প্রিয় বাইকটা কয়েক মাসের জন্য অন্তত গ্যারেজবন্দি হয়ে যাবে।
এই চিন্তাতেই নীলের বুক ধক করে উঠল।
তাই দ্রুত পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করল।
— আসলে... বাবা নিষেধ করার পর থেকেই একটু খারাপ লাগছিল। তাই শান আর সিজাতকে নিয়ে বেরিয়েছিলাম।
আদির চোখের দৃষ্টি মুহূর্তেই বদলে গেল।
হালকা মজা করার ভাবটা মিলিয়ে গিয়ে সেখানে কঠোরতা এসে জায়গা নিল।
— একা গেলে ঝুঁকি ছিলই। কিন্তু সঙ্গে শান আর সিজাতকে কেন জড়াস?
নীল চুপ করে রইল। আদি আবার বলল,
— তুই কীভাবে বাইক চালাস, সেটা আমি নিজের চোখে দেখেছি। উন্মাদের মতো রাইড করিস। নিজের জীবনের মূল্য দিস কি না জানি না, কিন্তু অন্যদের জীবন নিয়ে খেলবার অধিকার তোর নেই। 
আদি থামল না।
— রাহা হয়তো তোর রাইডিং কখনো দেখেনি। কিন্তু ওর ভাই ওর কাছে কী, সেটা তুই খুব ভালো করেই জানিস। তারপরও কেন বারবার শানকে এসব ঝুঁকির মধ্যে নিয়ে যাস?
প্রতিটা শব্দ এমন ছিল যাতে নীল এর রাগ হওয়ার কথা কিন্তু নীল নির্লিপ্ত কারন সব সময় এসব হববেই তবে নীল এর রাগ হচ্ছে রাহার উপর সব কথা বলতেই হবে ভাইয়া কে? অজান্তেই ছুরিটা আরও শক্ত করে ধরেছিল নীল।
আদি সেটা খেয়াল করতেই দ্রুত এগিয়ে এলো।
— নীল, ছুরিটা নামা।
কথাটা বলেই জোর করে ছুরিটা তার হাত থেকে কেড়ে নিল। ছুরি নেওয়ার সময় ধারালো অংশে নীলের হাত সামান্য কেটে গেল। পাতলা লাল রক্ত বেরিয়ে এলো। কিন্তু সে যেন সেটা অনুভবই করল না। নীল চুপচাপ দ্রুত পায়ে কিচেন থেকে বেরিয়ে গেল। তার চলে যাওয়ার শব্দ মিলিয়ে যেতেই পুরো কিচেনটা অদ্ভুত নীরব হয়ে গেল। আদি কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কপালে হাত বুলিয়ে ক্লান্ত ভঙ্গিতে দেয়ালে হেলান দিল।
সে সত্যিই বুঝতে পারে না, কীভাবে নীলকে সামলাবে। বাবা-মা প্রায় সবসময়ই নিশ্চিন্ত থাকে।
কারণ তারা জানে, বড় ভাই হিসেবে নীলের দায়িত্ব আদির ওপর।
কিন্তু বাস্তবতা হলো— সে নিজেই প্রতিদিন ব্যর্থ হচ্ছে। নীলের দায়িত্ব নেওয়া তো দূরের কথা, ছেলেটার মনের ভেতর কী চলছে সেটাও সে বুঝতে পারছে না। বাইরে থেকে নীলকে যতটা বেপরোয়া, হাসিখুশি আর নির্ভার মনে হয়, ভেতরে সে ততটাই জটিল।
আর সেই জটিলতার দরজা যেন দিন দিন আরও শক্ত করে বন্ধ করে দিচ্ছে সে।
আদি জানালার বাইরে তাকাল
___________________________
— "স্যার, ক্যাম্পাসে আবার ঝামেলা শুরু হয়েছে। ছয়-সাতজন জড়িয়ে পড়েছে। কাউকেই শান্ত করা যাচ্ছে না।"
— "আবার শুরু হয়েছে? ক'দিন পর পরই একই অবস্থা! এদের পরিবারের ক্ষমতার জোরে যা খুশি তাই করে বেড়ায়।"
— "চলুন স্যার, দেখে আসি।"
প্রফেসর দ্রুত পা বাড়ালেন। দূর থেকেই বুঝতে পারছিলেন পরিস্থিতি ভালো নয়। ক্যাম্পাসের মাঝখানে বড়সড় ভিড় জমে গেছে। শিক্ষার্থীরা গোল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, কেউ ফিসফিস করছে, কেউ দূর থেকে দেখছে, আবার কেউ সাহস করে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করেও পিছিয়ে আসছে।
ভিড়ের মাঝখানে উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ব্লু শার্ট পরা একটি ছেলে। উরাধুরা দুইজন ছেলেকে একাই মেরে যাচ্ছে। কেউ ওর গায়ে একটা আচড় ও কাটতে পারেনি। শুধু হাত থেকে রক্ত ঝড়ছে। মারতে মারতে নিজের হাত রক্তাক্ত হয়ে গেছে তবুও কোন হুশ নেই ছেলেটার। রাগে তার চোখ লাল হয়ে আছে। আশপাশের কয়েকজন তাকে থামানোর চেষ্টা করলেও কোনো লাভ হচ্ছে না। তার উপস্থিতিই বাকিদের পিছিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল‌। প্রফেসর দূর থেকে একবার তাকিয়েই চিনে ফেললেন। মেহতাব খান নীল। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নীলকে না চেনে এমন মানুষ খুব কমই আছে। মেধা, প্রভাব, ব্যক্তিত্ব—সবকিছু মিলিয়ে সে আলাদা। তেমন রাগও ছিল সমান পরিচিত। একবার মাথা গরম হয়ে গেলে তাকে শান্ত করা সহজ কাজ নয়।
নীলের আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর মুখে অস্বস্তি স্পষ্ট। কেউ সামনে যেতে চাইছে না। কেউ আবার দূর থেকে তাকিয়ে আছে, যেন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তা দেখার অপেক্ষায়। প্রফেসর ভিড় ঠেলে সামনে এগিয়ে গেলেন।
— "নীল!"
গম্ভীর কণ্ঠে ডাক দিলেন তিনি। কিন্তু নীল যেন কিছুই শুনল না।
— "নীল, আমি তোমাকে থামতে বলছি।"
এবারও কোনো সাড়া নেই।
প্রফেসর বিরক্ত হয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। এই দৃশ্য তার জন্য নতুন নয়। গত কয়েক বছরে তিনি বহুবার এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন।
— "নীল, যথেষ্ট হয়েছে। এখনই শান্ত হও।"
চারপাশের সবাই নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে। কেউ কথা বলছে না। বাতাসে অদ্ভুত এক চাপা উত্তেজনা। প্রফেসর শেষবারের মতো কড়া গলায় বললেন,
— "নীল, তুমি যদি এখনই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করো, তাহলে আমি তোমার পরিবারকে জানাতে বাধ্য হব।"
কথাটা শেষ হওয়ার আগেই হঠাৎ ভিড়ের পেছন থেকে একজন সামনে এগিয়ে এলো।
এতক্ষণ কেউ সাহস করে নীলের কাছে যেতে পারেনি। কিন্তু এই মানুষটি এক মুহূর্তও দ্বিধা করল না। সোজা এগিয়ে গিয়ে নীলের বাহু শক্ত করে ধরে টেনে নিজের দিকে ঘুরিয়ে দিল। হঠাৎ বাধা পেয়ে নীল ঘুরে দাঁড়াল। চারপাশে ফিসফাস শুরু হয়ে গেল।
কে এই মানুষ?
কে এমন সাহস দেখাল?
নীলের চোখে মুহূর্তের জন্য রাগের ঝলক দেখা দিল। কিন্তু সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিকে দেখেই তার দৃষ্টি এক সেকেন্ডের জন্য থমকে গেল।
পরিচিত মুখ খুবই পরিচিত। সেই ক্ষণিকের দ্বিধার সুযোগেই ঘটল ঘটনাটা।
ঠাস!
তীক্ষ্ণ, ভারী এক শব্দ চারদিকে প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠল। শব্দটা এতটাই স্পষ্ট ছিল যে আশপাশের সব কথাবার্তা মুহূর্তের মধ্যে থেমে গেল।
ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন অবিশ্বাসে চোখ বড় করে তাকিয়ে রইল। কেউ যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না তারা কী দেখল।
নীল স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
তার মাথা সামান্য একপাশে ঘুরে গেছে।
পুরো ক্যাম্পাস নিস্তব্ধ। যে ছেলেটির সামনে দাঁড়াতে সবাই দু'বার ভাবে, তাকে কেউ সবার সামনে আঘাত করেছে! প্রফেসরও বিস্মিত হয়ে গেলেন।
তার চেয়েও বেশি অবাক হলেন যখন দেখলেন নীল কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে না।
বরং সে ধীরে ধীরে মুখ তুলে সামনে দাঁড়ানো মানুষটার দিকে তাকাল।
চারপাশের সবাই নিঃশ্বাস আটকে অপেক্ষা করছে। কে এই মানুষ?
কী সম্পর্ক তার নীলের সঙ্গে?
আর সবচেয়ে বড় কথা— যে কাজটা পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে আর কেউ করতে পারেনি, সেটা সে কীভাবে করল?
পরবর্তী পর্ব পেতে চাইলে কমেন্ট করে জানাবেন।
চলবে.....
#প্রনয়ের_প্রলয় 
#মেহরিমা_সারা 
পর্ব ১.

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন