#অতৃপ্তির_মাঝে_তৃপ্তিময়_সে
#লেখিকা- সালসাবিল সারা
পর্ব -১২.
______________
২৭.
--"শাকিল!কেনো,উনার সাথে কথা বললে কি হবে?"
তৃপ্তির নজর সন্দিহান।সাথে হঠাৎই আদ্রিনের উষ্ণ ছোঁয়ায় মেয়েটা আরো নুইয়ে পড়েছে।এই মুহূর্তে তেজী গলায় কথা বলাটা শ্রেয় ভাবছে তৃপ্তি।নাহলে,নিজের ভালো লাগার অনুভূতি হুট করেই প্রকাশিত হবে।যেটা সে এখনকার জন্যে মানতে নারাজ।তৃপ্তি কিছুটা দূরে সরতে চাইলে তার বাহু ছেড়ে দিলো আদ্রিন।সম্মুখে অবস্থিত বট গাছের পানে চেয়ে আদ্রিন তাকে প্রশ্ন করলো,
--"তার মানে তুমি চিনো সেই বেয়াদপ'কে?"
আদ্রিনের স্বর গুমোট।
তৃপ্তির বাঁকা দৃষ্টি আদ্রিনের অবয়বে নিবদ্ধ।ছেলেটা আজ কেমন থমথমে।ঠিক যেনো ঝড় আসার পূর্বের পরিবেশের লাহান।শাকিল এবং তার সাথে কথা বলাটা নিয়ে কি এমন হলো বড্ড জানতে ইচ্ছে করছে তৃপ্তির।সে কিঞ্চিৎ অগ্রসর হলো আদ্রিনের দিকে। মানবটার দৃষ্টি এখনো স্থির।কিছু একটা ভাবছে সে।
--"উনার সাথে কথা বলা বা না বলা নিয়ে কি সমস্যা!হয়েছে টা কি বলবেন?"
এক হাত চুলের মাঝ বরাবর চালিয়ে অবাধ্য চুলগুলোকে ঠিক করলো আদ্রিন।তৃপ্তির বাক্যে শাকিলকে "উনার" উচ্চারণ করাটা আদ্রিনের ভেতরকার রাগকে এইবার সামনে এনেই ফেললো।সজোরে গাড়ির উপরিভাগে আঘাত করে গর্জন করে উঠে আদ্রিন,
--"হুয়াট উনি?তোমার 'উনি,উনার' সব আমি। ডোন্ট কল হিম,উনার।জাস্ট কল হিম,আ বাস্টার্ড।"(তাকে উনি,উনার ডাকবে না।তাকে কেবল জারজ/বেজম্মা ডাকবে।)
আদ্রিনের গর্জনে হকচকিয়ে উঠলো তৃপ্তি।যেভাবে সে এগিয়ে এসেছিল,ঠিক একইভাবে পিছু হটলো রমণী।সে ভীত।
--"এখন বলো,ছেলেটাকে কিভাবে চিনো?"
পরপর প্রশ্নে আদ্রিন আবারও তৃপ্তিকে আদেশ দিলো,
--"আমি জানি তুমি মিথ্যা বলার মেয়ে নও।"
তৃপ্তি হতবাক।এই শাকিলের জন্যে আদ্রিন এতো উতলা কেনো হচ্ছে?তাছাড়াও আদ্রিনের কণ্ঠে আক্রোশ স্পষ্ট।প্রথমে আদ্রিনকে কিঞ্চিৎ বিরক্ত করবে বলে চিন্তা করলেও তার শেষ বাক্য শুনে তৃপ্তি আর কাহিনী রটালো না। ওড়নার এক পাল্লা আঙ্গুলে প্যাঁচানো অবস্থায় তৃপ্তি জবাব দিলো,
--"প্রিয়কে নিয়ে সোসাইটির ক্লাবে গিয়েছিলাম।সেখানেই দেখা হয় শাকিলের সাথে।আমার তো নামটাও মনে ছিলো না,আর না তার সাথে রিলেটেড কোনো কথা।দেখায় হয়নি আমাদের আর।জাস্ট হাই, হ্যালো হয়েছিল তাও পাঁচ মিনিটের জন্যে।এরপর কিছুই না।উনাকে আমি সেদিন প্রথম দেখেছিলাম আর শেষ।"
আদ্রিন ফিরে তাকায় তার সত্তায়।মেয়েটা এক দমে কথা শেষ করেছে।এখন কেমন গম্ভীর শ্বাস ফেলছে।শিহরণ জাগে আদ্রিনের অন্তরে।সাথে রাগও। এতো সময় ধরে সে তৃপ্তির পিছে ঘুরছে,তাকে নিজের মতো মানিয়ে আসার সময় দিচ্ছে।সেখানে কিনা একদিনের দেখায় কয়েক মিনিটের সাক্ষাতে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসে আছে শাকিল?নিজের রাগকে দমন করলো সে।হাতখানা মুষ্টিবদ্ধ।তৃপ্তির প্রতি তার আরো যত্নশীল হতে হবে।নাহলে মেয়েটার পাথর মন অতি দ্রুত গলবে কিভাবে?আর সেই মন না গলা অব্দি শান্তি হবে না আদ্রিনের।মেয়েটাকে যে তার চায়।সারাজীবনের জন্যে চায়।
--"বুঝেছি।রাগ করেছো?"
আদ্রিনের কণ্ঠে এখন আক্রোশ নেই।কেমন শান্ত সেই সুর।তৃপ্তির সুপ্ত মনে লজ্জার আভা।এতো আবেগ মাখা কন্ঠে কোনো পুরুষ তাকে প্রশ্ন করেনি কস্মিককালে।তৃপ্তি এমন সুযোগ দেয়নি কাউকে।
--"আমি ঠিক আছি।আপনার কণ্ঠ শুনে মনে হচ্ছে,
আপনার রাগ কমেছে।আমার না।"
তৃপ্তি মুখে হাত রেখে হাসলো।
তার হাসিতে আদ্রিনের অধর প্রসারিত।সে দাঁড়ালো তৃপ্তির সম্মুখে।মেয়েটা তার চেয়ে উচ্চতায় বেশ বেটে। আজ কি সে উচুঁ জুতো পড়েনি?
আদ্রিনের উপস্থিতির টের পেয়ে মাথা সোজা করলো তৃপ্তি।আদ্রিনের বুকের দিকটা তার দৃষ্টিতে দৃশ্যমান।নিজের মাথার উচ্চতা বৃদ্ধি করলো।আদ্রিন তার পানে তাকিয়ে।স্থির তার দৃষ্টি।পবনের বেহিসাবি ঝাপটায় এলোমেলো হয় তৃপ্তির চুল।তার এহেন এলো চুলের খেলা বড্ড মনে ধরলো আদ্রিনের।নিজ হাতেই তৃপ্তির মুখের উপর ঝাপটে থাকা চুলগুলো সরিয়ে দিলো আদ্রিন।লাজুকতা হানা দিলো তৃপ্তির মুখশ্রীতে।সে দ্বিধা কে'টে বললো,
--"সকল প্রশ্ন শেষ?যেতে পারি এইবার?অফিস নেই?"
--"ছিলো।ক্যান্সেল করেছি।সব কাজ তন্ময় সামলাবে।"
আদ্রিন কথা শেষে সম্মুখে কদম ফেলে হাঁটছে।তার হাঁটা যেনো তৃপ্তিকে নির্দেশ দিলো,"আমার সাথে আসো।" তৃপ্তিও আদ্রিনের না বলা নির্দেশনা বুঝে তার পিছু হাঁটছে।পাশাপাশি পৌঁছালে সে আদ্রিনকে প্রশ্ন করলো,
--"আমার ভার্সিটি আছে।আমি যায়?"
--"তোমার জন্যে কাজকর্ম থেকে ছুটি নিয়েছি,আর তুমি যাবে যাবে করছো?এই পৃথিবী আসলেই নির্দয়। যার পুড়ে তাকে আরো পোড়ায়।"
আদ্রিনের কথা শেষে তৃপ্তির তার জবাব দেওয়ার পূর্বে হুট করেই আদ্রিন তৃপ্তির হাত চেপে ধরলো।তৃপ্তির পা ততক্ষণে গর্তের ভেতরে প্রবেশ করলো বেখেয়ালিতে।হঠাৎই পা বেঁকে গেলেও তৃপ্তি পড়লো না আদ্রিন তার হাত ধরে রাখায়।উল্টো তৃপ্তি নিজেকে বাঁচাতে আদ্রিনের বাহু খাঁমচে ধরলো।
--"আরে আস্তে।পড়ে যাবে,বাবা।"
--"থ্যাংকস। আপনি না থাকলে আমি এতক্ষণে চিৎপটাং হতাম।"
তৃপ্তি হাসলো।
--"সাবধানে চলবে,মেহেবুবা।"
--"চলি।আপনি থাকলেই কেবল অন্যমনস্ক হয়ে যায়।"
--"কেনো?"
আদ্রিন প্রশ্ন করলো।পাশাপাশি হাঁটছে তারা।আদ্রিন এখনো তৃপ্তির হাত চেপে।যদিও তৃপ্তি ছাড়াতে চেয়েছে তবে আদ্রিন এমন ভাব করলো যেন সে কিছুই বুঝেনি।
--"কিজানি!"
তৃপ্তি আচমকা লজ্জায় চুপ করলো।প্রথমে সে ভেবেছিল জোর করে ভার্সিটি ফিরে যাবে।কিন্তু তা এখন আর সম্ভব হচ্ছে কই?এইযে আদ্রিন শান্ত,
নিরিবিলি পরিবেশে তার হাত ধরে পাশে হাঁটছে।সুন্দর এই পরিবেশে মনের পিছুটানকে ছেড়ে বেহায়া মন বড্ড লোভী হচ্ছে।তাই ফিরে যাওয়ার বায়না করলো না সে।হোক না মনটা কিঞ্চিৎ বেহায়া,তৃপ্তিও তো মানুষ।অনুভূতি বরাবরের মতো বিশাল পাথরের কাছেও হেরে যায়।তৃপ্তির ক্ষেত্রও কি তা?নাকি তার ব্যথিত হৃদয় মায়ের সাথে ঘটা ঘটনার কারণে এই অনুভূতিকে কখনোই প্রকাশ করবে না?
২৮.
ঝুম বৃষ্টিতে পরিবেশ মুখর।সাফাকে ড্রইং করানোর পাশাপাশি তৃপ্তি বাইরে তাকিয়ে।জানালা ভিজে একাকার।তীব্র বর্ষণের শব্দ জানালার কাঁচে আছড়ে পড়ছে।রিয়ানা আজ এই রুমেই আছে।অযথা এটা সেটা নাড়াচাড়া করছে বা এটা সেটা গোছাচ্ছে।তৃপ্তি সেদিক মাথা ঘামালো না।তার বাড়ি তার ঘর,তার যা ইচ্ছা তাই করা জায়েজ আছে।তৃপ্তি ড্রইং করানোয় মন দিলো।তবে,আজ তার মন চঞ্চল।বৃষ্টি তৃপ্তির কাছে সর্বদা একই লেগেছে।কখনো মনে চাঞ্চল্যতা অনুভব হয়নি।কিন্তু,তার আজ ব্যতিক্রম লাগছে।বেহায়া মন বারংবার স্মরণ করছে আদ্রিনের কথা।বৃষ্টি কি এমন পদার্থ যা মনের অজান্তে লুকিয়ে থাকা প্রিয় মানুষের কথা স্মরণ করায়!তৃপ্তি পলক ঝাপটায়।তীব্র অস্থিরতা তার মনের গহীনে।
সাফা তার ড্রইং শেষ করে বিদায় জানিয়েছে তৃপ্তিকে।অথচ,তৃপ্তির সেদিক খেয়ালেই নেই।তার মন ডুবে আছে আদ্রিনের কল্পনাতীত চেহারায়।ছেলেটা ভীষণ আকর্ষণীয়।তার বাঁকা হাসিটা রহস্যময়,কিন্তু ভয়ংকর সুন্দর।না হাসলেও ছেলেটার ধারালো চেহারার গঠনে, নেশাক্ত চাহনিতে বুকটা ভার হয় তৃপ্তির।
--"তৃপ্তি?"
রিয়ানার ডাকে নিজ ঘোর হতে ফিরলো তৃপ্তি।সাফাকে দেখতে না পেয়ে সে অস্থির কণ্ঠে বলল,
--"জ্বী আপু!সাফা কোথায়?"
--"তোমার ছাত্রী ড্রইং শেষে তোমাকে বিদায় জানিয়েই চলে গেলো।তুমি কিছু নিয়ে চিন্তিত?"
তৃপ্তি হচকালো।সে চিন্তিত ঠিকই, রিয়ানারই ভাইয়ের জন্যে।আলতো হেসে তৃপ্তি মাথা নাড়ায়,
--"নাহ।আমি ঠিক আছি।আসলে ঘুম পাচ্ছিলো তাই খেয়াল করিনি।"
--"সমস্যা নেই।বৃষ্টি দিনে সবারই বেশি ঘুম পায়।"
রিয়ানা সাফার চেয়ারে বসলো।
তৃপ্তি বিদায় জানিয়ে উঠতে নিলে রিয়ানা থামায় তাকে,
--"শুনো!"
তৃপ্তির গতি স্থগিত।পুনরায় চেয়ারে বসে আওড়ায়,
--"জ্বী আপু।"
--"আমার সাথে যাবে আদ্রিনের কাছে?আমার ভাই বড্ড রাগ করেছে আমার সাথে।তুমি ওকে একটু বলবে, আমার সাথে দেখা করতে!আমার ফোনটাও তুলছে না সে।"
আকুতি করলো রিয়ানা।
--"অবশ্যই আপু।"
তৃপ্তি ফোন বের করলে রিয়ানা আবারও বলে,
--"তুমিও সাথে থাকবে আমার।"
--"আমি?"
তৃপ্তি প্রশ্ন করলো।
--"হ্যাঁ।তুমি ছাড়া আমি এই ছেলের রাগ ভাঙ্গাতে পারবো না।"
তৃপ্তি কারণটা বুঝলো না।তাও সে মাথা নাড়িয়ে বিনা প্রশ্নে উত্তর দিলো,
--"আচ্ছা।সমস্যা নেই।"
তৃপ্তি আদ্রিনকে ফোন করলে প্রথম দু'বারে আদ্রিন ফোন তুললো না।তৃপ্তির মুখের অবস্থা আন্দাজ করে রিয়ানা বললো,
--"হয়তো বিজি।একটা কাহিনী হয়েছে।মা আমার ভাইকে কিসব বলেছে।আর এইসবের জন্যে ভাই আমাকে ভুল বুঝে আর কথায় বলছে না।একটামাত্র ভাই,এইসব করলে বলো ভালো লাগে?"
তার জবাবে তৃপ্তি কথা চালিয়ে যাচ্ছে রিয়ানার সাথে।সত্যিই তো,ভাই বোন যতোই দোষ করুক বা মারামারি/ ঝগড়া করুক,কথা বন্ধ করলে বড্ড অস্বস্তি হয়।তার আর রূপমের সম্পর্কটাও যে এমন!
তাদের কথায় মাঝেই আদ্রিনের ফোন এলো।
--"হুঁ,বলো মেহেবুবা।"
--"ফ্রি আছেন?"
--"আধ ঘন্টা বাদে ফ্রি।তুমি ঠিক আছো?"
আদ্রিন চিন্তিত।
--"হুম।একটু দেখা করতে চাইছি।"
--"আচ্ছা। কোথায় আছো?পিক করবো আমি।"
--"নাহ।আমি আসতে পারবো।আপনার অফিসের পাশের রেস্তোরা 'ফুড ইজ হ্যাপিনেস' এ দেখা হচ্ছে তাহলে।"
তৃপ্তি সংক্ষিপ্ত পরিসরে কথা শেষ করলো।পরক্ষণে রিয়ানা তৈরি হলে,সাফা সমেত তারা বেরুলো রেস্তোরার উদ্দেশ্যে।
যথা সময়ে আদ্রিন এলো।রিয়ানাকে দেখে সে ভরকে গেলেও,তৃপ্তি তাকে থামার ইঙ্গিত দিলো ইশারায়। এতেই শান্ত হলো আদ্রিন।সাফাকে নিজের সাথে দাঁড় করিয়ে রিয়ানা এবং আদ্রিনের উদ্দেশ্যে তৃপ্তি বললো,
--"আমরা কিড জোনে আছি।"
অতঃপর রেস্তোরার অভ্যন্তরে অবস্থিত কিড জোনে গেলো তৃপ্তি।উদ্দেশ্য,ভাই বোন নিজের খুনসুটি মিটিয়ে নিক!
--"আদ্রিন,তুই না জেনেই বোনের উপরে রাগ করেছিস।"
রিয়ানা বললো।
আদ্রিন চেয়ারে গা এলিয়ে বসলো।নির্লিপ্ত তার ভঙ্গিমা,
--"জেনেই রাগ করেছি।"
--"বোন কিছু বুঝে না?আমি জানি তুই তৃপ্তিকে পছন্দ করিস।আমি কেনো শাকিলের তৃপ্তিকে পছন্দ, এইসব নিয়ে কথা বাড়াবো?সেদিনই সব চ্যাপ্টার ক্লোজ করেছি আমি।মা একটু বেশি করে,বুঝিস না?"
--"মানে?"
আদ্রিন অবাক হয়।
--"আমি শাকিলকে বলেছি,আমার ভাইয়ের পছন্দ তৃপ্তি। এতেই শাকিল চুপ করে গেলো। ও তো বাচ্চা নয় যে,তোর এতদিনের ভালো লাগার মাঝে বাম হাত ঢুকাবে!"
রিয়ানা স্বস্থি পেলো সব কথা বলে।
--"তৃপ্তি আমার পছন্দ নয়,ভালোবাসা।"
আদ্রিন সোজা হয়ে বসলো।
--"সে জানে?"
--"না জানলে সরাসরি বলবো।ওকে শুধু সময় দিচ্ছি কিছুদিন।সবকিছু জোর দিয়ে হয় না আপু।আমার জন্যে ওর মনে মায়া আছে আমি জানি।মায়া থেকেই তো লাভের সৃষ্টি হয়।মায়া হয়েছে,ভালোবাসাও হবে।না হয়ে উপায় নেই।প্রথম ভালোবাসা আমার ও,যেতে দিবো না কোথাও।"
আদ্রিন পিছে তাকায়।তৃপ্তি এবং সাফা খেলতে ব্যস্ত।অসাবধানতায় সরে যাওয়া ওড়না বারবার ঠিক করছে তৃপ্তি।বিরক্তবোধ হয় আদ্রিনের।কম মানুষ নেই এইখানে,কিড জোনে আরো বেশি।
--"খাবার অর্ডার করো,আপু।আমি আসছি।"
পকেটে মোবাইল পুরে আদ্রিন কিড জোনের দিকে যাচ্ছে।
তৃপ্তির খবর নেই।সে বেখেয়ালি এবং খেলায় মত্ত।সাফা আর সে বর্তমানে ছোট আকারের রঙিন বলের সমাহারে ডুবে।খিলখিলিয়ে হেসে উঠা তৃপ্তির অবয়ব ঘায়ে'ল করছে অব্যক্ত প্রিয়তমের অন্তর।ছেলেটা হাত বাড়িয়ে সাফাকে টেনে তুললো। অপর হাত বাড়িয়ে তৃপ্তির উদ্দেশ্যে বললো,
--"বেখেয়ালি মেয়ে।"
তৃপ্তি আদ্রিনের হাত আঁকড়ে উঠে পড়লো।পেটে তার খিল ধরে আছে,তীব্র হাসির দরুণ।খুব কষ্টে হাসি থামিয়ে সে আদ্রিনকে প্রশ্ন করলো,
--"কি করেছি আমি?"
--"এলোমেলো করেছো আমাকে।"
আদ্রিনের স্বর গম্ভীর।
--"জ্বী?"
তৃপ্তি চমকালো।
--"বাচ্চাদের মতো খেলায় মেতে ছিলে,আশে পাশে খেয়াল ছিলো তোমার?"
--"কেনো?কি হয়েছে?"
--"কিছুনা।"
আদ্রিনের কন্ঠ এখনো গম্ভীর।তৃপ্তি ভেংচি কে'টে মিনমিনে সুরে বলল,
--"পাগল একটা।"
--"তোমার জন্যেই হয়েছি,মেহেবুবা।"
পাশে ফিরে নিচু হয়ে জবাব দিলো আদ্রিন।তৃপ্তির হাত ছেড়ে চেয়ার টেনে তাকে বসার ইঙ্গিত দেয় সে।
অন্যদিকে তৃপ্তি হতবাক।তার দৃষ্টি আদ্রিনে আবদ্ধ।ছেলেটা তাকে বসতে ইঙ্গিত দিয়েই সাফার সাথে খুনসুটিতে মেতে উঠলো।তৃপ্তি ঠাঁই দাঁড়িয়ে ভাবনায় মশগুল। তার মিনমিনিয়ে বলা কথাটুকু আদ্রিন শুনলো কিভাবে?ছেলেটা কি সত্যিই জাদুকর!
চলবে.....