ফন্ট সাইজ:
থিম:
আমার রকস্টার মহাশয়

২য় পর্ব

লেখক: মাহিরা ইসলাম মাহী

#আমার_রকস্টার_মহাশয়

#পর্বঃ০২

#লেখিকাঃমাহিরা_ইসলাম_মাহী

***

সারা বিরক্ত হয়। খালা’র এই এক বদঅভ্যেস। একবার যা মুখে নাম নেয় তা না দেওয়া পর্যন্ত মুখ থেকে সরবে না।

হামিদা বেগম সারা’র মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে বললেন,

“মন খারাপ করে না আম্মাজান। তুই তো জানিস ওও কেমন। তবুও কেন ওর সাথে জেদ করতে যাস বল দিখি।ছেলে মানুষ কে এভাবে নয় অন্য ভবাে সায়েস্তা করতে হয়। বুঝলি।

পরের কাছে না গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে টেকনিক খাটা দেখবি ঠিক সে পোষ মানবে।”

সারা অভিমানি স্বরে সুধায়,

“কি করে পোষ মানবে বলোতো বড়মা। দেখ গিয়ে কোন মেয়ের সঙ্গে লাইন লাগিয়ে রেখেছে। তার জন্য তো আর সুন্দরী মেয়ের অভাব পরবেনা। তোমার ছেলে এক নম্বরের খাইসটা। রকস্টার না আস্ত একটা বকস্টার। বকের মতো তার লম্বা ঠোঠ দিয়ে সারাদিন আমার বাড়া ভাতে মুখ দেয়।আর কথা বলবো না তার সঙ্গে। সে সুন্দরী মেয়ে নিয়েই পড়ে থাকুক না।আর গান গেয়ে নেচে কুঁদে বেড়াক।”

“শোন বোকা মেয়ের কথা। ছেলে, মেয়ে আমার দুটোই এমন অবুঝ হলে চলে।”

হামিদা বেগম ছেলের মতিগতি নিজেও কিছু বুঝতে পারছেন না।

জ্যোৎস্না রাত। চারিপাশ আলোকিত অথচ সারা'র ছোট্ট হৃদয় কুঠির যে অন্ধকার তবে চারপাশের এত আলো দিয়ে কি হবে।

রাতে সারা মন খারাপ করে বসে ছিল বেলকনিতে।

সুফিয়া খালা আসলেন তখন রুমে। সারা'র মাথায় এক বোঝা বরফের ঠোঙা চেপে ধরলো।

“আমার আপামনির কি মন খারাপ ? কোনো টেনশন নাই।এই বরফ লইয়া আইছি। আপনার মাথার সঙ্গে মন মেজাজ সব ঠান্ডা হইয়া যাইবো।

আর এই যে চা খাইয়া নেন। নয়লে তো আবার ঠান্ডা ও লাইগা যাবো।”

বেলি মন খারাপ করে বলল,

“খাবোনা খালা নিয়ে যান। এই চা টা বরং আপনি শুদ্ধ ভাইকে দিয়েন। আর মাথায় আরো কতখানি বরফ ধরুণ প্লিজ।হচ্ছে না মাথা ঠান্ডা। “

সুফিয়া খালা চিন্তিত ভঙ্গিতে বললেন,

“সেকি বাপজান তো চা খায় না।দিলে আরো রাগ দেখাবে আপামনি। সে কহন বাড়িতে আসবো সেইডাও তো জানবার পারি না। ”

"সেটাই তো সমস্যা খালা আমার যা পছন্দ তিনি ঠিক তার উল্টো টাই পছন্দ করেন।

এইযে আমার তাকে পছন্দ। দেখা গেল হুট করে আমাকে ফেলে তিনি তার পছন্দের মেয়ে নিয়ে হাজির হলেন বাড়িতে তখন আমার কি হবে খালা।বিয়ের আগেই বিধবা হবো?"

সুফিয়া খালা ভয়ার্থ গলায় বললেন,

" বলেন কি আপামনি, এতো মোটেও ভাল লক্ষণ নয়। আপনার দ্রুতই বাপজান কে গাঁটছড়ায় বেঁধে ফেলতে হবে। নয়লে তো কেলেংকারী হতে পারে।”

“তাতো চাইছিই খালা।কিন্তু আপনার বাপজান তো সেই সুযোগ টাই দিচ্ছেন না। কি করে সুযোগ করবো বলুন।”

“আপামনি আমি বরং আপনাকে একটা পরামর্শ দেই।”

“দিবেন?”

“আজ্ঞে।”

“না থাক এখন শুনতে ইচ্ছে হচ্ছে না খালা। আপনি যান তো খালা আমায় একটু একা থাকতে দিন।পরামর্শটা বরং কাল শোনা যাবে।”

সুফিয়া খালা বলেন,

“আইচ্ছা ঠিকআছে। কিন্তু আজকে শুনলে আপনার কাজে লাগতো বেশি।”

“ কাল শুনবো খালা।”

সুফিয়া খালা চলে গেলেন, সারা আনমনা হয়ে বসে রইলো, তার কিছুই ভালো লাগছেনা ।প্রকৃতি এত উদাস কেন? কেন চঞ্চলা হাওয়া বৈছে না চারিপাশে?

হঠাৎ ফোনটা বেজে উঠলো সারা’র। স্ক্রিনে ভাসতে থাকা শুদ্ধ ভাই নামটা দেখে কিছুটা অবাক হলো সে। শুদ্ধ ভাই। নিজে থেকে ফোন দিয়েছে সে? আশ্চর্য।

পরপর দুবার রিং হয়ে কেটে গেল।সারা অভিমানে রিসিভ করলো না। দেক না দেক সে যখন দেয় তখন তো ধরার নাম গন্ধ থাকে না। তবে সে কেন এখন ধরবে। কিছুতেই রিসিভ করবে না সে।আর একটু জ্বালাতন করা যাক।

কিন্তু হায় কপাল মানব আর ফোন দিলো না। সারা'র ফোন না ধরলে কম পক্ষে সে দশ বার দিবেই। আর তার শুদ্ধ ভাই দুবার দিলো তাতেই ধৈর্য্য হরিয়ে ফেললো। তাছাড়া সারাও বা ওই নিরামিষ লোকটার কাছে থেকে এতকিছু আশা করছিস কি করে।

সেম অন ইউ সারা। সেম অন ইউ।সারা নিজেকে নিজে শাসায় ভীষণ করে।

সময় গড়লো কিছুটা।

মুহুর্তের মাঝে নিজেকে হঠাৎ পুরুষালী বাহুবন্ধনীতে আবদ্ধ দেখে হতভম্ব হয়ে গেল সারা।শুদ্ধ তাকে রেলিংয়ের সঙ্গে চেপে ধরলো। চোয়াল শক্ত করে রাগী কন্ঠে ধমকে উঠলো,

“ ফোন দিচ্ছিলাম ধরছিস না কেন। কেন ? বেশি বার বেড়েছে তোর? পাখনা গজিয়ে গেছে বেশি? ছাটাই করতে হবে বুঝি?”

সারা ভয়ার্থ ঢোক গিললো।

“ওও ফোন তো দেখি তোর হাতেই আছে। তার মানে ফোন হাতে নিয়ে তামাশা দেখা হচ্ছিলো তবে। ওয়াও গ্রেইট।”

তোর কি মনে হয় আমার হাতে অফুরন্ত সময়?সারাদিন ভর তোর মেসেজ কলের উত্তর করতে থাকবো।

কি হলো কথা বল।”

সারা’র চোখ ছলছল। বোধহয় এখনি টুপ করে দুফোঁটা অশ্রু গড়িয়ে পড়বে চক্ষু হতে।

মানবের কন্ঠটা কিছুটা নরম হলো কি? বোধহয়,

“কথায় কথায় এমন ফ্যাচফ্যাচ করে কাঁদবি না সারা।এক থাপ্পড়ে মাড়ির সব দাঁত তুলে দেবো তোর।”

শুদ্ধ নিজের চুলে হাত বুলিয়ে বেলকনিতে থাকা চেয়ারে হেলান দিয়ে বসলো।

আঙুল উঁচিয়ে সুধালো,,

" কাছে আয়"

সারা ঠায় দাঁড়িয়ে, নরলোনা একফোঁটা ওও।

শুদ্ধ ধমকে উঠলো,

“কি হলো কাছে আসতে বললাম না,এক কথা কতবার বলা লাগবে তোকে। তোর এমপি বাপ পেয়েছিস আমাকে?”

সারা ভয়ার্থ চোখে এগিয়ে গেল।

ফিসফিস করে বলে

“ আসতাগফিরুল্লাহ , বাপ কেন লাগবেন শুদ্ধ ভাই। আমি তো আপনাকে জামাই বানাতে চাই।কিন্তু আপনি তো আগাচ্ছেন না।”

সারা'র অমন ফিসফিসানো কন্ঠে’র জোড় শুদ্ধ’র কান পর্যন্ত পৌছানো মুশকিল।

শুদ্ধ ইশারা করলো পাশে বসতে।

সারা নিঃশব্দে পাশের চেয়ারে বসে পরলো।

শুদ্ধ দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল,

"বার বার আমায় ফোন দিবিনা। তোর কি মনে হয় আমি সারাক্ষণ ফোন হাতে নিয়ে বসে থাকি? বল।

ঠিকমতো পড়াশোনা কর। প্রেমপিরিতির ধান্ধা এখন মাথা থেকে ঝেড়ে ফেল।ওগুলোর অনেক সময় পাবি। এখন নিজের ক্যারিয়ের দিকে ফোকাস কর। বার বার আমাকে ডিস্টার্ব করবি না একদম সারা। আস্ত রাখবো না তোকে।”

সারা শান্ত মেয়ের মতো মাথা নাড়লেও মনে মনে যে তার শুদ্ধ ভাইয়ের উপর হাজার অভিযোগ তা কি মানব জানে।

এই যে বলল,এখন প্রেম পিরিতির সময় নয় পড়াশোনা করতে। সারা তো চায়নি সারারাত দিনভর কথা বলতে।সে তো শুধু একটু সাপোর্ট চেয়েছে। শুদ্ধ ভাই তাকে একটু এ্যাপরিসিয়েট করলে তবে তো সারা আর তাকে জ্বালায় না। তাকে একটু নির্ভরতার আশ্বাস দিক মানুষটা।

সে যদি শান্ত, নরম ভঙ্গিতে বুঝিয়ে বলে,,

" সারা আমি কাজে ব্যস্ত থাকি তাই ফোন সময় মত ধরতে পারি না। ফ্রি হলে আমিই তোকে কল করে নেবো। চিন্তা করবি না আমি তো শুধু তোরই বল।"

কই মানুষটা তো এভাবে বলবেনা। উল্টো ঘাউড়ামি করবে। তার উপর চিল্লাফাল্লা করবে।এভাবে বললেই তো সারা একদম তার প্রিয় ভ্যানিলা আইসক্রিমের মতোন গলে জল হয়ে যায়। মানবের ওই সিগারেট পোড়া তামাটে ঠোঁট জোড়ার দিকে চাইলেই তো সারা মুহুর্তে কপোকাত হয়।

না কিছু শিকার করবে।আর না তাকে একটু মোটিভেট করবে। শুধু রাগ দেখাবে আর বলবে পড়, পড়, পড় সারা। এখন ক্যারিয়ার গড়ার সময়।

আরে ভাই তুই কেন বুঝিস না। সারা এখন সংসার করতে চায় তোর সঙ্গে। উনিশ বছর বয়স তার এখন বাচ্চা কাচ্চা পালার সময়। টানা শুধু সারাদিন পড়, পড় বানী শুনতে হবে কেন আশ্চর্য।

শুদ্ধ ভাই চলে গেলেন হনহন করে হেঁটে।

পেছন থেকে সারা'র চিৎকার করে বলতে ইচ্ছা হলো,

“ ওসব পড়াশোনা আমার দ্বারা হবে না শুদ্ধ ভাই। আপনার প্রেমের জোয়ারে ভেসে অশুদ্ধ হওয়াই আমার একমাত্র কাজ বুঝলেন। আপনাকে চাই, শুদ্ধকে চাই, অশুদ্ধ হতে চাই রকস্টার মহাশয় ।”

সারা বেলকনি থেকে উঠে গিয়ে ঠাস করে বিছানা শুয়ে পরলো।

এইযে সে এখন কোলবালিশ টাকে জরিয়ে ধরলো। এটা শুদ্ধ ভাই হলে কেমন হতো। কবে সে এভাবে তার শুদ্ধ ভাইকে জরিয়ে ধরে ঘুমাতে পারবে। তার বক্ষে মাথা রেখে ঘুৃমাতে পারবে।একটু অশুদ্ধ হবে। তার ওই তামাটে ঠোঁট জোড়া আঙুল দিয়ে স্পর্শ করবে।নিরবে নিভৃতে।

মানব কি জানে আজ তার হাতের ছোঁয়া পেয়ে সারারাত আজ সারা'র চোখে ঘুমকুমারীরা ধরা দিবে না। উহু কিছুতেই না।এই যে শুদ্ধ ভাই তার অজান্তেই সারা'র ঘুম হাড়াম করে দিলো। এর প্রয়াশ্চিত্ত কি সে কোনোদিন দিতে পারবে।সারা’কে সে এতএত যন্ত্রণা দেয়। কবে নিষ্ঠুর মানবটা সেগুলো লাঘব করবে।কবে, কবে, কবে?উফফ! এত যন্ত্রণা সারা কি করে সইবে।

নির্ঘুম রজনী তার কেটে গেল এক পলকে।

ভোরের দিকে চোখ লেগে আসলো তার।

“সকালে ঘুৃম থেকে উঠে সারা প্রথমেই শুদ্ধ ভাইয়ের রুমে উঁকি দিলো। মানবের রুমের সিটকিনি সচরাচর খোলা থাকে না। তবে আজ খোলা।

সারা ধাক্কা দিতেই দরজা হাট করে খুলে গেল।নাহ মানব নেই। আজও সে বেরিয়ে গেছে

#চলবে(প্রচার)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন