#তোমাকে_ভাবিনি_কখনও (২০)
#মায়িশা_নুরাইন
" নীলা, তুই এখানে? "
" আগে বল তুই এখানে কি করছিস? একা এসেছিস? "
নীলার প্রশ্নে নাবিহা আমতা আমতা করতে থাকে। নীলা ভ্রু কুঁচকে তার ভাবসাব দেখছে। কিছু একটা তো ঠিক লাগছে নাহ।
" কি রে, বলছিস না কেন? "
এমন সময় নীলার পেছন দিয়ে একটি ছেলের আগমন ঘটে। সে নাবিহাকে দেখেই বলে,
" দুঃখিত নাবিহা, আসতে দেরী করে ফেললাম। আসলে আমি এই ফু...."
" আপনিইইই? নাবিহা.....এই ছেলেটা....? "
নীলা পেছনে তাকিয়ে শুভ্রকে দেখেই চিৎকার করে নাবিহার দিকে তাকায়। তাকে দেখেই শুভ্র থমকে দাঁড়িয়ে পরেছে। তার হাতে থাকা ফুলের ছোট্ট তোড়াটা দ্রুত পিঠ পেছনে লুকিয়ে নেয়। চোখমুখ কুঁচকে দুঃখিত হওয়ার ভাব ধরে নাবিহার দিকে তাকায়। নাবিহা তার দিকে কটমটিয়ে তাকিয়ে ছিলো।
" তোরা...একে অপরের সাথে দেখা করতে এসেছিস? তাও আমাকে না জানিয়ে? "
শুভ্র ক্ষেপে যায়। সে রেগে বলে উঠে,
" এই সমস্যা কি তোমার? নাবিহা কখন কার সাথে দেখা করবে, কি করবে সব তোমাকে জানিয়ে করতে হবে নাকি? "
" হেই ইউ, শাট ইউর মাউথ। আমি আপনার সাথে কথা বলছি নাহ। "
নীলার ধমক খেয়ে শুভ্র চুপসে যায়। নীলা নাবিহার কাধে ঠেলে বলে,
" কি রে, দুদিন মাত্র যোগাযোগ হয় নি, এর মাঝে এত কিছু হয়ে গেলো? কিছুই আমাকে জানানোর প্রয়োজন অব্দি করলি নাহ? "
" নীলা, শোন একটু। আসলে... "
" অজুহাত দিবি এখন তাই নাহ? আমি কোন অজুহাত শুনতে চাই নাহ নাবিহা। আমি তোকে মানা করেছিলাম। তবুও তুই..?"
" ও খারাপ ছেলে নয়৷ "
নীলা রেগে বোম হয়ে যায়। তাচ্ছিল্য হেসে বলে,
" বাহ! "ও" হয়ে গেলো এত তাড়াতাড়ি? সত্যি বল তো, কতদিন ধরে এসব চলছে? "
নাবিহা মিনমিনিয়ে বলে,
" সপ্তাহখানিক। "
নীলা চিল্লিয়ে বলে উঠে,
" এক সপ্তাহ! সাতটা দিন ধরে তোরা রিলেশন আছিস? নাবিহাআআ! ও মাই গড..."
নাবিহা নীলার বাহু ধরে বুঝানোর চেষ্টায় বলে,
" নীলা, নীলা শোন। চিৎকার করিস নাহ। আমাকে বলতে দে একটু। "
নীলা নিজেকে ছাড়িয়ে নেয়। শুভ্রর দিকে ফিরে বলে,
" হাতে কি? "
" কিছুই নাহ। এমনি। "
নীলা গিয়ে শুভ্রর হাত থেকে ফুলের তোড়াটা কেড়ে নিয়ে আসে।
" বাহ! উন্নতি হয়েছে দেখছি। একটা গোলাপ থেকে গোলাপের তোড়ায় প্রমোশন হয়েছে। আর কিছুদিন গেলে তো একশ ফুলের তোড়া নিয়ে হাজির হতেন। "
শুভ্র মিনমিন করে বলে,
" দরকার পরলে তাই করতাম। "
নীলা হাতের ফুলটা শুভ্রর হাতেই গুঁজে দিয়ে বলে,
" এগেইন রিজেক্ট আপনি। একশ ফুলের তোড়া নিয়ে যেদিন হাজির হবেন সেদিন ভেবে দেখা যাবে। গুড বাই চশমিশ ব্রো।"
নীলা নাবিহার হাত ধরে টেনে নিয়ে যেতে থাকে। নাবিহা পিছু ফিরে শুভ্রর হতাশার চাহনী দেখে মুখটা ভোঁতা করে ফেলে।
নীলা তাকে টেনে নিয়ে অনেকটা দূরে এসে ছাড়ে। কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে গম্ভীর স্বরে বলে,
" তুই ওকে ভালোবাসিস? "
নাবিহা মিনমিন করে বলে,
" ভা-ভালো লাগা শুরু হয়েছে মাত্র। "
" ওহহ, তারমানে পরে ভালোবাসায় তা ট্রান্সফার হবে। "
" হলে হতেও পারে। "
নীলা তাকে মাইর দিতে উদ্ধত হয়। নাবিহা দ্রুত নিজেকে বাঁচিয়ে বলে,
" আমাকে সব বলতে তো দে। মনে আছে সেবার তোর পায়ের আঘাতের পর তুই কয়েকদিন ভার্সিটি আসিস নি। তখন একদিন আমাকে ভার্সিটিতে একটা বিপদে পরতে হয়। কয়েকজন সিনিয়র ভাইয়া আমায় জুনিয়র ভেবে র্যাগ দিতে যায়। আমি বলেছিলাম আমি থার্ড ইয়ারের, বিশ্বাসই করে নাই। আমি নাকি মিথ্যে বলছিলাম এসব বলে আমাকে র্যাগ দেয়। তাও কিনা একজন সিনিয়রকে প্রপোজ করতে বলে। তোকে ছাড়া আমি একাকী একদম অসহায় ছিলাম। বাধ্য হয়ে সামনে যাকে পাই, তাকেই প্রপোজ করে বসি। "
" আর সেই সিনিয়রই এই ছেলে তাই তো? পাগল পেয়েছিস আমায়? একে কোন ভাবে সিনিয়র মনে হয়? "
" ফাইনাল ইয়ারের স্টুডেন্ট। শুভ্র চৌধুরি, ডিপার্টমেন্ট টপার।"
নীলার মুখ ভোঁতা হয়ে যায়। নাবিহার দু-হাত ধরে বলে,
" মজা করছিস তুই তাই নাহ? এটা আবার সিনিয়র হয় কিভাবে? বাচ্চা বাচ্চা চেহারা, দেখতেও হ্যাংলা পাতলা। "
" আমি সত্যি বলছি। সেদিন ওনি থাকাতেই আমি বেঁচে যাই। র্যাগ দেওয়া হয়েছে বুঝেই আমাকে বেশী কিছু বলে নাই। শুধু আমার ফোন নাম্বারটা রেখেছিলো। এইটুকুই। "
" কিহ! নাম্বার নিয়েছিলো? হায়রে ধান্ধাবাজ, সব নাম্বার নেওয়ার ধান্ধা। গিয়ে দেখ র্যাগারগুলোকেও এই হয়তো এপোয়েন্ট করেছিলো। "
নীলার এমন কথা শুনে নাবিহাও চিন্তিত হয়ে পরে। দুজনে মিলে এর পেছনের কারণ ভাবতে বসে যায়৷
অন্যদিকে শুভ্র হাতের ফুলগুলো একটা বাচ্চা মেয়ের হাতে ধরিয়ে দিয়ে নিজের মতো হাটতে থাকে। পকেটে হাত ঢুকিয়ে
সে সোজা এগিয়ে যায়। তখনই পকেটে ফোন বাজতেই সে একটু থমকে দাঁড়ায়। ফোন বের করে শান্তর নাম্বার দেখেই রিসিভ করে। স্বাভাবিক কন্ঠে বলে,
" আবার কি হলো? কোন বিপদে পরে খোঁজ নিচ্ছ? "
" তোকে যে কাজ দিয়েছিলাম হয়েছে? "
" নাহ, হয়নি। "
ওপাশ থেকে শান্ত রাগে গর্জন করে উঠে। চিৎকার করে বলে,
" আমি তোকে ইমার্জেন্সি টিকেটের ব্যবস্হা করতে বলেছিলাম। করিস নি কেন? "
" সময় পাই নি তাই। "
" শুভ্র, আমার মেজাজ খারাপ করবি নাহ। ভুলে যাবি নাহ আমি তোর বড় ভাই। আমি তোকে..."
শুভ্র খপ করে ফেন কেটে দেয়। ফোনটা পকেটে পুড়ে আবারও নিজের গন্তব্যের দিকে রওনা দেয়। এই জীবন নিয়ে সে ফেডআপ হয়ে পরেছে। একটুও শান্তি কি তাকে ধরা দিতে পারে না! এখন বাড়িতে ফিরতেও মনে চায় নাহ। তাই সে রওনা দেয় বন্ধুর মেসের উদ্দেশ্য। আজকে রাতটা সেখানেই কাটিয়ে দিবে।
*************
" কোথায় ছিলে সারাদিন? "
বাড়িতে ফিরেই মমতাজ বেগমের প্রশ্নের মুখোমুখি পরে নীলা থমকে যায়। আজ তিনদিন ধরে সে এ বাড়িতে থাকছে। এনার সাথে তার কথাই হয় নি বলা চলে। গত দুদিন সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় ভার্সিটি যায় নি। আজকেও ভার্সিটি না গেলেও সে বিকেল দিকে বের হয় একটু ঘুরে আসার জন্য। যদিও তানহাকে জানিয়েই বেরিয়েছিলো। অপরিচিত জায়গায় দম বন্ধ হয়ে আসছে তার। বারবার বাবার কথা মনে পরে। ফোনে কথা বলে শান্তি পাওয়া যায় নাহ। মনে চায় ছুটে বাবার কাছে চলে যেতে।
" কি হলো, উত্তর দিচ্ছো নাহ কেন? নিজের বাড়ি পেয়েছো এটা, যখন মন চাইবে টই টই করে ঘুরতে চলে যাবে?
মমতাজ বেগমের কণ্ঠে তেমন জোর ছিল না, কিন্তু কথাগুলো ছিল কড়া। নীলা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ব্যাগটা শক্ত করে ধরে রাখে। কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে নিচু স্বরে বলল,
" আমি... ভাবীকে বলেই বের হয়েছিলাম। "
তানহা তখনই রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এসে বলল,
" হ্যাঁ মা, আমাকে বলেই গিয়েছিল। একটু মন খারাপ ছিল তো, তাই ভাবলাম ঘুরে আসুক। "
মমতাজ বেগম এবার তানহার দিকে তাকিয়ে বললেন,
" তুমি জানো বলে দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? মেয়েটা নতুন জায়গায় এসেছে। কোথায় যায়, কখন ফেরে, কার সাথে থাকে এসব না জেনে নিশ্চিন্তে বসে থাকবে? "
নীলা মাথা নিচু করেই বলল,
" ভুল হয়েছে। পরেরবার আর হবে না। "
তার শান্ত উত্তর শুনে তানহাও অবাক হলো। সাধারণত নীলা নিজের হয়ে জোরে জোরে কথা বলে। আজ যেন সে একদম অন্য মানুষ। নীলার এমন শান্ত স্বর শুনে মমতাজ বেগম সেদিনের নীলা আর আজকের নীলার মাঝে অনেক তফাৎ খুঁজে পান।
ঠিক তখনই দরজা দিয়ে কিয়ানের প্রবেশ ঘটে। সামনেই মায়ের জেরার মুখে নীলাকে পরতে দেখে প্রশ্ন করে,
" কি হয়েছে? "
শ্বাশুড়িকে কিছু বলতে না দেখে তানহা বলে,
" নীলা মাকে না বলে বিকালে বাহিরে গিয়েছিলো। তাই মা তাকে একটু প্রশ্ন করছিলো। "
নীলার একাকী বাহিরে যাওয়ার কথা শুনে কিয়ান রেগে যায়। সে রেগে নীলার দিকে তাকিয়ে বলে,
" সমস্যা কি তোমার? বলি নি কিছু প্রয়োজন হলে জানাতে। নিজে বাহিরে গিয়েছো কেন? "
কিয়ানের ধমক খেয়ে নীলার রাগ হয়। তবুও নিজেকে শান্ত করে বলে,
" রুমে ভালো লাগছিলো নাহ। তাই ঘুরতে বেরিয়েছিলাম। "
" কাউকে বলে বেরিয়েছিলে? সাহস বেশী হয়ে গেছে? সেদিনের কথা ভুলে গেছো? নাকি একদিনে শান্তি হয় নি। আবারও এমন কিছু ঘটুক তাই চাচ্ছো? "
নীলার চোখে পানি এসে ভীড় করে। আজ তার পাশে বাবাও নেই তাকে বাঁচাতে। সবাই কেমন ঝাঁক বেধে তাকে শাসন করছে। এত শাসন পেয়ে তো আর সে বড় হয় নি। সবসময় স্বাধীনতা পেয়েই সে বড় হয়েছে। এত বড় পরিবারে সারাদিন রুমের মাঝে বন্ধি থেকে নীলা হাঁপিয়ে পরেছে৷
নীলাকে কাঁদতে দেখে তানহা এগিয়ে আসে। কিয়ানের উদ্দেশ্যে বলে,
" কিয়ান, চুপ করো। মা তো বলেছেই, তুমি এবার থামো। "
" আঙ্কেল আমাদের উপর ওনার উশৃঙ্খল মেয়ের দায়িত্ব দিয়ে গিয়েছে। আমরা দেখে রাখা স্বত্বেও কিছু হয়ে গেলে আমরা কি জবাব দিবো? ও কি ছোট বসে আছে নাকি? বোধবুদ্ধি কিছুই হয় নি। "
নীলা কিছুই বলে না। শুধুই শুনে যায়। অপরিচিত জায়গায় এসে এদের কাছ থেকে তাকে কথা শুনতে হচ্ছে। নীলা ধীরে ধীরে দোতলায় নিজের রুমের দিকে পা বাড়ায়৷ নিজের পক্ষে আর কিছুই বলে নাহ। তাকে যেতে দেখে মীমু বলে,
" কেমন মেয়েরে বাবা, সবার মধ্যে থেকে এভাবে চলে যাচ্ছে। কোন আদবকায়দা কিছুই নেই দেখছি। "
কিয়ান পাল্টা তাকে শাসিয়ে বলে,
" তোর বুঝি অনেক আদবকায়দা আছে? সকালে আমার রুমে ঢুকেছিলি কেন? কি খুঁজতে গিয়েছিলি আমার রুমে? "
সবার সামনে সন্দেহের তীর নিজের দিকে ঘুরতেই মীমু থমকে যায়। আমতা আমতা করে কিছু বলতে গেলে কিয়ান পুনরায় ধমকে বলে,
" নেক্সট টাইম আমার রুমে তোকে ঢুকতে দেখলে পায়ের হাড় একটাও আস্ত রাখবো নাহ। বিনা প্রয়োজনে আমার রুমে আমি কাউকে এলাউ করে না। কথাটা মাথায় থাকে যেন। "
মুহুর্তেই বাড়ির পরিবেশ কেমন থমথমে হয়ে যায়। সাধারণ বিষয় থেকে কাহিনী কোথা থেকে কোথায় চলে গেলো। তানহা তো কাকে রেখে কাকে সামলাবে বুঝতেই পারছে নাহ। কিয়ান সে স্হান ত্যাগ করতেই মীমু নীলার উপর রাগে ফুঁসতে থাকে৷
দাঁতে দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলে,
" ঠিকই তো সেদিন এই মেয়েটাকে কোলে করে নিজের রুমে নিয়ে গেলে। তখন নিজের রুম কথাটা মাথায় ছিলো নাহ? আমার বেলায় যত বাঁধা! তোমাকে আমি ছাড়বো না নীলা। কোনভাবেই আমার কিয়ানকে আমি তোমার হতে দিবো নাহ। "
কিয়ান রুমে প্রবেশ করেই মাথায় হাত দিয়ে বসে পরে। আজকে তার মেজাজটা সকাল থেকেই খারাপ ছিলো৷ তার উপর সেদিনের পর থেকে শান্তর আর কোন খবর পাচ্ছে নাহ। শান্ত যখন জেনে গেছে নীলার সাথে তার কোন সম্পর্ক আছে, তারপর তো সে নীলার উপর আরও বড় হামলা করার চেষ্টা করবে। তার উপরের রাগটাও নীলার উপর ঢালবে৷ এর আগেই শান্তকে খুঁজে বের করতে হবে। এদিকে নীলা কিনা সব ভুলে বাহিরে একাকী ঘুরাঘুরি শুরু করেছে। মেজাজটা তার আরও খারাপ হচ্ছে। বারবার কথা অমান্য করে বেরিয়ে যাচ্ছে। তাই তো সে রেগে এত কথা শুনিয়ে দিলো। এখন অবশ্য একটু খারাপ লাগছে। এভাবে বাসার সবার সামনে মেয়েটাকে বকা দেওয়া ঠিক হয় নি।
কিয়ান উঠে ওয়াসরুমে ফ্রেস হতে চলে যায়। কিছুক্ষণ সময় লাগিয়ে গোসল করে বেরুতেই দেখে রুমে সোহান এসে বিছানায় বসে আছে৷ হাত দুটো তার পেছনে মুড়ানো। বাচ্চাটার মুখটা অস্বাভাবিক থমথমে। কিয়ান আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ভেজা চুলে আঙুল বুলাতে বুলাতে বলে,
" কিরে পিচ্চি, আজকের কাহিনী কি? স্কুলে কারও সাথে মারামারি হয়েছে নাকি? নাকি পড়া না পেয়ে মাইর খেয়ে এসেছিস? "
সোহান চুপচাপ বসে থাকে। কিয়ান কোন উত্তর না পেয়ে সোহানের দিকে তাকায়। এগিয়ে গিয়ে বলে,
" কথা বলছিস নাহ কেন? "
সোহান প্রশ্ন করে,
" চাচ্চু, তুমি বিড়ালকে অনেক ভয় পাও নাহ? "
" হটাৎ এই প্রশ্ন? "
" বলো নাহ। কতটা ভয় পাও? "
" পাই একটু-আধটু। "
সাথে সাথেই সোহান তার পেছন থেকে হাত বাড়িয়ে বিড়াল ছানাটা বের করেই কিয়ানের দিকে ছুড়ে মারে। আচমকা আক্রমনে কিয়ান বিড়াল ছানাটাকে ধরে ফেললেও মুহুর্তেই সেটাকে দূরে ঠেলে দিয়ে জোড়ে চিৎকার করে উঠে। বিড়াল ছানাটা লাফিয়ে তার খাটের নিচে লুকায়।
" সামিনের বাচ্চা, তুই আজ শেষ। আমাকে ভয় দেখাতে এসেছিস? "
সোহান দৌড়ে বিছানার অপর পাশে গিয়ে বলে,
" তুমি আমার পরিকে কেন বকেছো? পরি অনেক কাঁদছে। আমি তোমাকে একটুও ভালোবাসি নাহ। "
কিয়ান লাফিয়ে গিয়ে সোহানকে টেনে কাঁধে তুলে নেয়। পেছনে একটা থাপ্পড় লাগিয়ে বলে,
" বড্ড দস্যি হচ্ছিস তুই পিচ্চি। কার থেকে এসব শিখেছিস? "
সোহান ঠোঁট ফুলিয়ে ছটফট করতে করতে বলল,
" ছাড়ো আমাকে। আমি তোমার সাথে কথা বলবো না। "
" কেন শুনি? "
" তুমি আমার পরিকে কাঁদিয়েছো। তুমি পঁচা। "
" ওরে পরির ন্যাওটা। এখন চাচ্চুর সব দোষ নাহ? "
" তোমারই দোষ। পরি কান্না করছে কেন? "
" কারণ তোর পরি ভুল করেছে। "
" পরি ভুল করে নি। "
" আচ্ছা, তোর পরি ভুল করে নি। এখন আমি কি করতে পারি? "
সোহানকে কাঁধ থেকে নামাতেই সোহান আঙুল তুলে বলে,
" এক্ষুনি তুমি পরির কাছে মাফ চাইবে। "
কিয়ান যেন আকাশ থেকে পরে। নিজেও বাচ্চাটার সাথে তাল ধরে বলে,
" চাইবো নাহ। কি করবি? "
সোহান এসে তার আঙুলে কামড়ে দিয়ে বলে,
" এভাবে কামড়ে দিবো তোমায়। "
কিয়ান সোহানের পেছনে ধাওয়া করে। বাচ্চা সোহানও নিজে বাঁচতে ঘরময় দৌড়াতে থাকে। এই মুহুর্তটা চোখে না দেখলে কেউ বিশ্বাসই করবে নাহ কিয়ান নিজের পরিবারের কাছে কতটা ফ্রি হতে পারে। সেই মুহুর্তে নীলার তার বিড়াল ছানাকে খুঁজতে খুঁজতে কিয়ানের রুম অব্দি চলে আসে৷ ভেতরে ধপ ধপ শব্দ শুনে বেশ কৌতুলহী হয়। চাপানো দরজা আলগোছে ধাক্কা দিতেই তা মেলে যায়। ভেতরে সোহানের পোছনে দৌড়ানো কিয়ানকে দেখে নীলা শক্ড হয়ে যায়৷
দরজায় দাঁড়ানো নীলাকে দেখে কিয়ানও থমকে দাঁড়ায়। নীলা চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে বলে,
" কি হচ্ছে এসব? "
সোহান দৌড়ে এসে নীলার পেছনে লুকায়৷ পেছন থেকে মাথা বের করে বলে,
" চাচ্চু, এখনি ক্ষমা চাও। নয়তো আবার কামড়ে দিবো। "
" তবে রে, আবার চাচ্চুকে ভয় দেখাচ্ছিস? "
কিয়ানকে তেড়ে আসতে দেখে সোহান পড়িমরি করে দৌড়ে পালায়। কিয়ান এসে নীলার সামনে দাঁড়ায়। ট্রাউজারের পকেটে হাত গুঁজে সটান দাঁড়িয়ে বলে,
" চোখ মুখের এমন অবস্হা কেন? নাকটা তো লাল টমেটোর মতো হয়ে আছে। "
নীলা থমথমে কন্ঠে বলে,
" আমার মনুকে ফেরত দিন। "
" আগে বলো কেঁদেছ কেন? আমি কি বিনা কারণে তোমায় বকেছি? এত অভিমান আসে কোথা থেকে? "
নীলা শক্ত গলায় বলে,
" অভিমান শুধু আপনা মানুষের উপরই আসে। আপনি আনার আপন কেউ নন। আপনার উপর অভিমান হওয়ার কোন প্রশ্নই আসে নাহ। "
কিয়ান মুচকি হেসে এগিয়ে আসে। পকেটে হাত গুঁজে রাখা অবস্হাতেই একটু ঝুঁকে এসে বলে,
" তোর আপন করে নাও নাহ। তারপর যত ইচ্ছা অভিমান করো। আমি মোটেও বাঁধা দিবো নাহ। "
চলবে....