#তোমাকে_ভাবিনি_কখনও (২২)
#মায়িশা_নুরাইন
বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে কিয়ান সকালের কথা ভাবতে থাকে। মুখে তার এক মুচকি হাসি লেগে আছে। ভাবতে ভাবতে নিজের গালে হাত রাখে। এখানটা নীলার ঠোঁটের ছোঁয়া পরেছিলো। বিষয়টা কেমন অকয়ার্ড, অথচ তার কাছে খারাপ লাগছে নাহ। তবে কি সে ধীরে ধীরে নীলাতে ডুবে যাচ্ছে! অবশেষে সে খেই হারিয়েই ফেললো!
হটাৎ একটা ছোট্ট দেহ তার বুকের উপর আছড়ে পরে। কিয়ান একটু ব্যাথা পেয়ে ঝুঁকে পরতেই সোহান খিলখিলিয়ে হেসে উঠে। কিয়ানের পেটের উপর সে বেশ আয়েশ করে বসে আছে৷ কিয়ান চোখ-মুখ কুঁচকে বলে,
" আমাকে জাম্পিং বল পেয়েছিস? যখন মনে চায় লাফিয়ে পরিস। "
" তোমার পেট তো অনেক শক্ত। তুমি তো ব্যাথা পাও নাহ। "
" নাহ, আমি আর ব্যাথা পাই! যখন যার মনে চাইবে বুকে লাফিয়ে পরবে, গালে ঘুষি দিবে, পেটের উপর জাম্প করবে। আর কিছু কি বাকি আছে? "
" আমার চকলেট দাও। "
" কিসের চকলেট? দেখি দাঁতগুলো, পোঁকায় খেয়ে ফিনিস করে দিবে। "
" তার আগে আমি চকলেট খেয়ে ফিনিস করে দিবো। আমার চকলেট দাও। "
" তোর বাপকে বল গিয়ে। আমাকে আর জ্বালাবি নাহ। "
" পাপা বাসায় নেই তো। "
" কোথায় গেছে? একটু আগেই নাহ অফিস থেকে বাসায় ফিরলো? "
সোহান মুখ ফুলিয়ে বলে,
" মাম্মামকে নিয়ে বাহিরে গেছে। আমিও যেতে চাইলাম, আমাকে নেয় নি। "
কিয়ান সোহানকে নিয়ে উঠে বসে। কোলে বসিয়ে বলে,
" তুই কাঁদলি নাহ? "
" আমি কাঁদতে চাইছিলাম। আমাকে আইসক্রিম এনে খাওয়াবে বলে চলে গিয়েছে। "
" তোর মাম্মাম সাজুগুজু করেছে? "
সোহান উপর নিচ মাথা নেড়ে বলে,
" লাল টুকটুকে শাড়ি পড়েছে। কানে ইয়া বড় বড় কিসব লাগিয়েছে। মুখেও কত পাউডার মাখলো। "
" মাম্মামকে পেত্নীর মতো লাগছিলো নাহ? "
সোহান কিছুক্ষণ ভাবুক হয়ে বলে,
" উহু, সুন্দর লাগছিলো অনেক। "
" দাঁড়া, তোর পাপাকে একটু ডিস্টার্ব করি। "
কিয়ান কল লাগায় ভাইয়ের ফোনে। কিন্তু সামিন কল রিসিভ করে নাহ। নিশ্চিত সাইলেন্ট করে রেখেছে। কিয়ান শয়তানি হাসি দিয়ে বলে,
" সোহান, পাপা-মাম্মামের কাছে যাবি? "
" পাপা বকবে। "
" আমি আছি তো ব্যাটা। চল যাই। আমি যা যা বলবো তাই তাই করবি। তাহলে তোকে চকলেট, আইসক্রিম দুটোই খাওয়াবো। দ্রুত জামাকাপড় নিয়ে আয়। "
সোহান খুশি হয়ে যায়। লাফিয়ে কোল থেকে নেমে পরে। দৌড়ে দরজা পর্যন্ত গিয়ে আবার উল্টো ঘুরে কিয়ানের নিকট এসে কোমড়ে হাত রেখে বলে,
" পরিকেও সাথে নিতে হবে। "
কিয়ান পরির কথা শুনে একটু থমকায়। না করতে গিয়েও কি ভেবে মুচকি হাসে। কাবার্ড থেকে ড্রেস বের করতে করতে বলে,
" তোর পরিকে গিয়ে বল। দেখ যায় কি নাহ। আর হ্যাঁ, নিজের জামাকাপড় নিয়ে যাবি। পরিকে বলবি তৈরি করে দিতে। "
সোহান দৌড়ে রুম থেকে বেরিয়ে পরে। কিয়ান মুচকি হেসে বলে,
" কি এমন জাদু করলে মাই ফেইরি! একই ছাদের নীচে থেকেও মন ভরছে নাহ। মনে চাচ্ছে সারাক্ষণ তোমায় সামনে বসিয়ে জ্বালাতন করি। লজ্জা রাঙা গাল দুটোতে আলতো কামড় বসিয়ে দেই। ভুল করলে সেদিন আমায় রিজেক্ট করে। তাই তো এখন বিকল্প পদ্ধতি অনুসরণ করে তোমাকে নিজের করতে হবে। "
**************
নীলা বিছানায় উপুর হয়ে শুয়ে ফোনে বাবার সাথে কথা বলছে। বাবার সাথে প্রতিদিন তার দু-তিন বেলা করে কথা হয়। বাবা বলেন,
" পড়াশোনা কেমন চলছে? আর খাওয়া-দাওয়া ঠিকঠাক করে করিস তো? "
নীলা একটু দরজার দিকে তাকায়। দরজা ঠিকঠাক চাপানো দেখে ফিসফিসিয়ে বলে,
" জানো বাবা, এই বাড়ির কর্তী একজন কাটখোট্টা মহিলা। সারাক্ষণ সুযোগ খুঁজে আমায় কথা শুনাতে। আমি তো এখন ভদ্র মেয়ে হয়ে গেছি। ভুল তো খুঁজে পায় নাহ। তাই এখন খাবার খাওয়া নিয়ে বকে। সেদিন বলছিলো আমি নাকি পাখির মতো খাবার খাই। তাই আমাকে হাতির খাবার খাইয়েছে। তুমিই বলো, এই পাখির মতো শরীরে হাতির খাবার খাওয়া যায়? "
রফিক সাহেব ফোনের ওপাশ থেকে হোহো করে হাসতে শুরু করেন। নীলা আরও বলতে থাকে,
" আর জানো কি করেছে? আমাকে আমার স্কুটিটাও আনতে দেয় নি। ওনার খাটাশ পোলার সাথে যেতে বলে। আর ওনার খাটাস পোলা তো..."
" কিয়ানের কথা বলছিস? শোন, কিয়ানের সব কথা শুনে চলিস। কিয়ানের কাছে আমি তোর দায়িত্ব দিয়ে এসেছি। অবাধ্য হোস নাহ। "
" বাবার কথা শুনলে তো? অবাধ্য হবে নাহ নীলা। "
কানের কাছে কিয়ানের ফিসফিসানি শুনে পাশে তাকিয়েই চিৎকার করে উঠে। কিয়ান তার বেডের পাশে সটান দাঁড়িয়ে
আছে। নীলা নিজের দরজার দিকে তাকিয়ে দেখে তা হাট করে খোলা আছে। নীলা বুকে থুথু দিয়ে লাফিয়ে পেছনে চলে যায়। ফোনের ওপাশ থেকে বাবার কন্ঠ ভেসে আসছে। নীলা ফোন কানে নিয়ে সে ঠিক আছে বলে কেটে দেয়। তারপর কিয়ানের দিকে তাকিয়ে রুক্ষ গলায় বলে,
" আপনার তো সাহস কম নাহ। আমার রুমে এভাবে বিনা ইনভাইটেশনে চলে এসেছেন। আপনাকে আমি অনুমতি দিয়েছি? "
" আমার বাড়িতে, আমারই রুমে ডুকতে অনুমতি লাগবে আমার? "
" এটা আপনার বাড়ি হতে পারে। তবে বর্তমানে এই রুমটা আমার। আমি এখানে থাকছি। "
" আর তুমি আমার। "
নীলা থমকে যায়। যেন কিছু ভুল শুনলো সে। আবারও জানতে প্রশ্ন করে,
" কি বললেন? "
তখনই পেছন থেকে সোহান নীলাকে ধাপ্পা দেয়। নীলা চিৎকার করে উঠে। তা দেখে সোহান খিলখিলিয়ে হেসে উঠে। নীলা একবার কিয়ান, আরেকবার সোহানের দিকে তাকিয়ে হাল ছেড়ে দেয়। এরা চাচা-ভাতিজা তার সাথে কি পেয়েছে?
নীলাকে হাল ছেড়ে দিতে দেখে কিয়ান হাসে। কিছুটা এগিয়ে নিচু স্বরে বলে,
" বড্ড কিউট লাগছে তোমায়? চোখের কাজল লেপ্টে, এলোমেলো চুলে এক কিউট পেত্নী লাগছে তোমায়। "
নীলা দ্রুত চোখের নীচে আঙুল ছোঁয়ায়। প্রতিবারই বাবার সাথে কথা বলতে গিয়ে সে ইমোশনাল হয়ে উঠে। সে দ্রুত নিজেকে ঠিকঠাক করে নেয়। তারপর সামনে তাকিয়ে বলে,
" কি দরকার আমার সাথে? "
সোহান তার জামাকাপড় নীলার সামনে মেলে ধরে।
" পড়িয়ে দাও পরি। "
" তোমার চাচ্চুকে বলো। "
সোহান গাল ফুলিয়ে বলে,
" চাচ্চুকে বললে বলে তোমাকে বলতে। তুমি বলো চাচ্চুকে বলতে। আমি কিন্তু এখন কান্না করে দিবো। "
বলতে বলতেই ছেলের চোখে পানি টলমল করতে থাকে। নীলা আঁতকে উঠে বলে,
" এই এই, কাঁদে নাহ। আমি পড়িয়ে দিচ্ছি। "
সাথে সাথে সোহান স্বাভাবিক হয়ে যায়। নীলা তাকে ড্রেসআপ করিয়ে দিয়ে গাল টেনে বলে,
" কান্না করে ব্ল্যাকমেইল করা কে শিখিয়েছে তোমায়? "
সোহানও কিয়ানের দিকে আঙুল তুলে দেখিয়ে দেয়। কিয়ানের তাতে কোন ভ্রুক্ষেপই নেই। নীলা নিজের মনে কিয়ানকে কতগুলো বকা দিয়ে দেয়।
" এখন নিজে তৈরি হয়ে আসো। "
" আমি কেন? "
সোহান উৎফুল্ল হয়ে বলে,
" আমরা ঘুরতে যাবো আজকে। চাচ্চু বলেছে আমাদের চকলেট, আইসক্রিম সব খাওয়াবে। "
নীলার সকালের কথা মনে পরে। তাই সে কিয়ানের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে বলে,
" আমি এসব খাই নাহ। তুমি জানো নাহ, পরিরা চকলেট, আইসক্রিম খায় নাহ। "
" অন্যকিছু চাই? যা বলবে রাজি আছি। চাইলে সকালের পাওনাটাও এখনই দিতে রাজি আছি। "
কিয়ানের কথাটা শোনা মাত্রই নীলার গাল দুটো লজ্জায় লাল হয়ে যায়। লোকটা এত অসভ্য হলো কবে থেকে! একটা মুহুর্তও তাকে লজ্জা দিতে ছাড়ছে নাহ। নীলা চিৎকার করে দৌড়ে ওয়াসরুমে পালায়। কিয়ান একটু শব্দ করে জানায়,
" ইউ হ্যাভ অনলি ফাইভ মিনিটস। গেট রেডী ফাস্ট। "
এক হাতে সোহানকে কোলে তুলে নিয়ে বলে,
" লেটস গো বাডি। তোর পরি আসতে থাকুক। ততক্ষণে আমরা এই বিড়ালের আস্তানা থেকে পালাই। সেই কখন থেকে আক্রমণের ধান্দায় আছে। "
কিয়ানের কাধ থেকে সোহান পেছনে হাত নাড়িয়ে বিড়ালছানা দুটোকে বিদায় জানায়। যারা এতক্ষণ ধরে খাচায় বন্ধি আছে। নীলা যখন তার বাবার সাথে কথা বলছিলো, তখন এগুলো তার উপর পরে মারামারি করছিলো। কথা বলতে অসুবিধা হওয়ায় নীলা বিরক্ত হয়ে আটকে রেখেছিলো। তাই তো কিয়ানের একটু সুবিধাই হয়।
*****************
" কোথায় যাচ্ছো তুমি? মামী কে জানাবো তুমি এই রাতের বেলা বের হচ্ছো? "
নীলার পথ আটকে মীমু প্রশ্ন করতেই নীলার রাগ হয়। বয়সে ছোট্ট এই অতি পাকনা মেয়ের কাছে কৈফিয়ত দিতে নারাজ সে। তাই মেয়েটাকে রাগিয়ে দিতে সে বলে,
" আমিই শিখিয়ে দিছি। গিয়ে বলবে, আমি ওনার ছোট ছেলের সাথে ডেটিংয়ে যাচ্ছি। তাও এত রাতে, শুধু দুজনে, অনেকটা সময় কাটাবো। আরও অনেক কিছু করবো বুঝলে। তুমি ছোট মানুষ, বড়দের ব্যাপারে এত জানতে নেই। "
মীমুর গালে হালকা করে হাত ছুঁইয়ে নীলা মিচকে হাসি দিয়ে বেরিয়ে যায়। পেছনে রেখে যায় হিংসায় জর্জরিত মেয়েটিকে। তার চোখ দুটো রাগে লাল হয়ে ওঠে।
" অসম্ভব! এটা আমি কিছুতেই হতে দেবো না। "
সে ছুটে মমতাজ বেগমের রুমের দিকে যেতে নিলেও মাঝপথেই থেমে যায়। যদি সত্যিই গিয়ে বলে, আর পরে জানা যায় নীলা শুধু তাকে রাগানোর জন্য বলেছে, তাহলে উল্টো তাকেই বকা খেতে হবে। রাগে পা ঠুকে নিজের রুমে চলে যায় সে।
অন্যদিকে গেটের সামনে কালো রঙের কারটা দাঁড়িয়ে আছে। ড্রাইভিং সিটে বসে স্টিয়ারিংয়ে আঙুল ঠুকছে কিয়ান। আর সোহান বাহিরে দাঁড়িয়ে বড়দের মতো পায়চারি করছে। হাতে থাকা ছোট্ট ওয়াচটায় সময় দেখে বিরক্তির ভঙিতে বলে,
" মেয়েরা সাজুগুজু করতে কত্ত দেরী করে। আমার তো এত দেরী হয় নাহ। আমি কত ফাস্ট একটা বয়। "
সোহানের কান্ড দেখে কিয়ান হাসতে থাকে। ছেলেটা এখনই বড়দের মতো বিহেভিয়ার শিখে গেছে। পুরোটাই বাবার মতো হয়েছে।
কয়েক সেকেন্ড পরই দরজা খুলে নীলা বেরিয়ে আসে।
আজ তার পরনে হালকা নীল রঙের কুর্তি, সাদা পালাজো। চুলগুলো খোলা। মুখে কোনো মেকআপ নেই, তবুও সন্ধ্যার আলোয় তাকে অদ্ভুত শান্ত লাগছে। কিয়ান কিছুক্ষণ তাকিয়েই থাকে। যেন সে নীলার মাঝেই হারিয়ে গেছে। নীলা এসে তার সামনে হাত নাড়িয়ে বলে,
" হেই ইউ মিস্টার, কেন রাজ্যে হারিয়ে গেছেন? "
" একটা পরির মনের রাজ্যে। "
নীলা তাকে আর পাত্তা দেয় নাহ। সোহান নীলাকে আসতে দেখে গাড়ির পেছনের সীটে উঠে বসে। নীলাও পেছনে যেতে নিলে কিয়ান গম্ভীর স্বরে বলে,
" সোহান, আমাকে কি তোদের ড্রাইভার মনে হয়? কেউ একজন সামনে এসে বোস। "
কিয়ান জানে সোহান পেছনের সীট রেখে সামনে আসবে নাহ। সে নীলাকেই পাঠাবে। তবে নীলার তো মুহুর্তেই সকালের কথা মনে পরে যায়। সে কোনমতেই সামনে বসতে রাজি নয়। সে নাকচ করলে কিয়ান রসিকতার সুরে বলে,
" পাওনা পরিশোধ করার সময় হয় নি এখনও। উপযুক্ত লাইসেন্স পেলেই তা পরিশোধ হবে। তার আগে পর্যন্ত নিশ্চিন্ত থাকতে পারে। "
**************
সামিন আর তানহা একটা রেস্টুরেন্টে বসে ডিনার করছিলো। ছেলেকে কিয়ানের কাছে রেখে এসেছে। ছেলেকে নিয়ে আপাতত কোন চিন্তা নেই। তারা নিশ্চিন্ত মনেই বসে গল্প করছে।
" আজ অনেকগুলো দিন পর তোমাকে একাকী পেলাম। কি যে খুশি লাগছে আমার। "
তানহা আশপাশ তাকিয়ে চোখ রাঙিয়ে বলে,
" পাবলিক প্লেসে আছি আমরা। একটু তো ভদ্র থাকুন। "
" তুমিও নাহ। ওই আর মেরিড কাপল। কে কি বললো সেসবের দিকে দেখার কোন প্রয়োজন নেই। সময় কাটাতে এসেছি আমরা। এন্জয় ওয়াইফি। ডেজার্টে আইসক্রিম খাবে? চকলেট অর বাটারস্কচ? "
" আমার চকলেট আইসক্রিম চাই। "
" আর আমার বাটারস্কচ। নীলা কি খাবে? .....থাক তোমার বলতে হবে নাহ। দুটো বাটারস্কচ আর একটা চকলেট ফ্লেবার আমাদের জন্য। "
সামিন চমকে উঠে পাশের টেবিলে তাকায়। সে তাকাতেই কিয়ান হেসে হাত নাড়ায়। কিয়ানের পাশেই তার ছেলেও একই ভঙিতে হাত নেড়ে হাই জানাচ্ছে। আর সামনের সীটে নীলা মুখ ঢেকে বসে আছে। সে ভাবতেও পারে নি কিয়ান আর সোহান তাকে সাথে নিয়ে এদের ডেটিংয়ে বাধা দিতে এসেছে।
সামিন অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে একবার কিয়ানের দিকে তাকায়, আরেকবার নিজের উৎফুল্ল ছেলের দিকে তাকায়।
" কিয়ান....তুই? সোহান....নীলা....! "
কিয়ানও একই রিয়েকশন দিয়ে বলে,
" এমা সামিন সাহেন! আপনি এখানে? হুয়াট এ কোইনসিডেন্স! ভাবীকে নিয়ে ডিনারে এসেছেন বুঝি? আমিও আপনাদের ভাবীকে নিয়ে ডিনারে এসেছি। এই তো আমার ওয়াইফ আর ছেলে। "
নীলা অবাক হয়ে তাকায়। মুহুর্তেই রেগে গিয়ে টেবিলে থাকা কাঁটাচামচটা তুলে কিয়ানের দিকে ছুঁড়তে গিয়েও ছুঁড়ে নাহ।
তানহাকে তাকিয়ে থাকতে দেখে মেকী হাসি দেয়।
" হ-হাই ভাবী। ....কোইন্সিডেন্স....হেহে। "
তানহা কয়েক সেকেন্ড বোকার মতো তাকিয়ে থাকে।
" ওয়াইফ? "
নীলা তড়িঘড়ি করে মাথা নাড়ে।
" না না ভাবী! উনি যা তা বলছে। "
কিয়ান কাঁধ ঝাঁকিয়ে নির্বিকার ভঙ্গিতে বলে,
" ভবিষ্যতের কথাও তো বর্তমান কালে বলা যায়। ইংরেজি গ্রামারে এরকম অনেক উদাহরণ আছে। "
" স্যাররর! "
নীলা এবার সত্যিই দাঁতে দাঁত চেপে তার দিকে তাকায়।
সামিন এবার কিয়ানের দিকে তাকায়।
" এসব কি কিয়ান? তোরা এখানে? তাও আমার ছেলেটাকে সাথে নিয়ে আমাদের জ্বালাতে এসেছিস? "
" নিজের ছোট ভাইয়ের সুখটা তুমি দেখতেই পারো না। "
" সুখ না, নির্লজ্জামি এটা। "
" হোয়াটএবার। আমরা আমাদের কাজে এসেছি। তোমরা তোমাদের কাজ করো। এদিকে ডিস্টার্ব করবে নাহ। "
এবার ওয়েটার আইসক্রিম নিয়ে আসে। সোহান একটুও দেরি না করে একটা চকলেট আইসক্রিম নিজের সামনে টেনে নেয়। তারপর আরেকটা বাটারস্কচ নিয়ে নীলার সামনে রেখে দেয়।
" পরি, এটা তোমার। "
নীলা মুচকি হেসে বলে,
" থ্যাংক ইউ, মাই জেন্টলম্যান। "
কিয়ান সঙ্গে সঙ্গে বলে,
" আমার জন্য? "
সোহান খুব সিরিয়াস হয়ে উত্তর দেয়,
" চাচ্চু, তুমি বড় মানুষ। নিজেরটা নিজে নাও। "
সোহানের কথায় সবাই হেসে ওঠে। কিয়ান বুক চেপে অভিনয় করে।
" ব্যাটা, তুইও বিশ্বাসঘাতক! "
কিয়ান ওয়েটার ডেকে একটা ফ্যামিলি প্লেটার অর্ডার করে। নীলা রেগে ফিসফিসিয়ে বলে,
" এসব কি করছেন আপনি? ভাইয়া-ভাবীর সামনে এসব কি বলছেন? "
" ফিউচারে যাতে সমস্যা না হয়, তাই আগে থেকেই সব গুছিয়ে নিচ্ছি। "
" মানেটা কি? কি করতে চাচ্ছেন আপনি? "
" সেটা সময় হলেই টের পাবে, মাই বিউটিফুল ফেইরি। "
চলবে.........
ফাজিল ব্যাটা কিয়ান আগে থেকেই ভাই-ভাবীকে হিন্টস দিচ্ছে। পরবর্তিতে ঝামেলা পাকিয়ে ভাই-ভাবীকে সামনে ঢাল বানিয়ে নিজেকে বাঁচানোর পায়তারা করছে৷ চালাক ব্যাটা😝