ফন্ট সাইজ:
থিম:
নীল জোছনা

২য় পর্ব

লেখক: ইসরাত জাহান এশা

#নীল_জোছনা [২]

#ইসরাত_জাহান_এশা

-"ছোট মা আমি আবারো বলছি ফারিহাকে আমি বিয়ে করবো । তোমার মেয়েকে রাজি করাও ছোট মা। "

-" দেখ বাবা আমার মেয়ে রাজি না হলেতো কিছুই করার নেই। "

-" কেনো করার নেই ছোট? তোর মেয়েকি কোনো নবাবের বংশ? ওর থেকে এতো অনুমতি নিতে হবে। তোর আর বড় ভাইজানের চোখের সামনেই সামির বড় হয়েছে। সামিরকে ভালো করেই চিনিস। তাহলে এতো অমত থাকবে কেনো তোর? বড় ভাইজান আপনি কিছু বলেন "

-" আব্বু আম্মু কি বলবে চাচি? যেখানে আমি রাজি না। "

সবাই দরজার দিকে তাকালো। ফারিহা সবে স্কুল কোচিং থেকে বাসায় ফিরলো। অবাধ্য কিছু চুল কপালে আছড়ে পরেছে। ঘেমে-নেয়ে একাকার। সামির দুই পা এগিয়ে গিয়ে বললো

-" আমায় বিয়ে করতে তোর এতো সমস্যা কেনো? উল্টো তোর লাভ হচ্ছে। পরিবার ছেড়ে আর কোথাও যেতে হবে না। তোর স্বাধীনতা কেরে নেওয়া হবে না। ছোট মা জেঠুর সাথেই থাকতে পারবি । "

-" আমি চাই না এই বাসায় থাকতে। "

-" মানে? "

-" মানে হচ্ছে আমি এই বাসায় থাকবো না। এই বাড়ির ছেলেকে বিয়ে করবো না। আর তোমাকেতো আরো আগেই না সামির ভাইয়া। "

যবেদা বাজখাঁই কন্ঠে বললো,

-" এতো দেমাগ কিসের তোর? আমার ছেলেযে তোকে বিয়ে করতে চেয়েছে এটাই অনেক তোর কাছে। "

-" মেজো চাচি আমিকি একবারো বলেছি আমি তোমার ছেলেকে বিয়ে করবো? বলিনি তো। তাহলে আগবাড়িয়ে কথা বলো কেনো? আমায় আর একবারো বিয়ের কথা বলবে না। মাত্র বাসায় এসেছি বিশ্রাম নিতে দাও। "

এই বলে নিজের কক্ষের উদ্দেশ্যে চলে গেলো। যবেদা রাজিয়ার উদ্দেশ্যে কাটকাট গলায় বললো,

-" তোর মেয়ের পাখা গজিয়েছে। কেটে ছোট কর। এতো দেমাগি মেয়ে ভালো না। আর মেয়েকে বিয়ের জন্য রাজি করা। "

-" দেখো মেজো ভাবি এটা আমার মেয়ের জীবন । আমার মেয়ে রাজি না সেটাতে আমি কিংবা ওর আব্বুও রাজি না। সামির যতই ভালো হক মেয়ে পছন্দ করছে না তাকে। আর আমি মা হয়ে মেয়ের জীবনের সুখ থেকে বঞ্চিত করতে পারবো না। "

-" ছোট মা তুমি কি বলতে চাচ্ছো? ফারুকে আমি সুখে রাখতে পারবো না? "

-" আমি সেটা বলিনি। মাথা খাটা বুঝতে পারবি। "

এই বলে রান্নাঘরের দিকে যেতে নিলে বড় বউ ফাতেমা বললো,

-" তুই বস আমি ওর জন্য খাবার আনছি। "

★★★

চৌধুরী ভিলায় আজ খুশির আমেজ পরেছে। সবার ব্যাস্ততার মধ্যে আজ সবাই এক হয়েছে। সবাই এক বাসায় থাকলেও কেউ কারোর দেখা পায় না সহজে । আমেনা চৌধুরীর বয়স হয়েছে অনেক কিছুদিন আগে স্ট্রোক করেছে। শরীর প্রচুর দুর্বল থাকে। নীরাই তার শ্বাশুড়ির দেখা শোনা করে। সিলেট থেকে ঢাকায় আসার সময় একটা এক্সিডেন্টের মাধ্যমে জমেলা, রুম্বা, ওয়ালিদ ওয়াহিদের মৃত্যু হয় ৬ বছর আগেই। বড় দুই ভাই আর বড় বোনের মতো দুই ভাবিকে হাড়িয়ে সিমিন, আর ওয়াসিম ভেঙে পড়ে। বাচ্চারাও ভেঙে পড়ে তাদের মা বাবাকে হাড়িয়ে। সেই সময় ভাই বোন আর চাচা চাচির দায়িত্ব কাধে তুলে নেয় তূর্য, রাজু, রিহান, রিজবি। আদি তোখনো বেকার। চাইলেও কিছু করতে পারেনি। তূর্য সবটা নিজেই দেখছে। নীরা এসব নিয়ে কখনো কোনো শব্দ করেনি। হাসি মুখে চার জা মিলে সংসার সামলাচ্ছে। রিজবির বিয়ের ৩ বছর পর রিহান বিয়ে করে। রিহান ভার্সিটি থেকেই একটা মেয়ের সাথে সম্পর্ক হয়েছে। এক সাথে কর্মসংস্থান তাদের। পরিবারদের জানানো হলেই তারা হাসি মুখে ছেলের বিয়ে দেয়। আজ ছয় বছর ধরে সব ভাই বোন ভাই বোনের ছেলে মেয়ে সহ এক হয়েছে।

নাহিয়ান সোফায় বসে ফোন স্ক্রল করছে। তার মূলত মন খারাপ হয়ে আছে। বিরক্ত লাগছে সব কিছু। সবে এল এল বি পাশ করেছে এখন তার কতদূর পড়া বাকি। এখনি তার মা কতো আয়োজন করছে। এসব করার কোনো মানে হয় বুঝি? নাহিয়ান এক পলক রান্নাঘরের দিকে তাকালো। সেখানে তার মা হাসিমুখে রান্না করছে। নাহিয়ানের মুখে অজান্তেই হাসি এসে পড়ে। এই মানুষটা তাকে কখনো অবহেলা করেনি। সব সময় প্রায়োরিটি দিয়েছে। কখনো মায়ের অভাব বুঝতে দেয় নি। পেটের সন্তান না হয়েও বেশি ভালোবেসেছে। নাহিয়ানের পাশে আহিয়ানা ছিলো। তার সব কাজিন বসে আড্ডা দিচ্ছে আর সে বড়দের মতো গোমড়ামুখে বসে আছে। তূর্য আর রাজু অফিসের কাজ করছে স্টাডি রুমে বসে।

রিহান, রিজবি তারা মূলত তাদের মা চাচির সাথেই আছে। আমেনা, সিমিন এখন বসে বসে বেশ আড্ডা দেয়।

আদি শার্টের কলার ঝাকাতে ঝাকাতে এসে নাহিয়ানের মুখোমুখি বসলো। আহিয়ানার দিকে তাকিয়ে বললো

-" চেহারাটা এমন পেচার পাছার মতো রেখেছিস কেনো কুস্মিতা? "

-" আহিয়ানা চোখ মুখ কুচকে বললো,

-" কাকাই কি সব ভাষা ব্যবহার করছো তুমি? "

-" আগে বল কী হয়েছে? "

-" নাথিং "

-" ছ্যাকা খেয়েছিস? "

-" হ্যাঁ খেয়েছি এখন ১ লাখ টাকা দাও শপিং করে আসি। "

আদি কেশে উঠলো। আহিয়ানার কথায় নাহিয়া মুচকি মুচকি হাসলে আদি বললো,

-" ভ্যাটকাচ্ছিস কেনো তুই? "

-" এমনি। "

-" কাজের কথায় আসি। এখন কী করতে চাচ্ছিস তুই। "

নাহিয়ান সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে আদির দিকে তাকিয়ে বললো,

-" বার কাউন্সিল এর জন্য প্রিপারেশন নিবো। "

-" কোথায় করতে চাচ্ছিস? "

-" ঢাকায় করবো আমি। "

আহিয়ানা নাহিয়ানকে বললো,

-" ভাইয়ু বার কাউন্সিল কী? "

নাহিয়ান তার পুচ্চুর দিকে তাকিয়ে হেসে বললো,

-" শুনতে চাচ্ছিস? "

-" হুম। "

-"Bangladesh Bar Council হলো বাংলাদেশের আইনজীবীদের সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও নিবন্ধন প্রতিষ্ঠান।

সহজভাবে বলতে গেলে, যারা Law (LLB) পাশ করে আইনজীবী হতে চায়, তাদেরকে Bar Council-এর অধীনে পরীক্ষা দিতে হয়।।"

-"Bar Council কী কাজ করে?"

-" আইনজীবীদের পরীক্ষা নেয় অ্যাডভোকেট হিসেবে নিবন্ধন দেয় আইনজীবীদের নিয়ম-কানুন তদারকি করে আইন পেশার শৃঙ্খলা বজায় রাখে। "

-" বার কাউন্সিল কেন গুরুত্বপূর্ণ? "

-"কারণ শুধু LLB পাশ করলেই আদালতে মামলা পরিচালনা করা যায় না। একজনকে অফিসিয়ালি আ্যডভোকেট হতে হলে বার কাউন্সিল পরিক্ষা পাশ করতে হয়।। "

-" তাহলে বার কাউন্সিল এর পর কী করা হবে?"

-" বার কাউন্সিল পরিক্ষা পাশ করার পর একজন আইন শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বড় পরিচয় হয় সে এখন একজন আ্যডভোকেট এরপর তার মূল কাজ শুরু হয় আদালতে প্র্যাকটিস করা। সাধারণত এরপর যা যা করতে হয় যেমন আদালতে নিয়মিত Practice করতে হয় সিনিয়র আইনজীবীদের সাথে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয় মামলা পরিচালনার নিয়ম বাস্তবে শিখতে হয় ক্লায়েন্টের পক্ষে আদালতে কথা বলতে হয় Legal document ও কেস ফাইল তৈরি করা শিখতে হয় কিছু বছর অভিজ্ঞতা অর্জনের পর চাইলে— হাই কোর্টে প্র‍্যাক্টিস করার অনুমতি নেওয়া যায় Judge হওয়ার পরীক্ষাও দেওয়া যায় এল এল এম করে আরও উচ্চশিক্ষা নেওয়া যায়

তাই Bar Council পাশ করার পর আসল দায়িত্ব শুরু হয় একজন দক্ষ ও সৎ আইনজীবী হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা।"

-" ভাইয়ু বুঝলাম সব কিচভু কিন্তু এই এল এল এম কী? এই আইন নিয়ে পড়া এতো ঝামেলা কেনো? "

-" দেখ পুচ্চু সব কিছ নিয়ে পড়ার ঝামেলা। তুই মেডিক্যাল নিয়ে পড়া শুরু করবি কিছুদিন পর। তখন আমি কি বলবো। এই মেডিক্যালে দতো পড়া কেনো? চাপ কেনো? যার যার পড়া তার কাছে বেশি চাপ মনে হয়। এখন আসি কেনো এল এল এম পড়তে হয়।

LLM এর পূর্ণরূপ হলো Master of Laws।

এটা আইনের উপর উচ্চতর ডিগ্রি, যা সাধারণত LLB শেষ করার পর করা হয়। সহজভাবে যদি বলি

এল এল বি হলো Law এর Bachelor Degree

আর এল এল এম হলো Law এর Master Degree।

এল এল এম করার মাধ্যমে একজন আইন শিক্ষার্থী আইনের বিষয়ে আরও গভীর জ্ঞান অর্জন করে। এখানে আইন সম্পর্কিত জটিল বিষয়, গবেষণা এবং বিশেষ কিছু বিভাগ নিয়ে বিস্তারিত পড়াশোনা করা হয়। এল এল এম পড়লে—আইন বিষয়ে দক্ষতা বাড়ে

বড় প্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ বাড়ে শিক্ষকতা ও গবেষণার সুযোগ পাওয়া যায় High Court বা বড় লিগ্যাল ফার্মে ক্যারিয়ারে সুবিধা হয় অনেকে Advocate হওয়ার পরও নিজের ক্যারিয়ার আরও উন্নত করার জন্য LLM করে। বুঝতে পেরেছিস এখন? "

-" হুম ভাইয়ু অনেক সুন্দর ভাবে বুঝেছি। "

আদি এতক্ষণ ভাই বোনের কাহিনি দেখছিলো আর শুনছিলো হা করে। নাহিয়ান আদির মুখ বন্ধ করে দিয়ে বললো,

-"-"তুমি বিয়ে করছো না কেনো? "

-"মেয়ে পছন্দ হয় নারে ভাতিজা "

-" নাকি মেয়ে পাত্তা দিচ্ছে না কোনটা? "

আদি কেশে উঠলো। আমতা আমতা করে বললো,

-" আমি একজন পুলিশ অফিসার আমাকে আবার কোন মেয়ে পাত্তা দিবে না শুনি? আমিই কাওকে পাত্তা দেই না। "

-" দিন দিন বুড়ো হয়ে যাচ্ছো তুমি? পড়ে তোমার জন্য মেয়ে খুজে পাবে?"

-" তুই আমারে খোচা দিলি? "

-" যেটা মনে করো! "

-" তুই উকিল বলে এখন চাচার পিছনে উকিলনামা করবি? "

-" ফর ইউর কাইন্ড ইনফরমেশন আ'ম নট এ সিলেক্টেড আ্যডভোকেট । তাই কথায় কথায় উকিল উকিল করবে না। মাত্র এল এল বি কমপ্লিট করেছি এখনো অনেক কিছু করার বাকি। "

-" হইছে হইছে রাগিস না উকিল বাবুউউউউউ।"

আদি লাস্টের কথাটা বেশ সুর দিয়ে বলেছে। নাহিয়ান কটমট করে তাকিয়ে আছে আদির দিকে। আদি হাসলো।

•••

একজন একজন করে আসতে আসতে পুরো ড্রয়িং রুম জুরে মানুষের আনাগোনা হলো। নাহিয়ান একটু পর পর দরজার দিকে তাকাচ্ছে। বর্ষা দেখে বললো,

-" ভাইয়া কারোর জন্য অপেক্ষা করছো? "

-" হ্যাঁ রে বুচি একজনের জন্য অপেক্ষা করছি। "

নাহিয়ানের কথা শেষ হতে দেরি, বর্ষা, মেঘলা, সুনাহরা , আহির এমনকি ছোট রাতুল সবে মাত্র ৮ বছর সেও আসতে দেরি করে না। তারা বড় ভাইয়ের উদ্দেশ্যে বললো

-" কার জন্য অপেক্ষা করছো? "

সবাই এক সাথেই বলে উঠলো। নাহিয়ান ভেবাচেকা খেয়ে গেলো। নায়িয়ান কপাল কুচকে বললো,

-" তোরা কী ভাবছিস হ্যাঁ? "

আহির বুকে হাত ভাজ করে বললো,

-" বাই এনি চান্স তোমার গার্লফ্রেন্ড এর জন্য অপেক্ষায় আছো নাকি। "

-" আমার জন্য অপেক্ষা করে বসে আছে ব্যারিস্টার বাবু। "

চলবে........

(কে হতে পারে বলতো দেখি? আর হ্যাঁ পরিক্ষায় আমার কোনো বন্ধ নেই তাই গল্পের পর্ব ছোট হয়। কিছু খারাপ মন্তব্য কইরো না 😊। পরিক্ষা শেষ হলে বড় করে পর্ব দিবো কেমন ☺️। এই পর্বে ৫০০+ রিয়েক্ট উঠিয়ো প্লিজ🥹।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন