#তোমাকে_ভাবিনি_কখনও (১৬)
#মায়িশা_নুরাইন
রুমের মেঝেতে মুখ থুবড়ে পরে আছে রবিন৷ কিয়ান হটাৎই এগিয়ে গিয়ে তার কলার ধরে টেনে তুলে বলে,
" রবিন, শেষবারের মতো বলছি শান্ত কোথায় আমাকে বল। "
রবিন হাপিয়ে উঠে বলে,
" আমি সত্যিই জানি নাহ শান্ত কোথায় আছে। "
" তুই ছাড়া আর কে জানবে? শান্ত দেশে আসা থেকে থাকা-খাওয়া সবই তোকে জানিয়েই করেছে। আজও নিশ্চিত সে তোকে বলেই নীলাকে কিডন্যাপ করেছে। "
রিপন সহ তাদের বন্ধুরা এসে কিয়ানের হাত থেকে রবিনকে টেনে ছাড়ায়৷ রিপন বলে,
" তুই শান্ত হ। শুধু শুধু বন্ধুদের মধ্যে ঝামেলা বাড়ানোর দরকার নেই। শান্ত হয়ে জিজ্ঞাসা কর। "
একটু আগের কিয়ানের আঘাতে রবিনের ঠোঁট কে'টে র'ক্ত বেরিয়ে পরেছে। সে ঠোঁট মুছে নিয়ে শান্ত হয়ে দাঁড়ায়। রাগে অস্হির হয়ে পরা কিয়ানের সামনে এসে শান্ত স্বরে বলে,
" শান্ত দেশে এসে একটা ফার্মহাউজ কিনেছে। সেখানেই থাকছে সে। সম্ভবত এখনও সেখানেই গিয়েছে। "
রবিন ফার্মহাউজের ঠিকানা জানাতেই কিয়ান একপলক রবিনের দিকে লাল চোখে তাকায়। তারপর কিছু না বলে হনহন করে বেরিয়ে যায়। অনুষ্ঠানের স্হানে গিয়ে নাবিহাকে ডেকে বলে,
" চলো আমার সাথে। "
" স্যার নীলা? "
" সাথে আসতে বলেছি। "
নাবিহার কিছুটা অস্বস্তি হওয়া স্বত্ত্বেও সে কিয়ানের সাথে বেরিয়ে পরে। কিয়ান উপরে বেশ শান্ত থাকলেও ভেতরে ভেতরে তার খুব টেনশন হচ্ছিলো। শান্তর স্বভাব মোটেও ভালো নয়। বিদেশে থাকাকালীন একাধিক মেয়ের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। শুধু তাই নয়, অনেক মেয়ের সাথে তার বেড পর্যন্তও যাওয়া হয়েছে। তারা অনেক বুঝালেও শান্ত শুনে নি। তবুও বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় থাকলেও সবশেষে সেই ঘটনা তাদের সম্পর্কে চির ধরিয়েছে।
************
নীলার জ্ঞান ফিরতেই এক অসহ্য যন্ত্রণা তাকে ঝেঁকে ধরে। মাথা চেপে ধরে সে ধীরে ধীরে উঠে বসে। মাথাটা যেন ভার ভার হয়ে আছে। সে চোখ পিটপিট করে চারপাশে তাকায়। নিজেকে একটা খালি রুমে শুয়ে থাকতে দেখে অবাক হয়। কিছুই মনে পরছে নাহ তার। সে নিজের মনে বিরবিরিয়ে উঠে,
" এটা কোন জায়গা? আমি...আমি এখানে কিভাবে আসলাম? "
চারপাশে নাবিহাকে না পেয়ে মৃদু স্বরে ডেকে উঠে।
" নাবু?..... নাবিহা? কোথায় তুই? "
খট করে রুমের দরজা খুলতেই নীলা সেদিকে তাকিয়ে চমকে উঠে। একটি পুরুষকে রুমে প্রবেশ করতে দেখে নীলা ভয় পেয়ে যায়। কাঁপা কন্ঠে বলে উঠে,
" ক-কে আপনি? এ-এই রুমে কি করছেন? "
পুরুষটি খুবই শান্ত কন্ঠে বলে,
" রিল্যাক্স ঝাঁঝ লঙ্কা, ভয় পাচ্ছো নাকি তুমি? একদম ভয় পাবে নাহ। আমরা আমরাই তো। বি কুল বেইবি। "
লোকটি এগিয়ে আসতেই তার চেহারা স্পষ্ট হয়। নীলার কাছে ছেলেটিকে খুব পরিচিত লাগছিলো।
" আপনি?.....কে আপনি? "
" ওহ শিট! এত তাড়াতাড়ি আমাকে ভুলে যাবে ভাবি নি। শুনে কষ্ট পেলাম। যাই হোক, আমি শান্ত। রিমেম্বার, ইউ স্লেপ্ট মি দ্যাট ডে? "
থাপ্পড়ের কথা শুনেই নীলার সবটা পরিষ্কার হয়ে যায়। সাথে সাথে তার চেহারার ভয় কেটে গিয়ে সেখানে রাগ ভেসে উঠে। সে রাগী কন্ঠে বলে উঠে,
" ওহ, আই সী! তুই সেই জা'নোয়ারটা। তাই তো বলি এত পরিচিত লাগছে কেন? "
নীলার মুখে নিজের সম্পর্কে এমন কথা শুনে শান্তর রাগ হয়। তবুও সে স্বাভাবিক স্বরে বলে,
" ইয়েস বেইব, আমিই সেই জা'নোয়ারটা৷ আর এই জা'নোয়ারটা এখন তোমার সাথে মস্তি করবে বেইব। বুঝতেই তো পারছো, সম্পূর্ণ বাড়িতে তুমি আমি একা। যত ইচ্ছা চিৎকার করতে পারো, কেউ শুনবে নাহ আমাদের। "
নীলা একটু ঘাবড়ে যায়। তবুও যথাসম্ভব নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করে। তার বাবা বলে সবসময় শত্রুর সামনে নিজের দূর্বলতা প্রকাশ করা উচিত নাহ। বরং তার কথায় প্রভাবিত না হলে উল্টো শত্রুই ঘাবড়ে যাবে। নীলা বাবার কথা স্বরণ করে নিজেকে শক্ত রাখে। শান্ত ধীরে পায়ে এগিয়ে আসে৷ মুখে তার এক বিশ্রি হাসি লেগে আছে। যেই হাসি নীলার ভেতরে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে। নীলা সুযোগে আশেপাশে তাকায়। প্রতিরক্ষার জন্য কিছু পাওয়ায় যায় কি না খুঁজতে থাকে। তার চোখে পরে বেডসাইড টেবিলের উপর একটা কাঁচের বোতল রাখা। সম্ভবত কোন ম'দের বোতল
হবে হয়তো। নীলার মুখে হাসি ফুটে উঠে।
সে তার কুটিল হাসি নিয়ে শান্তর দিকে তাকালে শান্ত ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
" স্যারেন্ডার করে নিলে নাকি? বাহ! তবে তো আমারই ভালো হলো। "
নীলা কিছু না বললেও শান্ত তার শান্ত থাকাকে সম্মতি ধরে নেয়। সে ভাবেও নি নীলাকে এত সহজে পেয়ে যাবে। তবে তো তেমন কষ্টর প্রয়োজনই ছিলো নাহ৷ সে নীলার দিকে ঝাঁপিয়ে পরতে নিলে নীলা সাইড হয়ে বিছানা থেকে নেমেই হাতে কাঁচের বোতলটি তুলে নেয়। বোতলটি সজোরে দেয়ালে বারি দিয়ে ভেঙে নেয়।
" আচ্ছা, এই ছিলো তোমার মনে? তাই তো বলি এত সহজে নিজেকে সপে দিচ্ছো কিভাবে? বুঝলাম, আমাকে এবার হার্ড ওয়েতেই তোমাকে পেতে হবে। "
বলেই সে এগিয়ে আসতে নীলা কঠিন গলায় বলে,
" আমার থেকে দূরে থাক, সেটাই তোর জন্য ভালো হবে। ভুলেও কাছে আসবি নাহ। "
" হোয়াই বেইব, কাছে আসলে কি ওই জিনিসটা দিয়ে আমায় আঘাত করবে? সেই সাহস তোমার আছে? একদিন থা'প্পড় দেওয়ার সাহস....... "
শান্তর মুখের কথা আটকে যায়। সে কখনও ভাবতেও পারে নি নীলার মতো মেয়ে কোন ভয় না পেয়ে সত্যিই কারও উপর আঘাত করতে পারে। কাঁচের টুকরো হাতের বাহুতে ঢুকে যেতেই শান্ত ব্যাথায় কুঁকড়ে যায়। অপর হাতে বাহু চেপে ধরে নীলার কঠিন চেহারা দিকে তাকিয়ে থাকে। তার রাগ এ পর্যায়ে তরতর করে বাড়তে থাকে। সে নিজের ব্যাথাকে পাত্তা না দিয়ে হিংস্র প্রাণীর মতো নীলার উপর ঝাঁপিয়ে পরে। কাচের বোতল ধরা হাতটা চেপে ধরে সে নীলার চুলের মুঠি খা'মচে ধরে।
" ইউ বি'চ, ভেবেছিলাম তোকে খুব নরমভাবে আদর করবো। কিন্তু তোদের তো আবার নরম-সরমে পোশায় নাহ। তোকে আজ আর ছাড়ছি নাহ। কি ভেবেছিস, আঘাত করলেই পার পেয়ে যাবি? এই শান্তর হাত থেকে পালানো এত সহজ নাহ। "
চুলের মুঠি চেপে ধরায় নীলা একটু কাবু হয়ে যায়। মেয়েদের এক সংবেদনশীল অংশ তাদের চুল। এখানে আঘাত করলে মেয়েরা দূর্বল হয়ে পরে। তবে নীলা তখনও হাল ছাড়ে নি। যেহেতু শান্তর এক হাত ইন্জুর্ড, তাই সে চাইলেই নিজেকে ছাড়াতে পারবে। তাই সে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে শান্তর ব্যাথা হাতে পুনরায় আঘাত করে। আহত হাতে পুনরায় আঘাত পেতেই শান্ত তাকে ছেড়ে দিয়ে যন্ত্রনায় গর্জে উঠে।
এই সুযোগে নীলা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। রুমের দরজা পেরিয়ে বাহিরে পৌছে গেলেই তার এতক্ষণের ভয় ঝেঁকে ধরে। একটা অচেনা জায়গায় একাকী এসে সে পালানোর রাস্তা না পেয়ে ঘাবড়ে যায়৷ পেছন থেকে শান্তর ভয়ঙ্কর গর্জন ভেসে আসছে। নিশ্চয়ই তাকেই ধরতে আসছে। এবার সে কি করবে! তার সাথে তো তার ব্যাগটাও ছিলো নাহ। বাবাকে কিভাবে জানাবে সে এখানে বিপদে পরেছে। বাবা তো জানবেও না সে কোথায় আছে। এমনকি সে নিজেও তো জায়গাটা চিনতে পারছে নাহ। চারপাশে ঘুটঘুটে অন্ধকারের মাঝে নীলা খুব অসহায় হয়ে পরে। পেছন থেকে শান্তর কন্ঠ ভেসে আসে।
" তুই আমার হাত ফসকে যেতে পারবি নাহ। বারবার আমাকে আঘাত করে পালিয়ে যাবি ভাবছিস? আজ আমার হাত থেকে তোর রক্ষা নেই। এই সবাই ধর মেয়েটাকে। "
নীলা বাড়ি পেরিয়ে রাস্তায় প্রাণপনে দৌড়াতে থাকে। খেয়াল করে এখন শান্তর পাশাপাশি আরও কতগুলো লোক তাকে ধরার জন্য ছুটে আসছে। নীলা ভাবতেও পারে নি এখানে আরও লোকজন ছিলো। নীলা প্রচন্ড ঘাবড়ে যায়। একা শান্তকে আঘাত করে জখম করা সম্ভব হলেও এতগুলো মানুষের সাথে সে একাকী পেরে উঠবে নাহ।
এতক্ষণে বেশ রাত হয়ে গেছে। চারপাশে মানুষ তো দূর, কোন কাকপক্ষীরও দেখা নেই। দৌড়াতে গিয়ে হটাৎ নীলা মুখ থুবড়ে পরে যায়। এতে পিচঢালা রাস্তায় পরে গিয়ে নীলার হাত পা মারাত্মকভাবে জ'খম হয়ে যায়৷ জামার একপাশে ছিড়ে যাওয়ায় তার দৌড়াতে অসুবিধা হচ্ছিলো৷ তাই নীলা জামার ছেড়া অংশটি টেনে ছিড়ে নিয়ে পুনরায় পালাতে থাকে। ছেলেগুলো তার খুব কাছে চলে এসেছে। একটু আগে পরে যাওয়ায় তার দৌড়ের গতি কমে গিয়েছে। ফলে সহজেই সে ছেলেগুলোর হাতে ধরা পরে। নীলা নিজেকে ছাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে। তবে পূর্বে হাতে জ'খম হওয়ায় সে নিজেকে ছাড়াতে পারছে নাহ। এই পর্যায়ে খুব অসহায় লাগতে শুরু করে তার। কেউ কি আসবে নাহ তাকে বাঁচাতে! এভাবেই আজ সে নিঃশেষ হয়ে যাবে! বাবা কি জানতেও পারবে নাহ তার একমাত্র আদুরে মেয়ে আজ কত বড় বিপদের সম্মুখীন হয়েছে!
এক তীব্র আলোয় সবার চোখ ধাঁধিয়ে যায়৷ নীলা সেই সুযোগে হাত ছাড়িয়ে পালাতে যায়। তবে সোজা গিয়ে কারও
বুকে ধাক্কা খায়। নীলা সেই খারাপ লোকগুলো ভেবে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে লোকটির গালে ঘু'ষি লাগায়৷ তবে লোকটি তাকে ছাড়ে নাহ। ছটফটিয়ে উঠা নীলাকে শক্ত করে বুকে চেপে ধরে বলে,
" নীলা, শান্ত হও। তাকিয়ে দেখো, আমি কিয়ান৷ "
কিয়ানের কন্ঠ শুনে নীলা ছটফটিয়ে কেঁদে উঠে। ধাক্কা দিয়ে সরানোর চেষ্টা করে সে। তার বিশ্বাসই হচ্ছে নাহ কিয়ান এসেছে।
" ছাড়ুন আমায়। আমাকে যেতে দিন৷ আমি আর সহ্য করতে পারছি নাহ৷ মুক্তি দিন আমায়। "
নীলার ক্রমাগত আঘাতের মাঝেও কিয়ান তাকে শক্ত করে ধরে সামলানোর চেষ্টা করে। দূর থেকে গাড়ির আলোয় সে এলোমেলো নীলাকে স্পষ্ট দেখতে পায়। তাই তো কিছু না ভেবেই দ্রুত এসে মেয়েটিকে সামলাতে বুকে আগলে নেয়।
আঘাতপ্রাপ্ত শান্ত মাঝরাস্তায় এসে কিয়ানকে উপস্হিত হতে দেখে ঘাবড়ে যায়৷ এই মুহুর্তে তার উপস্হিতি মোটেও ভালো হবে নাহ। এই মুহুর্তে তার পালিয়ে যাওয়াই সঠিক হবে। তাছাড়া সে বুঝে গেছে কিয়ানের সাথে এই মেয়ের কিছু না কিছু সম্পর্ক তো আছেই। এবার তো কিয়ানের প্রতি প্রতিশোধ নেওয়ার আরেকটা কারণও পেয়ে গেলো৷ আজকের মতো ছাড় পেলেও পরে নীলার তার হাত থেকে আর রক্ষা নেই।
এদিকে নীলা কিয়ানের বুকে ডুকরে কেঁদে উঠে। ফোঁপাতে ফোঁপাতে বলে,
" আরেকটু আগে কেন আসলেন নাহ? আমার কিছু হলে আমার বাবা সহ্য করতে পারতো নাহ। আমাকেই কেন এত কষ্ট পেতে হয়? আমি আর পারছি নাহ। "
নীলার কান্না কিয়ানের বুকের ভেতরে আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছিলো। নীলার এমন অবস্হা তার মনে অন্যরকম ধারণা দিচ্ছিলো। তখনই পেছন থেকে নাবিহা দৌড়ে আসে। সে কিয়ানের সাথেই একই গাড়ি করে এসেছে। সে এসেই নীলাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
" নীলু, বোন ভয় পাস না। আমরা চলে এসেছি। কিছুই হবে নাহ তোর। "
নীলা কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই। তার শরীরটা থরথর করে কাঁপছে, নিঃশ্বাসও ভারী হয়ে এসেছে। নাবিহা তার মুখ দু'হাতে ধরে দেখে চোখ দুটো লাল হয়ে ফুলে গেছে, কপালে আঁচড়, হাত-পা ছড়ে র'ক্ত বের হচ্ছে।
কিয়ান নিজের জ্যাকেট খুলে ধীরে ধীরে নীলার কাঁধে জড়িয়ে দেয়। জামার ছেঁড়া অংশটা তার চোখ এড়িয়ে যায়নি। তার চোয়াল শক্ত হয়ে ওঠে।
" নাবিহা, ওকে গাড়িতে নিয়ে যাও। "
" স্যার আপনি..."
" গাড়িতে গিয়ে বসো। "
নাবিহা কম্পনরত নীলাকে আগলে নিয়ে গাড়িতে উঠে বসে। শান্ত গলায় বলতে থাকে,
" কিছু হয় নি তো তোর? ঠিক আছিস তুই? এত র'ক্ত...."
নীলা হেঁচকি তুলতে তুলতে বলে,
" রা-রাস্তায় পরে গিয়েছিলাম। আ-আমি ওকে আঘাত করে পা-পালিয়েছি। নিজেকে স-সেইফ করেছি। "
নাবিহা নীলার মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,
" মাই ব্রেভ গার্ল, আমি জানতাম তুই পারবি। তোর উপর আমার বিশ্বাস ছিলো। "
বোনসম বান্ধবীর বুকে নীলা নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর সেখানে কিয়ান উপস্হিত হয়। তার শার্টের হাতা গোটানো। দু'হাতে কিছু জায়গায় ছোট ছোট আঘাত দৃশ্যমান হচ্ছে। নীলা চুপচাপ নাবিহাকে আকড়ে ধরে বসে ছিলো। একাকী সে ওমন পরিস্হিতিতে সাহসীকতা দেখালেও এখন কাছের মানুষের কাছে বড্ড দূর্বল হয়ে পরেছে।
কিয়ান গাড়িতে বসে কিছুক্ষণ স্টিয়ারিং-এ মাথা ঠেকিয়ে বসে থাকে। কোনভাবে নিজেকে শান্ত করা সম্ভব হচ্ছে নাহ। নীলার অবস্হা দেখার পর থেকে তার মাথা কাজ করছে নাহ। বারবার নিজেকেই দোষী মনে হচ্ছে। তাকে তো আঙ্কেল নীলাকে সুরক্ষার দায়িত্ব দিয়েছিলো৷ আর সে সেটা পূরণ করতে পারে নি। তার সামনে থেকে কেউ নীলাকে নিয়ে চলে আসলো, আর সে টেরও পেলো নাহ!
কিয়ান উঠে বসে গাড়িতে থাকা পানির বোতল পেছনের দিকে পাঠিয়ে দেয়।
" পানি খাওয়াও ওকে। আমরা হাসপাতালে যাবো এখন। নাবিহা, তোমার ফ্যামিলিতে ফোন করে জানিয়ে দাও একটু দেরী হবে। ওর ট্রিটমেন্টের পরে একসাথে দুজনকে বাড়িতে নামিয়ে দিবো৷
এমন সময় নীলা আঁতকে উঠে বলে,
" না না, আমি বাড়ি যাবো নাহ আজকে। বাবা আমাকে এমন অবস্হায় দেখলে ভয় পেয়ে যাবে। এমন অবস্হায় আমি বাবার সামনে কোনভাবেই যাবো নাহ। বাবা...বাবা কিছুদিন পরে দূরে চলে যাবে। আজ আমাকে এই অবস্হায় দেখলে শান্তি পাবে নাহ। খুব ভয় পাবে। যাবো নাহ আমি বাড়িতে। স্যার, অন্য কোন ব্যবস্হা করুন প্লিজ। আমি এই অবস্হায় বাবার সামনে যেতে চাই নাহ। "
চলবে.....
(লিখতে মন চায় নাহ আর। আবার লিখলেও লজিকবিহীন সব কাহিনী মাথায় আসে। লিখতে মন চায় নাহ কেনোওও....আমি ক্লান্ত, হতাশ।)