ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিভৃতে যত্নে রাখা প্রিয়তমা

১১তম পর্ব

লেখক: মারিয়াম ফুল

সেদিন রাতে রূপকথার সাথে সেই দীর্ঘ ফোনালাপ শেষ করার পর এহসান অন্ধকার ঘরে একা একা হাসল। নিজের ওপরই এক ধরণের অবজ্ঞা মেশানো হাসি। ওর মনে পড়ে গেল লাইব্রেরির সেই উত্তপ্ত দুপুরটার কথা। অনু যখন ওর হারিয়ে যাওয়া মানিব্যাগটা ফিরিয়ে দিতে এসেছিল, তখন এহসান ওকে সবার সামনে অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু অনু যখন অভিমানে ঠোঁট কামড়ে, চোখ মুছতে মুছতে লাইব্রেরি থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল, এহসান পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। ওর একজোড়া চোখ তখন অপলকভাবে অনুর চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে ছিল।

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আহিয়ান কনুই দিয়ে একটা খোঁচা মেরে বলেছিল, "কিরে দোস্ত? পছন্দ নাকি?"
এহসান তখন কপালে দুই ভাঁজ তুলে, নিজেকে শাসন করার ভঙ্গিতে বিড়বিড় করে বলেছিল, "পছন্দ হবে কেন? আর যাই হোক, শত্রুর বাড়ির মেয়ে সব সময় শত্রুই হয় আহিয়ান। ও আমার কাজিন হতে পারে, কিন্তু দিনশেষে ও ওই মাহবুব তালুকদারের মেয়ে। শত্রু বাড়ির মেয়েকে আর যাই হোক, ভালোবাসা যায় না।"
যেদিন অডিটোরিয়ামে প্রথম অনুকে দেখেছিল, সেদিন থেকেই অদৃশ্যভাবে ওর খোঁজ রাখতে শুরু করেছিল এহসান। অনু কোথায় যায়, কার সঙ্গে কথা বলে, কী করে— সবই কোনো না কোনোভাবে তার নজরে চলে আসত।
তবু সামনে পড়লেই যেন সবকিছু বদলে যেত। বুকের ভেতর জমে থাকা টানটাকে আড়াল করতে এহসান রাগে ফেটে পড়ত, কথায় কথায় অনুকে আঘাত করত। যেন দূরে ঠেলে দিলেই নিজের অনুভূতিগুলো মরে যাবে।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই অস্বীকারের দেয়ালে ফাটল ধরতে শুরু করল। অজান্তেই অনুর জন্য আলাদা একটা জায়গা তৈরি হয়ে গেল তার মনে।
এতদিন ইচ্ছে করেই অনুকে উপেক্ষা করেছে এহসান। কারণ তাদের দুই পরিবারের পুরোনো দ্বন্দ্ব আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠুক—সেটা সে কোনোভাবেই চায় না। নিজের অনুভূতিকে চাপা দিয়ে রাখাই তার কাছে সহজ মনে হয়েছিল; অনুর জীবনকে আরেকটা অশান্তির মধ্যে ঠেলে দেওয়ার চেয়ে।
অথচ অবাধ্য মনটা সেদিন রাতেই হার মেনেছিল। গ্রামের মানুষের জোরাজুরিতে হঠাৎ করে হওয়া সেই বিয়েটা তার কাছে ছিল কেবল একটা পরিস্থিতির শিকার হওয়া। কিন্তু কবুল বলার পর যখন প্রথমবার অনুর সেই হেজেল চোখের দিকে তাকিয়েছিল, তখনই বুঝেছিল—এড়িয়ে চলতে চাওয়া মানুষটাকেই সে নিজের অজান্তে হৃদয়ের গভীরে জায়গা দিয়ে ফেলেছে।
পারিবারিক দ্বন্দ্ব, বছরের পর বছর জমে থাকা তিক্ততা আর হাজারো জটিলতার মাঝেও সে নিজের অনুভূতিকে বেঁধে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল। বারবার নিজেকে বোঝাতে চেয়েছিল, অনুকে দূরে রাখাই সবার জন্য ভালো। কিন্তু নিয়তির লেখা কে বদলাতে পারে?
শেষ পর্যন্ত সেই নিয়তিই তাদের একই বন্ধনে বেঁধে দিল।
এহসান এতক্ষণ ধরে নিজের অতীতের স্মৃতিগুলোই মনে মনে ঘেঁটে দেখছিল। ভাবনার জাল ছিঁড়ে বাস্তবে ফিরে এসে সে একটা নিঃশ্বাস ফেলল। নিজের অজান্তেই ঠোঁট নড়ে উঠল। বিড়বিড় করে বলল,
"তোমাকে আমি কখনো চাইনি, রূপকথা। বরং নিজেকে শতবার বুঝিয়েছি, তোমার থেকে দূরে থাকাই ঠিক। অথচ ওই তিন কবুলের পর বুঝলাম, আমি অনেক আগেই হেরে গিয়েছিলাম। আজ এই বন্ধন আমাকে বাধ্য করেছে তোমাকে পাগলের মতো ভালোবাসতে। এখন আর তোমাকে ছাড়া আমার পৃথিবী কল্পনাও করতে পারি না।"
..............
দেখতে দেখতে ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে ঝরে পড়ল বিশটি দিন। এই অল্প সময়েই এহসান আর অনুর সম্পর্কটা যেন অদ্ভুত এক মোড় নিয়েছে। শুরুতে যে সম্পর্কটা ছিল তিক্ততা, ভুল বোঝাবুঝি আর দূরত্বে ভরা, সেখানে ধীরে ধীরে জায়গা করে নিয়েছে এক অদেখা টান আর গভীর মায়া।
আগের সেই বিষাক্ত কথাগুলো এখন আর শোনা যায় না। রাগের জায়গাটা অনেকটাই দখল করে নিয়েছে নীরব যত্ন। চোখে চোখ পড়লে আর বিদ্বেষ ঝরে না বরং অপ্রকাশিত এক অনুভূতি নিঃশব্দে কথা বলে। 
যে এহসান একসময় অনুর উপস্থিতিকেই এড়িয়ে চলত, আজ সেই মানুষটাই দিনের একটা সময়ও অনুর খোঁজ না নিয়ে থাকতে পারে না। কখন অনু খেয়েছে, কোথায় গেছে, কার সঙ্গে কথা বলছে—এসব না জানলে তার ভেতরটা অদ্ভুত এক অস্থিরতায় ভরে ওঠে। অথচ মুখে সে ভালোবাসার কথা তো দূরের, নিজের এই অধিকারবোধটুকুও স্বীকার করতে রাজি নয়।
আর অনুও বুঝে উঠতে পারেনি, কখন এহসানের উপস্থিতিটাই তার প্রতিদিনের অভ্যাস হয়ে উঠেছে। দিন শেষে মানুষটার একটুখানি খোঁজ না পেলে, বুকের ভেতর অকারণ এক শূন্যতা নীরবে বাসা বাঁধে।
নিয়ম করে প্রতি রাতে ফোন করা, হুটহাট অনুর পছন্দের কোনো চকোলেট পকেটে করে নিয়ে আসা, ক্লাস শেষে কোনো কথা না বলেই অনুকে বাড়ির গেট পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে ফিরে যাওয়া—এহসানের এই ছোট ছোট যত্নগুলোই ধীরে ধীরে অনুর হৃদয়ে তার জন্য আলাদা একটা জায়গা তৈরি করে দিচ্ছিল।
এই কুড়ি দিনে অনু কতবার যে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে এহসানের মুখ থেকে মাত্র একটা শব্দ—"ভালোবাসি"— 
শোনার চেষ্টা করেছে, তার কোনো হিসাব নেই। কিন্তু এহসান প্রতিবারই কথার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। যেন নিজের অনুভূতির কাছে হার মানতে রাজি নয় সে। অথচ তার প্রতিটি কাজ, প্রতিটি যত্ন, প্রতিটি দৃষ্টি নীরবে বলে দিচ্ছিল সে অনেক আগেই অনুকে ভালোবেসে ফেলেছে।
আজ ল্যাবে ক্লাস ছিল। আহিয়ান যথারীতি লেট। সামনেই ওদের জীবনের শেষ পরীক্ষা, এক বুক অনিশ্চয়তা আর বিদায়ের সুর অলক্ষ্যে বাজতে শুরু করেছে। নীল আর সাজিদ সারাবছর বইয়ের পাতায় মুখ গুঁজে পড়ে থাকলেও, আহিয়ান আর এহসান আর তামরিন মোটামুটি ভালো রকমের ফাঁকিবাজ । অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, পরীক্ষার রেজাল্ট শিটে ওদের নাম সবার উপরে থাকে। 
আহিয়ানের আজ দেরি হওয়ার পেছনে একটা যুতসই নাটকীয় কারণ ছিল। ল্যাবে আসার পথে ওর এক্স-গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা হয়ে গিয়েছিল। তাকে একটু জ্বালানোর এমন মোক্ষম সুযোগ আহিয়ান কেন ছাড়বে? এক্স আর তার বান্ধবীর সামনে বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে নিজের চুলে হাত বুলিয়ে স্টাইল করে আহিয়ান আওড়াতে লাগল:
মাথার চুলে সাইড পার্ট,
হাঁটাচলায় ফুল স্মার্ট।
চুলটা যখন ডানে যায়,
কারও কারও হার্ট থমকে যায়!
আহিয়ানের এক্স-এর বান্ধবী মুখে হাত দিয়ে হেসে উঠলেও ওর এক্স মোটেও দমবার পাত্রী নয়। সে চোখের মণি নাচিয়ে পাল্টা জবাব দিল:
"চুলে দিলি দশটা টান,
ভাবলি বুঝি কাঁপবে প্রাণ!
আয়নাটা তোর সবচেয়ে ফ্যান,
মানুষ? ওটা অন্য প্ল্যান!"
আহিয়ান কি আর এত সহজে দমে যাওয়ার পাত্র? সে হুট করে ওর এক্স-এর চুলে টান মেরে, এক দৌড়ে ল্যাবে ঢুকে পড়ল। ল্যাবে তখন গুমোট আবহাওয়া, তামরিন আর জেড শেষ মুহূর্তের অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিচ্ছে। জেড ছেলেটা বরাবরের মতোই উড়নচণ্ডী। ওর স্বপ্ন ছিল গিটার হাতে মঞ্চ কাঁপানোর । কিন্তু বাবার ইচ্ছায় এক প্রকার বাধ্য হয় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে ।
আহিয়ান ল্যাবে ঢুকেই জেডকে উদ্দেশ্য করে বলল, 
“কিরে, ফেসবুকে ঢুকেছিলি একবারও?”
জেড অবাক হয়ে মাথা তুলে তাকাল, “কেন? ল্যাবের চাপে তো নিশ্বাস ফেলার সময় নেই।”
সাজিদ পাশ থেকে চওড়া হাসি দিয়ে বলে উঠল,
 “মামা, তোর কপাল খুলে গেছে! ১.৫ মিলিয়ন ভিউ....পহেলা বৈশাখের দিন তুই যে গানটা গেয়েছিলি, এহসান কাল রাতে ওইটা অনলাইনে ছেড়ে দিয়েছে। তুই তো এখন নেটদুনিয়ার নতুন ক্রাশ মামা ”
জেড মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। পরক্ষণেই এক অদ্ভুত কৃতজ্ঞতায় এহসানকে জাপটে ধরল। এহসান হেসে বন্ধুর পিঠে আলতো চাপড় দিল। তারপর পকেট থেকে ছয়টি চকচকে নীল রঙের টিকিট বের করে ল্যাবের টেবিলের ওপর রাখতেই সবার দৃষ্টি সেদিকে গিয়ে আটকাল।
"এগুলো... কক্সবাজারের টিকিট?" সাজিদ অবিশ্বাসে চোখ বড় বড় করে বলল।
এহসান ঠোঁটের কোণে হাসি টেনে বলল, " আমরা কালই কক্সবাজার যাচ্ছি...আর মাত্র কয়েক দিন পর আমাদের শেষ পরীক্ষা। তারপর এই চার দেয়ালের বাইরে কে কোথায় হারিয়ে যাব, কেউ জানি না। হয়তো জীবনের ব্যস্ততায় কারও সঙ্গে আর কোনোদিন দেখাই হবে না। তাই ভাবলাম, বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার আগে এই কয়েকটা দিন শুধু নিজেদের মতো করে বাঁচি। এমন কিছু স্মৃতি বানিয়ে যাই, যেগুলো মনে পড়লে চল্লিশ বছর পরেও মুখে হাসি ফুটবে।"
এহসানের কণ্ঠটা আজ একটু ভারী শোনাল। নীল হুট করেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ল। ও এহসানের হাতটা চেপে ধরে বলল, “আলাদা হওয়ার কথা বলিস না তো! এই ছয়জন আজীবন এক থাকব। বন্ধুত্ব কি এতই ঠুনকো নাকি ?”
তামরিন চোখের কোণে চিকচিক করা জলটা লুকানোর চেষ্টা করল না। সে ঠোঁট কামড়ে হাসিমুখে বলল, “দাঁড়া, সবাই এক সাথে আয়। একটা সেলফি তুলি। অন্তত কয়েক বছর পর যখন ল্যাপটপের কোনো ফোল্ডারে এই ছবিটা খুঁজে পাব, তখন যেন বলতে পারি আমাদের দিনগুলো ডায়েরির পাতার চেয়েও রঙিন ছিল।”
ল্যাবের সেই আবেগঘন মুহূর্ত শেষে সবাই যখন ব্যাগ গুছিয়ে বেরোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এহসান আলতো করে ভিড় এড়িয়ে ক্যাম্পাসের পেছনের পুকুরপাড়ের দিকে পা বাড়াল। সে জানে, এই সময়টায় অনু ঠিক কোথায় থাকতে পারে।
ক্যাম্পাস পুকুরপাড়ের এই দিকটা বড্ড নির্জন। চারদিকে ফুটে থাকা রক্তিম শাপলাগুলো জলের বুকে যেন এক একটা লাল টুকটুকে দ্বীপের মতো জেগে আছে। অনু পুকুরঘাটে পাথুরে সিঁড়িতে বসে আনমনে পা দিয়ে জল নাড়ছিল। ওর পায়ের ছোঁয়ায় জলের বুকে ছোট ছোট ঢেউ তৈরি হচ্ছে, আর সেই ঢেউয়ে শাপলাগুলো দুলছে। এহসান পেছন থেকে এসে নিঃশব্দে দাঁড়াল। তারপর গলা একটু পরিষ্কার করে কৃত্রিম গাম্ভীর্যে ডাকল 
 “উম্মহ উহুম!”
অনু চমকে ঘুরে তাকাতেই দেখল এহসানকে। এহসান এগিয়ে এসে কোনো ভূমিকা ছাড়াই অনুর পাশে বসল। তারপর আলতো করে অনুর ডান হাতটা নিজের প্রশস্ত হাতের মুঠোয় নিয়ে নিল।
এহসান মুচকি হেসে বলল,
"কয়েকটা দিন থাকব না পাশে। খুব বেশি মিস করবে তো, বেগম?"
অনু একটু হকচকিয়ে গেল। কাঁচুমাচু মুখে বলল,
 "কোথায় যাবেন আপনি... ভাইয়া?"
'ভাইয়া' শব্দটা কানে যেতেই এহসানের ভ্রু সামান্য কুঁচকে উঠল। কোনো কথা না বলে সে অনুর হাতের ওপর মুঠোর চাপ একটু বাড়িয়ে নিজের দিকে আলতো করে টেনে নিল। 
“এক্সকিউজ মি মিস! আই অ্যাম নট ইওর ভাইয়া, আই অ্যাম ইওর সাঁইয়া! অন্তত তিন কবুলের জোর তো সেটাই বলে, তাই না ?”
অনু লজ্জায় রাঙা হয়ে মাথা নিচু করে হাসল। এহসান তখন একটু সিরিয়াস হয়ে অনুর কানের পাশের আলগা চুলগুলো খুব সাবধানে পেছনে সরিয়ে দিল। 
তারপর বলে উঠলো “বন্ধুদের নিয়ে কালই কক্সবাজার যাচ্ছি। এটাই হয়তো আমাদের একসাথে শেষ পাগলামি। এরপর সবাই ক্যারিয়ার আর জীবনের যাতা কলে পিষ্ট হয়ে হারিয়ে যাব রুপকথা । তবে একটা কথা মনে রেখো মিসেস সিদ্দিকী... ফেরার পর আমাদের বিয়ের কথাটা আর গোপন রাখা চলবে না। তোমাকে এহসান সিদ্দিকীর বউ হিসেবে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সময় চলে এসেছে রুপকথা ।”
অনুর চোখে খুশির ঝিলিক থাকলেও পরক্ষণেই একরাশ মেঘ জমে উঠল। সে মৃদু স্বরে বলল, “যদি বড় মামা না মানেন? আর আমার আব্বুও যদি আমাদের এই সম্পর্কের কথা শুনে রাজি না হন?”
এহসানের চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। ওর দৃষ্টি তখন পুকুরের ওই পাড়ে দূর অজানায় নিবদ্ধ।
এহসান: “আমি তোমার জন্য পুরো দুনিয়া ছাড়তে পারি রূপকথা, কিন্তু তোমাকে না। তোমার বাবা আমার ফুফুকে যেভাবে এ বাড়ি থেকে ছিনিয়ে নিয়েছিলেন, দরকার হলে আমিও একই ইতিহাস পুনরাবৃত্তি করব। উনার বেলায় ১৬ আনা আর আমার বেলায় ৪ আনা তা তো হতে দেব না। "
 অনু এহসানের এরকম রূপ দেখে কোথাও না কোথাও কেঁপে উঠলো। কিন্তু এহসানের সামনে তা প্রকাশ করল না। 
অনু এবার এহসানের কাঁধে মাথা রাখল। ঠিক তখনই দূর থেকে অভি-কে হন্তদন্ত হয়ে এদিকে আসতে দেখে অনু দ্রুত নিজেকে সামলে নিল। সে এহসানকে হালকা ধাক্কা দিয়ে তাড়া দিল, “যান তো! অভি আসছে। দেখলে আবার ক্যাচাল করবে।”
এহসান দাঁত কিড়মিড় করে বিড়বিড় করল, “শালা ফেভিকল! যেখানেই যাব আঠার মতো লেগে থাকে। এর কপালে যে কী শনি আছে, আচ্ছা যাচ্ছি!”বলেএহসান গটগট করে ক্যাম্পাসের দিকে হাঁটা দিল। অন্যদিকে অভি ততক্ষণে পুকুরঘাটে পৌঁছে গেছে। ওর চোখেমুখে এক অদ্ভুত উত্তেজনা।
“অনু! তুই এখানে একা বসে কী করছিস? জানিস, ওই এহসান ভাইয়াকে দেখলাম ওদিকে যেতে। ও কি তোকে কিছু বলেছে? চল, বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসি।”
অনু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে জলের দিকে তাকাল। সে ভাবছে, কক্সবাজারের এই কটা দিন এহসান ছাড়া ওর নিজেকে নিজের কতটা শূন্য মনে হবে।
চলবে.... 
#নিভৃতে_যত্নে_রাখা_প্রিয়তমা
   #লিখনিতে_মারিয়াম_ফুল।
পর্ব ১১

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১১তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন