ফন্ট সাইজ:
থিম:
ক্রাশ কনফেশন

২০তম পর্ব

লেখক: আফিয়া আপ্পিতা

ক্রাশ কনফেশন

লেখাঃ আফিয়া আপ্পিতা

পর্ব- ২০

"আপনি কী আসবেন আমায় নিতে?"

"না, যেতে পারবো না। অজগর চলে এসেছে। পুরো বাসায় গোলমাল কান্ড কারখানা শুরু হয়েছে। "

অজগর! বাসায় অজগর! আল্লাহ! কিভাবে গেল? কামড় তামড় দিচ্ছে না তো! আল্লাহ রক্ষা করো। অনেক দিন পর আজ কলেজ এসেছি। টিফিন টাইমে বোরিং লাগছিলো তাই শ্যামবতা নক দিলাম। উনি আবার আমাকে নিতে আসবেন বলেছিলেন। নক দিতেই শুনি এই কাহিনী। অজাগর সাপের বাসায় গেছে শুনেই আমার গা কাঁপতে শুরু করেছে। কাঁপা মনে সিদ্ধান্ত ও নিয়ে ফেলেছি আজ ওই বাসায় যাবো না। আজ না, কখনো যাবো না। উল্লুকের সর্দার ভাল্লুককে খেয়ে ফেলুক অজগর। এতক্ষণে খেয়ে ফেলেছে কিনা কে জানে? নাকি শ্যামবতাই অজগর সাপকে খেয়ে ফেলেছে? হতে পারে। ওই উল্লুক ভাল্লুকের পক্ষে অসম্ভব নয় এটা। দেখা যাক কে কাকে খেলো। কল দিলাম। ওমা! একবার দিতেই রিসিভ হলো।

" কিরে পেত্নীর পেত্না? পিঠে ধড়াম ধড়াম পড়েছে চক্কর আলী স্যারের মার পড়েছে? বাসায় ফেরার তাড়া কেন তোর?"

শ্যামবতার কন্ঠ স্বাভাবিক। আমি ভ্রু কুঁচকালাম। এর মানে শ্যামবতাকে অজগর খায় নি?তাহলে কী শ্যামবতাই অজগর খেয়ে ফেলেছে! সাংঘাতিক। শিওর হতে জিজ্ঞেস করেই ফেললাম,

"শ্যামবতা আপনি এখন অজগরের পেটের অজগরের নাড়িভুড়িকে চেয়ার বানিয়ে বসে আছেন? সেখান থেকেই কথা বলছেন? অজগরের পেটে ও নেটওয়ার্ক থাকে! নাকি টাওয়ার সাথে নিয়ে গেছেন? আচ্ছা? অজগর আপনাকে কিভাবে খেয়েছে? কটকটির মতো কটকট করে চিবিয়ে নাকি মেডিসিনের মত পানি দিয়ে গিলে ফেলেছে? কিভাবে খেলো?"

"অভিহা তুই নিশ্চয়ই আজ সকালে কোন বাঁশঝাড়ের পাশ দিয়ে কলেজ গিয়েছিলি? ওখানকার কোন পাগলা জ্বিন টিন বশ করেছে তোকে। আবলতাবল বকছিস তাই তো? অজগর আমাকে খাবে কেন? এত সাহস আছে অজগরের যে আমাকে খাবে?" উপচে পড়া রাগ শ্যামবতার কন্ঠে।

"তাও ঠিক, আপনি হলেন সিংহ আর এনাকোন্ডা মতো প্রাণীর গুরু। আপনাকে খাওয়ার মত অত সাহস কারো আছে নাকি? তাও সাহস করে কামড় দিতে গেলেও আপনার শরীরের বিষ লেগে সেই মরা যাবে। বাই দ্যা পিংক কালার কুত্তার দৌড়ানি খাওয়া প্রদীপদের সেই রাস্তা, অজগর আপনাকে কামড়ায় নি, আপনি সুস্থ ও আছেন। তারমানে আপনি অজগরকে খেয়ে ফেলেছেন? কিভাবে খেলেন?"

না বলে পারলাম না। অনেক কৌতুহল কাজ করছে কিনা! আমার কথায় শ্যামবতার হুংকার ছাড়লেন ফোনের অপাশে,

" থাপড়াতে থাপড়াতে টুকরো টুকরো করে ফেলবো।

বেয়াদব বেয়াল্লিশ, দুই কম চল্লিশ। মদ গাঞ্জা খেয়েছিস? নাকি মাহফুজ স্যারের গান শুনেছিস? কিসব আবোলতাবোল তাবোল বকছিস? অজগর আমাকে কিংবা আমি অজগরকে কামড়াতে যাবো কেনো! অজগরকে আমি....

শ্যামবতার হুংকার যদিও আমি কেঁপে উঠেছিলাম। কিন্তু শ্যামবতার কথা শুনে আমার অনেক বুঝে এসেছে তাই শ্যামবতাকে থামিয়ে বললাম,

"অজগরকে আপনি ভালোবাসেন। কারণ অজগর আপনার মেলায় হারিয়ে যাওয়া ভাই। তাই কামড়াবেন না। তাই তো? আমি বুঝে গেছে। এজন্যই তো ক'দিন আগে চিড়িয়াখানায় অজগর দেখে চেনা চেনা লেগেছিলো। আচ্ছা অজগর জাতি কী আপনার বড় নাকি ছোট? তারা আমার দেবর হবে নাকি ভাসুর?"

"অভিহা তুই কী ফোন রাখবি নাকি আমি এখন চড় মেইল করবো?" শ্যামবতার ধমকে ভয় ফেলাম আমি। কিন্তু এখন আমার ভয় ফেলে চলবেনা। তাই ভয়কে জয় করে অনুরোধের সুরে বললাম,

" প্লিজ প্লিজ বলুন শ্যামবতা? আমার জানতে ইচ্ছে করছে? অজগরের টেস্ট কেমন? আপনার হজম হয়ে গেছে? আর অজগর জাতিকে আমি কী ডাকবো? অজগর ভাইয়া নাকি নাম ধরে ডাকবো? দেবর হলে নাম ধরে ডাকবো আর ভাসুর হলে ভাইয়া ডাকবো।"

শ্যামবতা খট করে ফোন কেটে দিলো। আমি আবার কল করতে উদ্ধৃত হতেই গালে ঠাস করে একটা দেনমোহর মানে চড় পড়লো। গাল হাত দিয়ে চোখ তুলে চাইলাম সামনে দেখলাম। ক্যান্টিনে আমি বসা টেবিলে আমার অপজিট চেয়ারে বসে আছে দিতিয়া। বসে বসে হাত ঘষছে। এর মানে চড়টা সেই দিয়েছি। আমি অবাক হয়ে বললাম,

"মারলি কেনো আমাকে?

দিতিয়া হেসে বলল,

"ভাতৃ আজ্ঞা। ভাইয়া মাত্র আমাকে মেইল করেছে। কড়া আদেশ দিয়েছে যাতে তোকে গুনে গুনে তিনটা চড় লাগাই। তাই আমি ভাইয়ার আদেশ পালন করছিলাম। একটা দিয়ে হাত ব্যাথা করছে বাকি দুটো পরে দিবো। এবার বল কাহিনী কী? ভাইয়া ক্ষেপছে কেনো?"

আমি গাল হাত দিয়েই নিষ্পাপ কণ্ঠে বললাম,

"আমার কী দোষ বল? উনি বললেন বাসায় নাকি অজগর আসছে। শুনে আমি ভয় পেয়ে গেছি। চিন্তায় মাথা ঝাঁজরা হয়ে যাচ্ছে। চিন্তাবশত ফোন দিয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছিলাম। এতেই ক্ষেপে গেছে। এতে ক্ষেপার কী আছে? শত হোক আমি উনার স্ত্রী না? চিন্তা হয় না বল? উনি সবসময় আমাকে ভুল বুঝেন শুধু। " দিতিয়াকে পুরো সত্যটা বললাম না।

"বাসায় অজগর! আল্লাহ রক্ষা করো! " দিতিয়াকে চিন্তিত দেখালো। এপ্রোনের পকেট থেকে ফোন বের করে কাউকে কল দিল। রিসিভ হতেই কানে দিয়ে চিন্তিত ভঙ্গিতে বলল,

"হ্যালো মা, তোমরা সবাই ঠিক আছো? অজগর কাউকে খেয়ে তেয়ে ফেলেছে?"

ওপাশ থেকে কী বলল শোনা গেলো না। দিতিয়া অবাক হয়ে বলল, "কী! আজব মেয়ের গজব কথা! তোমার পুত্রবধূ বলছে এসব আজব কথা। আমি নয়। পাগল একটা, ভাইয়া কী বলেছে আর ও কী শুনেছে। আচ্ছা রাখি মা। টিফিন টাইম শেষ। "

ফোন রেখে দিতিয়া আমার মাথায় চাটি মেরে বলল,

"তুই কানি নাকি বধির কোনটা?"

"কোনটাই নয়। কী হয়েছে সোজাসাপটা বল। শ্বাশুড়ি মা কী বলেছে? সবাই ঠিক আছে? অজগর কিভাবে আসছে? " প্রতিবাদ করে বললাম আমি। দিতিয়া রাগী চোখে তাকিয়ে বলল,

"অজগর আসছে কে বলেছে তোকে?"

"তোর ভাই বলেছে ম্যাসেজে।''

" বুদ্ধু! ভাইয়া অজগর বলে নি আজগর বলেছে। ছোট মামা এসেছে বাসায়। আজগর ছোট মামার ছেলে। ভাইয়া ওর কথাই বলেছে। 'আজগর এসেছে। তুই পড়েছিস 'অজগর এসেছে।' কী অশিক্ষিত তুই অভিহা! "

আমি আকাশ থেকে পড়লাম যেন। ফোন নিয়ে ম্যাসেজ চেক দিলাম। এতক্ষণে খেয়াল হলো ওটা অজগর ছিলো না আজগর ছিলো। আমি ভুল পড়েছি। অজগর পড়ে শ্যামবতা কত কী বলে ফেলেছি। এবার কী হবে? আমি শেষ আজ। শ্যামবতা আমাকে মেরে ফেলবে। আমি নখ কামড়ে ভীত কন্ঠে বললাম,

"এবার কী হবে দিতিয়া? আমি তোর ভাইকে কত কী বলে ফেলেছি। আজ তো আমি শেষ। "

"ভাইয়া ক্ষেপেছে মানে আজ তোর ক্লাস নিবে। বুদ্ধু!মন কোথায় থাকে তোর? কোন কিছুর খেয়াল থাকে না। আচ্ছা বাদ দে, যা হবে দেখা যাবে। দরকার হলে তুই তোদের বাসায় চলে যাস। ঘন্টা বেজে গেছে এখন চল ক্লাসে।"

অভয় দিয়ে ক্লাসে নিয়ে গেলো দিতিয়া। এদিকে আমি ভয়ে শেষ। দোয়া করছি আজ যেন ছুটি না হয়। মাসের পর মাস চলতে থাকুক ক্লাস। আমি যেন বাসায় যেতে না পারি। কিন্তু বিধিবাম! টিফিনের পর একটা সাব হয়ে ছুটে দিয়ে দেয়া হলো। কিসের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আছে নাকি! ছুটির ঘন্টা বাজতেই আমি ভয়ে ঢোক গিললাম। দিতিয়া হাত চেপে ধরলাম। দিতিয়া অভয় দিচ্ছে অবিরত। আমি ভয়ে ঘামছি। বেশিই বলে ফেলেছি। বলেছি তো বলেছি নোয়াখালী ভাষায় বললেও ভালো হতো। শ্যামবতা বুঝতো না। না জানি আজ শ্যামবতা কী করবেন?

গেটের কাছে আসতেই শ্যামবতা কল দিলেন। বললেন, সোজা বাসায় যেতে, আমাদের বাসায় বা অন্য কোথাও গেলে আজ আস্ত রাখবেন না। দিতিয়াকে ও ম্যাসেজ দিয়ে কড়া হুশিয়ারি দিয়েছেন। ভয়ে আরো আটখানা হচ্ছি। এখন যেতেই হবে ও বাসায়। নয়তো উপায় নেই। সব দিকেই বিপদ।

দোয়া পড়তে পড়তে কোনমতে বাসায় এসে পৌঁছলাম। কলিংবেল বাজিয়েছে দিতিয়া। আমি দোয়া পড়ছি। দরজা খুললেন শ্বাশুড়ি মা। আমার দিকে তাকিয়ে বললেন,

"কী হয়েছে অভিহা? তোকে এমন দেখাচ্ছে কেনো?"

আমি কৃত্রিম হেসে বললাম, "কিছু না মা।"

"তোর মামা শ্বশুর, মামী শ্বাশুড়ি এসেছে। আয় পরিচয় করিয়ে দেই। সেই কখন থেকে তোদের অপেক্ষা করছে সবাই।"

আমি মাথা নাড়িয়ে সম্মতি দিলাম। মা আমাকে টেনে ড্রয়িংরুমে নিয়ে গেলেন। সোফায় বসা ছিল মধ্যবয়সী দুইজন পুরুষ ও মহিলা। তাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন মা। আমি সালাম দিয়ে কুশল বিনিময় করলাম। চারদিকে চোখ বুলিয়ে শ্যামবতাকে খুঁজলাম। দেখলাম না। হাফ ছাড়লাম। যাক বাসায় নেই বোধহয়। হাফ ছেড়ে সোফায় বসে মামা মামীর সাথে টুকটাক কথা বলতে লাগলাম। দিতিয়া নিজের রুমে চলে গেলেন।

"মা মা জানো দিপ্ত ভাইয়ার সাথে আমি ছাদে গিয়েছি। ভাইয়াদের ছাদে অনেক ঘুড়ি আছে। মা, ও মা আমি ও ঘুড়ি উড়াবো। প্লিজ?"

বছর সাতেকের একটা ছেলে দৌড়ে এসে মামীকে বলল। বায়না মাখা কথা শুনে আমি ছেলেটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। মামী ছেলেটার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দিয়ে বললেন,

"আচ্ছা উড়াস। তবে বিকেলে,এখন নয়। ওকে?"

ছেলেটা মাথা ঝাকিয়ে সম্মতি দিলো। ছেলের পিছন পিছন এলেন শ্যামবতা। এসে আমার দিকে কড়া দৃষ্টি ফেললেন। আমি ঢোক গিলে মাথা নিচু করে ফেললাম। মামা বললেন,

"দিপ্ত অভিহার পাশে বস।"

শ্যামবতা বসলেন আমার পাশে। বসেই আমার দিকে রাগী চোখে তাকালেন। আমার ভয়ের মাত্রা বাড়ছে। আমার ভয়ের মাঝেই মামী বললেন,

"বউমা এটা তোমার একমাত্র দেবর। আমার ছেলে আজগর।"

মামীর কথায় আমি চোখ তাকালাম। দেখলাম মামী খানিক আগে আসা ছেলেটার দিকে ইশারা করছেন। ছেলেটার দিকে তাকাতেই ছেলেটা বলল,

"হায় ভাবী?"

"তুমিই অজগর?" মুখ ফসকে বলে ফেললাম আমি।

চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২০তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন