ফন্ট সাইজ:
থিম:
প্রিয়তমা

৯ম পর্ব

লেখক: জায়ান ফারুক আদিল

গল্পঃ প্রিয়তমা

পর্ব_০৯

অন্তরিক্ষ স্বচ্ছ।চারিদিকে মৃদু বাতাসের ঝাপটানি।একটু শীত শীত ভাব।শীতকাল প্রায় এসে পড়েছে।পিঠের উপর দিয়ে আঁচল টেনে সামনে আনলো প্রীতি।জানালার পর্দা গুলো মেলে দিলো।

পুরোনো কথাগুলো মনে পড়তেই বক্ষস্থললে তীব্র চিনচিনে ব্যথার নিদারুণ যন্ত্রনাময় অনুভূতি হলো।

সেদিন রাতে কান্না করেই কাটিয়ে দিলো প্রীতি।দুই তিনদিন আর কলেজেও যায়নি।আরমিন এসে দেখে গেছে প্রীতিকে।প্রথম প্রথম রূপক কল দিলে প্রীতি কথা বলতে চাইতোনা।এড়িয়ে চলতো রূপককে।রূপক যখন হাজেরা বেগমের ফোনে ফোন করে পাগল করে দিতো তখন হাজেরা বেগম এসে প্রীতিকে বকাবকি করতেন ফোন কেনো ধরেনা।

পরে প্রীতি নিজ থেকেই একদিন কল দিলো।রূপক ধরতে পারলোনা কাজে ব্যস্ত থাকায়।পরে বাসায় এসে রাতে কল দিয়েছিলো প্রীতিকে।ভিডিও কল দেওয়াতে প্রীতি লাইন কেটে দিয়ে অডিও কল দিলো।রূপক বারবার ভিডিও কল দিচ্ছে কিন্তু প্রীতি কেটে দিচ্ছে।শেষে অডিও কল রিসিভ করে রূপক উগ্রকণ্ঠে বলল,ভিডিও কল রিসিভ না করলে কল দেওয়ার দরকার নেই।এতদিন যেভাবে ছিলে কথা না বলে এখনও সেভাবেই থাকো।কোনো কথা বলতে হবেনা আমার সাথে।

প্রীতি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ভিডিও কল দিলো।রূপক সাথে সাথেই রিসিভ করলো।ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠলো এক জীর্ণশীর্ণ মলিন চেহারা।চোখ দুটো একেবারে গর্তে ঢুকে গেছে।গলার হাড়গুলো কেমন বেরিয়ে আছে।চোখমুখ ফ্যাকাশে লাগছে।থমকে গেলো রূপক।এ কোন প্রীতি?যেই প্রীতিকে বাংলাদেশে রেখে এসেছে সেই প্রীতির সাথে এর কোনো মিল নেই।যেনো সম্পুর্ণ আলাদা দুটি মানুষ

রূপককে নিজের দিকে নির্নিমেষ চেয়ে থাকতে দেখে অস্বস্তিতে পড়ে গেলো প্রীতি।এজন্যই কথা বলতে চাইতোনা এতদিন।রূপক বিদেশ যাওয়ার পর থেকে সবসময় ভিডিও কলেই কথা বলতো।কখনো অডিও কলে কথা বলতে চাইতোনা।

প্রীতি আড়ষ্ট হয়ে বলল,কথা না বললে আমি লাইন কেটে দিচ্ছি।রূপক নিজেকে সংযত করে প্রীতিকে ধমকে উঠলো।

চেহারার এই হাল কেনো তোমার?ঠিকমতো খাওয়াদাওয়া করোনা।এমনি এমনি জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যাও তুমি?একবার আয়নায় দাড়িয়ে এই তুমিটা আর চোখ বন্ধ করে আগের তুমিটাকে মিলিয়ে দেখো কতটা পরিবর্তন হয়েছে তোমার।

কথাটা প্রীতির খুব মনে লাগলো।একরাশ অভিমানের পাহাড় তৈরি হলো রূপকের প্রতি।অভিমান নিয়েই বলল,আমাকে ভালোলাগছেনা বলে দিলেই পারেন।চলে যাবো আমি।পছন্দমতো কাউকে বিয়ে করে নিয়ে আসবেন।

রূপক নির্বাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো।ও কি বলেছে আর মেয়েটা কি বুঝেছে?কন্ঠস্বর নরম করে বলল,আমি কি একবারও বলেছি তোমাকে আমার এখন আর ভালোলাগেনা।আমি শুধু এটা বলেছি যে নিজের যত্ন নাও।আমি পাশে থাকলে এটাও তোমার করা লাগতোনা আমিই করতাম।আর আরেকটা বিয়ের কথা কেনো উঠছে?আল্লাহ আমাকে অপরূপ সৌন্দর্য্যের অধিকারিণী প্রিয়তমা দিয়েছেন।আমার আর বিয়ে করার প্রয়োজন পড়বেনা।

প্রীতির রাগ পানি হয়ে গেলেও উপরে উপরে রেগে থাকার ভান করে বলল,আপনার ইচ্ছে হলে আপনি বিয়ে করুন নয়তো যা ইচ্ছে করুন আমার কিছু যায় আসেনা।

রূপক প্রীতিকে ক্ষেপানোর জন্য বলল,সত্যিই আরেকটা বিয়ে করবো?দুজনে একসাথে থাকতে পারবে?

প্রীতি ছলছল চোখে তাকালো যা অপরপাশের মানবটি দেখে ঠোঁট টিপে হাসলো।রূপকের চোরা হাসি প্রীতির নজরে আসতেই মুহূর্তেই তেতে উঠলো প্রীতি।একবার শুধু সতীন নিয়ে আসুন এ বাড়িতে দুজনকেই চাপাতি দিয়ে টুকরো টুকরো করে বস্তা ভরে নদীতে ফেলবো।

রূপক ভয় পাওয়ার ভান করে শব্দ করে হেসে দিলো।

হাসি থামিয়ে নিষ্প্রভ কন্ঠে বলল,রূপকের জন্য তার প্রিয়তমা ব্যতীত অন্য নারী নিষিদ্ধ।

প্রীতি মাথা নুইয়ে ফেললো।রূপক কথা ঘুরানোর জন্য বলল,ঠিকঠাক খাবার খাবে।আর যেনো না শুনি তুমি অসুস্থ হয়ে পড়েছো।আমার ফোন যদি না ধরো তবে বাংলাদেশে আসলে তোমার কি হাল করবো আমি সেটা ভাবতেও পারবেনা তুমি।

প্রীতি চোখ বড় বড় করে বলল,কি করবেন মারবেন আমাকে?

রূপক মাথা নেড়ে না জানালো।নো মারামারি অনলি রোমান্স বলেই চোখ টিপ মারলো।প্রীতি লজ্জা পেয়ে ধ্যাত বলেই কল কেটে দিলো।

রূপক আবারও কল দিলো।প্রীতি ধরলোনা।আরো দুবার দিতেই তৃতীয় বারের সময় প্রীতি কল ধরলো।ভাবলো রূপককে সেদিনের সম্পুর্ন ঘটনা জানিয়ে দিবে।প্রীতি রূপককে জানিয়েছি কি জানায়নি সেটা ফারুখ বা রাজিব শেখ জানতে পারবেনা যদি রূপক বুদ্ধিমত্তার সাথে কাজ করে।

প্রীতি রূপককে সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে জানানোর জন্য বলল,আমার আপনাকে কিছু বলার আছে।সেদিন কি হয়েছিলো সবটা আপনার জানা প্রয়োজন।

রূপক প্রীতিকে কথার মাঝপথে আটকে দিয়ে খাওয়াদাওয়া,শরীরের যত্ন নেওয়ার কথা বলে কল কেটে দিলো।তার নাকি ইমপরট্যান্ট কল এসেছে।

প্রীতি হতাশ হলোনা ভাবলো পরে বলা যাবে।

এরপরেও প্রীতি যতবার বলার চেষ্টা করেছে রূপক ততবারই এড়িয়ে গেছে ব্যাপারটা।

পুরোনো কথাগুলো ভেবে দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো প্রীতি।রান্নাঘরে ছুটলো সবার জন্য সন্ধ্যার চা বানাতে।

—————————————★

দিন তিনেক পর স্বপ্না আর ফারুখের বিয়ে।রাজিব শেখ বিয়ের কেনাকাটার জন্য ফারুখকে ঢাকায় পাঠালেন।ফারুখ সাথে করে এক বন্ধুকে নিয়ে গেছে।বাসে থাকাকালীন তার ফোন বেজে উঠলো।রিসিভ করে কানে ধরতেই অপর পাশ থেকে রূপক শুভেচ্ছা জানালো।ফারুখ দুর্বোধ্য হাসলো।

রূপক জিজ্ঞেস করলো গাড়ির শব্দ শোনা যাচ্ছে,কোথাও যাচ্ছো নাকি?

উত্তরে ফারুখ মুচকি হেসে বলল,বিয়ের কেনাকাটার জন্য ঢাকাতে যাচ্ছি।

রূপক হেসে উঠে বলল,বেশ ভালো।নতুন জীবন সুখের হোক তোমাদের।

ফারুখ আবারও হাসলো।বলল,তুমিও আমার বোনের খেয়াল রেখো,আগলে রেখো।অবুঝ কিনা?

রূপক ফারুখকে আশ্বস্ত করে বলল,আমার জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সে সেইফ থাকবে।

কথোপকথন শেষ করে রূপক বাসার উদ্দেশ্যে হাটা ধরলো।প্রীতির জন্য আর মায়ের জন্য কিছু জিনিস কেনাকাটা করেছে।বিয়ের রাতে প্রীতিকে কিছুই দেওয়া হয়নি।পরেরদিন একটা রিং দিয়েছিলো যেটা প্রীতির আঙ্গুলের মাপের চেয়ে বড়।

এখন দুইজোড়া স্বর্ণের চুড়ি কিনেছে।একজোড়া মায়ের জন্য আরেক জোড়া প্রীতির জন্য।আকাশি আর সাদার মিশ্রণের একটা পাতলা শাড়ি ও নিয়েছে প্রীতির জন্য।যেটা শুধু মাত্র তার সামনেই পড়বে প্রীতি।কথাটা ভেবেই মুচকি হাসলো রূপক।

ফারুখের সাথে রূপকের সম্পর্ক দেশে থাকতেই ভালো হয়েছে।প্রথম দিকে রূপক ফারুখকে তেমন একটা পছন্দ করতোনা।পরে দুজনের মধ্যে এমন আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছে যে এখন একে অপরকে তুমি বলে সম্বোধন করে।

রূপক যেদিন মেয়েগুলোকে উদ্ধার করেছে সেদিন ওর বারবার মনে হয়েছে চারজনের মাঝে একজন ওদেরকে সাহায্য করছে।যে সাহায্য করেছিলো তার পায়ে সেদিন একটা গুলি লাগে।পরেরদিন প্রীতি রাগ করে বাপের বাড়িতে চলে যাওয়ায় রূপক যখন তাকে আনতে যায় সেদিন ফারুখের পায়েও একই রকম গুলি লাগার ক্ষত দেখতে পায়।

রূপকের সন্দেহ গভীর হয়।তখন কিছু না বলে প্রীতিকে মানাতেই ব্যস্ত ছিলো।সেদিন রাতে তরুণকে বিদায় দিয়ে রূপক ফারুখকে ফোন করে দেখা করতে বলল।প্রথমে ফারুখ হকচকিয়ে গেলেও পরোক্ষণে রূপকের সাথে দেখা করতে চলে আসে।

গভীর রাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে রূপক যখন ফারুখের দিকে প্রশ্ন ছুড়লো ওর পায়ের এই ক্ষতটা কিভাবে হয়েছে?তখন ফারুখ আমতা আমতা করে বলল,কেটে গেছে।আর তুমি এত রাতে আমাকে এইকথা জিজ্ঞেস করতে ডেকে এনেছো?

রূপক তাচ্ছিল্য হেসে বলল,পুলিশকে শিখাচ্ছেন কোনটা কাটার ক্ষত আর কোনটা গুলি লাগার?

ফারুখ আর বাড়াবাড়ি করলোনা।কিছুক্ষণ চুপ থেকে লম্বা শ্বাস ফেলে বলল,কি জানতে চাও বলো।

রূপক তীরের মতো প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়,নারী পাচারের সাথে কতদিন যাবত জড়িত আছেন?বাকি তিনজন কারা?কি নাম তাদের?

ফারুখ ধীরে সুস্থে সব বলতে লাগলো।

সেদিন ওখানে চারজনের মধ্যে আমি,রাজিব শেখ,রকি,আর যার মাধ্যমে মেয়েগুলোকে বিদেশে নিয়ে ব্যবসা করা হবে মানে যার কাছে বিক্রি করা হবে সে ছিলো।মিরন হায়দার।

রূপক বিস্মিত হলো সবার নাম শুনে।রকির কথা তরুণ জানালেও এতদিন সে ধরা ছোঁয়ার বাইরে ছিলো।আজ রাজিব শেখের কথা শুলে বেশি অবাক হলো।

ফারুখ আবারও বলা শুরু করলো,রাজিব শেখের কিসের ব্যবসা ছিলো সেসবে আমার কোনো কালেই আগ্রহ ছিলোনা।প্রথমে পড়ালেখা পরবর্তীতে নিজের সহপাঠীদের নিয়ে আড্ডা দেওয়া এসবই চলছিলো আমার।উনি কখনো আমাকে ব্যবসার হাল ধরার কথাও বলেননি।গ্রামে একে একে মেয়েগুলো সব উধাও হয়ে যাচ্ছে অথচ কেউ এর হদিস পাচ্ছেনা।

একদিন রাজিব শেখকে আমি ফোনে কথা বলতে শুনে ফেলি।যা ছিলো নারী পাচার সম্পর্কিত।সেদিন জেনে গিয়েছিলাম উনার অপকর্মের কথা।তার কথাবার্তায় বুঝতে পেরেছি যে তার পথের কাঁটা হবে তাকে উপড়ে ফেলতে দুবার ভাববেনা।তাই আমি সেদিন উনার মুখোমুখি হই।কৌশলে তার ব্যবসায় ঢুকি।উনি আমাকে প্রথমে ব্যবসায় নিতে নারাজ ছিলেন।বললেন,তোমার এখন আনন্দ করার বয়স তুমি এসবে এখন মাথা ঘামিওনা।আমি যে তার নারী পাচারের ব্যবসার কথা জেনে গিয়েছি সেটা বলে তাকে ব্ল্যাকমেইল করলাম।বললাম,আমিতো অন্যকিছু চাইনা।শুধু আপনার ব্যবসায় আমিও সামিল হতে চাই।আমাকে না নিলে সব ফাঁস হয়ে যাবে সেটা নিশ্চয়ই ভালো হবেনা।সেদিন উপায় না পেয়ে আমাকেও উনার সাথে জড়িত করেন।দিনদিন আমি নিজের কাজ দ্বারা উনার বিশ্বস্ত হয়ে উঠি।আমার লক্ষ্য ছিলো ওদের সাথে থেকে মেয়েগুলোকে রক্ষা করা।ওদের বিরুদ্ধে সব প্রমাণ জোগার করা।তারপর সেগুলো পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা।তাই গতকাল রাতে আমি আড়ালে তোমাদেরকে সাহায্য করেছি।যাতে মেয়েগুলোকে মুক্ত করতে পারো।

রূপক সন্দিহান কন্ঠে বলল,আমি কিভাবে বিশ্বাস করবো আপনি সব সত্যি বলছেন?

ফারুখ ঠোঁট বাঁকিয়ে হেসে বলল,তুমি বুদ্ধিমান তাই বাকিটা আর বলার প্রয়োজন মনে করলাম না।তুমি নিজেই সব বুঝো।রূপক প্রশ্নাত্মক কন্ঠে বলল,কিন্তু রাজিব শেখকে বাবা না বলে বারবার রাজিব শেখ বলে সম্বোধন করার কারণ কি?

ফারুখ বলল,সেটাও জানতে পারবে কোন একদিন।

প্রীতির কিডন্যাপ হওয়ার পরে ওকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে রূপকের সাথে সেদিন ফারুখই কথা বলেছিলো।সেদিনের সম্পুর্ন ঘটনা রূপকের জানা আছে।তাই বারবার প্রীতি বলতে চাইলেও ব্যাপারটা এড়িয়ে যায়।যাতে এসব বলতে গিয়ে প্রীতি আরো ভেঙে না পড়ে।

লাল টুকটুকে বেনারসি সাথে সাজের যাবতীয় জিনিসপত্র কিনে ফারুখ বাড়িতে যাবে।গতকাল রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।এখানে এসে একটা হোটেলে উঠেছে।আজ বিয়ের কেনাকাটা শেষ করেছে।একটা রেস্তোরাঁয় ঢুকে ফারুখ আর তার বন্ধু মধ্যাহ্নভোজ সেরে নিয়েছে।এখান থেকে বাস স্ট্যান্ডে গিয়েই বাস ধরবে।

জানালার পাশের সিটে মাথা এলিয়ে চোখ বুজে রইলো ফারুখ।লাল টুকটুকে বেনারসিতে কল্পনা করছে স্বপ্নাকে।পরনে লাল শাড়ি,হাতে আর পায়ে আলতা,ঠোঁটে লাল রঙা লিপস্টিক।মুখে আর কোনো প্রসাধনী নেই।ঠোঁটে নজরকাড়া হাসি।চোখজোড়া কাজল শূন্য।ফারুখ স্বপ্নাকে বলে দিয়েছে তার মনের মতো করে যেনো স্বপ্না সাজে।চোখ খালি রাখবে।ওই হরিনী চোখ নিজ হাতে কাজল কালো করবে।বন্ধ চোখেই ঠোঁট কিঞ্চিৎ প্রসারিত করে হাসলো ফারুখ।

————————————————★

এদিকে ফারুখ যাওয়ার পরপরই রাজিব শেখ রকির সাথে দেখা করে।স্বপ্নাকে তুলে আনার পরিকল্পনা করে।এবং সে কাজে সফলও হয়।স্বপ্না নিঃসন্দেহে সুন্দরী।যার কারণে রকি স্বপ্নাকে দেখে লালসায় চোখ ফেরাতে পারেনি।রাজিব শেখ চাননা ফারুখ এই মেয়েকে বিয়ে করুক।মেয়েটার প্রতি ফারুখের পাগলামি তিনি দেখেছেন।বারবার মনে হচ্ছে স্বপ্নাই তার ব্যবসার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে।তাছাড়া এই মেয়েকে চওড়া দামে বিক্রি করা যাবে।তাইতো ফারুখকে ঢাকায় পাঠিয়ে রকির সাথে কথা বলে স্বপ্নাকে তুলে আনেন।স্বপ্নাকে দেখার পর রকি একটা আবদার করে বসে।

"এমন পরীর মতো মেয়েকে এত সহজে ছেড়ে দিলে হবে?আমি এর সাথে একরাত কাটাতে চাই।"

রাজিব শেখ এবার রকিকে তার ফাঁদে ফেললেন।তিনি শর্ত জুড়ে দিলেন।এবারের টাকা কথা অনুযায়ী তোমার সেভেন্টি পারসেন্ট আর আমাদের থার্টি পারসেন্ট পাওয়ার কথা ছিলো।কিন্তু এই মেয়ের সাথে রাত কাটাতে হলে আমাকে ফিফটি পারসেন্টই দিতে হবে।

রকি মুখ দিয়ে"ট"সূচক শব্দ করে বলল,ছেড়ে দিলাম।

রাজিব শেখ প্রশ্নাত্মক কন্ঠে বললেন,কি?

রকি হেসে উঠে বলল,টাকার ভাগ।টাকা আসবে যাবে।কিন্তু এরকম একটা *****সহজে পাওয়া যাবেনা।

রাজিব শেখ রকির পিঠে চাপড় মেরে বলল,বুদ্ধিমান ছেলে।

চট করে রকি প্রশ্ন করলো,কিন্তু ফারুখ যদি জানতে পারে?তখন কি করবেন?

রাজিব শেখ ভাবলেশহীন ভাবে বললেন,ও আমি সামলে নেবো।তুমি তোমার কাজ করো।লেটস এনজয়।

রাতের অন্ধকারে ফারুখের কন্ঠস্বর নকল করে একজন স্বপ্নাকে বেরিয়ে আসতে বলে।স্বপ্না বের হতে রাজি হচ্ছিলোনা কিছুতেই।প্রতিদিনই ফারুখ জানালার একপাশে আর ও ঘরের ভেতর জানালার অন্যপাশে থেকে কথা বলতো।স্বপ্না চুপ থাকতো যা বলার ফারুখই বলতো।কিন্তু আজকে ফারুখ কেমন চাদর দিয়ে নাকমুখ ঢেকে এসেছে।স্বপ্না কারণ জিজ্ঞেস করতেই বলল,প্রচুর ঠান্ডা।তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসো।কালকে ঢাকায় যাবো বিয়ের কেনাকাটার জন্য।তখন আর দেখা হবেনা।নানা রকমভাবে ফোর্স করে স্বপ্নাকে বের করে আনে।সেখান থেকেই অজ্ঞান করে স্বপ্নাকে নিয়ে আসা হয় মেয়ে পাচারের মেইন ডেরায়।

জ্ঞান ফিরতেই কেমন গা চমচম করে উঠলো।চোখ খোলা থাকায় পাশের মেয়েগুলোকে দেখে আতকে উঠলো।বুঝতে পারলো ওকে কোথায় নিয়ো আসা হলো।ফারুখের প্রতি তীব্র ঘৃণা জন্ম নিলো স্বপ্নার মনে।তবে এতদিন সব মিথ্যে নাটক ছিলো?যদি তাকে দিয়ে ব্যবসাই করার ছিলো তবে মন নিয়ে কেনো খেললো?এরকম হাজারও ভাবনার মাঝে তাকে দুজন টেনে হিঁচড়ে নিয়ে আসলো রাজিব শেখ আর রকির সামনে।রাজিব শেখকে দেখে প্রথমে মনে কিছুটা সাহস সঞ্চার করলেও পরোক্ষণে রকি আর রাজিব শেখের কথোপকথন শুনে স্তব্ধ হয়ে গেলো স্বপ্না।তারমানে ফারুখের কোনো দোষ নেই।আগেই তাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো রাজিব শেখের দিকে।তিনি স্বপ্নার মাথায় হাত বুলিয়ে বলল,মোটেও রকিকে বিরক্ত করবিনা।আজ রাতে তাকে খুশি করতে হবে বলেই বিদঘুটে হাসি দিলেন।স্বপ্না ঘৃণায় মাথার উপর থেকে রাজিব শেখের হাত ঝাড়া মেরে ফেলে দিয়ে পিছিয়ে গিলো।একদলা থুতু ছুড়ে মারলো রাজিব শেখের মুখে।

রাজিব শেখ বামহাতে মুখ মুছে রক্তচক্ষু নিয়ে তাকালো স্বপ্নার দিকে।সপাটে গালে একটা চড় বসিয়ে দিলেন।স্বপ্না সিটকে টেবিলের কোনে মাথা ঠুকে পড়ে।ব্যথায় আহ্!বলে আর্তনাদ করে ওঠে।রাজিব শেখ অকথ্যভাষায় কয়েকটা গালি দিয়ে বেরিয়ে গেলেন।

রকি স্বপ্নার হাত ধরে তুলে মাথা থেকে পা অব্দি লালসার নজরে দেখে তাকে টেনে নেয়ে যেতে লাগলো।স্বপ্না চিৎকার করে ছোটাছুটি করার চেষ্টা করে চলেছে।কিন্তু লাভ হচ্ছে না।উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাসছে।যেন তারা বেশ মজা পাচ্ছে।রকি একটা রুমে নিয়ে গিয়ে ছুড়ে মারলো স্বপ্নাকে।দরজা সপাটে বন্ধ করে দিয়ে এগিয়ে গেলো।স্বপ্না পিছিয়ে যেতে যেতে খাটের একেবারে কোনে গিয়ে ঠেকেছে।বেডসাইড টেবিলে পানির গ্লাস ছিলো।গ্লাস হাতে নিয়ে পানি ছুড়ে মারে রকির দিকে।রকি যখন রেগে গিয়ে গায়ের পানি ঝাড়তে ব্যস্ত তখনই শব্দ করে টেবিলের সাথে বাড়ি দিয়ে গ্লাস ভেঙে একটুকরো ভাঙা কাঁচ হাতে নিয়ে তাক করে রকির দিকে।

রকি খুব সাবধানে এগিয়ে আসে সামনের দিকে।স্বপ্না কাঁচের টুকরো দিয়ে আঘাত করতে যাবে তার আগেই রকি হাত মুচড়ে ধরে স্বপ্নার।গালে আরেকটা চড় মেরে কাঁচের টুকরো ফেলে দেয়।ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় স্বপ্নাকে।ক্ষুধার্ত বাঘের মতো ঝাপিয়ে পড়ে স্বপ্নার উপর।প্রথম দিকে ছোটাছুটি করলেও পরক্ষণে একেবারে নিস্তেজ হয়ে পড়ে স্বপ্না।

সেই রাতে নিজের মনোবাসনা পূর্ণ করে রকি।আর স্বপ্না একটা জীবন্ত লাশ হয়ে পড়েছিলো।চোখের কার্ণিশ বেয়ে অঝোর ধারায় গড়িয়ে পড়েছিলো নোনাজল।

——————————————————★

ফারুখ ঢাকা থেকে ফিরে রাতেই বাসায় ফেরার পথে লোকমুখে শুনতে পেলো স্বপ্না মেয়েটাও নিখোঁজ।শুনলাম রাজিব শেখের ছেলের সাথেই দুদিনপর বিয়ে।এখন এই মুহূর্তে নিখোঁজ হয়ে গেলো।

এসব শুনে ফারুখ বাড়িতে গেলোনা।সোজা স্বপ্নাদের বাড়িতে গেলো।স্বপ্নার মা বাবার আহাজারি শুনে যা বোঝার বুঝে গেলো ফারুখ।বিয়ের সব সরঞ্জাম স্বপ্নাদের বাড়িতে ফেলে রেখেই ছুটলো তাদের নির্দিষ্ট গোডাউনে।

রকি ফারুখকে দেখে হেসে উঠে বলল,আরে ফারুখ যে,এতরাতে এখানে?ফারুখ ব্যস্ত চোখে স্বপ্নাকে খুঁজে চলেছে।হুঙ্কার ছেড়ে বলল,স্বপ্নাকে কোথায় রেখেছিস?এত বড় সাহস হয় কি করে ফারুখের কলিজায় হাত দেওয়ার?

রকি অবজ্ঞা সূচক হেসে বলল,এত ভালোবাসা?কিন্তু এই ভালোবাসা থাকবেতো? যখন শুনবে তোমার প্রেয়সী কাল সারারাত আমার বিছানায় ছিলো?

ফারুখ গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলে,রকি!

রকি ইশারায় স্বপ্নাকে দেখিয়ে দেয়।মুহূর্তেই ফারুখ দৌঁড়ে স্বপ্নার কাছে যায়।কেমন মলিন চেহারা।অনুভূতি শুন্য হয়ে ফ্লোরে হাঁটু ভাজ করে বসে আছে।মুখে কোনো রা নেই।মাথার চুল সব এলোমেলো হয়ে আছে।শরীরের যে অংশ গুলো দেখা যাচ্ছে সেগুলোতে অসংখ্য আঁচড়ের দাগ।গলদেশে লাল হওয়া চিহ্ন।নিস্তেজ হয়ে আছে স্বপ্না।মৃত মানুষকে যেমন ধাক্কা দিলে ঢলে পড়ে তেমনি মনে হচ্ছে স্বপ্নাও ঢলে পড়বে।

ফারুখের ভেতরে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে।বক্ষস্থলে রক্তক্ষরণ চলছে।স্বপ্নাকে দুহাতে জড়িয়ে নিলো নিজের বুকে।স্বপ্না কোনো প্রতিক্রিয়া করছেনা।ধপ করে আগুন জ্বলে উঠলো ফারুখের শরীরে।স্বপ্নাকে রেখে উঠে দাঁড়ালো।বেধড়ক মারতে শুরু করলো রকিকে।কেউ কারো চেয়ে কম যায়না।রকি আর ফারুখ দুজনই সমান সমান একে অপরকে মেরে চলেছে।ফারুখ রাগে কেঁপে উঠে বলল,কে সাহস দিয়েছে ওকে ছোঁয়ার?

রকি কুটিল হেসে বলল,তোর বাপ।সে আমার সাথে ডিল করেছে টাকা দুজনেই ফিফটি ফিফটি পাবো।ফারুখের ক্ষোভ আরো বেড়ে গেলো।আরো জোরে মারতে শুরু করলো রকিকে।রাজিব শেখকে পরে দেখে নেবে।

হঠাৎ স্বপ্না চিৎকার করে ডাকলো,ফারুখ!

ফারুখ নামটি কর্ণগোচর হতেই ফারুখ তড়িৎগতিতে ছুটে যায় স্বপ্নার কাছে।স্বপ্না নিষ্পলক নেত্রে তাকিয়ে রোবটের মতো অনুভূতিহীন হয়ে বলল,বিয়ে করবেন আমাকে?

ফারুখ জমে গেলো।তাকে চুপ থাকতে দেখে স্বপ্না প্রশ্নাত্মক চোখে তাকালো।ফারুখ কিছু না বলেই স্বপ্নার হাত ধরে হাঁটা ধরলো।সামনে রকি বাঁধা হয়ে দাঁড়ালে তাকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে ফারুখ স্বপ্নাকে নিয়ে বেরিয়ে আসে।

এদিকে রকি রাজিব শেখকে সব কিছু জানিয়ে দিয়েছে।

ফারুখ রাতে স্বপ্নাকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে বলল,তৈরি থেকো।কাল সকালেই আমি তোমাকে বিয়ে করবো।যেমনটা আগে বলেছিলাম তেমনই আমার মনের মতো করে সাজবে তুমি।

স্বপ্না কিছু না বলেই উদাসীন ভাবে তাকিয়ে রইলো।ফারুখ যাওয়ার সময় স্বপ্নার মা বাবাকে বলে গেছে যাতে স্বপ্নাকে এখন কিছু জিজ্ঞেস না করে।

রাতে আর রাজিব শেখ বাড়িতে ফেরেননি।ফারুখ অপেক্ষায় ছিলো কখন রাজিব শেখ বাড়িতে আসবে।কিন্তু নাহ সে বাড়ি ফেরেনি।সকাল হতে না হতেই রাজিব শেখ গ্রামে বাতাসের গতিতে ছড়িয়ে দিলেন স্বপ্না ছেলেদের সাথে রাত কাটিয়ে এসেছে।

মানুষ একটা কথা শুনলেই চলে।সত্যি মিথ্যা যাচাই না করেই কখন গিয়ে ওই মানুষ গুলোকে খোঁচাবে সেই চিন্তায় থাকে।

সকাল সকাল স্বপ্না ঠিক ফারুখ যেরকম চেয়েছিলো সেরকমভাবে সেজেগুজে বসে থাকে।এলাকার কিছু মহিলা এসেই উস্কানীমূলক কথা বার্তা শুরু করে।

"একেতো বিধবা,এখন আবার বেডা মাইনষের লগে রাত কাটিয়ে এসেছে।ছিঃ!এই ছেলের জীবনটা একেবারে ধ্বংস করে ছাড়লো।"

স্বপ্নার মাকে একজন বলল,কি জাদু করেছে তোমার মেয়ে ওই বড়লোকের ছেলেকে।তার টাকা দেখে বুঝি লোভ সামলাতে পারেনি।তাহলে আবার শরীরের জ্বালা মিটাতে অন্য বেডার কাছে গেলো কেনো?

সতীত্ব আগেই খুইয়ে বসে আছে এখন আবার ছিঃ!

স্বপ্নার কানে একেকটা কথা তীরের মতো বিঁধে গেলো।

একেকজন একেক কথা বলছে।স্বপ্নার মা বাবা দরজায় বসে চোখের পানি ফেলছেন।কেউ তাদের কথা শুনতে চাইছেনা।

রূপক তার মাকে নিয়ে সাথে কাজি নিয়ে এসেছে।কথা অনুযায়ী আজ গায়ে হলুদ হওয়ার কথা ছিলো।প্রীতি শশুর শাশুড়ীর সাথে আজকেই আসতো।

ফারুখকে দেখে সবাই আরো পেয়ে বসেছে।নানা ধরনের বাজে মন্তব্য করতে লাগলো স্বপ্নার বিরুদ্ধে।ফারুখ এক ধমকে সবাইকে চুপ করিয়ে দিলো।কাজিকে বিয়ে পড়াতে বলে স্বপ্নার মাকে বলল,স্বপ্নাকে নিয়ে আসতে।

দরজা হালকা ভিড়ানো ছিলো।ধাক্কা দিতেই খুলে যায়।স্বপ্নার মা ঘরের ভেতর ঢুকে স্বপ্না বলে চিৎকার করে ওঠেন।

উনার চিৎকারে ফারুখ সহ তার মা দৌঁড়ে ভেতরে যান।স্বপ্নার নিথর দেহ পড়ে আছে মাটিতে।পাশেই বিষের প্যাকেট।ঘরে ইঁদুরের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় স্বপ্নার বাবা ইঁদুর মারার বিষ এনে রেখেছিলেন।স্বপ্না সেটাই এখন কাজে লাগিয়েছে।মাথা ঘুরে পড়ে গেলেন স্বপ্নার মা।ফারুখ দৌঁড়ে গিয়ে স্বপ্নার মাথা কোলে নিয়ে ডাকতে থাকে স্বপ্না!এই স্বপ্না!কথা বলছোনা কেনো?ফারুখ দিশেহারা হয়ে বলল,দেখো কাজি বিয়ে পড়াচ্ছে।আমি চলে এসেছি,তুমি চোখ খুলছোনা কেনো?

স্বপ্নার মুখ দিয়ে ফ্যানা বের হতেই ফারুখ চিৎকার করে ওঠে স্বপ্নাকে বুকে জড়িয়ে নেয়।লাল বেনারসি,হাতে আর পায়ের পাতায় আলতা,ঠোঁটে লাল টুকটুকে লিপস্টিক একেবারে ফারুখের মন মতো সাজ।

ফারুখ চিৎকার করে কেঁদে বলছে,তুমি এভাবে আমাকে রেখে যেতে পারোনা স্বপ্না।তুমি আমাকে কথা দিয়েছিলে বিয়ের রাতে নিজ হাতে তোমার অসম্পূর্ণ সাজ আমি সম্পুর্ন করবো।একসাথে পথ চলবো।তবে কেনো একমুখে দুমুখো আচরণ করলে?

ফারুখ তার মায়ের দিকে তাকিয়ে বলে,মা দেখো না স্বপ্না চুপ করে আছে।চোখ খুলছেনা কেনো?তুমি ওকে চোখ খুলতে বলো মা।

ফারুখের মায়ের চোখেও পানি।গ্রামের মহিলা গুলো ভড়কে গেলো।কোনোমতে তাদের কথা সহ্য করতে না পেরে মেয়েটা আত্মহত্যা করেনিতো?

ফারুখের চিৎকারে ভারী হলো অন্তরিক্ষ।কেউ ওকে সরাতে পারলোনা স্বপ্নার কাছ থেকে।স্বপ্নার কথা গ্রামে ছড়িয়ে পড়তেই লোকজন আরো ভিড় জমালো।কয়েকজন ছেলে ধরে ফারুখকে টেনেহিঁচড়ে সরালো।

স্বপ্নার মৃত্যুর খবর শুনে প্রীতিও ছুটে আসলো।স্বপ্নাকে দেখতে গিয়ে প্রীতি স্বপ্নার হাতে একটা কাগজ দেখতে পায়।কাঁদতে কাঁদতে কাগজটি হাতে নিয়ে ভাঁজ খুললো।প্রথমেই "প্রিয় ফারুখ"বলে সম্বোধন করায় প্রীতি আর পড়লোনা।কাগজটা ফারুখের হাতে দিলো।

নাকে ছিঁচকে আওয়াজ করে ফারুখ কাগজের ভাঁজ খুলে পড়তে লাগলো।

" প্রিয় ফারুখ"

আপনার জন্য আমার অন্তরে ভালোবাসা ছিলো।যেটা আপনি শুনার অপেক্ষায় ছিলেন।বিদায়ের আগে বলে দিলাম আমি।আমার ভালোবাসা খুঁজে নেবেন অন্ধকারে নিজের কল্পনায়।

আমার সাজ অসম্পূর্ণ পড়ে আছে।বলেছিলেন নিজ হাতে কাজল পরিয়ে আমার সাজ সম্পুর্ন করবেন।আমি ঠিক সেরকমভাবেই সেজেছি যেরকমটা আপনি চেয়েছেন।আমি কাজল পড়িনি।কাজল দিয়ে আমার সাজ সম্পুর্ন করে দিন।আমার যে আর সময় নেই।আপনার প্রিয়তমা হতে পারলাম না আমি।তাড়াতাড়ি বিদায় দিন আমাকে।আর হ্যাঁ আপনি কাঁদবেননা।আমি শাস্তি চাই সবার।

ইতি

স্বপ্না।

ফারুখ কাগজটা হাত থেকে ফেলে দৌঁড়ে ভেতরের ঘরে গেলো।সবকিছু উলট পালট করে কাজল খুঁজে নিলো।সবাইকে সরিয়ে দিয়ে স্বপ্নার চোখের পাতা উল্টিয়ে খুব যত্ন করে কাজল পড়িয়ে দিলো।তারপর কাঁদতে কাঁদতে ধপ করে বসে পড়লো মাটিতে।

চলবে.............

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৯ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন