#হেদায়েতের_নুর
#নাফিসা_বিনতে_সুলতান
পর্ব: ১৫
কোনো রকম মেয়েদের ঝাক থেকে বেড়িয়ে এসেছে সাদিফ। কি একটা অবস্থা দম বন্ধ হয়ে আসছিলো একেবারে।
নিক: কি অবস্থা সাদিফ? এভাবে মেয়েদের ঝাক থেকে লুকিয়ে বেড়িয়ে এলি যে???
সিড: আমারতো বিশ্বাসই হচ্ছে না। সাদিফ মেয়েদের ঝাক থেকে পালিয়েছে?? মানা যায় এটা???? যে ছেলে কিনা মেয়েরা আশেপাশে ঘুরঘুর করা কে পছন্দ করে সেই ছেলে কিনা মেয়েদের থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে এটাও এখন মানতে হবে?????
এই কথা বলে সিড এবং নিক হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। হাসি যেনো তাদের থামছেই না। অন্যদিকে সাদিফ ওদের হাসি দেখে প্রচন্ড বিরক্ত হচ্ছে। মেজাজ একদম বিগড়ে যাচ্ছে ওর। সাদিফ যেই না ওদের কিছু বলতে যাবে এলিনা এসে সাদিফকে পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে। হঠাৎ এমন হওয়ায় সাদিফ চমকে উঠে।
এলিনা: হাই লাভ। কি খবর তোমার??
সাদিফ তাড়াতাড়ি এলিনা কে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে একটু পিছিয়ে যায়। এমন হওয়ার কারণে এলিনা অনেক অবাক হয়। সাদিফ তো এমন করে না? কি হলো ওর?
এলিনা: জান তুমি এভাবে পিছিয়ে যাচ্ছো কেনো??
সাদিফ: দেখো এলিনা ঘেষাঘেষি করো না তো আমার ভালো লাগছে না।
এলিনা: তুমি এমন আজব ব্যবহার করছো কেন আজকে? তুমি না আমাকে ভালোবাসো?
সাদিফ: না আমি তোমাকে ভালোবাসি না। কোনো দিনও বাসি নি।
এলিনা: তুমি মজা করছো তাই না?
সাদিফ: একদম না। আমি মোটেও মজা করছি না। যা বলছি একদম সত্যি বলছি। সব মেয়েরা আমাকে পাত্তা দিতো আমাকে নিয়ে মেতে থাকতো আমার ভালো লাগতো সেটা। তুমিও তাদের মধ্যে একজন। কিন্তু আমার এখন কিচ্ছু ভালো লাগছে না। কোন মেয়ের পাত্তাও আমার ভালো লাগছে না। তাই তুমি আমাকে আর ডিস্টার্ব করো না।
এলিনা: সাদিফ!!!!!!
সাদিফ: আই এম সরি এলিনা। আমি মন থেকে তোমাকে সরি বলছি। আমি ভুল করেছি। তুমি আমাকে ভালবাসো জেনেও আমি তোমার ফিলিংস কে অপমান করেছি। প্লিজ তুমি আমাকে মাফ করে দাও।
সাদিফ মাথা নিচু করে কথা গুলো বলে৷ তার কথা বলার ধরনেই বুঝা যাচ্ছে সে আসলেই অনেক অনুতপ্ত। এলিনা কিছুক্ষন সাদিফের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘ শ্বাস নেয়।
এলিনা: তুমি যেহেতু মন থেকে অনুতপ্ত তাই আমি তোমাকে মাফ করে দিচ্ছি।
সাদিফ মাথা তুলে এলিনার দিকে তাকায়।
সাদিফ: অনেক ধন্যবাদ তোমাকে আমাকে মাফ করে দেয়ার জন্য। আসলেই তুমি অনেক সুন্দর একটি মনের অধিকারী। তুমি দেখো তুমি অনেক ভালো একটা পার্টনার পাবে।
এলিনা: হ্যাঁ হয়তো।
এলিনা আর দাঁড়ায় না সে চলে যায় সেখান থেকে। যতই বলুক কিন্তু সে মনে কষ্ট পেয়েছে। কিন্তু সাদিফকে সে মন থেকে মাফ করে দিয়েছে। এই মায়া এবং কষ্ট থেকে বেড় হতে তার কিছু সময় লাগবে। আর সেই সময়টাই সে নিজেকে দিতে চাচ্ছে।
এতক্ষণ যাবত যা যা হলো সিড আর নিক পুরোটাই দেখেছে। দুইজনই অনেক বড় হা করে আছে।
সাদিফ ওদের দিকে ভ্রু কুচকে তাকিয়ে আছে সেই কখন থেকে কিন্তু এই দুইজন এখনো হা করে ওর দিকে তাকিয়ে আছে মুখ বন্ধ করার নামই নিচ্ছে না। সাদিফ এবার দুইজনের থুতনিতে হাত দিয়ে ওদের মুখ বন্ধ করে দেয়।
সাদিফ: মুখ বন্ধ কর নাহলে মুখে মশা মাছির বংশসহ ঢুকে পড়বে। পড়ে তোদের পেটের ভিতর মশা মাছিরা বংশবিস্তার করে এলাকা বানিয়ে পার্মানেন্ট ভাবে থেকে যাবে।
নিক: সিড এটা কি সাদিফই নাকি অন্যকেউ???
সিড: তোকে কি উত্তর দিবো আমিই তো চিনতে পারছি না।
নিক: হ্যাঁ রে সাদিফ তুই এত পালটে গেলি কীভাবে রে?
সাদিফ: কেন পালটে গিয়ে কি ভুল করেছি? তোরা কি চাস আবার আগের মতো হতে যাই???? এক ব্রু উচু করে ওদের দিকে তাকিয়ে কথাটা বললো সাদিফ।
সাদিফের কথা শুনে দুইজন একসাথে না বলে চিল্লিয়ে উঠে।
সাদিফ: আরে থাম এত চেচামেচি করছিস কেন?
সিড: এই সাদিফ তোর এই পরিবর্তন হলো কিভাবে বল না??
নিক: হ্যাঁ বল আমিও শুনবো।
সাদিফ : সময় হলে সব জানতে পারবি আর শুনতে পারবি এখন ক্লাসে চল দেরী হয়ে যাচ্ছে। এই বলে দুইজনকে টেনে ক্লাসে নিয়ে যায়।
..........................................
নুর এবং সায়মা মাত্র ক্লাস শেষ করে বেড় হলো। ক্লাস শেষ করে দুইজন নামাজ পড়ে ক্যান্টিনের দিকে যাচ্ছিলো কিছু খাওয়ার জন্য। দুইজনেরই খুধা লেগেছে প্রচুর। যাওয়ার পথে সায়মাকে টিচার ডাক দেয় ওদের অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে কথা বলার জন্য। সায়মা নুরকে ক্যান্টিনে গিয়ে ওর জন্য অপেক্ষা করতে বলে। নুরদের ক্যান্টিন অন্য বিন্ডিং এ তাই নুর মাঠের পাশ দিয়ে সেখানে যাচ্ছিলো। সাদিফ নুরকে দেখেই ডাক দেয়।
সাদিফ:: নুর!!!!!!!!
নুর পিছনে ঘুরে তাকিয়ে দেখে সাদিফ দৌড়ে তার কাছে আসছে।
সাদিফ: আই এম সরি নুর।
নুর: কীসের জন্য?
সাদিফ: গতকালের জন্য।
নুর: ইটস ওকে। আর কোন দিন আপনি আমার জন্য গিফট কিনবেন না।
সাদিফ: হুম।
মাঠের মধ্যে ছেলেরা বাস্কেটবল খেলছিলো হঠাৎ বল জোড়ে এসে নুরের গায়ে লাগে। হঠাৎ এমন হওয়ার কারণে নুর তাল সামলাতে না পেরে নিচে পড়ে যায়।
সাদিফ সাথে সাথে নুরের দিকে এগিয়ে এসে নুরের দিকে তার হাত বাড়িয়ে দেয় উঠে আসার জন্য। নুর একবার সাদিফের হাতের দিকে আবার সাদিফের দিকে তাকাচ্ছে। কয়েক সেকেন্ড সময় নিয়ে নুর নিজেই উঠে দাঁড়ায়। সাদিফ নিজের হাতটা মুঠ করে সরিয়ে নেয়।
সাদিফ: তুমি ঠিক আছো?
নুর: হুম।
ছেলেগুলো দৌড়ে নুরের কাছে আসে আর তার কাছে মাফ চায়। তারা ইচ্ছে করে করে নি। ভুলে বল চলে এসেছে। নুর তাদের মাফ করে দেয়। নুর আর দাঁড়ায় না সেখান থেকে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর সায়মা আসে এবং দুইজন মিলে খাবার খায়। বিকেলে ওরা সব ক্লাস শেষ করে বাসায় যাওয়ার জন্য বের হচ্ছিলো এমন সময় টিচার আবার সায়মাকে ডাক দেন অ্যাসাইনমেন্ট এর ব্যাপারে। সায়মা নুরকে জানায় তার দেরী হবে তাই নুর যেনো বাসায় চলে যায়। সায়মার কথা মতো নুর বাসায় যাওয়ার জন্য বের হয়। যেখানে সাধারণত নুরের গাড়ি পার্ক করা থাকে সেখানে আজ গাড়ি নেই। সেখানে কিছু কাজ করা হচ্ছে তাই গাড়ি পার্ক করা নিষেধ আপাতত। নুর আশে পাশে তাকিয়ে খুজতে খুজতে পেয়েও যায়। রোডের ওই পার গাড়ি পার্ক করা। গাড়ির কাছে যেতে হলে রোড পার করতে হবে। এ কি বিপদ। নুর তো রাস্তা পার হতে ভয় পায়। সে কিভাবে পার হবে? আজ তো সাথে সায়মা ও নেই যে তাকে রাস্তা পার করিয়ে দিবে। নুর নিজে থেকে রাস্তা পার হবার চেষ্টা করছে কিন্তু ভয়ে পারছে না। নুর চোখ বন্ধ করে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে থাকে সে যেনো রাস্তাটা পার হতে পারে।
নুর: ইয়া আল্লাহ তুমি আমাকে সাহায্য করো। তুমি কোন উছিলা পাঠিয়ে আমাকে রাস্তা পার করতে সাহায্য করো।
দোয়া করতে করতে হঠাৎ নুরের মনে হয় কেউ ওর বোরকার হাতার কাপড়টা ধরেছে। সাথে সাথে নুর চোখ খুলে পাশে তাকিয়ে দেখে সাদিফ তার বোরকার হাতার কাপড় টা ধরে আছে। নুর চোখ বড়বড় করে সাদিফের দিকে তাকায়।
সাদিফ: চিন্তা করো না তোমার গায়ের সাথে আমার হাত একটু ও টাচ লাগে নি। আমি হাতার কাপড়টা ধরেছি শুধু।
এই বলে সাদিফ নুরকে নিয়ে রাস্তা পার হতে থাকে। নুর অবাক হয়ে সাদিফের দিকে তাকিয়ে থাকে। রাস্তার ওপারে গিয়ে সাদিফ নুরের হাতাটা ছেড়ে দেয়।
চলবে
দেরীতে দেয়ার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।