#অতৃপ্তির_মাঝে_তৃপ্তিময়_সে
#লেখিকা- সালসাবিল সারা
পর্ব -২৪
_____________________
৫৪.
--"আমার বাবাকে কিছু করবেন না দয়া করে। ভোর হতে চললো।আপনি এমন রাগী বেশে কোথায় যাচ্ছেন?প্লিজ,আমার কথাটা বুঝুন।আমার বাবার কোনো ক্ষতি যেনো না হয়,আদ্রিন।"
একপ্রকার বিলাপ করছে তৃপ্তি।
আদ্রিন ভাবলেশহীন তৃপ্তির হাতে বিদ্যমান ক্যানেলা খুলছে।পূর্বের মতো একাধারে আবারও নানান প্রলাপ বকতে শুরু করে সে।যদিও সত্যি আদ্রিন বের হতে নিচ্ছিলো,তৃপ্তির ক্যানেলা খুলে।তবে,তৃপ্তি জেগে যায়।বাহিরে এখন ঝাপসা আলো।নির্ঘুম রাত অতিবাহিত করার দরুণ আদ্রিনের আঁখি র'ক্তিম।তার ভেতরকার আ'ক্রো'শ কিছুতেই কমছে না।সে বের হচ্ছিলোই অরিত্রনকে শাস্তি দিতে।অথচ তার মেয়েই আদ্রিনকে অনুরোধ করছে,আকুতি করছে।
তৃপ্তির গালে আদ্রিন হাত রাখতেই সে হাত চেপে ধরে আদ্রিনের। অসহায় দৃষ্টিতে তার পানে চায়।
আদ্রিনের মুখভঙ্গি অন্যরকম,অনেকটা অচেনা।
--"আমার কিছুই করার নেই।আমার আর তোমার মাঝে যে আসবে তাকে আমি ছাড়বো না। আম্মি আর তোমার বাবা পাপ করেছে আমাদের মাঝে এসে।"
গুরুগম্ভীর স্বর আদ্রিনের।
--"এইসব কেমন কথা?আমাদের বাবা মা উনারা।মনোমালিন্যের কারণে আমাদের সম্পর্ক তাদের কাছে মানানসই নয়।কিন্তু,আমরা চাইলে সব ঠিক করতে পারি।"
তৃপ্তির করুণ সুর।
--"আমি পারবো না আর মানাতে।অনেক সহ্য করেছি।তোমাকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার পাপ করেছে তোমার বাবা।এর শাস্তি আমি দিবো উনাকে।"
দুইহাত পেছনে ঠেকে বিছানায় বসলো আদ্রিন।
--"আপনি কেনো পাগলামি করছেন?"
তৃপ্তির কম্পিত শব্দ।
আদ্রিন তার পানে করুণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করে।কেমন হিং'স্রতা সেই দৃষ্টিতে।যেনো তাণ্ডব চালাতে বেশ দক্ষ তার এমন চাহনী।
--"পাগলামি'ই শ্রেয়।ধরো,আমি আসিনি কালকে।আর তোমার অজ্ঞান থাকা অবস্থায় তোমার বাবা তোমাকে অন্যজনের সাথে বিয়ে দিলো।তখন কি হতো?বেশ খুশি হতে?কিন্তু তখন আবার আমার নাম খুনীর খাতায় লিখতে হতো।তোমাকে পাওয়ার জন্যে।"
আদ্রিন তার পরনে শার্ট পুনরায় খুলে।তার মন হুট করেই অন্যদিকে ধাবিত হয়।
--"পাগল।আপনি সত্যিই পাগল।এই মুহূর্তে আমার আপনাকে পাগল ছাড়া আর কিছুই মনে হচ্ছে না।আমার বাবা আমার অনুমতি ছাড়া কিছুই করতো না। কখনোই না।"
ধীরে ধীরে তৃপ্তির মন শক্ত হচ্ছে যেনো।
--"আমার বিষয় না এইসব।তোমাকে আমি দুটো অপশন দিচ্ছি।এক. হয় তোমার বাবার শাস্তি পেতে হবে,তাও ভয়ংকর।দুই. এইযে আজ সকাল নয়টায় কাজী অফিস খুলবে।তখন তোমাকে বিয়ে করবো আমি।এখন বলো।কোনটা পছন্দ তোমার?"
খাটে গা এলিয়ে দেয় আদ্রিন।তার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে,অপশন দুটো তার জন্যে কিছুই না,একেবারে নগণ্য।
তৃপ্তির শঙ্কিত।কি বলে এই লোক ! বিয়ে ছেলেখেলা?
--"একটা অপশনও আমার পছন্দ হয়নি।আপনি কিসব বলছেন?বাবার অনুমতি ছাড়া বিয়ে?আমি পারবো না।"
আঁখি ভারী হয় তৃপ্তির।কি করবে কিছুই আয়ত্বে আসছে না।
--"বাবার ক্ষতি চাও না,এর মানে সেকেন্ড অপশন তোমার জন্যে পারফেক্ট।ওকে,আজকেই আমার বউ হতে তৈরি হও।"
--"জীবনেও না।আপনি কিভাবে পারছেন আমাকে এত ক'ষ্ট দিতে?"
অশ্রুর বাঁধ ভাঙলো তৃপ্তির। এতে আদ্রিনের আরো জিদ চাপে,
--"কাঁদছিস কেনো?বিয়ে করতে মন চায় না আমাকে?ওহহ!আমি পাগল,আমি পাগলামি করি,তাই আমাকে অসহ্য লাগে তোর?"
কাঁধের দিকে চিনচিন ব্যথার আবির্ভাব ঘটে তৃপ্তির,
--"ব্যথা পাচ্ছি,আদ্রিন।"
সাথে সাথে হাত সরিয়ে নেয় আদ্রিন।মেয়েটার মুখ ফোলা।আঁখি নেতিয়ে। কেমন অসহায় দেখাচ্ছে সাথে মায়াময়।নিজ চুলের গোছা শক্ত হাতে চেপে ধরে সে।দু'বার চিৎকার দিয়ে সজোরে হাত দ্বারা আঘাত করে সে দেওয়ালে।
--"থামুন প্লিজ।"
তৃপ্তির কণ্ঠে হাহাকার।
--"থামবো। তোকে বিয়ে করে।অনেক সহ্য করেছি,সবটা সহ্য করেছি,অনেক সময় দিয়েছি।আর না।আমি পারবো না আর কিছু টলেরেট করতে।"
আদ্রিন হুড়মুড়িয়ে বেরুতে নিলে তৃপ্তি অসহায় কণ্ঠে বলে,
--"আমার বাবাকে অনেক বছর পর ফিরে পেয়েছি।মায়ের শোকে বাবা এমনিও জর্জরিত।বাবাকে না বুঝে আমি এতো বছর কষ্ট দিয়েছি।আমি যদি বাবাকে না জানিয়ে বিয়ে করি,বাবা খুব কষ্ট পাবে আদ্রিন।অসুস্থ বাবাকে আমি আর কিভাবে কষ্ট দিই? পাপ হবে আমার।আমার বাবা বলেছিল,আন্টি আমাদের বাসায় এলে বাবা রাজি হবে।আপনি আন্টিকে রাজি করাবেন প্লিজ?"
আদ্রিন থামে।প্রিয়তমার ব্যথিত সুরে তার হৃদয় ছারখার। তবে,ভেতরকার হিং'স্র সত্তা কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না তার।একটাই কথা তার মস্তিষ্কে ভাসছে,অরিত্রন চট্টোপাধ্যায় তার সাথে বেঈমানি করেছে। এর ক্ষমা নেই।পেছন না ফিরে আদ্রিন আওড়ায়,
--"আমাকে তোমার বাবা ধোঁকা দিয়েছে। ধোঁকার শাস্তির মাফ নেই আমার কাছে।"
কঠোর আদ্রিনকে দেখে তৃপ্তির অবাকের শেষ নেই।ছেলেটা সত্যি উন্মাদ।নাহলে সে কতবড় কান্ড ঘটাতে যাচ্ছে তার কি কোনো খবর নেই?
আদ্রিন ফের চলে যাওয়ার জন্যে উদ্যত হতেই তৃপ্তি বেশ জোর গলায় বললো,
--"মায়ের থেকে ধোঁকা পাওয়ার পর,আমার থেকে ধোঁকা পেলে;আমার বাবা বাঁচবে না।আমি বাবার সাথে হাসিখুশি ভাবে সারাজীবন থাকতে চাই।আমার বাবার সাথে সুখী হতে আমাকে সাহায্য করবেন,আদ্রিন?"
থমকালো আদ্রিন। ঘাড় বাঁকিয়ে পেছন ফিরে।দুহাতে মুখ ঢেকে তৃপ্তি হুহু করে কাঁদছে।
তার কান্নার ঝঙ্কারে আদ্রিনের উম্মাদনা যেনো তলিয়ে যাচ্ছে অতল গহ্বরে।দ্রুত পা ফেলে তৃপ্তিকে নিজ বাহুডোরে আটকে নেয় সে,
--"ঠিকাছে।করবো না কিছু।এইভাবে কান্না করো না।তুমি সিক,জান।"
অথচ তৃপ্তি থামে না। প্রিয়তমের বাহুডোরে আটকে একে একে বলতে থাকে,
--"যেদিন হাসপাতালে প্রথম ভর্তি হয়েছি,সেদিন বাবা আমার পাশে ছিল সারারাত।একে একে মায়ের দেওয়া ধোঁকার কথা বলছিলো বাবা।ভেবেছিল আমি ঘুম।কিন্তু, আমি ঘুম ছিলাম না।শুরু থেকে শেষ সবটা শুনেছি।"
কিছুক্ষণ ফোঁপায় সে।আদ্রিন সযত্নে শুনছে সবটা,তার পিঠে আলতো স্পর্শ করে ভরসার যোগান দিচ্ছে।
আবারো তৃপ্তি বলতে আরম্ভ করে,
--"বাবা,মায়ের জন্যে ধর্ম ত্যাগ করে।কিন্তু মা,সেই সেক্রিফাইসের দাম দেয়নি।মা মারা যাওয়ার চার বছর আগে থেকে তার অন্য লোকের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে।ইনায়া আন্টি,মা সবাই একসাথেই বিভিন্ন ক্লাবে যেতো।তাই ইনায়া আন্টি সব জানতো।এই কারণেই আমাকে পছন্দ করে না আন্টি। বাবাও জেনে যায় সব,কিন্তু তাও মাকে ছাড়েনি বাবা।অনেক সময়ে এইসবের উন্নতি না হলে নিজ ধর্ম ত্যাগের কারণে এমন অশান্তি হচ্ছে ভেবে, বাবা আবারও হিন্দু ধর্মে ফিরে যায়।বাবা চেয়েছিল তার সংসারে কেবল শান্তি থাকুক।কিন্তু,মা এর সুযোগ কাজে লাগায়,আর আলাদা হয়ে যায় আমাদের নিয়ে।তবে বাবা দমেনি।আমাদের সাথেই ছিলো সর্বক্ষণ।মা,একসময় নানান লোকের সাথে ইনভলভ হয়ে পড়ে।এক পর্যায়ে ক্লাবে উপস্থিত কিছু লোক মায়ের নোংরা ভিডিও ধারণ করে,সেটা বাবাকে এবং মিডিয়ায় ছাড়বে বলে মাকে নির্যাতন করে প্রচুর।অনেক টাকাও নেয়।এরপর মা গায়েব হয়ে যায় হুট করেই।বাবা খোঁজ নেয়,তার কাছে যায়।এতকিছুর পরেও বাবার ভালোবাসা দেখে মা নিজেকে সামলাতে পারেনি।কিছুদিন বাবার সাথে আগের মতো থাকে ঐ ঠিকানায়।অতঃপর একদিন রাতে মা সুইসাইড করে নিজের পাপের জন্যে অনুশোচনায় ভুগে।বাবাকে দেওয়া ধোঁকা মায়ের সহ্য হচ্ছিলো না।পুলিশ সুইসাইড নোট এবং পোস্টমর্টেম করে ঘটনার সত্যতা জানে। বাবাকে আর বিরক্ত করেনি তাই পুলিশ।অথচ আমি বাবাকে কষ্ট দিয়েছি।বারবার অপমান করেছি।আমি ভালো মেয়ে না আদ্রিন।এখন যদি আপনি বাবাকে কষ্ট দেন আমি সহ্য করতে পারবোনা সেটা।আর না পারবো বিনা অনুমতিতে বিয়ে করে বাবাকে কষ্ট দেওয়া।আপনি আমাকে বুঝবেন প্লিজ।সেদিন বাবা আমাকে অর্ধেক কাহিনী বললে,পরে আমি দিদা থেকে সব কাহিনী জেনেছি।আমার বাবা খুব কষ্টে আছে।"
আদ্রিনের বুকে বিরাট পাথর।সে কি করতে যাচ্ছিলো?কষ্টে জর্জরিত মানুষটাকে আরো কষ্ট দিয়ে নিঃশেষ করতে যাচ্ছিলো!তৃপ্তি শান্ত নেই।কেমন আহাজারি করছে সে।আদ্রিন তার কোমর চেপে নিজ উরুতে বসায় তৃপ্তিকে।
মুখে লেপ্টে থাকা চুল সরিয়ে ভেজা গালে অধর ছোঁয়ায় সে,
--"আচ্ছা বুঝেছি।ভয় পায় না।আমি কিছুই করবো না।ঘুমাও এখন।আমি বাসায় যায়।আজ সন্ধ্যায় আমি মাকে নিয়ে আসবো। রাতও হতে পারে।তোমার ঘুম শেষে তন্ময় তোমাকে দিয়ে আসবে বাসায়।"
তৃপ্তি কথা বলে না।কিন্তু,আবারও ঝাপটে ধরে আদ্রিনকে।শক্ত করে লেপ্টে যায় তার বিপরীতে থাকা চওড়া বুকের মানুষটার সাথে,
--"আপনি দিয়ে আসুন আমাকে বাসায়।এইখানে থাকবো না।আমি আপনার সাথে যাবো।"
হিং'স্র ছেলেটা এখন হাসছে।কি অমায়িক লাগছে তাকে!অথচ খানিক পূর্বে সে মানুষ খু'ন করার রূপ ধারণ করেছিলো।
তৃপ্তি হাত মুখ ধুয়ে নেয়।ওড়না গলায় মেলে আদ্রিনের ধারে যায়।অবাক চোখে তাকিয়ে আদ্রিন তৃপ্তির পানে।মেয়েটার মুখশ্রী তাকে টানছে। মেয়েটার মুখে শত মায়া।নাকের দাগটাও কেমন আকর্ষণীয়। ঘোর লেগে যায় আদ্রিনের।অতঃপর মেয়েটাকে নিজের পানে টেনে নেয়,পরপর অধর ছুঁয়ে দেয় মেয়েটার গলার ভাঁজে,
কম্পিত আঁখিতে,লজ্জিত দু'গালে,
--"বিয়ের তারিখ পড়বে দ্রুত।আর কন্ট্রোল হয় না,তৃপ।অপেক্ষা করবে আমার।আসবো আজ বিয়ের তারিখ ফাইনাল করতে।"
৫৫.
তৃপ্তিকে বাড়ি পৌঁছিয়ে গাড়িতেই ঘুমায় আদ্রিন।বাসায় পৌঁছে জানে,মা নেই বাড়িতে।আদ্রিনকে দেখে বাড়ির সবাই ইনায়াকে ফোন করে।তৎক্ষণাৎ ইনায়া প্রেসের সামনে এসে ছেলে আসার সুখবর জানানোর মিথ্যা নাটক করে।এবং পরক্ষণে বাড়ির উদ্দেশ্য বেরুয়।ছেলের সাথে অনেক হিসাব বাকি তার।মায়ের সাথে বাটপারির সকল উত্তর দিতে হবে আজ তাকে।
ইনায়া আসে দুপুর বেলা।আদ্রিন তখনো ঘুমে।রিয়ানা এবং সাফাও আছে।আদ্রিন এসেছে জেনে তারা আর অপেক্ষা করলো না।
রাগান্বিত ইনায়া সজোরে আঘাত করে দরজায়। আদ্রিনের হেরফের নেই।সে মায়ের কণ্ঠ শুনে আবারও গায়ে কম্বল টেনে নেয়।সে নিজের সময় বুঝে বের হবে কামরা হতে।তবে, তার পরিকল্পনায় বিপাক ঘটে রিয়ানার বুলিতে।তার ডাকডাকিতে উঠে দরজা খুলে।রিয়ানা হাসিমুখে বলে,
--"সবার সাথে খাবি।আয়।"
--"আম্মি আছে?"
দু হাত উপরে তুলে ঝিমানো দূর করে,আদ্রিন।রিয়ানা ভাইয়ের পেটানো শরীরের দিকে নজর বুলিয়ে হাসে,
--"দিনদিন শরীরটাকে এমন শক্তিশালী বানাচ্ছিস কেনো?লড়াই করবি?"
--"হুম,করবো।কথার উত্তর দাও না কেনো?"
আদ্রিন বিরক্ত দেখায়।
--"আছে।সবাই আছে ডাইনিংয়ে।মানা করবি না।সাফা তোর জন্যে না খেয়ে বসে আছে।"
--"কেনো?সাফা আমার হাতে খায়?"
পাল্টা প্রশ্ন শুনে হতবাক রিয়ানা,
--"নাহ।তোর চেহারা দেখে খাবে।আয় না ভাই।"
--"আসছি।"
সাদা রঙের টিশার্ট গায়ে চেপে রুম থেকে বেরোয় আদ্রিন।শান্তভাবে খাওয়া শেষ করে সকলের সাথে।ইনায়া কিছু বলতে নিলে তার শাশুড়ি কথাটা সেখানেই দমিয়ে ফেলে।
নিয়ম মতো সকলেই বসার ঘরে বসে।কাজের লোকেরা ফলমূল আর সেগুলোর সাথে ছুরি রেখে যাচ্ছে সকলের সামনে। যার যতটুক দরকার কেটে খাচ্ছে।
অনেক্ষণ চুপ থেকে আদ্রিন মুখ খুললো,
--"আমি চাই তৃপ্তির বাসায় প্রস্তাব পাঠানো হোক।ওকে আমি বিয়ে করতে চাই।তাও দ্রুত।"
--"সব কিছুতেই তুমি জোর দেখাও। জোর দেখিয়ে আমার প্ল্যানে পানি ঢেলেছো।তাহলে এইবার ওকে জোর দেখিয়েই বিয়ে করে নাও।"
ইনায়ার কপট রাগ দেখে আদ্রিনের মেজাজ বিগড়ে যায়।
ফল কাটার ছুরি শক্তভাবে চেপে ধরে সে,
--"আমি কি পারবো না পারবো তা আমার মাঝেই থাক।যেটা বলেছি তা আমি রিপিট করবো না আর।"
--"মা,ভাই যখন রাজি বিয়েতে তাতে আপত্তি কিসের?চলো সবাই মিলে যায়।"
রিয়ানার কথায় দৃষ্টি গভীর করে ইনায়া,
--"বেঁচে থাকতে আমি যাবো না ঐ মেয়ের কাছে।যে মেয়ের জাত..."
--"জাত,অজাত এইসব বলে লাভ কি?এইযে তুমি আমাকে ছোট থেকেই ইগনোর করে গেছো,আমি কাউকে বলেছি?না তোমার কুকর্মের কথা তোমার মিডিয়ায় বলেছি? আই জাস্ট ওয়ান্ট,তৃপ্তি।"
ইনায়া কিছু বলে না।রাগ দেখিয়ে চলে যাচ্ছে।সাফা তখন বায়না করে ইনায়াকে বলে,
--"নানু, দেওয়াল থেকে সিনারিটা দাও আমাকে।"
ইনায়া তা দিতে উদ্যত হয়।আদ্রিন ইনায়ার কাছে যাচ্ছে,পেছনে রিয়ানা।
নিজেকে ধাতস্থ করে পুনরায় ইনায়াকে সে বলে,
--"সন্ধ্যায় যেনো আমরা ঐ বাড়িতে যায়।"
--"আমি ম'রে গেলেও যাবো না সেই বাড়িতে। ঐ মেয়েকে আমি কখনো মেনে নিবো না।কখনোই না।"
--"আম্মি,আমি ঐ মেয়ে ছাড়া কিছুতেই ভালো থাকবো না।সে শুধু আমার। আই লাভ হার,অ্যান্ড আই ওয়ান্ট হার এট এনি কস্ট।"(আমি তাকে ভালোবাসি এবং যেকোনো মূল্যে আমি তাকে চায়)।"
আদ্রিনের এই চিৎকার ভ'য়াবহ।সকলে উপস্থিত হয় সেথায়।
ইনায়া সজোরে ধাক্কা দেয় ছেলেকে,
--"তার মায়ের মতো সে যখন অন্য ছেলের জন্যে তোমাকে ছেড়ে যাবে,তখন বুঝবে মা ঠিক ছিলো। ওই মেয়ে তার মায়ের মতো দুশ্চরিত্রা না হলে,বিয়ের আগে তোমাকে নিয়ে রাত কা'টাতো না। বান্ধবীর বাসার নাম দিয়ে তোমার সাথে রাত কা'টিয়েছে সে,তাই না?বাচ্চা বাঁ'ধিয়ে এখন বিয়ের জন্যে প্রেসার দিচ্ছে? কার না কার বাচ্চা এটা,খোঁজ নিয়ে দেখো।"
ইনায়ার প্রত্যেকটা বুলি তী'রের মতো আদ্রিনের বুকে আঘাত করলো যেনো।পেছনে উপস্থিত সকলে তৃপ্তির ব্যাপারে ইনায়ার কথা শুনে কানাকানি,হা হুতাশ করছে।মেজাজের তি'ক্ততায় আদ্রিন তার হিং'স্র রূপে ফিরে।হাতে থাকা ছুরির কথা সে ভুলে যায়। সম্মুখে আঘাত করতেই তার গর্জন শোনা গেলো,
--"সে বিশুদ্ধ,পবিত্র।আমি ছাড়া ওর জীবনে কেউ নেই।অধিকার ছাড়া তাকে আমি কিভাবে ক'লঙ্কিত করবো?সে আমার র'ক্ষিতা না আম্মি,আমার ভালোবাসা।আমার সারাজীবন সে।"
পেছনে উপস্থিত সকলে আদ্রিনের হিং'স্রতা দেখে তার বুলিকে সর্ব সত্যি মানতে একমিনিট বিলম্ব করেনি।
পরক্ষণে ভেসে এলো একে একে সকলের কণ্ঠ।কেমন আহাজারি ছিলো সেই কণ্ঠে!
--"আদ্রিন কি করছো এটা?"
পরপর ভেসে এলো রিয়ানার আর্তনাদ,
--"হায় আল্লাহ্!রক্ত বের হচ্ছে ভাই!রক্তের স্রোত।"
চলবে.....