ফন্ট সাইজ:
থিম:
কোথাও কেউ নেই

১২তম পর্ব

লেখক: হুমায়ুন আহমেদ

#কোথাও_কেউ_নেই

লেখক~ হুমায়ুন আহমেদ

১২.

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মামুনের মন খারাপ হয়ে গেলো। শার্টের পকেটের কাছে এক পয়সার সাইজের একটা ফুটো, তেলাপোকার কাণ্ড। এই শার্ট গায়ে দিয়ে বেরুনো যাবে না। সবাই তাকিয়ে থাকবে। কিন্তু বদলে অন্য কিছু পরতেও ইচ্ছা করছে না। এটা মুনার পছন্দ করে কিনে দেয়া শার্ট। মামুন ভেবে রেখেছিলো ওর সঙ্গে দেখা করতে গেলেই এটাই পরবে। তাতে মুনার উপর এক ধরনে মানসিক চাপ তৈরি হবে। লাল স্ট্রাইপের এই শার্ট নিঃশব্দে সারাক্ষণ বলবে,

–" মুনা, তোমাকে ভালবাসি। তোমাকে ভালবাসি।"

মেয়েদের মনস্তত্ত্বে ছেলেমানুষী একটা ব্যাপার আছে। অত্যন্ত বুদ্ধিমতী মেয়েরাও এ ধরনের হালকা জিনিস পছন্দ করে।

কিন্তু এটা পরে কী খাওয়া যাবে? ফুটোটা বেশ বড়। সাদা গেঞ্জি দেখা যায়। মামুন আয়নার সামনে মিনিট পাঁচেক দাঁড়িয়ে মন ঠিক করলো। থাকুক ফুটো এতে একটা সুবিধা পাওয়া যাবে। মুনা এক সময় নিশ্চিত বলবে, ' পকেটের ওখানে কি? '

সে তখন মুখ কালো করে বলবে, ' হৃদয়ের কাছাকাছি ফুটো হয়ে আছে।'

খুবই হালকা ধরনের কথা। তবে হালকা ধরনের কথাবার্তাও মাঝে মাঝে শুনতে ভালো লাগে।

মামুন মুনার অফিসে ঢুকে আকাশ থেকে পড়লো। মুনা নেই। সে নাকি দু'মাসের ছুটি নিয়েছে। আজ নিয়ে পাঁচ দিন হলো।

কিন্তু অদ্ভুত কথা! পাল বাবু চোখ কপালে তুলে বললেন, ' সে কী আপনি জানেন না?'

" জ্বী, না, জানি না। "

" বলেন কি? কেন জানেন না? "

মামুন বিরক্ত হয়ে বললো, " আমাকে বলেনি। তাই জানি না। "

" কিন্তু আপনাকে বলবে না কেন? হোয়াই? ঝগড়া চলছে নাকি? "

" না কিছু চলছে না।"

বিরক্তিতে মামুনের চোখ সরু হয়ে গেলো। পাল বাবু তার বিরক্তিকে মোটেও আমল দিলেন না। জোর করে তাকে ক্যান্টিনে নিয়ে আলুর চপ এবং চায়ের অর্ডার দিয়ে বসলেন।

মামুন শুকনো গলায় বললো, " খামোকা এসব আনছেন। আমি কিছুই খাব না। "

" না খেলে না খাবেন। আমার সঙ্গে দু' মিনিট বসতে তো অসুবিধা নেই। আরাম করে বসুন এবং ধীরে-সুস্থে বলুন ব্যাপারটা কি? ঝগড়াটা কি নিয়ে করলেন? "

" ঝগড়া হয়েছে আপনাকে কে বললো?"

" এসব বলার দরকার হয় না। আপনার চোখে-মুখে পরিষ্কার লেখা আছে। মান-অভিমানপর্ব বোঝা যায়। হা হা হা।"

মামুন কঠিন চোখে তাকিয়ে রইলো। আগে এই লোকটিকে ভালোই লাগতো। আজ কেমন গ্ৰাম্য লাগছে। কথার ফাঁকে থুথুর কণা ছিটকে আসছে। কিছু কিছু নিশ্চয়ই পড়েছে চায়ের কাঁপে এবং আলুর চপে। কু'ৎসিত দৃশ্য। সহ্য করা মুশকিল।

" মামুন সাহেব বলুন। রাগ ভাঙবার বুদ্ধি আপনাকে শিখিয়ে দিচ্ছি। সোজা বুদ্ধি। জটিল সমস্যাগুলি সলভ করতে হয় সহজ বুদ্ধি দিয়ে। কঠিন বুদ্ধি খরচ করলে সমস্যটা আরো জট পাকিয়ে যাবে। চা খাচ্ছেন না তো। ঠাণ্ডা হচ্ছে। "

" হোক ঠাণ্ডা। দুপুরে আমি চা খাই না।"

" তাহলে ঠাণ্ডা কিছু খান–লাচ্ছি আছে। এই ইনাকে ভাল করে লাচ্ছি দাও।"

"আপনি শুধু শুধু ব্যস্ত হচ্ছেন আমি কিছুই খাব না।"

"আরে ভাই খান। খেতে খেতে আমার বুদ্ধিটা শুনুন। কিছু না যাবেন, সোজাসুজি পায়ে ধরে ফেলবেন এবং কান্না কান্না গলায় বলবেন ক্ষমা চাই।"

রাগে মামুনের গা জ্বলে গেলো।

কি রকম ইডিওটিক কথাবার্তা। এ ধরনের কথাবার্তা একজন শিক্ষিত মানুষ বলে কি করে?

" বুঝলেন মামুন সাহেব, এপ্রোচটা নাটকীয় কিন্তু এর নাম হচ্ছে কোরামিন ইনজেকশান। এটাতেই রোগের আরাম হবে। আর যদি কাজ না হয় তাহলে আপনি অফিসে এসে আমার ডান গালে একটা চড় দিয়ে যাবেন। হা হা হা।"

এখানে বসে সময় নষ্ট করার আর কোনো মানে হয় না। যতক্ষণ থাকবে ততক্ষণই এর বকবকানি শুনতে হবে।

" উঠলেন নাকি?"

" জ্বী, উঠলাম।"

" লাচ্ছি তো মুখেই দিলেন না।"

" বলেছি তো আপনাকে, কিছুই খাব না। "

" আপনি মিস মুনার বাসায় চলে যান। যা বললাম সেটা করেন। শ্ৰীকৃষ্ণের মত দেবতা যদি রাধার পা ধরতে পারে তাহলে আপনার ধরতে বাধা কী?"

______________________________

বকুল আজ স্কুলে যায়নি। স্কুল খোলা আছে, টেস্ট পরীক্ষার প্রিপারেশনের জন্যে ক্লাস হচ্ছে না। একা একা বাসায় তার ভ'য় ভ'য় লাগছিলো। কাজের মেয়েটি তার এক খালার বাড়িতে গেছে এখনো আসেনি। বাবুর স্কুল ছুটি তিনটায়। এতক্ষণ একা একা থাকতে হবে।

সে ক্ষণে ক্ষণে চমকে উঠে নিচু গলায় বলছিলো, 'কে?'

একা ঘরে থাকলেই যত ভূতের গল্পগুলি মনে পড়ে যায়। টিনা ভাবীর কাছে শোনা একটা গল্প তখন থেকেই মনে হচ্ছে কাটা হাতের গল্প। কবজি পর্যন্ত কাটা একটা হাত মানুষের ঘরে এসে ঢোকে। নানান কাণ্ডকারখানা করে। বকুলের দুপুর থেকে মনে হচ্ছে হাতটা তাদের ঘরে এসেছে। রান্নাঘরে খুটখাট করছে। সে একা একা বসে আছে রান্নাঘরে। তার দুপুরের খাওয়া হয়নি। বাবু না আসা পর্যন্ত হবেও না। একা একা রান্নাঘরে যাবার প্রশ্নই ওঠে না।

দুটোর সময় দরজার কড়া নাড়লো। বকুলের আনন্দের সীমা রইলো না। যাক কেউ-একজন এসেছে। সে দরজা খুলে দেখলো মামুন ভাই। হেঁটে হেঁটে এসেছেন বোধ হয়। ঘেমে লাল হয়ে আছেন।

'কেমন আছ বকুল?'

'জ্বী ভাল আছি।'

'মুনা বাসায় নেই?'

'জ্বী না। আপা নেই।'

'কোথায় গেছে?'

'জানি না। কোথায় যেন ঘুরে বেড়ায়।'

'বল কি?'

'ভেতরে আসুন মামুন ভাই। আপনি আসায় যা ভালো লাগছে। একা একা খুব ভ'য় লাগছিলো। '

'একা তুমি?'

'জ্বী, একা।'

মামুন ভেতরে ঢুকলো। কথাবার্তা কী বলবে ভেবে পেলো না। কিছুক্ষণ অবশ্য অপেক্ষা করা যায়।

মামুন বললো, 'সে সাধারণত কখন ফিরে?'

'কোনো ঠিক নেই। অনেক সময় সন্ধ্যার পর ফিরে।'

'বল কি?'

'আপনাদের ঝগড়া হয়েছে তাই না মামুন ভাই?'

মামুন ইতস্তত করে বললো, ' হ্যাঁ হয়েছে। তোমাকে সে কি কিছু বলেছে?'

'না, মুনা আপা ম'রে গেলেও কাউকে কিছু বলবে না।' 'আপনাকে একটু চা করে দেই?'

'উঁহু! ভাত খাইনি এখনো।'

'আমাদের এখানে খান। আমিও খাইনি।'

'না ভাত খাব না। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে চলে যাব।' 'তুমি আমাকে ঠাণ্ডা এক গ্লাস পানি দাও।'

মামুন মুখ কালো করে বসে রইলো।

বকুল ঠাণ্ডা পানি বদলে ভাত বেড়ে বললো,

' খেতে আসুন মামুন ভাই। '

মামুন নিঃশব্দে খাবার টেবিলে গিয়ে বসলো। বড় মায়া লাগলো বকুলের। কেমন আগ্রহ করে খাচ্ছেন। নিশ্চয়ই খুব ক্ষিধে পেয়েছে।

'বকুল!'

'জ্বী।'

'আমার ব্যাপারে তোমার আপা তোমাকে সত্যি কিছু বলেনি?'

'জ্বী, না।'

'আমি একটা অন্যায় করেছিলাম বুঝলে বকুল। তার জন্যে আমার লজ্জার সীমা নেই। আমি তো মহাপুরুষ না। সাধারণ মানুষ। মহাপুরুষেরাও ভুল করে। অন্যায় করে। করে না?'

বকুল অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। মামুন ভাই ক্লাসে বক্তৃতা দেবার মতো ভঙ্গিতে কথা বলছেন। ওদের ভেতর কি সমস্যা হয়েছে কে জানে? বড় জানতে ইচ্ছা করছে।

মামুন খাওয়া শেষ হওয়া মাত্র চলে গেলো। অদ্ভুত ভঙ্গিতে চলে যাওয়া। যেন সে হঠাৎ সবার উপরে বিরক্ত হয়ে উঠেছে। মনস্থির করছে কিছু-একটা করবে। কেমন থমথমে মুখ।

বাবু এলো সাড়ে তিনটার দিকে। শীতের দিন। সাড়ে তিনটায় কেমন বিকেল বিকেল হয়ে যায়। বাবুকে ভাত বেড়ে দিয়ে বুকল বললো, ' তুই কিছুক্ষণ একা থাকতে পারবি বাবু? আমি ভাবীদের বাসায় পাঁচ মিনিটের জন্যে যাব। '

বাবু গম্ভীর গলায় বললো, ' একবার গেলে এক ঘণ্টার আগে আসবে না। '

' যাব আর আসবো। উনার ছেলেদের জ্বর। দেখে আসা দরকার। যাই বাবু? লক্ষ্মী ময়না।'

'আচ্ছা যাও।'

'একা এক ভ'য় লাগবে না তো?'

'আমার এত ভ'য় নেই।'

'ইস কি আমার সাহসী! রাতে তো একা একা বাথরুমে যেতে পারিস না।'

বাবু কিছু বলল না। কথাটা সত্যি। দিনের বেলা তার কোনো ভ'য় লাগে না। কিন্তু রাত হলেই দারুণ ভ'য় লাগে।

টিনা ভাবী ঠোঁট উল্টে বললেন, ' তারপর কি মনে করে?'

তার মনে ভাবী রেগে আছেন। রাগাই স্বাভাবিক। দু’দিন খবর পাঠাচ্ছেন আসবার জন্যে। আসা হচ্ছে না।

'বাচ্চারা কেমন আছে ভাবী?'

'তা জেনে তোর কী হবে? ওরা জ্বরে বেহুশ হয়ে পড়ে থাকলেই বা কি আর ভাল থাকলেই বা কি?'

বকুল বেশ লজ্জা পেলো। দু’টি বাচ্চার প্রচণ্ড জ্বর। হাত-পা এলিয়ে ঘুমাচ্ছে। জ্বরের আঁচে গা কেমন লালাভ হয়ে আছে।

"ডাক্তার দেখিয়েছ ভাবী?"

'হুঁ দেখিয়েছি। তোর ডাক্তারকেই আনিয়েছিলাম। ও ডাক্তারি কিছু জানে না বলে মনে হয়, কি ওষুধপত্র দিয়েছে তাতে জ্বর আরো বেড়ে গেছে।'

'অন্য ডাক্তার দেখাও। দেশে কি আর ডাক্তার নেই? কত বড় বড় ডাক্তার আছে।'

'অন্য ডাক্তার দেখাবো। চক্ষুলজ্জার জন্যে পারছি না।' 'বেচারা রোজ দু'তিনবার এসে খোঁজ নেয়। এখন যদি দেখে অন্য ডাক্তায় এনেছি…। মহা যন্ত্রণায় পড়লাম বুঝলি।'

'তুমি আজই অন্য ডাক্তার খবর দাও।'

'তাই দিতে হবে। তোর ভাই চোঁচামেচি করছে। আমি আজ দিনটা সময় নিয়েছি। আজ দিনের মধ্যে না কমলে অন্য ডাক্তারের কাছে যাবো।'

'ভাবী দেখ, গা ঘামছে। জ্বর বোধ হয় নেমে যাচ্ছে। ঠোঁট চাটছে। ওদের একটু পানি খাওয়াই। '

'খাওয়া। বোতলে গুকোজ শরবত আছে দেখ। আমি একটু গা ধুয়ে আসি।'

পাঁচ মিনিটের জন্যে এসে এক ঘণ্টার ওপর কাটিয়ে দিলো। তার উঠে আসতে ইচ্ছে করছে না। টিনা ভাবী দুই বাচ্চাকে দুই পাশে নিয়ে শুয়ে শুয়ে গল্প করছে। এত ভালো লাগছে দৃশ্যটি দেখতে। একই রকম দেখতে দু’টি বাচ্চাকে দুপাশে নিয়ে শোবার মতো আনন্দ বোধ হয়। আর কিছু নেই।

বকুলের মনে হল–ইস! তার যদি এ রকম দু’টি বাচ্চা হত। এটা মনে হতেই সে লজ্জায় বেগুনী হয়ে গেলো। তার মনে হল টিনা ভাবী তার মনের কথাটা টের পেয়ে ফেলেছে।

"বকুল!"

'কী ভাবী?'

'তো বিয়ের কথাবার্তা পাকা করতে হয়। কার সঙ্গে কথা বলবো? তোর আসল গার্জেন তো বোধ হয় তোর বোন।'

বকুল মাথা নিচু করে বসে রইলো। উত্তর দিলো না।

টিনা হালকা গলায় বললো,

' তুই কিছু মনে করিস না বকুল–তোর এই বোনটাকে আমার পছন্দ হয় না। কেমন পুরুষ পুরুষ ভাব।'

"মুনা আপা খুব ভাল মেয়ে।"

"ভাল মেয়ে তো বটেই। তোদের ঝা'মেলার যেভাবে ঝড় সা'মাল দিয়েছে। এ রকম ক'টা পুরুষ পারবে? তবে ব্যাপার কি জানিস বকুল.. তোর আপা হচ্ছে কঠিন ধরনের মেয়ে। মেয়েরা ক'ঠিন হলে ভালো লাগে না। মেয়েরা হবে নরম ধরনের। আহ্লাদী।

কথায় কথায় কেঁদে ফেলবে… যেমন তুই?"

' আমি বুঝি আহ্লাদী? '

' না আহ্লাদী না। তুই হচ্ছিস মায়াবতী।'

' মুনা আপা বুঝি মায়াবতী না? '

' না। '

বকুলের মন খারাপ হয়ে গেলো। মুনা আপা সম্পর্কে কেউ কিছু বললে তার ভালো লাগে না। রাগ লাগে।

' বকুল, এমন মুখ কালো করে ফেলেছিস কেন?'

' ভাবী, আমি উঠি? '

' এখন উঠবি কি? আরেকটু বস। তোর ডাক্তার আসবে কিছুক্ষণ মধ্যে। তার সঙ্গে দুই-একটা কথাটথা বল। '

' কি যে তুমি বল ভাবী। '

' বিয়ের আগে কথাটথা বলা হাতের সঙ্গে হাত লেগে যাওয়া এইসব খুব ভালো লাগে। অন্য রকম একটা আনন্দ হয়। বিয়ের পর দেখবি এইসব খুব পানসে লাগছে। শরীরের সঙ্গে শরীরের পরিচয়ের আগের যে প্রেম সেটার মত ভালো আর কিছু নেই। '

টিনা ছোট করে নিঃশ্বাস ফেললো। মনে মনে বকুলও একটা নিঃশ্বাস ফেললো। তার কেমন ভ'য় ভ'য় করে। এত রহস্য পৃথিবীতে। এইসব রহস্যের মধ্যে বড় হওয়া বেশ কষ্টে।

' বকুল। একটু চা করতে পারবি। ঘুমে চোখ বন্ধ হয়ে আসছে। চোখের পাতা মেলে রাখতে পারছি না।'

' ঘুমাও। '

' উঁহু। তোর ভাই আসবে। ঘুমিয়ে আছি দেখলে মুখ ভারী হয়ে যাবে। পুরুষ মানুষদের তুই তো চিনিস না। অদ্ভুত জিনিস। '

' তাই নাকি? '

' হ্যাঁ, তাই। '

' বাচ্চা দু’টি এমন ওদের যন্ত্রণাতেই রাতে ঘুমুতে পারছি না–শেষ রাতে একটু তন্দ্ৰামত এসেছে তখন তোর ভাই ডেকে তুললো। তার নাকি ভীষণ মাথাব্যথা চুল টেনে দিতে হবে। উঠে গেলাম চুল টেনে দিবার জন্যে–ও আল্লাহ দেখি মাথা ব্যথা কিছু না তার অন্য কিছু চাই। '

বকুল মুখ লাল করে বসে রইলো।

পুরুষের মতো স্বার্থপর জাত আর তৈরি হয়নি। নিজের বাচ্চারা এমন অসুস্থ এর মধ্যে কেউ কি পারে…

বকুল কথার মাঝেই উঠে দাঁড়ালো।

মৃদু স্বরে বললো, 'ভাবী আমি চা বানিয়ে নিয়ে আসি।'

লজ্জায় তুই দেখি একেবারে লাল হয়ে গেছিস।

এসব খুব সাধারণ ব্যাপার। বিয়ের দু’দিন পর দেখবি ডাল-ভাত হয়ে গেছে। বকুল চা বানিয়ে এসে দেখে টিনা ভাবী ঘুমিয়ে পড়েছে। তাকে ঘুম থেকে জাগানোর কোনো মানে হয় না। সে নিজেই চা টা খেলো। বাচ্চা দু’টির জ্বর আসলেই অনেকখানি কমেছে। এরা ঘুমের মধ্যে হাসছে। খুবই আশ্চর্যের ব্যাপার দু’জন একই সঙ্গে হাসছে। একটি স্বপ্নই বোধ হয় দেখছে দু’জন।

বকুল নিচু হয়ে ওদের কপালে চুমু খেলো।

কেমন দুধ দুধ গন্ধ। একবার চুমু খেলে মুখ উঠিয়ে নিতে ইচ্ছা করে না। বুকের মধ্যে কেমন অদ্ভুত ভাবে শিরশির করে। কেন করে? কোনোদিন বোধ হয় তা জানা যাবে না।

বকুল বেরুলো চারটার একটু আগে। বেরুনো মাত্র দেখা হল ডাক্তার ছেলেটির সঙ্গে। বকুলের বুক ধক করে উঠলো। এক পলকের জন্যে দুলে উঠলো সব কিছু।

'বকুল ভালো আছো? রুগী দেখতে গিয়েছিলে?'

'হুঁ।

'আছে কেমন ওরা?'

'ভালো।'

'তোমার তো আর দেখাই পাওয়া যায় না। স্কুলে যাও না?'

'এখন আমাদের ক্লাস হচ্ছে না।'

'ক্লাস হচ্ছে না কেন?'

'টেস্টের প্রিপারেশনের জন্য।'

'কেমন হচ্ছে প্রিপারেশন?'

'ভালো। আমি এখন যাই?'

'এই সপ্তাহের মধ্যেই আমার মা যাবেন তোমাদের বাসায়।'

বকুল কিছু বললো না।

জহির হাসিমুখে বললো, ' মাকে তোমার ছবি দেখিয়েছি; মা কি বললেন জানো? '

মা বললেন, –'মেয়েটার নাকটা এত মোটা কেন?'

জহির বেশ শব্দ করে হাসতে লাগলো।

এতে লজ্জা লাগছে বকুলের। একই সঙ্গে ছুটে পালিয়ে যেতে ইচ্ছে করছে আবার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কথা শুনতেও ইচ্ছা করছে। সম্পূর্ণ দুরকম জিনিস একসঙ্গে মানুষের মনে আসে কিভাবে কে জানে।

'বকুল!'

'জ্বী। '

'তুমি দেখি ঘেমে-টেমে একটা কাণ্ড করছো এত অস্বস্তি বোধ করছো কেন? এ কালের মেয়েরা কত স্মার্ট থাকে।'

'আমি যাই এখন।'

বকুলের পা পাথরের মত ভারী। বড্ড কষ্ট হচ্ছে পা টেনে টেনে যেতে। কান্না পেয়ে যাচ্ছে। একটা সময় আসছে যখন এই ছেলেটির সঙ্গে সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করবে। উঠে চলে যাবার কোনো তাড়া থাকবে না।

কে দেখে ফেলবে এই নিয়ে চাপা আতংক থাকবে না। কি প্রচণ্ড সুখের সময়ই না হবে সেটা। ঝুম বৃষ্টি নামলে তারা দুজনে বৃষ্টিতে ভিজবে। হাত ধরাধরি করে ভিজবে। ভাবতেই বকুলের চোখ জলে ভর্তি হয়ে গেলো। সুখের কথা ভাবতেও যে কষ্ট হয় কেন কে জানে। এত বিচিত্র কেন পৃথিবীটা। কাউকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করে। কাকে সে জিজ্ঞেস করবে?

________________________________

মামুন এসেছিল। দুপুরে ভাত খেয়েছে।

এই খবরে মুনা বিন্দুমাত্র উৎসাহ দেখালো না। সে আজ একগাদা জিনিসপত্র কিনে বাড়ি ফিরেছে সন্ধ্যা পার করে। তিনটা বড় বড় প্যাকেট তার হাতে। উৎসাহ নিয়ে কি কি সে কিনলো তাই দেখাচ্ছে। জিনিসপত্র গুলি বিচিত্র। একটা গ্লোব ব্যাটারি লাগানো। সুইচ টিপলেই পৃথিবী ঘুরতে থাকে। একটা নব ঘুরিয়ে পৃথিবীর ঘূর্ণনের বেগ কমানো বা বাড়ানো যায়।

মুনা উজ্জ্বল মুখে বললো, " জিনিসটা সুন্দর না? "

বাবু অবাক হয়ে বললো, " হ্যাঁ সুন্দর। এটা কি জন্যে কিনেছো? "

" পছন্দ হয়েছে তাই কিনেছি। আসল জিনিসটা দেখলে মাথাটা খারাপ হয়ে যাবে। "

" কি সেটা? "

" রাতে খাওয়া-দাওয়ার পর দেখবি। শাড়ি কিনলাম দু'টা। দেখ তো বকুল কেমন। "

শাড়ি দেখে বকুল অবাক। কি চড়া রঙ চোখ ধাঁধিয়ে যায়। দেখেই বুঝা যাচ্ছে খুব দামী শাড়ি।

' শাড়িগুলি কেমন কিছু বলছিস না কেন? '

' গায়ে কটকট করবে। '

' করুক কটকট। আমি কি বুড়ি হয়ে গেছি যে সাদা শাড়ি পড়তে হবে? '

রাতের খাবার-দাবার শেষ হয়ে যাবার পর আসল জিনিসটা বেরুল। একটি ক্যাসেট প্লেয়ার। ছোটখাটো চমৎকার একটা জিনিস।

বাবু অবাক হয়ে বলল, ' কত দাম আপা? '

' তেইশশ টাকা। জিনিসটা কেমন? '

' সুন্দর খুব সুন্দর। এত টাকা কোথায় পেলে তুমি? '

' ব্যাংকে যা ছিলো খরচ করে ফেললাম। কি হবে টাকা জমিয়ে? পাঁচটা ক্যাসেট কিনেছি কোনটা দিব বল। রবীন্দ্র সঙ্গীত না হিন্দি। হিন্দি ক্যাসেট আছে তিনটা। একটা আছে পুরনো দিনের গান। কোনটা দেবো বল? '

বকুল বা বাবু কেউ কিছু বললো না। মুনা মহা উৎসাহে নিজেই একটি ক্যাসেট চালু করলো।

।

শওকত সাহেব তাস খেলে রাত নটার দিকে বাড়ি ফিরে শুনলেন–

' গান হচ্ছে–মাটি মে পৌরণ, মাটি মে শ্রাবণ, মাটি মে তনবিন জায়গা যব মাটি মে সব মিল যায়গা।'

শওকত সাহেব বড়ই অবাক হলেন।

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

বাকের ঠিক করলো। আজ বিকেলে যাবে ও-বাড়িতে। ব্যাপারটা তলিয়ে দেখা দরকার। দু’টি মেয়ে ছিলো। ক’দিন ধরে দেখা যাচ্ছে তিনটে মেয়ে। তিন নম্বরটি বেঁটে ধরনের,মোটাসোটা। তবে এ অন্য দুজনের চেয়েও সুন্দর, গায়ের রঙ সোনার মত, মাথা ভর্তি চুল। এর সঙ্গে মুখোমুখি দেখা হয়েছে এক’দিন মুদির দোকানে এসেছে কিসমিস কিনতে। কালো একটা চশমায় মুখ ঢাকা। শীতের দিনের বিকেলে যখন চারদিক এমনিতেই অন্ধকার তখন এ রকম একটা কালো চশমার মানে কি মুখ ঢেকে রাখা না?

জোবেদ আলীকে জিজ্ঞেস করেছিলো মেয়েটির কথা। জোবেদ আলী গম্ভীর মুখে বলেছে,' ওদের চাচাতো বোন। চিটাগাং-এ থাকে। বেড়াতে এসেছে।'

'কিসে পড়ে?'

'বিএ ফাস্ট ইয়ার।'

'এখানের দু’জন ওরা কি পড়ে?'

'এরা আইএ পড়ে।'

'কলেজে-টলেজে তো দেখি না।'

'ভর্তি হয়নি এখনো। ট্রান্সফার নিয়ে এসেছে।'

'ও আচ্ছা।'

'ভর্তি নাও হতে পারে। বাবার কাছে চলে যেতে পারে।'

'ইরানে?'

'না ইরাকে।'

'এই ইরান-ইরাক ব্যাপারটাও সন্দেহজনক।'

পোস্টম্যানকে বাকের জিজ্ঞেস করেছিল,

–' বিদেশী চিঠিপত্র এদের কেমন আসে? পোস্টম্যান বলেছে…. এই ঠিকানায় এখনো চিঠিপত্র আসা শুরু করে নাই। এর মানে কি? দু'মাস হয়ে গেছে। এর মধ্যে চিঠিপত্র দিয়ে কেউ খোঁজ করবে না?'

সবচেয়ে যা সন্দেহজনক, মেয়ে তিনটি পাড়ার কোনো বাড়িতে এখন পর্যন্ত যায়নি। এই বয়সের মেয়েরা দিনরাত ঘরে বসে থাকবে কেন? তাছাড়া এরা প্রচুর গয়না পরে। অবিবাহিত মেয়েরা সাজগোজ করে ঠিকই এত গয়না পরে না। ব্যাপারটা নিয়ে ইয়াদের সঙ্গে আলাপ করলে ভালো হতো। কিন্তু ইয়াদ হারামজাদাটা বিয়ের পর ভেড়ুয়া নাম্বার ওয়ান হয়ে গেছে। সেই তেজ সেই সাহসের কিছুই নেই। মাথার মধ্যে তার শুধু সংসার ঘুরছে। সেদিন গিয়ে দেখে গামছা পরে কমোড় পরিষ্কার করছে।

বেরিয়ে এসে বললো, ' কি করব বল বৌয়ের পরিষ্কার বাতিক। চাকর-বাকরের হাতে দিলে কিছুই হয় না। তুই নিজের চোখে দেখ কেমন ঝকঝকে করে ফেলেছি।'

'তোর বৌ কোথায়?'

'বাপের বাড়ি গেছে। আজ থাকবে সেখানে। আমাকে যেতে হবে। নয় তো তোর সঙ্গে জাম্পেশ আড্ডা দিতাম। শালা আড্ডা দেওয়াই ভুলে গেলাম।'

' না গেলেই হয় শ্বশুর বাড়িতে। থেকে যা আড্ডা দেই। পাড়ায় একটা ব্যাপার হচ্ছে এটা বলি।'

ইয়াদ আঁতকে উঠলো।

হতাশ মুখ করে বললো, ' কোন উপায় নেই রে ভাই। আমি না গেলে ভূ'মিক'ম্প হয়ে যাবে। ওর আবার আমি পাশে না থাকলে ঘুম হয় না। ভূ'তের ভ'য়। অল্প বয়সের মেয়ে বিয়ে করে যারা ভুল করেছি রে ভাই।'

রাগে গা জ্বলে যাবার মত কথা। ইয়া ধামড়ি মেয়ে বলে কী-না অল্প বয়সের মেয়ে।

'পাড়ার সমস্যা কি বল শুনি। অনেক’দিন যাওয়া হয় না। সবাই আছে কেমন?'

'ভালোই।'

'নাটক হচ্ছে নাকি? বদরুলের সঙ্গে দেখা হলো? বই কোনটা নামাচ্ছিস?'

'জানি না এখনো।'

'তারপর বল কি ব্যাপার?'

বাকের বলতে শুরু করতেই ইয়াদ তাকে থামিয়ে দিলো।

মুখ কাচুমাচু করে বললো, ' মেঝেতে ছাই ফেলিস না রে দোস্ত। বউ রাগ করে। দাঁড়া এসট্রে দিচ্ছি। কার্পেটে ছাই ফেললে তোলা মুশকিল। আঠার মত লেগে যায়। '

বাকেরের মুখ তেঁতো হয়ে গেলো।

কি ছিল আর কি হয়েছে। বিয়ে তো আরো মানুষে করে কিন্তু এ রকম কেউ হয়? হারামজাদার পাছায় লাথি দিয়ে মুখে দুধের বোতল ধরিয়ে দিতে হয়।

ইয়াদ বাহারি একটা এসস্ট্রে এনে রাখলো।

' কেমন অদ্ভুত এসট্রে দেখলি। কচ্ছপের মত।

সুন্দর না?'

'হুঁ।'

'দাম কত বল দেখি?'

'জানি না কত। আমি উঠলাম।'

'এখনি উঠবি? কি যেন বলবি বা বলছিলি।'

'আরেক দিন বলবো।'

'আচ্ছা আসিস আরেক দিন।'

বাকেরের আফসোসের সীমা রইলো না। এত পয়সা খরচ করে এখানে আসাটা ভুল। শালা ভেভুয়া। পাড়ার একটা ব্যাপার। কিন্তু কোনো উৎসাহ নেই। এ কি অবস্থা। অথচ, এক কালে এরই আশা-ভরসা ছিলো।

সিগা'রেট'টা ফেলে দিয়ে বাকের গেটে টোকা দিল। এরা একটা দারোয়ানও দেখি রেখেছে।

দারোয়ানটার মধ্যে ড্যাম কেয়ার ভাব। দারোয়ান খসখসে গলায় বললো, 'কারে চান?'

'গেট খোল।'

'কারে চান বলেন?'

'আরে তুই তো মহা মা'তবর দেখছি। চ'ড় দিয়ে চাপার দাঁত ফেলে দিব। বাড়ি কোথায় তোর?'

'চুপ, মুখ সামলাইয়া কথা কন।'

'হা'রাম'জাদা বলে কি?'

মেয়ে দু’টির মা বের হয়ে এলেন। সাদা সিল্কের শাড়ি। পরনে চোখে রিমালেস চশমা। সিনেমার বড়লোক ছেলের মার মত চেহারা।

ভদ্রমহিলা চিকন স্বরে বললেন,' কি হয়েছে খসরু?'

- 'আম্মা ঝা'মেলা করতাছে।'

'গেট খুলে দে।'

ভদ্রমহিলা এগিয়ে এসে মধুর গলায় বললেন, 'এসো বাবা। এসো। নতুন লোক, কার সঙ্গে কি ব্যবহার করতে হয় জানে না। '

বাকের খাতির-যত্নের বহরে হকচকিয়ে গেলো।

বসার ঘরটি সুন্দর করে সাজানো। দেয়ালে তিনটা জলরঙ ছবি। ঝুলন্ত হ্যাংগারের অর্কিড। নিচু নিচু সোফা। তরমুজ আকৃতির ছটা বাতি রুপালি শিকলে ঝুলছে।

-'বাবা, তোমাকে তো চিনতে পারলাম না।'

-'আমার নাম বাকের।'

-'ও আচ্ছা। জোবেদ আলী বলেছে তোমার কথা।'

-' নতুন এসেছেন। খোঁজ-খবর নিতে আসলাম।'

- ' ভালো করেছো। খুব ভালো করেছো। মেয়েগুলিকে নিয়ে একা -একা থাকি। বসো বাবা কি খাবে?'

- ' কিছু খাবো না।'

- 'তা কি করে হয়? প্রথম এসেছি।'

তিনি নিজেই উঠে গিয়ে মিষ্টি নিয়ে এলেন। রুপোর গ্লাসে পানি। কিন্তু মেয়েগুলি আসছে না, উকি-কুঁকিও দিচ্ছে না।

-'তুমি করে বলছি। রাগ হচ্ছে না তো।'

-'জ্বী, না।'

জোদেব আলী বলছিলো, 'তোমরা নাকি নাটক করছো?'

-'জ্বী, একটা হচ্ছে।'

-'কি নাম নাটকের?'

- 'নাম ঠিক হয় নাই।'

' নাটক তো খুব খরচান্ত ব্যাপার। টাকা-পয়সা জোগাড় হচ্ছে কীভাবে?'

'চাঁদা তুলে। সবাই দিচ্ছে।'

- ' কই আমার কাছে তো তোমরা কেউ আসনি?'

বাকের অত্যন্ত অস্বস্তির সঙ্গে স'ন্দেহে ভেঙে মুখে দিলো। সুন্দর একটা গন্ধ সন্দেশে। বাকের কান খাড়া করে রাখলো। যদি ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়। কোনো রকম সাড়াশব্দ নেই।

বাকের উঠে আসার সময় ভদ্রমহিলা তাকে এক হাজার টাকা দিলেন নাটকের খরচের জন্য। বাকেরের মুখ শক্ত হয়ে গেলো। রহস্য পরিষ্কার হতে শুরু করেছে।

- 'আবার এসো বাবা।'

- 'জ্বী, আসবো।'

"নাটকে আমার খুব সখ্য ছিল। এখন কিছুই নেই।'

বেরুবার সময় দারোয়ান সালাম দিয়ে গেট খুলে দিলো। বাকের এই প্রথম দেখলো মেয়ে তিনটি বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছে। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখছে তাকে। তার দিকে চোখ পড়তেই দু’টি মেয়ে ভেতরে ঢুকে গেলে। বেটেটা শুধু দাঁড়িয়ে রইলো। এদের কারো নাম জানা হলো না। জিজ্ঞেস করা দরকার ছিলো।

দারোয়ান গেটে তালা লাগাচ্ছে।

বাকের ফিরে এসে জিজ্ঞেস করল, " মেয়েগুলির নাম কী জান? "

দারোয়ান এমন ভাবে তাকিয়ে রইল যেন প্রশ্নটা বুঝতে পারছে না।

"নাম জান না ওদের?"

- 'জ্বী, না।'

- 'কী ডাক?'

- 'বড় আফা, ছোট আফা, মাইঝা আফা।'

-'ও আচ্ছা।'

বেঁটে মেয়েটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে। বাকের গেটের কাছে দাঁড়িয়েই সি'গারে'ট ধরালো। এই সিগা'রে'টটা সে এখানে দাঁড়িয়েই শেষ করবে। দেখবে মেয়েটা কি করে? মেয়েটি ভেতরে ঢুকে গেলো। শুধু দারোয়ান গেটের ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে।

চলবে..

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১২তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন