#শেষ_বিকালের_মুগ্ধতা {পর্ব-২৮}
#ইসরাত_জাহান_আফিয়া
(🚫এই গল্পের কোনো অংশ কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামল। শিকদার বাড়ির সামনের উঠানটা যেন হঠাৎ করেই জমজমাট এক মেলায় পরিণত হয়েছে। অদ্রিতা, আনিকা, আলিফা আর নুসরাত সাহিলরা সবাই মিলে বারান্দার এক কোণায় গোল হয়ে বসে গল্পে মেতেছে। তাদের মাঝে বসে রয়েছে আরিয়া, কোলে একটা বড় চিপসের প্যাকেট। সে একহাতে চিপস খাচ্ছে আর অন্যহাতে সাহিলকে কীভাবে গাড়িতে ঘুমিয়ে নাক ডাকার সময় সে ভিডিও করেছে, তা বাঁকা হাসিতে সবাইকে বোঝাচ্ছে। সাহিল দূরে দাঁড়িয়ে শুনতে পেয়ে চেঁচিয়ে উঠল,
—"এই আরি! আমার মানসম্মান কি ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিস? ওই ভিডিও ডিলিট কর বলছি বইন!"
সাহিলের কথা শুনে সবাই হো হো করে হেসে উঠল। অদ্রিতা লজ্জাজড়িত মুখে চাদর দিয়ে মুখ ঢাকল, কারণ একটু আগেই আরিয়ান সবার সামনে তাকে একটা ছোট গোলাপ ফুল উপহার দিয়ে সবার ভ্রু কুঁচকে দিয়েছে। বড়রা কেউ বারান্দায় নেই, সবাই ভেতরে বসার ঘরে। তাই তরুণ প্রজন্মের এই আড্ডাটা এখন পুরো জমজমাট।
একটু দূরে একচিলতে রোদে দাঁড়িয়ে আহনাফ পকেটে হাত গুঁজে এই হইচই দেখছিল। তার বাঁ হাতটা এখনো মাঝে মাঝে অজান্তেই ঠোঁটের কোণ ছুঁয়ে যাচ্ছে। সকালের সেই হঠাৎ ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাটা তার মাথার ভেতর বারবার রিউইন্ড হচ্ছে। নরম একটা ছোঁয়া, একটা মিষ্টি সুবাস—সব মিলিয়ে আহনাফের শান্ত মনে অদ্ভুত এক ঝড় বয়ে যাচ্ছে। সে মনে মনে ভাবল, "আস্ত একটা ডাইনি! সামনে পেলে আজ আস্ত চিবিয়ে খাবো।"
ঠিক তখনই বাড়ির পেছনের বাগানটার দিক থেকে বিষণ্ণ মুখে হেঁটে আসছিল ঈশিতা। তার চোখ দুটো লাল। একটু আগে সে নিজের রুমে বসে অনেক কেঁদেছে। আরিয়ান আর অদ্রিতার এই কাছাকাছি আসা সে সহ্য করতে পারছে না। অথচ সে কাউকে কিছু বলতেও পারে না। বুকের ভেতর জমানো কষ্টগুলো পাথর হয়ে চেপে বসেছে। ড্রয়িংরুমের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় আহনাফের সাথে তার প্রায় ধাক্কা লাগার উপক্রম হলো।
আহনাফ চটজলদি সামলে নিয়ে ঈশিতার মুখটার দিকে তাকাল। মেয়ের চোখের লালচে ভাব আর শুকনো কান্নার দাগ তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এড়াল না। সে গম্ভীর গলায় ডাকল,
—"ঈশি বনু!"
ঈশিতা চমকে উঠে দাঁড়াল। দ্রুত ওড়না দিয়ে চোখ মুছে নিজেকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে বলল,
—"ব... বলো ভাইয়া?"
আহনাফ পকেট থেকে হাত বের করে এক পা সামনে এগিয়ে এল। তার কণ্ঠস্বর কিছুটা নরম হলো, যা সচরাচর কেউ দেখে না।
—"কী হয়েছে বল তো? তোকে বেশ কিছুদিন ধরে দেখছি কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গেছিস। কেউ কিছু বলেছে? ভার্সিটিতে কোনো সমস্যা চলছে নাকি?"
ঈশিতা জোর করে ঠোঁটে একটা কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে মাথা নাড়ল।
—"না তো ভাইয়া! কোনো সমস্যা নেই তো। এমনিই একটু মাথাব্যথা করছে।"
আহনাফ ঈশিতার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। সে খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে ঈশিতা কিছু একটা লুকাচ্ছে। কিন্তু জোর করল না। শুধু ঠান্ডা গলায় বলে উঠল,
—"মিথ্যা কথা বলা তোর জন্মগত স্বভাব না, তাই ট্রাইও করিস না। আর যেই মানুষটা তোর না তাকে নিয়ে কষ্ট পেয়ে কোন লাভ নেই। তো নিজেকে কষ্ট না দিস না।আমি কালকের মধ্যেই আমাদের আগে ঈশিতাকে দেখতে চাই।
ঈশিতা অবাক হয়ে বড় ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। কথাটা বলেই আহনাফ আর এক মুহূর্তও দাঁড়াল না। সে সোজা সিড়ি বেয়ে দোতলার দিকে পা বাড়াল। তার মাথায় তখন অন্য একটা প্ল্যান ঘুরছে—ওই খচ্চুরনি আরিয়াকে আজ ভালোমতো সাইজ করতে হবে। সকালে যা পেমেন্ট সে করে গেছে, সেটার একটা সুদমতে হিসাব তো নেওয়া দরকার!
দোতলায় উঠেই আহনাফ সোজা আরিয়াদের রুমের সামনে গিয়ে দাঁড়াল। রুমের দরজাটা সামান্য খোলাই ছিল। ভেতরে উঁকি দিতেই দেখা গেল, বিছানার ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ব্যাগপত্র, জামাকাপড় আর নানারকম জিনিসপত্র। আরিয়া মেঝেতে বসে আলিফারও নুসরাতের সাথে কি নিয়ে যেন হাসাহাসি করছে, আর অদ্রিতা একপাশে বসে মুচকি মুচকি হাসছে।
আহনাফ আর দরজা ঠেলল না, সোজা ভেতরে ঢুকে এক লাথি মেরে দরজাটা আরো একটু ফাঁকা করে দিল। শব্দ পেয়ে সবাই একসাথে চমকে দরজার দিকে তাকাল।
আরিয়া আহনাফকে দেখেই ভড়কে গেল। সে সাথে সাথে উঠে দাঁড়িয়ে দুই হাত কোমরে গুঁজে মেকি রাগী গলায় বলল,
—"কী ব্যাপার মিস্টার খাড়ুস অফিসার ? কোনো ভদ্রতা জ্ঞান নাই আপনার? নক না করে এভাবে একটা মেয়ের রুমে কেউ ঢোকে নাকি? ইউ ম্যানারলেস!"
আহনাফ তার দিকে এক পা দুই পা করে এগিয়ে এল। তার চোখে মুখে একটা বিপজ্জনক হাসি। সে শান্ত কিন্তু ভারী গলায় বলল,
—মেয়ের রুম নাকি এটা দেখে তো মনে হচ্ছে না মনে হচ্ছে একটা গরু ছাগলের ঘর আর ম্যানারস শিখানোর জন্যই তো আমি এসেছি, মিস আরিয়া শিকদার। সকালে যে কাণ্ডটা আপনি ঘটিয়েছেন তার একটা পূর্ণাঙ্গ হিসেব তো বুঝিয়ে দিতে হবে, নাকি?"
আরিয়ার মুখটা ভয়ে চুন হয়ে গেল। সে পেছাতে পেছাতে খাটের কোণায় গিয়ে ঠেকেছে। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। সে তোতলাতে তোতলাতে বলল,
—"আ... আমি কী করেছি? সকালবেলা তো... ওটা তো ভুলবশত হয়েছে! এক্সিডেন্ট! বুঝলেন না এক্সিডেন্ট?"
আহনাফ তার আরও কাছাকাছি চলে এল। এতটাই কাছে যে আরিয়া তার সুবাস পরিষ্কার টের পাচ্ছে। আহনাফ নিচু হয়ে আরিয়ার ঠিক কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল,
—"এক্সিজেন্ট বলো আর যা-ই বলিস, আমার ওপর বিনা অনুমতিতে স্ট্যাম্প মারার শখ তোর কবে থেকে হলো, শুনি? এখন বল, এর শাস্তি কী হওয়া উচিত?"
রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে আলিফা নুসরাত আর অদ্রিতা মুখ টিপে হাসছে। আলিকা ইশারা করে অদ্রিতাদের টেনে রুম থেকে বের হয়ে গেল।
আরিয়া চারপাশ ফাঁকা দেখে আরও বেশি ঘাবড়ে গেল। সে ভয়ে ভয়ে বলল,
—"দেখুন... চিপ্পু ভাই... মানে আহনাফ ভাই! বেশি বাড়াবাড়ি করবেন না বলে দিলাম! চিল্লাব কিন্তু আমি!"
আহনাফ মৃদু হেসে সোজা হয়ে দাঁড়াল। তার চোখে তখন দুষ্টুমির একটা ঝিলিক। সে পকেট থেকে একটা ছোট্ট নোটবুক বের করে বলল,
—"চিল্লালে লাভ নেই, কারণ বাইরে কেউ তোকে বাঁচাতে আসবে না। তবে হ্যাঁ, একটা শর্তে তোমাকে মাফ করে দিতে পারি।"
আরিয়া চোখ গোল গোল করে জিজ্ঞেস করল,
—"কী শর্ত?"
—"আমার সময় মতো বলব, আর তোকে না বলছি সাদাদের কাছ থেকে দূরে থাকবি তারপর তুই সকালে ওর গাড়িতে করে কেন আসলি?
আরিয়া দাত কিড়মিড় করে মনে মনে ভাবল, "আল্লাহরে! এই লোক তো আস্ত একটা সাইকোপ্যাথ! শয়তানের খালাতো ভাই!" কিন্তু সামনে পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় সে অনিচ্ছা সত্ত্বেও মাথা নাড়ল।
—"হ্যাঁ তার গাড়িতে এসেছি কারণ আমরা সকাল সকাল কোন গাড়ি পাচ্ছিলাম না এর কারণেই তো তার গাড়িতে আসলাম । এবার রুম থেকে বের হন বলছি!"
আহনাফ সন্তুষ্টচিত্তের হাসি দিয়ে রুম থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় দরজায় দাঁড়িয়ে বলে গেল,
—"আর ওর আশেপাশেও যেন তোকে না দেখি না হলে তোকে এবার আমি একটা জায়গা দুইটা স্ট্যাম্প মেরে দিব , খচ্চুরনি!"
আরিয়া রাগে গদগদ করতে করতে একটা কুশন ছুড়ে মারল দরজার দিকে, কিন্তু ততক্ষণে আহনাফ নিচের রুমের দিকে গায়েব হয়ে গেল ।
রাত তখন একটা। সারা বাড়ি নিস্তব্ধ। আরিয়া বসে বসে বিকালের ঘটনাটা ভাবছে ওই খাড়ুস অফিসার ও তার ঠোঁটে স্ট্যাম্প মেরে দিল এইসব নিয়ে এসে ভাবতে ভাবতে মনে মনে অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছে আবার উঠে বসছে । হুট করে আরিয়া শব্দ পেল দৌড়ে জানলার কাছে গিয়ে জানালা দিয়ে নিচে তাকিয়ে দেখল, গ্যারেজের সামনে আহনাফ নিজের বাইক নিয়ে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। হয়তো ওরও ঘুম আসছে না, তাই লং রাইডে বের হচ্ছে। আহনাফের সেই গম্ভীর ব্যক্তিত্বের আড়ালে যে একটা শান্ত অস্থিরতা আছে, তা আরিয়া ভালো করেই জানে।
আরিয়া দেরি করল না। দ্রুত জিন্স আর হুডি পরে, চুলগুলো উঁচুকরে বেঁধে হেলমেট মাথায় দিয়ে নিচে নেমে এল। গ্যারেজের এক কোণায় সাহিলরা আগে থেকেই ছিল,তারা আজ শি কদার বাড়িতেই ছিল আরিয়া ওদের ঘুম থেকে তুলে নিচে নামতে বলছে। তারা আরিয়ার বাইক বের করতে সাহায্য করল। আহনাফ তখন বাইক স্টার্ট দিয়ে গেটের দিকে এগোচ্ছিল। আরিয়া বাইক স্টার্ট দিতেই ইঞ্জিনের গর্জন শুনে আহনাফ থামল। সে পেছন ফিরে ভ্রু কুঁচকে আরিয়ার দিকে তাকাল।
—"এত রাতে? তুই এখানে কী করছিস?" আহনাফের কণ্ঠে বিরক্তি আর বিস্ময় মিশে আছে।
আরিয়া হেলমেটটা ঠিক করে নিয়ে বাঁকা হাসল। "কেন, রাস্তা কি শুধু আপনার একার? আমিও একটু লং ড্রাইভ দিতে বের হয়েছি।"
আহনাফ হেলমেটের গ্লাস নামিয়ে গলার স্বর কিছুটা শক্ত করে বলল, "বাড়ি যা তূবা। রাত অনেক হয়েছে, এটা তোর ঢং করার সময় না ।"
আরিয়া পাত্তাই দিল না। সে আহনাফের বাইকের পাশে এসে দাঁড়াল। "আমি ঢং কখন করলাম আর আপনি কি তবে ভয় পাচ্ছেন? চলেন না, একটা রাইড হোক! দেখি কে হারে কে জেতে খাড়ুস অফিসার।
আহনাফ এক মুহূর্ত চুপ থেকে আরিয়ার চ্যালেঞ্জের দিকে তাকাল। তার চোখেমুখে একটা ঠান্ডা চ্যালেঞ্জের হাসি খেলে গেল।
— "চ্যালেঞ্জ নিচ্ছিস? ঠিক আছে, যদি আমি জিতে যাই, তবে আমি যা বলব তাই শুনতে হবে।"
আরিয়া আত্মবিশ্বাসের সাথে বলল,
—"আমি জিতলে আপনাকে এক সপ্তাহ আমার সব আবদার মানতে হবে।"
আহনাফ বাইকের হ্যান্ডেলে হাত রেখে গম্ভীর গলায় বলল,
—"ডান। উত্তরা হাইওয়ের ঐ মোড় পর্যন্ত। যে আগে পৌঁছাবে ।"
বলা মাত্রই আহনাফ বাইকের পিকআপ বাড়িয়ে দিল। আরিয়াও পিছিয়ে থাকার পাত্রী নয়, সে বিদ্যুৎগতিতে বাইক ছুটিয়ে আহনাফের সাথে পাল্লা দিতে শুরু করল। রাতের ফাঁকা হাইওয়েতে টায়ারের গর্জন আর বাতাসের শোঁ-শোঁ শব্দ। আহনাফ আরিয়ার দক্ষতাকে অবজ্ঞা করল না, কিন্তু সে নিজের রাইডিং কৌশলে আরিয়ার প্রতিটি চাল আটকে দিল। শেষ কয়েক মিটারে আহনাফ নিজের বাইকটিকে আরিয়ার সামনে আড়াআড়িভাবে এনে গতি কমিয়ে দিল, আরিয়া বাধ্য হয়েই ব্রেক কষে থামল।
আহনাফ তার বাইক থামিয়ে হেলমেট খুলে আরিয়ার দিকে ঘুরে দাঁড়াল। তার চুলগুলো বাতাসে অগোছালো, চোখের দৃষ্টিতে এক তীব্র বিজয়ের নেশা।
আরিয়া হেলমেট খুলে রাগে গজগজ করতে করতে বাইক থেকে নামল।
—"এই আপনি চিটিং করেছেন! আপনি আমাকে জায়গা দিলেন না কেন বাল!"
আহনাফ ধীর পায়ে আরিয়ার দিকে এগিয়ে এল। সে আরিয়ার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তার হেলমেটের স্ট্র্যাপটা আলতো করে ধরে নিজের দিকে টানল। আরিয়া হকচকিয়ে গেল। আহনাফের পারফিউমের ঘ্রাণে আরিয়ার মস্তিষ্ক যেন ঝিমঝিম করছে। আহনাফ নিচু হয়ে আরিয়ার কানের কাছে মুখ এনে খুব শান্ত কিন্তু ভারী গলায় ফিসফিস করে বলল:
"তোকে একবার গালি দিতে নিষেধ করেছি তারপর তুই কেন দিয়েছিস বেয়াদব? রেসিংয়ে জায়গা চেয়ে নিতে হয় না, জায়গা করে নিতে হয়। তুই তো হেরে গেলি। এখন আমার শর্ত মানার পালা।"
আহনাফ একটু বিরতি দিয়ে আরিয়ার চোখের দিকে তাকিয়ে অশুভ এক রহস্যময় হাসিতে বলল:
—"Now get ready to become the mother of Ahnaf Shikdar Rizvie's child."!
আরিয়া পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইল। তার হৃদপিণ্ড যেন এক সেকেন্ডের জন্য থেমে গেল। । সে কোনো কথা বলার শক্তিই খুঁজে পাচ্ছে না।
আরিয়া হুট করে রাগের মাথায় বলে উঠলো
—" সরুন তো যত সব অসভ্য লোক, খচ্চর বেডা।এতই যখন বাচ্চার শখ তাহলে জান না বিয়ে করুন আমাকে কেন বলছেন?
—"কারণ থাক কিছু না।
কিহ?
আহনাফ আরিয়াকে স্তব্ধ রেখে নিজের বাইকে উঠে বসল। তারপর আরিয়ার দিকে তাকিয়ে বলল,
— "কি হলো? চল, বাড়ি যাবি না? নাকি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবি?" আহানাফ বলেই পিছন ঘুরে দেখল তাহিলা সবাই কারে বসে আছে ঈশান, আলিফা অদ্রিতা নুসরাত সাহিল, প্রেম, রুদ্র, অর্ক।ওদের উদ্দেশ্য আহনাফ বলল
—"এই আহাম্মকের দল তোরা এখানে কি করছিস সবাই বাসায় চল।
ঈশান গাড়ি স্টার্ট দিয়ে কিছু একটা বলতে যাবে তার মধ্যেই বাকিরা সবাই চিৎকার দিয়ে
—"জ্বী ভাইয়া এখনি যাচ্ছি
বলে উঠলো এমন জোরে চিৎকার করলো রাস্তার ঘুমন্ত কুকুরগুলো ঘেউ ঘেউ করে উঠলো।
আহানাফ রাগী দৃষ্টিতে ওদের দিকে তাকালো।ওরা সবাই ভয় পেয়ে গাড়ি স্টার্ট করে আরিয়াদের আগে চলে গেল ।
এরপর আহানাফুল আরিয়াও নিজেদের বাইক টেনে বাড়ির উদ্দেশ্যে নিয়ে গতি বাড়ানো।
কিছুক্ষণ পর শিকদার বাড়ির সামনে পৌঁছানোর পরেই আরিয়াকে সবাই এই কথাটা নিয়ে চিৎকার করছে জ্বালাচ্ছে সাহিল তো বারবার বলছে
মা হবে রিজভী ভাইয়ার বাচ্চার বলে ওরা হা হা করে হেসে উঠলো, আরিয়া উঠেই সাহিল কে দিল এক কিল দিয়ে বলো বের হ আমার ঘর থেকে আমি এখন ঘুমাবো বাণিকচন্দ্র।
রুদ্র হাতে ছিল ল্যাপটপ সে একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে হুট করে সে বলে উঠলো চিৎকার করে বলল
—"এই তোরা থাম আরু নোভার বায়োডাটা পেয়েছি।
আরিয়া দৌড়ে গেল ল্যাপটপের দিকে দেখার জন্য দেখার।
চলবে...
(রেসপন্স না করলে গল্প ১০০ বছর পর দিব কারণ আমি ভন্ড লেখিকা)🧟♀️🔪