ফন্ট সাইজ:
থিম:
অতৃপ্তির মাঝে তৃপ্তিময় সে

১৬তম পর্ব

লেখক: সালসাবিল সারা

#অতৃপ্তির_মাঝে_তৃপ্তিময়_সে

#লেখিকা- সালসাবিল সারা

পর্ব -১৬

_____________

৩৫.

--"আপনি এমন রেগে আছেন কেনো?আরাফাতের সাথে দেখা হওয়ার পর থেকেই আপনার মুখের অবস্থা এমন বারোটা বেজে আছে।"

তৃপ্তি একগাল হাসে।ভরা বর্ষণে গাড়ি রাস্তার এক পাশে স্থগিত।যদিও টুকটাক যানবাহন চলছে,তবে তৃপ্তির অনুরোধে আদ্রিন গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্ত বাতিল করলো।তৃপ্তির কথায় আদ্রিন পাশ ফিরে।তৃপ্তির মুখে চাকচিক্য ভাব।সে আদ্রিনের অবস্থা দেখে নিশ্চিত মজা নিচ্ছে।

আদ্রিন ভ্রু কুঁচকায়।তৃপ্তির কথা সত্যি।আরাফাতের ব্যাপারটা হজম হচ্ছে না তার। যতক্ষণ তারা ফুচকার দোকানের সামনে ছিলো,ততক্ষণ আরাফাতের দৃষ্টি ছিল তাদের পানেই।যদিও তৃপ্তির অবয়ব নিজ অবয়ব দ্বারা আড়াল করেছিলো আদ্রিন,তাও কোথাও যেনো কিসের ক্রো'ধ থেকে যাচ্ছে তার।

তৃপ্তির সামনের চুল অল্প ভিজে।তাদের ফুচকা খাওয়ার মাঝে আচমকা বৃষ্টি নামে ধরণীতে। যার দরুণ,অর্ধেক খাওয়ায় স্বাদ মিটিয়ে দাম চুকে তৃপ্তিকে নিয়ে অতি দ্রুত গাড়িতে বসে আদ্রিন।সে চায় প্রিয়তমার ভেজা অবয়ব কেউ না দেখুক,সে ব্যতীত।ততক্ষণে দুজনের অবয়ব কিঞ্চিৎ ভিজে যায়।তীব্র বর্ষণ বলে কথা।যদিও সকলের ছুটোছুটির কারণে একে অপরকে দেখার সাধ্য ছিলো না। এতে স্বস্থি পেয়েছে আদ্রিন।কারণ,তার মেহেবুবার সকল অবয়ব কেবল তার জন্যেই নির্ধারিত।সকল গ্লানি মুছে গেলেও আরাফাতের গ্লানি তার মস্তিষ্ক হতে এক দণ্ড মুছছে না।তৃপ্তির ভেজা চুলে আঙুল চালিয়ে আদ্রিন জবাব দেয়,

--"আরাফাত নামের ছেলেটার ব্যাপারে কিছু শুনতে চাই না আমি।"

বড্ড থমথমে তার কণ্ঠস্বর।

--"তাহলে,হাসুন।অনেক্ষণ ধরেই আপনি গোমড়া মুখে বসে আছেন।"

তৃপ্তির সহজ জবাব।

--"হাসি আসছে না,তৃপ।আমি দোয়া করছি সেই ছেলে যেনো আমাদের সামনে আর না আসে।স্পেশালি তোমার সামনে।"

আদ্রিন সিটে গা এলিয়ে দেয়।বাহিরের ঝমঝম বৃষ্টির শব্দে পরিবেশকে অন্যরকম করছে।ক্রো'ধের পাশাপাশি আদ্রিন তার বুকের তীব্র শব্দ শুনতে পাচ্ছে স্পষ্ট।পাশে তার আবেদনময়ী প্রিয়তমা যে বসে আছে!স্নিগ্ধ লাগছে মেয়েটাকে।আদ্রিন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যেই তৃপ্তির অবয়ব হতে নজর সরিয়ে ফেললো তাৎক্ষণিক।

--"আরে,আপনি বেশি ভাবছেন।আরাফাত আমার সামনে আসলেও কি,আর না আসলেও কি।আমার জীবনে তার কোনো মূল্য নেই।আর সে যদি ঝামেলা করতে আসে,তবে..."

--"আই উইল কি'ল হিম।"

তৃপ্তিকে থামিয়ে আদ্রিনের জবাব।কণ্ঠস্বর তার ভিন্ন রকম।একেবারে অচেনা।তৃপ্তির নিকট সেই কণ্ঠস্বর কেবল হু'মকি মনে হলো।ভয় পায় মেয়েটা।ছেলেটা অত্যন্ত পাগলাটে।তাই আদ্রিনের বাহুতে আঙ্গুলে টোকা দিয়ে সে বলে,

--"বেশি বেশি!এইখানে মা'রার কি আছে?পাগলামি করবেন না।আপনি যদি এইসব বলেন তাহলে আমি আর দেখা করবো না আপনার সাথে।"

আঁখি জোড়া বুঁজে আদ্রিন।নিচের অধর তার দাঁত দিয়ে চেপে।নিশ্চুপ সে।বাইরের বৃষ্টির শব্দের তীব্রতা বাড়ছে।সেই শব্দে আদ্রিনের রেগে যাওয়া ফোঁস ফোঁস আওয়াজ হতে বেখবর তৃপ্তি।মিনিট দুয়েক পর নিজেকে সামাল দিয়ে আদ্রিনের শান্ত গর্জন শোনা যায়,

--"যেদিন আমি ম'রবো,সেদিন থেকে আমার সাথে কথা বলতে হবে না তোমার।আমি বেঁচে থাকতে এইসব কাজ অসম্ভব।আদ্রিন হতে তোমার নিস্তার নেই। ইউ আর অনলি মাইন।"(তুমি কেবল আমার)।

আদ্রিন নিরব হুমকি দিলো ঠিক।কিন্তু তার কণ্ঠস্বর ছিলো ধারালো।

বুকের মাঝের র'ক্তক্ষরণ হয় তৃপ্তির।প্রিয়জনের মুখে মৃ'ত্যু নামক শব্দটা বেমানান।বড্ড বেমানান।

আদ্রিন নিজের বক্তব্য শেষে গাড়ি চালু করলো। তীব্র ঝড় উপেক্ষা করে গাড়ি সামনে এগুচ্ছে।

সংশয়ে ভরে উঠে তৃপ্তির মন।অজান্তেই লোকটার মনে আঘাত করেছে সে। দিগ্বিদিক হারিয়ে সে আদ্রিনের বাম হাত ধরলো।ছলছল আঁখিতে ছেলেটার পানে চেয়ে সে। আদ্রিনের নজর সম্মুখে।একটিবার তাকাচ্ছে না সে মেয়েটার দিকে।তাকাবেই বা কেনো?মেয়েটা তো আদ্রিনকে বুঝলো না।অবুঝ মেয়েটা।

ধীরে ধীরে তৃপ্তি নিজ আঙ্গুলের ভাঁজ আদ্রিনের হাতের মুঠোয় চালান করলো।নরম কণ্ঠে শুধালো,

--"আর কখনোই এমন কথা বলবেন না।আমি সহ্য করতে পারবো না এইসব কিছু।আমি সরি বলছি আমার আগের কথার জন্যে।"

আদ্রিন চুপ করে থাকলেও তার মন নরম হয়।এইযে এমন ঠান্ডা আবহাওয়ায় আদ্রিনের কানের পিছে ঘামের আভাস স্পষ্ট।প্রিয়তমার আদুরে স্পর্শ ব্যাকুল করছে আদ্রিনের হৃদপিঞ্জিরা।

আদ্রিনকে নিশ্চুপ দেখে পুনরায় ঘাবড়ে যায় তৃপ্তি।হুট করেই যেনো হৃদয়টা কোমল হলো।আবেগের তাড়নায় আঁখি জুড়ে তার অশ্রু।মনের মানুষের অভিমানের বেদনা ছারখার করছে তৃপ্তিকে।তার ধারণা আদ্রিন সত্যিকারে কথা বলবে না তার সাথে।মায়ের পর নিজের দুর্বলতা সে কেবল আদ্রিনের সামনেই প্রকাশ করছে।সেই তাড়নায়,তৃপ্তির মেয়েলি স্বভাবের নরম মনের তীব্র কষ্টে কেঁদে উঠে সে শব্দ করে।সে চায় না,আদ্রিন নামক পুরুষ তার জীবন হতে দূরে যাক।

