ফন্ট সাইজ:
থিম:
Remedy

৫ম পর্ব

লেখক: মীরা রায়াদ

#Remedy

#Meera_Rayad

#পর্ব_৫

[📍কপি করা সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ। উপন্যাসটি ভালো লাগলে রিভিউ দিবেন এবং শেয়ার করে অন্যকে পড়ার জন্য উৎসাহ করবেন। সকলে রেসপন্স করবেন]

ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে দূর আকাশ দেখছে ঝুম। এটি তার সব থেকে প্রিয় কাজ। যখনি মন খারাপ হয়, তখন সে আকাশ দেখে, মন তার অটোমেটিক ভালো হয়ে যায়। ঈশালের বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়ে গেছে। বাড়ী ভর্তি অতিথি। আর মাত্র কিছু দিন তারপর ঈশালের সাথে সাথে তাকেও যেতে হবে। এই পরিবার তাকে না চাইতেও অনেক বেশি দিয়েছে। মা বাবা, পরিবারহীন মেয়েটাকে তারা বুঝতে দেয়নি এখানে সে অতিথি। এই বাড়ির প্রতিটা মানুষ তাকে আগলে দেখেছে, ভালোবেসেছে। বিশেষ করে মেহেরুন্নেসা। আম্মাকে হারানোর পর এই প্রথম কেউ আম্মার মতো তাকে আগলে রেখেছে। যদিও সে প্রকাশ করে না, তবুও ঝুম বুঝতে পরে সে ঝুমকে কতটা আদর করে। এছাড়া আহিরের সাথেও তার সম্পর্ক বেশ সহজ হয়েছে। যতটা খারাপ ভেবেছিল ততটা খারাপ না ছেলেটা। একটু অন্যরকম কিন্তু দরুন মনের মানুষ। এবাড়ির সকলের সাথে তার সম্পর্ক সুন্দর ও স্বচ্ছ হলেও একজনের সাথে তার এখনো কথা হয়নি। সেদিনের সেই অদ্ভুত চোখের লোকটি। আজও মনে পরলে গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায় ঝুমের। সেই তীক্ষ্ণ ফ্যাকাশে মনির চোখ দুটো যেভাবে তার দিকে তাকিয়ে ছিল, তা ভুলতে পারেনি সে। সেই চোখ দুটি হয়তো ঝুমকে তার সানিত নজর দিয়ে কিছু বলতে চেয়েছিল, কিন্ত আফসোস ঝুম বুঝতে পারেনি। সেদিনের পর থেকে বহুবার তাদের দেখা হয়েছে প্রতিবারই ওই অদ্ভুত চোখ জোড়া তাকে বিভ্রান্ত করে। লোকটি কথা বলে না অথচ না বলেও যেন কত কিছু বলে যায়। পরে অবশ্য জানতে পেরেছিল ওই অদ্ভুত চোখের ছোট ছোট চুল ওয়ালা লোকটি মেহেরুন্নেসার বড় ছেলে। এই বাড়ির বড় ছেলে। সারা আপু তার বাবার মতো মিষ্টি স্বভাবের হলেও মা ছেলে একই স্বভাব জাতের হয়েছে।

" ঝুমঝুমি...ঝুমঝুমি।"

ঝুমের আকাশকুসুম ভাবনার মাঝে ঈশালের কন্ঠ ভেসে এলো।

" এখানে।"

ব্যালকনি থেকে ঝুমের ক্ষীণ ধীর গোলা পেয়ে চঞ্চল পায়ে ঈশাল ছুটল সেদিকে।

" তুমি এখানে কি করছো ঝুমঝুমি? সবাই নিচে কত আনন্দ করছে আর তুমি এখানে একা দাঁড়িয়ে আছো? বড় চাচী আম্মা তোমাকে খুঁজছে।"

ঝুম ঠোঁটের এক কোন কামড়ে হাতে থাকা বিসনেস রিলেটেড বইটি ঈশালের সামনে ধরে বলল -

" বড় আণ্টি দিয়েছিল পড়তে। ওখানে এতো লোক আমি কাউকে চিনি না, কেমন যেন লাগছিল। তাই ভাবলাম নিরিবিলি বই পড়ি। আণ্টি বলেছে দ্রুত ফেরত দিতে।"

" ওহহো ঝুমঝুমি। কিছুদিন পর আমার বিয়ে, তুমিও তো বাংলাদেশ ব্যাক যাবে। তারপর আমাদের আবার কবে না কবে দেখা হবে। কই তুমি আমার সাথে বেশিবেশি টাইম স্পেন্ড করবে, তা না কি সব বই পড়ছো।"

কিছুটা মন খারাপের সুর তুলে বলল সে। সে আসলেই দুঃখ পাচ্ছে। ঝুম চলে যাবে, এটা ভাবলেও কষ্ট লাগে। তাও যদি হতো পাকিস্তানের কোনো জায়গা। তা তো নয়? সেই বাংলাদেশ। চাইলেই কি দেখা করতে পারবে আর? ঝুমের ও মন খারাপ হয়ে গেল। সে এগিয়ে এসে আলতো করে ঈশালকে দুহাতে জড়িয়ে ধরে বলল -

" সরি। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনি ঈশাল।"

ঈশালও তাকে শক্ত হাতে জড়িয়ে ধরে বলল -

" আমি জানি ঝুমঝুমি। তুমি কাউকে কষ্ট দিতেই পারো না। এখন নিচে চল। বড় চাচী আম্মা বিয়ের জন্য ড্রেস আনিয়েছেন অনেক। সবাই নিজের পছন্দ অনুযায়ী নিচ্ছে তোমাকেও তাই ডাকছেন।"

" কিন্তু আমি?"

" আরে চলতো।"

ঝুমকে বাকি কথা বলতে না দিয়ে টেনে নিচে নিয়ে আসলো ঈশাল।

বসারঘরে হুলুস্থূল কাণ্ড। এই বাড়ির মানুষদের যেহেতু কাপড়ের ব্যবসা তাই কোনো অকেশনে এদের এটলিস্ট কাপড়ের অভাব পরে না। মেহেরুন্নেসা হয়তো তাদের কালেকশনের সব ড্রেস তুলে এনেছে। যার যা ভালো লাগবে রেখে বাকিগুলো আবার পাঠিয়ে দিবেন। বাড়ির সব মেয়ে মানুষ এখানে ভিড় জমিয়েছে, শুধু ঈশালের মা আর ছোট চাচী বাদে। তারা কিচেনে সকলের জন্য নাস্তা বানাতে ব্যস্ত। তাছাড়া বাড়িতে আসা নিকটস্থ অতিথিরাও রয়েছে। একমাত্র ঝুমই বাইরের মানুষ। তাই হয়তো তার উপস্থিতিতে কয়েকজন অবাক তো কিছু বিরক্ত হয়েছে। বড় অস্বস্তি অনুভব করলো ঝুম। এভাবে ফ্যামিলি ম্যাটারে ঢুকে যাওয়া কতটা সমীচীন বুঝতে পরছে না। কি করবে বুঝতে না পেরে ইতিউতি করে কয়েকবার এদিক ওদিক তাকাল। পায়ের আঙুল দিয়ে মেঝেতে অযথাই খুঁড়তে লাগলো। তার সবথেকে বড় অস্বস্তির কারণ মেহেরুন্নেসার বড় বোন। মহিলা এসে থেকে তাকে জহুরী নজরে দেখে যাচ্ছে। অযথাই তাকে দেখে কপাল কুচকে বিরক্তি প্রকাশ করছে। একথা ওকথা শুনিয়ে দিচ্ছে। ঝুম কিছু না করলেও অযথাই খোঁচা মেরে দেয়। ভীষণ অসহায় অনুভব করে তখন ঝুম।

মেহেরুন্নেসা হয়তো বুঝতে পারল ঝুমের অস্বস্তি। তাই বলল -

" ঝুম আপনি আমার কাছে এসে বসুন।"

বোনের কাজে আমিরুন্নেসা বিষণ বিরক্ত হলো। কোথাকার কোন মেয়ের জন্য এবাড়ির মানুষদের এই অতিরিক্ত প্রীতি তার ভালো লাগছে না। ঝুম মাত্রই পা বাড়িয়েছিল মেহেরুন্নেসার দিকে তার মাঝে আমিরুন্নেসা বলে উঠলো -

" পারিবারিক ব্যাপারে ও বাইরের মানুষ কি করবে এখানে?"

বাবা খুব শখ করে বোনের নাম আমিরুন্নেসা রাখলেও বোন যে তার মোটেও নামের মতো সুন্দর মনের হয়নি তা মেহেরুন্নেসার বরাবরই জানা ছিল। কিন্তু তাই বলে ঝুমকে এভাবে বলবে আশা করেনি তিনি। প্রচণ্ড রাগে বাকরুদ্ধ হয়ে পরলেন। বড়বোন বলে রেগে গেলেও তাই ভদ্র ভাবে বলল -

" আপনার কাছে উনি বাইরের মানুষ হলেও আমাদের কাছে ও এখন আমাদের একজন আপা। যতদিন উনি আমাদের বাড়িতে আছেন, ততদিন উনি আমাদের দায়িত্ব। আমার পাশে এসে বসুন ঝুম।"

চোখে টলমল পানির জোয়ার। অনুমতি পেলেই নীরবে বয়ে চলবে। কিন্তু মানবী সেই অনুমতি দিল না। এতগুলো মানুষের সামনে নিজেকে হাসির পত্র করতে চায় না। এমনিতেও যথেষ্ট অপমানিত হয়েছে সে। ধীর পায়ে হেঁটে মেহেরুন্নেসার পাশে গিয়ে বসলো। এতক্ষন পরিবেশ থমথমে থাকলেও এখন যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পরেছে। সবাই নিজের ইচ্ছে অনুযায়ী পোষাক বেছে নিচ্ছে কিন্তু ঝুম ধরার সাহস পেলো না। পাছে আমিরুন্নেসা আবার কিছু বলে না বসে। মেহেরুন্নেসা হয়তো বুঝলো, তাই নিজে কয়েকটি পোষাক বাছাই করে ঝুমের হাতে দিয়ে বলল -

" দেখুনতো এগুলো ভালো লাগছে কি না?"

রংবেরঙের হালকা ভারী কাজের সমাহারে সজ্জিত প্রতিটি পোষাক। দেখলে যে কারো ভালো লাগবে কিন্তু ঝুম এগুলো পরতে চায় না। তার জীবন থেকে রং অনেক আগে মুছে গেছে।

" খুব সুন্দর এগুলো আণ্টি। কিন্তু আমি শাড়ি ছাড়া অন্য পোষাক পরি না।"

মেরেহুন্নেসা ভারী অসন্তুষ্ট হলো। এই মেয়ে নিজেকে সবসময় বড় ভাবে কেন? এখনিতো তার বয়স আনন্দ করে বাঁচার।বাড়ির পুরুষেরা বসার ঘরে আড্ডা দিচ্ছিল। আহির, আয়ানও উপস্থিত সেখানে। এরই মাঝে দুহাতে খাবারের ট্রে সমেত হাজির হলো আয়ানের মা। আসতে আসতে ঈশালকে বলল -

" ঈশাল চায়ের ট্রেটা নিয়ে আসো।"

মাথা নেড়ে ঈশাল উঠতে গেলে আমিরুন্নেসা তাকে বাধা দিয়ে বলল -

" তুমি উঠছো কেন? বসো এখানে। বিয়ের কনে এতো কাজ করতে হবে না। এই মেয়ে! তুমি যাও গিয়ে নিয়ে আসো। ( ঝুমকে উদ্দেশ্য করে কটাক্ষ করে বলল তিনি)"

" নানা খালাজান আমি পারবো ঝুমকে যেতে হবে না। এটুকু কাজই তো সমস্যা নেই।"

" তুমি পারবে সে আমি জানি। আমরা তোমাদের সেভাবেই শিক্ষা দিয়েছি, কারো বাড়িতে বসে খেতে শিখাইনি।"

ঈশাল কিছু বলবে তার আগে ঝুম

বলল -

" আমি নিয়ে আসছি, তুমি বসো।"

ঈশাল অসহায় চোখে ঝুমের যাওয়ার পানে তাকিয়ে রইল। কম বেশি সবার ব্যাপারটা খারাপ লেগেছে। কেউ কেউ আবার নিজেদের কাজে মন দিল। মেহেরুন্নেসা বলল -

" ওনার সাথে আপনার সমস্যা কি আপা? এসে থেকে মেয়েটাকে এটা ওটা বলে চলেছেন। উনি এখানে কাজ করতে আসেনি। সে আমাদের বাড়ির অতিথি। আশা করি এমন কিছু করে বা বলে আমাদের ওনার কাছে ছোট করবেন না।"

আমিরুন্নেসা মুখ বাঁকিয়ে পোষাক দেখতে ব্যস্ত হয়ে পরলেন। ওনার যা করার উনি করে ফেলেছে, এখন কে কি বলল তাতে তার কিছু আসে যায় না। তবুও এতগুলো মানুষের সামনে ছোট বোনের বলা কথা গুলো হজম করতে পারল না। মনে মনে ঝুমের প্রতি রাগ পুষে রাখলো। এই মেয়েকে একটা উচিৎ শিক্ষা না দিলেই নয়। কেন জানি মেয়েটিকে একদম সহ্য করতে পারেন না তিনি।

হাতে চায়ের মস্ত বড় ট্রে নিয়ে ঝুমের নাজেহাল অবস্থা। খুব সাবধানের সহিত ধীর কদমে পা বাড়িয়ে আসলো সে। পরে গেলে আর রক্ষে থাকবে না। কে কি বলবে না জানলেও আমিরুন্নেসা যে তাকে ছেড়ে দিবে না সেটা তার ভালো করে জানা। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো কই? মনে হলো কিছু একটার সাথে বেঁধে গেল, তারপর ট্রে সমেত মেঝেতে পরলো ঝুম। এতগুলো কাপের গরম চা গলা, বুকে, হাতে পরলো, সাথে সাথে মনে হলো কলিজা পুড়িয়ে দিল কেউ। ব্যাথা আর জ্বালার দরুন না চাইতেও টপটপ করে চোখ ফেটে পানি ঝরতে লাগলো।

এতক্ষন করিডোরে সিঁড়ির মাথায় দাঁড়িয়ে শুরু থেকে সবটাই দেখছিল শাইয়ান। কিন্তু এবার আর চুপ থাকতে পারলো না। ধুপধাপ পা ফেলে দ্রুত কদমে ছুটে এলো ঝুমের কাছে। ততক্ষনে ঝুম জ্ঞান হারিয়েছে। আকস্মিক ঘটনায় বিমূঢ় সবাই প্রতিক্রিয়া করার আগে শাইয়ান ঝুমকে কোলে তুলে দরজার দিকে যেতে যেতে মেহেরুন্নেসা ও আহিরকে বলল -

" আহির দ্রুত গাড়ি বের কর। আম্মা আপনি আমার সাথে আসুন কুইক।"

কেউ কিছু বোঝার আগে ঝড়ের গতিতে সে ঝুমকে তুলে বাইরে চলে গেল। মেহেরুন্নেসা কথা না বাড়িয়ে ছুটল ছেলের সাথে। আহির ততক্ষনে বাইরে চলে গেছে। শাইয়ানকে আসতে দেখে ব্যাক সিটের দরজা খুলে নিজে ড্রাইভিং সিটে গিয়ে বসে পরলো। শাইয়ান ঝুমকে নিয়ে পিছনে বসতে গেলে মেহেরুন্নেসা বলল -

" আমি বসছি ওর সাথে।"

" উহু।"

দুহাতে ঝুমকে আগলে নিয়ে কাপা কন্ঠে বলে উঠলো শাইয়ান। মেহেরুন্নেসার অভিজ্ঞ চোখ হয়তো কিছু বুঝল। কিন্তু এখন এই নিয়ে কথা না বাড়িয়ে আহিরের পাশের সিটে গিয়ে বসতেই আহির দ্রুত গাড়ি স্টার্ট দিল। সারাটা পথ শাইয়ান ঝুমকে দুহাতে বুকের সাথে আগলে রেখেছে। মেহেরুন্নেসা গম্ভীর মুখে দেখেও কিছু বললেন না। হাসপাতালে এনে ঝুমকে ইমারজেন্সি ট্রিটমেন্টের জন্য নেয়া হল। আশ্চর্যজনক ভাবে শাইয়ান এতো এতো সিরিয়াস কেস হ্যান্ডেল করলেও আজ ঝুমের পোড়া ক্ষতগুলো দেখে তাঁর শরীর কাপছে। ডাক্তারদের সাথে ইমারজেন্সি রুমে যাওয়ার সাহস করতে পারেনি। ইমারজেন্সি রুমের সামনে রাখা বসার চেয়ারগুলোর একটিতে বসে অসহায়ের মতো তাকিয়ে ছিল। মেহেরুন্নেসা ছেলের মনোভাব বুঝে এগিয়ে এসে মাথায় হাত রাখলেন। মাকে পেয়ে শাইয়ান অবুঝ বাচ্চাদের মতো মেহেরুন্নেসার কোমর জড়িয়ে ধরে বলল -

" আম্মা ওনার কিছু হবে নাতো? কতটা পুড়ে গেছে আম্মা দেখেছেন আপনি? খুব কি ব্যাথা করছিল? জ্ঞান হারালো কেন আম্মা?"

মেহেরুন্নেসা দেখলো তার বুঝদার ছেলের ওবুঝপনা। আহির তখন দেয়ালের সাথে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। তার চোখে মুখেও উদ্দ্যেগ স্পষ্ট।চোখ ঘুরিয়ে তাকে প্রশ্ন করলো -

" আপনি জানতেন এসব আহির?"

ধরা পরা চোরের মতো মুখটা কাচুমাচু করে আহির জবাব দিল -

" শুরুতে জানতাম না। ধারণা করেছিলাম। শাইয়ানকে তো জানেন আপনি চাচী আম্মা, মুখ ফুটে কাউকে কিছু বলে না। তবে ঝুমের এতে দোষ নেই চাচী আম্মা। উনি এসব কিছু জানেন না।"

" জানি।"

" জানেন! কিন্তু কিভাবে?" ( অবাক হয়ে প্রশ্ন করলো আহির। সে ভেবেছিল মেহেরুন্নেসা ঝুমকে ভুল বুঝবে। কিন্তু এখানে তো কাহিনী ভিন্ন।)

" আমি ঝুমকে আপনাদের আগে থেকে চিনি আহির। ওনার মতো মেয়ে এসবে জড়াবেন না। যথেষ্ট শান্ত ও বিশ্বাসযোগ্য সে।"

আহির মাথা নাড়িয়ে সায় জানালো। শাইয়ান তখনো মেহেরুন্নেসাকে ধরেছিল একই ভাবে। মৃদু কাপছিলো সে। মেহেরুন্নেসা ছেলের মাথায় আদুরে হাত বুলিয়ে বললেন -

" ভয় নেই ওনার কিছু হবে না। সে একজন শক্তিশালী যোদ্ধা। আমার তার ওপর বিশ্বাস আছে। আশা করব আপনিও বিশ্বাস রাখবেন তার ওপর। নিজেকে সামলে নিন আব্বা। আপনার মতো মানুষকে ভেঙে পরতে দেখে ভালো লাগছে না।"

এই পর্যায়ে শাইয়ান মাথা তুলে মিষ্টি হেঁসে জানালো -

" ঠিক বলেছেন আপনি। উনি একজন যোদ্ধা। এবারও যুদ্ধ করে ফিরে আসবে।"

মেহেরুন্নেসা মায়া নিয়ে তাকালো ছেলের দিকে।

" আম্মা।"

" হ্যাঁ আব্বা বলেন।"

" আপনাকে কিছু বলার ছিল আম্মা।"

" শুনছি।"

" এটি কোনো এক্সিডেন্ট ছিল না।"

মেহেরুন্নেসার বুদ্ধিদীপ্ত চোখ ঝলঝল করে উঠলো। সে নিজেও ধারণা করেছিল এমন কিছুই, কিন্তু প্রমাণ না থাকায় চুপ ছিল।

" যে করেছে তাকে শাস্তি পেতে হবে আম্মা।"

" কার কথা বলছেন আপনি?"

চোখে অস্বাভাবিক ক্রোধ আর মুখে অস্পষ্ট হাসি নিয়ে অদ্ভুত ভঙ্গিমায় বলে উঠল -

" সময় হলে জানতে পারবেন।"

চলবে___

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ৫ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন