বাইরে তখন কালবৈশাখীর উন্মত্ত তাণ্ডব। মেঘের গগনবিদারী গর্জনে মনে হচ্ছে আকাশটা বুঝি এখনই ভেঙে পড়বে গ্রামের এই জীর্ণ, পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ির ওপর। ধুলোবালি আর সোঁদা গন্ধে বাতাস ভারী, এক কোণে রাখা হ্যারিকেনটা টিমটিম করে জ্বলছে। সেই কম্পমান ম্লান আলোয় দেয়ালে কাঁপছে দীর্ঘ ছায়া।
ঘরের মাঝখানে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে আছে "এহসান সিদ্দিকী"। অস্থির দৃষ্টিতে একবার কব্জির ঘড়িটার দিকে তাকাল সে। তারপর দ্রুত পকেট থেকে ফোনটা বের করে স্ক্রিনে চোখ বুলাল। কিন্তু নেটওয়ার্কের কোনো চিহ্ন না দেখে বিরক্তিতে চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল তার । একরাশ বিরক্তি চেপে ফোনটা আবার পকেটে ঢুকিয়ে রাখল সে।
এবার তার দৃষ্টি ধীরে ধীরে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রামের মাতব্বরদের দিকে স্থির হলো। সামনে দাঁড়িয়ে থাকা লোকগুলোর লোলুপ দৃষ্টি আর ঔদ্ধত্যভরা তর্জন-গর্জন এহসানের ধৈর্যের বাঁধে একের পর এক আঘাত হানছিল।তবু সে নিজের রাগ সংবরণ করে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইল। কারণ এই মুহূর্তে পরিস্থিতিই তার হাত-পা বেঁধে রেখেছে।
ঠিক তার পেছনে, স্যাঁতসেঁতে দেয়াল ঘেঁষে কাঁপছিল বছর কুড়ির এক তরুণী—
"রূপকথা তালুকদার অনু "
ভয়ে অনুর মুখের সমস্ত রং উধাও, দুহাতে ওড়নার আঁচল শক্ত করে জাপটে ধরে আছে সে, যেন সামান্য ওই কাপড়টুকুই তার শেষ আশ্রয়। তার বড় বড় আতঙ্কিত চোখ দুটো বারবার ছুটে যাচ্ছে সামনের দিকে।
সামনেই দাঁড়িয়ে আছে গ্রামের দশ-পনেরো জন বলিষ্ঠ যুবক। কারও হাতে লাঠি, কারও হাতে শক্ত বাঁশের শোটা। তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট উত্তেজনা আর ক্ষোভের ছাপ।
গ্রামের মোড়ল ইদ্রিস আলী পান চিবোতে চিবোতে নীরবতা ভেঙ্গে তাচ্ছিল্যের সুরে বললেন,
"শহরের জওয়ানেরা তো নীতি-কথা খুব জানেন! কইতাছেন, বৃষ্টির তাড়ায় এইহানে আইয়া আশ্রয় নিছেন। আমার কথা হইল, বিয়া-শাদি ছাড়া এক জোয়ান পোলা আর এক জোয়ান মাইয়া কেমনে এক ঘরে আশ্রয় নেন? এই মাইয়াডারে নিয়া সারারাত এক ঘরে কাটাইবেন, আর আমাগো গেরামের ইজ্জত পাংচার করিয়া ছাইড়া দিবেন—এইডা হইতে দিমু না। কাজি আইতাছে, আইজই বিয়া পড়তেই হইবো... "
বিয়ের কথা শুনে এতক্ষণে ধৈর্যের বাঁধ ভাঙল এহসান সিদ্দিকীর। চোয়াল আগের চেয়ে আরও শক্ত হয়ে উঠল, দাঁতে দাঁত চেপে কটমট শব্দ তুলল সে। তারপর পুরো ঘর কাঁপিয়ে চিৎকার করে বলে উঠল সে —
"শাট আপ! ও আমার ফুপাতো বোন। আপনারা যে নোংরা অর্থ বের করছেন, তার মধ্যে বিন্দুমাত্র সত্যতাও নেই।। ও এখনও বাচ্চা একটা মেয়ে। একটা মেয়েকে নিয়ে এমন নোংরা মন্তব্য করার আগে অন্তত একবার লজ্জা পাওয়া উচিত ছিল আপনাদের।আর আমি এমন কোনো অপরাধ করিনি যে আমার ওকে বিয়ে করতেই হবে। আরও- ও এমন কোনো অপরাধ করেনি যে তার শাস্তি বিয়ে হবে। তাই মুখ সামলে কথা বলুন।"
ঠিক এমন সময় ভিড়ের এক কোণ থেকে গফুর নামের লোকটা ঠোঁটের কোণে কদর্য হাসি টেনে ঘিনঘিনে গলায় খোঁচা মেরে বলে উঠল—
"চাচাতো-মামাতো বইন তো বিয়ার যম! আপনে যদি ওরে বিয়া না করেন, তবে মাইয়াডারে আমাগো জিম্মায় দিয়া যান। কাল সকালে আমরাই এর গতি করুম। এমনে কথা কইতাছেন যেন আপনারা একঘরে আছিলেন না! জোয়ান একডা পোলা আর একডা মাইয়া একঘরে থাকব এইডা গেরামের মানুষ মানব নাকি? "
গফুরের মুখ থেকে কথাগুলো বের হতেই ভিড়ের মধ্যে চাপা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ল। মুহূর্তের মধ্যেই কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল যুবক সায় দিয়ে হইচই শুরু করে দিল।
—"ঠিক ... ঠিক...!বিয়া হইতেই হইব!"
তাদের গলার জোরে চারপাশ আরও অশান্ত হয়ে উঠল। কেউ হাসল, কেউ মাথা নেড়ে সমর্থন জানাল, আবার কেউ কৌতূহলী চোখে পুরো দৃশ্যটা উপভোগ করতে লাগল।এমন সময় ভিড় ঠেলে সামনে এগিয়ে এলেন গ্রামের এক - প্রবীণ। তিনি কপাল কুঁচকে চারপাশে একবার তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
—"এদের যদি আইজ এমনে ছাইড়া দাও, কাইল থেইকা গ্রামের সব মাইয়াই সাহস পাইয়া যাইব। গ্রামের নিয়ম-কানুন আর থাকব না। হয় বিয়া করো, না হয় মাইয়াডারে এইহানেই রাইখা একলা চইলা যাও।"
বৃদ্ধের কথা শেষ হতেই গফুরের ঠোঁটের কোণে কদর্য হাসি আবারও ফুটে উঠল। শিকার সামনে পেয়ে হিংস্র জন্তুর মতো চোখ দুটো চকচক করে উঠল তার। দাঁত বের করে চারপাশে তাকিয়ে সে বলে উঠল,
—"এইডাই তো কইতাছিলাম, মাজন চাচা! মোর বউডা আবার পোয়াতি। ঘরে আরেকটা বউ হইলে দেহাশোনা করতেও সুবিধা হয়। এই পোলাডা যদি বিয়া করতে না চায়, আমার তো কোনো সমস্যা নাই... আমি বিয়া করুম!"
কথাটা বলেই সে এমনভাবে অনুর দিকে তাকাল, যেন কোনো মানুষ নয়, হাটের বিক্রির জন্য দাঁড় করিয়ে রাখা একটা জিনিসকে যাচাই করছে।
গ্রামের মানুষের বিকৃত ধারণা আর তাদের চরিত্র নিয়ে একের পর এক ছুড়ে দেওয়া নোংরা অপবাদে এহসানের রাগ ক্রমশ তীব্র হয়ে উঠছিল। কিন্তু পরের মুহূর্তেই তার চোখ গিয়ে থামল পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা অনুর ওপর। চারপাশের কিছু লোলুপ, কুদৃষ্টির চোখ অনুর দিকে এমনভাবে আটকে আছে, যেন সে কোনো মানুষ নয়, শিকারে পরিণত হওয়া এক শিকার।অনু দুহাতে নিজের ওড়নাটা শক্ত করে জাপটে ধরে সিঁটিয়ে আছে, যেন ওই বিষাক্ত কথাগুলো থেকে নিজেকে আড়াল করতে চাইছে।
অনুর দিকে তাকিয়ে তার অসহায়, আতঙ্কে জমে যাওয়া মুখটা দেখেই এহসানের ভেতরের রাগ যেন আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল। সে আবারও গ্রামের লোকগুলোর উদ্দেশে কিছু বলতে মুখ খুলল।ঠিক তখনই হঠাৎ অনুভব করল, কেউ তার শার্টের কোণাটা শক্ত করে আঁকড়ে ধরেছে।
পেছন ফিরে তাকাতেই তার বুকটা হঠাৎ কেঁপে উঠল।
অনু ফুঁপিয়ে কাঁদছে,আতঙ্কে তার ছোট্ট শরীরটা অনবরত কেঁপে উঠছে, ঠোঁট দুটো কাঁপছে অসহায়ভাবে। চোখজোড়া অশ্রুতে ঝাপসা হয়ে এসেছে, সেখান থেকে টুপটাপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে গাল বেয়ে।
অনু কাঁপা কণ্ঠে ফিসফিস করে বলল,
"ও..রা... ওরা আমাকে নিয়ে যাবে...! আমি... আমি যেতে চাই না...! প্লিজ... আমাকে বাঁচান...! আমি বাড়ি যেতে চাই... আমি মায়ের কাছে যেতে চাই...!"
অনুর কাঁপা কণ্ঠে ভেসে আসা অসহায় মিনতি যেন এহসানের আত্মসংযমের শেষ দেয়ালটুকুও ভেঙে দিল। এতক্ষণ কোনোমতে নিজেকে সামলে রাখলেও এবার আর পারল না। তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল, কপালের শিরা টনটন করে ফুলে উঠল, আর মুঠোবদ্ধ হাত দুটো এমন শক্ত হয়ে গেল যে আঙুলের গিঁটগুলো সাদা হয়ে উঠল।
এক ঝটকায় সে দরজার পাশে পড়ে থাকা মোটা কাঠের টুকরোটায় এমন জোরে লাথি মারল যে বিকট শব্দে সেটি কয়েক হাত দূরে গিয়ে পড়ল। শব্দটা শুনে উপস্থিত সবাই চমকে উঠল। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ঘরে নেমে এলো থমথমে নীরবতা।
এহসান মাথা সামান্য উঁচু করে ধীর, অটল পদক্ষেপে এগিয়ে গেল।তার চোখের দৃষ্টি এতটাই তীক্ষ্ণ ছিল যে মোড়লও অজান্তে এক পা পিছিয়ে গেল। কয়েক সেকেন্ড নীরবে মোড়লের দিকে তাকিয়ে থেকে এহসান বজ্রকঠিন কণ্ঠে বলে উঠল ,
"কাজি ডাকুন... এখনই।"
তারপর চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিটি মানুষের দিকে একবার চোখ বুলিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
'একটা মেয়ের চরিত্র নিয়ে বিচার করতে আপনাদের একটুও লজ্জা লাগল না? আপনাদের এই নোংরা জিভগুলো বন্ধ করতে যদি বিয়েই একমাত্র উপায় হয়...তাহলে সবাই সাক্ষী থাকুন, আজ রাতেই রূপকথা তালুকদার এহসান সিদ্দিকীর স্ত্রী হবে। এরপর তার সম্মান নিয়ে একটা শব্দ উচ্চারণ করার সাহস যেন আর কারও না হয়। আজ থেকে রূপকথার সম্মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানে এহসান সিদ্দিকীকে চ্যালেঞ্জ করা। আর আমার চ্যালেঞ্জের পরিণতি কী হয়... সেটা জানার সৌভাগ্য যেন কারও না হয়।”
কিছুক্ষণ পর, বাইরের ঝোড়ো হাওয়ার শব্দকে সঙ্গী করে ঘরে প্রবেশ করলেন কাজী সাহেব। তাঁর হাতে একটি কালো ব্যাগ, পরনে সাদা পাঞ্জাবি আর মাথায় টুপি। ঝড়-বৃষ্টির কারণে আসতে কিছুটা দেরি হয়ে গিয়েছিল, তাই হন্তদন্ত হয়ে ঘরে ঢুকেই তিনি টেবিলের সামনে গিয়ে বসলেন।চশমাটা নাকের ডগায় নামিয়ে রেজিস্টার খাতাটা খুললেন তিনি।
কাজি সাহেব আসার পর গ্রামের কয়েকজন বয়স্ক মহিলা একরকম জোর করেই অনুকে পাশে পাতা একটি মাদুরে বসিয়ে দিলেন। অনু কোনো বাধা দিল না, মাথা নিচু করে নিঃশব্দে বসে রইল।
কারণ অনু বুঝতে পারছিল, এখন সে যা-ই বলুক না কেন, কেউ তাকে গুরুত্ব দেবে না । তাকে বিশ্বাস করবে না। তার ইচ্ছা-অনিচ্ছার মূল্য কেউ দেবে না। সে কী বলবে—
এহসানকে বিয়ে করবে না? যদি সেটাই বলে, তাহলে গ্রামের মানুষ এক মুহূর্তও দেরি করবে না। জোর করেই গফুর নামের লোকটার সঙ্গে তার বিয়ে দিয়ে তাকে এই গ্রামেই আটকে রাখবে।
অনুর চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছিল অবিরাম। বুকের ভেতরটা যেন ধীরে ধীরে শূন্য হয়ে আসছিল। এই মুহূর্তে নিজের সম্মান, নিজের অস্তিত্ব বাঁচানোর আর কোনো পথ নেই। বিয়েটাই যেন তার শেষ আশ্রয়, শেষ অবলম্বন। তাই হাজার অনিচ্ছা, হাজার ভয় আর বুকভাঙা যন্ত্রণা নিয়েও পাথরের মূর্তির মতো নিশ্চুপ হয়ে বসে রইল সে।
কাজী সাহেব কলম হাতে নিয়ে অনুর দিকে তাকিয়ে শান্ত কণ্ঠে জিজ্ঞেস করলেন,
— “তোমার নাম?”
কাঁপা কাঁপা কণ্ঠে অনু উত্তর দিল,
— “রূপকথা তালুকদার অনু।”
কাজী সাহেব খাতায় প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো লিখে নিলেন। এরপর খাতার ওপর থেকে দৃষ্টি তুলে অনুর দিকে তাকালেন।
— “মা রূপকথা তালুকদার, আপনি কি এহসান সিদ্দিকীকে আপনার স্বামী হিসেবে কবুল করছেন?”
কাজী সাহেবের কণ্ঠস্বরটা অনুর কানে যেন কোনো দূর গ্রহ থেকে ভেসে আসা শব্দের মতো শোনাল। অনুর বুকের ভেতর থেকে উঠে আসা তীব্র কান্নার দলা গলার কাছে এসে আটকে গেল।
চারপাশে জড়ো হওয়া মানুষগুলোর উৎসুক চোখগুলো অনুর ওপর নিবদ্ধ। নিজের অজান্তেই অনু দুই হাতের মুঠো শক্ত করে ওড়নার আঁচল চেপে ধরল। কোনোমতে নিশ্বাসের মতো অস্ফুটে বিড়বিড় করল—
"কবুল।"
"শোনা যায় না, স্পষ্ট কইরা কন"—পেছন থেকে ইদ্রিস আলীর দলের এক মুরুব্বির কর্কশ, চড়া ধমক ভেসে এল।
সেই কর্কশ কণ্ঠের ধাক্কায় অনু চমকে মাথা তুলল। নোনা জলে ঝাপসা হয়ে আসা চোখের কোণ দিয়ে সে তাকাল সামনে। ঠিক তার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে এহসান। এহসানের চোয়াল শক্ত হয়ে আছে এখনো, অথচ চোখের দৃষ্টিতে ফুটে উঠেছে এক শান্ত, স্থিরতা।
নিজের শেষটুকু শক্তি আর বুকের ভেতর জমে থাকা সমস্ত হাহাকার এক করে অনু এবার স্পষ্ট, একটু জোর দিয়েই বলে উঠল—
"কবুল!"
"আলহামদুলিল্লাহ!"—
একসঙ্গে ঘরভর্তি মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। চারপাশে যেন এক মুহূর্তের জন্য স্বস্তির আবেশ ছড়িয়ে পড়ল।কাজী সাহেব এবার খাতাটা ঘুরিয়ে এহসানের দিকে তাকালেন। চশমার ওপর দিয়ে একবার দেখে গলা খাঁকারি দিয়ে বললেন,
"বাবা, এবার আপনার পালা। আপনি কি রূপকথা তালুকদারকে স্ত্রী হিসেবে কবুল করছেন?"
এহসানের দৃষ্টি তখনো ঘরের ভেতর ছিল না। ও তাকিয়ে ছিল জানালার বাইরের ঘুটঘুটে, জমাট বাঁধা অন্ধকারের দিকে, যেখানে ঝোড়ো হাওয়া অবিরাম তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। কাজী সাহেবের প্রশ্ন শেষ হতেই ও এক মুহূর্তও দ্বিধা করল না। কোনো অনুশোচনা ছাড়াই, প্রায় একরোখা জেদের বশে বজ্রকণ্ঠে উত্তর দিল—
"কবুল!"
মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঘরের পরিবেশ বদলে গেল। ইদ্রিস আলী আর গফুর ঘরের এক কোণে দাঁড়িয়ে আড়চোখে একে অপরের দিকে তাকাতে লাগল। তাদের নোংরা ফন্দি শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। তারা চেয়েছিল, অনুকে এই গ্রামেই আটকে রাখবে—নিজেদের লালসা চরিতার্থ করার জন্য। কিন্তু এহসানের এই রুদ্রমূর্তি আর বজ্রকণ্ঠের সামনে দাঁড়িয়ে টু শব্দ করার সাহসও আর তাদের নেই।
রেজিস্টার খাতায় একে একে দুজনের স্বাক্ষর সম্পন্ন হলো। কাজী সাহেব হাত তুলে সংক্ষিপ্ত মোনাজাত ধরলেন, নিচু স্বরে দোয়া পড়তে লাগলেন। কিন্তু সেই দোয়ার প্রতিটি শব্দ যেন অনুর কানে তপ্ত সিসার মতো বিঁধছিল।
বাইরের ঝোড়ো হাওয়া যেমন চারপাশের সবকিছুকে অস্থির করে তুলছিল, ঠিক তেমনই এক কঠিন, নির্মম বাস্তবতাকে সঙ্গী করে শুরু হলো এহসান আর অনুর জীবনের সম্পূর্ণ নতুন এক অধ্যায়। এই পথ তাদের কোথায় নিয়ে যাবে, তার উত্তর তখনও অজানা।
চলবে...
#নিভৃতে_যত্নে_রাখা_প্রিয়তমা
#মারিয়াম_ফুল
পর্ব :১(ক)