#শেষ_বিকালের_মুগ্ধতা {পর্ব-২২}
#ইসরাত_জাহান_আফিয়া
(🚫গল্পের কোনো অংশ কপি করা নিষিদ্ধ।)
অদ্রিতাকে সেই দিন আরিয়ানের গার্লফ্রেন্ড আছে জানানোর পর সে ঠিকমত কলেজে আসে না আরিয়াও তাদের পুরো টিম অদ্রিতাকে অনলাইনেও তেমন আসতে দেখে না, আরিয়ার আগে অদিতি কে ঝিংকু গ্রুপ থেকে কেক মেরে দিয়েছে, অদৃতা অনেকবার এসএমএস দিয়ে জিজ্ঞেস করছিল কেনো কিক মারসে কিন্তু কেউ কোন উত্তর দেয়নি, তাকে সপ্তাহখানেক সবাই খুব ইগনোর করেছে। বেচারী অদ্রিতা একা একা এতদিন দুঃখে কষ্ট কেঁদেছে,সেতো জানতোই না তার বন্ধুরা তার জন্য এত বড় সারপ্রাইজ রেখেছে,
আজ ১লা এপ্রিল। অদ্রিতার জন্মদিন। আরিয়া গত কয়েকমাস ধরে যে মহাপরিকল্পনার ছক এঁকেছিল, তা বাস্তবায়নের দিন আজ। সকাল থেকেই আরিয়ার ফোনের ইনবক্স গরম। সাহিল, অর্ক, রুদ্র, প্রেম, আনিকা, আলিফা আর নুসরাত—সবাই মিলে 'ঝিংকু' গ্রুপে মেসেজের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে।
আরিয়া সবাইকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে, “দেখ অদ্রিতা যেন কোনোভাবেই কিছু টের না পায়। আমি ওকে বিকেলে রিয়ার বাসায় যাওয়ার নাম করে বের করব। তোরা সবাই আগেভাগেই রেস্টুরেন্টে পৌঁছে যাবি।”
সাহিল গম্ভীর হয়ে লিখল, “বেব রেস্টুরেন্টের ডেকোরেশন তো রেডি। কিন্তু আরিয়ান ব্রো কে নিয়ে কী করবি? ব্রো তো আর কারো কথায় সহজে নড়ে না।”
আরিয়া আত্মবিশ্বাসের সাথে উত্তর দিল, “সেটা আমার ওপর ছেড়ে দে। আমি এমন একটা নাটক সাজাবো, ভাইয়ার আসতেই হবে।”
বিকেল চারটা। আরিয়া অদ্রিতাকে সাজিয়ে-গুছিয়ে বের করল। অদ্রিতা অনেকটা ইতস্তত বোধ করছে, “কিরে আরু, এতদিন তো আমাকে ইগনোর করলি, এতদিন আমার কথা মনে পড়েনি, তোরা কেউ আমাকে ভালবাসিস না, এখানে কেন নিয়ে এলি? তার ওপর এই অদ্ভুত সাজগোজ!”
আরিয়া মিটমিট করে হাসল। “আরে বাঙ্গির নাতনি , আজ তো তোর বার্থডে! একটু সেজেগুজে না থাকলে কি চলে?”
রেস্টুরেন্টে ঢোকার আগেই আরিয়া আরিয়ানকে মেসেজ করল, “ভাইয়া, অদ্রিতার অবস্থা খুব খারাপ, ও বোধহয় জ্ঞান হারাবে। আদি ওকে সামলাতে পারছে না। তুমি একটু এই ঠিকানায় আসো।”
আরিয়ান মেসেজটা দেখেই অস্থির হয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে নিল। সে জানত না, এটি একটি পরিকল্পিত ফাঁদ।
রেস্টুরেন্টে অদ্রিতা ঢুকতেই দেখল চারপাশ নীল এবং সাদা বেলুনে মোড়ানো। কিন্তু মূল চমক তখনো বাকি। রেস্টুরেন্টের এক কোণায় দাঁড়িয়ে আছে আরিয়ান। তাকে দেখেই অদ্রিতার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। আরিয়ানকে আজ অদ্ভুত রকমের হ্যান্ডসাম লাগছে, অথচ তার চেহারায় স্পষ্ট বিরক্তি।
আরিয়া সুযোগ বুঝে সাহিলদের ইশারা করল। তারা সবাই মিলে গান শুরু করে দিল, , কিন্তু আরিয়ার আসল লক্ষ্য ছিল আরিয়ানকে কোণঠাসা করা। আরিয়া তার ব্যাগ থেকে একটা ঝুড়ি বের করল। ঝুড়িতে সাধারণ গোলাপ নয়, বরং সুন্দর করে মোড়ানো একটা **ফুলকপি**।
পুরো রেস্টুরেন্টে পিনপতন নীরবতা। সাহিল, অর্ক, রুদ্র আর প্রেম তাদের ফোন দিয়ে ভিডিও করতে শুরু করল। আনিকা আর নুসরাত ফিসফিস করে বলছে, “আরিয়া তুই কি পাগল হলি নাকি!”
আরিয়া গম্ভীর মুখে ফুলকপিটা নিয়ে আরিয়ানের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। “ভাইয়া, গোলাপ তো সবাই দেয়, । আমার বান্ধবী বলেছে তুমি স্পেশাল, তাই তোমার জন্য স্পেশাল উপহার—এই ফুলকপি।”
আরিয়ান ভ্রু কুঁচকে, গলার রগ ফুলিয়ে বলল, ছুটকি।”
আরিয়া এবার কান্নার ভান করে বলতে লাগল, “ভাইয়া, তুমি আমাদের দুলাভাই হয়ে যাও। এখন তাড়াতাড়ি প্রপোজাল এক্সেপ্ট করো । না হলে অদ্রিতা ইঁদুর মারার বিষ খাবে!
আরিয়ান বিরক্ত হয়ে অদ্রিতার দিকে তাকাল।মনে মনে ভাবতে লাগলো তার বোন মিথ্যা বলে তাকে এখানে এনে বেস্ট ফ্রেন্ড এর জন্য প্রপোজ করছে তাও আবার এমন তেমন প্রপোজাল না ফুলকপি দিয়ে প্রপোজ"!
অদ্রিতা তখন লজ্জায় আর ভয়ে মাটির সাথে মিশে যাওয়ার উপক্রম করেছে। আরিয়ান ইগনোর করার ভঙ্গিতে বলল, “এসব নাটক বন্ধ কর। আমার কাজ আছে, আমি যাচ্ছি।”
সে যখন চলে যাওয়ার জন্য পা বাড়াল, অদ্রিতা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। তার দুচোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। সে মনে মনে ভাবল, আরিয়ান সত্যিই অন্য কাউকে ভালোবাসে । অদ্রিতা দৌড়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার উপক্রম করল।
ঠিক তখনই আরিয়া আর সাহিলরা মিলে অদ্রিতাকে ঘিরে ফেলল। সাহিল বলে উঠল, “আরিয়ান ব্রো অন্তত গিফটটা তো নেও! ফুলকপিটা আমরা নিজেদের পছন্দ করে কিনেছে তোমার জন্য।”
আরিয়ান দেখল পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে। অদ্রিতার অঝোরে কান্না আর সাহিলদের পাগলামি দেখে তার মনে হলো, মেয়েটা সত্যিই অনেক কষ্ট পেয়েছে। অদ্রিতা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে।
আরিয়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলল। সে ধীরপায়ে অদ্রিতার সামনে এসে দাঁড়াল। অদ্রিতার চোখের জল নিজের রুমালে মুছে দিয়ে সে শান্ত কিন্তু গম্ভীর গলায় বলল, “এত কান্না করার কী আছে? আমি কি বলেছি বিয়ে করব না?
অদ্রিতা চমকে আরিয়ানের দিকে তাকাল। আরিয়ান এবার আরিয়ার হাত থেকে সেই ফুলকপিটা নিজের হাতে নিল, তারপর মুচকি হেসে অদ্রিতার কানের কাছে ফিসফিস করে বলল, “ফুলকপিটা না হয় রেখে দিলাম, কিন্তু এই আরিয়ান শিকদারের দায়িত্ব নিতে তো একটু সময় লাগবে, তাই না পিচ্চি?”
আরিয়া,সাহিল, প্রেম, অর্ক আর পুরো টিম একসাথে চেঁচিয়ে গেঁয়ে উঠল, “
রাজা রানী রাজি,
তো হ্যাপি এন্ডিং আজই!
কত ভাবছে বসে কাজী -!!
ওদের চিৎকারের গান শুনে অদ্রিতা লজ্জার মাথা নিচে করে ফেলল আরিয়ান মুচকি হেসে অদ্রিতার কানের কাছে ঝুঁকে ফিসফিস করে বলল, চলো যাই অফিসে,!অদ্রিতা মাথা নিচু করে আস্তে করে উত্তর দিলো কোন অফিসে? আরিয়ান বলল"আর কোথায় কাজী অফিসে!কাজী অফিসের কথা শুনে অদ্রিতার হার্টবিট ফার্স্ট হয়ে গেল! সে কোন উত্তর দিল না, আদ্রিতা হুট করে আরিয়ার সামনে গিয়ে আরিয়াকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিল কেঁদে কেঁদে বলল সরি নন্দিনী তোকে এতদিন আমি ভুল বুঝেছি মনে করেছি তুই আমাকে ভালবাসিস না কিন্তু দেখ তুই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় উপহারটা দিলি থ্যাংক ইউ সোনা, পাশে থেকে সাহিল বলে উঠলো " এই বাঙ্গির নাতনি আমরা বাদ গেলাম কেন আমাদেরও থ্যাঙ্ক ইউ বল নাহলে এখনই কিন্তু ফুলকপি নিয়ে চইলা যামু। অদ্রিতা ফিক করে হেসে দিয়ে বলল"ফুল টিমকে বলল থ্যাঙ্ক ইউ তোরা না থাকলে হয়তো আমি এই গিফটটা কোনদিনই পেতাম না ধন্যবাদ আমার ঝিঙ্কুড়া,
এবার আরিয়ান বলল"তোমরা কি কেক কাটবে না নাকি ওখানে দাঁড়িয়ে বকবক করবে? আরিয়া এবার বলল" ভাইয়া আসছি বলেই ওরা সবাই অদিতাকে নিয়ে ছোট্ট একটি স্টেজের উপর উঠালো "আদ্রিতা দেখলো স্ট্রেট টার উপরে সুন্দর করে বেলুন দিয়ে সাজানো উপরে লেখা হ্যাপি বার্থডে জাতির ভাবি (বাঙ্গির নাতনি) অদ্রিতা লেখাটা দেখে ফিট করে এসেছিল, আরিয়া তার পাশে আরিয়ানকে হুট করে দাঁড় করিয়ে দিল অদ্রিতা লজ্জার মাথা নিচু করে ফেলল! আরিয়ান অদ্রিজার দিকে তাকিয়ে বিড়বিড় করে বলল" মাই সানসাইন!
অদ্রিতা আরিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল কিছু বললেন? আরিয়ান হালকা হেসে বলল না না পিচ্চি তুমি কেক কাটো! অদ্রিতা খুশিতে কেক কাটলো প্রথম কেকটা আরিয়াকে খাওয়ালো দ্বিতীয়বার আরিয়ানকে আরিয়ানো অদিতাকে কেক খাওয়ালো, একে একে সবাইকে খাওয়ালো, নুসরাত আরিয়ার কানে কানে বলে উঠলো, চল চল এখান থেকে ভাইয়া ভাবিকে স্পেশাল মুহূর্ত করতে দে, আরিয়ার সবাই বাঁকা হেসে অদ্রিতাকে বলে" থাক তুই আমরা যাই! বলে রেস্টুরেন্টের বাইরে চলে গেল,অদ্রিতাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই, অর্পিতা ওদের পিছে যেতে নিলেই আরিয়ান ওর হাতটা ধরে টান দিতে ও আরিয়ানের বুকে যেয়ে পড়ল,বুকে মাথা দিতেই আরিয়ানের হার্টবিট শুনতে পেল, আরিয়ান টের পেল তার সংস্পর্শে এসে তার অষ্টাদশীর দেহের কম্পন। অদ্রিতাকে তাকে দুহাত দিয়ে আঁকড়ে ধরে বলল"মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আরিয়ান শিকদারের হাত থেকে নিস্তার নেই তোমার, সানসাইন!
আরিয়ানের মুখ থেকে এই প্রথমবার পিচ্চি ছাড়া অন্য নামে ডাকতে শুনে আর অদ্রিতা অবাক হয়ে আরিয়ানের দিকে তাকালো, আরিয়ান তাকে ছেড়ে দিয়ে বলল " আমি প্রেমে বিশ্বাসী নয় পিচ্চি আমি প্রেম করবো না তোমাকে একেবারে আমার বউ করে নিব, এখন মন থেকে পড়াশোনা কর, পড়াশোনা এদিক থেকে অধিক হলে"তুলে নিয়ে বিয়ে করে তারা নয় মাসের শাস্তি দিব মাথায় রেখো সানসাইন"
অদ্রিতা আরিয়ানের মুখে এই কথা শুনে সত্যিই ভয় ঢুক গিলল"আ-আমি বাসায় যাব। আরিয়ান বাঁকা হেসেঁ বলল" চলো যাওয়া যাক! আরিয়ান ও অদ্রিতা বাইরে এসে দেখল" সাহিলরা সবাই দাঁড়ানো। আরিয়ান ওদের উদ্দেশ্যে বলল"আমি এখন হেডকোয়ার্টারে যাচ্ছি তোরা সবাই সাবধানে বাসায় যাবি,আরিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল তোর এই মাথামোটা বান্ধবীকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসবি। মাথামোটা শুনে অদ্রিতা রাগে আরিয়ানের দিকে তাকালো। আরিয়ানা সবাই জোরে হেসে উঠলো। আরিয়ান গাড়িতে উঠে চলে গেল, নুসরাতরা সবাই অদ্রিতাকে ঘিরে ধরল আরিয়া বলল "এতদিন তো ভালোই ছ্যাকা খেয়ে আমাদের ভুলে গিয়েছিলি মগী। তোর সাথে আজ থেকে কথা নেই বাঙ্গির নাতনি, সাহিল ফোন বের করে অদ্রিতার সামনে একটা ছবি দেখালো "সেখানে আরিয়ান তাকে জড়িয়ে ধরে আছে "অদ্রিতা অবাক হয়ে ওদের দিকে তাকিয়ে বলল এই ছবি কখন তুললি? অর্ক বলে উঠলো ইহাকেই বলে ঝিংকু গ্রুপের কামাল, তুই ওইসব বুঝবি না,আরিয়ান ব্রো বলল না তুই মাথামোটা, অদ্রিতা মাথা মোটা শুনেই অর্কর পিরে দুম করে বসিয়ে দিল এক কিল, আরিয়া আবার বলে উঠলো "এই আমার কাজ শেষ তোরাই অদ্রিতকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসবি আমি এর সাথে যাব না এক নাম্বারের স্বার্থপর মহিলা, অদ্রিতা দেখল আরিয়া হেঁটে সামনের দিকে এগোচ্ছে অদ্রিত দৌড়ে গেলে আরিয়ার পিছনে, অজিত পিছন থেকে গলা খাকারি দিয়ে গেয়ে উঠলো "
মুখেতে গালি মিঠা মিঠা হেয়ালি
যত খুশি গালাগালি করো
লাগে ভালো,আমাকে পাশে
নিয়ে চলো না, মিষ্টি করে তুমি
বলোনা তোমাকে আমি যে ভালবাসি
ও-ই ওই, চুমকি চলেছে একা পথে
সঙ্গী হলে রাগ কি তাতে হার মেনেছে
দিনের আলো রাগলে-
তোমায় লাগে আরো ভালো "!
আরিয়া ওর গান শুনে পিছনে তাকালো আরিয়া বলল গু মার্কা গান তোর কাছে রাখ!
অদ্রিতা এই সুযোগেই আরিয়াকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল বলল সরি জান এরকম আর হবেনা সরি ননদিনী, আমার উচিত ছিল তোর সাথে কথা বলার, কিন্তু ট্রাস্ট মি আমিও বুঝতে ছিলাম না আমি যে কয়দিন কিসের মধ্যে ছিলাম আমি জানি তোর এই কথা শুনে আমি সত্যিই বিশ্বাস করে নিয়েছিলাম, সরি জান আমাকে মাফ করে দে আর হবেনা প্রমিস, সাহিল রা ওদের কাছে এলো নুসরাত আনিকা আলিফা "বলল বেবি এইবারের মতো মাফ করে দে এই কাউয়ারে
সাহিলরাও বলল"দে মাফ করে দে। আরিয়া কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল"ওকে ওকে ডোন্ট মাইন্ড গাইস গাইজ সবাই চুপ আমি এই লাস্ট বারের মতো কে মাফ করলাম, অদ্রিতা কে কে মাফ করার কথা শুনে সাহিল একলাফ দিয়ে অর্কের কোলে উঠে গেল।অর্ক চিৎকার দিয়ে উঠলো "এই শালা না এক্ষুনি নাম না হলে ফেলে দিব শালা গরু কি খাস এত ভারী মগা নাম,
সাহিল নাটকের ভঙ্গিতে বলল "অর্ক বেইবি তুমি আমাকে গরু বলতে পারলা। এত সুন্দর বডির মূল্য তুমি আর কি বুঝবা। অর্কর কথা শুনে বিরক্ত হয়ে সত্যি সত্যি সাহিলকে ফেলে দিল রাস্তায়, সাহিল চিৎকার দিয়ে উঠলো অন্যদিকে সাহিলের অর্কের এই ঝগড়া শুনে আরিয়ারা হেসে ফেলল, আলিফা বলল "রুদ্র এই সাহিলকে সামলা সাহিলের বাচ্চা কি লাগাইছে থামা ওরে।
রুদ্র বলল এই বাণিকচন্দ্রেকে একমাত্র আরুই চুপ করাতে পারবে।প্রেম বলল "হ হ ঠিক আর ওরে থামা বালটা বেশি করতাছে। আরে আবার সাহিল এর কাছে গিয়ে সাহিল কে দিল এক কিল।সাহিল ও মাগো বলে চিৎকার উঠলো"আল্লাহ তোর হাত নাকি অন্য কিছু মাগো আমারে বাঁচাও। আরিয়া এবার সাহিলকে বলল"ভাই তুই নাটক না করে তাড়াতাড়ি চল না হলে নানুরী আমাকে আজকে শেষ করে দিবে "
তারা সবাই একে একে করে উঠে বসলো ড্রাইভার দাদুকে আরিয়া বলল দাদুর পথে ওদের সবার বাসার সামনে থামিয়ো ওরা নেমে যাবে, মোস্তাক দাদু আরিয়াকে বলল ছোট বুড়ি ঠিক আছে "
মোস্তাক তাদের বাড়িতে ২০ বছর ধরে গাড়ি চালাই, তিনি খুব দরিদ্র থাকার কারণে দাদু ভাই তাকে বাড়িতে এনেছিল গাড়ি চালানোর জন্য, সেখান থেকে সে বাড়ির একটা সদস্য হয়ে উঠেছে,আরিয়ারা সবাই তাকে দাদু বলে, সেও আরিয়াকে ছোট বুড়ি বলে ডাকে। তাহলে একে একে নেমে গেল, গাড়িতে বসেই সবাই অদ্রিতাকে গিফট দিয়ে দিল তার জন্মদিনের, সবাই আলাদা আলাদা গিফট কিনেছিল, এখন গাড়িতে আরিয়া আর অদ্রিতা, আরিয়া বলল আন্টির কাছে একটা পার্সেল গিয়েছে ওটা খুলে দেখবি তোর বার্থডে কি ফটো আমার পক্ষ থেকে, অদ্রিতা আরিয়ার এক হাত ধরে বলল"তুই তো আমাকে জীবনের সবচেয়ে বড় গিফট দিলি আর কিছু দেওয়ার দরকার ছিল না জানু।আরিয়া বিরক্ত হয়ে বলল ওকে বারা তাহলে আমার গিফটটা আমাকে ব্যাক কর ওটা বিক্রি করে আমি ঘুরবো।"
না না নানা তিনি এটা কোন মতেই হয় না একবার তুই আমাকে দিয়েছিস এখন আমি ফেরত দিবো না ওটা আমি যত্ন করে রেখে দিব। আরিয়া ধুম করে একটা কিল দিল। অদিতাকে অদিতার বাসায় দিয়ে আরিয়া শিকদার বাড়ির ভিতরে ঢুকলো"দেখলেও মামা মামনিরা টিভিতে সিরিয়াল দেখছে আরিয়াকে বাড়ির মধ্যে ঢুকতে দেখিয়"শারমিন বলে উঠলো "তূবা সোনা ফিরতে এত দেরি হল কেন? আরিয়াদ সোফায় বসে তিন জনের দিকে তাকিয়ে বলল বাড়ির মেজো ছেলের বউ ঠিক করে এলাম তোমরা বিয়ে পাকা কর, রোজিনা সিকদার মেয়ের দিকে তাকালেন বাড়ির মেজো ছেলে বলতে আরিয়ানকে বুঝিয়েছে,তারা এখনো বুঝতে পারল না আরিয়া কি বলল, রোজিনা সিকদার পিছন থেকে ডাকলো এই মেয়ে কি বললি, আরিয়া তার কথা শুনেও না শোনার মতো লাবণ্যকে নিয়ে আহিরের রুমে গেল।
লাবণ্য বলল"আরিপি তুমি আমাল জন্য চকলেথ এনেতো?আরিয়া কিছু বলতে যাবে এর মধ্যে আহির বলে উঠলো" এখনো তুতলির কথা বাদ দিলি না ভুতু কোথাকার! লাবণ্য রাগ করে আগের দিকে তাকালো তাকে বলল "ছুপ একদম ছুপ
আরিয়া ও আহির দুজনে হেসে দিল"আরিয়া লাবণ্যর মুখ টিপে বলল তোর জন্য চকলেট এনেছি, তোর ফেভারিট স্ট্রবেরি পেস্টি এনেছি,
লাবণ্য ইয়াহু বলেই আরিয়াকে জড়িয়ে ধরল!
চলবে...
( 📌গল্পটা যদি ভালো লেগে থাকে, তাহলে চুপিচুপি পড়ে চলে যাবেন না কিন্তু! একটা রিয়েক্ট ও কমেন্ট করবেন প্রজাপতিরা, গল্পের বানান ভুল হতে পারে ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন, বেশি বেশি রেসপন্স করবেন, ধন্যবাদ সবাইকে)