ফন্ট সাইজ:
থিম:
শেষ বিকালের মুগ্ধতা

২৫তম পর্ব

লেখক: ইসরাত জাহান আফিয়া

#শেষ_বিকালের_মুগ্ধতা {পর্ব-২৫}

#ইসরাত_জাহান_আফিয়া
(🚫এই গল্পের কোনো অংশ কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
আহনাফের সাথে ঝগড়া করে রুমে ফেরার পর আরিয়া রাগে গজগজ করছিল। মনে মনে সে আহনাফকে কত যে গালি দিচ্ছে তার ঠিক নেই। এদিকে ইশানের দেওয়া গিফটগুলো টেবিলের ওপর সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা। কিন্তু আরিয়া এখন এসবের চেয়ে আহনাফের সেই ফিসফিসে কন্ঠস্বর আর ওয়ার্নিং নিয়ে বেশি ভাবছে। আহনাফের সেই আগুনের মতো চোখ, তার কাছাকাছি আসার মুহূর্ত—সবকিছু আরিয়ার মনের ভেতরে এক অদ্ভুত অস্থিরতা তৈরি করছে। সে তো জানে না, এই অস্থিরতা রাগের, নাকি অন্য কিছুর!
.......
পরদিন বিকাল....
সিআইডি হেডকোয়ার্টার থেকে সবেমাত্র ফিরেছে আরিয়ান। সারাদিনের ক্লান্তি থাকলেও আজ তার মনে এক অদ্ভুত ফুরফুরে ভাব। ফ্রেশ হয়েই সে সোজা চলে গেল তার মা রোজিনা শিকদারের রুমে। আরিয়ানের সাথে তার মায়ের সম্পর্কটা একদম বেস্ট ফ্রেন্ডের মতো। মনের যেকোনো কথা, যেকোনো আবদার সে সবার আগে তার মাকেই বলে। বাবা নাজমুল শিকদারকে সে যমের মতো ভয় পেলেও মায়ের কাছে সে একদম ছোট্ট আরিয়ান । বাবা অফিসে থাকায় এই সুযোগটাই সে খুঁজছিল।
রোজিনা শিকদার বিছানায় বসে একটা ম্যাগাজিনের পাতা উল্টাচ্ছিলেন। আরিয়ান ঘরে ঢুকেই ধপ করে মায়ের পাশে বসে পড়ল এবং নিজের মাথাটা মায়ের কাঁধে এলিয়ে দিল।
রোজিনা শিকদার ছেলের চুলে হাত বুলিয়ে দিয়ে হাসিমুখে বললেন, "কী রে, আজ ফিরেই মায়ের কাছে? কোনো মতলব আছে নাকি?"
আরিয়ান একটু লাজুক হেসে বলল, "আম্মু , তোমার সাথে একটা খুব সিরিয়াস কথা ছিল। মানে... আমার জীবনের একটা বড় সিদ্ধান্ত।"
ছেলের কথা শুনে রোজিনা শিকদার একটু নড়েচড়ে বসলেন। ম্যাগাজিনটা পাশে রেখে বললেন, "বড় সিদ্ধান্ত? কী এমন কথা? বল শুনি।"
আরিয়ান কিছুটা ইতস্তত করে, গলা খাঁকারি দিয়ে বলল, "মা, আমি অদ্রিতাকে পছন্দ করি। অনেকদিন ধরেই। আমি ওকে বিয়ে করতে চাই। তুমি বাবার সাথে কথা বলে বিষয়টা একটু ম্যানেজ করে ফেলো না মা, প্লিজ!"
