ফন্ট সাইজ:
থিম:
তোমার আমার প্রেম

ভাগ্যের প্রথম পাতা

লেখক: Moriym

তোমার আমার প্রেম ❤️

পর্ব — ১
ঢাকার ব্যস্ত শহর। সকাল থেকেই চারপাশে মানুষের ছোটাছুটি, গাড়ির শব্দ আর ব্যস্ততা।
শহরের অভিজাত এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল চৌধুরী বাড়িটাও আজ বেশ ব্যস্ত।
বাড়ির সবাই জানে, আজ বাড়ির বড় ছেলে রাইহান চৌধুরী বিদেশ থেকে ফিরেছে।
২৫ বছর বয়সী রাইহান—গম্ভীর, লম্বা, সুদর্শন। তার বাদামী চোখের দৃষ্টি এতটাই কঠিন যে, সামনে থাকা মানুষ অকারণেই চুপ হয়ে যায়।
রাইহান একজন সফল ব্যবসায়ী। কিন্তু তার জীবনের এমন একটা অধ্যায় আছে, যেটা পরিবারের কয়েকজন ছাড়া কেউ জানে না।
রাইহান তার অন্ধকার জগতের কথা কাউকে জানতে দিতে চায় না।
সকালে চৌধুরী বাড়ির ডাইনিং রুমে সবাই একসঙ্গে বসেছে।
দাদা আরাফ চৌধুরী পত্রিকা পড়ছেন। পাশে দাদি রিনা চৌধুরী।
রাইহানের বাবা সাইফুল চৌধুরী আর মা রাবেয়া চৌধুরীও সেখানে বসে আছেন।
চাচা ইমন চৌধুরী আর চাচি ইয়ানা চৌধুরীর চার বছরের মেয়ে ইনায়া দৌড়ে এসে রাইহানের পাশে দাঁড়াল।
—ভাইয়া! 
রাইহান নিচের দিকে তাকাল।
তার গম্ভীর মুখটা মুহূর্তেই একটু নরম হয়ে গেল।
—কী হয়েছে?
ইনায়া দুই হাত বাড়িয়ে বলল,
—কোলে নাও!
রাইহান কোনো কথা না বলে তাকে কোলে তুলে নিল।
দাদি মুচকি হেসে বললেন,
—এই মেয়েটার জন্যই তো আমার গম্ভীর নাতিটার মুখে হাসি দেখা যায়।
ঠিক তখনই বাইরে থেকে হাসতে হাসতে ঘরে ঢুকল ইয়াস খান।
২৪ বছরের ইয়াস সবসময়ই চঞ্চল আর হাসিখুশি। রাইহানের সবচেয়ে কাছের মানুষদের একজন সে।
ইয়াস এসে বলল,
—ওহ! আমাদের মাফিয়া সাহেবের মুখে আজ হাসি দেখা যাচ্ছে! ব্যাপারটা কী?
রাইহান চোখ তুলে তাকাল।
—চুপ কর।
ইয়াস হেসে বলল,
—এই তো! আগের রাইহান ফিরে এসেছে। 
সবাই হেসে উঠলেও রাইহান শুধু ইনায়ার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।
অন্যদিকে—
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে তখন সকালবেলার ব্যস্ততা।
হাতে কয়েকটা বই নিয়ে দ্রুত হাঁটছে মরিয়ম সরকার।
১৮+ বয়সের মরিয়ম শান্ত স্বভাবের মেয়ে। গোল আকৃতির মুখ, হালকা সবুজ চোখ আর মিষ্টি একটা হাসি।
তার সঙ্গে হাঁটছে তার বেস্ট ফ্রেন্ড নিলিমা।
নিলিমার বয়স ১৮+। দুজনের স্বভাব অনেকটাই আলাদা।
নিলিমা চঞ্চল, আর মরিয়ম শান্ত।
নিলিমা হঠাৎ বলল,
—কিরে তোদের বাসায় নাকি মেহমান আসবে ।
মরিয়ম হেসে বলল,
—তুই যানলি কী করে...?
—আন্টি বলেছে আমায়।
ঠিক তখনই মরিয়মের হাত থেকে একটা বই নিচে পড়ে গেল।
সে নিচু হয়ে বইটা তুলতে যাবে—
তার আগেই একজন অচেনা মানুষ বইটা তুলে নিল।
মরিয়ম মাথা তুলে তাকাল।
আর ঠিক সেই মুহূর্তে—
প্রথমবারের মতো তার চোখ পড়ল রাইহান চৌধুরীর বাদামী চোখের দিকে।
দুজনেই কয়েক সেকেন্ড চুপ করে তাকিয়ে রইল।
মরিয়ম জানত না—
এই মানুষটাই একদিন তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ হয়ে উঠবে।
আর রাইহানও জানত না—
এই শান্ত মেয়েটাই তার সাজানো কঠিন জীবনে একদিন ঝড় তুলে দেবে।
চলবে… ❤️

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ভাগ্যের প্রথম পাতা শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন