ফন্ট সাইজ:
থিম:
নিভৃতে যত্নে রাখা প্রিয়তমা

৩৮তম পর্ব

লেখক: মারিয়াম ফুল

দেখতে দেখতে কেটে গেল আরও তিনটে দিন।

এহসান গতকালই আহিয়ানের খালার বাসায় উঠেছে। বাসাটা চার রুমের, খুব একটা বড়ও নয়, আবার ছোটও বলা চলে না—মাঝারি আকারের। বন্ধুরা সবাই মিলে এসে ধোয়ামোছা আর জিনিসপত্র গুছিয়ে দিয়ে গেছে। অবশ্য আসবাবপত্রের খুব একটা জরুরি প্রয়োজন ছিল না, বাসাটা আগে থেকেই সাজানো-গোছানো প্রস্তুত অবস্থায় ছিল। তারপরও টুকটাক যা লাগে—ছোটখাটো একটা টেবিল আর হালকা কিছু ফার্নিচার কিনে এনেছে এহসান। মাঝখানের এই দুই দিন সে ভার্সিটিতেও যেতে পারেনি। অনুর সাথেও মাত্র একবার কথা হয়েছে। তবে কাল থেকে তাকে আবার রেগুলার ক্যাম্পাসে যেতে হবে।
নিজের ঘরের কোণে রাখা ছোট টেবিলটায় বসে অফিসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল গুছাচ্ছিল এহসান। ঠিক এমন সময় তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে ওঠা নামটা দেখে এক মুহূর্ত থেমে সে কলটা রিসিভ করল। ওপাশ থেকে নীলের গলা পাওয়া গেল। 
 "কীরে, আন্টি কেমন আছেন? আজকে সন্ধ্যার দিকে রেস্টুরেন্টে আসতে পারবি?"
এহসান পেনের ঢাকনাটা বন্ধ করতে করতে কয়েক সেকেন্ড ভাবল। তারপর গলার স্বর স্বাভাবিক রেখে বলল,
“মা ভালো আছেন... আচ্ছা, ঠিক আছে। মাগরিবের নামাজের পর আসব।”
"আচ্ছা, বাকিদেরও বলে দিচ্ছি আমি। জেড সিলেট চলে এসেছে, ও-ও আসবে।"
"ঠিক আছে, বলিস। সমস্যা নেই। পরে কথা বলছি, অফিসের বেশ কিছু ফাইল দেখতে হবে," বলেই কলটা কেটে দিল এহসান।
ঠিক তখনই এহসানের ঘরের দরজার কাছে একটা অবয়ব এসে দাঁড়াল। এহসান টেবিলে বসে ল্যাপটপের স্ক্রিনে চোখ রাখলেও, দরজার কাছে কারো ছায়া পড়তে দেখে ঘাড় ঘুরিয়ে পেছনে তাকাল।
রুনা সিদ্দিকীকে দেখে সে বলল, "মা, ওখানে দাঁড়িয়ে কেন? ভেতরে এসো।"
রুনা সিদ্দিকী নিঃশব্দে ভেতরে ঢুকলেন। ঘরের চারপাশের গোছানো ভাবটার দিকে একনজর তাকিয়ে সে এহসানের বিছানার এক কোণে এসে বসলেন। ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে ধীরস্বরে শুধালেন, "রূপকথার সাথে কথা হয়েছে?"
এহসান ফাইলের পাতায় আঙুল বোলাতে বোলাতেই হালকা স্বরে বলল, "না, হয়নি... কাজগুলো শেষ করে নিই, তারপর দেখব।"
রুনা সিদ্দিকী একটু সময় চুপ করে ছেলের থমথমে মুখের দিকে চেয়ে রইলেন। তারপর ভেতরে জমতে থাকা অস্বস্তিটা চেপে রাখতে না পেরে বললেন, "আমার বড্ড ভয় হচ্ছে, এহসান..."
কথাটা শুনে এহসান ল্যাপটপ থেকে চোখ সরিয়ে পুরো শরীরটা মায়ের দিকে ঘোরাল। চশমাটা খুলে টেবিলে রেখে শুধাল, "কেন? কী হয়েছে, মা?"
"যদি মাহবুব ভাই আর শিরিন ওদের মেয়েকে দিতে না চায়?"
এহসানের কপাল সামান্য কুঁচকে গেল। ভয়ের কারণ যে একেবারে নেই, তা নয়। তবে সে ভয় অন্য জায়গায়। মাহবুব আর শিরিন সিদ্দিকী না বললে, অনুকে সে নিজের কাছে আনতে পারবে না—ভয়টা তা নিয়ে নয়। ভয় অন্য একটা জায়গায়—যদি তারা বেঁকে বসেন, আর সেই কারণে অনুর সামনে তাদের ওপর নিজের রাগটা সীমা ছাড়িয়ে যায়!
এহসান নিজের বুড়ো আঙুল দিয়ে কপালটা আলতো ঘষে নিল। ভেতরের অস্থিরতাটা চেপে ধরে গলায় বলল, "দেবে না কেন, মা? ও আমার বিবাহিত স্ত্রী। আর যদি না-ও দিতে চান, ওদের মেয়ে আমার জন্য এতটা ব্যাকুল যে আমি এক পা বাড়ালে ও নিজে তিন পা এগিয়ে আসবে।"
রুনা সিদ্দিকী ছেলের দিকে তাকিয়ে মৃদু উদ্বেগ নিয়ে বললেন, "ওরকম কিছু করতে যাবি না বাবা... কালকে না হয় আগে ওদের বাড়ি গিয়ে নিজেরা কথা বলি।"
এহসান সোজা হয়ে বসল। গলার স্বর তখনও স্বাভাবিক, একেবারেই নির্লিপ্ত। বলল,“তুলে নিয়ে আসব, মা একদম সাধারণভাবে । পরে না হয় অনুষ্ঠান করে সবকিছু গুছিয়ে নেব। নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এভাবে সবার সামনে টানাটানি করা আমার একদম পছন্দ নয়।”
রুনা সিদ্দিকী ছেলের কথা শুনে একটা তপ্ত নিঃশ্বাস ফেললেন। বেশ কিছুক্ষণ ঘরে কোনো কথা হলো না। নিরবতা ভাঙতে তিনিই আবার জিজ্ঞেস করলেন, " তোর বাবা কল দিয়েছিল?"
এহসান আড়াআড়ি মাথা নেড়ে না-সূচক সায় দিল। মায়ের চোখের কোণে নামতে থাকা আবছা বিষাদের ছায়া দেখে সে আবার জিজ্ঞেস করল, "তোমার কি বাড়ির কথা মনে পড়ছে, মা?"
রুনা সিদ্দিকী কিছুক্ষণ মেঝের দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন, "প্রথম প্রথম তো একটু মনে পড়বেই... আমরা তো মানুষ। দেখবি, আস্তে আস্তে সব ঠিক হয়ে যাবে।"
এহসান ঠোঁটের কোণে হালকা একচিলতে শুকনো হাসি ফুটিয়ে তুলল। "কাকে সান্ত্বনা দিচ্ছ মা? আমাকে, নাকি নিজেকে? তোমার যদি বেশি কষ্ট হয়, আমি তোমাকে 'সিদ্দিক ম্যানশন'-এ দিয়ে আসব। তুমি কি যেতে চাও?"
রুনা সিদ্দিকী সাথে সাথে মাথা তুললেন। কণ্ঠ শক্ত করে বললেন, "কখনো না। যেখানে আমার ছেলের আর ছেলের বউয়ের কোনো দাম নেই, সেখানে আমি পা দেব না। তোর বাবা নিজের ভুল আগে বুঝুক।"
এহসান মায়ের দিকে তাকিয়ে ধীরেসুঝে সায় দিল। তারপর ফাইলের পাতাগুলো এক জায়গায় গুছিয়ে নিয়ে টেবিলের ড্রয়ারটা টেনে আটকে দিল। 
.........................................................................................................................................
অন্যদিকে, জেড বাইরে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছিল। কালকেই অনামিকাকে নিয়ে কনসার্ট থেকে ফিরেছে সে। অনামিকা অবশ্য আসার পর থেকেই চুপচাপ, কারও সাথে তেমন একটা কথা বলছে না—জেড কিংবা অন্য কারও সাথেও না।
জেড আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চুল আর গায়ের কাপড় ঠিক করছিল। হঠাৎ আয়নায় খেয়াল করল অনামিকা এসে পাশে দাঁড়িয়েছে। তার চোখ-মুখ কেমন জানি উল্টানো, ফ্যাকাশে। জেড আয়নার দিকে তাকিয়ে এক ভ্রূ ওপরে তুলে অনামিকাকে উদ্দেশ্যে করে প্রশ্ন করল, "কী হয়েছে? মন খারাপ?"
অনামিকা কোনো উত্তর দিল না। পাশ থেকে সরে গিয়ে ধপ করে বিছানায় বসে পড়ল।জেড চোখ ঘুরিয়ে অনামিকাকে পরখ করল। তারপর আয়নার সামনে থেকে সরে এসে তার পাশে বসল। "অনামিকা, কী হয়েছে? কেউ কিছু বলেছে?"
অনামিকা শুধু মাথা নেড়ে না করল।
"আরে বললে তো! তাহলে কী হয়েছে? আমি কিছু বলেছি?"
এবারও অনামিকা একদম চুপ করে রইল।অনামিকা ভেতরে ভেতরে খানিকটা অধৈর্য হয়ে উঠেছিল। জেডের সামনে আর বসে থাকতে ইচ্ছে করছিল না। তাই কিছু না বলে আস্তে করে উঠে যেতে চাইল। কিন্তু অনামিকা সরে দাঁড়ানোর আগেই জেড হুট করে তার হাতটা ধরে ফেলল।
হঠাৎ এমনভাবে হাত ধরে ফেলায় অনামিকা থমকে গেল। অপ্রস্তুত হয়ে একবার জেডের দিকে তাকাল। তারপর ভ্রু কুঁচকে হাতটা ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করল।
জেড তার মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারল, হয়তো তার কোনো কথায় অনামিকা কষ্ট পেয়েছে, কিংবা অন্য কোনো কারণে মনটা খারাপ হয়ে আছে। তাই কিছু না বলে সে অনামিকার হাতটা একটু শক্ত করে ধরে রাখল।
হাতটা মুঠোয় নিতেই জেডের ভ্রু কুঁচকে গেল। অনামিকার হাত অস্বাভাবিক রকম গরম। শুধু হাত নয়, স্পর্শ করতেই মনে হলো তার শরীরের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।
জেড এবার একটু চিন্তিত গলায় বলল,"তোমার হাত এত গরম কেন?"
জ্বর এসেছে ভেবে চিন্তিত গলায় কিছু বলতে যাবে, অমনি অনামিকা হাত ছাড়ানোর জন্য মুচড়ামুচড়ি শুরু করল, "ছাড়ুন! ছাড়ুন আপনি আমাকে!"
হঠাৎ অনামিকার মুখে ‘আপনি’ ডাক শুনে জেডের কাছে আরও খটকা লাগল। সে অনামিকাকে নিজের দিকে কিছুটা টেনে এনে বলল, "এদিকে আসো। সমস্যা কী বলো? বলবে তো?"
অনামিকা জেডের হাত ছাড়ানোর জন্য তার বুকে হালকা ধাক্কা দিতে লাগল, "বলব না বলেছি তো! আমি তো আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ না....."
জেড একটা লম্বা শ্বাস ফেলে অনামিকার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, "তুমি গুরুত্বপূর্ণ না হলে বাকি সবকিছুই অর্থহীন।"
"আপনি আমাকে ভালোবাসেন না!" অনামিকা মুখ ঘুরিয়ে বিড়বিড় করল।
জেড অনামিকার মাথায় নিজের মাথা ঠেকিয়ে ধীরকণ্ঠে বলল, "এখন থেকে আরও ভালোবাসব।"
অনামিকা সাথে সাথে চোখ বড় বড় করে বলল, "তাহলে আপনি ভালোবাসতেন না, স্বীকার করছেন?"
"আমি তোমাকে ভালোবেসেছি... তোমাকে ভালোবাসতাম, আর তোমাকেই ভালোবেসে যাব," কথার মধ্যে কোনো দ্বিধা না রেখেই বলল জেড।
"প্রমাণ দিন!" অনামিকা একগুঁয়ে সুরে বলল।
জেড নিজের বুকের বাঁ পাশে হাত রেখে বলল, "বুকের বাঁ পাশে তুমিই আছ। বলো, আর কী চাই?"
"আপনাদের পরিবার... আপনার অস্তিত্বের স্বীকৃতি? দেবেন?"
কথাটা শুনে জেড কয়েক মুহূর্তের জন্য কিছু বুঝতে পারল না। সে মাথাটা অনামিকার কপাল থেকে সরিয়ে আনল। একরাশ অবাক হওয়া দৃষ্টিতে অনামিকার ফ্যাকাশে মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু বোঝার চেষ্টা করল।
অনামিকা আর কথা বাড়াল না। অন্য হাতের মুঠো থেকে একটা প্রেগনেন্সি স্ট্রিপ বের করে উঁচিয়ে জেডের সামনে ধরল। তারপর আর ধরে রাখতে না পেরে ফুপিয়ে কান্না শুরু করে দিল, "এই... এই বাচ্চা... আর আমি কিছু হতে দেব না!"
জেড হতবাক হয়ে শুধু স্ট্রিপটার দিকে তাকিয়ে রইল। সেখানে স্পষ্ট দুটো লাল দাগ ভেসে উঠেছে। এত কিছু সে বোঝে না, তাও অস্ফুটে বলল, 
"পজিটিভ?" 
অনামিকা হাত দিয়ে চোখের জল মুছে নাক টেনে বলল, "হুম..."
"কয়দিন হয়েছে?"
"জানি না! সপ্তাহখানেক আগে....মনে হয় "
জেড বিরক্তি আর উদ্বেগের সুরে বলে উঠল, "স্টুপিড! তুমি জানবে না তো কে জানবে? চলো, ডাক্তারের কাছে চলো, অনামিকা।"
ডাক্তারের কথা শুনতেই অনামিকা ভয়ে দুই পা পিছিয়ে গেল। মনে জমাট বাঁধা ভয়টা আবার জেগে উঠল—জেড কি তবে সত্যিই এই বাচ্চা চাচ্ছে না?সে শরীর গুটিয়ে নিয়ে বলল, "যাব না আমি আপনার সাথে! আপনি... আপনি আমাদের বাচ্চা চাচ্ছেন না কেন, হুম? এটা আপনার অস্তিত্ব না?"
জেড পূর্বের মতোই গভীর দৃষ্টিতে অনামিকার দিকে তাকাল। অনামিকার চোখ-মুখ কেঁদে কেঁদে লাল হয়ে গেছে, তার ওপর গায় বেশ তেজ জ্বর। হঠাৎ করেই অনামিকাকে একদম হতবিহ্বল করে দিয়ে জেড তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল, "স্টুপিড! মা হতে চলেছ, আর বাচ্চার বাবাকে বললে না?"
অনামিকা তার বুকের মধ্যে মুখ গুঁজে অস্পষ্ট স্বরে বলল, "আপনি তো রাজি না... চাই না আপনার এই বাচ্চা..."
"চুপ! একদম চুপ!" জেড ধমকের সুরে বলে উঠল, "আমি বলেছি তোমাকে? আমি বলেছিলাম এখন চাই না, তার মানে এই নয় অনামিকা যে আমাদের আল্লাহর সবচেয়ে বড় নিয়ামতকে অবহেলায় হেলাফেলা করব!"
অনামিকা জেডের উত্তর শুনে তার কথাটার মূল অর্থ বোঝার চেষ্টা করল। জেডের বুকে জমে থাকা শক্ত অনুভূতিটুকু আঁচ করতে পেরে সে-ও আবার জেডকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
জেড অনামিকার চুলে মুখ গুঁজে আবেশে বলে উঠল, "উই আর বিকামিং প্যারেন্টস, অনামিকা..."
কথাটা শুনতেই অনামিকার চোখে আনন্দের জল টলমল করে উঠল। আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে জেড এক মুহূর্তে অনামিকাকে কোলে তুলে ওপরের দিকে ঘুরিয়ে নিল।
অনামিকা আচমকা শূন্যে ভেসে উঠে চিৎকার দিয়ে উঠল, "জেড, ছাড়ো! পড়ে যাব! ছাড়ো বলছি!"
জেডও খুশিতে চিৎকার করে বলল, "থ্যাংকস অনামিকা! আই অ্যাম সো হ্যাপি উইথ ইউ! তুমি আমাকে কী দিয়েছ, তুমি নিজেও জানো না!"
তারপর জেড অনামিকাকে আস্তে করে মাটিতে নামিয়ে দিল। তার কপালে হাত দিয়ে অনুভব করে বলল, "তোমার জ্বর এসেছে, তাই ডাক্তারের কাছে যেতে বলেছি। আর এখন তো আরও সাবধানে থাকতে হবে।"
অনামিকা জেডের চোখ-মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। এত আনন্দ আর উপচে পড়া খুশি সে হয়তো কখনো জেডের মুখে দেখেনি। মনে মনে নিজেকেই দোষী ভেবে বকল সে, 'আই অ্যাম সরি, জেড...'
জেড অনামিকার অনুশোচনা বুঝতে পেরে বলল, "দূর পাগলী! আমারই ভুল হয়েছে, তাই তুমি ভয় পেয়ে গেছ।"
বলেই সে আলতো করে অনামিকার কপালে নিজের ঠোঁট ছোঁয়াল। তারপর স্বাভাবিক হয়ে বলল, "চলো, বাবাকে বলি গিয়ে..."
অনামিকা চোখ বড় বড় করে চিৎকার করে উঠল, "অসম্ভব! তুমি বলো, আমি পারব না!"
জেড হুট করে বাচ্চাদের মতো অনামিকার ওড়নার কোণা ধরে ফেলল, "আমি পারব না, বউ! এটা একটা লজ্জাজনক ব্যাপার..."
অনামিকা ওড়নাটা টান মেরে সরিয়ে নিল, " আমি জানি না ,এসবের জন্য তুমি দায়ী, তুমি সবাইকে বলবে।"
জেড নাক-মুখ চুলকে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে বলল, "বাবা কী ভাববে! আমি... ওসব... আ........."
অনামিকা কোনোমতে জেডকে কনুই দিয়ে হালকা ধাক্কা মেরে ঘর থেকে বের করার চেষ্টা করল, "একদম মেয়েদের মতো করবে না! আসো, তুমি বলবে!"
"না, তুমি!"
অনামিকা চোখ-মুখ বড় করে ধমকের সুরে বলল, "না, তুমি!"
ঠিক সেই মুহূর্তে জেডের বাবা ঘরটার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। অনামিকা আর জেডকে দরজার কাছে ধাক্কাধাক্কি করতে দেখে থামলেন। কপাল কুঁচকে এগিয়ে এসে বললেন, "এই, তোমরা কী করছ?"
অনামিকা সঙ্গে সঙ্গে জেডের দিকে তাকিয়ে চোখ দিয়ে ইশারা করল। জেড একবার অনামিকার দিকে, একবার বাবার দিকে তাকিয়ে যেন কথাটা কীভাবে শুরু করবে সেটাই বুঝে উঠতে পারছিল না। শেষ পর্যন্ত কিছুটা ইতস্তত করেই বাবার উদ্দেশে তোতলাতে তোতলাতে বলল, “বা... বাবা...”
জেডের বাবা ছেলের দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুঁচকে বললেন, “কী বাবা .....বাবা করছ? বলো, কী হয়েছে?”
অনামিকা পাশ থেকে আবারও জেডের কনুইয়ে আলতো করে ধাক্কা মারল। এবার জেড বুঝতে পারল, আর ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে বলার সুযোগ নেই। কিন্তু কথাটা মুখে আনতেও তার কেমন যেন অস্বস্তি লাগছিল।
জেডের বাবা ছেলের এমন অস্বাভাবিক আচরণ দেখে কিছুটা অধৈর্য হয়ে বললেন, “বলতে বলেছি, কী হয়েছে?”
জেড আর কোনো উপায় না দেখে এক নিঃশ্বাসে বলে ফেলল, “তুমি বাবা হতে চলেছ, আর আমি দাদা হতে চলেছি!”
কথাটা শুনে জেডের বাবা কয়েক মুহূর্ত ছেলের দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে রইলেন। যেন কথাটার অর্থ বোঝার চেষ্টা করছেন। তারপর ধীরে ধীরে তাঁর কপাল কুঁচকে গেল। ছেলের কথার কোনো মানেই তিনি খুঁজে পেলেন না। এই বয়সে তিনি আবার কীভাবে বাবা হতে চলেছেন, সেটাই তাঁর মাথায় ঢুকছিল না।
তিনি অবাক ও বিরক্তির স্বরে বললেন, “কী সব অসভ্য ছেলে! কী বলছ এসব?”
জেড সঙ্গে সঙ্গে থমকে গেল। নিজের বলা কথাটা এবার তার নিজের কাছেই কেমন অদ্ভুত লাগল। সে একবার অনামিকার দিকে তাকাল। অনামিকা ততক্ষণে মুখ নিচু করে হাসি চাপার চেষ্টা করছে। জেড বুঝতে পারল, পরিস্থিতিটা আরও হাস্যকর হয়ে যাওয়ার আগেই তাকে কথাটা পরিষ্কার করতে হবে।
কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে নিজেকে একটু গুছিয়ে নিয়ে জেড এবার ধীরে ধীরে বলল, “বাবা... ইয়ে... মানে, আমি বাবা হচ্ছি, আর তুমি দাদা হচ্ছ!”
কথাটা এবার পরিষ্কারভাবে বুঝতে জেডের বাবার খুব বেশি সময় লাগল না। মুহূর্তের মধ্যেই তাঁর চোখেমুখে বিস্ময়ের ছাপ ফুটে উঠল। তারপর সেই বিস্ময় ধীরে ধীরে পরিণত হলো আনন্দে। তিনি ছেলের দিকে তাকিয়ে যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না।
“মানে... তুই বাবা হতে চলেছিস?“
পরমুহূর্তেই জেডের বাবার মুখে প্রশস্ত হাসি ফুটে উঠল। আনন্দে তাঁর চোখেমুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি ছেলের কাছে এগিয়ে এসে দুহাত দিয়ে তার কাঁধ চেপে ধরে বললেন, “আলহামদুলিল্লাহ! আলহামদুলিল্লাহ!”
তারপর জেডকে ছেড়ে ধীর পায়ে অনামিকার দিকে এগিয়ে গেলেন।
অনামিকার মাথায় হাত রেখে বললেন, "সুখী হও মা..."
তারপর ছেলেকে উদ্দেশ্য করে আবারও বললেন,
“মাথামোটা! বাবা হচ্ছ এখন, একটু বুদ্ধিমান হও... বাবা!”
জেড কিছু একটা বলার জন্য মুখ খুলতে চাইল। কিন্তু তার বাবা তাকে আর কিছু বলার সুযোগ দিলেন না। আনন্দে আবেগপ্রবণ হয়ে ছেলেকে আবারও বুকের সঙ্গে জড়িয়ে ধরলেন। যেন এতক্ষণে পাওয়া এই সুখবরটা নিজের মতো করে অনুভব করে নিতে চাইছেন।
....................................................................
বিকেলবেলা,
এহসান নিজের গাড়িতে করে বন্ধুদের সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে রেস্টুরেন্টের দিকে বের হয়েছে। গাড়িটা ধীরগতিতে উপশহরের ব্যস্ত রাস্তা দিয়ে চলছিল। বিকেলের রোদের মিষ্টি একটা আবছায়াভাব চারপাশের গাছপালার ওপর ছড়িয়ে পড়েছে।
হঠাৎই রাস্তার পাশের একটা ফুচকার দোকানের দিকে এহসানের চোখ পড়ল। সে খেয়াল করে দেখল, দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে আছে অনু। তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে তার ছোট ভাই রাফিদ।
এহসান রাস্তার একপাশে গাড়ি থামাল, তারপর ধীরপায়ে গাড়ি থেকে বের হয়ে এলো। বেশ কিছুক্ষণ সে একটু দূরে নীরব হয়ে দাঁড়িয়ে অনুর ফুচকা খাওয়ার তাড়া দেখতে লাগল। অনু একের পর এক ফুচকা গালের ভেতর পুরে দিচ্ছে—এক প্লেট শেষ করে আরেক প্লেট, এভাবে টানা দুই প্লেট সাফা করে দিয়ে দোকানদারের কাছে আরও এক প্লেট চাইল। খোলা রাস্তার পাশে এভাবে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অনুকে ফুচকা খেতে দেখে এহসানের কপাল ও চোখ-মুখ মুহূর্তেই কুঁচকে গেল। মেজাজটা তার এক নিমেষেই খিঁচড়ে গেল।
সে ধীর পায়ে হেঁটে অনুর দিকে এগিয়ে যেতে লাগল।
অনু তার ভাই রাফিদকে নিয়ে ফুচকা খেতে এসেছিল। কিন্তু হঠাৎ কী যেন ভেবে, ভেতরে কেমন একটা অদ্ভুত অনুভূতি হতে সে আচমকা পেছনের দিকে ঘুরে তাকাল। তাকাতেই অনুর চোখের মনি দুটো থমকে স্থির হয়ে গেল—তার ঠিক পেছনেই এহসান থমথমে মুখে দাঁড়িয়ে আছে!
এহসানকে এভাবে আচমকা দেখতে পেয়ে অনুর বুকের ভেতরটা যেন মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। সারা শরীরে এক অদ্ভূত তোলপাড় শুরু হলো। সে নিজের স্বাভাবিক ভাব বজায় রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে ঢোক গিলল। তারপর পাশে থাকা ভাইকে কনুই দিয়ে গুঁতো দিয়ে ফিসফিস করে বলল, "রাফিদ... পানি দে... পানি!"
রাফিদ এক হাতে পানির বোতলটার মুখটা খুলে নিজের বোনের দিকে বাড়িয়ে দিল। এহসান ততক্ষণে একদম সামনাসামনি এসে দাঁড়িয়েছে, তার স্থির ,গভীর চাউনি সোজা অনুর দিকে নিবদ্ধ। রাফিদ একবার অপরিচিত লোকটার দিকে তাকাল, তারপর অনুকে শুধাল, "এই লোকটা কে আপু, চিনিস?"
অনু রাফিদের দিকে তাকিয়ে তাড়াহুড়ো করে মাথা ডানে-বাঁয়ে নেড়ে ইশারায় বলল—না, চেনে না।
এহসান অনুর এই কান্ড দেখে বিড়বিড় করে বলে উঠল, "চিনো না?"
এহসানের সুগম্ভীর গলাটা শোনামাত্র অনু ভীতি আর চকিত শিহরণে থমকে গেল। এবার আর না করার উপায় না পেয়ে সে তড়িঘড়ি করে নিজের মাথা ওপর-নিচ করে সায় দিল—হ্যাঁ, চেনে।
রাফিদ আরও বেশি ভ্যাবাচেকা খেয়ে আবার বলল, " চিনিস?"
অনু হাতের শেষ ফুচকাটা একবারে গালের ভেতর পুরে দিল। মুখ চালিয়ে কোনোরকম গিলে নিয়ে গলাটা একটু পরিষ্কার করল। তারপর ধরা গলায় বলে উঠল, "চিনি চিনি চিনি!"
রাফিদ অনুর অবস্থা দেখে মুখ কুঁচকে বলল, "আপু ঝাল লেগেছে তোমার, চিনি খাবে?"
অনু হুট করে কী উত্তর দেবে বুঝে উঠতে পারল না। সে চট করে আঙুল উঁচিয়ে ফুচকাওয়ালার মোড়ের দিকে ইশারা করে বলল, "ওইখান থেকে চিনি কিনে নিয়ে আয়, আমার ঝাল লেগেছে, তাড়াতাড়ি যা......"
রাফিদ হুট করে কী যে হচ্ছে কিছুই মাথায় ঢোকাতে পারল না। তবে বোনের এই হুটহাট তাড়া দেখে বোকার মতো চিনি কেনার জন্য দৌড় দিল।
রাফিদ চোখের আড়াল হতেই এহসান আরেক পা এগিয়ে অনুর একদম ঘেঁষে দাঁড়াল। তাদের মধ্যবর্তী দূরত্ব এক ধাক্কায় এত কমে আসতেই অনুর বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল। এহসান নিশ্চয়ই এবার তাকে বকাঝকা শুরু করবে—এই ভয়ে অনু একদম কাঠ হয়ে জমে গেল।
কিন্তু এহসান কোনো বকাবকি করল না। সে খুব শান্তভাবে অনুর হাতের ফুচকার প্লেটটা নিজের হাতে তুলে নিল, তারপর সেটি দোকানদারের কাছে ফেরত দিয়ে দিল। গম্ভীর কণ্ঠে জিজ্ঞেস করল, "মামা বিল কত?"
দোকানদার অমায়িক হেসে জবাব দিল, "১৮০ টাকা স্যার।"
এহসান পকেট থেকে টাকা বের করে মিটিয়ে দিল। তারপর অনুর দিকে কোনো কথা না বলে গাড়ির পাশ থেকে পানির বোতলটা তুলে নিল। বোতল থেকে একটু পানি ঢেলে নিয়ে অনুর দুটো হাত নিজের নরম ও উষ্ণ হাতের মুঠোয় তুলে আলতো করে ধুয়ে দিল। এহসানের আঙুলের উষ্ণ স্পর্শ অনুর ঠাণ্ডা, ভিজে ওঠা হাতে লাগতেই তার সারা শরীরে আবেশের এক তীব্র স্রোত বয়ে গেল।
এহসান গম্ভীর গলায় বলে উঠল, "রূপ এসব কি খাচ্ছ... হুম?"
অনু চোখ নিচু করে ফেলে আমতা আমতা করে নিচু স্বরে বলল, "ফুচকা..."
"আমি দেখতে পাচ্ছি তুমি ফুচকা খাচ্ছ... স্টুপিড! কেন খাচ্ছ? এগুলো হেলদি না।"
অনুর ভেতরের অভিমানী ভাবটা অমনি জেগে উঠল। সে হালকা মুখ বাঁকাল। বিড়বিড় করে গজগজ করে বলতে লাগল, "ইঞ্জিনিয়ার থেকে ডক্টর হয়ে যাচ্ছেন... ? আপনার ইচ্ছা না হলে আপনি খাবেন না, আমাকে কেন বারণ করছেন?"
এহসান পকেট থেকে ভাঁজ করা একটা টিস্যু বের করে আলতো করে অনুর হাত দুটো মুছে দিতে দিতে বলল, "আজকে যাতে শেষ হয়।"
অনু সঙ্গে সঙ্গে ত্যাড়ামি করে বলে উঠল, "মরে যাব আমি! আপনি বললেন আর আমি কীভাবে ফুচকা খাব না...?"
এহসান চোখ দুটি সামান্য ছোট ছোট করে একদৃষ্টে অনুর চোখের দিকে তাকাল। তার চোখের সেই গভীর চাউনির সামনে অনু যেন একদম নিঃস্ব হয়ে গেল, বুকের ভেতরটা হু হু করে কেঁপে উঠল।
এহসান তার মুখের কাছে সামান্য ঝুঁকে এসে নিচু স্বরে বলল, " আমার কথা না শুনলে কিন্তু শাস্তি বরাদ্দ থাকবে।"
অনু নিজের চোখ বড় বড় করে এহসানের দিকে তাকিয়ে থেকে ঢোক গিলে শুধাল, "কী শাস্তি...?"
এহসানের ঠোঁটের কোণে একচিলতে বাঁকা হাসি ফুটল, "সেটা না হয় তোলা থাক, সময় হলে বলে দেব।"
অনু চোখে বড় বড় দৃষ্টি ফুটিয়ে এহসানের দিকে তাকিয়ে থেকে বলল, "আপনি বেশ দিন বাঁচবেন! তাই খাচ্ছেন না, খাবেন না, আমাকে না করবেন না..."
এহসান আরও একধাপ কাছে সরে এসে অনুর একদম গা-ঘেঁষে দাঁড়াল। অনু নিজের নিঃশ্বাস আটকে ফেলল। এহসান একদম নিচু গলায় অনুর কানের কাছে এসে ফিসফিস করে বলল, "চুপ একদম চুপ! আমি তোমাকে নিয়ে বাঁচতে চাই..."
কথাটা অনুর কানের পর্দায় আঘাত করতেই তার পুরো শরীরে যেন বিদ্যুতের ফুলকি ছড়িয়ে পড়ল, আর গাল দুটি লজ্জায় মুহূর্তের মধ্যে একদম লাল হয়ে উঠল। 
 "আর শোনো, কালকে তোমাদের বাড়িতে আসছি... রেডি থাকবেন ম্যাডাম... এহসান সিদ্দিকীর বাহুবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জন্য..."
এহসানের কথায় অনু ভীষণ লজ্জা পেয়ে গেল। সে দু-হাতে আলতো করে এহসানের বুকে ধাক্কা দিয়ে তাকে কিছুটা দূরে সরাতে সরাতে বলল, "যান... রাফিদ চলে আসবে! দেখে ফেললে আমাদের এখানে..."
এহসান একদম স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল, "দেখুক, শালাবাবু আমার, তাই না?"
অনু মাথা দুলিয়ে মিনতির সুরে বলল, "প্লিজ এখন না, যান আপনি যান... আমি বাড়ি গিয়ে কল দেব।"
এহসানেরও বেশ দেরি হয়ে যাচ্ছিল। সে হাতের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে সময় দেখে নিল, চারটা বেজে গেছে। "আচ্ছা আসছি... টেক কেয়ার।"—বলে ধীরপায়ে গাড়ির দিকে হেঁটে চলে গেল।
কয়েক মিনিট পর রাফিদ ছোট একটা চিনির প্যাকেট হাতে নিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে দৌড়ে এলো। প্যাকেটটা অনুর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বলল, "আপু নাও..."
অনু মেকি রাগ দেখিয়ে ভাইকে ধমক দিয়ে বলল, "তুই তোর চিনি খা, লাগবে না আমার ওসব!"
রাফিদ সত্যি সত্যিই একদম বোকা বনে গেল, "তাহলে আনালি কেন?"
"আমি বলিনি! এহহহহ!" অনু সোজাসুজি অস্বীকার করে বলল।
"তুই বলিসনি? তুই তো বললি, তাই তো আনলাম! এখন মিথ্যা বলিস কেন?" রাফিদ অবাক হয়ে চিল্লাতে লাগল।
অনু ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে ধমক দিল, "সর সর, গাড়িতে ওঠ, বাড়িতে যেতে হবে! এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে বই কিনতে এসে..."
কথাটা বলেই অনু নিজের ওড়নাটা সামান্য টেনে নিয়ে গাড়ির দিকে হেঁটে গেল। তবে তার সমস্ত মন আর চিন্তা তখনো আটকে রইল এহসানের সেই উষ্ণ স্পর্শ আর কানের কাছে রেখে যাওয়া সেই বাণীর ওপর—‘তোমাকে নিয়ে বাঁচতে চাই...’
#নিভৃতে_যত্নে_রাখা_প্রিয়তমা
#মারিয়াম_ফুল
পর্ব :৩৮

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন