#নীল__জোছনা___পর্ব___৪০
#ইসরাত_জাহান_এশা
……
বর্ষাকে ঘিরে দাঁড়িয়ে আছে মেঘলা, ফারিহা, আহিয়ানা। বর্ষা ওড়না কোমড়ে গুজে হাসের মাংস আর সাদা ভাত রান্না করছে। সকাল সকাল সবাই যার যার কাজে চলে গেছে সকালের নাস্তা করেই। আহিয়ানার আজ অফ ডে। সুনায়রা সকালের স্কুলে চলে গিয়েছে। মুন্নি সকালে ক্যাম্পাসে চলে গিয়েছে। কিছুদিন পর মাস্টার্সের ফাইনাল পরিক্ষা। ফারিহা জহুরি নজরে তাকিয়ে আছে। বর্ষা সেদিকে পাত্তাই চিচ্ছে না। আহিয়ানা গম্ভীরমুখে বললো,
“ বাসার কেউ হাসের মাংস খায় না শুধু পাপা।, মাম্মা, আপাই আর বড় চাচি মণি ছাড়া আর কেউ খায় না। তার থেকেও বড় কথা মাম্মা আর চাচি মণি, ফুপি সব রান্না করেই ফেলেছে। তাহলে কার জন্য রান্না করছো? “
বর্ষা এক পলক তাকালো তিন জনের দিকে। কিছু বললো না। তাকিয়ে থাকতে দেখে ফারিহা গলা পরিষ্কার করে বললো,
“ এভাবে কী দেখছো বুবু? আমাদের প্রশ্নের উত্তর দাও। “
বর্ষা ফারিহার দিকে তাকিয়ে মুচকি মুচকি হাসছে। ফারিহা একটু অসস্থিতে পরে বললো,
“ আমার দিকে অমন করে তাকিয়ে আছো কেনো? “
বর্ষা চোখ মেরে বললো,
“ আগে স্বামীর দেওয়া চিহ্ন লুকান ভাবি সাহেবা। “
বর্ষার কথা শেষ হওয়ার আগেই ফারিহার দুই হাত গলার পাশে উঠে গেলো। সেতো ঢেকে রেখেছিলো দেখা গেলো কীভাবে? ফারিহা মনে মনে নাহিয়ানকে বকলো। বর্ষার কথায় মেঘলা, আহিয়ানা ফারিহার দিকে তাকাচ্ছে। ফারিহা মাথা সহ গলা, ঘার সব ঢেকে বললো,
“ লজ্জা করে এসব কথা বলতে? “
আহিয়ানা রান্নাঘরের সেল্ফে বসে বললো,
“ আমাদের কেনো লজ্জা লাগবে? তুমি এসব আকাম করো তখন লজ্জা লাগেনাই বুঝি। “
ফারিহা বেশ বুঝতে পারলো আজ তারে লজ্জা মেরে ফেলবে। সেতো ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী না। তাই ফারিহা চেয়ারে আরামে বসে আপেল খেতে খেতে বললো,
“ নাগো স্বামীর আদর পেতে লজ্জা লাগে নাই। আর এতো লজ্জা থাকলে আমার আর মা হওয়া হবে না। আর স্বামীর আদর পেতে আজ পর্যন্ত কোনো মেয়ে লজ্জা পেয়েছে কিনা সন্দেহ। “
বর্ষা আর আহিয়ানা একে অপরের দিকে তাকিয়ে রইলো। মেঘলা লজ্জা পেয়ে ফারিহাকে বললো,
“ বউ মণি তোমার মুখ দেখি লাগাম ছাড়া হয়ে গেছে। তোমার কথা শুনে আমার লজ্জা লাগছে।”
ফারিহা হেসে বললো,
“ ননদিনী তোমাকে আজ বিয়ে দিয়ে দিলে কাল লজ্জা ভেঙে যাবে। তাই এতো লজ্জা পেয়ে লাভ নাই চান্দু। “
বর্ষা গলা খাকারি দিয়ে ফারিহার পাশে বসে বললো,
“ বউ রাণি একটা কথা বলি? “
ফারিহা স্বাভাবিক ভাবেই বললো,
“ হ্যাঁ বুবু বলো। “
বর্ষা ফারিহার হাতের উপর হাত রেখে বললো,
“ তুমি নাহিয়ান ভাইয়ার সাথে খুশি তাই না? “
ফারিহা প্রাণখোলা হাসি দিয়ে বললো,
“ তোমার ভাইয়ের মতো মানুষ হয় না গো বুবু। তোমাদের ভাই সব দিক থেকে সেরা। তোমাদের ভাইয়ের মতো জীবনসঙ্গী যে মেয়ে পাবে সেই মেয়ে সুখি না হয়ে উপায় আছে বুঝি। তোমাদের ভাই আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমি এতটা ভালোবাসতে পেরেছি কিনা সন্দেহ। আমরা ভেবেছিলাম আমরা হয়তো কেউ কাওকে ভালোবাসতে পারবো না। কিন্তু জানো তোমাদের ভাই আগে আমায় ভালোবেসেছে, যত্ন করেছে । আমি তোমাদের ভাইয়ের ভালোবাসা, যত্নে ভালোবাসতে পেরেছি। “
আহিয়ানা, মেঘলা ফারিহার দুই পাশে বসে হাসি মুখে বললো,
“ দোয়া করি আমাদের ভাইয়ের বউ যেনো এমন সব সময় খুশি থাকে। “
ফারিহা হেসে উঠে। মেঘলা এবার বর্ষার দিকে তাকিয়ে বললো,
“ আপু এবার বলো রান্না করছো কার জন্য? “
বর্ষা মাংস উল্টাতে উল্টাতে বললো,
“ রেহান ভাই হাসের মাংস খেতে পছন্দ করে তাই একটু রান্না করা। “
বর্ষার কথা শুনে সবাই ওহো করে উঠলো। বর্ষা থতমত খেয়ে বললো,
“ এমন করার কী আছে আশ্চর্য তো? আমি আমার হবু বরের জন্য রান্না করেছি। তোদের মন চাইলে তোরাও রান্না কর। মানা করি নাই তো আমি। “
এই বলে উপরে যেতে যেতে ফারিহার উদ্দেশ্যে বললো,
“ বউ রাণি হটপটে খাবার গুলো বেরে দাও না। আমি গোসল করে আসি। “
ফারিহা সম্মতি দিয়ে বললো,
“ আচ্ছা যাও আমি বেরে দিচ্ছি। “
ফারিহা খাবার গুলো সুন্দর করে দিয়ে আহিয়ানা আর মেঘলার সাথে মুভি দেখার প্লেন করলো।
____
বর্ষা দ্রুত গোসল সেরে বেরিয়ে এলো। আলমারি খুলে যত্ন করে বেছে নিল গাঢ় বেগুনি রঙের শাড়িটা। শাড়ির সরু রূপালি পাড়টা আলোয় চিকচিক করে উঠছিল। ভেজা চুলগুলো তোয়ালে দিয়ে হালকা মুছে আর বাঁধল না। খোলা রেখেই কাঁধের ওপর ছেড়ে দিল। মুখে হালকা মেকআপ, ঠোঁটে মৃদু গোলাপি আভা। আয়নায় নিজেকে একবার দেখে সন্তুষ্টির হাসি ফুটল তার ঠোঁটে।
হাত ব্যাগ নিয়ে নিচে নামতেই ড্রয়িংরুম থেকে ভেসে এলো হাসির শব্দ। সোফার ওপর পাশাপাশি বসে আছে ফারিহা, আহিয়ানা আর মেঘলা। তিনজনের মাথা প্রায় একসঙ্গে জোড়া লাগানো। টিভির পর্দায় চলছে "চেন্নাই এক্সপ্রেস"। ঠিক সেই দৃশ্য—শাহরুখ খান দীপিকাকে কোলে নিয়ে ৩৫০ টা সিঁড়ি ভেঙে ওপরে উঠছে। ( **সিড়ির সংখ্যা আমার সঠিক মনে নেই। জানা থাকলে আমায় জানাবেন। আর এটা ভুল হলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন***) দৃশ্যটা দেখে তিনজনই এতটাই মগ্ন যে আশপাশের কোনো খেয়ালই নেই। বর্ষা টেবিলের ওপর রাখা খাবারের ব্যাগটা হাতে তুলে নিয়ে মুচকি হেসে বলল,
"গেটটা আটকিয়ে তারপর মুভি দেখো।"
মেঘলা চোখ না সরিয়েই তাড়াহুড়ো করে বলল,
"হু...।"
সে উঠে গিয়ে মূল গেটটা ভেতর থেকে লাগিয়ে আবার দৌড়ে এসে আগের জায়গাতেই বসে পড়ল। পরমুহূর্তেই তিনজন আবার সিনেমার জগতে হারিয়ে গেল। বর্ষা মাথা নেড়ে হেসে ফেলল।
"এদের দিয়ে আর কিছু হবে না!"
মনে মনে বলেই খাবারের ব্যাগ হাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল।
____
সকালের ব্যস্ততা তখনও পুরোপুরি কাটেনি। দুপুর হয়ে গিয়েছে কারোর সেদিকে কোনো খেয়াল নেই। কর্মচারীরা নিজ নিজ ডেস্কে বসে কাজ করছে। কোথাও কিবোর্ডের শব্দ, কোথাও প্রিন্টারের আওয়াজ, আবার কোথাও ফাইল নিয়ে আলোচনা। রেহান কয়েকজন কর্মচারীর ডেস্কের সামনে দাঁড়িয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল হাতে নির্দেশনা দিচ্ছিল। সবাই মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনছিল।
ঠিক তখনই নিঃশব্দে অফিসে ঢুকে রেহানের পেছনে এসে দাঁড়াল বর্ষা। হাতে খাবারের ব্যাগ, মুখে নরম একটুখানি হাসি। রেহানের ব্যক্তিগত সহকারী রাশেদ —বর্ষাকে দেখে হালকা হেসে বলল,
"স্যার... ম্যাম এসেছেন।"
কথার মাঝপথেই রেহান বিরক্ত হয়ে না ফিরেই বলল,
"শাট আপ, রাশেদ । আগে নিজের কাজটা শেষ করো।"
হঠাৎ এমন ধমক খেয়ে রাশেদ অপ্রস্তুত হয়ে চুপ করে গেল। আর বর্ষা? সে ঠোঁট ফুলিয়ে মুখ বাঁকিয়ে একবার রেহানের দিকে তাকাল।
"হুম! খুব ব্যস্ত মানুষ!"
মনে মনে বিড়বিড় করে বলেই আর কোনো কথা না বলে সোজা রেহানের জন্য বরাদ্দ করা কেবিনে ঢুকে গেল। খাবারের ব্যাগটা টেবিলের ওপর রেখে চারপাশে একবার চোখ বুলিয়ে নিল। তারপর রেহানের সোফায় বসে অপেক্ষা করতে লাগল— মনে মনে বললো, “দেখি, মিস্টার ব্যস্ত মানুষটা আর কতক্ষণ আমায় অপেক্ষা করায়। “
এই বলে মুখ ফুলিয়ে বসে থাকলো। টেবিলের উপর নিজের হাসি মাখা ছবি দেখে বর্ষার কপাল কুচকে গেলো। ছবির ফ্রেম হাতে নিলো। অজান্তেই মুখে হাসি ফুটে উঠলো। ছবিতে ভালো করে চোখ বুলিয়ে দেখলো ছবির কোনায় আমার চাঁদ পরী লেখা৷ বর্ষার হাসি আরো চওড়া হলো। তার পাশে রেহানের ছবি নিয়ে বুকে জরিয়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে রাখলো।
______________________
প্রায় ৩৫ মিনিট পর রেহান কেবিনে ঢুকলো। কোর্ট খুলে হাতে নিলো। কেবিনে প্রথমেই নজর এলো বর্ষাকে। সে কিনা টেবিলে হাতে রেখে ম্যাগাজিন পড়ছে। রেহান অবাক হয়। ঘরে ঢুকে দরজা লক করে বর্ষার পাশের চেয়ারে বসে। বর্ষা দেখেও না দেখার মতো থাকে। সে কথা বলবে না। রেহান গলায় নমনীয়তা সঞ্চালিত করে ডাকলো,
“ চাঁদ পরী!”
বর্ষা উত্তর দেয় না। মুখ ফুলিয়ে রাখে। রেহান মুচকি হেসে আদুরে ভাবে ডাকে,
“ বউ গো শুনছো। “
বর্ষার অন্তর আত্তা কেপে উঠে। রেহান আবার ডাকে,
“ ও বউ। “
বর্ষা এবার রেহানের দিকে তাকায়। রেহান হেসে বর্ষার চেয়ার আরো কাছে টেনে আনলো। বর্ষার মুখশ্রী জুরে লজ্জারা হানা দিয়েছে। রেহান বর্ষার মুখ হাতের আজলায় নিয়ে বললো,
“ শাড়ি পরে এসেছো দেখা করতে?”
বর্ষা রেহানের হাতের উপর নিজের হাত রেখে বললো,
“ তোমার পছন্দের ঝাল ঝাল হাসের মাংস রান্না করে নিয়ে এসেছি। খাবে না তুমি? “
রেহান হাসে। বর্ষাকে টেনে নিজের কোলের উপর বসিয়ে বললো,
“ খাবো। একটা শর্তে!”
বর্ষা কপাল কুচকে বললো,
“ কী শর্ত?”
রেহান বর্ষাকে শালিন ভাবেই জড়িয়ে ধরে বললো,
“ খাইয়ে দিবে আমায় চাঁদ পরী? “
বর্ষা হেসে বললো,
“ অবশ্যই দিবো। “
এই বলে উঠতে গেলে রেহান আটকিয়ে বললো,
“ উঠতে হবে না। এভাবেই খাইয়ে দাও। “
“ এভাবে কীভাবে খাওয়াবো আমি? “
“ যেভাবে পারো। “
অগ্যতা রেহানের কথাই বর্ষা মেনে নেয়। রেহানের উরুর উপর বসেই ভাত মাখাতে শুরু করে বর্ষা। রেহান কিছু সময় চুপ করে থেকে বললো,
“ চাঁদ পরী! “
বর্ষা ভাত মাখাতে মাখাতে বললো,
“ হুম বলো। “
“ প্রস্তুত তো সারাজীবন আমার বুকে রাজত্ব করার জন্য? “
বর্ষা হেসে রেহানের মুখের সামনে ভাতের নলা ধরে বললো,
“ আমি রাজি তোমার বুকে রাজত্ব করার জন্য। তোমার বুকে মাথা রেখে রাত পার করতে রাজি। তোমায় নিজের হাতে খাইয়ে দিতে রাজি। তোমার আদরের বউ হতে রাজি। তোমার ঘরনি হতে রাজি। “
রেহানের মনে হলো, যেন বহুদিনের অপেক্ষার শেষে সে আকাশের চাঁদটাকেই ছুঁয়ে ফেলেছে। বর্ষার হাতের রান্না করা প্রথম নলা মুখে দেওয়ার আগেই তার চোখের কোণ ভিজে উঠল। একফোঁটা, দু'ফোঁটা করে অশ্রু গড়িয়ে পড়তে লাগল গাল বেয়ে। বর্ষার ছোট্ট মুখটা মুহূর্তেই মলিন হয়ে গেল। সে তড়িঘড়ি বাম হাত দিয়ে রেহানের চোখের পানি মুছে দিয়ে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বলল,
"খুব ঝাল হয়েছে, তাই না? আমি তো আগে কখনো রান্নাই করিনি। তাই হয়তো ঠিক বুঝতে পারিনি। খুব খারাপ হলে খেতে হবে না। আমি আবার বানিয়ে দেব..."
রেহান মাথা নেড়ে মৃদু হেসে বলল,
"না, চাঁদ পরী... খুব মজা হয়েছে। মা চলে যাওয়ার পর কত বছর হয়ে গেল... কারও হাতের রান্না এভাবে খাওয়া হয়নি। চাঁদ পরী একটা কথা বলবে? সারাজীবন এভাবেই আমার পাশে থাকবে তো? আমি যখন খুব ক্লান্ত হয়ে যাব, তখন তোমার কাছেই ফিরে আসতে পারব? তোমার বুকের সেই নিরাপদ আশ্রয়টা কি সবসময় আমার জন্য থাকবে? বিশ্বাস করো, আমার খুব বেশি কিছু চাওয়ার নেই। ছোটবেলা থেকেই ভালোবাসা যেন আমার জীবনে অতিথি হয়ে এসেছে, আপন হয়ে থাকেনি। তাই আজও ভেতরের সেই ছোট্ট রেহান কারও একটু আদর, একটু যত্ন, একটু মায়ার জন্য অপেক্ষা করে।
আমার খুব ইচ্ছে করে... অসুস্থ হলে কেউ কপালে হাত রেখে বলুক, 'আমি আছি।' বকাঝকা করে খেতে বসাক, আমার মুখ ভার দেখলে কারণ না জেনেও পাশে বসে থাকুক। আমি চাই, দিনের শেষে পৃথিবীটা যতই নিষ্ঠুর হোক, অন্তত একজন মানুষ যেন নিঃস্বার্থভাবে বলে— 'তুমি একা নও, আমি আছি।' আমি আর ধন-সম্পদ চাই না, বড় কোনো স্বপ্নও না। শুধু এমন একটা মানুষ চাই, যার কাছে আমি শক্ত হওয়ার অভিনয় না করে দুর্বল হতে পারব। তুমি কি সেই মানুষটা হয়ে থাকবে, চাঁদ পরী?"
শেষের কথাগুলো বলতে বলতে রেহানের কণ্ঠ কেঁপে উঠল। বর্ষার চোখও ততক্ষণে অশ্রুতে ঝাপসা। রেহানের গাল বেয়ে আরেক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ার আগেই সে আলতো করে তা মুছে দিল। তারপর ভালোবাসা আর আশ্বাসে ভরা এক উষ্ণ চুম্বন এঁকে দিল তার কপালে। মৃদু হেসে, অথচ কাঁপা গলায় বলল,
"আমি আছি তো। তোমার চাঁদ পরী তোমার সাথেই আছে। সবাই না ভালোবাসুক, আমি তো বাসি। আমি তোমার যত্ন করব, সেবা করব, আর আমার সবটুকু ভালোবাসা দিয়ে আগলে রাখব তোমাকে পাখি। নিজেকে এত একা ভাবো কেন? তোমার কষ্টে আমার বুকও যে সমান ভারী হয়ে যায়। মনে রেখো, তোমার পাশে কেউ থাকুক বা না থাকুক, আমি থাকব। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তোমার হাতটা শক্ত করে ধরে রাখব। পৃথিবী যদি পুরোটা তোমার বিপক্ষে দাঁড়ায়, আমি তবুও তোমার পাশেই দাঁড়াব। আমার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তোমাকে একা হতে দেব না। এ আমার প্রতিশ্রুতি।"
রেহান আজ সত্যিই যেন ছোট্ট এক শিশু হয়ে গেল। সে আর নিজেকে সামলাতে পারল না। বর্ষাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বুকভরা কান্না ছেড়ে দিল। কে বলেছে, ছেলেদের কাঁদতে নেই?
কিছু কান্না দুর্বলতার নয়। বছরের পর বছর জমে থাকা অভিমান, একাকীত্ব আর না-পাওয়া ভালোবাসার নীরব ভাষা। যে মানুষটা সারাদিন সবাইকে হাসিয়ে বেড়ায়, সেও তো কখনো কখনো নিজের মানুষটার বুকে মাথা রেখে ভেঙে পড়তে চায়। কারণ ভালোবাসার সবচেয়ে নিরাপদ ঠিকানা হলো সেই বুক, যেখানে চোখের জল লুকাতে হয় না, বরং প্রতিটি অশ্রু নিঃশব্দে মুছে যায় ভালোবাসার স্পর্শে।
চলবে...........!!
#বিঃদ্রঃ রেসপন্স করুন। প্রতিদিন দিচ্ছি তো গল্পটা। আমার জন্য কি একটুও মায়া হয় না 😔😔