ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রনয়ের প্রলয়

৪৬তম পর্ব

লেখক: মেহরিমা সারা

#প্রনয়ের_প্রলয় 

#মেহরিমা_সারা 
পর্ব ৪৬.
নীলকে দিয়ে ফাইল পাঠাতে বলেছিল রাহা। তাই বাহর সব ফাইল গুছিয়ে নিয়ে পুরো অফিস তন্নতন্ন করে খুঁজেও নীলের কোনো হদিস না পেয়ে শেষমেশ নিশার হাতে সবগুলো ফাইল ধরিয়ে দিয়েছে। সকাল থেকেই এই তিন খচ্চর তাকে এমনভাবে জ্বালিয়ে মারছে যে ধৈর্যের বাঁধ প্রায় ভেঙে গেছে। তাই নিশাকে দিয়ে ফাইলগুলো উপরে পাঠিয়ে নিজেও নীলের নামে নালিশ করার উদ্দেশ্যে পিছু পিছু চলে এসেছে।
নিশার দুই হাতভর্তি এতগুলো ফাইল ছিল যে দরজায় নক করার কোনো উপায়ই ছিল না। তার উপর কেবিনের দরজাটাও খানিকটা খোলা। তাই বেশি কিছু না ভেবেই ভেতরে ঢুকে পড়ল।
কিন্তু ভেতরে ঢুকে যে দৃশ্যটা চোখে পড়ল, সেটা দেখে নিশা যেন পাথর হয়ে গেল।
এমন দৃশ্য সে তার এত বছরের জীবনে তো দূরের কথা, কল্পনাতেও কখনো ভাবেনি। রাহার উপর পুরোপুরি ঝুঁকে আছে নীল। দুজনের অবস্থান মোটেও স্বাভাবিক নয়। ঠিক কী অবস্থায় তারা আছে, সেটা মুখে উচ্চারণ করার সাহসও নিশার নেই; এমনকি সেটা কল্পনাও করতে চাইছে না। যদি অন্য কেউ হতো, তবুও হয়তো কোনোভাবে মেনে নেওয়া যেত। কিন্তু নীল ভাইয়া আর বড় আপু! এই অসম্ভব সমীকরণটা মাথায় আনতেই যেন নিশার চিন্তাশক্তি কাজ করা বন্ধ করে দিল।
ঠিক তখনই নিজের অবস্থান সম্পর্কে হুঁশ ফিরতেই রাহা তড়িঘড়ি করে নীলকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিল। আচমকা ধাক্কায় নীলের পা বাইরে ঝুকে থাকায় ভারসাম্য হারিয়ে ধপাস করে মেঝেতে পড়ে গেল। কপালে হাত বুলিয়ে বিরক্ত গলায় বিড়বিড় করে বলল,
— শালার জিন্দেগী! বউয়ের এই হাবাগোবা ভাইবোনগুলোর জন্য দেখা যাচ্ছে ঠিকমতো রোম্যান্সটুকুও করা যাবে না!
রাহা দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে এলোমেলো চুলগুলো হাত দিয়ে ঠিক করল। বুকের ভেতর ধুকপুকানি থামানোর চেষ্টা করে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক মুখ করে নিশার দিকে তাকিয়ে বলল,
— নিশা, দাঁড়িয়ে পড়লি কেন?
তখন নিশার হাত থেকে ফাইলগুলো মেঝেতে পড়ে বিকট শব্দ হয়েছিল। নিশা এখনও ঘোরের মধ্যেই দাঁড়িয়ে আছে। রাহার দিকেই স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে যান্ত্রিক কণ্ঠে বলল,
— হুহ... ফাইল তো পড়ে গেল!
রাহা অপ্রস্তুত হয়ে বলে ফেলল,
— কেন পড়ল?
প্রশ্নটা মুখ থেকে বের হতেই নিজেই থমকে গেল। মনে মনে কপালে হাত ঠুকে নিজেকেই ধমকাল। এই নীলের পাল্লায় পড়ে দিন দিন সত্যিই পাগল হয়ে যাচ্ছে— তার প্রমাণ যেন চোখের সামনেই দাঁড়িয়ে।
এদিকে নীল বিরক্তিতে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে দাঁড়াল। কুঁচকে যাওয়া শার্টের কলার ঠিক করছিল, ঠিক তখনই বাহরও সেখানে এসে হাজির। নীলকে দেখেই তপ্ত মেজাজে কর্কশ গলায় বলে উঠল,
— এই তো নীল! তুমি এখানে কী করছিলে? ফাইলগুলো নিয়ে এলে না কেন?
নীল ঠোঁটের কোণে দুষ্টু হাসি টেনে রাহার দিকে একবার তাকাল। বেরিয়ে আসতে চাওয়া কথাটা আর চেপে রাখতে না পেরে মৃদু স্বরে বলল,
— কাউকে খাওয়ার ক্রেভিং হচ্ছিল... তাই এসেছি!
কথাটার প্রকৃত অর্থ বুঝতে না পেরে বাহর কপাল কুঁচকে তাকিয়ে রইল। কিন্তু রাহা ঠিকই বুঝেছে।
এক ঝটকায় নীলের কবজি চেপে ধরে নিজের দিকে ফিরিয়ে আঙুল তুলে কড়া গলায় নিচু স্বরে বলল,
— চুপ! একদম চুপ। অসভ্যের মতো আর একটা কথাও বলবে না। চুপচাপ এখান থেকে বের হও।
রাহা কথা শেষ করতেই খেয়াল করল, নীল অদ্ভুত এক দৃষ্টিতে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে। সেই দৃষ্টির অর্থ বুঝতে না পেরে রাহাও নিচে তাকাতেই ভয় পেয়ে গেল। তাড়াতাড়ি নিজের টপের খোলা বোতাম লাগিয়ে ঠিক করে নিল। তারপর দাঁতে দাঁত চেপে অজান্তেই বিরবিড় করে বলল,
— বিড়ালের মতো ছুঁকছুঁক করার অভ্যাস হয়ে গেছে। যখন-তখন খাওয়ার জন্যই মুখিয়ে থাকে!
নীল জিভ দিয়ে গালের ভেতরটা ঠেলে মুচকি হেসে বলল,
— কাল কিন্তু আবার উপরে আসছি। তারপর থেকে রোজই খাব। আমি একবার কোনো কিছুর স্বাদ পেলে বারবার সেটা খেতে চাই। মনে রাখবেন, ম্যাডাম!
কথাটা বলেই দরজার সামনে এখনও কাচুমাচু মুখে দাঁড়িয়ে থাকা নিশার মাথায় আলতো করে একটা গাট্টা মেরে হেসে হেসে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল। রাহা বিরক্তিতে গাল ফুলিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। তারপর নিজেকে পুরোপুরি স্বাভাবিক করে বাহর আর নিশার দিকে তাকিয়ে বলল,
— ফাইলগুলো রেখে আপনারা যান। আর নীল এখানে কাজের জন্যই এসেছিল। আর নেক্স টাইম নক করে ঢুকবেন সবাই! 
বাহর নিশার দিকে একবার তাকিয়ে চোখের ইশারায় দ্রুত কাজ শেষ করতে বলল। নিশা তখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে পারেনি। কোনোমতে নিচে পড়ে থাকা ফাইলগুলো কুড়িয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে নিঃশব্দে বেরিয়ে গেল। বাহরও সবকিছু গুছিয়ে শেষবার কেবিনের ভেতরটা দেখে দরজা টেনে বাইরে চলে গেল।
নিশা মুখে এক হাত চেপে অন্যমনস্কভাবে করিডোর ধরে হাঁটছিল। চোখে-মুখে স্পষ্ট বিস্ময় আর অস্বস্তির ছাপ। ঠিক তখনই আদি আর ইরা তাড়াহুড়ো করে একটি কেবিন থেকে বেরিয়ে আসে। নিশার এমন অস্বাভাবিক আচরণ চোখ এড়াল না ওদের। দুজনেই দ্রুত এগিয়ে এলো।
— নিশা, কী হয়েছে?
একবার... দু'বার ডাকলেও নিশার কোনো সাড়াশব্দ নেই। যেন চারপাশের সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজের ভাবনাতেই ডুবে আছে। ইরা ভ্রু কুঁচকে নিশার কাঁধে আলতো হাত রেখে মৃদু ঝাঁকিয়ে বলল,
— নিশা! কী হয়েছে তোমার?
হঠাৎই চমকে উঠল নিশা। বড় বড় চোখে দুজনের দিকে তাকিয়ে তোতলাতে তোতলাতে বলল,
— হ্যাঁ... হ্যাঁ!
ইরা উদ্বিগ্ন কণ্ঠে হাত নেড়ে বলল,
— কী হয়েছে তোমার? এমন অদ্ভুত আচরণ করছ কেন?
নিশা একবার আদির দিকে, আরেকবার ইরার দিকে তাকাল। মুখে দ্বিধা, চোখে স্পষ্ট সংশয়।
— অ্যাকচুয়েলি... বড় আপু আর নীল ভাই একসাথে... মানে...
আদি ভ্রু আরও কুঁচকে ফেলল।
— মানে? একসাথে কী?
নিশা অস্থির দৃষ্টিতে চারপাশে তাকিয়ে নিচু স্বরে বলল,
— কী সেটা তো আমিও জানি না... কিন্তু ওরা... একসঙ্গেই ছিল।
কথাটা শুনেই ইরার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল। নিশার চেহারা দেখেই বুঝে গেছে, কিছু একটা ঘটেছে। কিন্তু কী? মনের ভেতর হঠাৎ করেই একটা আশঙ্কা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। যদি ইরা যেটা ভাবছে, সত্যিই সেটাই হয়ে থাকে? এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে ইরা দ্রুত কথার মোড় ঘুরিয়ে দিল। নিশার দিকে তাকিয়ে জোর করে স্বাভাবিক গলায় বলল,
— নিশা, আমার মনে হচ্ছে তোমার ওপর অনেক বেশি প্রেশার পড়ছে। আজ আর অফিসে থাকার দরকার নেই। তুমি বাসায় চলে যাও। বাহরকে আদি বলে দেবে। তাই না, আদি?
আদি কিছুটা বিস্মিত হলেও মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। তারও মনে হচ্ছে নিশ্চয়ই কিছু একটা হয়েছে, তবে বিষয়টাকে খুব একটা গুরুত্ব দিল না।
নিশা আবার কিছু বলতে মুখ খুলল। কিন্তু ইরা ওকে একটুও সুযোগ না দিয়ে নিজের কথাই চালিয়ে গেল।
— আমি বুঝতে পারছি, শান এখনো আসেনি। নীলও রাহার সঙ্গে কাজে ব্যস্ত। তুমি একা হয়ে গেছো, তাই মন খারাপ লাগছে। এটা একদম স্বাভাবিক। তুমি আর দাঁড়িয়ে থেকো না, বাসায় চলে যাও।
নিশার ঠোঁট কাঁপল।ও বলতে চাইছে— "না, বিষয়টা সেটা নয়..." কিন্তু কথাগুলো আর মুখ দিয়ে বেরোল না। ইরা ইচ্ছে করেই নিশাকে কোনো সুযোগ দিল না। এক চিলতে আশ্বাসের হাসি এনে বলল,
— চিন্তা করো না। এটা তো তোমাদের নিজেদের অফিস। আদি সব বলে দেবে। তাই না, আদি? বলবে তো?
আদি এবারও নীরবে মাথা নাড়ল। তবে ইরার এই অস্বাভাবিক ব্যস্ততা আর কথাবার্তা ওর কাছে বেশ অদ্ভুত লাগছে। ইরা যেন ইচ্ছে করেই নিশার মুখ বন্ধ করে দিতে চাইছে— কিন্তু কেন, সেটা ওর বোধগম্য হলো না। কোনোরকমে নিশাকে বিদায় করে দিয়ে ইরা দ্রুত আদির দিকে ফিরে বলল,
— আদি, তুমি যাও। গাড়িটা বের করো। আমি একবার রাহার সঙ্গে দেখা করে আসছি।
আদি কপাল কুঁচকে কিছুটা বিরক্ত স্বরে বলল,
— দেরি করো না, ইরা। আমরা অলরেডি অনেক লেট হয়ে গেছি।
ইরা কথাটা বলেই আর এক মুহূর্তও দেরি করল না। প্রায় দৌড়ে গিয়ে কোনো রকম নক না করেই রাহার কেবিনের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে পড়ল।
রাহা তখন চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে ঠোঁটে আঙুল বুলিয়ে গভীর চিন্তায় ডুবে ছিল। হঠাৎ দরজা খুলে ইরাকে ঢুকতে দেখে বিরক্ত হয়ে কপাল কুঁচকে রাগত স্বরে বলল,
— উফ! তোরা নক করে ঢুকতে পারিস না?
ইরা সেদিকে ভ্রুক্ষেপই করল না। দ্রুত এগিয়ে এসে রাহার সামনে চেয়ারে বসে পড়ে অধৈর্য গলায় বলল,
— রাখ তোর নক-হক! আগে তাড়াতাড়ি বল— তুই আর নীল একসঙ্গে কী করছিলি, যে নিশা এমন তব্দা খেয়ে গেল?
রাহা নিজের স্বাভাবিক ভাব বজায় রেখে কাঁধ ঝাঁকাল।
— ফালতু কথা বলবি না। কি করবো? কিছুই করিনি আমরা। কোথাও যাচ্ছিস মনে হচ্ছে, সেখানে যা।
ইরা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলল,
— হ্যাঁ, এনগেজমেন্টের রিং চুজ করতে যাচ্ছিলাম। আন্টি আমাকে নিয়ে যেতে বলেছে। তাই আদি আর আমি বের হচ্ছি...
বাকিটুকু আর শেষ করতে পারল না। হঠাৎই ইরার দৃষ্টি গিয়ে আটকাল রাহার ঠোঁটে। কথা মাঝপথেই থেমে গেল। চোখ দুটো ধীরে ধীরে সরু হয়ে এলো। সন্দেহে ভরা দৃষ্টিতে রাহার দিকে তাকিয়ে রইল।
রাহাও বুঝে গেল ইরা কী দেখেছে। মুহূর্তের মধ্যে মাথা সামান্য নিচু করে গলার পাশে হাত রাখল, তারপর সামনে ঝুলে থাকা চুলগুলো আরও একটু টেনে ঠোঁটের দিকটা আড়াল করার চেষ্টা করল।
ইরা ধীরে ধীরে নিজের জায়গা থেকে উঠে দাঁড়াল। তারপর রাহার একেবারে সামনে গিয়ে নিচু হয়ে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে ব্যস্ত, অবিশ্বাসভরা কণ্ঠে বলল,
— রাহা... তুই... মানে... তোর ঠোঁট কাটা কেন? কীভাবে কাটল?
এক সেকেন্ড থেমে গলা আরও নিচু করে ফিসফিসিয়ে বলল,
— রাহা... তুই আর নীল... ইয়ে... করিসনি তো?
রাহা সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়াল। নিজের অস্বস্তিটা লুকানোর জন্য ইরার কাছ থেকে কয়েক পা দূরে সরে গেল। কিন্তু ইরা ছাড়ার পাত্রী নয়। আবারও রাহার সামনে গিয়ে হতভম্ব গলায় বলল,
— রাহা... তুই কি নীলের সঙ্গে সব করে ফেলেছিস?
এবার রাহার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল।
— হোয়াট রাবিশ! মাথা খারাপ হয়েছে তোর? কীসব বলছিস তুই?
ইরা ঠোঁট কামড়ে লাজুক একটা হাসি দিল।
— আমি বলতে চাচ্ছিলাম... তুই কি নীলের সঙ্গে ইন্টি....
— ইউ স্টপ! জাস্ট কিস... নাথিং এলস!
কথাটা মুখ দিয়ে বেরোতেই রাহা নিজেই থমকে গেল। ঘরজুড়ে মুহূর্তের জন্য অদ্ভুত নীরবতা নেমে এলো। ইরা বিস্ফারিত চোখে একদৃষ্টিতে রাহার দিকে তাকিয়ে রইল। যেন নিজের কানকেও বিশ্বাস করতে পারছে না।
অন্যদিকে রাহা বুঝতেই পারল না কীভাবে কথাটা মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল। অস্বস্তিতে চোখ বন্ধ করে এক হাত দিয়ে চুলগুলো এলোমেলো করে ফেলল। কিন্তু তার আগেই... ইরা হঠাৎ বাচ্চাদের মতো আনন্দে লাফিয়ে উঠল।
তারপর কোনো পূর্বাভাস ছাড়াই রাহার দুই হাত ধরে ওকে নিয়ে গোল গোল ঘুরতে শুরু করল।রাহা আচমকা এই পাগলামিতে পুরোপুরি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল রাহা। তবু কিছু বলল না। ইরাকে সে চেনে। মেয়েটা যখন সীমাহীন খুশি হয়, তখন এমন পাগলামি করেই বসে। শুধু আজকের এই উচ্ছ্বাসের কারণটাই ওর মাথায় ঢুকছে না।
ঘোরা থামিয়ে ইরা হঠাৎ শক্ত করে রাহাকে জড়িয়ে ধরল। উচ্ছ্বাসে ভরা কণ্ঠে বলে উঠল,
— আই'ম সো হ্যাপি ফর ইউ, রাহা! বিশ্বাস কর, তোর জন্য নীলের চেয়ে ভালো কেউ হতেই পারে না। বেস্ট বল বা বেটার নীল সব কিছুতে তোর জন্য পার্ফেক্ট! 
— আমি ভাবতেও পারছি না তুই এতো দ্রুত মেনে নিবি! বিশ্বাস কর মনে মনে আমি অনেক চাচ্ছিলাম নীল জিতুক! নীল তোকে জিতে নিয়েছে রাহা। ওহ গড! 
রাহাকে ছেড়ে দু'হাত নেড়ে আবার বলল,
— নীল ইজ এ ডায়মন্ড বয়! পারফেক্ট লাইফ পার্টনার। তোকে নিয়ে ওর যে পাগলামিটা আমি দেখেছি, সেটা একটা মেয়েকে সারাজীবন সুখে রাখার জন্য যথেষ্ট।
ইরা যেন থামতেই পারছে না। একটার পর একটা বাক্য বেরিয়েই চলেছে। রাহা শেষ পর্যন্ত বিরক্ত আর অস্বস্তি মিশ্রিত গলায় বলে উঠল,
— ইরা! ইরা! থাম... প্লিজ! আমি এত দূর পর্যন্ত কিছুই ভাবিনি।
ইরা থামল ঠিকই, কিন্তু মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য। তারপর আবার উত্তেজিত হয়ে বলে উঠল,
— ভাববি! অবশ্যই ভাববি। তুই আর আমি একদিন জা হব! বুঝলি? আমাদের মধ্যে দুটো সম্পর্ক হয়ে যাবে!
রাহা নির্বাক হয়ে ইরার দিকে তাকিয়ে রইল। এই মেয়েটা কয়েক মিনিটের মধ্যে কোথা থেকে কোথায় পৌঁছে গেছে! ঠিক তখনই ইরার ব্যাগের ভেতর থেকে ফোনের কর্কশ রিংটোন বেজে উঠল।ইরা কপালে হাত ঠুকে বলে উঠল,
— উফফ! আদি ওয়েট করছে! একদম ভুলেই গিয়েছিলাম।
তাড়াহুড়ো করে ফোনটা রিসিভ করে কানে তুলতেই ওপাশে আদির বিরক্ত গলা ভেসে এলো। আদির রাগ বুঝতে পেরে আর কথা বাড়াল না।
রাহাকে ছেড়ে দ্রুত দরজার দিকে এগিয়ে গেল।দরজার কাছে গিয়ে হঠাৎ যেন কিছু মনে পড়ল।
পেছন ফিরে এখনও হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রাহার দিকে তাকিয়ে দুষ্টু হেসে বলল,
— রাহা... নীল হাজব্যান্ড ম্যাটেরিয়াল!
কথাটা বলেই আবার বেরিয়ে যেতে নিল। কিন্তু পরমুহূর্তেই আবার ফিরে তাকিয়ে চোখ টিপে বলে উঠল,
— আর শোন... নীল কিন্তু ফাদার ম্যাটেরিয়ালও হবে। দেখে নিস!
বলেই একরাশ হাসি ছড়িয়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেল। দরজাটা আস্তে করে বন্ধ হয়ে যেতেই চারপাশ আবার নিস্তব্ধ হয়ে গেল। রাহা স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। হাজব্যান্ড...একটা মাত্র শব্দ।
কিন্তু সেই এক শব্দই যেন বুকের ভেতর বজ্রপাতের মতো আঘাত করল। নীল একদিন... ওর... হাজব্যান্ড?
ভাবনাটা মাথায় আসতেই বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। শ্বাস যেন আটকে আসছে। হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত হয়ে উঠেছে।
এত তীব্র, এত গভীর অনুভূতির ভার যে রাহা বহন করতে পারছে না। মনে হচ্ছে বুকের ভেতর জমে থাকা অজস্র অচেনা অনুভূতি একসঙ্গে জেগে উঠেছে— আর সেই ভারে রাহার সমগ্র অস্তিত্ব কেঁপে উঠছে।
চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৪৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন