ফন্ট সাইজ:
থিম:
ক্রাশ কনফেশন

১৭তম পর্ব

লেখক: আফিয়া আপ্পিতা

ক্রাশ কনফেশন

লেখাঃ আফিয়া আপ্পিতা

পর্ব- ১৭

অস্ফুট স্বরে 'প্রদীপ' নামটা উচ্চারণ করতেই প্রদীপ মুচকি হেসে আমার পা ধরে সালাম করে নিল। বলল,

"আসসালামু আলাইকুম মা। কেমন আছেন?"

আমি তখনো হা করে দাঁড়িয়ে আছি। মূলত, আমি ঘটনা বুঝার চেষ্টা করছি। আসার কথা দিতিয়া। কিন্তু দিতিয়া না এসে এই আপদ কোত্থেকে এলো!

দিতিয়া কোথায় তবে? এমন প্রশ্ন মনে আসতেই আমি নিজেকে সামলে নিয়ে ভ্রু কুঁচকে বললাম,

"আপনি এখানে কেনো? কী চাই? দিতিয়া কোথায়?"

পরপর তিনটা প্রশ্নের উত্তরে প্রদীপ ও ভ্রু কুঁচকে বলল,

"কোন দিতিয়া মা? আমি তো এই নামটা আজ প্রথম শুনলাম।"

"কেনো এসেছেন? কি চাই?" রাগত কন্ঠে বললাম আমি। প্রদীপ অবাক কন্ঠে বলল,

"ওমা! সেকি কথা! ছেলের সাথে কেউ এভাবে কথা বলে?মানছি আমি আপনার না হওয়া বরের প্রথম পক্ষের স্ত্রীর স্বামীর মায়ের একমাত্র নাতী। তাই বলে এভাবে কথা বলবেন? এটা কী ঠিক বলেন?আমি কতটা আন্তরিকতা নিয়ে না হওয়া মায়ের শ্বশুরবাড়িতে এসেছি কোথায় একটু আপ্যায়ন করবেন, তা না করে খারাপ ব্যবহার করছেন!"

রাগের উপর ঘি ঢালা কথা শুনে আমি রাগে কিড়মিড় করে বললাম,

"বিয়ার আগে আঁর জীবনেরে কলার বরগেত্তে কাচকি মাছের মত রান্ধি ও শান্তি অয়নো আন্নের? অন আবার চলি আইছেন শীল আর উতার মইধ্যানে থুই বাডি ভত্তা বানাইবেল্লাই? ওই মিয়া আন্নে হাইছেন কিয়া আঁরে? কিয়া মনে কইচ্ছেন আন্নে? আন্নে যা কইরবেন আই গালেত্তে আত দি বই বই চামু আর সহ্য করুম? এইচ্ছা যদি মনে করেন তোই কই দি আন্নেরে,আই এচ্ছা কিচ্ছু কইত্তানো। এক্কারে মারি হালামু৷ হু।"

কথা শেষ করে ভেংচি কেটে সামনে তাকালাম। দেখলাম প্রদীপ আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছে। হয়তো বুঝেনি আমার কথা। খানিক পর আমাকে সালাম করল পা ধরে। আমি আনমনে প্রদীপের মাথায় হাত দিয়ে বললাম,

"বেঁচে থাকো বাবা। কৈ মাছে প্রাণ নিয়ে বাঁচো।"

নিজেকে আনোয়ারা আনোয়ারা ফিল হচ্ছে। আমার দোয়ায় প্রদীপ হাসলো। হেসেই বলল,

"পাঁচ টাকা করে ২০টাকার ধনিয়াপাতা নিবেন অগ্রীম। আর হ্যাঁ মা আপনার না হওয়া স্বামীর সতিন আই মিন আমার বাবার না হওয়া স্ত্রীর হয়ে যাওয়া স্বামী কোথায় দেখছিনা যে?"

এতক্ষণে আমার শ্যামবতার কথা মনে পড়লো। এই রে! শ্যামবতা আমাকে প্রদীপের সাথে দেখলে আবার কী না কী রিয়েক্ট করে? হয়তো আমাকে কষিয়ে কয়েকটি দেনমোহর দিবেন। তারচেয়ে ভালো আগে ভাগে একে বিদায় করি। এই ভেবেই বললাম,

"সে তো বাসায় নেই। আপনি বরং অন্যদিন আসবেন। উনি বাসায় থাকলে আমি আপনাকে কলাবো।"

"কলাবো!"

"মানে কল দিবো। সংক্ষিপ্ত রূপ আরকি।"

"ওহ আচ্ছা। বাই দ্যা কুকুর দাঁড়িয়ে থাকা রাস্তা, পিংকি আপনাকে যেভাবে তাড়িয়ে দিয়েছিলো বাসা থেকে আপনিও কী আমাকে সেভাবে তাড়াতে চাচ্ছেন? আপনি যেমন কুত্তা আই মিন কুকুরে ধাওয়া খেয়ে চরম অপমান হয়ে ছিলেন সেভাবে কি আমাকে ও অপমান করতে চাইছেন?"

প্রশ্নবোধক চাহনি দিয়ে বলল প্রদীপ। আমি তার কথা শুনে বুঝলাম না সে আমাকে খেজুরের কাটা দিয়ে খোচা দিচ্ছে নাকি কোন কিছু জানতে চাইছে। আমি না বুঝেই বললাম,

"আপনি যা মনে করেন তা। "

" বায়ুর মতো ছুড়ে ফেলে দিন এইসব কথা। মা আমি আপনার জন্য একটা জিনিস এনেছি। বলতে পারেন,এটা আমার পক্ষ থেকে আপনার বিয়ের গিফট। অনেক আশা ভরসা নিয়ে এনেছি। প্লিজ মা! ফিরিয়ে দিবেন না। প্লিজ না হওয়া মা! এটা আপনার না হওয়া সন্তানের অনুরোধ। "

আকুতির স্বরে বলল শেষের কথাগুলো। প্রদীপের মা ডাকটার চেহারা ভূতের হাউ মাউ খাউ ডাকের মতো মনে হয় আমার কাছে। যেন এটা আর একবার ডাকলেই ভয়ংকর কিছু হবে। ভীষণ ভয়ংকর কিছু হবে। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে একে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হুশহাশ করে মশা তাড়ানোর মতো তাড়িয়ে দিবো। এই ভেবেই বললাম,

"কী গিফট দিন। দিয়ে টা টা বাই বোন করে বিদায় হন।"

প্রদীপ হেসে বলল,

"আপনি সাড়ে একমিনিট দাঁড়ান। আমি সাড়ে দুই মিনিটের চোখ কান নাক এবং মাথায় আসছি।"

বলে আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ভনভন করা মাছির মতো এক দৌড়ে চলে গেলো সিড়ির দিকে। আমি তার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলাম। তার বলা ঠিক আড়াই মিনিটের মাথায় আসতে দেখা গেলো প্রদীপকে। হাতে একটা বড়সড় র‍্যাপিং পেপার মোড়ানো গিফট বক্স। গিফট বক্স দেখে আমি সব ভুলে খুশিতে গদগদ হয়ে গেলাম। স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম প্রদীপের দিকে। আমার রুমে থাকা সেগুন কাঠ দিয়ে বানানো খাটের উপর যেই রং করা হয়েছে ঠিক সেই কালারের একটা শার্ট গায়ে জড়িয়েছে প্রদীপ। সাথে গু কালার প্যান্ট। মুখ ভরা ক্লোজাপ কাছে আসার বিজ্ঞাপনের সেই ছেলেটার মতো হাসি। গিরগিটির চামড়ার রঙের একটা ঘড়ি পরা হাত দিয়ে ধরা গিফট বক্স। মাতাল যেমন মদকে আগলে রেখে হেলেদুলে হাটে তেমন গিফট বক্স আগলে ধরে এঁকেবেঁকে হাটছে। চমৎকার একটা দৃশ্য। একেবারে ফ্রেমে বেধে রাখার মতো। আমার ভাবনার ব্রেক কষলো প্রদীপ।

"মা এই নিন আপনার জন্য ছোট্ট একটা উপহার। আশা করি আপনার উপকারে আসবে।"

প্রদীপের কথায় ভাবনা থেকে বের হয়ে প্রদীপের দিকে চোখ দিলাম। দেখলাম গিফট বক্স আমার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে একগাল হেসে আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে প্রদীপ। আমি বিনা বাক্যে গিফট বক্স হাতে নিলাম। ফর্মালিটিবশত গম্ভীরমুখে বললাম,

"কী দরকার ছিলো এসবের?"

প্রদীপ হেসে বলল,

"আমি জানি আপনার মনে ঠুস ঠাস করে বাজি ফুটছে। কিন্তু তাও আপনি নিজের পেত্নীর মতো মুখকে পেচার মতো করার অভিনয় করছেন। বিশ্রী লাগছে যদিও। তাও কী করা,ছেলে হয়ে এ টুকু তো সহ্য করতেই হয়। যাক গে, গিফট খুলে দেখুন তো পছন্দ হয় কিনা।"

প্রদীপের খেজুরের কাটা দিয়ে দেয়া খোচার পরে আমার আর কিছু বলার রইলো না। আমি গিফট খুলায় মন দিলাম। পুরোটা খোলার আগেই সেখানে এন্ট্রি নিলো শ্যামবতা। ঝড়ের বেগে এসে ঠাস করে একটা চড় বসালেন গালে। চড়ের শব্দ কানে আসতেই আমি গালে হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে নিলাম। খানিক পরে গালে ব্যাথা অনুভব না করায় চোখ খুলে তাকালাম ঘটনা বুঝার জন্য। চোখে পড়লো গালে হাত দিয়ে ব্যাথাতুর চেহারায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রদীপের দিকে। আমি অবাক হয়ে শ্যামবতার দিকে তাকালাম। দেখলাম শ্যামবতা তার মরিচি চেহারা নিয়ে তাকিয়ে আছেন প্রদীপের দিকে। আমার বুঝতে বাকি রইল না যে চড়ের ব্যাথা না লাগার কারণ। চড় আমাকে মারেন নি শ্যামবতা মেরেছেন প্রদীপকে। কিন্তু কেনো! তাছাড়া শ্যামবতা আমাকে ছাড়াও অন্য কাউকে মারতে পারে? প্রশ্নটা কানে যেতেই আমি শ্যামবতার কাছে গিয়ে ধীর কন্ঠে বললাম,

"আপনার কালেকশনে আমি ছাড়া অন্য কারো জন্য চড় বরাদ্দ আছে! স্ট্রেঞ্জ! কখনো বলেন নি যে!"

আমার কথা কানে যেতেই শ্যামবতা নিজের মরিচি চেহারা তাক করলেন আমার দিকে। আমি ভয়ে ঢোক গিললাম। শ্যামবতা প্রদীপের মুখের উপর ঠাস করে দরজা লাগালেন। এরপর তার কালেকশনে থাকা দেনমোহর থেকে খানিক দেনমোহরের চিটা দিলেন আমাকে। অর্থাৎ, দশটা না পাঁচটা না একটা মাত্র চড় বসালেন গালে। আমি ঢোক গিলার দ্বিতীয় পর্ব শেষ করলাম। শ্যামবতা রাগত কন্ঠে বললেন,

"একটা কথা কান নাক খুলে শুনে রাখ, জীবনে সব সুযোগ মিস করতে পারি কিন্তু কাউকে চড় দেয়ার সুযোগ মিস করতে পারি না। জীবনে সব কিছু নিয়ে কিপ্টামি করতে পারি কিন্তু কাউকে চড় দেয়ার ব্যাপার কোন কিপ্টামি করি না। চড় দেয়া আমার নেশা, চড় দেয়া আমার পেশা। চড় এক্সপার্ট আমি। সো, বি কেয়ারফুল ফল। মন মেজাজ এমনিতেই বুদবৃহস করা ফুটন্ত পানির মতো গরম হয়ে আছে। আরো গরম করিস না। না হয় চড় থেরাপি দিবো। মনে থাকবে? "

আমি ভীত হয়ে মাথা নাড়ালাম। শ্যামবতা আবারো বললেন,

"যা এখন হাঁসের মতো প্যাঁকপ্যাঁক না করে মাকে ডেকে আন। "

আমি মাথা নাড়িয়ে রুমের দিকে পা বাড়ালাম। উদ্দেশ্য আগে গিফট বক্স রাখবো তারপর শ্বাশুড়ি মাকে ডেকে আনবো। কিন্তু শ্যামবতা আর প্রদীপের মধ্যকার কিছু মাথায় আসছে না আমার। না জানি আবার আমার কপালে শনি আসে। ভাবতে ভাবতে রুমে চলে গেলাম। গিফট বক্স রেখে ফিরতে গিয়ে কী মনে করে গিফট বক্সটা খুলতে লাগলাম। র‍্যাপিং পেপার ছিড়ে কাগজের কার্টন খুলেই হতবাক আমি। এটাকেও উপহার বলে! তাও কিনা ওয়েডিং গিফট! প্রদীপ আমার জন্য কার্টন ভর্তি শুকনো ধানের ঘাস পাঠিয়েছে। সাথে আবার একটা চিরকুট ও দিয়েছে। আমি চিরকুট খুলে পড়তে শুরু করলাম,

"শুনলাম আপনি নাকি আজকাল ডিম পাড়া শুরু করেছেন? কথাটা প্রথমে শুনে আমি অবাক হয়েছি। তারপর মুগ্ধ হয়েছি। আফসোস ও করেছি, আপনার পাড়া ডিম খাওয়ার সুযোগ আই মিন আপনাকে মা বানানোর সুযোগ হাতছাড়া করার জন্য। যাক গে, আপনার প্রতিভাকে উৎসাহ দেয়ার জন্য অনেক গাদার খাটুনি খেটে এই শুকনো ঘাস জোগাড় করেছি। শুনেছি গ্রামের মহিলারা এই ঘাসে হাস,মুরগীকে তাদের ডিমের সাথে রাখে তা দেয়ার জন্য। আপনি ও যাতে তা দিতে পারেন তাই এই ছোট্ট ব্যবস্থা। এ ছাড়া আপনি চাইলে এই ঘাস খেতেও পারেন। এতে করে আপনার শরীর স্বাস্থ্য এবং জং ধরা মস্তিষ্কটা সজাগ থাকবে। আপনার সুখ এবং খুশি আমার কামনা।

ইতি

আপনার না হওয়া স্বামীর প্রথম পক্ষের স্ত্রীর না হওয়া সতিনের না হওয়া স্বামীর বাবার স্ত্রীর ভাইয়ের ভগ্নিপতির একমাত্র পুত্রাসন্তান।"

চিরকুট আর গিফট দেখে আমার মাথা ভনভন করছে। প্রদীপ এই সংবাদটা শুনলো কোথায়? তবে কী বিশ্ববাসী জেনে গেছে যে আমি ডিম পাড়তে জানি? মানে তাদের মতে জানি আরকি। আমি তো জানি না। এটার উদ্ভাবক শ্যামবতা। উনি কী মিডিয়াকে জানিয়ে দিয়েছেন? তারা সব জায়গায় প্রচার করেছে। টিভিতে দেখেই প্রদীপ এসেছে। এমনটা হতে পারে! ভাবতেই মাথা ঝাকালাম। না এটা হতে পারে না কিছুতেই না। খানিকক্ষণ ঘরময় পায়চারি করলাম তারপর হতদন্ত হয়ে বসার রুমে এসে টিভি ছাড়লাম। একের পর এক চ্যানেল পাল্টেও কোন সত্যতা পেলাম না। প্রচার হলে দেখাতো। নিশ্চয়ই মিডিয়া অব্দি যায় নি। ভেবেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। তারপর শ্যামবতার আদেশ মনে হতেই মাকে ডেকে সদর দরজায় গেলাম। দেখলাম। শ্যামবতা রাগত চেহারায় দাঁড়িয়ে আছেন দরজায়। আর দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে আছে প্রদীপ। সে আগের অবস্থাতেই নত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে আছে। দুজনেই নিরব। নিরবতা ভেঙে শ্যামবতা রাগত কন্ঠে বললেন,

" কই? "

প্রদীপ মাথা নিচু করে জবাব দিলো,

"আমার বাসার পাশের পুকুরে আছে কৈ। এ ছাড়া ও মাছ বাজারে এ আছে। ২৩৭টাকা কেজি করে বিক্রি হচ্ছে। দেখে আসছি সকালে। ওগুলো জীবত। আর মৃতদের কয়েকটা আমাদের ফ্রিজে আছে। আপনি চাইলে এনে দিতে পারি। "

শ্যামবতা হুংকার ছেড়ে বললেন,

"আমি মাছের কথা জানতে চাইনি। আমার বোন দিতিয়া কই আমি মিন কোথায় সেটা জানতে চেয়েছি। তো বলেন মিস্টার, চেরাগের কেরাসিন না দেয়া প্রদীপ, আপনি এইসব প্লাস্টিক মার্কা কথাবার্তা ছেড়ে একদম ঢাকা-চট্রগ্রাম রুটের মতো সোজাসাপ্টা বলে দিন আমার বোন দিতিয়া কোথায়? আপনি মাস্ক পরা থাকার কারণে অন্য কেউ না চিনলে ও আমি চিনেছি গাজী আংকেলের দেখানো স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে থাকা যুগলে মেয়েটা যে কিনা আমার বোন দিতিয়া । আর সাথে থাকা ছেলেটাই আপনি ছিলেন। সো কথা না বাড়িয়ে মূল কথায় আসুন। অন্যথায় চড় থেরাপি চলবে। "

শ্যামবতার কথা শুনে আমি অবাকের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেলাম। দিতিয়া আর প্রদীপ ছিলো একসাথে! মাস্ক পরা থাকায় চিনিনি আমি। এরা একসাথে মানে এরা রিলেশনে আছে! আল্লাহ! নাকের নিচে দিতিয়া এসব করেছে আমাকে বলে ও নি। একবার পাই তারপর তার মীরজাফরগিরি বের করবো। এরা দুজনেই পাক্কা অভিনেতা। দিতিয়া যেমন প্রদীপ ও তেমন। আমাকে দেখে এমন ভান করছিলো যেন সত্যিই আমার জন্য এসেছে। আর সাথে গিফট ও নিয়ে এসেছে। কী অভিনয়! ধরা পড়ে আসার সময় কেউ গিফট নিয়ে আসে? তখন মাথায় এত কিছু থাকে! প্রদীপের কান্ডকারখানা দেখে আমি অবাক হচ্ছি। শ্যামবতা জেরা শুরু করে দিয়েছেন। শ্বাশুড়ি মা ঘটনা বুঝায় শ্যামবতাকে থামাতে মত্ত আছেন। আমি শ্যামবতার গর্জন শুনে কিছু বলার সাহস পাচ্ছিনা। তাই চুপ করেই আছি। শ্যামবতার জেরার মুখে পড়ে আধঘন্টা পর প্রদীপ মুখ খুললো। জানালো দিতিয়া নিচতলায় আছে। শ্যামবতা কল দিয়ে আসতে বললে ঝড়ের বেগে এসে হাজির হলো। এসে সবার আগে প্রদীপের দিকে তাকিয়ে দৃঢ় কন্ঠে বলল,

"এভ্রিথিং অল রাইট স্বপ্নীল?"

প্রদীপ মাথা নাড়িয়ে ইশারায় সামনে তাকাতে বলল। দিতিয়া ইশারা বুঝে সামনে তাকিয়ে ভাই মা আর আমাকে দেখে চমকে গেলো। হয়তো খানিকের জন্য আমাদের ভুলে গিয়েছিলো। দিতিয়ার চোখে মুখে ভয় ফুটে উঠলো। ঢোক গিলে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইলো। শ্বাশুড়ি মা রাগান্বিত কন্ঠে বললেন,

"দিতিয়া এই ছেলের সাথে তুই কী করছিস? তোদের কী সম্পর্ক?"

শ্যামবতা তাচ্ছিল্যে দাঁত কিড়মিড় করে বললেন,

"মা তোমার মেয়ে কী করেছে জানো? স্টেডিয়ামে গিয়ে পাশাপাশি বসে পপকন খেতে খেতে খেলা দেখছিলো। সাথে দুজনে মিলে সেকি হাসাহাসি! খেলা দেখতে গিয়েই এদের দেখে ডেকে এনেছি। "

শ্যামবতার কথা শুনে শ্বাশুড়ি দিতিয়ার কাধ ঝাকিয়ে বললেন,

" কী রে বল? কী সম্পর্ক তোদের? স্টেডিয়ামে হাজার লোকের মাঝে কেলোর কীর্তি তো ভালোই করেছিস। এখন ভয় পাচ্ছিস কেনো! বল?"

চিৎকার করে উঠলেন তিনি। তাতে কেঁপে উঠলো দিতিয়া আর প্রদীপ। দুজনে একে অপরের দিকে তাকিয়ে সমস্বরে বললেন,

"হাঁপানি রোগে আক্রান্ত গরুর থেকেও বেশি টানের সম্পর্ক আমাদের।"

আমি হা করে তাকিয়ে আছি দিতিয়ার দিকে। দেখছি তার মীরজাফরগিরি। তবে তাদের এই কথাটাই আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করলো শ্যামবতা আর শ্বাশুড়ি মায়ের কাছে। দুজনে একে অপরের দিকে তাকিয়ে ইশারায় কিছু কথা সেরে নিলেন তারপর আক্রমণ চালালেন দিতিয়া আর প্রদীপের গালে। ধুরুম ধুরুম শব্দ কানে বাজলো দশবার। তারপর শেষ শব্দটা হলো ঠায়াসসস। অর্থ্যাৎ কিছু পড়ার শব্দ। জনপ্রতি পাঁচটা করে চড় খেয়ে বেচারা বেচারি আর টিকতে পারলো না। অজ্ঞান রাজ্যে পাড়ি দিলো।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন