শুধু তোমাকেই ভালোবেসে
লেখিকা :- মারিয়া আক্তার আরমিন
পর্ব:- ১
আরিয়ার বয়স তখন সাত কি আট,,
তার বাবা হঠাৎ প্রচন্ড অসুস্থ হয়ে পড়ে উনি অসুস্থ হওয়ার ২ মাসের মাথায় তিনি মারা যান।
আরিয়া তার পরিবারের একমাত্র সন্তান তার অবশ্য একটি ভাই আছে কিন্তু সে সৎ,,
আরিয়ার জন্মের দুই মাস পর তার নিজের আপন মা মারা যান।
তারপর তার বাবা বিয়ে করে,,
ঘরে সৎ মা আসে ।কিন্তু তিনি একদমই সৎ মায়ের মতো ছিলেন না। তিনি আরিয়াকে প্রচন্ড ভালোবাসতেন ।
কিন্তু আরিয়ার বাবা মারা যাওয়ার পরে তার সৎ মা সিদ্ধান্ত নেন আরেকটি বিয়ে করবেন এবং আস্তে আস্তে আড়িয়ার প্রতি সৎ মায়ের ভালোবাসা হারিয়ে যেতে শুরু করল ,,
এখন তিনি আরিয়াকে মা বলে ডাকেন না ,,
কাছে নিয়ে জিজ্ঞেস করেন না তো কোন সমস্যা হচ্ছে.?
কিছু লাগবে নাকি??
ছোট আরিয়া এর পার্থক্যটা বুঝতে পারে,,
তখন তার আপন মামা আহাদ খান তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে,,
আরিয়া তার মা আমাদের তেমন একটা চেনে না,,
কারণ তাদের সাথে তেমন একটা তার পরিচয় নেই না কখনো এমন ভাবে কোনদিন কথা হয়েছে,,
কিন্তু আজ তার সাথে যেতে প্রচন্ড অসস্তি লাগছে আরিয়ার,,
কিন্তু কিছু করার নেই ভাগ্যে নির্মম পরিহার সবাইকে মেনে নিতে হয়,,
তার বড় মামা আহাদ খান তাকে নিয়ে আসে,,
আহাদ খানের পরিবার খুবই ছোট,,
আহাদ খান ওনার স্ত্রী মালতি খান এবং বড় ছেলে আফিজ আর তার ভাই আহান,,
আহাদ খান ও মালতি বেগম এর বিয়ের বয়স অনেক হয়েছে,,
কিন্তু তাদের কোনো কন্যা সন্তান হয়নি। তাই তারা আরিয়াকে নিজের কাছে এনেছেন। আরিয়া এ বাড়িতে আসার পরে তার বাবা-মা কিছুটা হলেও মিটেছে,,
যেদিন আরিয়া এই বাড়িতে প্রথম পা রাখে সেদিন সে প্রচণ্ড কান্নাকাটি করছিল নতুন একটা বাড়ি নতুন একটা পরিবেশ কিছুটা অসস্তি তো তার হবেই,,
আর আফিজ তার মাথায় হাত রেখে বলেছিল,,
“এই পাগলি আমি আছি তো? এত কান্না করার কি আছে,,”
তখন আফিজ এর বয়স ১২,,
আরিয়া কি বুঝলো কে জানে সে কান্না থামিয়ে ফেলল । এবং ফেলফেল করে আফিজ এর দিকে তাকিয়ে ছিল,, তারপর থেকে আরিয়াকে সবসময় আফিজ আগলে রাখত।
কেউ কিছু বললে সব সময় আফিজ তার সাপোর্ট করতো। আরিয়ার কখনো কান্না করতে হয়নি ।
যখন যা লাগবে সবকিছু আফিজ জোগাড় করে দিত তার খেলার সঙ্গী ছিল আফিজ ,,
চাওয়া-পাওয়া সবকিছু আফিজ দেখতো,,
আহানের সাথে যদি কখনো আরিয়ার ঝগড়া লাগতো তখন আফিজ সব সময় আরিয়ার সাপোর্ট করতো এই নিয়ে কাহিনী শেষ নেই,,
একবার আরিয়ার প্রচন্ড জ্বর ছিল,,
আফিজ সারারাত তার পাশে থেকেছে,, টানা ৭ দিন আফিজ সব কিছু ছেড়ে আরিয়ার পাশে থেকেছে,,,
আফিজ তার ছোট্ট ছোট্ট হাত দিয়ে তার পিচ্চি সেবা করেছে ,,
যখন আরিয়ার সুস্থ তখন এই আফিজ এর খুশি দেখে কে?
জানুয়ারি এর ১ তারিখ আফিজ এর জন্মদিন,, সেদিন আফিজ এর চাচাতো বোন এসেছিল,, নাম তার রিয়া,,
সে আরিয়াকে আফিজ কাছে যেতে দেয়নি নিজে গিয়ে তা দেখে আরিয়ার প্রচন্ড রাগ হয় এবং সে নিজের রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় আফিজ এর সাথে প্রায় এক সপ্তাহ কথা বলেনি,,
আফিজ এর তো প্রায় পাগল পাগল অবস্থা,,
বেচারা বুঝতে পারছে না এ পিচ্চি তার উপর কেন এত রেগে আছে,,
তারপর ১০১ বার কান ধরিয়ে উঠবস করার পরে এই রাগ ভেঙে ছিল,,
আফিজ হাসি মুখে তা করেছিল,,
তারপর তার পিচ্চি তার সাথে কথা বলেছে,,
রিয়া:- আফিজ ভাই..
আফিজ:- কি হয়েছে তোর.?
রিয়া:- আমি আসলে তোমাকে অনেক ভালোবাসি..!
আফিজ:- আমি ও তোকে ভালোবাসি রিয়া। বউ হবি আমার..?
রিয়া:- হবো আমি তোমার বউ ,,
আরিয়া ধরফর করে উঠে বসলো। উঠে দেখতে পেল সে তার বিছানায়,,
তারমানে সে যা দেখেছে সব স্বপ্ন...
এমন সময় তার মুখে কে যেন এক জগ পানি ঢেলে দিল। সে তাকিয়ে দেখতে পায় আফিজ দাঁড়িয়ে আছে।
বলে রাখা ভালো আফিজ আর আরিয়ার সম্পর্কটা ছোটবেলার মতো নেই। এখন আরিয়া অফিজকে ভালবাসলেও অফিজ কোন অজানা কারণে আরিয়াকে প্রচন্ড ঘৃণা করে ,,
এইসব ভাবনা ছেড়ে আরিয়া আফিজ এর দিকে তাকিয়ে বলল ,,
••কি হলো আপনি আমার মুখে পানি দিলেন কেন,,
••টুকি তোকে মাথায় তোলে এখন নাচবো কত বেলা ••হয়েছে খেয়াল আছে কলেজে যাবি না ..?
••যাবো তো ..!
••তাহলে উঠিস না কেন .?
আমি এ কথার কোন জবাব না দিয়ে উঠে ওয়ারড্রব থেকে কাপড় গুলো নিয়ে গোসল করতে চলে গেলাম,,
একটু পরে গোসল করে বের হলাম আমার কোন ধারণা ছিল না যে আফিজ ভাই এখনো এখানে বসে থাকবে ,,
আফিজ পলকহীন ভাবে আরিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে,,, আরিয়া ব্যাপারটা লক্ষ্য করে প্রচন্ড অস্বস্তিতে পড়ে যায়,,
এমন সময় রিয়া আরিয়ার দরজার সামনে এসে দাঁড়ায়,,
আর ন্যাকা ন্যাকা করে বলে,,
রিয়া:- আফিজ ভাইয়া আপনি এখানে আমি আপনাকে কত খুঁজলাম চলেন আমরা একসাথে নাস্তা করতে যাই,,,
আফিজ আরিয়া এর দিকে পাকা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রিয়ার সাথে চলে যায়।
আরিয়া চুপচাপ দাঁড়িয়ে তাদের চলে যাওয়া দেখে কিন্তু কিছু বলে না,, প্রায় এক ঘণ্টা পরে আরিয়া নেমে আসে,, এর মধ্যে আরিয়ার মামি তাকে প্রচন্ড ডাকাডাকি করেছে নাস্তা খাওয়ার জন্য কিন্তু সে নামিনি,,,
কিছুক্ষণ পর আরিয়া চুপচাপ নিচে নেমে আসে তখন তার মামি তাকে দেখতে পেয়ে বলল,,
~^কিরে তুই নাস্তা করলি না? নাস্তা করে তারপর যাবি,,
~^না মামি ভালো লাগছে না এভাবেই চলে যাব ভালো থেকো সাবধানে কাজ কর ।আর কোন সমস্যা হলে আমাকে ফোন দিও আল্লাহ হাফেজ
~^সে কি কথা আর তুই কার সাথে যাবি? আফিজ কে বলি ,,
অফিজ চুপচাপ খাচ্ছিল কিন্তু তার মাতাকে বলল,,
~•এই তুই ওকে একটু দিয়ে আয় তো,,
পারবোনা ওর দুটো পা আছে ও নিজেই চলে যেতে পারবে ,,
মামি আর কিছু বলার আগে আরিয়া বলল ,,
প্রয়োজন নেই,,
আমি চলে যেতে পারবো ,, আর তুমি চেনো না আমার ওই ফ্রেন্ড আহান কে ও আসবে আমাকে নিতে ওর সাথে চলে যাব,,
অফিজের এতক্ষণে শান্ত সৃষ্টভাবে খাওয়াটা বোধহয় এখন নষ্ট হয়ে গেল ।সে হাত থেকে চামচ ফেলে আরিয়ার থেকে রক্ত চোখা দৃষ্টিতে তাকালো ,,
কিন্তু আরিয়া সেই দিকে পাত্তা না দিয়ে নিজের মতো বেরিয়ে গেল ,,
আফিজ আজ মনে মনে শপথ করল,,
যদি এই মেয়ে ওই ছেলের সাথে কলেজে যায় তাহলে আজকে একটা বিরাট বড় ঝামেলা হয়ে যাবে। এই মেয়েকে আজ সে কাঁচা চিবিয়ে খেয়ে ফেলবে ,,
এগুলো ভাবতে ভাবতে অফিজ খাবার যেমন ছিল তেমন রেখেই টেবিল থেকে উঠে দাঁড়ালো এবং বাইরে যাওয়ার জন্য উদ্যোক্ত হলো ,,
তা দেখে আসিফের মা তাকে বলল,,
~^খাবারগুলো এমন নষ্ট করে কোথায় যাচ্ছিস খেয়ে যা,,
~^পরে খাবো মা এখন জরুরি কাজ আছে ,
এটা বলেছি বেরিয়ে গেল,,
বাড়ি থেকে বের হওয়া মাত্রই দেখতে পেল আরিয়া আহানের বাইকে পেছনে বসেছে ,,
এটা দেখে অফিজের মাথা 420 ডিগ্রি এ্যাঙ্গেলে ঘুরে গেল ,,
সে কোন কিছু না ভেবে বাইকের সামনে গিয়ে আরিয়ার হাতটা ধরল এবং জোর একটা টান মারল,,
এই টান সামলাতে না পেরে আরিয়া নিচে পড়ে গেল ,,
এবং আফিজের দিকে প্রশ্নবিদ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো ,,
আর অফিজ লাল চোখ নিয়ে আরিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে যেন আড়িয়া মুখ থেকে আর কোন বাক্য বেরিয়ে এলে আরিয়াকে এখানে সে জ্যান্ত পুঁতে ফেলবে ,,,
আড়িয়া অফিজের এর এই রাগী দৃষ্টি দেখে আর কিছু বলল না ,,
চুপচাপ উঠে দাঁড়ালো,,
এরমধ্যে আহান অফিজের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,,
আপনি ওর সাথে এমন করলেন কেন,,
কে হন আপনি ওর,,?
এ শোনে অফিজ আরিয়ার দিকে এড দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল তোমার বন্ধুকে জিজ্ঞেস করো আমি কে?
আমি ওর কি হই ..?