#আমার_রকস্টার_মহাশয়
#পর্বঃ০৪
#লেখিকাঃমাহিরা_ইসলাম_মাহী
***
“ আপামনি গো।জব্বর একখান খবর নিয়ে আইছি। “
সারা ভ্রু কুঁচকে চায়।
“ শুনতে ইচ্ছে হচ্ছে না খালা।আমায় বের হতে হবে।”
সুফিয়া খালা তার কথায় কান দেয় না।
হাত টেনে কাছে টানে।কানে কানে ফিসফিস করে বলে,
“ আপামনি গো।এই মাত্র দেইখা আইলাম।শুদ্ধ বাপজান বাহিরে যাইতাছে।তার কুন ভার্সিটিতে নাকি আইজকা কনসার্ট আছে। এইডাই সুযোগ গো আপামনি।দৌঁড় দেন।
সক্কলের সামনে প্রকাশ কইরা দিয়া আহেন আপনি তার হবু বউ লাগেন।”
সারা'র চোখের ঘুম মুহুর্তে পালায়।
তার শুদ্ধ ভাইয়ের কোনো কনসার্ট সে আজ পর্যন্ত মিস করেনি।
তার মনে আছে একবার রাত নয়টার পর কনসার্ট থেকে ফেরায় সে কি বিপত্তি। রকস্টার মহাশয় সোজা এসে নালিশ করেছিল তার বাপের কাছে। সেই মোতাবেক বকা ও খেয়েছিলো সে।
সারা সত্যিই দৌঁড় দেয়।
“ কোন ভার্সিটিতে? কোন সময়? দ্রুত বলো খালা।”
সুফিয়া খালা আঁতকে উঠে হাত টেনে ধরে।
“ আপামনি কি করছেন কি।এইভাবে যাওন যায় নাকি।একটু মুখে ফেস পাউডার লাগান।চক্ষে কাজল দেন। আপনার সেই চমলক্ক সবুজ জামাখান গায়ে দেন।তবেই না আপনারে পরির লাহান লাগবে।”
সবুজ জামা সারা'র সবচেয়ে অপছন্দের লিস্টে। কিন্তু শুদ্ধ ভাইয়ের পছন্দের।
“ সবুজটাই পরতে হবে খালা? লালটা পরলে হবে না?”
সুফিয়া খালা দাঁত কেঁলিয়ে হাসে।
“ দেখছেন আপামনি আপনার আর শুদ্ধ বাপজানের
পছন্দের কত্ত মিল।”
“ এখানে আপনি লাল সবুজের মাঝে মিল খুঁজে পেলেন কোথায় খালা? দু'টোর মাঝে তো আকাশ পাতাল তফাৎ। “
“ কি যে বলেন না আপামনি।
এই যে দেখুন আমাদের দেশের পতাকার রঙ ডা হইতাছে গিয়া চারিপাশে সবুজের মাঝে রক্তের লাহান লাল বৃত্ত।কি সুন্দর কইরা ফুইটা থাহে।আপনি যখন শুদ্ধ বাজানের পাশে গিয়ে দাঁড়ান দুইজনে ঠিক ওমনে কইরা ফুইটা থাকেন। বুঝলেন আপামনি এই দুনিয়ায় মিল অমিল বইলা কিছু নাই। আমরা নিজেরা এক সুতায় বাইন্ধা নিলে সকল কিছুই মিল্লা যায়। আমাগের শুধু দড়িটা খুঁইজা আনতে হইবো বুঝলেন।”
সারা'র ভাবনায় পরে যায়।
আসলেই কি তাই?
তাদের মাঝের কি কোনো অদৃশ্য শেকল নেই? যা শুদ্ধ -সারা কে টেনে ধরে রাখবে?
কোথায় সে শিকল?
সারা খুঁজবে কি? খুঁজে পাবে তো আদৌও।
___
সারা যখন লাল জামা পরিধান করে ভার্সিটিতে পৌঁছায় ভার্সিটির পরিবেশ তখন ভীষণ গরম।
স্টুডেন্টদের হইহট্টগোলে চারপাশ মুখরিত।
মাঠে মঞ্চ সাজানো হয়েছে ফুল দিয়ে।
সেখানে হাজারো শিক্ষার্থী অপেক্ষারত একজনের।
কে সে?
চারপাশে গুঞ্জন তুলে,
“ রকস্টার, রকস্টার, শুদ্ধ, শুদ্ধ, শুদ্ধ। “
সারা বিরবির করে সুধায়,
“ অশুদ্ধ, অশুদ্ধ,অশুদ্ধ। গোটাটাই অশুদ্ধ রকস্টার। হুহ।”
ভীরের মাঝে সারা মিলি সহ নিখিল, পাপ্পু, অর্ষাকে খুঁজতে চেষ্টা করে।
একপর্যায়ে পেয়েও যায়।
অর্ষা হাত নাড়ে।
“ এই যে লালবানু এদিকে আসুন। এদিকে।”
সারা যেতেই নিখিল সুধায়,
“ তুই ও চলে এলি শেষ পর্যন্ত? লাল টুকটুকে হয়ে এসেছিস। যেন আজ তোর বিয়ে।””
সারা মাথা নাড়ায়।
“ হ্যাঁ বিয়ে হলে তাতে তোর সমস্যা কোথায়?!
সেই মুহুর্তে স্টেজে দেখা যায় সবুজ শার্ট পরিহিত এক যুবক কে ছন্দের তালে তালে উপরে উঠতে।
দিগুণ চিৎকারে ভার্সিটির মাঠ প্রাঙ্গন ফেটে যাবার জোগাড়।
সবুজ শার্ট পরিহিত সারা'র রকস্টার মহাশয়কে দেখে তার বুকের মাঝে ধক করে উঠে।
প্রতিবারের ন্যায় তার এই অনুভূতি মাতাল।
মিলি কাঁধ দিয়ে ধাক্কা দেয় তাকে।
সারা'র মনের অনুভিতি সকলের জানা।
ইতোমধ্যে মানবের চমৎকার রহস্যময় হাসিতে মেয়েদের দল কুপোকাত।
কন্ঠের তেজে নাজেহাল সকলে।
শুদ্ধ গান গাইতে শুরু করে।
প্রত্যেকের সুরে সুরে বাজে সে গান।
গায়ে পরা মেয়ে গুলোর উপর রাগ হয় সারা'র ভীষণ রাগ।
কেন এতগুলো মেয়ের নজর তার হবু বরের গায়ে লাগবে।ইশশ সারা'র উচিত ছিল আগে থেকে তার শুদ্ধ ভাইয়ের কপালে নজর টিকা দিয়ে দেওয়া।
বড্ড ভুল করে ফেলেছে।
রকস্টার মহাশয়ের গানের তালে তালে মঞ্চ কাপে। তার গিটারে সুরে সুরে ছন্দ তোলে।
মিলি বুকে হাত দেয়
“ ইশশ। “
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গানের পালা শেষ হয়।
সর্বটুকু সুর সারা কান খাড়া করে শোনে।ইশশ।
এত মধুর কেন এই সুর।
তার রকস্টার মহাশয়ের হতে এই মাদকীয় কন্ঠে সে কি কখনো শুনতে সক্ষম হবে ভালোবাসার বাণী?
গান শেষে শুদ্ধ’র চোখে চোখ পরে সারা'র। সারা'র রকস্টার মহাশয়ের চোখে রহস্য। এক অজানা রহস্য।
সারা হারিয়ে যেতে চায় তার সেই চোখের রহস্যের অতল গহ্বরে।
ভেদ করতে চায় সে সকল রহস্য।
অর্ষা অনুভূতি প্রকাশ করে,
“যখন এমপি মশাইয়ের হয়ে মিছিলে বক্তব্য দেয় না। ইশশ কি যে লাগে ভাই শুদ্ধ ভাইয়াকে।
শুধু মাত্র তোর পছন্দ বলে এবারের মতো মালটাকে ছেড়ে দিয়েছি তোর হাতে।
এই কিছু করতে পেরেছিস কি?”
সারা মাথা নাড়ায়।
ওরা কেউ জানেনাই এই রকস্টার সাহেব স্বয়ং তার বাসায় থাকে।আর এমপি সাহেব তার বাবা।
জানলে অসভ্যগুলো কি করবে খোদা মালুম।
অর্ষা হাত টানে সারা'র
“ চল।”
“ কোথায়? “
“ কোথায় মানে।আজকেই তোর সেটিং করাবো তোর রকস্টার মহাশয়ের সঙ্গে। “
“ না।”
আঁতকে উঠে সারা।
“ না মানে কি চল।অটেগ্রাফ নেব।”
কিছুতেই থামানো যায় না অর্ষা কে।
পাপ্পু টিককারি করে বলে,
“ এই তোদের মেয়ে মানুষের এক ঝামেলা।আমাদের মতো সুন্দরী মেয়ে দেখলেই তোরা ঢলে পরিস গায়ে গায়ে।”
মিলি চোখ গরম করে চায় পাপ্পুর দিকে।
“ আর তোদের খাইস্টা ছেলেদের একটাই সমস্যা। আমাদের মতো সুন্দরী মেয়ে দেখলে ঢল পরিস।”
নিখিল ঠোঁট গোল করে সুধায়,
“ নিজেদের তোরা সুন্দরী ভাবিস নাকি হাস্যকর।”
সারা চিৎকার করে বলে,
“ থামবি তোরা? আমি যাচ্ছি।”
“এই না না”
মিলি আর অর্ষা টেনে নিয়ে যায় ওকে। মিশন রকস্টার শুদ্ধ মেহেরাবের অটোগ্রাফ।
উপায় না মেয়ে নিখিল আর পাপ্পু ও ছোটে ওদের পিছু।
এত ভীড়ের মাঝে শুদ্ধ’র নিকট পৌঁছানো দায়।
স্টেজে দাঁড়ানো শুদ্ধ। সে একা দাঁড়িয়ে। হাত নাড়িয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করছে ভক্ত দের।
হাতাকাটা সবুজ রঙা শার্টে সে যেন সাক্ষাৎ সবুজারণের রাজপুত্রুর।
অর্ষা আর মিলি সারা'কে ঠেলে উঠিয়ে দেয় স্টেজে।
প্রবল ধাক্কা সামলে উঠতে না পেরে হুমড়ি খেয়ে পরে সে শুদ্ধ’র উপর।
শুদ্ধ’র একহাতে মাইক। অপর হাতে সারা'র কোমর জাপ্টে ধরে।
মুহুর্তের মাঝে কি ঘটে যায় সারা'র বুঝতে খানিকটা কষ্ট হয়।
শুদ্ধ’র ঠোঁটে তার সেই চিরচেনা রহস্যময় হাসি ঝুলে।
সারা স্তব্ধ। কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে সে ভুলে যায় তার করণীয় কার্য।
রকস্টারের ভক্তদের মাঝে হৈ-হুল্লোড় পরে যায় মুহুর্তে।
কেউ কেউ তা ফোনে ক্যাপচার করতে ব্যস্ত।কেউ আলাপে।
বিস্ময় ভাব পাশ কাটিয়ে সারা অতি কষ্টে আওয়াজ তুলে,
“ শুদ্ধ ভাই ছা..ছাড়ুন “
শুদ্ধ ছাড়ে না বরং আরো দৃঢ় চিত্তে আঁকড়ে ধরে সারা'র কোমর।
যেন রকস্টার মহাশয় চাইছে।দেখুক।দুনিয়া দেখুক। দেখুক লোকে।মন্দ বলুক সবে।
শুদ্ধ’র সারা অশুদ্ধ হোক তীব্র ভাবে।
সারা'র কোমর চেপে ধরেই শুদ্ধ বাঁকা হেসে ভক্তদের উদ্দেশ্যে আওয়াজ তুলে,
“ হেই লেডিস, এন্ড জেন্টেলম্যান।ছেড়ে দেই মেয়েটাকে নিচে?এগ্রি?”
সারা চোখ বড় বড় করে চায়।কত্তবড় বদ লোক।নির্ঘাত তার কোমরের আজ দফারফা হবে।
ভক্তরা আওয়াজ তুলে,
“ ইয়েস, ইয়েস। ছেড়ে দাও শুদ্ধ, ফেলে দাও।
কোনো রমনীর দ্বারা তোমায় অশুদ্ধ হতে দেখতে পারবো না আমরা।”
“ ইয়েস।ইউ আর মাই লাভ ছাড়ো শুদ্ধ ছাড়ো। “
শুদ্ধ মুখে আফসোসের সুর তুলে প্রত্যুত্তর করে,
“ বাট গাইস সে হার্ড হবে তো। কি করা যায় বলো তো?”
#চলবে(প্রচার)