ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিভৃতে যত্নে রাখা প্রিয়তমা

১৬তম পর্ব

লেখক: মারিয়াম ফুল

#নিভৃতে_যত্নে_রাখা_প্রিয়তমা 

#লিখনিতে_মারিয়াম_ফুল 
পর্ব:১৬
জেড চুপ করে রইল। অনামিকার কাঁপা কণ্ঠ আর অসহায় চোখের দিকে তাকিয়ে তার নিজের মনেও এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গেল।পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখান থেকে ফেরার সকল পথ বন্ধ। জেড বুঝতে পারল, অনামিকাকে এখন ছেড়ে যাওয়া মানে ওকে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া। ও একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “চলো বাড়ি যাব।এ ছাড়া আমার আর কোনো পথ নেই।”
অনামিকা অবাক চোখে তাকাল, “সত্যি?”
জেদ শুধু মাথা নাড়ল, “হুম, চলো।”
সকাল আটটা। আজকের ব্যস্ত শহরটার সাথে এহসানের ব্যস্ততার কোনো মিল নেই, কারণ আজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। তবে ঘরে বসে থাকার উপায় নেই বিকেলের মধ্যে প্রজেক্টের একটা গুরুত্বপূর্ণ পার্ট সাবমিট করতে হবে। শার্টের হাতার বোতাম লাগাতে লাগাতে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে এল সে।
ডাইনিং টেবিল থেকে গরম পরাটা আর ডিম ভাজার সুবাস ভেসে আসছে। মা আজ বাড়িতে নেই; কাল সন্ধ্যায় খবর এসেছে নানাবাড়ি থেকে—নানি খুব অসুস্থ। তাই সকালের সেখানে ছুটে গেছেন। ডাইনিং টেবিলে কাজের লোক রহিম একে একে সিরামিকের পাত্রগুলো সাজিয়ে রাখছিল।
এহসান চেয়ারে বসতে যাবে, ঠিক তখনই ডাইনিং টেবিলের একপ্রান্তে বসে থাকা রশিদ সিদ্দিকী চা-য়ে শেষ চুমুকটা দিলেন। পত্রিকাটা টেবিলের ওপর গুটিয়ে রেখে চশমার ওপর দিয়ে এহসানের দিকে তাকালেন। চশমার আড়ালে তাঁর চোখ দুটি বেশ কঠোর।
ঘরের স্বাভাবিক নীরবতা ভেঙে একদম গম্ভীর স্বরে প্রশ্ন করলেন, “নাইসার ব্যাপারে কী ভাবলে এহসান?”
রহিম হাতের বাটিটা টেবিলে রেখে তড়িঘড়ি করে রান্নাঘরের দিকে কেটে পড়ল। ডাইনিং রুমের আবহাওয়া হঠাৎ করেই ভারী হয়ে উঠল। এহসান চেয়ার টেনে বসার মুহূর্তে থমকে গেল। সে জানত প্রশ্নটা আজ হোক বা কাল আসবেই, কিন্তু সকাল সকাল এত সামনাসামনি মুখোমুখি হতে হবে—তা সে আশা করেনি।
ইচ্ছে করে এহসান কপাল কুঁচকে জিজ্ঞেস করল, “কোন নাইসা?”
রশিদ সিদ্দিকী বিরক্ত হয়ে বললেন, “আর ইউ সিরিয়াস এহসান? আমার বন্ধুর মেয়ে নাইসা। যার কথা গত কয়েক দিন আগেও বললাম।”
এহসান নির্লিপ্তভাবে বলল, “তা আমি কী করব?”
“আমি চাই তুমি ওকে বিয়ে করো।”
এহসানের ভেতরটা মুহূর্তেই জ্বলে উঠল, কিন্তু বাবার সামনে রাগ দমানোর চেষ্টা করে বলল, “আমি কি বলেছি আমি নাইসাকে বিয়ে করব? আমি ওকে পছন্দ করি না।”
“কিন্তু সেদিনই তো বললে ও ভালো মেয়ে!”
“বাবা, ভালো মেয়ে হওয়া আর জীবনসঙ্গিনী হওয়া দুটো আলাদা ব্যাপার। আমি ওকে ওভাবে কোনোদিন দেখিইনি।”
রশিদ সিদ্দিকী এবার তীক্ষ্ণ চোখে ছেলের দিকে তাকিয়ে গলার স্বর চড়িয়ে বললেন, “তোমার কি অন্য কাউকে পছন্দ?এহসান, তোমার বয়সে ভালোলাগা থাকাটা স্বাভাবিক, কিন্তু একটু বুদ্ধি দিয়ে ব্যবসার কথা ভাবো। নাইসাকে বিয়ে করলে আমাদের বিজনেসের অনেক উন্নতি হবে। ও ওর বাবার একমাত্র মেয়ে, সব সম্পত্তি আমাদের হাতের মুঠোয় আসবে।”
এহসানের ধৈর্য এবার বাঁধ ভাঙল। সে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলল, “সম্পত্তি? তার মানে তুমি আমার জীবনের বিনিময়ে সম্পত্তি কিনতে চাইছ? তোমার কাছে আমার সুখের চেয়ে বিজনেসের গ্রোথ বড় হয়ে গেল?”
রশিদ সিদ্দিকীও দমে যাওয়ার পাত্র নন। তিনি টেবিল চাপড়ে বললেন,
“বেয়াদবি করবে না এহসান! আমি তোমার বাবা, তোমার ভালো-মন্দ আমার চেয়ে বেশি কেউ বোঝে না। ইমোশন দিয়ে পেট চলে না, প্র্যাকটিক্যাল হও। নাইসা দেখতে সুন্দরী, শিক্ষিত আর বড়লোকের মেয়ে। এর চেয়ে ভালো অপশন আর কী হতে পারে?”
ব্যবসায়িক পণ্যের মতো এই প্রস্তাব এহসানের সহ্যক্ষমতার বাইরে চলে গেল। ওর চোখমুখ রাগে লাল হয়ে উঠল। সে সজোরে খাবারের টেবিলের ম্যাটে এক টান দিল, যার ফলে সমস্ত খাবার ছিটকে মেঝেতে পড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল। কাঁচের প্লেট ভাঙার শব্দে পুরো ঘর যেন কেঁপে উঠল।
এহসান হিশহিশ করে বলল, “বললাম না এ বিষয়ে আমি কথা বলতে চাই না! আমি কি তোমার ব্যবসার কোনো পণ্য যে আমাকে ব্যবহার করে তুমি তোমার বিজনেস বাড়াবে?নিজের ছেলেকে এভাবে নিলামে তুলতে তোমার একটুও বাধল না? আজ থেকে এই বাড়িতে আমার বিয়ের কথা আর কেউ তুলবে না।” প্রচণ্ড রাগে এহসান খাবার না খেয়েই সেখান থেকে ঝড়ের বেগে বেরিয়ে গেল। রশিদ সিদ্দিকী পাথরের মতো দাঁড়িয়ে রইলেন।
অন্যদিকে আহিয়ান তখন ক্যাফেটেরিয়ার এক কোণায় বসে নীল আর সাজিদের সামনে ঘামছে।বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলে, হলের স্টুডেন্টদের জন্য ক্যাফেটেরিয়ার সব সময় খোলা থাকে।ওর গলার স্বর কাঁপছে গত রাতের সেই রুদ্ধশ্বাস পলায়নের বর্ণনা দিতে গিয়ে। ও টেবিল চাপড়ে বলল, “বিশ্বাস কর, ট্রাকটা যখন স্টার্ট দিল আর আমি নিচে পড়ে রইলাম, আমার মনে হচ্ছিল কলিজাটা ফেটে যাবে.....
জেড আর অনামিকা ওই অবস্থায় কোথায় গেল, কিছু জানি না। জেড যে কেন ফোন ধরছে না!” নীল আর সাজিদও দুশ্চিন্তায় পাথর হয়ে বসে রইল। ওদের মাথায় শুধু একটা প্রশ্ন— জেড কি অনামিকাকে বাঁচাতে গিয়ে নিজে বড় কোনো বিপদে পড়ল?
ওদিকে জেড তখন অনামিকাকে নিয়ে নিজের বাড়ির সদর দরজায় দাঁড়িয়ে। ভেতরে ঢোকার আগে ও অনামিকার মুখোমুখি দাঁড়াল। জেডের চোখ দুটো লাল, সারা রাতের ধকল আর দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট। ও কঠিন গলায় বলল, “ভেতরে ঢোকার আগে একটা কথা পরিষ্কার শুনে রাখো অনামিকা। পরিস্থিতির চাপে পড়ে জীবন বাঁচাতে ওই গ্রামে যা হয়েছে, সেটাকে আমি স্রেফ একটা দুর্ঘটনা মনে করি। আমি তোমাকে বিয়ে করেছি কারণ তখন এছাড়া আর কোনো পথ ছিল না। এখন থেকে তুমি আমার দায়িত্ব, কিন্তু এর চেয়ে বেশি কিছু আমার থেকে আশা করো না।”
অনামিকা নিস্পলক চোখে জেডের দিকে তাকিয়ে রইল। জেড আবার বলল, “বাবাকে আমি সব খুলে বলব। উনি আমায় বোঝেন। তোমাকে কিছুদিন এখানে থাকতে হবে, তারপর পরিস্থিতি শান্ত হলে আমি তোমাকে পড়াশোনার জন্য বাইরে পাঠিয়ে দেব। এটাই তোমার আর আমার জন্য সেরা সমাধান।”
অনামিকা কোনো প্রতিবাদ করল না। ও শুধু শান্ত লক্ষী মেয়ের মত মতো মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। ওর এই নীরবতা জেডকে আরও আশ্বস্ত করল যে মেয়েটা বোধহয় সত্যিই ভয় পেয়ে আছে।
কিন্তু যখন জেডে অনামিকার হাত ধরে ড্রয়িং রুমে ঢুকল, তখন দৃশ্যপট সম্পূর্ণ বদলে গেল। জেডের বাবা, আসলাম শহীদ , সোফা থেকে প্রায় লাফিয়ে উঠলেন। উনার চোখেমুখে যে আনন্দ খেলা করছিল, সেটা জেড আশা করেনি। আসলাম শহীদ জানতেন উনার ছেলে ছোটবেলা থেকেই নারীদের থেকে দূরে থাকে,সে নারী বিদ্বেষী । জেডের মা যখন অন্য একজনের হাত ধরে এই বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, তখন জেড অনেক ছোট ছিল । সেই থেকে নারীজাতির ওপর ওর এক গভীর অবিশ্বাস আর ঘৃণা তৈরি হয়েছিল। আসলাম শহীদ ভেবেছিলেন উনার বংশের প্রদীপ বোধহয় কোনোদিন জ্বলবে না, জেডে কোনোদিন সংসারী হবে না।
আসলাম চৌধুরী এগিয়ে এসে অনামিকার মাথায় হাত রেখে আবেগী গলায় বললেন, “জেড! তুই শেষ পর্যন্ত তবে পারলি? আমি তো ভেবেছিলাম এই বাড়ির দরজায় কোনোদিন কোনো মেয়ে পা রাখবে না। জেড কিছু বলতে চাইল, কিন্তু ওর বাবা ওকে কথা বলার সুযোগই দিলেন না। জেড অবাক হয়ে দেখল, ওর বাবা অনামিকাকে বরণ করে নেওয়ার তোড়জোড় শুরু করেছেন। জেড বিরক্ত হয়ে অনামিকাকে ইশারায় নিজের রুমের দিকে পাঠিয়ে দিল।
জেড অনামিকাকে রুমে রেখে গটগট করে বাইরে চলে গেল বাবার সাথে কথা বলতে। রুমের দরজাটা বন্ধ হওয়ার সাথে সাথে অনামিকার সেই শান্ত, অসহায় ভাবটা যেন কর্পূরের মতো উড়ে গেল। ও ধীর পায়ে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। বেনারসির আঁচলটা ওর হাতের আঙুলে পেঁচিয়ে ও ডুকরে কাঁদার ভান করতে করতে হঠাৎ শব্দ করে হেসে উঠল।
অনামিকা ওর চোখের জল মুছে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। ওর ঠোঁটে এখন এক রহস্যময়, কুটিল হাসি। ও আয়নার নিজের প্রতিবিম্বকে দেখে ফিসফিস করে বলল, “জেড ভাইয়া... থুড়ি, আমার স্বামী! আপনি কি সত্যিই ভেবেছেন ওই গুন্ডা বর, ওই ৫০ লাখ টাকার গল্প আর গ্রামের মাতব্বরেরা...সবই হঠাৎ ঘটে যাওয়া কাকতালীয় ঘটনা.... উফফ?”
অনামিকা হাসতে হাসতে বিছানায় গা এলিয়ে দিল। “তিন বছর আগেই আদরের সাথে আমার সব চুকেবুকে গিয়েছিল। আদরের মতো একটা হাঁদারামকে কোন সুখে বিয়ে করবো... আহিয়ানকে ট্রাক থেকে নামানো আর ওই গ্রামের মাতব্বরদের ‘হুকুম’ দেওয়া—সবই ছিল আমার সাজানো দাবার ঘুঁটি। আপনি নারীবিদ্বেষী হতে পারেন জেড, কিন্তু আপনি কাপুরুষ নন। আর আপনার ওই ‘হিরোইজম’টাকেই আমি কাজে লাগিয়েছি।”
অনামিকার দুচোখ দিয়ে এখন জয়ের আনন্দ ঝরছে। ও বিড়বিড় করল, “চলে যেতে চাইলেই কি যাওয়া যায় জেড? আপনি ভেবেছেন আমায় বিদেশে পাঠিয়ে মুক্তি পাবেন? এই বিয়ে আমি দেশ ছাড়ার জন্য করিনি। আপনাকে আমি এমন এক মায়াজালে বাঁধব যেখান থেকে বের হতে চাইলে আপনি আরও বেশি জড়িয়ে যাবেন। প্রস্তুত হন মিস্টার জেড শাহরিয়ার শহীদ , আপনার এই পাথরের মতো হৃদয়ে আমি ঘর বাঁধবই। আপনাকে তো স্রেফ ভালোবাসলে হতো না, আপনাকে আমার নিজের করে পেতে হতো। আর আজ থেকে আপনি শুধুই আমার। খুব জলদি আপনাকে এক ডজন বাচ্চার বাবা বানিয়ে এই বাড়ি মাতিয়ে তুলব, তখন আপনার ওই ঘৃণা কোথায় লুকাবে আমি দেখব!”
বাইরে থেকে জেডের গম্ভীর কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছিল, সে তার বাবার সাথে তর্ক করছে। জেডের বাবা বলে উঠলেন,
“বিয়েটা যখন হয়েই গেছে, জেড, এই বিয়ে মেনে নাও। সংসার করার চেষ্টা করো।”
জেড তখনও সমান তালে রাগে ফুঁসছিল। তার কাছে এই বিয়ের কোনো মূল্যই ছিল না। সে মনে মনে ভাবছিল, এই সম্পর্কের কোনো মানে হয় না। সুযোগ পেলেই অনামিকাকে নিজের জীবন থেকে দূরে সরিয়ে দেবে।
অথচ জেড জানতেও পারল না, তাকে পাওয়ার জন্য অনামিকা কতটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে, কতটা সংগ্রাম করেছে।
..................
আজকে এহসানকে অনু বেশ কয়েকবার কল দিলেও ও ধরেনি। এহসানের মেসেজ ভেসে উঠল স্ক্রিনে— ‘রূপ, কাজে ভীষণ ব্যস্ত। রাতে কল দেব।’ অনু লিভিং রুমে একা বসে ফোনের দিকে তাকিয়ে রইল। কেন যেন ওর মনে হচ্ছিল, এহসান ওকে এড়িয়ে যাচ্ছে। ঠিক তখনই সদর দরজা খুলে শিরিন সিদ্দিকী ভেতরে ঢুকলেন। পেছনেই রূপকথার ফুফু নাজমিন তালুকদার আর উনার ছেলে রিদ।
ফুফু নাজমিনকে দেখে অনু সৌজন্যের খাতিরে উঠে দাঁড়াল, কিন্তু ওর মন পড়ে ছিল এহসানের মেসেজে। রিদ অনুর চেয়ে বয়সে ছোট হলেও আদব-কায়দায় একটু কমতি আছে ওর। সে এসেই সোফায় আয়েশ করে বসে অনুকে খোঁচা দিয়ে বলল, “কীরে জান্ডুবাম ! সারা রাত কার জন্য জাগিস যে চোখ-মুখ এমন বসে গেছে? কাউকে পছন্দ-টছন্দ করিস নাকি?”
অনু রাগে জ্বলে উঠে বলল, “এই জান্ডুবাম কী? খবরদার রিদ, মার খাবি একদম! এসেই লাগতে চাচ্ছিস আমার সাথে? নাকি আমার কলিজা খেতেই এসেছিস ”
রিদ হি হি করে হেসে উঠল। “বড়দের মতো হুমকি দিচ্ছিস? ওদিকে তোর বিয়ে নিয়ে তো মা আর মামি ভেতরে গম্ভীর আলাপ করছে....... সিলেটে তো মেয়েদের বেশি দেরি করে বিয়ে দেয় না। মামি বলছিল, কোনো লন্ডনী পাত্র পেলেই তোকে গছিয়ে দেবে। তুইও লন্ডন গিয়ে মেম সাহেব হয়ে যাবি।শুন, লন্ডনে গেলে আবার ডাভ সাবান পাঠাবি না, আইফোন-টিফোন পাঠাবি, বুঝলি? ” 
অনুর চেহারা মুহূর্তে ফ্যাকাশে হয়ে গেল। লন্ডন? বিয়ে? ওর বুকটা দুরুদুরু করে কাঁপতে শুরু করল। এহসান ছাড়া অন্য কাউকে নিজের স্বামী হিসেবে ভাবাও ওর কাছে পাপের মতো। ঠিক সেই মুহূর্তে এহসানের কল এল। অনু তড়িঘড়ি করে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে ফোন রিসিভ করল।
এহসান ওপাশ থেকে গম্ভীর স্বরে বলল, “মিসেস সিদ্দিকী, কী করছেন? চুপ কেন? কল দিইনি বলে কি ম্যাডামের মন খারাপ?”
অনু কিছুক্ষণ নীরব থেকে ভেজা গলায় বলল, “না...”
এহসান বারবার কথা বলতে চাচ্ছিল, কিন্তু ওপাশ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে ও একটু অধৈর্য হয়ে বলল, “রূপ, রাখি তবে? অনেক কাজ বাকি।”
অনু এবার আর্তনাদ করে ওঠার মতো গলায় বলল, “না... না, কাটবেন না। বাবা আমাকে বিয়ে দিয়ে দেবে বলছে...ফুফু আর মা পাত্র দেখছে।”
এহসানের রাগের পারদ আবার চড়ল। বাবার সাথে সকালে হওয়া তর্কের রেশ এখনো ওর মাথায়। সে জেদ করে বলল, “হ্যাঁ, করে ফেলো না বিয়ে! আজ আমার বাবাও নাইসার সাথে বিয়ের কথা বলেছে। "
অনু এবার রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে তেরিয়া হয়ে উঠল, “বিয়ে করবেন আপনি? হ্যাঁ করুন! দেখুন আমি কী করি! কীভাবে ওই নাইসা না তাইসাকে আপনি বিয়ে করেন সেটা আমারও দেখার শখ"
এহসান এবার হাসল। এক অদ্ভুত তৃপ্তির হাসি। ও গলার স্বর নামিয়ে খুব নিচু স্বরে বলল, “জ্বলছে মনে হয় খুব? পোড়া গন্ধ তো এপার পর্যন্ত আসছে রে বউ পাখি!”
অনু লজ্জায় আর রাগে ‘হুম-হা’ করে কপাল চাপড়াতে লাগল। এহসান এবার গম্ভীর হয়ে বলল, “বোকামি করো না রূপ। তুমি কীভাবে ভাবলে যে তোমাকে ছাড়া আমি অন্য কাউকে ভাবতে পারি? এহসান সিদ্দিকী কোনোদিন কারো সাথে আপস করেনি, আর বিয়ের মতো পবিত্র জায়গায় তো প্রশ্নই আসে না। ভালোবাসি রূপ, ভীষণ ভালোবাসি।”
অনু এবার চুপ হয়ে গেল। এহসানের সেই ‘ভালোবাসি’ শব্দটা ওর কানে বারবার প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। ওর গালের রং এবার লাল আপেলের মতো হয়ে উঠল। ও লজ্জা লুকিয়ে ফিসফিস করে বলল, “কিন্তু বাবা যদি না মানে?”
এহসান দৃঢ় কণ্ঠে বলল, “সিদ্দিকী বংশের ছেলে তার অধিকার আদায় করতে জানে। তুমি শুধু নিজের মনটা শক্ত রেখো রূপ। বাকিটা আমি সামলে নেব।”
এহসানের আশ্বাসে অনুর মনটা একটু শান্ত হলো ঠিকই, কিন্তু রিদ আর ফুফুর সেই ‘লন্ডনী পাত্রের’ কথাগুলো তাকে বারবার কাঁটার মতো বিঁধতে লাগল। সে জানত না, এহসান তার নিজের বাড়িতে বাবার সাথে কতটা বড় যুদ্ধ ঘোষণা করে এসেছে।
চলবে 

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন