**..প্রেম ঘোর..**
**.. নার্গিস সুলতানা রিপা..**
পর্ব- (১২)#..**
🌷🌷🌷🌷
...প্রাপ্তি দৌঁড়ে আসে...
..."এই এই...পিক নেন আমাদের"(ফটোগ্রাফারকে উদ্দেশ্যকে করে)(প্রাপ্তি)(সাদাদ আর নৌশিনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে)
....তাই হলো...ফটোগ্রাফার ওদের কিছু পিক তুলে নিলো...
"ওকে..তোমরা বসো.. আমি যাই...সবার সাথে পিক হয়ে গিয়েছিলো তোমাদের সাথেই বাকী ছিলো...তাই তুলে নিলাম"
"হুম...তা তোমায় তো দেখায় যাচ্ছে না...কোথায় কি করছো??"(নৌশিন)
..."আমি একটু ঐ দিক টায় ছিলাম ভাবী তাই হয়তো দেখতে পাও নি...আমি যাই হ্যাঁ??খুব খুদা পেয়েছো-এসে যাবত খাই নু কিছু.."(প্রাপ্তি)
"বলিস কি!এক ঘন্টা হয়ে গেলো তুই না খেয়েই আছিস!!"(সাদাদ)
"ওহ..ভাইয়া...জোক করো না...সত্যিই খাই নি"
"আচ্ছা বাবা..তুমি যাও"(নৌশিন)
"এর যে কত খাবার পেটে ঢুকে আল্লাহ ই জানে..."(সাদাদ)
"আরে।।কত খাবার মানে.. খুদা লাগলে খাবে না! আর ও তো একবারে অনেক টা খায় না...এখন খেয়ে খুব বেশি একটু জোস..পরে আবার"(নৌশিন)
"হুম..এজন্যই বেশি মোটা হচ্ছে না...খাবার পরিমাণ বেশি হলে ফুলতো সিউর"(সাদাদ)
.."এই..."(নৌশিন)।।।।।
আবার দাগের কথাটা বলতে চাইলো...বাট পারলো না.....সাদাদের এক বন্ধু এসে জড়িয়ে ধরলো সাদাদকে"আরে দোস্ত....কি অবস্থা তোর??অবশেষে আমাদের ছোট্ট বোন টাকে??"(সাদাদের ফ্রেন্ড)(সুমন)
"আরে....কি আর করার... "(সাদাদ)
"কবে আসলি??..আমি তে ভেবেছি তুই আসতে পারবি না"(সাদাদ)
"আর বলিস না...প্রথমে আমিও ভেবেছিলাম তোর মতো।।বাট পরে ভাবলাম কাজের জন্য বিয়ে টা মিস করলাম এখন এটাও যদি মিস করি তাহলে ঠিক জমবে না...আফটার অল বন্ধুর বিয়ে বলে কথা...তাই সব কাজফেলে চলে এলাম-আবার পরশু গোয়িং টু কলকাতা"(সুমন)
"আপনি কলকাতা থেকে আসলেন ভাইয়া??"(নৌশিন)
"হ্যাঁ রে পুচকি...আর শোন বন্ধুর বউ বলে আমি কিন্তু তোকে ভাবী বলে ডাকছি না...আগে যেমন তুই তোকারি করতাম তেমন টাই থাকবে"(সুমন)
....নৌশিন মুচকি হেঁসে..."হুম...আপনি আমায় সেভাবে ডাকলেই আমি বেশি খুশি হবো...ভাই-বোন তো আমরা তাই না??"(নৌশিন)
"রাইট...এই নে এটা তোর ভাইয়ের পক্ষ থেকে তোর"(সুমন)
"এ মা...আবার গহনা...আমি এতো গহনা কোথায় রাখবো ভাবছি"(নৌশিন)
"রাখিস মাটির হাড়িতে ভরে মাটির নিচে..."(সুমন)
"আপনিও না ভাইয়া!"(নৌশিন)
...সাদাদের আরও অনেক ফ্রেন্ড রাও এসে যায়...অনেক দিন পরে দেখা হওয়ায় সবাই সবার সাথে আগের মতো মেতে উঠেছে...আসলে পুরোনো বন্ধুদের একসাথে কাছে পেলে যা হয় আর কি...নৌশিন শুধু ভাবছে দাগ টার কথা....কি করবে এখন সাদাদকে কে তো আর ডাকা যাবে না এখন....আশে পাশে তাঁকাতে থাকে-বলার মতো কাউকে যদি পাওয়া যায়!!.....
নাহ আশে পাশে না আছে সাদাদের আপু...না আছে ভাবী..নৌশিনের ভাবী টাও নেই-থাকলে বলা যেতো,হেল্প করতো ওরা নিশ্চয়...বাট এখন কি হবে সেটা ভেবে নৌশিন অস্থির...................
"না আশে পাশে কথাটা বলার মতো কাউকে ই দেখছি...একটু পরেই সাদাদের সব বন্ধুরা আমার সাথে কথা বলতে তো আসবেই দাগ টা যদি ভেসে ওঠে!আল্লাহ্,বাবার দাওয়াত দেওয়া গেস্টদেরও আসার সময় হয়ে যাচ্ছে...কি হবে??"মনে মনে ভাবতে লাগলো নৌশিন)
...ভাবতে ভাবতে চোখ পড়ে যায় ওর মায়ের দিকে....ওর মা অনেকক্ষণ ধরে লক্ষ্য করছে-মেয়ে যেন একটু চিন্তিত কিন্তু বুঝতে পারে নি কেন।তিনি ভেবেছেন এতো লোকের মাঝে এই সাজে একটু হয়তো আনইজি ফিল করছে ওনার মেয়ে সেজন্য এমন দেখাচ্ছে তাই কাছে যায়নি....কিন্তু নৌশিনসেজন্য এমন দেখাচ্ছে তাই কাছে যায় নি....কিন্তু নৌশিন মাকে দেখা মাত্র ই আর কিছু ভাবলো না ইশারা করে নিজের কাছে আসতে বললো......"যাই হোক..মাকে তো বলা যাবে....যতই লজ্জা লাগুক মা কেই বলতে হবে-তা না হলে সবার সামনে সামনে লজ্জায় মাথা কাটা যাবে...বিশেষ করে ওর বাবার গেস্ট রা কি ভাববেন!ছিঃ ছিঃ...তার চেয়ে মায়ের কাছেই হেল্প চাওয়াটাই বেটার...মা তো আর ভাবী বা আপুর মতো মজা করবে না এটা নিয়ে...হুম!!মা কে বলাই বেটার হবে.."মনে মনে ভাবতে লাগলো নৌশিন)
...নৌশিনের মা এসে গেলো...নৌশিনের পাশে গিয়ে আস্তে করে বলে"কি রে কি হয়েছে??"(আস্তে করে বলেন কারণ ওনি জানেন কোনো সমস্যা ছাড়া ওনার মেয়ে এতটা ছটফট করবে না কোনোদিন আর এভাবে ইশারা করেও ডাকবে না.....)
...নৌশিন মাকে উপস্থিত পেয়ে-চিন্তা থেকে মুক্তি পেয়ে মুচকি হাঁসে.....
"মা একটা প্রবলেম হয়েছে আমার"(নৌশিনও কথা টা এতো আস্তে বললো যেন ওর মা ছাড়া আর কেউ শোনতে না পারে)...নৌশিনের মা নৌশিনের আরও কাছে যায়..."কি হয়েছে..??বল.."
...নৌশিন ওঠে দাঁড়িয়ে মায়ের হাতটা ধরে অন্য দিকে হাঁটা শুরু করে...পাশ থেকে কেউ বলে ওঠে"কোথায় যাচ্ছেন ভাবী??"
....নৌশিন চিনে না মেয়ে টা কে...তবুও বলে"একটু...জাস্ট দু মিনিট আসছি"...সাদাদও এই কথা টা শোনতে পায় নৌশিনের...নৌশিনের দিকে তাঁকায় সাদাদ...ভ্রু কুঁচকে জানতে চায় কি হয়েছে??...নৌশিন আঙুল দিয়েই ইশারা করে দু মিনিটে আসছে আর তেমন কিছু হয় নি....
....নৌশিন ওর মাকে নিয়ে ওয়াশ রোমের দিকে চলে যায়....."কি হয়েছে...ওয়াশরোমে যাবি??"(নৌশিনের মা)
"না..মা"(নৌশিন মাথা নিচু করে রাখে)
.."তাহলে...?আর মুখ টা এমন করে রেখছিস কেন???"
...নৌশিন মাথা তুলে ওর মায়ের দিকে তাঁকায়-কথা টা কিভাবে বলবে বুঝতে পারছে না...মা হোক তবু তো কেমন লজ্জার কথা....ভাবতেই কেমন একটা লাগছে মেয়েটার....
...নৌশিন কিছু না বলে গলার যে জায়গা টায় দাগ সে জায়গা টায় হাত দেয়...."মা....লোক এট মি..."
....নৌশিনের মা খেয়াল করে জায়গা টাই নৌশিন আলাদা কিছু লাগিয়েছে আর সেটা ওঠে গেছে অনেকটা...তাই ওনিকিছু লাগিয়েছে আর সেটা ওঠে গেছে অনেকটা...তাই ওনি হাত থাকা রোমাল টা দিয়ে জায়গাটা একটু মুছে দেন...মুছে দিতেই দাগটা আবার কালো স্পষ্ট বুঝা গেলো....নৌশিনের মায়ের আর বুঝতে বাকী রইলো না-কিসের দাগ এটা,আর ওনার মেয়ে কেন এতো চিন্তা করছিলো.....মেয়ের কান্ড দেখে মুচকি হেঁসে ফেললেন রেহানা বেগম....
"মা....."(নৌশিন মায়ের হাঁসি দেখে লজ্জায় পেয়ে যায়-ও বুঝতে পারে ওর মা সব বুঝে গেছে).....রেহানা বেগম হাঁসি থামায়...
"বোকা মেয়ে....ঠিক করে আসবি না??এভাবে কেউ অনুষ্ঠানে আসে"(রেহানা বেগম)
..."মা,আমি যেটা জানি সেটা করেছি...বাট জানতাম এটা ঘন্টা খানেক থাকবে তাই তোমাকে ডাকলাম..."(মাথা নিচু করে মাকে কথাগুলো বলে নৌশিন)
"হয়েছে বোকা মেয়ে আর বড় হবি না তুই....আর একটা গহনা পড়ে আসলেই তো ঢেকে যেতো স্পট টা"....বলে নিজের গলার হার টা খুলে নৌশিনের গলায় একটু উপরের দিকে পড়িয়ে দেয়"দেখি ঠিক করে লাগাতে দে...."
"ওহ আবার আরেক টা গয়না...এমনি ই তো দাঁড়াতে পারছি না এতো কিছু নিয়ে...তুমি আবার কি পরাচ্ছো..."(নৌশিন)
"চুপ কর..গাঁধী..কমন সেন্স থাকলে নিজে থেকেই পড়ে আসতি হাবি-জাবি লাগতে যেতিস না...".....হার টা ভালো ভাবে সেট করে দেন...এবার দাগ টা আর দেখা যাচ্ছে না....
"নে...এবার ঠিক আছে...😊"
"মা...এখন আবার হাঁসছো তো তুমি??"
"ওকে..হাঁসবো না...যা এখন-না হলে সবাই অন্য কিছু ভাববে"
"হুম...চলো.."
...রেহানা বেগম মেয়ের কপালে আলতো করে চুমু আঁকেন"দোয়া করি সারা জীবন এমন ভাবেই স্বামী সোহাগী হয়ে থাকুক আমার মেয়েটা"...নৌশিন আরও লজ্জায় পড়ে যায়...."মা..."(জড়িয়ে ধরে নৌশিন ওর মাকে)
..."আচ্ছা চল চল.."
"চলো😊"....
নৌশিনকে নিজের জায়গায় বসেই দিয়ে রেহানা বেগম নৌশিনের শাশুড়ির কাছে গিয়ে গল্পগুজব করতে থাকেথাকে..........এদিকে সব গেস্ট রা আসতে শুরু করে.....সাদাদ অনেকক্ষণ হয়ো গেলো ব্যস্ত হয়ে পড়েছে সবার সাথে কথা বলতে বলতে...নৌশিনের একটু বোর ফিল হচ্ছে সাদাদকে ছাড়া....সাদাদের বাবার ডাকে সাদাদ আবার নৌশিনের পাশে এসে বসে-আর ওর ফ্রেন্ডরা সেনক্স নিতে থাকে.....এবার নৌশিন একটু শান্তি পায়।।।।সাদাদের বাবা ওনার বন্ধুদের নিজের ছোট ছেলে আর বউকো পরিচয় করিয়ে দেয়.....
রাত নয় টা বেজে গেছে প্রায়....
সবাইকে ডিনারের জন্য এনাউন্স করেন সাদাদের কাকা(প্রাপ্তির বাবা)..............
"হুম সেটাই বেটার....ওয়েট করি.....তাহার রাগ ভাঙাতে মুগ্ধর দশ মিনিটও লাগবে না...ততক্ষণ ওয়েট করাই যায়.."(রিয়া)
"আমি এই সময় টাতে তখন যে পিক গুলো আপ করলাম দেখতে সেগুলো দেখি...."(আশা)
....আশা পিক দেখছে....আর ঐ দিকে তাহা রাগে সেন্টারের বাইরে চলে যায়....পেছন পেছন মুগ্ধও.....
"কি হলো...দাঁড়াতে বলছি না তোমায়....."(মুগ্ধ)
...তাহা হেঁটেই চলছে কোনো কথা শুনছে না..মুগ্ধ দৌঁড়ে গিয়ে তাহার হাতটা ধরে ফেলে......
"ছাড় আমায়...যা তোর সব সাদা সাদা মেয়েদের দেখ...রিশেপশনে কত মেয়ে আছে তো...আমার কাছে কেন আছছিস??"(তাহা)
"একটা থাপ্পর দিয়ে না....বেশি বুঝো নাকি??"(মুগ্ধ)
"আমি কি করলাম...তুমিই তো বললে😭😭"(তাহা)
"এই যে...এতক্ষণ রাগে ফুলে বেলুন হয়ে গিয়েছিলা...আর এখন একটু ধমক দিলাম কি দিলাম না বেলুন ফেঁটে জল বের হচ্ছে"(মুগ্ধ)
"তুমি মেয়ে দের দেখো😭😭"(তাহা)
"কান্না বন্ধ করো......"(মুগ্ধ)
"শয়তান,কুত্তা হারামি,তোর জন্য আমি সারা দিন কত কষ্ট করে কন্ত কন্ত ফ্যাসপেক নিলাম....আর তারপর আসার সময় কত কি করে সাজলাম...তবু তুই অন্য মেয়েদের দেখলি এইভাবে"(তাহা)(কান্না করতে করতে)
"ওরে....আমি তো দেখি ই নি...আসলে কি বলো তো!! সাদাদ ভাইয়ের আপুটা কে দেখে না বেশ ভালোবাসতে ইচ্ছা করছিলো...দেখে তো বুজা যাচ্ছিলো না বিয়ে হয়ে গেছে.....তারপর আরও কয়েকটা দেখলাম বেশ সুন্দর বাট
যাদেরই ভালো লাগলো আমার ওদের সবার হয় বিএফ না হয় বর সাথে এসেছিলো....তোমাকে মে বি সেই সব মেয়েদের চেয়ে কম সুন্দর লাগছিলো-তাই চোখে পড়ো নি"(মুগ্ধ সারা টা ক্ষণ তাহা কেই দেখছে...তবুও ক্ষেপানো জন্য বলছে এইসব)
"এতো খারাপ তুমি...আমাকে এতোই খারাপ লাগছে এখন যে চোখেই পড়ি না আমি....!!ছাড়ো যেতে দাও....তবে তোমার কোনো দিন ভালো হবে না...তোমার ঘরের বউ আস্ত সাতচুন্নি হবে এই বলে দিলাম"(তাহা)
"হলে হবে তাকেই মন প্রাণ দিয়ে ভালবাসবো...আদর করবো...আর যাই হোক আমার বাচ্চার মা হবে মেয়েটা ওকে....সবাই ডিনার করতে বসে...নৌশিনের ফ্রেন্ডরাও ডিনার করছে.....আর নিজেদের মধ্যে গল্প করতে থাকে...
"যাই বলিস সাদাদ ভাই আর নৌশিনকে কিন্তু হেব্বি মানিয়েছে......"(আশা)(
"ঠিক তাই...এমনি ই তো আমাদের নৌশিন টা একদম ডলের মতো আর আজ যেমন সেজেছে সাদাদ ভাইয়া তো আবারও প্রেমে পড়ে যাবে...."(রিয়া)
"আচ্ছা,আমি সব বুঝলাম..বাট একটা জিনিস বুঝলাম না..."(মুগ্ধ)
"কি বুঝলে না তুমি??"(তাহা)(মুগ্ধর জি এফ)
"নৌশিনেরর রিশেপশন,ঠিক আছে ও এভাবে সেজেছে!গুড!বাট তোরা সাজলি কেন??তোদের কি বিয়ে টিয়ে নাকি....আচ্ছা এটাও মানলাম তোদের ফ্রেন্ডের বিয়ে তোরা সাজলি...বাট এই যে এত এত সাদা মেয়ে আসছে এখানে ওরা কেন সাজছে???এই তোদের সাদা সাদা মেয়েদের ব্যাপার টা আমার মাথায় ঢুকে না...."(মুগ্ধ)
"এই...তুমি কি সাদা সাদা করছো...আর নেই পছন্দ করার মতো মেয়ে তুমি কি করে জানলে???তার মানে তুমি এখানে এসে মেয়ে দেখছো??😡"(তাহা)(মুগ্ধর জিএফ)
"তাহা তুই এখন বুঝলি??আমি তো সেই কখন থেকে দেখছি এই মুগ্ধর নজর টা তোর থেকে অন্য মেয়েদের উপর বেশি..😒"(অনামিকা)
"কিহ...দেখ তোর যত মেয়ে দেখার ইচ্ছা দেখ...আমার সাথে কোনো দিন কোনো কথা বললে তোর মাথা ফাটিয়ে দিবো আমি"(রাগে গিজ গিজ করে তাহা ওঠে চলে যায়)
"ঐ তাহা দাড়াও....."(মুগ্ধও পেছনে ছোটতে থাকে)
"দিলি তো খেপিয়ে মেয়েটাকে....বেচারা মুগ্ধ এখন বিপদে পড়বে..."(রিয়া)
"আরে যেখানে রাগ বেশি সেখানে রোমান্স বেশি রে বুদ্ধু...রাগ উঠিয়ে দিয়ে ভালোই করেছি"(অনামিকা)
"খাবি তোরা নাকি বক বক করে যাবি??"(হৃদয়)
"আরে...দাড়া মুগ্ধ আসুক তাহা কে নিয়ে...পড়ে শুরু করি..."(অনামিকা)
তো ভালবাসতেই হবে...."
"😭😭😭😭ছাড় তুই হারামি...এই যখন মনে ছিলো আমায় কেন প্রেমঘোরে আটকে দিলি..বল????তুই তো অন্য মেয়েকে নিয়ে সুখে সংসার করবি-বাচ্চা হওয়াবি??আমার পেট খালি থাকবে কেন বল???আমার এতো বড় সর্বনাশ করতে পারলি তুই???"
"এই আমি কবে তোমার সর্বনাশ করলাম???আমি তো কোনোদিন তোমাকে তেমন কিছু করি নি..."
"করিস নি মানে???তুই আমার কত রাতের ঘুম হারাম করেছিস...আমি তোর জন্য কত স্বপ্ন বুনে রেখেছিলাম...কত আশা করেছিলাম আমার এখানে(পেটে হাত দিয়ে)তোর বাচ্চা থাকবে...আর তুই কিনা তোর বউয়ের কথা বলছিস....??ওকে আদর করবি???আমার কপালে এটা ছিলো?😭😭নৌশিন কত ভাগ্যবান যাকে ভালবেসেছে ওর বাচ্চার মা হবে...আর আমি যাকে সবটা দিয়ে ভালোবাসলাম তার বাচ্চার মা হওয়া হবে কিনা অন্য মেয়ে....আমি সারাটা জীবন কি করে একা একা বাঁচবো???এটা কি করলি তুই আমার
সাথে??কি অপরাধ ছিলো আমার???একটু শ্যামা?কিন্তু ভালো তো বেসেছিলাম অনেক😭😭"(তাহা)
"আল্লাহ...রাগে কান্না করলে এত্ত কিউট লাগে...ইশ!!!!".........হাতটা টান দিয়ে তাহাকে আলো থেকে সরিয়ে নেন মুগ্ধ...তাহা কিছু বলার আগেই হাতটা ছেড়ে দিয়ে কোমড়ে হাত দিয়ে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে নেন....ঘাড়ে হাত দিয়ে মুখটা কাছে আনে ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দেয়....তাহা ছটফট করতে থাকে...মুগ্ধ থামলো তো...পাগলের মতো কিস করে করতে থাকে তাহার ঠোঁটে-কামড়ে ব্লাশিং করতে থাকে-তাহার দম বন্ধ হয়ে আসছে প্রায়-মুগ্ধ তাহার লেহেঙ্গার উপরের পার্ট টা আরও উপরে তুলে নেন-যেন পেটে হাত দিয়ে পারে...তাহা তখনও ছটফট করতে থাকে...মুগ্ধ কোমড় থেকে পেটের দিকে ব্লাশিং করতে থাকে....নাভীতে আলতো করে ছুয়ে দিচ্ছে....ঠোঁট চুষে নিচ্ছে-তাহার ছটফটানী কমে গেছে একদম এতক্ষণ মুগ্ধকে সরানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়...মুগ্ধর আদরে হারিয়ে গেছে একমুহুর্তে-শিউরে ওঠে মুগ্ধর ছোঁয়ায়...আকড়ে ধরে মুগ্ধর শার্ট....মুগ্ধ ঠোঁট সরিয়ে নেয়-গালে গলায় কিস করতে থাকে...তাহার শ্বাস এতোটাই দ্রুত হয়ে গেছে মুগ্ধ আরও উত্তেজিত হয়ে যায়...তাহার ঘাড়েনাক ডুবিয়ে দেয়-ইচ্ছে করেই তাহ্নার ঘারে নিজের খোচা খোচা দাড়ি জোরে জোরে ঘসতে থাকে.....তাহ্নার সব রাগ কোথায় উবে গেলো.... হারিয়ে গেলো কোথায় সে নিজেই....মুগ্ধ তাহ্নার ঘারে আরও খোচা দিতে থাকে......."উহু.......লাগছে" (অস্ফুট স্বরে বলে উঠে তাহ্না) মুগ্ধ এবার তাহ্নার গালে দাড়ি ঘসে দেয়......"উহু....." (আবারও তাহ্নার অস্পট স্বর).....তাহ্না আর পারছে না....শক্ত করে জড়িয়ে ধরে মুগ্ধকে... মুগ্ধও জড়িয়ে নেয় খুব শক্ত করে...এতটাই কাছে দুজন একসুতা পরিমাণ ফাঁকা নেই.... দুজনের বুকের স্পন্দন দুজনে অনুভব করতে পারছে...... এতক্ষণ হয়ে যাচ্ছে দুজন একইভাবে জড়িয়ে আছে.... আরও গাড়ি পার্কিং এর শব্দে ঘোর কাটে তাহ্নার... মুগ্ধকে ছেড়ে দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে চায় বাট পারলো না কারণ মুগ্ধ এখনো তাহ্নাতেই ডুবে আছে..... তাহ্না হালকা করে ধাক্কা দেয় মুগ্ধকে সরে যাওয়ার জন্য-তাহ্নারও যে সরে যেতে ইচ্ছা করছে না-সারাজীবন এভাবে আটকে থাকতে ইচ্ছা করছে ওর-কিন্তু ওরা যে অন্য কারও রিশেপশনে এসেছে....."কি হলো... ছাড়ো..." (তাহ্না) "না...." (মুগ্ধ আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে-চুলের গন্ধ নিতে শুরু করে).... কিভাবে ছাড়ানো যায় ওকে...একটু পরেই তো গেস্ট রা বেরুতে শুরু করবে... উপায় না পেয়ে চিমটি কাটে মুগ্ধের হাতে...."সরো.... ছড়ো এবার..." (তাহ্না) ..... মেয়ে মানুষের নখ-চিমটি কি কম জোড়ে লাগছে নাকি"!! আর তাহ্না ইচ্ছে করেও আরও জোড়ে দিয়েছে..... মুগ্ধর এবার ছাড়তে বাদ্ধ হয়........"ইশ......কি হলো এট??" "যা হওয়ার তাই হলো... কখন থেকে ছাড়তে বলছি...কথা কানে যায় না?" (তাহ্না) "না যায় না...পেট নাকি খালি থাকবে.???দিবো পেটে কিছু....(চোখ টিপ দিয়ে) (কমড়ে হাত দিয়ে আবারও কাছে নেয়) ....এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে তাহ্নার মুখের দিকে...তাহ্না মুগ্ধের চোখে আর চোখ রাখতে পারছে না-লজ্জায় রাঙা হয়ে গেছে একদম... নিচের দিকে তাঁকিয়ে ইশ!! কি হচ্ছে?? ছাড়ো.... কেউ এসে যাবে...." "এদিকে কেউ আসবে না...করবো কিছু?পেট খালি থাকবে বলে তো অনেক কান্না কাটি করলে একটু আগে.... আমার কোনো প্রবলেম নেই দিয়ে দিতে পারি আমি....পেট মে বি আর খালি থাকবে না....রাজি??" (মুচকি হেঁসে)
....তাহা লজ্জায় মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে যেন...."প্লিজ ছাড়ো...."
"কেন??যাকে ভালোবেসেছো তার বাচ্চা চাই তো তোমার...আমিও তো ভালোবাসি-ভালোবেসে করে দিই শুভ কাজটা???"(তাহা কে লজ্জায় ফেলবেই ছেলেটা-রাগ কিভাবে থাকে সেটাই দেখবে)
"ছিঃ মুগ্ধ...কি বলছো এসব..."(তাহা চোখ বন্ধ করে ফেলেছে অনেক আগেই-খুলতে পারছে না লজ্জায়...কি সব বলে চলছে মুগ্ধ).......
"ও...আমি বললেই ছিঃ, তাই না??আর তুমি যে বলছিলে??"(মুগ্ধ)
"আমি তো আমার স্বপ্নগুলোর কথা বলেছি শুধু...."
"আমি তো স্বপ্ন পূরণ করার কথাই বললাম...."
"এখন তো না....বিয়ের পরের স্বপ্ন এটা....তুমি তো...."
"আমি তো...কি??"
"অন্য মেয়ে পেটে বাচ্চা দেওয়ার কথা বললা...তোমার বউকে আদর করবে,ভালোবাসবে-তোমার বাচ্চাও নাকি ওর পেটেই থাকবে..."
"হুম...যা সত্যি তাই বলেছি..."
"কিহু......"(কাঁদো গলায়)
"এখন কাঁদলে না এই হোটেলের কোনো একটা রোমে তালা দিয়ে রেখে যাবো-সারা রাত আটকে থাকবা"
"তো কি বলো তুমি??"
"তো তোমার কি এখনি বাচ্চার মা হওয়ার শখ নাকি??"
"এখন কি করে হবো??"
"আমি করে দিবো..."
"এই না...বিয়ের পর....."
"তো বিয়ের পর পর যে করছো খালি??তাহলে আমি বউয়ের পেটে বাচ্চা দিবো বললাম তাতে রাগ আর কান্নার কোনো মানে আছে নাকি??বিয়ের পর তো আপনি আমার বউ ই হবেন....তো আমি আমার বউকে বাচ্চা দিবো তখন...."
...নৌশিন চোখ খুলে অট্ট হাঁসি দেয়....মুগ্ধর দিকে তাকিয়ে
"এই তার মানে তুমি আমার কথায় বলছিলে???😳"
"এটা বুঝতে এতো সময় লাগে!!! আল্লাহ সারা জীবন সব কিছু এভাবে বুঝাতে হবে!!!আগেই রাগা রাগি না করে মাথা খাটানো শিখবা কবে তুমি???"
খাটানো শিখবা কবে তুমি??"
"সারা জীবনেও শিখবো না...আর আমি কিন্তু প্রথমে এই কথার জন্য রাগ করি নি-তুমি অন্য মেয়ে দেখছো তাই রাগ করেছিলাম বাট পরে এই কথায় আরও বেশি..."
"অন্য মেয়ে দেখছি ই তো...বলছি ই তো সামনে থাকলে দেখবো না....চোখ বন্ধ করে রাখবো নাকি...আর আমি ইচ্ছা করেই জোড়া জোড়া দের দেখছি...কেমন করে বউকে কি করে একটু দেখছিলাম বাট একা কোনো মেয়ের দিকে ইচ্ছা করে দিই নি...কারণ আমার তাহা বুড়ি যে আমার নয়ন আটকে রেখেছিলো....যাদের দেখছি ওরা জাস্ট চোখে পড়েছিলো কারণ আমি তো চোখ বন্ধ করে রাখতে পারবো না...কিন্তু তোমার দিকে শুধু চোখ পড়ে নি-অনুভবে আটকে নিয়েছিলাম তোমায়..."
"তাহলে কেন শুধু শুধু রাগাও আমায়???"
"আমি কোথায় রাগালাম...নিজেই তো অনামিকার কথা শোনে রেগে গেলা...পরে কান্না শুরু...জোশ লাগে আমার তোমার রাগী চোখে কান্না দেখলে...খুব আদর করে ভুলিয়ে দিতে ইচ্ছে হয়-তাই আমি আরও বেশি রাগিয়ে দিলাম যেন সেই লুক টা দেখে পাগল হয়ে যাই আর আদর করতে পারি...."
"ও....এই কথা....চালাক খুব তাই না..."
"হুম চালাক-তুমি তো বোকা তাই"
"হয়েছে হয়েছে...চলো এবার...ক্ষুদা লাগছে"(তাহা)
"কত কিছু দিলাম তবুও খাবা এখন??"(মুগ্ধ)
"হুম....এগুলোতে পেট ভরে নি... মন ভরেছে এখন বন্ধুর রিশেপশনে খেয়ে পেট ভরাবো আমি সিউর সব কয়টা ওয়েট করছে আমাদের জন্য"
"ওকে...ম্যাম চলুন....."
"দাড়াও...একটু ঠিক ঠাক হও...কি করলাম এতক্ষণ এমন লাল হয়ে ভেতরে গেলে লজ্জায় পরে যাবে...লেহেঙ্গাটা ঠিক করো একটু উঠে আছে একটু...মুখটা মুছো ওয়াটার প্যাক দেখছিলাম তো ব্যাগে-মুখটা তো লাল একদম..."(মুগ্ধ)
..."ইইইই..."(তাড়াতাড়ি করে সব ঠিক ঠাক করে নেয় তাহা)
...."বাঁচালে...."(তাহা)
"হুম...বাঁচাতে তো হবেই...আমি ই যে মারবো😎"
"ধ্যাত চলো তো...."
.....দুজনে ভেতরে চলে যায়....
!
"আরে...শেষ হলো রাগ অভিমান তোদের...."(রিয়া)
"কি বলে মেয়ে??রাগ নয় বলো রোমান্স...."(অনামিকা)
...সব ফ্রেন্ডরা হেঁসে উড়িয়ে দিচ্ছে একদম...
"এই অনেক হয়েছে...চল প্লিজ খাই এখন... আর সহ্য হচ্ছে না এতো ভালো খাবার সামনে নিয়ে আর বসে থাকতে পারছি না"(আশা)
.......সবাই ডিনার শুরু করে......
....আর অপর দিকে সাদাদ আর নৌশিন বসে থেকে ক্লান্ত... বিশেষ করে নৌশিন........................
To be continued..**