ফন্ট সাইজ:
থিম:
তবু আছি কাছাকাছি

৫ম পর্ব

লেখক: সুমাইয়া ইসলাম মিম

#তবু_আছি_কাছাকাছি (Doctors love)💕

#writer_Sumaia_Islam_Mim
#part_5
💕
.
.
সুমু ভয় ভয় সাদির দিকে তাকিয়ে আছে৷ না জানি কি উপায় তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে!
---কি উপায় আছে আপনার কাছে?
সাদিঃ(মুচকি হেসে) বেশি কষ্টের কিছু না! শুধু.......
---(ভীত কন্ঠে) শুধু..কি?
সাদিঃ(হেসে দিয়ে) আমাকে...... 
---আপনাকে.....
সাদিঃ আমাকে...
---(বেশ রেগে) আরে ধুর মিয়া! বলবেন তো কি আপনাকে?
সাদিঃ কুল ডাউন! আমাকে একটা হেল্প করতে হবে!(দাঁত কেলিয়ে)
---কি হেল্প?
সাদিঃ আসলে আমি আমার আম্মুকে একটা সারপ্রাইজ দিতে চাই। তাই তুমি আমাকে হেল্প করবে!
---(খুশি হয়ে) অবশ্যই করবো!
সাদিঃ এতো খুশি হইলা ক্যান?
---(থতমত খেয়ে) আসলে আমার কাছে এই পর্যন্ত যতগুলো বদ হেল্প চাইছে সবগুলো নয় গার্লফ্রেন্ড বা বয়ফ্রেন্ডকে সারপ্রাইজ দিতে! এই প্রথম কেউ তার মাকে সারপ্রাইজ দিবে বলে হেল্প চাইছে তাই আমি অবশ্যই হেল্প করবো। 
.
আজকে সাদির আম্মু ঢাকা ব্যাক করবে। তাই এই সুযোগে সাদি চেয়েছে তার মাকে সে একটা সারপ্রাইজ দিবে। সারপ্রাইজ তো একটা বাহানা আসলে সুমুকে তার সামনে নিয়ে গেলে সে এমনিই সারপ্রাইজড হবে।
.
সুমু নীলকে খুঁজছে বলার জন্য যে সে আজ ক্লাস করবে না। সাদির আম্মুর জন্য সারপ্রাইজ প্ল্যান করবে কিন্তু নীলকে কোথাও পাচ্ছে না। এবার বেশ বিরক্ত হয়ে সুমু নীলকে ফোন দিল,
---এই বানরের সেনাপতি! কই তুই? 
নীলঃ আমি বটতলায়!
---তুই কলেজে নাই?
নীলঃ নাহ!
---আচ্ছা ওয়েট আমি আসতেছি!
নীলঃ তুই এসে কি করবি?
---তোর মাথায় গাট্টা মারবো! চুপচাপ ওখানে বসে থাক!
.
প্রায় পাঁচ মিনিট পরে সুমু বটতলায় পৌছায়। নীলকে দেখে হালকা হেসে দেয়। নীল সুমুকে খেয়াল করে নি। সুমু নীলের পিছন থেকে মাথায় হালকা করে গাট্টা মারে! নীল পিছন ফিরে সুমুকে দেখে মৃদু হাসে। যা দেখে সুমুর বেশ খটকা লাগে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এতোক্ষণে নীল উল্টো সুমুকে গাট্টা মারতো।
---(ভ্রু কুঁচকে) কি হইছে তোর? মন খারাপ কেন?
নীলঃ(আমতাআমতা করে) কই কিছু হয়নি তো!
---এখন তুই আমাকে শিখাবি? আমি তোর থেকে মাত্র একমাসের ছোট!
নীলঃ(ক্লান্ত হেসে) মানুষ বড় হওয়ার বড়াই করে আর তুই ছোট হওয়ার বড়াই করিস?
---হ্যাঁ! কারন এটাই আমি!
নীলঃ হুম! আমার পিচ্চি একটা বোন!
---তোর কানের নিচে দিমু ফাজিল পোলা! আমারে কোন এংগেল দিয়া পিচ্চি লাগে?
নীলঃ(হেসে) তুই হাতে পায়ে বুড়ি হইলেও আমার কাছে পিচ্চিই থাকবি!
---হুম বুঝছি! এখন আসল কাহিনী বল!
নীলঃ কিছু না!
---তুই বলবি না আমি যাবো?(রেগে)
নীলঃ অনুর সাথে ব্রেকআপ হইছে!
---(ভ্রু কুঁচকে) কেন?
নীলঃ বাদ দে! একটা গেছে তো কি হইছে অনেক গুলো চলে আসবে!
---এক মিনিট এক মিনিট! সামহাউ তোদের ব্রেকআপের কারনটা কি আমি!(অস্থির হয়ে)
নীলঃ সুমু তুই উত্তেজিত হইস না! অল ওকে!
---ওয়াট ওকে? আমার জন্য তোর ব্রেকআপ হইছে এন্ড ইউ সে অল অকে?
নীলঃ এখানে তোর কোন ফল্ট নেই সুমু! নিজেকে দোষ দিবি না তুই!
সুমুর চোখ থেকে আপনাআপনি পানি পড়ছে। সে ভাবতেও পারে নি তার জন্য তার বেস্টফ্রেন্ডের ব্রেকআপ হবে!
---কি হয়েছে খুলে বল!
নীলঃ কিছু.....
---(বেশ জোরে) সবটা বলতে বললাম।
ঘটনাটা এমন যে,,,,,,
      সুমুর থেকে বিদায় নিয়ে নীল অনুর ফোন রিসিভ করে আর তারা একসাথে দেখা করার জন্য বটতলায় আসে।
নীলঃ অনু! সরি ইয়ার! একটু লেট হয়ে গেলো। আসলে সুমুকে খুঁজে বলে এসেছি নয়তো বেচারি আমাকে খুঁজতো!
অনুঃ ও আচ্ছা! সুমু তোমাকে খুঁজতো? আমি খুঁজি না? 
নীলঃ কি বলছো জান?
অনুঃ এএ,,,,ডোন্ট কল মি দিস! আমার কোন প্রায়োরিটি তোমার কাছে নেই। কিছু হইলেই সুমু সুমু! আমি তোমার গার্লফ্রেন্ড নাকি সুমু?
নীলঃ(অবাক হয়ে) কি বলছো এসব অনু?
অনুঃ আমি সত্যিটা বলছি! সুমুর সাথে তোমার অ্যাফেয়ার আছে! তাইতো আমাকে তুমি খুব কম সময় দাও! আসলে তুমি গাছেরও খেতে চাও আবার তলারও কুড়োতে চাও!(রেগে, চিৎকার করে)
নীল আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারলো না। ঠাস করে একটা চড় লাগিয়ে দিল অনুর গালে। এতোক্ষণ যা নয় তাই বলেছে, তা সহ্যও করেছে কিন্তু তার আর সুমুর সম্পর্কে এতো বাজে কথা সে নিতে পারে নি। এবার নীলও বেশ চিৎকার করে বলল,
নীলঃ আরে! আমার তো তোকে সন্দেহ হয়! এতো চিপ মেন্টালিটির মেয়ে তুই? তুই আমাকে আর সুমুকে সন্দেহ করিস? কি পরিমান ঈর্ষা তোর মধ্যে! মাই গড!
 
কিছুক্ষণ থেকে আবার বলতে লাগলো। অনুকে বলার সুযোগই দিচ্ছে না!
নীলঃ আমার আর সুমুর সম্পর্ক ভাই-বোনের মতো! যা তুই কখনো বুঝবি না। আরে তোর মেন্টালিটি এতো খারাপ তাই আমি কি করে বুঝতে পারলাম না! জানিস! আমার সুমু আমাকে কি বলে? ছোট ভাই! রাকিব ভাইয়ার পরে ও আমাকে ভাই মানে! সব কথা শেয়ার করে। ময়মনসিংহে ওকে আমি আগলে রাখছি! আমার বোন হয় ও! আর তুই কি বানিয়ে দিলি! এইসব কথা যখন আমার ছোট বোনটা জানবে ওর চোখ থেকে অটোমেটিক পানি ঝরবে! যার মানে তুমি বুঝতে পারবে না। চলে যাও আমার চোখের সামনে থেকে!
অনুঃ(কান্না করে) সরি...নীল! আসলে....
নীলঃ(জোরে চিৎকার করে) জাস্ট লিভ!
 তারপর অনু কাঁদতে কাঁদতে ওখান থেকে চলে যায়!
বর্তমান........ 
---তুই পাগল নীল! এক্ষুনি অনুকে ফোন লাগা আমি কথা বলবো ওর সাথে!
নীলঃ একদম না সুমু! বেশি ভালোমানুষি দেখাবি না বলে দিলাম।
---দেখাইলাম না ভালোমানুষি! অনুকে সরি বলে যদি নিজের লাইফে ফেরত না আনসোস তো আমার সাথে কথা বলবি না।
নীলঃ কিন্তু ওর মতো একটা মেয়ে....
---আরে গাধা! ও তোরে নিয়ে ইনসিকিউর ফিল করে! এটা তো ভালো। আর এখন যখন আমাদের সম্পর্কে জানছে তো আর কিছু বলবে না। তুই ওরে মানিয়ে নিয়ে আয়। আর ভবিষ্যতে আমিও চেষ্টা করবো যাতে তুই ওকে বেশি সময় দিতে পারিস। আমিও কি বোকা! আচ্ছা বাদ দে। আর শোন আমি একটু ডাক্তারসাহেবের সাথে বাইরে যাচ্ছি তোকে আর আসতে হবে না। আমি একাই হোস্টেলে ফিরে যাবো। তুই অনুর সাথে দেখা কর!
নীলঃ সাদি স্যারের সাথে তোর কি দরকার? টাকা ফেরত দেস নাই? আর আমি তোর থেকে ওরে বেশি সময় দিতে পারবো না। (ভ্রু কুঁচকে) 
---(একটু হেসে) এই হইছে ভাইদের প্রবলেম! আরে উনি ওনার আম্মুকে সারপ্রাইজ দিবে তাই একটু হেল্প চাইছে। আর অনুর রে তুই সময় দিবি না তো কি তোর বাপে দিব?
নীলঃ(চোখ টিপ দিয়ে) নাহ! আমার বাপে আমার মায়েরে সময় দেয়!
---ওরে শয়তান! বাপ মায়েরেও ছাড়ছ না! আচ্ছা আমি আসি! 
নীলঃ হুম সাবধানে যাইস!
---আচ্ছা!
.
সুমু বটতলা থেকে বের হইতে হইতে সাদিকে ফোন দিল।
---ডাক্তারসাহেব! আমাকে একটু বটতলা থেকে পিক করতে হবে।
সাদিঃ ওখানে কি করো তুমি?
---(দাঁতে দাঁত চেপে) ক্রিকেট খেলি!
সাদিঃ সর্বনাশ! তুমি ক্রিকেট ও খেল!
---আসলে বলতে পারতাম!
সাদিঃ এসে গেছি! সামনে তাকাও!
সাদি একটা রিক্সার উপর বসা কানে ফোন! সুমু সাদিকে দেখে একটু হেসে দিল। রিক্সা থামিয়ে সুমুকে উঠতে ইশারা করলো। কিন্তু সুমু প্রথমে একটু অস্বস্থি করলেও পরক্ষনে রিক্সায় উঠে পড়লো! 
.
সাদি সুমুকে অস্বস্তিতে দেখে একটু মন খারাপ করেছিল কিন্তু পরক্ষনে সুমুকে রিক্সায় উঠতে দেখে তার ঠোঁটে হাসি ফোঁটে।
রিক্সা চলছে আপন গতিতে। আর সাদি সুমু আলাদাভাবে এই মুহূর্তটা অনুভব করছে। নিরবতা ভেঙ্গে সুমু বলল,
---আচ্ছা ডাক্তারসাহেব! আপনি আমাদের কলেজের প্রফেসর! কিন্তু আপনি রিক্সায় কেন আসেন? মানে আমি সব প্রফেসরদের খেয়াল করেছি। বেশিরভাগ ডক্টরস গাড়িতে আসে আর কিছুসংখ্যক বাইকে। কিন্তু আপনি প্রতিদিন রিক্সায় আসেন! ব্যাপারটা কি?
সাদিঃ(একটু হেসে) আসলে ঢাকায় বাবার বাড়ি গাড়ি সবই আছে। আমার নিজেরও একটা গাড়ি আছে। এখানে নিজের টাকায় ফ্ল্যাট কিনে হাতে গাড়ি কেনার মতো টাকা নেই। তাই ভাবলাম অতো বিলাসিতা করে লাভ নেই। রিক্সা চড়তেও আলাদা আনন্দ পাওয়া যায়। তাই নয় কি! আরেকটা বিষয় কি জানো! এই যে রিক্সায় আছি বলে আজ তুমি আমার পাশে নির্দিধায় বসেছো, কিন্তু আমার নিজস্ব গাড়ি হলে তুমি কখনই গাড়িতে উঠতে না।
---(হেসে দিয়ে) অপ্রিয় হলেও সত্যি কথা বলেছেন। আপনার গাড়ি হলে আমি আসলেও উঠতাম না। তা আপনি বাইক চালান না?
সাদিঃ উহুম! না! মায়ের আদেশ! বাইক চালানো যাবে না।
---বাহ! আন্টির এই আদেশটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে। আমি আর আম্মুও ভাইয়াকে বাইক চালাতে দেই না। আমারও পছন্দ না!
সাদিঃ(বিড়বিড় করে) আজকে থেকে তো তাহলে আরো আগে চালাবো না।
---কিছু বললেন?
সাদিঃ নাহ! তো প্রথমে কোথায় যাবে?
---আগে শপিংমল চলুন!
 সাদিঃ শপিংমল? 
---(হেসে) হুম! আগে আন্টির জন্য একটা সুন্দর দেখে শাড়ি কিনবো!
.
.
সুমু আর সাদি, সাদির আম্মুর জন্য খুব সুন্দর একটা শাড়ি কিনলো। যদিও পছন্দ করেছে সুমু। তারপর সুমু সাদিকে নিয়ে একটা কেকশপে গেলো।
---ভাইয়া! এই চকলেট কেকটা দিন!
দোকানদারঃ ইয়েস! ম্যাম কেক এর উপর কি লিখবো?
---থ্যাংক ইউ আম্মু লিখবেন।
সাদি অবাক হয়ে সুমুর দিকে তাকিয়ে আছে৷ সুমু কি করে বুঝলো যে সে তার মাকে ধন্যবাদ দেওয়ার জন্যই এই প্ল্যানটা করছে?
---(মুচকি হেসে) আজকে আন্টির জন্মদিন হলে আগেই বিষয়টা উল্লেখ করতেন নয়তো এতোক্ষণে আন্টিকে কয়েকবার ফোনও করতেন। কিন্তু যেহেতু এমন কিছুই আপনি করেন নি তার মানে আন্টিকে ধন্যবাদ দেওয়ার জন্যই এতো প্ল্যান। আর তার মধ্যে আবার বললেন আপনি ফ্ল্যাট কিনেছেন। তার মানে আন্টি আপনার ফ্ল্যাট গুছিয়ে দিতে অবশ্যই সাহায্য করেছে! আর কিছু?
সাদিঃ(অবাক হয়ে) নাহ! তোমার লজিক সেন্স অনেক ভালো!
---(ভাব নিয়ে) আগেই বলেছি! 
সাদিঃ(হেসে) হুম!
অতঃপর সাদি আর সুমু কেক নিয়ে কেকশপ থেকে বের হলো।
---আন্টি কি পছন্দ করে? আই মিন ফ্লাওয়ার ওর মেকআপ?
সাদিঃ আম্মু তো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরে তাই মেকআপ খুব কম ব্যবহার করে আর আম্মুর অর্কিডস পছন্দ।
---হুম! ওকে চলুন!
সুমু সাদিকে নিয়ে একটা লাইব্রেরিতে গেলো। সেখান থেকে কয়েকটা ইসলামিক বই কিনলো আর অনেক সুন্দর একটা তসবিহ কিনলো। সাদি একটা বিষয় খেয়াল করলো যে সুমু কেনাকাটায় বেশ পটু। কোন দোকানদারই সুমুকে ঠকাতে পারছে না। খুব দক্ষতার সাথে দরদাম করছে। শুধু বই কেনার বেলায় সুমু কোন দরদাম করে নি দেখে সাদি জিজ্ঞাসা করলো,
সাদিঃ আচ্ছা সুমু একটা কথা জিজ্ঞাসা করি! তুমি সব কিছুতেই বারগেইনিং করলে বাট বই কেনার সময় বারগেইনিং করলে না কেন?
---(বইয়ের পৃষ্ঠা খুলে) কারন এখানে বইগুলোর হাদিয়া দেওয়া আছে। আর ইসলামিক বইয়ে এক্সট্রা চার্জ নেয় না যদি তারা সৎ ব্যবসায়ী হয়ে থাকে তো। আর আমি এই লাইব্রেরি থেকে মাঝে মাঝেই বই কিনি৷ আমিও ইসলামিক বই পড়ি তাই এর প্রাইজ জানি! বুঝলেন?
সাদিঃ হুম! খুব বুঝেছি?
---কি বুঝলেন?
সাদিঃ এটাই যে তুমি কেনাকাটায় অনেক দক্ষ!
---(হেসে দিয়ে) সেটা তো আমিই!
সাদি ও হেসে দিল। দুইজনে কেনাকাটা করে একটা ফ্লাওয়ার শপে গিয়ে অর্কিডের একটা বুকে নিলো! সুমু আলাদা একটা ছোট কিউট কার্ড কিনে তাতে সাদিকে দিয়ে ছোট বার্তা লিখিয়ে তার হাতে দিল। সাদিও ফুল নিয়ে রেখেছে। এর মধ্যেই সাদি সুমুকে এক গুচ্ছ গোলাপ দিল। 
---এটার দরকার ছিল না। বাট থ্যাংক ইউ।
সাদিঃ তোমার গোলাপ ফুল পছন্দ না?
---কে বলল? ভালোই লাগে কিন্তু লাফানোর মতো পছন্দ করি না। এমনি ভালো লাগে!
সাদিঃ হুম! তোমার এক্সপ্রেশন নরমাল দেখে বুঝতে পারছি!
---সরি ফর দ্যাট!
সাদিঃ নো! নো! ইটস ওকে!
সুমু উত্তরে একটু মুচকি হাসি দিল। কেনাকাটা শেষে সুমু সাদিকে বাই বলে চলে যেতে চেয়েছিল কিন্তু সাদি জোর করে বলল,
সাদিঃ এতো সব আয়োজন করতে সাহায্য করেছো এখন অনুষ্ঠানে ও থাকবে। প্লিজ বাসায় চলো! আম্মু তোমাকে দেখে খুব খুশি হবে। আমার ছাত্রী হিসেবে না যাও! কিন্তু সিনিয়র এর বোন হিসেবে যেতেই পারো!
সুমু কিছুক্ষন চিন্তা করে বলল,
---ঠিক আছে। চলুন!
সাদিঃ ধন্যবাদ! 
---স্বাগতম!
.
সাদি আর সুমু এক সাথে সাদির ফ্ল্যাটের সামনে এসে সুমু বলল,
---আপনি বুকেটা নিয়ে দরজায় দাঁড়ান। আর আন্টি গেট খুলতেই সুন্দর একটা হাসি দিয়ে ফুলটা ওনার হাতে দিয়ে জড়িয়ে ধরবেন।
সাদিঃ ওকে ম্যাডাম!
সাদি বাধ্য ছেলের মতো সুমুর কথা পালন করলো। সাদির আম্মু গেট খুলতেই অবাক৷ প্রথমে সুমুকে লক্ষ্য করে নি কেননা ইচ্ছে করে সাদি সুমুকে আড়াল করে রেখেছিল। সাদি তার মাকে জড়িয়ে ধরে কানে ফিসফিস করে বলল,
সাদিঃ তোমার ইচ্ছে পূরণ করলাম৷ নিয়ে এসেছি সুমুকে তোমার কাছে। দেখো তো পছন্দ হয় কিনা?
মামুনিঃ(খুশি হয়ে) সত্যি? 
সাদিঃ আস্তে আম্মু! ও কিছু জানে না!
সাদি সরতেই সাদির আম্মু সুমুকে ভিতরে এনে কথা বলতে লাগল। সুমু প্রথম দেখায় প্রথমেই সালাম দেওয়ায় খুব খুশি হয়েছেন তিনি। সুমুর হাতটা শক্ত করে ধরে রেখেছেন যেন সুমু তার হারিয়ে যাওয়া কোন মেয়ে! সুমুকে নিয়ে সোফায় বসে খুব খুশি মনে কথা বলে যাচ্ছে, সুমুকে এটা সেটা জিজ্ঞাসা করে যাচ্ছে আর সুমুও সবকিছুর জবাব দিচ্ছে৷ তার মুখে বিরক্তির লেশমাত্র নেই। সাদি বুকে হাত ভাঁজ করে দরজায় হেলান দিয়ে তার মা আর সুমুকে দেখে যাচ্ছে। কি সুন্দর প্রথম পরিচয়ে এরা মিশে গেছে একে অন্যের সাথে। সুমুকে সাদির আম্মু যেতে দেয় নি। একসাথে কেক কেটে প্রথমেই সুমুকে খাইয়ে দেয় সাদির আম্মু। যা দেখে সাদি একটু রাগ করার নাটক করে,
সাদিঃ এটা কি হলো আম্মু! তুমি আমাকে আগে কেন খাইয়ে দাও নি?
বলে পরক্ষনেই হেসে দিল সাদি। সাদির আম্মুও কম যায় না। যেই কেকের অংশ সুমুকে খাইয়েছে সেটা থেকেই সাদিকে খাইয়ে দিতে দিতে সাদির কানে কানে বলল,
মামুনিঃ সুমুর ঠোঁটের এক্সট্রা মিষ্টতা ছোঁয়াতে! কি ভালো লাগে নি?
সাদি জাস্ট অবাক! তার মা এগুলো কি করছে। সাদি তার মাকে জড়িয়ে ধরে বলল,
সাদিঃ ইউ আর দ্যা বেস্ট আম্মু!
মামুনিঃ হুম হুম আই নো!
এরা মা ছেলে মিলে কি করছে তা সুমুর বোধগম্য হচ্ছে না। সে বোকার মতো তাকিয়ে আছে। এবার পালা গিফট খুলে দেখার। সাদির আম্মু ইসলামিক বইগুলো পেয়ে অনেক খুশি। 
মামুনিঃ তোরা কি করে বুঝলি আমার এই বইগুলো দরকার ছিল?
সাদি হেসে বলল,
সাদিঃ অল ক্রেডিট গোজ টু সুমু!
---(মৃদু হেসে) আসলে আমিও ইসলামিক বই পড়ি আর যেহেতু আপনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরেন তাই ভাবলাম বইগুলো আপনার ভালো লাগবে। এই বইগুলো আমি পড়েছি খুব ভালো লাগে। এই বইটায়(একটা বই দেখিয়ে) অনেকগুলো হাদিস একসাথে পাবেন। ভালো একটা সমগ্র!
মামুনিঃ আমার বইগুলো খুব পছন্দ হয়েছে। এই বইগুলো আমি আনাতে চেয়েছিলাম তার আগেই গিফট পেয়ে গেলাম!
সুমুকে দুপুরে খাইয়ে তারপর যেতে দিল সাদির আম্মু!
---এখন তাহলে আসি আন্টি!
মামুনিঃ হুম এসো! আর মনযোগ দিয়ে পড়ালেখা করবে। আর আমি তো তোমার ফোন নাম্বার নিলামই। মাঝে মাঝে ফোন দিব কিন্তু!
---আচ্ছা! যখন ইচ্ছা ফোন দিবা আন্টি। আমি কিছু মনে করবো না।
মামুনিঃ সাদি! মেয়েটাকে পৌছে দিয়ে এসো!
---না আন্টি দরকার হবে না। আমি চলে যেতে পারবো। তাছাড়া আমার একটু কেনাকাটা করতে হবে।
সাদিঃ তাহলে মার্কেটে বসে কিনলে না কেন? একসাথেই কেনা হয়ে যেত। 
---না না সমস্যা নেই। আমি এখন মার্কেটে যাব না। আশপাশে থেকে কিনে নেব। আর হোস্টেলে ডাক্তারসাহেব আর আমাকে একসাথে দেখলে শুধু শুধু বাজে কথা ছড়াবে মানুষ! আমি চলে যেতে পারবো!
সাদিঃ আচ্ছা চলো তোমাকে রিক্সা করে দেই। 
---(তাড়াহুড়ো করে) না! তার প্রয়োজন হবে না। আমি পারবো। আসি আন্টি!
সুমু তাড়াহুড়ো করে বের হয়ে যেতেই সাদিও সুমুর পিছু পিছু গেলো। সে কোনভাবেই সুমুকে একা ছাড়বে না। সুমু খালি রিক্সা রেখে একটা ফার্মেসীতে আগে ঢুকলো, তারপর কিছু কিনে আবার রিক্সায় উঠে পড়লো। তা দেখে সাদি মনে মনে একটু স্বস্তি পেলো। আর বলল,
সাদিঃ ওহ! তো ম্যাডাম এর জন্য এতো তাড়াহুড়া করছিল!
সাদিও বাসায় ফিরে এসে কিছুক্ষন রেস্ট নিয়ে রেডি হতে লাগলো। সাদির মা সন্ধ্যার পর গাড়িতে ঢাকা যাবেন। তাই বাসে উঠিয়ে দিতে যাবে সাদি।
.
সাদি তার মাকে বাসে তুলে দিয়ে বাসায় ফিরলো। সোফায় ক্লান্তি নিয়ে বসতেই আজকের কথাগুলো মাথায় ঘুরতে লাগলো৷ কিছুক্ষণ আগেও এই বাসা খুশিতে ঝলমল করছিল। পরিপূর্ণতায় ভরে গেছিল বাসার প্রতিটা কোনা! কিন্তু এখন আবার সাদি একা! একাকিত্ব ঘিরে ধরছে সাদিকে! আর সম্ভব নয় তার এই বাসায় একা থাকা। তার এই একাকিত্বের জীবনে এখন কাউকে চাই! খুব করে চাই! আর এই একাকিত্ব শুধু সুমুই দূর করতে পারবে। সুমু সাদির মনে একদম ঝেঁকে বসে আছে। সাদি নিজেও বুঝতে পারছে যে সুমু তার জীবনে খুব বাজে ভাবে জড়িয়ে আছে৷ তার পাশে শুধু সুমুকেই দরকার। সাদি খুব ভালো ভাবে তার অনূভুতি বুঝতে পারছে এখন শুধু সুমুকে বুঝানো বাকি! ভাবতে ভাবতে আনমনেই হেসে দিল সাদি। একা একা বলতে লাগলো,
সাদিঃ সুমু.....!!!!! মাই লাভ!!! বি রেডি জান!!! অনেক ছাড় দিসি তোমাকে! আর সম্ভব না৷ এবার একটু রোমিওগিরি দেখাবো তোমাকে!!!
.
এদিকে বেচারি সুমু সন্ধ্যায় নাস্তা খেতে বসেছিল রুমমেটদের সাথে। খাবার মুখে দিতেই হিঁচকি উঠে গেলো। পানি খেতে খেতে মনে মনে বলল,
---কোন শালায় যে আমারে গালি দিতেছে আল্লায় জানে। এতো হিঁচকি কেন উঠতেছে! 
(চলবে)........

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আগের পর্ব উপন্যাস সমাপ্ত

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন