ফন্ট সাইজ:
থিম:
ক্যাপ্টেন সাহেব

৩য় পর্ব

লেখক: মারিয়াম ফুল

#ক্যাপ্টেন_সাহেব

 #লিখনিতে_মারিয়াম_ফুল  "
  পর্ব :২
মেহেরের হাতের মুঠোয় ধরা ছোট্ট একটি প্লাস্টিকের স্ট্রিপ। সাদা রঙের সেই তুচ্ছ বস্তুটি যেন এই মুহূর্তে মেহেরের সাজানো পৃথিবীর ভারসাম্য ওলটপালট করে দিচ্ছে। এটি একটি প্রেগন্যান্সি কিট।
একজন নারী তার শরীরের প্রতিটি সূক্ষ্ম পরিবর্তন সবার আগে নিজেই টের পায়। গত কয়েকদিন ধরে মেহেরের কাছে সবকিছুই অন্যরকম লাগছিল। অকারণে মাথা ঘোরা, গন্ধে অস্বস্তি আর পাকস্থলী উল্টে আসা সেই অসহ্য বমিভাব ভেতরের সংশয়টা আজ এক ভয়াবহ বাস্তবতায় রূপ নিল। ঝাপসা চোখে কিটটার দিকে তাকাল সে। দুটি লাল রেখা স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছে।
মেহের স্তব্ধ হয়ে মেঝেতে বসে পড়ল। এই মুহূর্তে তার আনন্দিত হওয়ার কথা ছিল, যদি পাশে অন্তু থাকত। কিন্তু এখন এই ভ্রূণ তার কাছে এক বিশাল দায়ভার। মেহেরের সারা শরীর হিম হয়ে আসছে। ঠিক তখনই দরজায় সজোরে করাঘাত হলো। মেহের চমকে উঠে তড়িঘড়ি করে কিটটা ওড়নার নিচে লুকিয়ে ফেলল। দরজার ওপাশে তার মা সায়েদ কামিনী দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর কণ্ঠস্বরে সবসময়ই এক ধরণের শাসন আর কাঠিন্য লেগে থাকে। তিনি তীক্ষ্ণ স্বরে ডাকলেন
“মেহের! ভেতরে কী করছিস এতক্ষণ? নিচে আয়। তোর বাবা ডাকছে তোকে। ড. ইমতিয়াজ এসেছেন... তাড়াতাড়ি আয় তো,"
 বলে সায়েদ কামিনী চলে গেলেন। মেহেরের গলায় কথা আটকে গেল। মেহের তড়িঘড়ি করে প্রেগন্যান্সি কিটটা সরিয়ে রাখল, যাতে কেউ সেটা না পায়। কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে যন্ত্রের মতো মায়ের পিছু পিছু নিচে নামল সে।
সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতেই মেহের দেখল পুরো ড্রয়িং রুম যেন কোনো উৎসবের সাজে সেজেছে। মেহের ভেবেছিল ডক্টর ইমতিয়াজকে হয়তো দেখতে পাবে, কিন্তু ড্রয়িং রুমে উঁকি দিয়ে দেখল তিনি ততক্ষণে চলে গেছেন। রয়ে গেছে শুধু একরাশ খুশির গুঞ্জন। 
সিলেটের অন্যতম ধনাঢ্য ও প্রভাবশালী পরিবার হিসেবে সায়েদ ভিলার প্রতিটি আসবাবপত্রে আভিজাত্যের ছাপ। বড় ভাই সায়েদ মির্জা গম্ভীর মুখে একপাশে দাঁড়িয়ে ছিল। মেহের নিচে আসতেই তার চাচাতো বোন মিনহা খুশিতে প্রায় আধখানা হয়ে দৌড়ে এল। মেহেরের মুখে জোর করে মিষ্টি গুঁজে দিয়ে চিৎকার করে বলল,
“মেহের আপু, কংগ্রাচুলেশনস...তোমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে! তাও কার সাথে জানো? সেই হিরো ক্যাপ্টেন রুদ্রর সাথে ”
মেহেরের কানে যেন কেউ তপ্ত সীসা ঢেলে দিল। সে বিস্ময়ে স্থবির হয়ে গেল। তার বড় বড় চোখ জোড়া অবিশ্বাসে স্থির।
“বিয়ে? আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে মানে কী?”
মেহেরের অবাক হওয়া দেখে ড্রয়িং রুমে হাসির রোল পড়ল। তার ভাবি নূর এগিয়ে এসে ওকে জড়িয়ে ধরল। মেহের আর নূরের সম্পর্কটা বন্ধুর মতোই। নূর ফিসফিস করে বলল, “অবাক হওয়ারই কথা রে! এমন রাজপুত্রের মতো বর কি আর সবার কপালে জোটে?”
মেহের ভাবির চোখের দিকে তাকাতে পারল না। তার মাথা ঝিমঝিম করছে। সায়েদ ইমরান সাহেব আদুরে মেয়ের মাথায় হাত রেখে খুব নরম গলায় বললেন, রুদ্র যেমন সাহসী, তেমনই প্রতিষ্ঠিত।
 আমি চাই তুই সুখে থাকিস।বাবার এই পরম মমতা মেহেরের সহ্য হলো না। সে বাবার বুকে আছড়ে পড়ে আর্তনাদ করে উঠল, “বাবা... আমি এই বিয়ে করতে পারব না। "
ইমরান সাহেব হাসলেন। তিনি ভাবলেন মেয়ে হয়তো হুট করে বিয়ের খবর শুনে ঘাবড়ে গেছে। কিন্তু পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সায়েদ কামিনীর তীক্ষ্ণ চোখ মেহেরের অস্থিরতা ধরে ফেলল। তিনি এক পা এগিয়ে এসে কড়া গলায় বললেন, “নাটক বন্ধ কর মেহের। কেন করবি না শুনি? কী সমস্যা তোর?”
মেহের এবার সোজা হয়ে দাঁড়াল। মেহের বাবার বুক থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ালো... সবার দিকে কাঁপা কাঁপা দৃষ্টিতে তাকালো। চোখ বুজে হাতের মুঠো শক্ত করে বলে উঠল...
“বাবা... আমি বিবাহিত।”
পুরো ড্রয়িং রুমে যেন মুহূর্তের মধ্যে উত্তর মেরুর শীতলতা নেমে এল। মিনহার হাতের মিষ্টির প্লেটটা কার্পেটে পড়ে গেল। সায়েদ কামিনী এক মুহূর্ত দেরি করলেন না। তিনি সজোরে মেহেরের গালে একটি চড় বসিয়ে দিলেন। থপ করে একটা শব্দ হলো। মেহের ছিটকে সোফার ওপর পড়ে গেল।
 কামিনী বেগমের গলার স্বর রাগে কাঁপছে, “হারামজাদী.... কার কথা বলছিস তুই? কার জন্য আমাদের মুখ পুড়িয়েছিস?”
মেহের মাথা নিচু করে ফুঁপিয়ে উঠে বলল, “আমি অন্তুকে বিয়ে করেছি। এক বছর আগে।”
বড় ভাই সায়েদ মির্জা চুপ ছিলেন, কোনো কথা বলল না, শুধু তার হাতের মুঠো শক্ত হয়ে উঠল। তার চোখের দৃষ্টিতে বোনকে বাঁচানোর আকুতি নেই, বরং আছে এক অদ্ভুত শীতল ঘৃণা। মির্জার এই মৌনতা মেহেরকে চড়ের চেয়েও বেশি ভয় পাইয়ে দিল।
সায়েদ ইমরান সাহেব ধপ করে সোফায় বসে পড়লেন। তাঁর দীর্ঘদিনের কামানো সম্মান যেন ধুলোয় মিশে যাচ্ছে। তিনি দীর্ঘক্ষণ নীরব থাকার পর খুব ভারী গলায় বললেন,
“সেই ছেলেটাকে বলো, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যেন আমার সামনে এসে দাঁড়ায়। যদি সে না আসে... তবে মনে রেখো মেহের, তোমার এই পাপের প্রায়শ্চিত্ত তোমাকে আমাদের মতেই করতে হবে। চৌধুরী পরিবারকে ‘না’ বলার ক্ষমতা আমার নেই।”
নূর ভাবি মেহেরের পাশে এসে বসল ঠিকই, কিন্তু তাঁর ছোঁয়াতে আগের মতো সেই উষ্ণতা ছিল না। মেহের ডুকরে কেঁদে উঠল। অন্তুর ফোন বন্ধ, আর তার ভেতরে বাড়ছে সেই ‘প্রাণ’, যা তাকে প্রতি মুহূর্তে এক অনিশ্চিত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
মেহের নূরকে আবার জড়িয়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠল। কিন্তু নূরের শরীর পাথরের মতো শক্ত হয়ে আছে, কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। সে জানে মির্জার হিংস্রতা কত ভয়ংকর হতে পারে। ড্রয়িং রুমের বাতাস ভারী হয়ে আছে। একে একে সবাই মেহেরের ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে চলে গেল। নূর জানে, এত সহজে কিছু ঠিক হওয়ার নয়। তবুও যাওয়ার আগে মেহেরের দিকে সান্ত্বনার এক ফোঁটা শুকনো বাণী ছুড়ে দিল, 
“সব ঠিক হয়ে যাবে মেহের, তুই চিন্তা করিস না।”
 এই বলে নূরও নিজের ঘরের দিকে পা বাড়াল।
মেঘলা তখনো বাড়ির বাইরে ছিল। সায়েদ ভিলায় একটু আগে বয়ে যাওয়া সেই তছনছ করা তুফানের কথা সে জানত না। লিভিং এরিয়ার মেঝেতে তখনও বসে আছে মেহের। কান্না এখন থেমে গেছে, তার চোখ দুটো এখন অনুভূতিহীন, শূন্য। মেঘলা বাড়িতে ঢুকে মেহেরকে ওভাবে মাটিতে বসে থাকতে দেখে আঁতকে উঠল। ছুটে এসে মেহেরের মাথায় হাত বুলিয়ে ব্যাকুল হয়ে জিজ্ঞেস করল, 
“মেহের.... কী হয়েছে তোর? শরীর খারাপ?মেহের পাথুরে গলায় উত্তর দিল, “সব শেষ হয়ে গেছে, মেঘলা। অন্তু আমাকে শুধু ধোঁকা দেয়নি, ও আমাকে জীবন্ত কবর দিয়ে গেছে।” 
এরপর একে একে সেই বীভৎস বিকেলের সবটুকু মেঘলার কাছে উগরে দিল সে।মেহেরের মনে হলো, অন্তু হয়তো সত্যিই তাকে ধোঁকা দিয়ে কোথাও চলে গেছে।
অপরদিকে চৌধুরী নিবাসে...
রুদ্র তখন তার রুমে ফ্লাইটের জন্য তৈরি হচ্ছে। এয়ারপোর্টে যেতে হবে, নেক্সট ডিউটি। রুদ্রর মা পাশে এসে অস্থির হয়ে বোঝাচ্ছেন, 
“রুদ্র, এখন যাস না। মেয়ে পক্ষ যদি দেখা করতে চায়, আমি কী বলব? উনি আসলে ভিতরে ভিতরে ভয় পাচ্ছিলেন যদি রুদ্র ফিরে না আসে। ”
রুদ্র শার্টের বোতাম আটকাতে আটকাতে নির্লিপ্ত গলায় বলল, “মা, একটা বিয়ের জন্য আমি আমার প্রফেশনাল কমিটমেন্ট নষ্ট করতে পারি না। আমার মেয়ে দেখার দরকার নেই। তোমাদের আর দাদার পছন্দ হলে আমি রাজি।” 
মা তবুও দমে না গিয়ে বললেন, “যদি মেয়ে নিজে থেকে দেখা করতে চায়?”
রুদ্র দরজার দিকে পা বাড়িয়ে রুক্ষ গলায় জবাব দিল, “ঠিক আছে, ও যদি চায় তবে ফিরে এসে দেখা করব।”
হামজা চৌধুরী ড্রয়িং রুমে বসে বিলাপ করছেন,
 “তুমি তোমার ছেলেকে অন্ধবিশ্বাস করো মা! ও যদি এখন চলে যায় আর না আসে?” 
দাদি পাশে থেকে অভয় দিয়ে বললেন, 
“আসবে, আমার দাদু ভাই ঠিক ফিরে আসবে।”
 হামজা চৌধুরী রাগে গজগজ করে বললেন, “দোয়া করো যেন আসে, নাহলে এবার আমি ওকে দেখে নেব।” 
দাদি মুখ বাঁকিয়ে বিড়বিড় করলেন, “হুম, দেখে নেবে! কত দেখলাম।”
ফিরে আসা যাক সায়েদ ভিলায়...
সময় কারোর জন্য থেমে থাকে না। সায়েদ ইমরান সাহেবের দেওয়া সেই ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেছে। মেহের এখন তার বাবা-মা আর বড় ভাই মির্জার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সে অন্তু বা তার পরিচিত কাউকে ফোন করতে বাকি রাখেনি, কিন্তু কোথাও কোনো চিহ্ন নেই।
বাবা সায়েদ ইমরান ভারী গলায় বললেন,
 “বিয়েটা করে ফেলো মেহের। কেউ জানবে না তোমার আগে বিয়ে হয়েছিল।”
মেহের এবার চিৎকার করে উঠল, “বাবা আমি বিবাহিত।ইসলামে বিবাহিত নারী প্রথম স্বামী জীবিত অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করতে পারে না...”
এতক্ষণ চুপ করে থাকা মির্জা এবার মুখ খুলল। তার কণ্ঠে বরফশীতল নিষ্ঠুরতা, “তাহলে মেরেই ফেলি আপদটাকে?”মেহেরের চোখে প্লাবন থাকলেও কণ্ঠে ছিল আগ্নেয়গিরির তেজ। সে গর্জে উঠল, “খবরদার! ও আমার বাচ্চার বাবা...”
নিস্তব্ধ ড্রয়িং রুমে বোমা ফাটল যেন। কামিনী আর সায়েদ ইমরানের চেহারা মুহূর্তেই ফ্যাকাসে হয়ে গেল। মেহের সত্যটা গোপন রাখত চেয়েছিল, 
কিন্তু গর্ভস্থ সন্তানের অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে সে সবটুকু হারাল। মির্জা এক বীভৎস অট্টহাসি দিয়ে উঠল, 
“তোর কী মনে হয় মেহের, আমরা কিছু জানি না? সায়েদ বংশের মেয়ের ঘরের খবর আমরা রাখব না? তুই এক বছর আগে গোপনে বিয়ে করলি আর আমরা কিছুই বুঝলাম না? বাবা, বিয়ের প্রস্তুতি নিন। "
কামিনী কয়েক কদম এগিয়ে এসে মেহেরের চোয়াল শক্ত করে ধরলেন। দাঁতে দাঁত চেপে প্রশ্ন করলেন,
 “কতদিন? কত মাস হয়েছে তোর এই নোংরামির?”
মেহের তখন যন্ত্রণায় কুঁকড়ে আছে, মায়ের হাতের চাপ আর নিজের ভেতরের ভয়ে তার শরীর থরথর করে কাঁপছে। তার বলতে ইচ্ছে হলো, খুব— এই বাচ্চা কোনো পাপ নয়, বরং হালাল... কিন্তু সে তখন কিছুই বলতে পারল না...সে কোনোমতে কাঁপা কাঁপা গলায় অস্ফুট স্বরে উত্তর দিল, “তিন... তিন সপ্তাহ মাত্র।”
তিন সপ্তাহ! কামিনীর চোখে এক পৈশাচিক আভা খেলে গেল। তিনি মনে মনে ভাবলেন, সময় যেহেতু খুব অল্প, তাই এখনই শেষ করে দেওয়া সহজ। তিনি মির্জার দিকে তাকিয়ে ইশারা করলেন।  
কামিনী বেগম মেহেরের চুলের মুঠি ধরে তাকে হেঁচকা টানে মেঝের দিকে নামিয়ে আনলেন। হিসহিস করে বললেন, “তিন সপ্তাহের পাপ? এই ভ্রূণ পৃথিবীর আলো দেখবে না। কেউ জানবে না এই ড্রয়িং রুমে আজ কী হয়েছে।”
মেহেরের বাবা লজ্জায় সেখান থেকে উঠে চলে গেলেন।একটিবার ফিরেও তাকালেন না মেহেরের দিকে... মেহের শুধু চেয়ে চেয়ে বাবার নিষ্ঠুরতা দেখেই গেল। কামিনী অ্যাবরশনের কিছু ওষুধ আনালেন। 
যেহেতু প্রেগন্যান্সি একদম প্রাথমিক পর্যায়ে, তাই এটিই ছিল তাঁদের কাছে সহজ পথ। কামিনী এক হাত দিয়ে মেহেরের গাল চেপে ধরলেন, আর মির্জা তার পেশীবহুল হাত দিয়ে মেহেরের হাত-পা চেপে ধরল। মেহেরের আর্তনাদ ঘরের দেয়াল চিরে দিলেও কারও মনে দয়া জাগল না। কামিনী জোর করে মেহেরের গলায় সেই বিষাক্ত বড়িগুলো পুরে দিলেন।
ওষুধ খাইয়ে দিয়ে মা আর ভাই ঘর থেকে বেরিয়ে গেল মেহেরকে একলা মৃত্যুসম যন্ত্রণায় ফেলে। মেহের মেঝেতে লুটিয়ে পড়ে ছটফট করতে লাগল। 
চলবে....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৩য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন