**..প্রেম ঘোর..**
**.. নার্গিস সুলতানা রিপা..**
পর্ব- (১৪)#..**
🌷🌷🌷🌷
নৌশিনের বাড়িতে এতো রাতেও মেয়ে আর জামাই কে নিয়ে নানা আয়োজন চলছে'...........প্রায় সাড়ে বারো টার দিকে ওরা বাসায় পৌঁছায়.........সাদাদ সবার সাথে কথা বলে....নৌশিন বাসায় ঢুকে সবার সাথে দেখা করে সোজা নিজের রোমে ছুটে যায়-সাদাদকে ড্রয়িং রোমে রেখে একাই চলে যায় রোমে...সাদাদ কিছুটা ইতস্ততবোধ করে..কারণ আজ দ্বিতীয় বার সে এ বাড়িতে এসেছে....এনগেজমেন্টের দিন আর আজকে....নৌশিনের এভাবে ওকে রেখে যাওয়া ঠিক হয় নি.....সাদাদকে নৌশিনের বড় ভাই বসতে বলে....টুকটাক কথা বলতে থাকে....নৌশিনের বিয়েটা ওদের গ্রামের বাড়ি ভালুকা থেকে হয় তাই এই বাড়িতে মেহমান নেই বললেই চলে...সবাই ভালুকাতেই জয়েন করেছিলো বিয়ের দু-তিন আগে থেকেই...নৌশিনের বাবাও একমাত্র মেয়ের বিয়েতে সব লোক জড়ো করেছিলো....শুধু নৌশিনের মামা মামী আছে এই বাড়িতে আর প্রাপ্তির বয়সী একটা মামাতো ভাই...বোন নিজের রোমে একা ঢুকে পড়েছে তাই নৌশিনের ভাই সাদাদের সাথে কথা বলে কোনো রকম সৌজন্য বোধ বজায় রাখছে আর কি-সে তো আর শালা নয় যে মজা করবে সমন্ধি সম্পর্কে তাই যত টা সম্ভব কথা বলা যায়...নৌশিনের ভাবী,মা,কাজের মেয়ে,মামী সবাই সাদাদেরজন্য ব্যস্ত হয়ে রান্না ঘরে ঢুকে কাজ চালায়....নৌশিনের ভাবী ড্রয়িং রোমে আসলে ওর ভাই ইশারা করে নৌশিনকে ডেকে দেওয়ার জন্য.....
নৌশিনের ভাবী সাথে সাথে নৌশিনের রোমে যায়.......
নৌশিন আয়নার সামনে বসে চুল খুলছে-ওর ভাবী মাথায় টুকা মেরে বলে...."কি রে গাধী,সাদাদকে একা রেখে এভাবে রোমে পড়লি কেন??ওকে নিয়ে আসবি তো নাকি??"
"ও মা....সাদাদ একা আসতে পারবে না নাকি??যে আমি নিয়ে আসবো.."
"আরে..প্রথম বার শ্বশুর বাড়িতে এসে কি একা একা কেউ বউয়ের রোমে ঢুকে??তুই আনবি তো...বেচারা সবার সামনে আনইজি ফিল করছে বোধহয়....."
"ও কি মেয়ে যে আনইজি লাগবে সবার সামনে...."
"পাগলী শুধু মেয়েদেরি আনইজি লাগে না ছেলেদেরও লাগে...চল ওকে নিয়ে রোমে আয়...তারপর ফ্রেস হতে বল ওকে.."
"আচ্ছা,দাঁড়াও চুল টা আগে খুলে নিই...কালকেও স্প্রে করা হয়েছিলো আর আজকেও...চুল শেষ আমার এই দুই দিনে.....ভাবী একটু হেল্প করো কত ক্লিপ খুলতে পাচ্ছি না.."
"তোর যা চুল নষ্ট হলেও এক গাদা রয়ে যাবে...তাই চিন্তার কোনো কারণ নেই"
.....দুজনে মিলে চুল টা খুলে....তবুও দশ মিনিটের মতো লেগে যায়....চুল খোলার পর নৌশিনের চুল গুলো একদম হাঁটুর কাছে পড়ে যায়....
"নে এবার যা...সাদাদকে নিয়ে আয়..."
...নৌশিন তাড়াতাড়ি করে ড্রয়িং রোমে যায়...নৌশিনকে এভাবে দেখে সাদাদ 'থ' হয়ে গেছে...চুলে আগে স্প্রে করার
জন্য চুল গুলো ফুলে আছে...আর অনেকক্ষণ বাঁধা ছিলো খুলে ফেলায় এলোমেলো হয়ে আছে...এভাবে কোনো দিন দেখা হয় নি নৌশিনকে সাদাদের.....দেখে মনে হচ্ছে কোনো হুর নেমে এসেছে জান্নাত থেকে....সাদাদের চোখ আটকে যায় নৌশিনের এই রূপে....
সাদাদ ভাবছে 'এতটা অসাধারণ রূপ হতে পারে একটা মেয়ের.....কি রে!!'
...সাদাদের ভাবনার অবসান ঘটে নৌশিনের বাবার কথা শোনে.......
"মা যাও জামাই কে নিয়ে তোমার রোমে যাও....."
"মা যাও জামাই কে নিয়ে তোমার রোমে যাও....."
"বাবা সাদাদ,অনেক রাত হয়েছে যাও ফ্রেস হয়ে নাও...তারপর হালকা কিছু খেয়ে রেস্ট নাও"
"কি বলছো বাবা??সাদাদ যে পরিমাণ খেয়ে আসলো একটু আগেই তিন দিন না খেলেও চলবে ওর..."
.....সাদাদ আবার বড়দের সামনে ইতস্ত বোধ করলো নৌশিনের কথায়-যতই হোক নতুন শ্বশুর বাড়ি...আগে এক বার এসেছিলো তখন তো আর বিয়ে টা হয় নি,তাই শ্বশুর বাড়ি আসাও বলা চলে না সেটাকে.......
"এই থাম....কি বলছিস এই সব"(নৌশিনের বড় ভাই)
"ভাইয়া।।।নৌশিন ঠিকি বলছে আমি প্রচুর খেতে ভালোবাসি আর আজকে প্রচুর পরিমাণ খেয়ে আসলাম...এক ঘন্টাও হয় নি খেয়ে এসেছি...আজ আর কিছু খেতে পারবো না আমি"(সাদাদ)
"আচ্ছা...খাবে কি খাবে না সেটা পরে দেখা যাবে আগে ফ্রেস হও....প্রায় একটা বেজে যাচ্ছে...."(নৌশিনের ভাবী)
"কি হলো নৌশিন!সাদাদকে নিয়ে যা,তুই ও ফ্রেস হয়ে নে......."
....নৌশিন সাদাদ কে নিয়ে রোমে যায়....যতক্ষণ যায় সাদাদ ততক্ষণ ই নৌশিনের একটু পেছনে থাকে...নৌশিন আগে যেতে বললেও যায় নি...কারণ সামনে থাকলে নৌশিনের এমন চুলগুলো ওর নজর এরিয়ে যাবে...রোমে ঢুকেই সাদাদ দরজা লক করে দেয়....রোম কেমন বা রোমে কি আছে সেটার দিকে একবারও চোখ যায় নি সাদাদের....দরজা লক করেই পেছন থেকে নৌশিনের হাত টা ধরে ফেলে হাঁটু গেরে বসে পড়ে ফ্লোরে...সাদাদ হঠাৎ পেছন থেকে হাত ধরে ফেলায় নৌশিন সাদাদের দিক ফিরে...ঘোরার সময় নৌশিনের চুলগুলো সাদাদের মুখে বারি খায়...শুধু বারি খাওয়ার সময়টাতেই সাদাদ প্রাণ ভরে চুলের গন্ধ নেয় নেশা লাগে যায় সেই গন্ধে...নৌশিন পেছন ফিরে দেখে সাদাদ হাঁটু গেরে বসে...
"এ মা...কি হলো???"(নৌশিন)
"জানি না কি হলো......"(সাদাদ)
...নৌশিন দ্বিতীয় কোনো প্রশ্ন করার আগেই সাদাদ ওর হাতে আলতো করে কিস করে......নৌশিনের কেন জানি এই ছোঁয়া তে অন্য রকম এক ভালো লাগা কাজ করে...সাদাদ নৌশিনের মুখের দিকে তাঁকায়......"আমি কোনো দিন হুর দেখি নি...শুধু জানি জান্নাতবাসী পুরুষরা নাকি হুরের অধিকারী হবে....আমার পরকালে আমি জান্নাত পাবো কি না জানি না তবে আমার এই জীবন টাকে একটা জান্নাতেরজানি না তবে আমার এই জীবন টাকে একটা জান্নাতের মতোই মনে হয়...শুধু মনে হয় না আমার ইহকালে আল্লাহ সত্যিই আমাকে জান্নাতের সুখ দিচ্ছেন...আর এই জান্নাতে তুমি আমার প্রাপ্ত হুর....ইহকাল পরকাল দু কালেই এই হুর চাই আমার....."......কথা শেষ করে আবারও চুমু আঁকে দেয় হাতে...নৌশিন নির্বাক একদম শুধু সাদাদকে দেখে যাচ্ছে.....
"থাকবে তো সারা জীবন আমার হুর হয়ে??নিজের সবটা দিয়ে আগলে রাখবো,ভালোবাসবো হ্যাঁ সাথে একটু জ্বালাবোও.....থাকবে???"(সাদাদ)
....নৌশিনের এই মুহূর্তে পৃথিবীর সব চেয়ে সুখী মানুষ মনে হচ্ছে...এতটাই সুখ যার ভাষা স্বরূপ চোখে জল এসে যায়...ঠোঁটের কোণে হাঁসি আর চোখে জলরেখা নিয়ে মাথা নেড়ে সম্মতি জানায় থাকবে.....সাদাদ উঠে দাঁড়িয়ে এমন ভাবে নৌশিনকে জড়িয়ে ধরে যেন হাজার বছরের পুরনো প্রেম আবার ফিরে পেয়েছে-নৌশিনও জড়িয়ে নেয় সাদাদকে.......নৌশিন এতসুখ আর ধরে রাখতে পারছে না- উপচে পড়ছে চোখের পানি হয়ে...........সাদাদের কোট ভিজে যাচ্ছে....সাদাদ নৌশিনকে সোজা করে নেয়..দুগালে হাত রাখে নৌশিনের চোখের পানি বাঁধ মানছে না.......সাদাদ আঙ্গুল দিয়ে আলতো করে চোখের পানি মুছে দেয়........"কাঁদছো কেন??"(সাদাদ)
"জানি না....এসে গেছে....."(নৌশিন)
....নৌশিনের চোখে আবার পানি এসে যায়...সাদাদ আলতো করে নৌশিনের কপালে ভালবাসার পরশ দেয়...."অনেক আগেই কিন্তু আমি কথা দিয়েছিলাম..."
"আমি জানি তো....."
"তাহলে আজকে আবার কেন জানতে চাইলে???"
"আজকে যে নতুন রূপে দেখলাম.....আমার হুর কে প্রত্যক্ষ করলাম.....আগে তো সাধারণ নারীর প্রেমে পরেছিলাম আজ তো এক হুরের প্রেমে পড়েছি"
....আবারও আকড়ে নেয় দু জন দুজনকে.....সব সুখেরাও আজ মনে হয় হিংসে করছে সাদাদ আর নৌশিনের সুখ দেখে........................
"নৌশিন আপা,........নৌশিন আপা..."(দরজার বাইরে)
"আপা....."(দরজার বাইরে)
.....সাদাদ আর নৌশিন এখনও একে অপরে জড়িয়ে ধরে আছে......নীরব ভালোবাসায় আচ্ছন্ন দুজনেই.............
"নৌশিন আপা...দোলাভাইয়ের ব্যাগটা আনছি...."(দরজায় নক করে)
....নৌশিনের ইন্দ্রিয় শক্তি সবসময় যেন সাদাদের আগে কাজ করে...এই মুহূর্তেও তার ব্যতিক্রম হয় নি.........
"সাদাদ ছাড়ো....কেউ নক করছে মনে হয়"(নৌশিন)
.......সাদাদ নিশ্চুপ হয়ে তখনও নৌশিনকে শক্ত করে ধরে আছে......নৌশিন আবার ডাকে সাদাদকে......."সাদাদ......."(নৌশিন)
"হুম...."(অস্ফুটস্বরে)(সাদাদ)
"ছাড়ো...দরজায় কেউ নক করছে"(নৌশিন)
.....সাদাদ আরও শক্ত করে আকড়ে ধরে নৌশিন....
"কি হলো.......?"(নৌশিন)
.....সাদাদ এবারও নিশ্চুপ....
"ছাড়ো একটু.....দরজায় কেউ নক করছে....আছি তো আমি নাহয় পরে আবার......."(নৌশিন)
"ছাড়ো প্লিজ......"(নৌশিন)
.......দরজায় আবার নকের আওয়াজ হয়...সাদাদও শোনতে পায় এবার....তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও নৌশিনকে ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক হয়.......সাদাদ ছাড়া মাত্রই নৌশিন তাড়াহুড়ো করে দরজা খুলে..........
"ও...সালাম....কিছু বলবি???"(নৌশিন)
"আপা...দোলাভাইয়ের ব্যাগ টা বসার ঘরে আছিলো....ভাবী পাডাইলো"(সালাম)
"ওহ.....আচ্ছা দে আমায়...."
.....সালাম ব্যাগ নৌশিনের হাতে দেয়......
"ভর্তি হয়েছিস তুই???"(নৌশিন)
"হ আপা...খালুজান(নৌশিনের বাবা)টেহা দিছিল কালকা ভর্তি হয়ছি"(সালাম)
"আচ্ছা....আবার কিন্তু এমন ভালো রেজাল্ট করতে হবে তোকে...আর যে কোনো কিছু লাগলে বলবি তোর মাকে যেনতোকে...আর যে কোনো কিছু লাগলে বলবি তোর মাকে যেন আমাদের বাসায় জানায়..."
"আইচ্ছা আপা"(সালাম মুচকি হাঁসে)
"আচ্ছা....আয় তাহলে!"(নৌশিন)
....সালাম চলে গেলে নৌশিন আবার দরজা লাগিয়ে দেয়...যদিও লাগানোর দরকার ছিলো না এখন তবুও 'সাবধানের মার নেই' বলে কথা-সাদাদ কখন কি করে বসে...........দরজা বন্ধ না করলে আবার লজ্জায় পড়তে হবে কারও সামনে.......এইসব ভেবেই নৌশিন দরজাটা লক করে ভেতরে আসে......সাদাদ ততক্ষণে সোফায় বসে নৌশিনের রোম টা ভালো করে দেখে নেয়...বেশ পরিপাটি একটা রোম-নন্দনিকও বটে...কিন্তু আনকমন.......সাদাদ একটু অবাক হয়েও হয় না কারন এই মেয়েটার কোনো কিছুই যে কারও সাথে মিলে না,সেটা ও এতোদিনে অনেকটাই বুঝে গেছে.......বারান্দার দিকে দেয়াল টা দেখে মনে হয় না এটা কোনো রোম....পুরোটাই গ্লাস আর বারান্দায় এতো সবুজ ঘাস আর লতিকা বাহার গাছ উপর থেকে বেয়ে আছে রোমে হঠাৎ করে কেউ রোমে ঢুকে সেদিকে চোখ রাখলে মনে হবে কোনো খোলা মাঠের সামনে দাঁড়িয়ে আছে.....আর সেই কাঁচের দেয়ালের পাশেই বিশাল বুক সেলফ-অনেক বইয়ের সমাহার...পাশেই একটা বড় পড়ার টেবিল সেখানেও বই...তার পাশে আবার ছোট একটা পড়ার টেবিল....এসব থেকে একটু দূরে একটা মাঝারি সাইজের বেড.......তারপাশেই একটা আলমারি....আর বেডের ঠিক সামনা সামনি ড্রেসিং টেবিল-বেড থেকে উঠে প্রথমে ড্রেসিং এ নিজের মুখটাই দেখতে হবে,এমন করেই রাখা সেটা..........নাহ আর কিছু নেই.........অন্য রকম একটা রোম সাধারনত এমন রোম কম হয় এই বয়সী মেয়েদের.......স্টাডি রোম টা আলাদা থাকে আর ঘরে ড্রেসিং এর পাশে সাজগুজো'র জিনিসে ভরপুর-যেটা নৌশিনের রোমে নেই.................
"সাদাদ ফ্রেস হয়ে নাও...."(নৌশিন)
......সাদাদ রোম ছেড়ে নৌশিনের দিকে খেলায় করে.....
"কি হলো????আমি ব্যাগ থেকে জিনিস গুলো নামিয়ে রাখছি তুমি ফ্রেস হয়ে এসো...."(নৌশিন)
"ওহ....ব্যাগ তো আমি গাড়ি থেকে নামাতেই ভুলে গেছি....কে নামালো??"(সাদাদ)
"তুমি নেমে যখন বাবার সাথে কথা বলছিলে আমিই নামিয়েছিলাম......পরে সালাম কে হাত থেকে নিয়েছে আমিও খেয়াল করি নি....এখন সালাম দিয়ে গেলো......"(নৌশিন)
"এই মেয়ে...গাড়ি থেকে নামালে আর কে তোমার হাত থেকে নিলো টের পেলে না???আমার ব্যাগটা হারালে কি হতো???"(সাদাদ)
"আহা রে....এমন একটা ভাব করছো-যেন কি দামী জিনিস আছে তোমার এখানে???আছে তো ঐ কিছু শার্ট আর পেন্ট.....আর সেখানে তো বাবা,দাড়োয়ানই ছিলো পরে তো ভাইয়া আসলো...বাবা তো নেয় নি কারন আমি বাবাকে জড়িয়ে ধরলাম তো তখন ব্যাগটা হয় ভাইয়া না হয় দারোয়ান নিয়েছে হাত থেকে আমি বুঝতে পেরেছি যে কেউ ব্যাগটা নিলো বাট কে নিলো সেটা দেখি নি....."(নৌশিন)
"তাহলে তো হলোই...আর দামী জিনিস নেই মানে....বহুত দামী জিনিস আছে......"(সাদাদ)
"আচ্ছা.....কি এমন দামী জিনিস,শুনি??"(নৌশিন)
.....সাদাদ নৌশিনের কাছে এসে...কানের কাছে মুখ নিয়ে....."আন্ডার ওয়্যার"(দুষ্টুমিষ্টি হেঁসে)
"সা......দাদ...."(ধাক্কা দিয়ে সাদাদকে সরিয়ে)
"এতো লজ্জার কি আছে....আমি যেখানেই যাই ব্যাগ তো ভাবীই গুছায় বাট এটা দিতে ভুলে না....আর তুমি আমার মিসেস হয়ে এটা শুনেই লজ্জা পাও.......নট এক্সপেক্টেড......."(সাদাদ)
"আমি জানি না কিছু....লজ্জা লাগলে আমার কি দোষ???"(নৌশিন)
"নেক্সট টাইম আমার সব ব্যাগ তো তুমি গুছাবে,ভাবী তো আজ লাস্ট দিনের মতো গুছিয়ে দিলো এখন থেকে তো আর দিবে না নিশ্চয় কজ আমার মিসেস এসে গেছে জীবনে....সো ব্যাগ গুছানোর সময় কাইন্ডলি এটা দিতে ভুলো না.....ভুলে গেলে আবার আমারি প্রব......"(সাদাদ)
"পারবো না আমি....তুমি যাও এখন ওয়াশরোমে..."(সাদাদকে ওয়াশরোমে দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে)
.....সাদাদ আবার নৌশিনের দিকে ঘুরে....
"আগে এগুলো তো চেঞ্জ করতে দাও........"(সাদাদ)
"হুম তাড়াতাড়ি করো সাদাদ না হলে আজ রাত টা কখন সকাল হয়ে যাবে-বুঝতে পারবে না তুমি"(নৌশিন)
"এমনিও বুঝবো না....."(সাদাদ)(দুষ্টু হেঁসে)
"সাদাদ.....তুমি না বেশ বেশ"(ব্লাশিং হয়ে)
.....ওকে।।।।কোর্ট টা খুলে নৌশিনের মুখে ছুড়ে দেয়......."উম......ছ......খোলার কি ধরন......"
"আমি এভাবেই খুলি......."(আয়নার সামনে গিয়ে ঘড়ি টা খুলতে খুলতে)
...."তাই বলে মুখের উপর....পারোও তুমি"(নৌশিন)
"আরে মিসেস আপনার তো আমার ছোঁয়া পেতে খুব ভালো লাগে...তাই দিলাম...."(সাদাদ)
.....নৌশিন আবারও ব্লাশিং হয়...সাদাদের কোর্ট ছুড়ে দেওয়ায় নৌশিন আসলেই মনে মনে অনেক খুশি হয়-সাদাদ সেটা নৌশিনের মুখ দেখে ভালো করে উপলব্ধি করতে পারে......
"আচ্ছা ঠিক আছে...মানলাম সব....তুমি আমার ওয়াশরোম টা ব্যবহার করো আমি ভাবীর টা করছি...আর তোমার সব কিছু আমার কার্বাডে রাখলাম "
.....নৌশিন কার্বাড বন্ধ করতে গিয়ে কথাটা বলে তখন সাদাদ ঘড়ি খুলে পকেট থেকে ওয়ালেট বের করতে নিয়ে চমকে যায়.....
"এই মেয়ে!!!!"(চেঁচিয়ে)
....নৌশিনও চমকে যায় সাদাদের এমন করে ডাকায়...তড়িঘড়ি করে সাদাদের দিকে তাকায়....
"কি হয়েছে?????"(নৌশিন)
.....সাদাদ নৌশিনের কাছে গিয়ে-পকেটে হাত দিয়ে মাফলার টা বের করে ওকে দেখায়...........নৌশিন বুঝতে পারে সাদাদ কেন ওভাবে তাকে ডাকলো....
তাই মুচকি হেঁসে জানতে চায়..."কি???"
"কি মানে....আমার তো মনে ছিলো না....তুমি তো বলেছিলে এক...."(সাদাদ)
....সাদাদ কথাটা সম্পূর্ণ করার আগেই নৌশিন ওর এলোমেলো চুল গুলো সরিয়ে সাদাদ কে গলার দিকে ইশারা করে...সাদাদ খেয়াল করে গলায় আলাদা একটা হার দেখতে পায় যেটা নৌশিন বাসা থেকে পড়ে আসে নি আর গলার দাগ টাও দেখা যাচ্ছে না.................
সাদাদ বিস্ময় হয়ে জানতে চায়"কেস টা কি হলো???"
নৌশিন মুচকি হেঁসে জবাব দেয়"কেস টা হলো 'মা এই গয়না টা পড়িয়ে দিয়েছে যাতে করে দাগ টা দেখা না যায়'"
"ম মানে.....কোন মা???"(সাদাদ)
"তোমার শাশুড়ি মা"(নৌশিন)
"এই কি বলো???মা কে বলছো তুমি??আর কি বললা??"
"তো না বলে কি করতাম তুমি তো বন্ধুদের সাথে গল্প করছিলে,আর আমার দাগ টা ভেসে উঠছিলো ভেবে আমি মাকে ইশারা করে ডেকে আনি,সেখানে মা ছাড়া কথাটা বলার মতো আর কাউকে পায় নি....."
"তার মানে তখন যে মা কে নিয়ে ওয়াশ রোমের দিকে গেলে???"
"হুম....."
"কি বলছো তুমি???"
"কি আর বলবো...মা এমনিতেই সব বুঝে গেছে...তাই মায়ের গলার এই হার খুলে পড়িয়ে দিয়েছে....আর বলছে আমি নাকি গাধী"
"বুঝে গেছে মানে কি?"
"কি মানে কি,মানে কি করছো.....মাকে আমি ডেকে নিয়ে জাস্ট গলা টা দেখালাম,মা রুমাল দিয়ে একটু মুছেই হেঁসে দিলো আমি আর কিছু বলার আগেই মা আমায় বলে"গাধী মেয়ে,ঠিক করে আসবি তো"আর হার টা খুলে গলায় ঝুলিয়ে দিলো.....আসলেই কত কি ভাবলাম দুজনে বাট আর একটা হার পড়ার কথা মাথায় আসলো না,মায়ের সামনে কি যে লজ্জা লাগছিলো...."
"তোমার আর কি মায়ের সামনে গেলে আমার এখন কেমন লাগবে তা তো তুমি বুঝবে না.....ভাববে ওনার মেয়েকে আমি কত কি না করি....."
"ইশ.....সাদাদ.....তুমি না আসলেই....মা এসব কিছু ভাববে না...."
"হুম হতে পারে....আর ভাবারও তো তেমন কিছু নেই...যেহেতু মা একবার দেখেই কেস টা বুঝে গেলো তারমানে মায়েরও এইসব বিষয়ে অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে.....এট লিস্ট তোমার চেয়ে বেশি আছে তা না হলে এতো সহজে এতো দুরন্ত সমাধান দিতে পারতেন না....."(মুচকি হেঁসে)(যেটাকে শয়তানী হাঁসি বলা যায়)
"সাদাদ(চেঁচিয়ে).....তোমার মাথা ঠিক আছে???কাকে নিয়ে কি বলছো???"
"ভুল কি বললাম.....???তাছাড়া আমার শ্বশুরকে কিন্তু
দেখেই বুঝা যায় যুবক বয়সে তিনি আমার চেয়েও ডেসিং প্লাস হেন্ডসাম ছিলো.....সো এটা নরমাল......"
"সাদাদ......"(আবারও চেঁচিয়ে ওঠে)
"হা হা হা হা.....যাহা সত্যি তাহাই বলিয়াছি সোনা....."
"কি বাজে তুমি...ছিঃ.....শ্বশুর শাশুড়ির কথাও বলো.....লজ্জা নাই তোমার একফোঁটা..."(নৌশিন)
"হা হা হা"(সাদাদ)
"আবার হাসছো?????"(নৌশিন)
"না না.....তুমি একদম বলছিলে না,'বাবা-মা য়ের যখন বিয়ে হয়,মা খুব ছোট ছিলো'?"
"হ্যাঁ.....ক্লাস নাইনে পড়তো....তো??"
"তার মানে...একটা কথা ভেবে দেখো.....(নৌশিনের ঘাড়ের পেছনে দু হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে)....মিনিমাম চার পাঁচ বছর পর ভাইয়া হয়েছিলো কারণ আমার শ্বশুর মশাই যথেষ্ট সচেতন ছিলেন তাই নিশ্চয় এতো আগে আমার শাশুড়ি মাকে এতো কষ্ট দেন নি....তো সেখানে ধরো ফাইভ ইয়ারস...দেন ভাইয়া আর তারও নয় বছর পর আমার জান টা এসেছে....তার মানে বিয়ের পনেরো ষোল বছর পর তোমার আগমন......ভাবতে পারছো বিষয় টা....শ্বশুরের বিয়ের সময় তিনি নাকি বি.এ কমপ্লিট করেছিলেন তার মানে ২৩/২৪,বছর আগের দিনে তো এমন সময়ই লাগতো....তো ২৪+১৫....আ আ আ তো মোটমাট ৩৯ বছর বয়সে তিনি আমার শাশুড়ি মায়ের সাথে সামথিং সামথিং করেছেন...যার ফলস্বরূপ তুমি আমার মিসেস আজকে....কি পরিমাণ একটিভ ছিলো আমার শ্বশুর....চিন্তা করতে পারছো তুমি???"....আবার সেই শয়তানী হাঁসি শুরু হয় সাদাদের.....নৌশিন হা করে সাদাদের কথা গিলছে.....
"আল্লাহ....সাদাদ কি চিন্তা করবো...বাবা আমার তিনি.....তুমি নিজের শ্বশুর শাশুড়ি কে নিয়ে কি বলছো.....ধ্যাত...এটা ঠিক না..."(মন খারাপ করে উত্তর দিলো নৌশিন)
"ছাড়ো...আর যাও ওয়াশরোমে...একটা বেজে গেলো...."(নৌশিন)
"এই তুমি মুখ টা এমন করেছো কেন??আমি কি এমন বললাম......(আরও দুষ্টামির সাদ হচ্ছে সাদাদের)....উনচল্লিশ বছরে তোমার আগমনের কারণ হয়ে চল্লিশ বছর বয়সে তিনিতোমার মতো পরীর মুখ দেখেন এটা তো ওনার সৌভাগ্য...."(সাদাদ)
"এই তুমি কি উনচল্লিশ-চল্লিশ করছো।।।।এই সময়েও ছেলেরা অনেক একটিভ থাকে....এটা কোনে ব্যাপার না.....সো বেবি হতেই পারে......পঁয়তাল্লিশ পঞ্চাশ বছরেও অনেক পুরুষ বাচ্চা প্রদান কারণ হয়....ইভেন আমাদের ধর্মমন্ত্রী সিক্সটি আপ হয়েও দু দুটো ছেলের বাবা হলেন....আর তুমি নিজের শ্বশুরকে নিয়ে কি বলছো...."(নৌশিন)
"বাহ....বউ আমার অনেক কিছু জানে দেখছি...তার মানে আমি আরও ত্রিশ বছরের মতো তোমাকে ব্যাথাতে সুখ দিতে পারবো...."(আটুট হেঁসে)
.....নৌশিন ভ্যাঁবাচেকা খেয়ে যায়.....কথাটা প্রথমে মাথার উপর দিয়ে গেলেও বুজতে বেশি দেরি লাগে নি....তাই লজ্জায় পরে যায়......"সাদাদ......শয়তান....)(বলেই সাদাদের হাতের নিচ দিয়ে পালিয়ে অন্য পাশে চলে যায়)
.....সাদাদ হাঁসতে থাকে.....
"পালালে কি হবে মেরি জান,ধরা তো দিতেই হবে????(নৌশিনের দিকে তাঁকিয়ে)
"সাদাদ প্লিজ.....ফ্রেস হও......."(সাদাদের দিকে না ফিরেই কথা বলে নৌশিন....ফিরবেই বা করে সাদাদ যা বলছে)
....সাদাদ শুধু শার্টের বোতাম গুলো খুলছে......নৌশিনের সামনে গিয়ে শার্ট খুলে কোর্টের মতো সেটাও ওর মুখে ছুড়ে দেয়...............
"উম......সাদাদ...এটাও...???"(নৌশিন)
শার্ট মুখ থেকে সরিয়ে হাতে নেয় নৌশিন...মুখে ছুড়ে মারায় নকে শার্টের গন্ধ লেগেছে...আর ছেলেদের শার্টের গন্ধ যে একবার পেয়েছে বিশেষ করে এপ্রিল মাসে তার নিশ্চয় ছেলেদের শার্ট ধরতে ইচ্ছে করবে না......তার উপর সেই বিকেল থেকে রাত একটা পর্যন্ত সাদাদ একটা শার্ট পড়ে ছিলো...যতই এসিতে থাকুক আর পারফিউম লাগাক একটু হলেও গন্ধ হবেই...........
"উননননননহু.....ছিঃ.....কি বাজে গন্ধ....... "....সহ্য করতে না পেরে নৌশিনও শার্ট টাকে খাটে ছুড়ে মারে...
"এইটুকু সহ্য হয় না....এবার গেঞ্জি ছুড়ে দিলে কেমন হয়।।তার পর পেন্ট তার পর..... "....নৌশিনের দিকে এগিয়ে যায় সাদাদ আর নৌশিন পিছনে যেতে থাকে...
"এই পেন্টের পর আবার কি!একদম নির্লজ্জের মতো কথা বলবে না..আর আগাবে না বলছি আগে ফ্রেস নাও...তারপর কাছে আসবে...."(নৌশিন)
"তারপর তারপর......."সাদাদ নৌশিনকে ধাক্কা দিয়ে খাটে ফেলে দেয়...শার্ট টার পাশেই......আর সাদাদও নৌশিনের উপর...এমন ভাবে সাদাদ শুয়েছে-ওর বগল টা নৌশিনের মুখের কাছে একদম.....সাদাদ অবশ্য ইচ্ছে করে এটা করছে নৌশিনকে ঘামের গন্ধ দেওয়ার জন্য আর পাশে তো শার্টের গন্ধ আছেই.......সাদাদ নৌশিনের আরও কাছে যায়......নৌশিন নিতে পারছে না-কোনো ছেলের ঘামের গন্ধ জীবনে প্রথম এতটা কাছ থেকে পেলে যা হয় আর কি...............
"সাদাদ প্লিজ......উঠো....তোমার ঘাম.....প্লিজ প্লিজ....."
.....নৌশিন নিতে পারছে না আর,চোখ বন্ধ করে ফেলেছে মুখ সরাতে চাইছে কিন্তু সাদাদ সরাতে দিলে তো!........"যদি সারা রাত এভাবে রাখি????"(সাদাদ)
নৌশিন চোখ খুলে"একদম না"।।।।।উঠার জন্য জোড়াজোড়ি করে ব্যার্থ হয়.......
"আরে বাপ....জোড়াজোড়ি করে কি লাভ...আমার বডির দিকে একটু দেখো....রোজ সকালে কি জিম করি তোমার মতো চড়ুই পাখির ধাক্কায় পড়ে যাওয়ার জন্য???আচ্ছা বাদ দাও,গন্ধটা কেমন লাগছে?"
"বিশ্বাস করো বমি আসছে আমার.....উঠো প্লিজ।।।।"
......সাদাদ জানে ওর ঘাম সবসময় বেশি হয় আর নৌশিন প্রথম বারের মতো কোনো ছেলের গন্ধ এভাবে পাচ্ছে বলে সেটা ওর সহ্য করতে খারাপ লাগছে এটাও ভালোভাবে বুজতে পারছে...........তবুও সব বিষয়ে নৌশিনকে জ্বালানো ওর চার বছরের অভ্যাস.....
"কি??আমার শরীরের ঘাম তুমি নিতে পারছো না....ওকে আমি ফ্রেস হচ্ছি না...এভাবেই শুরু করবো।।।।"(গলার দিকে মুখ এগিয়ে নিয়ে যায়)
আর নৌশিন পাশে থাকা শার্ট নিয়ে সাদাদের মুখে চেপে ধরে....নৌশিন খুব ভালো করে জানে সাদাদ চাইলে শার্ট সরাতে ওর এক মিনিটও লাগবে না-তাই এক রকম বাঁচার জন্য বলে উঠে "প্লিজ জান....এখন না-ফ্রেস হয়ে আসো...তারপর যা করার করো"..........
......নৌশিনের এমন কথায় সাদাদ হেঁসে ফেলে কারণ সাদাদ বুজেছে যে নৌশিন ঘামের গন্ধ থেকে বাঁচার জন্য কথাটা বলে ফেলেছে....যাক সাদাদে তাতে সুবিধাই হবে.........
সাদাদ শার্ট টা নৌশিনের হাত থেকে নিয়ে"সত্যি তো??যা করতে চাইবো তাই পাবো??"
"হুম.....এখন উঠো"
"মনে থাকে যেন নাহলে কাল কিন্তু সারাদিন গোসল না-করে সারা রাত.........."
"বললাম তো দিবো....যা চাও তাই......."
"বাহ....."
"এখন উঠো না.....পারছি না আর এতো ঘাম...."
সাদাদ সরে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পরে আর নৌশিন দৌঁড়ে গিয়ে দরজা খুলে.....আর দরজার একটু সামনে ওর ভাবী আর একটা সার্ভেন্টকে খাবার নিয়ে আসতে দেখে দাঁড়িয়ে যায়......"কি ব্যাপার এখন চেন্স করিস নি???"(ভাবী)
................................
To be continued..**🌷🌷🌷