##নিষিদ্ধ ছায়া
##ইরায়া ইসলাম
##পর্ব ১
আজ প্রায় একমাস ২০ দিন পর চৌধুরী বাড়ির মেয়ে আলিজা চৌধুরী বাড়িতে ফিরবে। দুই মাস আগে একটা ঝামেলার কারণে তার ছোট চাচ্চু তাকে তার ফুপির কাছে আমেরিকা পাঠিয়ে দেয়। যদিও সে যেতে চায়নি তাকে এক প্রকার জোর করে পাঠানো হয়েছে। তার ফুপি রুমাইশা বেগম বয়স ২৯ বছর। তার দুইটা মেয়ে আছে বড় মেয়ে আদরি ১৫ বছর বয়স। ছোট মেয়ে কলি ৮ বছর বয়স। তার ফুপি ১৪ বছর বয়সে পালিয়ে বিয়ে করে জিসান তালুকদার কে। ১৫ বছর বয়সে তার গর্ভে আদুরি আসে। আদুরির বয়স যখন ৩ বছর তখন তারা আমেরিকা চলে যায়। আদুরির বয়স যখন ৭ বছর তখন ঘর আলো করে তার ছোট বোন কলি আসে। তারা এখন সেখানেই থাকে।
বর্তমান"
বিগত এক মাস ২০ দিন পর ২৫ ঘন্টা জার্নি শেষে নিজের বাড়িতে ফিরে আলিজা। এয়ারপোর্ট থেকে তাকে আনতে তার ছোট চাচ্চু রাফিদ, বড় চাচ্চু রায়হান আর তার বড় চাচ্চুর ছেলে কাব্য ভাই গাড়ি নিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তারা তার কথা শুনেনি। আলিজার বয়স সবেমাত্র ১৯ বছর। নরসিংদী রায়পুরার শান্ত এক গ্রামে রাস্তার পাশে সবুজ ঘাস, দূরে ধান খত, সামনে বড় বাউন্ডারি ওয়ালের ভিতর আধুনিক একটা ডুপ্লেক্স-সাদা-ধূসর রং কাঠের ফিনিশ, বড় কাছের বারান্দা থেকে গ্রামের বাতাস ঢুকছে। রাতের বেলায় গেটের পাশে উষ্ণ হলুদ LED লাইট জলে, সামনে ছোট বাগান, কয়েকটা পাম গাছ খুব শান্ত আর স্টাইলিশ। বাড়িটি তার দাদা বানিয়েছেন যদিও তার দাদা চার বছর আগে মারা গিয়েছেন। মারা গিয়েছেন নাকি খুন হয়েছে ঠিক বলা যাচ্ছে না..!!!
আলিজার বাপ-চাচারা তিনজন আর তার ফুপি। সবার বড় রায়হান চৌধুরী তার স্ত্রী রাবেয়া বেগম তাদের একমাত্র ছেলে কাব্য চৌধুরী। আলিজার থেকে ৩ বছরের বড়। রায়হান চৌধুরীর পর রাইয়ান চৌধুরী আলিজার বাবা। আলিজার মা আরো ১৬ বছর আগে মারা গিয়েছেন তখন আলিজার বয়স ৩ বছর। রাইয়ান চৌধুরীর পর রাফিদ চৌধুরী তার স্ত্রী শারমিন বেগম তাদের জমজ দুইটা ছেলে আছে। বড় ছেলে আরভিদ আর ছোট ছেলে রাদিব। আলিজার ৫ বছরের ছোট দুজন। দুজন সারা দিন মারামারি করতেই থাকে। আর দুজন আলিজার কাছে এসে বিচার দেয়। তখন আলিজা দুজন কে গালি দিয়ে বলবে-
"শালার ভাইরা তোদের বিচার করতে করতে আমার জীবন যৌবন শেষ হয়ে গেলো Next time আমার কাছে এলে সোজা উপরের টিকেট হাতে ধরিয়ে দিবো"
আলিজা অনেক দিন পর বাড়িতে আসায় তার সব প্রিয় খাবার রান্না করা হয়েছে। আলিজা বাড়িতে ফিরেছে প্রায় বিকাল ৩ঃ০০ টার দিকে। এসে আগে ফ্রেশ হয়ে shower নিয়ে নিয়েছে। ২ ঘণ্টা পর ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে সোজা ঘুমিয়ে পড়েছে। ফোন সাইলেন্ট করে রেখেছে যেন কেউ তার ঘুমের বারোটা না বাজাতে পারে আর বাসার কেউ তাকে বিরক্ত করবে না সেটা তার জানা আছে। তার জীবনের যত সমস্যা সব সমস্যার সমাধান ঘুম। একবার তার ঘুমের মধ্যে তার দাদি বারোটা বাজিয়ে ছিল তাই সে বাসা থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। প্রায় এক মাসের মত একটা বাড়িতে ভাড়া ছিল সে। সারাদিন ঘুমাতো আর খিদে পেলে অনলাইনে অর্ডার করে খেয়ে নিতো। অনেক কষ্টে তাকে সবাই খুজে পেয়েছিল। তাকে অনেক বুঝিয়ে বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাকে আর কেউ ঘুমের মধ্যে ডাকতো না।
রাত প্রায় ১ টার কাছাকাছি আলিজারর ঘুম ভেঙে যায়। আলিজা ফোন হাতে নিয়ে দেখে ১২:৫৪ বাজে। তখন আলিজা বলে ওঠে সাওয়ার ঘুম আমার ভাঙ্গার time পাইলো নাহ। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে কতক্ষণ ফেসবুক স্ক্রল করল। তার পেটে ক্ষুধা পেয়েছে। তাই সে উঠে রান্না ঘরের দিকে যায়। যে দেখে তার সব প্রিয় খাবার আজ রান্না করা হয়েছে। তা দেখে তার ক্ষুধা আরো বেড়ে যায়। কোনো মতে খাবার বেড়ে নিজের ঘরে চলে গেল।
তাদের বাড়ির নিচ তলায় বিশাল ড্রয়িং রুম, চারটা বেডরুম, সঙ্গে অ্যাটাচ ওয়াশরুম, একটা স্টোর রুম। দোতালায় চারটা বেডরুম, সঙ্গে এটাচ ওয়াশ রুম দুইটা গেস্ট রুম প্রতিটা রুমেই আলাদা আলাদা করে বারান্দা রয়েছে। বেশ জাঁকজমক করে বাড়িটি বানানো হয়েছিল। বাড়িটি বানাতে প্রায় খরচ ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি ২ লাখ টাকা লেগেছে। আলিজাদের টাকা পয়সা জায়গায় জমি কোন কিছুর অভাব নেই তাদের ফ্যামিলি বিজনেস রয়েছে তার দাদা বিজনেস শুরু করেছিল। এখন তার বড় চাচ্চু বিজনেস সামলায় তার। ছোট চাচ্চু একজন এমপি সময় পেলে সে মাঝে মাঝে অফিসে যায় আর আলিজার বাবা লন্ডন থাকেন। কলিজা last কবে তার বাবাকে বাবা বলে ডেকেছে তার মনে নেই। তার বাবার সাথে তার সম্পর্কটা একদমই ভালো না।
আলিজা কখনো সবার সাথে ড্রয়িং রুমে বসে খায় না। ড্রয়িংরুমে তাদের বিশাল ড্রয়িং টেবিল আছে। সবাই একসাথে ড্রইং টেবিল এ খেলেও সে ঘরে বসে বসে cartoon দেখতে দেখতে খায়।
ডোরেমন দেখতে দেখতে খাওয়া শেষ করল। তার কিছু একটা মনে পড়তেই সে দৌড়ে ছাদে চলে যায়, গিয়ে দেখে তার কাব্য ভাই গিটার নিয়ে বসে আছে। আলিজা ধীর পায়ে কাব্যের পাশে গিয়ে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে কাব্যের গা ঘেষে বসে পড়ে। কাব্য জিজ্ঞাসা করল-
"ঘুম ভেঙেছে কখন??"
"কতক্ষণ আগে"
"খেয়েছিস??"
"হ্যাঁ"
কাব্য পকেট থেকে দুইটা সিগারেটের প্যাকেট বের করে। একটা Mond আরেকটা Benson। আলিজা কাব্যের দিকে তাকিয়ে বলে-
"তুমি কবে থেকে এই Mond খাওয়া ধরলা??"
কাব্য সামান্য হেসে বলল-
"তোর জন্য এনেছি"
আলিজা প্রশ্ন করলো-
"আমার লইগা??"
কাব্য মাথা ঝাঁকালো। আলিজা এতক্ষণ খেয়াল করেনি কাব্য ভাইয়ের পাশে দুইটা beer এর বোতল ও আছে। আলিজা বোতল দুটোর দিকে ইশারা করে বলল-
"ওইগুলো কার লইগা??"
কাব্য পুনরায় জবাব দিল-
"তোর আর আমার জন্য"
আলিজা যেন আকাশ থেকে পড়ল। কাব্য ভাই যে কিনা তাকে এসব খেতে দেখলে ধমকে উঠতো। সে আজ তার জন্য এসব এনেছে। আলিজা কাব্য কে জিজ্ঞাসা করল-
"এত ভালো কবে দিয়া হইলা কাব্য ভাই নাকি জিনে টিনে ধরছে তোমারে??"
কাব্য বললো-
"শুধু আজকের জন্য এনেছি অনেকদিন বাদে একসাথে কথা বলব বলে"
আলিজা ঠোঁট উল্টে বলল-
''যাই হোক আমার এহন এইগুলার প্রয়োজন ছিল পাইয়া তো গেছি"।
—চলবে—