--"আপনি কথা বলুন আমার সাথে।প্লিজ আদ্রিন আমার অনেক কষ্ট হচ্ছে।এমন কষ্ট আমার আগে কখনোই হয়নি।আপনি আমাকে কখনো ছেড়ে যাবেন না প্লিজ।"

তৃপ্তির কান্নারত কণ্ঠে জোরেই ব্রেক কষে আদ্রিন। পুনরায় সাইডে রাখে গাড়ি। আঁকড়ে থাকা তৃপ্তির হাতের তালু সামান্য ঢিলে হতে নিলে আদ্রিন শক্ত করে সেই হাতের অংশ চেপে ধরে।তৃপ্তির পানে চেয়ে সে হতবাক। গালে মেয়েটার অশ্রু বর্ষণ হচ্ছে।কি চমৎকার দেখাচ্ছে তাকে!আদ্রিন বাঁকা হাসে।তৃপ্তির হাতের উল্টোপিঠে অধর ছোঁয়ায় সে।অতঃপর গালে আবদ্ধ পানি পুছে বললো,

--"আমাদের মাঝে ছাড়াছাড়ির কথা উঠাও নিষিদ্ধ করলাম।আমার সত্তায় মিশে গেছো তুমি।তোমাকে আমার থেকে আলাদা করা অসম্ভব।আদ্রিনের জাদুতে ঠিকই আটকে গিয়েছো তুমি,তৃপ।নো ওয়ান ক্যান সেপারেট আস।সত্যিই মে'রে দিবো তাকে,যে আমাদের মাঝে আসার ট্রাই করবে।"

তৃপ্তি মাথা দোলায়।কি ভয়ংকর কথার সাথে সম্মতি জানিয়েছে সে,এটা বুঝলোই না মেয়েটা।বিক্ষিপ্ত সুরে সমর্থন করলো সে নিজের প্রিয়তমকে,

--"ঠিক আছে।"

বৃদ্ধাঙ্গুল ছোঁয়ালো আদ্রিন তৃপ্তির গালের পাশে।পরক্ষণে মেয়েটার কপালে নিজ অধরের স্পর্শে কিঞ্চিৎ কম্পিত হলো তৃপ্তি।আদ্রিন তার কানে ফিসফিসিয়ে জবাব দেয়,

--"এই সাপোর্টটাই চেয়েছি তোমার থেকে, মেহেবুবা।এখন আমার কোনো বাঁধা নেই আর।তোমার দিকে নজর শুধু এই আদ্রিনের থাকবে।বাকি সবার তোমার দিকে তাকানো নিষিদ্ধ করলাম আমি।"

৩৬.

বৃষ্টির বিদায়ে,আকাশে রঙিন সূর্য।সোনালী রঙের সকালটা আজ বেশ ফুরফুরে।অর্কদের পক্ষ হতে মেয়ের বাড়িতে আজ তত্ত পাঠানো হবে।সেই তত্ত নিয়ে ছোট ভাইবোনেরা যাবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।সোনালী দিনে,তৃপ্তির সত্তায় সোনালী শাড়ি জুড়ানো। পিঠ সমান চুলগুলো তার বাঁকানো আজ।চুলের মেশিনের কারসাজি সব।কানে মাঝারি সাইজের দুল পড়ে তৈরি হয়ে নিচে নামলো তার কাকাতো বোন অর্পা সমেত।সকল কাকাতো ভাই বোনেরা তৈরি।প্রিয় তাকে দেখতেই ছুটে এসেছে তার পানে।হাত খানা আঁকড়ে ধরতেই তৃপ্তি ভরপুর হাসে,

--"গোল্ডেন স্কার্ট পড়েছে আমার প্রিয়!"

প্রিয় মাথা দোলায় উপর-নিচ,

--"হ্যাঁ।দিদা দিয়েছে।"

বাড়ির সকলে উপস্থিত এইখানে।দূরে তার বাবাও দাঁড়িয়ে।কি সুন্দর হাসছে উনি দুই মেয়ের ভাব দেখে।আফসোস করে অরিত্রন।মুহূর্তেই তার চোখ জোড়া ভিজে যায়।কেনো তার বউ এমন কাজটা করলো, যার দরুণ তার সাজানো সংসার ধুলোয় মিশে আজ।

তৃপ্তি সাদা ধুতি পরিহিত বাবাকে দূর থেকেই লক্ষ্য করলো।দিনদিন শুকিয়ে যাচ্ছে তার বাবা।ইচ্ছে করে এখনই গিয়ে বাবার বুকে মুখ লুকায় সে।কিন্তু জিদে তার হাত পা আবদ্ধ।বাবা যেহুতু মায়ের রহস্য নিয়ে চুপ,তাহলে সেও তার বাবার মেয়ে।কিছুতেই মচকে যাবে না।আড়ালে আঁখির জল পুছলো সে।

--"গাড়ি এসেছে জলদি আয়।"

রুপম এসে তাড়াহুড়ো করলো।অতঃপর এক ঝাঁক ভাইবোন গাড়ির দিকে ধাবিত হয়।

গাড়িতে বসা অবস্থায় তৃপ্তি নিজের ছবি,অর্কের শ্বশুর বাড়ির ঠিকানা সবকিছুই জানিয়ে দিয়েছে। আদ্রিনেরই নির্দেশনা ছিলো।যথারীতি তৃপ্তির মেসেজের বিপরীতে আদ্রিন মেসেজ পাঠায়,

--"হুয়াট এ কো-ইন্সিডেন্স!আমি তো সেই লোকেশনে আছি।একটা সাইট দেখতে এসেছি।ইয়াকুব বিল্ডার্সের এইদিকে সবাইকে নিয়ে ঘুরতে এসো। শাড়িতে তোমাকে দেখার সৌন্দর্য উপভোগ চাই সারাসরি।"

তৃপ্তি তার মেসেজ দেখে চমকে।এই ছেলে কিভাবে তার পূর্বেই তার লোকেশনে পৌঁছে যায়?ভাবনায় মশগুল হয় তৃপ্তি।

.

--"তন্ময়,আমার গাড়ির চাবি নাও।ইয়াকুব বিল্ডার্সে চলো।ঘুরে আসি।সাইট দেখাও হয়ে যাবে।"

আদ্রিন উঠে দাঁড়ায়।চেয়ারের সাথে লেপ্টে থাকা কোট গায়ে চড়ায় সে।নির্দেশনা শেষে তন্ময়কে রেখেই কেবিনের বাইরে যেতে নিলে,ভাবুক তন্ময় গাড়ির চাবি নিয়ে তার পিছে ছুটে,

--"স্যার,ইয়াকুব সাহেব আপনার কাছেই এতদিন ঘুরছিল আর আপনি সেই সাইট দেখবেন না বলে জানিয়েছিলেন।তাহলে আজ আবার?"

--"লাভ,বুঝেছো?ভালোবাসা।তৃপ্তির জন্যে আমি না চাওয়া কাজটাও করতে যাচ্ছি।এই মেয়ে আমাকে উম্মাদ করেছে।কিছু করার নেই,তাকে দেখতে আমি সব বাঁধা পেরিয়ে যেতে পারি।"

আদ্রিন লিফটে উঠে।দরজা বন্ধ হতে চললো।কিন্তু,তন্ময় এখনো গগণ সমান চিন্তায় মগ্ন।আদ্রিনের মতো তেজী ছেলে প্রেমে এমন মশগুল!সে ক্লায়েন্টকে ইচ্ছে মত নাকানি চুবানি খাইয়ে এখন আবার সেই প্লট দেখতে যাচ্ছে!দরজা বন্ধ হতে গেলে আদ্রিন হাতের সেন্সর কাজে লাগিয়ে থামায়।গমগমে সুরে সে বলে,

--"এইট ফ্লোর থেকে সিঁড়ি বেয়ে নামতে চাচ্ছো?সময় বসে নেই আমার।আসলে আসো।"

সম্বিত ফিরে পেলো তন্ময়।দ্রুত মাথা নেড়ে সে জবাব দিলো,

--"আসছি স্যার।সরি স্যার।"

ভ্রু কুঁচকে তন্ময়ের এমন বিচলিত অবস্থা লক্ষ্য করে পুনরায় তৃপ্তির কথায় তার ভাবুক মন নেড়ে উঠলো। ইস,আর কিছু সময়ের অপেক্ষা।এরপরই তার তৃপ্তিময়ী তার সামনেই হবে।তন্ময়ের জেদী স্যার এখন হাসছে আড়ালে।স্যারের এই হাসি দেখলে নিশ্চিত মূর্ছা যেতো তন্ময়।আদ্রিনের এমন রূপ হতে বড্ড অপরিচিত তন্ময়।

.......

বিশাল ভবনে আধুনিকতার ছোঁয়া।অর্কের শ্বশুর বাড়ির সকলে বেশ মিশুক।তবে সেই জায়গায় আরাফাতকে দেখে বড্ড অবাক হয়।পড়ে জানতে পারে,আরাফাত অর্কের হবু শালার খাঁজ বন্ধু।সেথায় সকলের প্রিয় আরাফাত।আজ দুইজনের একজনও কথা বলতে এগিয়ে আসেনি।তৃপ্তি খানিক স্বস্তিও পেলো।কিন্তু আরাফাতকে দেখে মনে হলো,সে তৃপ্তিকে দেখে কিঞ্চিৎ ভীত।কিছু কি হয়েছে আরাফাতের?তার গালেও কিছু দাগ স্পষ্ট।হয়তো অ্যাকসিডেন্ট করেছে!তৃপ্তি আর ভাবেনা।আরাফাতকে নিয়ে তার চিন্তা নেই কোনো।সে সময়ের প্রহর গুনছে,কবে আদ্রিনের সাথে তার মেহেবুবা দেখা করবে!

সেখানে দুপুরের খাবারের পর ব্যাপক আড্ডা দেওয়া হলো সকলের।পূর্বের পরিকল্পনা অনুযায়ী সকলে ইয়াকুব বিল্ডার্সে যাওয়ার জন্যে তৈরী।তৃপ্তি মেসেজে জানলো আদ্রিন সেখানেই আছে।অজানা অনুভূতিতে মেয়েটার মন দুরুদুরু।

পরিচিতি থাকায় সেই জায়গায় প্রবেশ করতে কোনো ক্লান্তি ভোগ করতে হয়নি তাদের।তৃপ্তির নজর সেই লম্বা লোকটিকে খুঁজে।খানিক বাদে পেয়েও যায়।আদ্রিন কয়েকজন লোকের সাথে কথায় মত্ত।তন্ময়কে চিনে তৃপ্তি।তন্ময় তার পরিহিত কোটের উপর ভাঁজ করে আরেকটি কোট বহন করছে।নিশ্চয় তা আদ্রিনের!ধূসর রঙের শার্টের হাতা কুনোই পর্যন্ত বটে। কি সুন্দর হাত নাড়িয়ে সবটা বুঝিয়ে দিচ্ছে সে সবাইকে।চোখাচোখি হতেই আদ্রিন হাঁটার নির্দেশনা দিলো তাকে।অতঃপর তৃপ্তি পায়ের গতি থামায় না।প্রিয় আর অর্পার সাথে হাঁটছে সে।বাকি ছেলেরা সবাই সামনে।যদিও রূপম কিছুক্ষণ পরপর পিছে তাকাচ্ছে।কিন্তু তাদের ধীর পায়ের জেরে বেশ সামনে চলেছে ছেলেরা।সংরক্ষিত এলাকা হওয়ায় কেউ কারো চিন্তায় নেই।সকলে নিজের ইচ্ছে মতো ঘুরে দেখুক।

--"মেহেবুবা!"

মনকাড়া এই ডাকে থমকে দাঁড়ায় তৃপ্তি।বাকি দুজনও দাঁড়ালো।প্রিয়র সামনে হাত এগিয়ে দেয় আদ্রিন,

--"কেমন আছো,প্রিয়?"

অবাক হয়ে হাত বাড়ায় প্রিয়,

--"তুমি আমাকে চিনো?"

--"হ্যাঁ।আমি আদ্রিন।"

--"তোমার নামটা সুন্দর,ভাইয়া।"

--"ঐ ফুলের গাছের ফুলগুলো ঠিক তোমার মতো।"

আদ্রিনের ইশারায় সকলে সেদিকে তাকায়।প্রিয় র'ক্ত রঙের জবা দেখে নিতে ব্যাকুল হয়ে উঠে।আদ্রিন তন্ময়কে নির্দেশ দেয়,

--"দেখো ব্যাপারটা।"

--"জ্বী, স্যার।আসো ছোট্ট ম্যাডাম।"

তন্ময়ের পিছন পিছন প্রিয় হাঁটে।অর্পা টুকটাক জানে আদ্রিনের ব্যাপার।তাই মুচকি হেসে সেও প্রিয়র পিছন গেলো।

--"আপনি বেশ চালাক।"

মুখে হাত রেখে হাসে তৃপ্তি।

--"একটু চালাক হতেই হয়।আরাফাত কি ডিস্টার্ব করেছে তোমাকে?"

তৃপ্তি চমকায়,হচকায়।অবাক সুরে শুধায়,

--"সে এখানে..."

--"হ্যাঁ,সেদিন খবর পেলাম আরাফাতকে কে যেনো পিটিয়েছে।এরপরই তার সম্পর্কে টুকটাক খবর নিই।আজ সে এইখানে আসবে আমি সেটা জানতাম।"

--"তাহলে আমার ধারণায় ঠিক ছিলো।মাইর খেয়ে সোজা হয়েছে। তা সেই মাইর কি আপনি দিয়েছেন?"

তৃপ্তি শব্দ করে হাসে মজার ছলে।বিনিময়ে আদ্রিন পকেটে হাত গুঁজে,

--"অসম্ভব কিছু তো নয়!"

তৃপ্তি দ্রুত ফিরে আদ্রিনের পানে।কথার প্রসঙ্গ পাল্টাতে আদ্রিন কিঞ্চিৎ ঝুঁকে পুনরায় বলে,

--"শাড়িতে তোমাকে অদ্ভুত সুন্দর লাগে।বুকে ব্যথা হয় আমার। সেল্ফ কন্ট্রোল আমার বেশ স্ট্রং,তাই তুমি টিকে আছো এখনো।"

কথার ধাঁচ বুঝতে পেরে তৃপ্তি উষ্ণতা অনুভব করে। লাজে ভরপুর মেয়েটা।

--"ধুর,আপনিও না।এইখানের কাজ শেষ আপনার?"

তৃপ্তি ঘুরে দাঁড়ায়।আদ্রিন জবাব দেয় না।তার চোখ আটকে তার পিঠের নিষিদ্ধ বস্তুতে।তৃপ্তির অনাকাঙ্ক্ষিত পোশাকের স্ট্রিপ দেখা যাচ্ছে।যেটা আদ্রিনের অপছন্দ হলো মুহূর্তেই।মেয়েটা এমন বেখেয়ালি কেনো?নিজের বুকের টর্নেডোর সাথে পাল্লা দিয়ে আদ্রিন তৃপ্তির বাহু টেনে দাঁড় করায়,

--"শাড়ি পড়লে একটু হুঁশ রাখবে।যেসব জিনিস একান্ত আমার দেখার জন্যে, সেসব কেনো অন্যরা দেখবে?"

তৃপ্তি অবাকের সুরে আওড়ায়,

--"জ্বী?"

--"পিঠের কাপড় ঠিক করো।এতো হেয়ালি হলে চলে?"

তৃপ্তি ভ্রু কুঁচকে পিঠের কিনারায় হাত রাখে।অবস্থা বুঝে আঁখি ঝুঁকে ফেলে মুহূর্তেই।কাপড় ঠিক করে হাত নামাতেই,আদ্রিন তার চিবুক স্পর্শ করে মুখ উপরে তুলে।দৃষ্টি মিলে দুজনের।

আদ্রিন মিষ্টি হাসে।খানিক পূর্বের গম্ভীরভাব নেই তার মুখশ্রীতে,

--"তোমার গোছালো,অগোছালো সব রূপ কেবল আমার সামনেই প্রকাশিত হওয়ার নির্দেশনা আছে।বাকি সবার সামনে তোমার গোছানো রূপটা মানানসই।অগোছালো রূপটা একান্ত আমারই থাক।মাথায় আগুন উঠিয়ে দিলো,তোমার অগোছালো রূপটা। তুমি কেবল আদ্রিনের আগুন সুন্দরী। যার সৌন্দর্যে আমার বুকে দহনের সৃষ্টি হয়।"

চলবে.....

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৬তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন