#অতৃপ্তির_মাঝে_তৃপ্তিময়_সে
#লেখিকা- সালসাবিল সারা
পর্ব -২২
___________________
৪৯.
প্রেয়সীর রাতভর জ্বরের কা'ত'রতা সহ্য করেছে আদ্রিন। ভোরের আলো ফুটলে তখনই মেয়েটার জ্বর কমে।চিন্তিত আদ্রিন তার পাশেই বসা অবস্থায় ঘুমিয়ে।এক হাত এখনো তৃপ্তির কপালে ঠেকানো তার।জলপট্টি দিয়েই জ্বর কাবুতে এনেছিল আদ্রিন।কেমন ব্যাকুল হচ্ছিলো সে বারংবার।নিশিকালে তীব্র ঝড়ো হাওয়ায় এবং বর্ষণেও ছেলেটা হয়তো তার মেহেবুবার জন্যে ডাক্তারের খোঁজ করতেও পিছপা হতো না।যদি না এর পূর্বে জ্বর নিয়ন্ত্রণে না আসতো!
জ্বরে ক্লান্ত,বিষাদগ্রস্ত তৃপ্তি।গায়ের টিশার্ট ঘামে জবজব।জ্বর ছাড়ার ফলাফল। ক্ষীণ আলোয় কক্ষ জ্বলজ্বল।ক্লান্ত দৃষ্টি তার সরাসরি জানালায় স্থির।পর্দার আড়ালে সোনালী রোদ যেনো গত রাতের ঝড়কে বুড়ো আংগুল দেখাচ্ছে।
তার দৃষ্টি সোফায় যেতেই হচ'কালো কিঞ্চিৎ।আদ্রিন অনুপস্থিত।পরক্ষণে নিজের কপালে ভারী ভাব অবলোকন করতেই পাশ ফিরলো সে। মুহূর্তেই মন পিঞ্জিরা হরতালের আহ্বান জানায়।তার মনের ঘাতক তার সন্নিকটে বসে।গভীর তন্দ্রায় নিমজ্জিত।নিঃশ্বাসের গতি দেখে মনে হয়, বেশ ক্লান্ত তার প্রেমিক পুরুষ।
রাতে ঘুমানোর পর কিছুই মনে নেই তৃপ্তির।তবে,শরীর জুড়ে তার অস্থিরতা,ক্লান্তি।আদ্রিনের হাত সরিয়ে নেয় কপাল হতে।দুহাতের মুঠো তার ঘুমন্ত প্রেমিকের ভারী হাতকে কাবু করতেই নাজেহাল অবস্থা।মলিন হাসে মেয়েটা।অতঃপর দুর্বল হাতে তুলে সেই শক্ত হাতের মাঝে নিজের অধর ছুঁয়ে দেয়।মনের নি'ষিদ্ধ ইচ্ছার সঞ্চনরণ।পাশ ফিরে আদ্রিনের কোমর জড়িয়ে ধরার জন্যে ব্যাকুলতা বাড়ছে তার।
কিন্তু,নিজেকে ধাতস্থ করলো তৃপ্তি।নি'ষিদ্ধ ইচ্ছাটা মনেই হলো পিন্ড।ঘাড় কাত হয়ে থাকার দরুণ আদ্রিনের চুলের কিছু অংশ হেলে পড়েছে একপাশে।সেই পাশের ট্রিম করা ছোট চুল দেখায় যাচ্ছে না। তৃপ্তির আদুরে লাগলো ব্যাপারটা।টি শার্টের বাহিরে বিদ্যমান বাহুতে এক আঙ্গুল দিয়ে কিছুক্ষণ আঁকিবুকি করলো তৃপ্তি।ছেলেটার খবর নেই। নিদ্রাসক্ত সে।
খানিকক্ষণ সময় প্রিয়তমকে পর্যবেক্ষণ করে কাটলো তৃপ্তির। তবে, এখন বাথরুমে যাওয়া জরুরি।ধীরে উঠতে গিয়ে ব্যাঘাত ঘটে। দুর্বলতার দরুণ তার শরীর টলমলে। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হেলে পড়লো সে আদ্রিনের উরুর উপর।
তাৎক্ষণিক নিদ্রাভাব কাটে আদ্রিনের।বিচলিত কণ্ঠে আওড়ায়,
--"তৃপ্তি?ঠিক আছো?"
কপালে আঙ্গুল চেপে তৃপ্তি ধীর কণ্ঠে শুধায়,
--"হু।সরি,ঘুম ভাঙিয়ে দিলাম।"
তৃপ্তির চুলের ভাঁজে আঙ্গুল দ্বারা স্পর্শ করে আদ্রিন,
--"হুশ।খারাপ লাগছে?"
--"নাহ।আপনি ঘুমান প্লিজ।আপনাকে ক্লান্ত দেখাচ্ছে।রাতভর জেগে ছিলেন কি?"
দূর্বল কণ্ঠ তৃপ্তির।
--"জ্বর ছিলো তোমার।আমি কিভাবে ঘুমায়?ওয়াশরুম যাবে?নিয়ে যাবো?"
উবু হয়ে থাকা আদ্রিনের গালে হাত ছোঁয়ালো তৃপ্তি,
--"সবকিছু বুঝে যান কিভাবে?আপনার উপর নির্ভর হয়ে গেলে তো সমস্যা।মহা সমস্যা।"
--"তোমার সমস্যার সমাধান আমি।দেখি।উঠো।"
তৃপ্তির ঘাড়ের নিচে হাত রেখে উঠে বসায় তৃপ্তিকে।পরক্ষণে তৃপ্তি আদ্রিনকে আঁকড়ে ধরে ওয়াশরুমে যায়।আদ্রিন দাঁড়িয়ে বাহিরে।দেওয়ালে মাথা ঠেকিয়ে।আরেক চোট ঘুমানো খুব দরকার তার।মিটিং আছে দুপুরে।বড় একটা ডিল।অনেক খাটুনির প্রয়োজন।
তৃপ্তি বেরোয়।আদ্রিন তাকে আগলে বসায় বিছানায়।ভেজা মুখে তাওয়াল স্পর্শ করে আদ্রিন বলে,
--"শাড়ি পড়ে নাও।পারবে পড়তে?"
--"শাড়ি? ভিজে ছিলো না?"
তৃপ্তি অবাক।
--"হ্যাঁ।রাতে সার্ভেন্ট ছিলো একজন।উনাকে দিয়ে ঠিক করিয়েছি সব।শাড়ি শুকনো অ্যান্ড ভাঁজ করা আছে।আমি ফ্রেশ হয়ে আসি।"
তৃপ্তি মাথা নাড়ায়।
কিছুক্ষণ বসে তৃপ্তি শাড়ি পড়তে উদ্যত হয়।মুটামুটি পারলেও একেবারে পরিপক্ক হয় না তার শাড়ি পড়াটা।তাও,গতি নেই আজ।পড়তেই হবে।যেভাবে হোক।তৃপ্তি ধীর হাতে আন্দাজ করে ঠিকই এগিয়ে যাচ্ছে।তবে বিপত্তি ঘটলো কুচি নিয়ে।দূর্বল হাতে কিছুতেই কুচির ঠিকানা সঠিক হচ্ছেই না।এর মাঝেই আদ্রিন এলো অন্য রুম হতে।একেবারে পরিপাটি সে।যাওয়ার পূর্বে অবশ্য নিজের কাপড় নিয়ে গিয়েছিলো সে।
তৃপ্তি কুচির কথা ভুলে অদ্ভুত নজরে চেয়েই রইলো তার প্রেমিক পুরুষের পানে।লোকটা কেনো এত আকর্ষণীয়?বুকে জ্ব'লন সৃষ্টি হয় তৃপ্তির।
তৃপ্তির অবস্থা অবলোকন করে আদ্রিন শুধায়,
--"শাড়ি পড়োনি এখনো!"
--"কুচিটা পারছি না।হাত কাঁপে।সার্ভেন্ট আছে?ডেকে দিন না।"
ইতস্তত বোধ করে জানায় তৃপ্তি।
বাঁকা হাসির ছড়ক দেখা মিলে আদ্রিনের অধরে,
--"আমি আছি।লেট মি ডু ইট। এইভাবেও পরে এইসব জিনিস আমাকেই করতে হবে।আদর্শ হাজবেন্ড হবো বলে কথা!"
--"আমি পারি।কিন্তু,এইযে হাত কাঁপছে!"
--"পারলেও সমস্যা নেই।আমার সামনে না পারার ঢং করবে।কেমন?"
তৃপ্তি কিছু বলতে চায়। এর পূর্বে আদ্রিন তৃপ্তির সম্মুখে বসে পড়ে।আদ্রিন আমতা আমতা করছে খানিকটা।এই কাজ ইহকালে করেনি।তারপরও কুচির ধার ঠিকভাবে আয়ত্তে আনার বৃথা চেষ্টা করছে।
হঠাৎই তার চেষ্টায় বিপত্তি ঘটে।তৃপ্তির উদরের দিকে খানিকটা শাড়ি সরে যায়।দৃশ্যমান হয় শুভ্র উদর।পাশে একটা লাল রঙা তিল হবে হয়তো!দৃষ্টি সেথায় স্তব্ধ।ভেতরকার সত্তা জেগে উঠে একটিবার সেথায় ছুঁয়ে দিতে।
হৃদয়খানা পুড়ে ছাই।দৃষ্টি ঘুরিয়ে দ্রুত উঠে পড়ে আদ্রিন,
--"এইসব হবে না আমার দ্বারা।"
--"আরে হচ্ছিলো তো।আরেকটু চেষ্টা করবেন প্লিজ?"
তৃপ্তি অনুরোধ করে।
--"আরেকটু চেষ্টা করলে,তোমার কাছে আমি সর্বোচ্চ অসভ্যতে পরিণত হবো।কিন্তু,আমি তা চাই না।আমি চাই,আমি একান্তই তোমার হালাল অসভ্য হয়ে থাকি।পাঠাচ্ছি কাউকে।"
আদ্রিন হুড়মুড় করে কক্ষ ত্যাগ করে।
ভাবুক তৃপ্তি ভাবতেই রইলো।কাহিনীটা তার আন্দাজের বাইরে।
৫০.
পরিপাটি হয়ে ডাইনিং এ যায় তৃপ্তি।পুরো পথ সার্ভেন্টই আগলিয়ে রেখেছিলো।আদ্রিন তার জন্যে খাবার বাড়ে।সে বসতেই এক টুকরো ডিমে ভাজা পাউরুটি মুখের সম্মুখে ধরে,
--"হা করো।"
তৃপ্তি খায়। এইভাবেও তার খিদে লেগেছে প্রচুর।খাওয়ার পর্ব শেষে বেসিক কিছু ঔষধ খাওয়ায় সে তৃপ্তিকে।পরিচিত এক ডাক্তার থেকে এই পরামর্শ জেনে নেয় তৃপ্তির প্রেমিক পুরুষ।
আদ্রিন তার মোবাইলে ব্যস্ত। মিটিংয়ের সব রিচেক করছে।তন্ময় ড্রাইভ করবে।তাই আপাতত তারা তন্ময়ের অপেক্ষায়।তৃপ্তি সোফায় বসে রইলো চুপচাপ।ভেতরকার অন্তর জ্বালাপোড়া করছে।মন বলছে আজ খারাপ কিছু হবে।আদ্রিনকে কি জানাবে সে এই অস্থিরতা সম্পর্কে?নাহ।ছেলেটা তার কাজে মশগুল।নিশ্চয় বড় কোনো কাজ আছে তার।তাকে বিরক্ত না করায় শ্রেয়।
মিনিট দশেক পরে একজন গার্ড উপস্থিত হয় লিভিংরুমে।নরম সুরে বলে,
--"অরিত্রন চট্টোপাধ্যায় নামের একজন এসেছে।ভেতরে আসতে বলবো কি?"
--"ইয়াহ।"
আদ্রিন জবাব দিয়ে পুনরায় মোবাইলে মগ্ন।
তৃপ্তি নড়ে উঠে।বাবা এসেছে!কি করবে এখন বাবা? জড়তায় তার দুর্বলতা বাড়ে।আদ্রিনকে ডাকতে চায়।কিন্তু,গলার আওয়াজ যেনো ফুরিয়েছে।আদ্রিন লক্ষ্য করে সবটা।তার প্রেয়সীর ব্যাকুলতা তার নজরে স্পষ্ট।আদ্রিন তার পাশে বসে নির্বিঘ্নে।মাথায় হাত স্পর্শ করে,
--"টেনশন করো না।আমি আছি।"
--"বাবা!"
ভয়ে আড়ষ্ট সে।
--"কিছু করবে না।"
--"ভয় হচ্ছে খুব।"
--"আমি আছি তো,জান।"
আদ্রিনের কথায়ও শান্তি পেলো না মেয়েটা।কেমন যেনো বুকে হাহাকার।ঠিক,খুব খারাপ কিছু হবে হয়তো!
--"তৃপ্তি!তোর এতো সাহস, বান্ধুবিকে দিয়ে মিছা কথা বলিয়ে এইখানে রাত কাটিয়েছিস?"
অরিত্রন বেশ রেগে।
--"রাত কাটিয়েছে বলতে আপনি কি খুব বাজে জিনিসটা মিন করছেন?আমার মাঝে নায্যবোধ আছে,মিস্টার অরিত্রন চট্টোপাধ্যায়।"
আদ্রিনের কথায় ব্যাপক আলোড়ন।
ভরকে যায় তৃপ্তির বাবা।সেদিকে লক্ষ্য করে পুনরায় আদ্রিন বলে,
--"হ্যাভ এ সিট।আপনার মেয়েরই বাড়ি হবে এটা।আমি আপনার মেয়ের ফিউচার ফ্যামিলি।"
অরিত্রন রেগে অস্থির।সে বসবে না বলে স্থির।
তৃপ্তি ভয়ে,শঙ্কায় আদ্রিনের শার্ট চেপে।আসলেই ব্যাপারটা অন্যদিক দিয়ে ভাবলে যে কেউ বাজে ভাববে।একা বাড়ীতে আদ্রিনের সাথে থাকাটা তার উচিত হয়নি।দুনিয়াকে হাজার বুঝালেও,বুঝবে তারা ঠিক উল্টোটা।
--"তৃপ্তি উঠে আয়।এই ছেলের সাথে কোনো সম্পর্ক রাখতে বারণ করেছি না?"
--"বারণ তৃপ্তি শুনলেও আমি শুনবো না।আমার আম্মি আমাকে থামাতে পারেনি,সেখানে আপনি আমার কাছে কিছুই না।আমার ভবিষ্যৎ ফ্যামিলি তৃপ্তির বাবা আপনি,তাই ব্যবহার ঠিক রেখেছি।"
আদ্রিন এক আঙ্গুল কপালে ঘষে।
--"তোমার মায়ের থেকে পারমিশন নিয়ে এরপর আমার মেয়ের কাছে আসবে তুমি।তোমার মা যতদিন পর্যন্ত নিজে না এসে আমার মেয়ের হাত চায়,ততদিন আমি তোমাদের সম্পর্কে রাজি হবো না।"
অরিত্রন চট্টোপাধ্যায় একসুরে বলে।
--"আই লাইক ইট,আঙ্কেল।সোজাসাপ্টা কথাটা আমার পছন্দ হয়েছে।হুম, ডান।আমি আম্মিকে নিয়ে আপনাদের বাসায় আসবো শীঘ্রই।ততদিন আমার মেহেবুবা আপনার দায়িত্বে।ভুল বশত গতকালের মতো সে যেনো কোনো আঘাত না পায়।নাকের দিকটায় কেটেছিল তার,আপনার ঘড়ির আঘাতে।একটু সাবধান হবেন।"
কথার পিঠে আদ্রিন হাতঘড়ি দেখে।সাথে সাথেই তন্ময়ের মেসেজ।সে এসেছে।আদ্রিন উঠে দাঁড়ায়।অরিত্রন তৃপ্তিকে ধরে উঠাতে নিলে ব্যালেন্স হারায় সে পায়ের।আদ্রিন তার বাবার কাছ হতে এক প্রকার ছিনিয়ে নেয় তৃপ্তিতে,
--"জান,ঠিক আছো?"
অস্ফুট শব্দ করে তৃপ্তি কেবল।
--"ও এমন দূর্বল কেনো?"
অরিত্রনের চোখে চিন্তা স্পষ্ট।
--"জ্বর ছিলো সারারাত।ডাক্তার দেখিয়ে নিবেন।ওকে কোনো রকম প্রেসার দিবেন না।দেখে রাখবেন।"
আদ্রিন পরপর কোলে তুলে নেয় তৃপ্তিকে।অসহায় তৃপ্তির গায়ে জোর নেই।সত্যি ডাক্তার দেখানো প্রয়োজন তার। আদ্রিনের বুকে লেপ্টে রইলো সে।ফিসফিসিয়ে বললো,
--"আমাকে নিজ থেকে দূরে সরিয়ে দিবেন না কখনো।"
হাঁটা অবস্থায় তার কপালে অধর স্পর্শ করলো আদ্রিন,
--"অপেক্ষা করবে।আমি আসবো আম্মিকে নিয়ে।সুস্থ হয়ে উঠো ততদিনে।"
অরিত্রন তাদের পিছু পিছু আসছে।ইনায়ার ছেলে ইনায়ার মতো নয়।সে ভেবেছে তার মেয়েকে আদ্রিন মায়ের কথার জেরে প্রতিশোধ নিতে ভালোবাসার নাটক করেছিল।কিন্তু,এই আদ্রিন আর তার মেয়ের প্রতি এমন ব্যাবহার দেখে সে কিঞ্চিৎ দোটানায় ভুগছে।মনে মনে করা পরিকল্পনার সাথে বড্ড হিমশিম।তার মেয়েও যে এই ছেলেটা মগ্ন তা বুঝতে দেরি হলো না।কিন্তু,বাবার মন তো।ভুলিয়ে দিচ্ছে সবটা।ইনায়ার কাছে সারাজীবনের জন্যে মেয়েকে দিবে এটা ভাবতে ভেতরটা শূন্য লাগছে তার।সিদ্ধান্ত নিলো মেয়ে যেটা বলবে সেটাই শুনবে সে।এতো বছর পরে মেয়েকে নিজের সাথে নিচ্ছে তাও মেয়ে নিজ থেকে চুপ।এর মানে মেয়েটা তার বাবাকে ভুল বুঝবে না আর!
--"আঙ্কেল,আমি বিশ্বাস করছি আপনাকে।আমার তৃপ্তিকে দেখে রাখবেন।এখন সে আপনার ফ্যামিলি।কিন্তু,তাকে আমার ফ্যামিলি মেম্বার করার স্বপ্ন দেখছি।অ্যান্ড,সেটা আমি পূরণ করবোই।উল্টোপাল্টা কিছু করতে যাবেন না।আমি আমার অন্য রূপ আপনাকে দেখাতে চাই না,বিলিভ মি।এই মেয়েতে আমার প্রাণ আটকে।"
নিজ বক্তব্য শেষ করে গাড়ির জানালা অল্প ঝুঁকে তৃপ্তির মাথায় হাত স্পর্শ করে আদ্রিন,
--"সাবধানে থেকো।"
--"আপনিও।"
মলিন হাসে আদ্রিন তৃপ্তির কথায়।
বিনা বাক্যে আদ্রিন নিজ গাড়ির দিকে এগোয়। পিছন ফিরলে হয়তো সে তৃপ্তির ছলছল দৃষ্টি দেখতে পেতো।চেয়েও মেয়েটা নিজেকে ধাতস্থ করতে পারছে না।ভয়ংকর ভাবনা মনে জেঁকে।ধীরে ধীরে দুই গাড়ি দুই গন্তব্যে ছুটলো।
.
মিটিং শেষ।রাত প্রায় বারোটা। ডিল ফাইনাল সহ যাবতীয় সব কাজ সকলকে বুঝিয়ে আদ্রিন এবং তন্ময় মাত্রই রওনা দিলো।কিছুদূর এগোতেই লুকিংগ্লাসে বড় দুইটা সফেদ রঙের গাড়ি দেখতে পায় তন্ময়।একই গতিতে তাদের পিছনে।অথচ তারা সহজেই পাশ কাটিয়ে যেতে পারে।এইসব দৃশ্য তন্ময়ের নিকট পরিচিত।সে স্বাভাবিক ভাবেই বললো,
--"স্যার,আজকে হয়তো আবারও আপনার ঝামেলায় পড়তে হবে।পেছনে গাড়ি দেখলাম।"
--"আম্মির কারসাজি।"
আদ্রিন মোবাইলে কিছু একটা দেখলো।রাফির মেসেজ। তির্যক হাসে সে। ক্ষীণ সুরে বলে,
--"গাড়ি থামাও।কথা বলি।"
গাড়ি হঠাৎ থামতেই পেছনের গাড়ি থামে।অতঃপর তিনটা গাড়ি রাস্তার ধারে।আদ্রিন নামতেই পেছনের গাড়ির লোকেরা কিঞ্চিৎ ভাবলেশহীন হয়।আদ্রিনকে শুট করার বা আঘাত করার অনুমতি নেই।কিন্তু,তাকে অপহরন করার নির্দেশনা আছে।ভরা রাস্তায় এটাও অসম্ভব।
আদ্রিনের নির্দেশে তন্ময় তাদের কাছে যায়।বেরিয়ে আসে তাদের প্রধান।
প্যান্টের পকেটে দুই হয় গুঁজে আদ্রিন।সামনের খেলাটা ব্যাপক মজাদার হতে চলেছে।প্রধান লোকটা আসতেই আদ্রিন কোটের পকেট হতে সিগারেট বের করে এবং সাথে সাথে দুই অধরের মাঝে চেপে তাতে জ্বলন্ত রূপ দেয়।প্রধান লোকটা নিজের পেছনে থাকা রিভলবার বের করতে নিলে শব্দ করে হাসে আদ্রিন।হাসির সাথে গালের ধোঁয়া তীব্রবেগে ছুটে।
তন্ময় হুট করেই সেই প্রধানের পিঠে রিভলবার ঠেকে কৌশলে।পেছনের গাড়ির কেউ দেখেইনি ব্যাপারটা তন্ময়ের অবয়বের কারণে।
--"তিনগুণ দিবো।প্ল্যান হবে আমার।"
আদ্রিন ধূমপানে মগ্ন।
--"ম্যাডামকে কি বলবো?"
--"এখন না,যেদিন কাহিনী সামনে আসে সেদিন বলবে,এই দুনিয়ায় টাকার নেশা সবচেয়ে বেশি।"
প্রধানের মাথায় সব সেট।
আদ্রিন সিগারেটের শেষ টান দেয়,
--"কিডন্যাপ মি।"(অপহরণ করো আমাকে)।
......
ঘরটায় আবছা অন্ধকার।কেবল মাথার উপর অল্প পাওয়ারের একটা বাল্ব জ্বলছে।ভাঙ্গা জানালা দিয়ে বাহিরের তিমির ভাব দৃশ্যমান।আদ্রিন চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে।প্রধানের সাথে আলাপ শেষ করলো খানিকক্ষণ পূর্বে।মোবাইল বেজে উঠে প্রধানের।ইশারায় বুঝায় সে,ইনায়া ফোন দিয়েছে।
--"স্পিকারে দাও।"
আদ্রিনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে প্রধান।
ইনায়া বলতে আরম্ভ করে,
--"কড়া ইনজেকশন পুশ করবে।একসপ্তাহ আমার ছেলেকে অজ্ঞান রাখার দায়িত্ব দিলাম।"
পরপর ফোন কাটে।
প্রধান বিনা বাক্যে বেরিয়ে যায় কক্ষ হতে।আদ্রিন ঘাড়ের ছাটা চুলে হাত বুলায়,
--"তৃপ্তি থেকে আমাকে আলাদা করতে এতো প্ল্যান আম্মি!কেনো ভুলে যাও আমি তোমার রক্ত।তোমার চেয়েও ভয়ঙ্কর।"
মোবাইলে তৃপ্তির হাস্যোজ্বল ছবি স্পষ্ট। গতরাতের মেয়েটার মলিন মুখের প্রতিচ্ছবি ভাসতেই হাহাকার সৃষ্টি হয় মনে। জ্বরে কেমন নেতিয়ে গিয়েছিলো সে।কেমন আছে সে এখন?এই সিম বন্ধ তার।নতুন সিমের ব্যবস্থা করতে হবে। তম্ময়ও এইখানে।ব্যাপার না।আদ্রিনের সব পরিকল্পনা মাথায় সেট। এতদিনে সে বুঝে এমন চতুরতা তার মায়ের থেকেই প্রাপ্য।রহস্যময় হাসির দেখা মিলে তার অধরে।বিড়বিড় করে বলে,
--"ইনজেকশনের চেয়েও আমি তৃপ্তির নেশায় আসক্ত,আম্মি।এই আসক্তির শেষ নেই।এই নেশার সেরা ঔষধ আমার মেহেবুবা,আমার তৃপ্তি।"
চলবে.....