ফন্ট সাইজ:
থিম:
অতৃপ্তির মাঝে তৃপ্তিময় সে

১৮তম পর্ব

লেখক: সালসাবিল সারা

#অতৃপ্তির_মাঝে_তৃপ্তিময়_সে

#লেখিকা- সালসাবিল সারা

পর্ব -১৮

___________________

৩৯.

--"হ্যালো আদ্রিন,আপনি কোথায়?আরাফাতকে পাওয়া যাচ্ছে না।আপনি কিছু করেননি তো তাকে?আদ্রিন কথা বলুন!"

তৃপ্তি এক নাগাড়ে কথা শেষে দম ফেললো।পরক্ষণে অপর পাশ হতে অচেনা পুরুষালি কণ্ঠ ভেসে এলো,

--"ম্যাম,স্যার মিটিংয়ে।মিটিং শেষেই উনাকে আমি জানাচ্ছি।"

ছেলেটা কথা শেষে তৃপ্তির উত্তরের অপেক্ষায় রইলো কিছুক্ষণ।কিন্তু,তার অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে তৃপ্তি ফোন রাখলো খট করেই।

মাথা কাজ করছে না তৃপ্তির।বাসা ভর্তি মানুষ।দুই পক্ষের সকলেই উপস্থিত।তবে অনুষ্ঠান থমকে আছে আরাফাত নামক মানবের কারণে।এই ছেলে আজ সন্ধ্যা হতে নিখোঁজ।সকলে ভেবেছিল ফিরে আসবে,

হয়তো কোনো কাজে ব্যস্ত।এখন অব্দি না ফেরায় তাই সকলে বিচলিত।আরাফাত অর্কের হবু বউয়ের পরিবারের বিশেষ অতিথি।সে বিহীন অনুষ্ঠানের কার্যবিধি কিভাবেই বা চলবে?এছাড়াও সকলে এখন চিন্তিত আরাফাতের জন্যেই।

আদ্রিনের কথার জের ধরেই তৃপ্তি ভাবে আরাফাতের ক্ষতি আদ্রিন করেছে।কারণ,আদ্রিনের চোখে অন্যরকম ক্রোধ দেখেছিলো সে আজ।সেদিনকার ঐ অচেনা ছেলে কেবল তৃপ্তিকে ছুঁতে চাওয়ার অপরাধে আদ্রিন তার গলায় পা বসিয়েছিল।তাহলে আজ সে কি করবে আরাফাতকে?আজ আরাফাতের অপরাধ ছিলো বড্ড ঘৃণিত।

তৃপ্তি নিজের ভারী কারুকাজ খচিত ওড়না তুলে নেয় বিছানা হতে।সে এখন বেরুবে।উদ্দেশ্য তার আদ্রিনের অফিস।তার অফিসের নাইট শিফটের ছুটি হয় রাত ৯টায়।তৃপ্তির আজ আদ্রিনের কথার সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।সে সত্যি কি মিটিংয়ে!সবকিছু মেনে নিলেও অন্যজনের প্রাণ না'শের মতো ক্ষতি করা কিছুতেই তৃপ্তি মেনে নিবে না।আরাফাত যদি সবচেয়ে জঘন্য অপরাধ করতো,ঘটনা তখন অন্য হতো।কিন্তু এইভাবে,সামান্য কাহিনীর জন্যে তাকে গুম করবে কি আদ্রিন!

নিচে সকলেই ব্যস্ত আরাফাতের খোঁজে।তৃপ্তি চামেলীকে সাত পাঁচ বুঝিয়ে ঘরের বাহির হলো।আদ্রিনের অফিস এই বাড়ি হতে বেশি দূরে নয়।রিক্সায় উঠে সে ফোন চেক করলো।সময় এখন ৮.৪০মিনিট।মিনমিন সুরে সে রিকশাচালককে শুধালো,

--"জলদি চলেন,মামা।"

আদ্রিনের অফিসের ভেতরে কখনো যায়নি তৃপ্তি।কেবল বাহির থেকেই দেখেছিল।প্রথমেই গেইটে দারোয়ান তাকে কিছুতেই প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছিলো না। পরে সে আদ্রিনকে ফোনে না পেয়ে তন্ময়কে ফোন করে।তন্ময় তৃপ্তিকে দুঃখিত বলে দারোয়ানকে ফোন দিতে বলে। তন্ময়ের বক্তব্য শুনে,মুহূর্তেই দারোয়ান মাথা নিচু করে ক্ষমা চায় তৃপ্তির নিকট।তবে তৃপ্তি অপেক্ষা করলো না।অনুমতি পেয়েই ভেতরে ছুট লাগালো ।

এইভাবে ভারী বেশভূষায় তৃপ্তিকে দেখে অফিসের বেশিরভাগ কর্মচারী হতভাগ।রিসিপশনের সামনে এসেই দম ফেলে তৃপ্তি,

--"আদ্রিন আছেন?"

রিসিপশনিস্ট মেয়েটা কিঞ্চিৎ অবাক হয়,

--"স্যার মিটিংয়ে।"

--"কোন ফ্লোরে?"

--"সরি ম্যাম,যাওয়া যাবে না এখন।আপনি বসুন প্লিজ।"

বিরক্তিতে তৃপ্তি "চ" উচ্চারণ করে।তড়িঘড়ি করে আবারও তন্ময়কে ফোন করলো।তন্ময় ফোন ধরতেই বিক্ষিপ্ত কণ্ঠে তৃপ্তি আওড়ালো,

--"আদ্রিন কোন ফ্লোরে আছে?"

--"ম্যাম,আপনি ঠিক আছেন?"

--"আপনারা কোন রুমে মিটিং করছেন?আপনি ফোন ইউজ করছেন,আপনার স্যার কেনো করছেন না?"

তৃপ্তির রাগের পরিমাণ বাড়ছে।

--"আমি বাহিরে,ম্যাম।আপনি রিসিপশনিস্টকে ফোন দিন।আমি উনাকে বলছি।"

তন্ময় অনুরোধ করলো।তৃপ্তিও তার কথা অনুযায়ী কাজ করলো বিনা প্রশ্নে।

অতঃপর একজন স্টাফ তৃপ্তিকে মিটিং রুমের সামনে নিয়ে এলো।তৃপ্তি মিটিং রুমের ওয়েটিং জোনে অপেক্ষারত। বারংবার ঘড়ি দেখছে সে।মিটিং শেষ হয় ৯.৩০এ।একে একে সকলে বেরিয়ে আসছে।তৃপ্তির নজর এক বিন্দু হেরফের হয়নি সেই মিটিং রুমের দরজা হতে।সত্যি কি আদ্রিন ভেতরে!মিনিট এক বাদেই আদ্রিনের অবয়ব ভেসে এলো।চোখ পিটপিট করে তাকায় সে। সত্যিই আদ্রিন।সে যদি মিটিংয়ে থাকে তাহলে আরাফাত কই গেলো?নাকি সবটাই ধোঁয়াশা?

আদ্রিন বের হতেই তাকে ম্যানেজার মোবাইল এগিয়ে দিয়ে ওয়েটিং জোনের দিকে ইশারা করলো।

দুইজনের নজর মিলতেই ভ্রু কুঁচকে আদ্রিন ওয়েটিং জোনে আসলো দ্রুত পা চালিয়ে।তৃপ্তি উঠে।প্রথমেই আদ্রিন তার হাত চেপে তালুর ক্ষত পর্যবেক্ষণ করে। ক্ষতের অবস্থা মুটামুটি।ঔষধের ছাপ স্পষ্ট।

--"হঠাৎ এইখানে এসেছো!"

--"আরাফাত কই?"

তৃপ্তির সোজা প্রশ্ন।

আদ্রিন ভ্রু কুঁচকে তাকায়।তৃপ্তির হাতের উল্টো পিঠ নিজের গালে ঘষে জবাব দেয়,

--"আমি কিভাবে বলবো?"

--"আপনি আজকে হুমকি দিলেন,তার আঙ্গুল না থাকলে কেমন হবে,এই সেই?আরাফাত এখনো নিখোঁজ।তার জন্যে অনুষ্ঠান থেমে।দেখুন,আমি জানি আপনি রেগে।কিন্তু তাই বলে আইন মানবেন না!তাকে পুলিশে...."

--"আরে!সমস্যা কি তোমার?আমি কিছুই করিনি।দেখলেই তো মিটিং থেকে বেরুলাম এখন।তাকে কিছু করার জন্যে পেলাম কই?সে তো হাওয়া অনেক আগে থেকেই।তন্ময় সেই অনেক আগে থেকেই খোঁজ করছে,পায়নি তাকে। স্টিল তন্ময় আমাকে কল করেনি।"

আদ্রিন কিছুটা পিছু হটে সোফায় বসলো।দৃষ্টি তার গম্ভীর।তৃপ্তি সেই ছেলের জন্যে অফিসে এসে উপস্থিত হবে,এই খবরটা হজম হয়নি তার।

তৃপ্তি ভাবনায় মশগুল।আদ্রিনকে সে বেশি শুনিয়ে ফেলেছে?আদ্রিন বলছেই সে কিছু করেনি।এছাড়াও তৃপ্তি দেখেছে আদ্রিন মিটিংয়ে ছিলো।পরক্ষণে তার মাথায় এলো, তন্ময় আরাফাতের খোঁজে!এরমানে আদ্রিন তার কথা পালন করতে উদ্যত ছিলো!

--"তন্ময় খুঁজছে মানে?আপনি ঠিকই আরাফাতের আঙ্গুল রাখতেন কি?"

তৃপ্তির মুখে আরাফাতের নাম মোটেও পছন্দ হচ্ছে না আদ্রিনের।সে হাতের ইশারায় কাছে ডাকলো তৃপ্তিকে।নির্দেশনা অনুযায়ী তার সামনে অগ্রসর হয় মেয়েটা।আদ্রিন সোফায় গা এলিয়ে দেয়।আচমকা তৃপ্তির কব্জি টেনে তাকে নিজ কোলে বসায় আদ্রিন।হচকিয়ে যায় তৃপ্তি।মুহূর্তেই যেনো অগ্নিকুন্ডে ঝাঁপ দিয়েছে সে!

আদ্রিন তার শার্টের দুটো বোতাম খুলে।বুকে ফুঁ দিয়ে তৃপ্তিকে বলে,

--"ক্লান্ত লাগছে।বেশি কথা বলছো তুমি।মাথা ম্যাসাজ করে দাও।"

তৃপ্তি বিমূঢ়।বিস্ফোরিত নজরে কাঁচের দরজার বাহিরে তাকায়।কেউ নেই।কোনো শব্দও নেই।তাও সে দিরুক্তি করে। মেয়েটা উঠতে নিলে আদ্রিন হাতের বাঁধন আরো শক্ত করে। এতে আদ্রিনের কাঁধে চিমটি কাটে তৃপ্তি,

--"আরে করছেন কি?কেউ এসে পড়বে?"

--"আমার নির্দেশনা অনেক আগেই দেওয়া হয়েছে।কেউ আসার দুঃসাহস করবে না।দেখি আমার দিকে তাকাও।এতো সেজেছো কেনো?ভালো লাগছে না আমার।"

তৃপ্তি কলারে হাত রাখে আদ্রিনের।তাকে কি বাজে লাগছে দেখতে!

--"আমাকে বাজে লাগছে দেখতে?"

--"বাজে!তোমাকে দেখে আমার মনটায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।নিষিদ্ধ ইচ্ছারা কিলবিল করছে।কিভাবে যে সামাল দিই!"

আদ্রিনের অধরে সুন্দর হাসি।তার সামনের দুটো দাঁত একটু বসানো।এর কারণেই তার হাসিটা কেমন মনোমুগ্ধকর!আদ্রিনের পরিপাটি চুলে হাত ছোঁয়ালো তৃপ্তি।আবেশে আদ্রিন চোখ বুঁজে।তৃপ্তির মনে এক অন্যরকম ইচ্ছে জাগলো।ছেলেটার গালে নিজের অধর ছুঁয়ে দেওয়ার ইচ্ছা।অগ্রসর হচ্ছিলো সে,ততক্ষণে তার মস্তিষ্ক এইসব বর্জন করলো নিমিষেই!

৪০.

তৃপ্তি নিজেকে সামলে নিলো।আরাফাতের ব্যাপারটা আদ্রিন কৌশলে এড়িয়ে যাচ্ছে এটা বুঝতে বেগ পেতে হয়নি তৃপ্তির।

হুট করে সে আদ্রিনের কোল থেকে নামতে চাইলে আদ্রিন বিরক্তির সুরে তাকে বললো,

--"একটু শান্তিতে বসে আছি।বসতে দাও না!"

--"আপনি বলুন,আরাফাত কই?"

--"আরেকবার ঐ ছেলের নাম নিলে আমি নিজেকে আর সামলাবো না।যেটা করিনি সেটাই করবো তার সাথে!"

আদ্রিনের গলার স্বর গম্ভীর।তার এই কণ্ঠস্বর তৃপ্তি ভয় পায়।চুপ করে যায় তৃপ্তি সাথে সাথেই।

আদ্রিন কিছু বলতে নিলে তৃপ্তির ফোন বেজে উঠে।বাড়ির ফোন দেখে তৃপ্তি আদ্রিনকে ইশারায় চুপ করতে বলে।

--"আরাফাত হাসপাতালে?অবস্থা বেশ শোচনীয়?এক্সিডেন্ট হয়েছে?.......

ঠিক আছে,আমি আসছি।"

--"কি হয়েছে?"

আদ্রিন ক্লান্ত সুরে প্রশ্ন করে।

--"পাওয়া গিয়েছে বেয়াদপটাকে।সে হাসপাতালে।এক্সিডেন্ট হয়েছে শুনলাম।একদম ভালো হয়েছে।আমার সাথে অপরাধের ফল আল্লাহ্ দিয়েছে।"

তৃপ্তির মতিগতি আদ্রিন বুঝলো না।এতক্ষণ না এই মেয়েই আরাফাতের ক্ষতি করেছে বলে আদ্রিনকে কথা শুনিয়ে যাচ্ছিলো!আর এখন তারই এক্সিডেন্টের খবর শুনে খুশিতে গদগদ করছে?

--"একটু আগে ঐ ছেলের ক্ষতি করেছি বলে আমাকেই দোষ দিচ্ছিলে।আর এখন হাসছো?"

আদ্রিন সন্দেহভাজন ভঙ্গিতে প্রশ্ন করলো।

--"আরে,আমি দোষ দিচ্ছিলাম আপনাকে;কারণ আমি চাই না ঐ নোংরা ছেলের ক্ষতি করে নিজেকে অপরাধী বানান আপনি।তাই আপনার জন্যেই চিন্তা করছিলাম আমি,আরাফাতের জন্যে নয়।"

তৃপ্তি হাসে।

নিজের প্রতি তৃপ্তির যত্ন দেখে মনটা ব্যাকুল হয় মানবের।তৃপ্তির গালে নাক ছুঁয়ে সে বলে,

--"এতো ভাবনা আমাকে নিয়ে!সামলাতে পারছি না নিজেকে,মেহেবুবা।"

তৃপ্তি দ্রুত উঠে দাঁড়ায়,

--"বাড়ি ফিরতে হবে।জলদি যায়।"

তৃপ্তি ওড়না টেনে মাথায় দিলো।আদ্রিন উঠে আড়মোড়া ভাঙে,

--"আজ আমার কাজ অন্যজন করেছে বলে আমার রাগ হয়নি।বরং ভালো লেগেছে।আমার তৃপ যে আমার উপর সন্তুষ্ট হয়েছে।আসো,ড্রপ করে দিই তোমাকে।"

তৃপ্তির ওড়নার উপরেই অধর ছোঁয়ায় আদ্রিন।আরাফাতকে সে ছাড়বে না।সে সুস্থ হলেই তার করা পাপের শাস্তির হিসেবে পূর্বেই হিসাবটা ঠিক রেখেছে আদ্রিন।আরাফাতের হাতে আঙ্গুল সহ্য হবে না তার।প্রেয়সীর হাত চেপে সে তার হিংস্র চিন্তায় ব্যস্ত।

.

মাথায় ক্যাপ,মুখে মাস্ক।কালো রঙের ফুল হাতা গেঞ্জি।কালো জিন্সের সামনের দু পকেটে হাত ঢুকিয়ে নিশ্চিন্ত মনে হাঁটছে আদ্রিন।আরাফাতের সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে হাসপাতালে আসে সে।তন্ময় তার আগে হাঁটছে।

যদিও জানে আরাফাতের সাথে এখন কথা বলা সম্ভব নয়,তাও সে আরাফাতের অবস্থা দেখার জন্যে ছটফটে।তন্ময় বলেছে তার পরিকল্পনা অনুযায়ী'ই গাড়ির চাকা আরাফাতের হাতের পাঁচটি আঙ্গুলের হাড় ভেঙেছে।ভাবুক আদ্রিন এই কাকতালীয় ঘটনায় জর্জরিত আরাফাতকে শাস্তি দিবে না বলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।কারণ,হাতের আঙুলে শাস্তি তার হয়ে সেই গাড়ি চালকই দিয়েছে তাকে।তবে,এখন আদ্রিনের আফসোস হচ্ছে,নিজের কাজটা অন্যজন করায়।

আরাফাতের কেবিনের সামনে ফাঁকা।তার দেখা শোনা করার লোক হয়তো ভেতরেই।দরজায় লাগানো গোল কাঁচের অংশে দৃষ্টি দিলো আদ্রিন। বেডে শায়িত আরাফাত।তার মাথায় এবং দুই হাতেই ব্যান্ডেজ!পাশের চেয়ারে তার কোনো পরিজন বসে।আদ্রিনের কোনো অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ হয়নি।কেবল আফসোস হচ্ছে আরাফাতের এই অবস্থা কেনো তার জন্যে হলো না!

বিপরীতে ফিরে বাহিরে আসার জন্যে উদ্যত আদ্রিন এবং তন্ময়।হঠাৎই তন্ময় মুখ খুললো,

--"আরাফাতের আত্মীয়ের সাথে আমি পাশের কেবিনের আত্মীয় সেজে কথা বলেছিলাম।উনি বললেন তার ভাইপোকে কেউ একজন অনুষ্ঠানে যাওয়ার পূর্বে ফোন করে ডাকিয়েছিলো।নামটা বলার আগেই আরাফাত জ্ঞান হারায়।কে এমন কাজটা করলো বুঝলাম না।"

--"তাহলে এটা পরিকল্পিত ছিলো।আর এত জায়গা থাকতে হাতের উপরের চাকা গেলো!তাও আমার প্ল্যান অনুযায়ী?ব্যাপারটা আমার হজম হচ্ছে না।কেউ চায়,তৃপ্তি আমার ব্যাপারে খারাপ বুঝুক।আমি কতো হিংস্র এইসব দেখুক!যে এমনটা করেছে,তার ধারণা অনুযায়ী তৃপ্তি ঠিকই তো এসেছিল আমার কাছে।সত্যিটা যাচাই করতে।তবে প্ল্যানকারি বিফল হয়েছে।"

আদ্রিন ক্যাপ,মাস্ক খুললো।গাড়ির সামনের অংশে বসে সে।

--"স্যার,আপনার উপর কেউ নজর রাখছে হয়তো!"

--"নজর রাখার হলে রাখুক।এটা আম্মির কাজ।কিন্তু, আমি তৃপ্তিকে আরাফাতের শাস্তির কথা বলেছিলাম গাড়িতে।এরপর তাকে নামিয়ে বাসায় গিয়েছিলাম।সাদা গাড়িটা রেখে এই গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছি বিনা চিন্তায়।এইভাবে আমি এই গাড়িটা কম ব্যবহার করি।"

আদ্রিনের কপালের রগ ফুলে উঠছে ক্রোধে। যা বোঝার সে বুঝেছে।তার গাড়িতেই কেউ হিডেন মাইক্রোফোন সেট করেছে। যার দরুণ আদ্রিনের পরিকল্পনা অনুযায়ী আরাফাতের অবস্থা এমন। যাতে তৃপ্তি বুঝে,আদ্রিন মুখে যতটা হিংস্র কাজে তার চেয়েও বেশি!আর এই জিনিসটা সম্পর্ক নষ্ট করতে যথেষ্ট।

ঘাড়ের ছোট চুলে হাত বুলায় আদ্রিন।তন্ময়কে বলে,

--"গাড়ির ডেস্কে রাখা রিভলবারের বুলেট চেক করো।"

--"কেনো স্যার?"

আতঙ্কিত তন্ময়।

--"আম্মির কথায়,আমার কাছের একজন আমার সাথে বিশ্বাস ঘাতকতা করেছে।তাদের দুজনকে একটু শিক্ষা দিবো।তাদের এই জঘন্য প্ল্যানে আমার আর তৃপ্তির সম্পর্কের কিছুই হয়নি,অথচ দেখো ক্ষতি হবে বিশ্বাস ঘাতকের। আম্মি আমাকে একটু হালকাতে নিয়েছে।এই হালকা ঠিক কতো ভারী হবে এটাই দেখাবো আজ। এই আরকি ঘটনা।কেনো বুঝে না সবাই,আদ্রিন তার মেহেবুবার জন্যে উন্মাদ,দেওয়ানা।চেক দা রিভলভার,তন্ময়!"

আদ্রিনের শেষ বাক্যটায় তন্ময়ের শরীরের উত্তাপ বাড়িয়ে দিলো।

চলবে.....

।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৮তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন