#আড়ালে_আবডালে_শুধুই_তুই
#কলমে_রাহা_ইসলাম
#পর্ব_১৩
শাড়ির আঁচলে টান পরতেই থেমে যায় রাহা, নিজের কাঁধের শাড়ির প্রান্তটা শক্ত করে চেপে ধরে।
অভ্র শাড়ির একপাশটা হাতে নিয়ে পেঁচাতে পেঁচাতে অগ্রসর হতে থাকে শেষ পর্যায় এসে হঠাৎই পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে, রাহার পিঠ গিয়ে ঠেকে তার বুকের সাথে। মুখটা নিচু করে সে চুলের ঘ্রাণ নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। গভীর শ্বাস নিয়ে সেই সুবাস বুকভরে টেনে নিচ্ছে, যেনো এই মুহূর্তটুকু নিজের ভেতর বন্দী করে রাখতে চায়।হাত দুটো অনিচ্ছাসত্ত্বেও আরও কাছে টেনে নিল তাকে, যেনো এই কাছাকাছিটুকু হারাতে চায় না।
মুহূর্তেই রাহার শরীর শিহরিত হয়ে ওঠে। আগে থেকেই মনে জমে থাকা ভীতিটা যেনো হঠাৎ আরও তীব্র হয়ে ধরা দেয়—হৃদয়টা দ্রুত ধড়ফড় করতে থাকে, নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল। কণ্ঠ শুকিয়ে আসে, কিছু বলতে গিয়েও শব্দ আটকে যায়। বড় বড় চোখে স্থির হয়ে থাকে সে, হাতের মুঠো শক্ত করে—নিজেকে সামলে রাখার এক শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অতিরিক্ত ভয়ে রাহা নড়াচড়া শুরু করে দেয়, নিজেকে আলগা করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে থাকে। কাঁপাকাঁপা হাতে অভ্রর হাতের উপর নিজের হাত রেখে ছাড়াতে চায়, কিন্তু সেই শক্ত গ্রিপে তার চেষ্টা একেবারেই অসহায় হয়ে পড়ে। সরাতে গিয়েও উল্টো আরও শক্ত হয়ে যায় হাতের বাঁধন। শ্বাসটা ধীরে ধীরে ভারী হয়ে উঠছে, বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে যাচ্ছে অস্বাভাবিকভাবে।
– “ছাড়ুন… প্লিজ…” কাঁপা গলায় কথাটা বেরোল তার, প্রায় নিঃশ্বাসের সাথেই।
রাহার চোখ ভরে উঠছে আতঙ্কে, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসছে। সে আরেকবার জোর দিয়ে নিজেকে সরাতে চাইল, কিন্তু তাতে যেনো উল্টো আরও কাছে টেনে নিল অভ্র। মুহূর্তটা অসহ্য হয়ে উঠছে তার জন্য।
অভ্র মৃদু গতিতে আরেকটু ঝুঁকে এসে চুল গুলো সরিয়ে কানের কাছে গিয়ে মৃদু স্বরে বলে ওঠে—
“এতটা ভয় পাচ্ছিস কেন, জান..! আমিই তো।”
বলেই রাহার হাতটা ধরে এক টানে নিজের দিকে ঘুরিয়ে দিল।
রাহা ভারসাম্য রাখতে না পেরে মুহূর্তেই ঝাঁপিয়ে পরে অভ্রের বক্ষে।
এতে যেনো অভ্রের অশান্ত বুকটা শান্ত হয়।
রাহা কিছুক্ষণের জন্য থমকে যায়—শ্বাসটা এমনিতেই ভারী, যেনো এখনই বুক ফেটে যাবে। চোখে অস্বস্তি আর বিভ্রান্তি একসাথে ঘন হয়ে ওঠে। কাঁপা কাঁপা ঠোঁটে মুখ তুলে কিছু বলতে যাবে, ঠিক তখনই—
অভ্র খুব আস্তে করে নিজের আঙুল ঠোঁটে চেপে ধরে তাকে থামিয়ে দেয়।
“চুপ।”
রাহা স্থির হয়ে যায়। চোখ দুটো বড় হয়ে তাকিয়ে থাকে অভ্রর দিকে। তার ভেতরে যেনো ঝড় বয়ে যাচ্ছে।তবু অদ্ভুতভাবে আটকে রাখে তাকে—সে না এগোতে পারে, না পিছোতে।
আড়চোখে টেবিলের ওপর ছড়িয়ে থাকা অ্যালকোহলের বোতলগুলোর দিকে তাকাতেই তীব্র গন্ধটা যেনো এক ঝটকায় নাকে এসে লাগে। মুহূর্তেই মাথাটা ভারী হয়ে আসে, বুকের ভেতর অস্বস্তি জমে ওঠে। গলাটা শুকিয়ে যায়, কথা বলতে চাইলেও শব্দ বের হয় না।
অভ্র সেদিকে তাকিয়েই বুঝতে পারে—তার “জান”টা কষ্ট পাচ্ছে। এক মুহূর্ত দেরি না করে এগিয়ে গিয়ে বোতলগুলো এক ঝটকায় ফেলে দেয়। বিকট শব্দে কাঁচ ভেঙে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, পুরো ফ্লোর যেনো ঝনঝন করে ওঠে।
হঠাৎ এমন শব্দে রাহা চমকে উঠে চিৎকার দিয়ে দুই হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে। চোখে আতঙ্ক আরও ঘন হয়ে ওঠে, শরীর কেঁপে ওঠে ভয়ে।
তার এই ভয়টা দেখেই অভ্র দ্রুত ফিরে আসে। সাবধানে, খুব আলতো করে দুই হাতের মাঝে রাহার তুলতুলে মুখটা তুলে ধরে। কণ্ঠটা এবার আগের চেয়ে অনেক নরম—
“আমার জানের কষ্ট হবে এমন কিছু আমি রাখব না… দেখেছিস? সব ভেঙে ফেলেছি।”
রাহা স্থির হয়ে তাকিয়ে থাকে তার দিকে। চোখে এখনও ভয়ের ছাপ, কিন্তু তার ভেতরে যেনো নতুন এক অজানা অনুভূতি ঢেউ খেলে যায়—এই আচরণটা কি স্বস্তি, নাকি আরও বড় অস্বস্তির শুরু… সে নিজেই বুঝে উঠতে পারে না।
চারপাশে ভাঙা কাঁচের টুকরোগুলো ঝিলমিল করছে, আর সেই নীরবতার মাঝেই দাঁড়িয়ে থাকে দু’জন—একজন অদ্ভুত তীব্রতায়, আরেকজন দ্বিধা আর ভয়ে জড়িয়ে।
অভ্র রাহার অসহায়ত্বকে অবলোকন করে ঠোঁটে তীক্ষ্ণ হাসি ফুটিয়ে তোলে। সে হাসিতে প্রকাশ পাচ্ছিল তার তৃপ্তির আভাস । তার পাখি নিজেই এসে খাঁচায় ধরা দিয়েছে বুঝতেই সে তার প্রিয়তমার প্রতিটি কাঁপুনি উপভোগ করছে।
রাহা ধীরে ধীরে টেবিল থেকে চোখ তুলে অভ্রর দিকে তাকায়। বুকের ভেতরটা যেনো অস্থির হয়ে উঠেছে—কেউ যেনো বুকের ভিতরে কেউ হাতুড়ি চালাচ্ছে। ধুকপুক শব্দটা নিজের কানে স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে। মুখের রং ফ্যাকাশে হয়ে গেছে, ঠোঁট শুকিয়ে এসেছে ভয়ে।
চারপাশের নীরবতা আরও ভারী মনে হচ্ছে তার কাছে। দরজার দিকে একবার তাকায়, কিন্তু ভেতরে কোথাও একটা আশঙ্কা কাজ করে—এখন চাইলেও যেনো সহজে বেরোনো যাবে না।
অভ্র নেশালো ভারী দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার জানের দিকে কথায় আছে,
“ শাড়িতেই নারীর সৌন্দর্য ফুটে ওঠে”।
রাহাকে দেখে আজ তার মনেও সেই কথাটাই বারবার ভেসে উঠছে—শাড়ির ভাঁজে যেনো তার পুরো উপস্থিতিটাই আরও গভীর,আর অদ্ভুত এক টানে যেনো তাকে টেনে নিচ্ছে।
টেবিলের অ্যালকোহল গুলো একেবারেই ফিকে মনে হচ্ছিল। সামনে দাঁড়ানো অ্যালকোহলের মতোন নেশা ধরানো অ্যালকোহল দ্বিতীয়টি আর নেই। এই মুহূর্তে রাহার উপস্থিতির সামনে সবকিছুই যেনো অর্থহীন, নিস্তেজ।
রাহার গোলাপের পাপড়ির ন্যায় ঠোঁট দুটির কাঁপনই যেনো অদৃশ্য চুম্বকের মতো টানছে। মোহগ্রস্তের মতো তার দৃষ্টি সেদিকেই স্থির হয়ে আছে,
এই তাকানো দেখে রাহার ভয়ের পরিমাণ আরও বেরে যায়। অভ্র ধীর গতিতে অগ্রসর হতে থাকে সেদিক। রাহার আরও বেশি অসহায় মনে হচ্ছে।
তার যে কলঙ্ক লেগে যাবে।
এসব ভেবে মুহূর্তে পানি এসে ভড় করলো দুই নয়নে।
অভ্র যতই নিকটে আসছে রাহা ততই মাথা নাড়িয়ে না বোঝাচ্ছে।
ঠোঁট দুটি যখন চুল পরিমাণ ছুঁই ছুঁই দূরত্বে তখন অনুভব করে রাহার শব্দ ছাড়া হেঁচকি উঠানো কান্না।
শরীরটা হালকা কেঁপে উঠছে সেই কান্নার স্রোতে।
মুহুর্তে ঠোঁট সরিয়ে মুখ গুঁজে দেয় গলদেশে।
আর বলতে থাকে,,,
“কি যাদু করেছিস জান, বলনা…!
আমি নিজেকে কেনো আটকাতে পারছি না জান।”
আকস্মিক ঘটনায় রাহা চোখ বুঝে ফেলে আর হেঁচকি থেমে যায়।
অভ্র ছোট ছোট চুমু দিচ্ছে। প্রতিটি স্পর্শে রাহার অঙ্গ ঝলসে যাচ্ছে যেটা রাহা সহ্য করতে পারছেনা। রাহা বুঝতে পারল সে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে, শরীর আগের তুলনায় ভীষণ কাপছে। অনুভূতিগুলো চোখ বেয়ে অশ্রুর মতো ঝরে পরছে।
অভ্রের ঠোঁট একটু শিথিল হতেই রাহা সমস্ত শক্তি জড়ো করে তাকে ধাক্কা দেয়।
নিজেকে সামলাতে না পেরে অভ্র পিছিয়ে গিয়ে বিছানার ওপর পড়ে ।
রাহা দ্রুত কয়েক কদম পিছিয়ে আসে, শ্বাসটা ভারী হয়ে ওঠে। চোখে এখনও ভয় আর অস্থিরতা স্পষ্ট।
রুমের বাইরে বের হতে নিলেই দেখে অভ্র জোরে জোরে হাসছে। পরক্ষণেই হাসি মিলিয়ে যেতে কি যেনো বিড়বিড় করে বলছে।
আবারও কাছে গিয়ে নিজের কান নিয়ে রাখলো অভ্রের ঠোঁটের কাছে ।
কারণ অভ্রের কথা গুলো অস্পষ্ট শুনাচ্ছিল।
কান পাত্তেই ভেসে আসে চাপা কণ্ঠ,,
“ আর কত পুড়াবি জান। এই দহন জ্বালা আর তো সহ্য হয় না। আমি নিজেকে আর সামলাতে পারছি না। কবে তুই পুরোপুরি আমার হবি। এতদিন দূরে ছিলাম নিজেকে আটকাতে পেরেছি। কিন্তু এখন সামনে দেখেও,না ছুঁতে পারি আর না আদর করতে পারি। তুই আমার হয়ে গেলে কি খুব বেশি ক্ষতি হয়ে যাবে..!”
রাহা পুরোপুরি কথাগুলো ধরতে পারল না, তবে তার ভেতরে একটা বিষয় স্পষ্ট হলো—অভ্রের মধ্যে গভীর চাপা কষ্ট আর অস্থিরতা জমে আছে।
তার দৃষ্টি কিছুটা নরম হয়ে আসে, ভয়ের মাঝেও এক ধরনের দ্বিধা কাজ করে। চারপাশের ভারী নীরবতার মধ্যে সে শুধু অভ্রকে একটু অন্যভাবে বুঝতে চেষ্টা করে, কিন্তু ঠিক কী বলা উচিত—সেটা আর খুঁজে পায় না।
রাহা আজ কিছুই বলতে পারেনি। এই অনুভূতিগুলোর সাথে তার প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হওয়া—সবকিছুই তার কাছে নতুন, অচেনা।
রাহার মাথায় একটাই কথা ঘুরপাক খাচ্ছে।
অভ্র ভাইয়া তার সাথেই কেন এসব করে। সে তো ঠিক মতো মানুষটিকে চিনেও না তবুও কোনো এক অজানা টানে বার বার মন্ত্রভূতের মতো চলে আসে।
বার বার নিজেকে বুঝানোর পরও মন মানে না।নিজেকে আটকাতে পারে না,এই লোকটির থেকে দূরে থাকতে পারে না।
কেনো হচ্ছে তার সাথে এমন। এই অনুভূতির নাম কি..!কেন লোকটি তাকে বার বার ইগনোর করে আবার কাছে ও টেনে নেয়...!
ভাবতে ভাবতে বিছানার দিক চোখ পরতেই খেয়াল করে অভ্রের চোখ বন্ধ করে ফেলছে। অতিরিক্ত ড্রিংকস করার ফলে তার শরীরটা ভারী হয়ে উঠেছে। সোজা করে রাখতে পারছে না।
, শ্বাস গুলোও এলোমেলো হয়ে পড়ছে। এতো নিষ্পাপ লাগছে দেখছে।
রাহা আজকে ওই মানুষটাকে আগের পরিচিত রূপের সাথে মিলিয়ে নিতে পারছে না।
একটা অচেনা ভার আর পরিবর্তন তার চোখে ধরা দিচ্ছে।সে নিজেই মনে মনে ভাবে, “হুসে থাকলে কি এমন কখনও করত? কে বলবে জাগ্রত অবস্থায় এই লোকটা কতটা ভয়ংকর হয়ে যায়।”
অভ্রকে সে ঠিক করে শুইয়ে দেয়, মাথার নিচে নরম কুশনটা দিয়ে দেয়। পা থেকে জুতো খুলে দেয়। গায়ের কোটটা কোনোমতে টেনে খুলে পাশে রেখে দেয়। এতো ভারী শরীর তোলার মতো শক্তি তার নেই, তাই যতটা সম্ভব পাশ ফিরিয়ে, সামান্য এদিক-ওদিক করে গুছিয়ে দেয়।
হঠাৎ করেই কী যেনো মনে হতে মাথার পাশে এসে বসে রাহা।
চুপচাপ, একটু দূরত্ব রেখে সে মানুষটিকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে থাকে।
মুখের ভাবটা তখন নরম হয়ে আসে। ভেতরে অজানা এক শান্ত অনুভূতি কাজ করে। গায়ের রংটা, উজ্জ্বল শ্যামলা —এক ধরনের প্রাকৃতিক আকর্ষণ আছে, যেটা তার কাছে অদ্ভুতভাবে মানিয়ে যায়। মুখটা একটু ক্লান্ত, কিন্তু তাতেও এক অদ্ভুত টান লেগে আছে। ঘন ও গাঢ় ভ্রু দুটো সামান্য কুঁচকে আছে, যেনো ভেতরে জমে থাকা চিন্তার গভীরতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সোজা ও মানানসই নাকটা মুখের গঠনের সাথে স্বাভাবিকভাবে মিশে গেছে, আর পুরো মুখের গঠনটা দৃঢ় হলেও এক ধরনের শান্ত আবহ ছড়িয়ে আছে।
ঠোঁট দুটো একটু শুষ্ক, তবুও সেখানে চাপা শক্তি আর সংযমের ছাপ স্পষ্ট, যেনো অনেক কিছু অব্যক্ত অবস্থায় জমে আছে। সব মিলিয়ে মুখটা নিখুঁত না হলেও এমন এক আকর্ষণীয় ভার বহন করছে, যেটা থেকে চোখ সরানো সহজ নয়।
কিন্তু অভ্রের কর্মকাণ্ডে রাহা খুবই নারাজ।
খাওয়ার জন্য ডাকতে এসে এমন এক পরিস্থিতির শিকার হবে ভাবতেও পারেনি।
_____________
অবন্তিকা আর সাফা অনেকক্ষণ ধরে বান্ধবীর অপেক্ষায় বসে আছে। প্রায় আধাঘণ্টার বেশি হয়ে গেছে—শাড়ি ঠিক করতে গিয়ে এখনো আসার নাম নেই। আর অপেক্ষা না করে সাফাকে বসিয়েই অবন্তিকা নিজেই উঠে গেল রাহাকে ডাকতে।
করিডোর পার হতে গিয়েই হঠাৎ চোখে পড়ল এক অচেনা ছায়া। মুহূর্তেই ভয় তাকে গ্রাস করল—চিৎকার দিয়ে ডানে-বামে না তাকিয়েই ছুটতে শুরু করল সে।
কিছুক্ষণ পর তার মনে হলো, সে যেন শূন্যে ভাসছে। ভয়ে ধীরে ধীরে চোখ খুলতেই নিজের এই অবস্থাটা টের পেয়ে আবারও চিৎকার করে উঠল—
—“আমি আপনার কোলে..!”
তার সেই তীব্র চিৎকারে সামনে থাকা লোকটি বিরক্ত হয়ে এক ঝটকায় তাকে মাটিতে ফেলে দিয়ে দু’কানে হাত চেপে ধরল।
মেঝেতে পড়েই “মা গো…” বলে কেঁদে উঠল অবন্তিকা—ব্যথা আর ভয়ের ঢেউ একসাথে তাকে গ্রাস করল।
চলবে...