ছেলের মুখে এমন কথা শুনে রোজিনা শিকদার কিছুটা অবাক হলেও পরক্ষণেই তার মুখে হাসি ফুটে উঠল। অদ্রিতা মেয়েটা তারও খুব পছন্দের। তিনি হাসতে হাসতে বললেন, "ওমা! এই ব্যাপার? তা আগে বলবি তো! ঠিক আছে, আমি তোর পাপার সাথে কথা বলব। তুই চিন্তা করিস না।"কিন্তু এখন তো বিয়ে দিবোনা তোকে আর আহনাফকে একসাথে বিয়ে দিবো দুই ভাইকে। 
এদিকে ঠিক সেই মুহূর্তে রোজিনা শিকদারের রুমের দিকে আসছিল ঈশিতা। আরিয়ান তাকে সবসময় ছোট বোন হিসেবেই দেখে এসেছে, কিন্তু ঈশিতার হৃদয়ে কিশোরী বয়স থেকেই আরিয়ানের জন্য এক অন্যরকম অনুভূতির জন্ম নিয়েছে, যা সে কাউকে বুঝতে দেয়নি।
ঈশিতা দরজার কাছে আসতেই আরিয়ানের কথাগুলো তার কানে ভেসে এল। "আমি অদ্রিতাকে পছন্দ করি... বিয়ে করতে চাই..." কথাগুলো শোনার সাথে সাথে ঈশিতার মনে হলো তার পায়ের তলার মাটি কেউ যেন এক নিমিষে সরিয়ে নিয়েছে। বুকের ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে উঠল। তার পৃথিবী যেন মুহূর্তেই থমকে গেল।
সে আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াতে পারল না। চোখের পানি আর আটকে রাখতে পারল না সে। নিঃশব্দে সেখান থেকে সরে গিয়ে সোজা লিভিং রুমের এক কোণায়, সিঁড়ির আড়ালে অন্ধকার মতো জায়গায় গিয়ে ফ্লোরে ধপ করে বসে পড়ল। দু'হাতে নিজের মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল সে। দীর্ঘ ত্রিশ মিনিট ধরে সে সেখানে বসেই কাঁদল। তার কিশোরী বয়সের প্রথম ভালোবাসা আজ অন্য কারো হতে চলেছে, এই কষ্ট সে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না।
প্রায় ত্রিশ মিনিট পর।
আরিয়ান মায়ের রুম থেকে লিভিং রুমের দিকে নেমে আসছিল। তার হাতে ফোন। ফোনে কারোর সাথে চ্যাট করছে আর নিজের মনেই মিটিমিটি হাসছে। হয়তো অদ্রিতার কথাই ভাবছে। সিঁড়ি দিয়ে নামতেই লিভিং রুমের কোণায় ঈশিতাকে দেখতে পেল সে। ঈশিতা তখন চোখ মুছতে মুছতে উঠে দাঁড়াচ্ছে।
ঈশিতার কান্না ভেজা ফোলা ফোলা চোখের দিকে সোজা তাকিয়ে গম্ভীর গলায় প্রশ্ন করল আরিয়ান,
"চোখগুলো এমন ফোলা ফোলা কেন লাগছে ?"
ঈশিতার মধ্যে কোনো পরিবর্তন হলো না। সে আগের মতোই উদাসীনভাবে নিজের চোখ মুছে, অথচ শক্ত গলায় পাল্টা প্রশ্ন করল,
"কেমন লাগছে আরিয়ান ভাই...?"
আরিয়ানের চোখ তখন ঈশিতার চোখের কোণে জমে থাকা পানি দেখল। আরিয়ান বুঝতে পারল যে মেয়েটা কাঁদছিল। সে আরেকটু এগিয়ে ঈশিতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে, চোখে চোখ রেখে চিন্তিত গলায় বলল,
"কেঁদেছিলি তুই? কি হয়েছে ইশি?"
ঈশিতা কোনো উত্তর দিল না। সে আরিয়ানের পাশ কাটিয়ে, তাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সিঁড়ি দিয়ে উপরের দিকে হাঁটতে শুরু করল। যেতে যেতে সে শুধু নিচু স্বরে বিড়বিড় করে বলল,
"আমার কান্নায় আপনার কী আসে যায়.?"
কথাটা বলে সে সিঁড়ির মাঝামাঝি গিয়ে একটু থামল। পিছনে ফিরে আবার আরিয়ানের দিকে তাকালো। সে দেখল আরিয়ান ততক্ষণে আবারও নিজের ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে আর মিটিমিটি হাসছে। ঈশিতার বুকের ভেতরটা আরেকবার ভেঙে গুঁড়িয়ে গেল। সে আরিয়ানের ওই হাসিমাখা মুখের দিকে উদাসীনভাবে তাকিয়ে থেকে ধীর অথচ বেদনার্ত গলায় বলে উঠল,
"আপনার কাছে আমি ছিলাম সাধারণ একজন, আর আমার কাছে আপনি ছিলেন আমার পুরো পৃথিবী।"
কথাটা বলে ঈশিতা আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না, দ্রুত পায়ে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল। আরিয়ান ফোন থেকে চোখ তুলে সেদিকে একবার তাকাল, কিন্তু ঈশিতার কান্নার কারণ সে বিন্দুমাত্র বুঝতে পারল না।
এদিকে বিকেলে আরিয়া আর তার বন্ধুরা মিলে ট্রিপের প্ল্যানিং করছিল। কক্সবাজারের কথা শুনে সবাই উত্তেজিত। আরিয়াদের কলেজ ট্রিপ, সাথে ইশানও যাচ্ছে। আরিয়া ড্রয়িং রুমে বসে ল্যাপটপে কিছু একটা দেখছিল, এমন সময় সেখানে আহনাফ এসে দাঁড়াল।
আহনাফের পরনে একটা কালো টি-শার্ট । তার চোখেমুখে সেই চিরচেনা গাম্ভীর্য। সে সোজা আরিয়ার সামনে এসে দাঁড়াল। আরিয়া ল্যাপটপ থেকে চোখ তুলে ভ্রু কুঁচকে তাকাল।
"কী চাই?" আরিয়া বিরক্তি নিয়ে বলল।
আহনাফ পকেটে হাত গুঁজে শান্ত গলায় বলল, "কাল কখন বের হচ্ছিস তোরা?"
"সেটা শুনে আপনার কী কাজ? আপনাকে তো আর কেউ নিবে না তো আপনি সময় শুনে কি করবেন ।" আরিয়া মুখ বাঁকিয়ে জবাব দিল।
আহনাফ ঠোঁটের কোণে একটা বাঁকা হাসি ফুটিয়ে বলল, "কে বলল আমি যাচ্ছি না? তোদের এই কলেজ ট্রিপের সাথে কাকাই আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে যে তোদের সবাইকে দেখে রাখতে । সো, আই অ্যাম অলসো গোয়িং টু কক্সবাজার।"
আরিয়া যেন আকাশ থেকে পড়ল। সে ধড়ফড় করে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, "কীহ্! আপনি আমাদের সাথে যাবেন? ইম্পসিবল! আমি পাপাকে বলে আপনার যাওয়া ক্যানসেল করাবো। আপনার মতো খাড়ুস লোকের সাথে আমি ট্রিপে যাব না।"
আহনাফ এক পা এগিয়ে আরিয়ার একদম কাছে চলে এল। আরিয়া একটু পিছিয়ে গেল। আহনাফ নিচু স্বরে, অথচ কড়া গলায় বলল, "উহু কোনো লাভ নেই। তোদের সাথে যাবো আমি। আর শোন, সেখানে গিয়ে যদি দেখি তুই ওই সাদাদের বা অন্য কোনো ছেলের সাথে বেশি হাসাহাসি করছিস, তাহলে তোর ট্রিপ আমি চিরতরে বন্ধ করে দেব। রিমেম্বার দ্যাট!"
আরিয়া রাগে কাঁপতে কাঁপতে বলল, "আপনি আমাকে থ্রেট করছেন? আপনি আমার কে হ্যাঁ? কথায় কথায় শুধু অধিকার খাটাতে আসেন!"
আহনাফ আরিয়ার চোখে চোখ রেখে ফিসফিস করে বলল, "আমি তোর কে, সেটা....না হয় থাক । এখন গিয়ে চুপচাপ ব্যাগ গোছা। কাল সকালে দেরি হলে তোকে ফেলেই আমি চলে যাব।"
কথাটা বলে আহনাফ নিজের রুমের দিকে পা বাড়াল। আরিয়া রাগে পা ঠুকে ল্যাপটপ বন্ধ করে ফেলল। "অসভ্য, খাড়ুস, শয়তান একটা! আমার পুরো ট্রিপটাই মাটি করে দেবে লোকটা!" বিড়বিড় করে বকতে বকতে আরিয়াও নিজের রুমে চলে গেল।
রাত বাড়ছে। কালকের কক্সবাজার ট্রিপকে ঘিরে সবার মনেই এক আলাদা উত্তেজনা। ইশান ভাবছে সে কীভাবে নুসরাতকে প্রপোজ করবে। আরিয়া? সে ভাবছে কাল সারাটা পথ ওই বদমেজাজি আহনাফকে সে কীভাবে সহ্য করবে!
পরদিন সকালে.....
 কক্সবাজার যাওয়ার জন্য সবাই প্রস্তুত। আহনাফ আগেই জানিয়েছিল সে যাচ্ছে, কিন্তু শেষ মুহূর্তে সে জানায় যে আসলে যাবে না, সে তার ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত। কিন্তু আরিয়া জানে না সে আহনাফকে কিভাবে মজা দেখাবে তাই চিন্তা করে। পুরো ট্রিপের প্রস্তুতি নিয়েছে, অথচ কলেজ বাসে ওঠার সময় আহনাফকে না দেখে তার মনে এক অদ্ভুত স্বস্তি কাজ করছে।
কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে এখন পড়ন্ত বিকেল। সোনালী রোদ এসে পড়ছে নীল জলের ওপর। আরিয়া তার ফ্রেন্ড সার্কেল—অদ্রিতা, সাহিল, অর্ক, প্রেম, রুদ্র, নুসরাত, আলিফা, আনিকা, আর ঈশানকে নিয়ে এসেছে। সমুদ্রের গর্জনে মনটা শান্ত হয়ে আসে, কিন্তু আরিয়া আজ এসেছে একটা বিশেষ কাজে। তার জনপ্রিয় মিউজিক পেজ "অনুরাগিনী"-র জন্য সে একটা গানের ভিডিও শুট করবে। গানটির নাম ঠিক করেছে।
সৈকতে পর্যটকদের ভিড়। এর মধ্যেই আরিয়া তার ক্যামেরার হাতে নিয়ে সেট করছে। সাহিল আর রুদ্র দেখছে। আরিয়া ব্যাগে রাখা গিটারটা বের করল। ঈশান একপাশে দাঁড়িয়ে নুসরাতকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখছে আর মনে মনে সাহস সঞ্চয় করছে।
"সবাই রেডি তো? জাস্ট ক্যাজুয়াল পোজ দাও, আমি ক্যামেরা অন করছি," আরিয়া সবাইকে নির্দেশ দিতে ব্যস্ত।
বিকালের আলোটা চমৎকার। আরিয়া তার হাতে থাকা দামি ক্যামেরাটা নিয়ে এদিক-ওদিক ছুটছে। এক হাতে ক্যামেরা, অন্য হাতে গিটার। বন্ধুদের গ্রুপ পোজের ছবি তোলার জন্য সে কিছুটা পিছিয়ে সৈকতের ভিড়ের দিকে যাচ্ছে। হুট করেই ভিড়ের চাপে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলল আরিয়া।
"ওহ্!" একটা চাপা আর্তনাদ বেরিয়ে এল তার মুখ থেকে।
তার হাত থেকে ক্যামেরাটা প্রায় পড়েই গিয়েছিল। মুহূর্তের মধ্যে এক জোড়া হাত এসে ক্যামেরাটা ধরে ফেলল। আরিয়া হকচকিয়ে গেল। ভারসাম্য সামলে নিয়ে সে বিরক্ত হয়ে তাকাল, ভেবেছিল কোনো পর্যটকের সাথে ধাক্কা লেগেছে।
কিন্তু সামনে তাকাতেই আরিয়ার দম বন্ধ হয়ে এল। তার হাতের ক্যামেরাটা সেই হাত থেকে নিয়ে সে যখন সামনের মানুষটির দিকে তাকাল, তার পুরো পৃথিবী যেন থমকে গেল।
সামনে যে দাঁড়িয়ে আছে—সে আর কেউ নয়, অবিকল আরিয়া! একই উচ্চতা, একই চোখের চাউনি, ঠোঁটের নিচে সেই তিলটা, এমনকি গালে টোল পড়া হাসিও । যেন কোনো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে আরিয়া।
আরিয়া থমকে দাঁড়িয়ে গেল। তার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল, ভয়ের চেয়েও বেশি বিস্ময় তাকে গ্রাস করল। তার হাত-পা কাঁপছে। সে নিজের কাঁপাকাঁপা হাতটা বুকের ওপর রাখল, যেন হৃদপিণ্ডের গতি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে।
আরিয়ার মুখ থেকে অস্পষ্ট কণ্ঠে শুধু বেরিয়ে এল, "তুমি... তুমি হুবহু আমার মতো দেখতে! এটা কীভাবে সম্ভব?"
মেয়েটি অবাক হয়ে আরিয়ার দিকে তাকিয়ে রইল । সেই যেন আরিয়ারই প্রতিচ্ছবি। চারপাশের কোলাহল যেন মুহূর্তে নিস্তব্ধ হয়ে গেল আরিয়ার কানে। সে কি তবে আয়নায় নিজেকে দেখছে? নাকি এটা কোনো অলীক স্বপ্ন?
মেয়েটি ক্যামেরাটা আরিয়ার হাতে দিয়ে তার খুব কাছে এগিয়ে এল। তার চাহনিতে শীতল নিচু স্বরে সে বলল, "ও মাই গড তুমি আমাকে সেম দেখতে এটা কিভাবে সম্ভব বলতো। 
মেয়েটির কন্ঠস্বর শুনে আরিয়ার সারা শরীরে এক অদ্ভুত শিহরণ খেলে গেল। মেয়েটি মাত্র একটা নামই বলল, কিন্তু সেই নামের ভেতর যেন হাজার বছরের পরিচিতি লুকিয়ে আছে।
"তুমি কে? তোমার নাম কি ?" আরিয়া চিৎকার করে উঠতে চাইল, কিন্তু তার গলার স্বর বের হলো না।
মেয়েটি নরম সুরে বলল "আমার নাম " আরাবি শিকদার নোভা।
মেয়েটি আর কোনো কথা বলল না। ভিড়ের মাঝে হুট করে নিয়ে সে ঘুরে দাঁড়াল মনে হল যেন কেউ তার হাড়জোড়ে টেনে ধরেছে বা টান দিয়েছে । আরিয়া হাত বাড়িয়ে তাকে ধরতে চাইল, "দাঁড়াও! শোনো!"
কিন্তু ভিড়টা যেন মুহূর্তেই তাকে গ্রাস করে নিল। পর্যটকদের জটলা পার হয়ে মেয়েটি বালির ওপর দিয়ে অদ্ভুত দ্রুতগতিতে এগিয়ে যেতে লাগল। আরিয়াও তার পিছু ছুটল, কিন্তু দশ কদম এগোতেই দেখল সামনে আর কেউ নেই। সমুদ্রের ঢেউগুলো আছড়ে পড়ছে তীরে, কিন্তু সেই অবিকল মানুষটির কোনো চিহ্নই নেই।
আরিয়া বালির ওপর স্থবির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার মাথায় তখন হাজারো প্রশ্ন। এই মেয়েটি কে? কেন সে ঠিক তার মতো? তাহলে কে এই নোভা বের করতেই হবে । 
দূরে ঈশান হাত নাড়ছে, "বইন! কিরে, ছবি তুলবি না?"
আরিয়া ঘুরে তাকাল। তার মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে আছে। বন্ধুরা কিছুই খেয়াল করেনি। অদ্রিতা এগিয়ে এসে বলল, "কী হয়েছে? তোকে এমন লাগছে কেন?"
আরিয়া ওদের সব খুলে বললো । ওর কথা শুনে সবাই অবাক হল সাহিল তখন বলল "ক্যামেরা তোর হাত তখন অন ছিল না ভিডিও চলছিল না? আজ আর তখন মনে পড়লো হ্যাঁ তার তো ক্যামেরা অন ছিল যখন পড়ছে তখন ক্যামেরা মেয়ের দিকে ঘোরানো ছিল।তাহির আড়িয়ার হাত থেকে ক্যামেরা নিয়ে ভিডিওটা অন করল। কিষাণসহ বাকিদের চোখ উপরে উঠে গিয়েছে এটা কিভাবে সম্ভব হুবহু আরিয়ার মত দেখতে। 
আরিয়া সে কোন কথা বলল না শুধু দেখল দিগন্তের দিকে—যেখানে সূর্য ডুবছে। তার মনে হলো, আজ কক্সবাজারের এই নীল জলরাশি তার জীবনের সবচেয়ে বড় কোনো সত্যের দরজা খুলে দিয়েছে, যার মুখোমুখি হতে সে হয়তো এখনো প্রস্তুত নয়।
সেদিন সন্ধ্যায় সমুদ্রের পাড়ে বসে আরিয়া হাতে গিটার নিয়ে টুংটাং শব্দ তুলে যে উঠলো  
 "ও মন পাখি" 
মন ও মন পাখি ~
শুধু একটা বার ফিরে তাকাও..! 
গেলি চোখ ছুয়েঁ...বড়ো কাছ দিয়ে 
আর বুকটা করে গেলি ফাঁকা..
~আমার কল্পনারই ঘাসে
আর জল্পনার ক্যানভাসে"
ও এক ফোটা জলে মন ভেসে চলে 
তোর কথাই বলে হায়...
হায় রাব্বা....ওওও
গানটি সাহিল ক্যামেরা দিয়ে রেকর্ড করল, কিন্তু আরিয়ার তার মনে তখন শুধুই সেই মুখটা। আরিয়া বন্ধু মহলের দিকে তাকালে দেখল তারা সবাই তার দিকে অধীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছে আরে ওদের দিকে তাকিয়ে বলল "
—আরে চিল ওই পাখিকে পাতাল থেকে হলেও আমি খুঁজে আনব আর আমার হেল্প করবি তোরা সবাই আমার এই মিশনের বড় সঙ্গী হবে ঈশান। 
ঈশান এবার বোনের কাঁধে হাত রেখে বলল "জো হুকুম বেহেনা।সবাই একসাথে আরিয়ার হাতের উপর হাত রাখল এই আরাবি শিকদার নৌভাকে খোজার মিশনে। 
চলবে?
(📌৫০০ প্লাস লাইক করলে তবেই পরবর্তী পর্ব পাবেন, সবাই গল্প পড়ে চলে যান কেউ একটু কমেন্ট করেন না কেনোো)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২৫তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন