"এগুলো নিন। আপনার জিনিস এসব রেখে ভিত্তিহীন সম্পর্কের পিছুটান বাড়াতে চাই না আর। মানুষ যেভাবে থাকতে চায় তাকে সেভাবে থাকতে দেওয়া উচিত।"
"উমা এসব তুমি কি বলছো,ভেবে বলছো সব। আমি যা করেছি আমি তার জন্য লজ্জিত ও অনুতপ্ত। আমাকে কি এবারের মতো ক্ষমা করা যায় না?"
"আপনি কিছুই করেন নি করতে পারেন ও না। আসলে সম্পূর্ণ দোষ টা আমার ই ছিল। আমি আপনাকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করেছি আর আপনি আমার হাতে থালা ধরিয়ে দিয়েছেন। তবে এতে আমার বিন্দু পরিমান আক্ষেপ নেই। আমি মনে করি উপরওয়ালা আমার কপালে যা রাখছে তাই হয়ছে।"
"উমা প্লিজ এমনভাবে বলো না। অনেক কষ্ট হচ্ছে আমার। যখন আমার পাশে কেউ ছিল না তখন তুমি ছিলে। তুমি পাশে ছিলে বলেই আমি ঔ রকম পরিস্থিতি থেকে বের হতে পেরেছি। তারপর আমি এটা বিশ্বাস করো না বুঝে করেছি।"
"হু....কি বললেন না বুঝে আসলে কি বলেন তো Cheating is choice...not a mistake Whatever, আপনি যা করেছেন নিজের সুখের জন্য করেছেন। আর সবারই অধিকার আছে নিজে ভালো থাকার।"
"প্লিজ উমা, কষ্ট হচ্ছে আমার। আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবো না। বিশ্বাস করো আমায় আমার দ্বারা আর কখনো তুমি কোনো কষ্ট পাবে না। আর একটা সুযোগ দাও আমায়।"
"এটা কত নম্বর বার বললেন। যাই হোক, বিশ্বাস করেন আপনার প্রতি ভালবাসা ভালোলাগা,রাগ,জেদ, অভিমান, অভিযোগ কিচ্ছু নেই। আমি সবকিছু থেকে মুক্তি দিলাম আপনাকে।"
"উমা.....ভালোবাসি তোমাকে। বিশ্বাস করো সত্যি অনেক বেশি ভালোবাসি তোমাকে।"
"না....ভালোবাসা না এটা মোহ যা কিছুদিন পর পর আপনার এক এক জনের প্রতি আসে।"
"না উমা আমি সত্যি ভালোবাসি তোমাকে। তোমাকে ছাড়া থাকা সম্ভব হবে না বিশ্বাস করো আমাকে প্লিজ।"
"কাউকে ছাড়া কেউ মরে যায় না এটা আপনি ই একদিন বলেছিলেন। সময়ের সাথে সব ঠিক হয়ে যাবে আর সাথে আপনি ও আমাকে ভুলে যাবেন।"
"আমি ভুল করেছি উমা না না ভুল না অন্যায় করেছি তোমাকে কষ্ট দিয়েছি। কিন্তু উমা প্লিজ শেষ বার এর মতো ক্ষমা করে দাও। এটা শেষ বার প্লিজ।"
"কোনো কিছুই এক দিনে হয় না তেমনই আপনার থেকে আমি একদিনে দূরে সরে যাই নি এটা সেদিন থেকে যখন থেকে আপনি আমাকে অবহেলা করা শুরু করেছেন।
" উমাাা.....আমি কি শেষ সুযোগ পেতে পারি না?"
"হু.....কি বললেন সুযোগ? তা সুযোগ মানুষকে কত বার দেওয়া হর্য় বলতে পারেন? নাতো কারণ সুযোগ তো আপনি কওকে দেন না মানুষ আপনাকে দেয় তাই জানেন না।"
"উমা এমন বলো না কষট হচ্ছে আমার।"
"কষ্ট এটা আবার কি জিনিস খায় না মাথায় দেয়। আসলে আমার নাই তো তাই জানি না আরকি। যায় হোক...একটা সম্পর্কে তিক্ততা নিয়ে থাকার চেয়ে ভালোভাবে শেষ করা ভালো। যদি কখনো আবার দেখা হয় তাহলে ইচ্ছা হলে এমনি কথা বলবেন তবে আর কখনো ভালোবাসার দাবি নিয়ে সামনে আসবেন না। অবশ্য আপনার সাথে দেখা হওয়ার সম্ভবনা খুবই নগন্য। চলে যাচ্ছি আপনাকে আপনার শহর সব ছেড়ে। আপনার করা #ভুল গুলো ফুল হয়ে যায়# আমার না পরবর্তীতে আপনার জীবনে যে আসবে তার জন্য। উপরওয়ালার কাছে প্রার্থনা করি সবসময় ভালো থাকেন........আসছি....ওহহ না না যাচ্ছি। আমাদের আর কখনো দেখা না হোক।"
"উমাাা...."
না আজ আর কোনো কথা শুনলো না উমা। সে চলে গেল আর পিছনে রয়ে গেল রূপকের আপরাধ মিশ্রিত উমাকে হরানোর ভয়ে জর্জরিত তাকে নিজের করে পাওয়ার আকাঙ্খার এক জোড়া অক্ষি। আসলে যে কোনো জিনিস ই থাকতে তার সঠিক মূল্য দিতে হয় একবার হারিয়ে গেলে তা আর পাওয়া যায় না। রূপকের সাথেও তাই হয়েছে। বোকা রূপক হয়তো এখনো ভাবছে তার অভিমানীর অভিমান শেষে আবার আগের মতো তার কাছে আবার ফিরে আসবে তবে বোকা ছেলেটা শোকে দেখলোই না তার অভিমানী এক বুক অভিমান নিয়ে তার উপর কোনো আভিযোগ ছাড়া ই চলে গেছে। আসলে বুক ভরা অভিমান নিয়ে যারা হারিয়ে যায় তারা আর কখনো ফিরে আসে না। তাই হয়তো রূপকের উমা ও আর কখনো ফিরবে না। আসলে যে যাওয়ার সে এমনি এমনিই চলে যায় তবে যে থাকার তাকে ভালোবাসা দিয়ে বেধে রাখতে হয়। হয়তো ঠিক সময় তার মূল্য তে পারলে সে থাকতো। তবে সত্যি ই চলে গেলে আর পিছনে ফিরে না তাকানোই ভালো। যা আমাদের হবে না তার উপর খামোখা মায়া বাড়িয়ে কি লাভ। না পাওয়ার মাঝেও কিছু ভালোলাগা থাকে। হারিয়ে যাওয়া মানুষটার সাথে আর কখনো দেখা না হোক। সব কাষ্ট সমুদ্রের জলে মিশে যাক।
এমন সময় কোথাও হয়তো কেউ সুর তুলেছে
~যদি আবার দেখা হয় তোমার আমার
ভুলে যেও সব অভিমান
আছে যত ঋণ
আজো আছি
আমি শুধু তোমার
জানি তুমি অন্য কারো
আমি দিশাহীন ~
দূরত্ব আর যোগাযোগ এরা সমানুপাতিক। দূরত্ব বাড়লে যোগাযোগ কমে আর যোগাযোগ বাড়লে দূরত্ব। সময়ের পরিক্রমায় সব বদলে যায়। আজকে যা ছাড়া চলছে না কাল তা ছাড়া দিব্বি কেটে যাচ্ছে। দিন বদলায় মাস বদলায় এভাবে কেটে যায় বছর। স্মৃতির উপর ধুলো জমে তখন আর কোনো কিছু ভেবে মন খারাপ হয় না সময়ের সাথে সব সয়ে যায়। আসলেই সময় বিরাট এক জাদুাকর। দিন শেষে সবাই ভালো থাকে কেউ মেনে নিয়ে আবার কেউ মানিয়ে নিয়ে। মানুষের মন সে নিজে ছাড়া আর হয়তো কেউ ই জানে না। তাই হয়তো কেমন আছো এই প্রশ্নের উত্তর এতো কঠিন হয়।।।
"এই যে রাজকন্যা কটা বাঝে সে খেয়াল আছে। এসে থেকেই বই মুখের সামনে নিয়ে বসেছিস খাওয়া দাওয়া কি করা লাগবে না।"
"উফফ....নাম্মা আর বলো না কোন আবুইল্লার নাতির ভুতে যে আমাকে ধরেছিল আমি মেডিকেল এ ভর্তি হয়েছিলাম। না হয় ইন্জিনিয়ারিং কোচিং করে কেউ মেডিকেল এ পরে। চুয়েট এ ভর্তি হলেই পারতাম। এই দুইদিন পর পর পরিক্ষা আর ভালো লাগে না। বলা নাই কওয়া না গেলাম আর বলে পরিক্ষা দেও। ভালো লাগে না আর।"
"তা চলে যাইতি চট্টগ্রাম। আমি কি না করেছিলাম নাকি। চুয়েটে হলো কুয়েটে হলো কোথাও তো গেলি না এখন বলছিস।"
"ও আমার সোনা বুড়ি খুলনা কেন যাইনি তা তো তুমি জানোই আর তোমাকে রেখে চট্টগ্রাম কেমনে যাইতাম। তোমার মেয়ে তো তোমার দায়িত্ব আমাকে দিয়ে দিব্বি ওপারে ভালো আছে। আর তোমার মেয়ের ইচ্ছা তার মেয়ে ডাক্তার হবে। আর তোমার মেয়ের এই ফ্ল্যাট টা এটাতো ছাড়তেই পারি না। তাইতো ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে চলে এসেছি।"
"তাহলে বলছিস কেন তোর মা চাইছে তুই ডাক্তার হবি তাই উপরওয়ালা যেভাবেই হোক তা পূরণ করে দিয়েছে আর আমি ও তো আমার মেয়ের স্মৃতি ছেড়ে থাকতে পারতাম না তাই উপরওয়ালা যা করে ভালোর জন্যই করে।"
"হু.....।"
"হু অনেক কথা হয়েছে এবার নে দেখি খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে খেয়ে নে।"
"ওওও নাম্মা এখন খাবো না আমি ভালো লাগছে না।"
"তা বললে হবে না খেতে হবে মানে খেতে হবে নে হা কর আমি খাইয়ে দিচ্ছি তারাতাড়ি খেয়ে নে।"
হু হয়ে গেল নাম্মা বলেছে খাইয়ে দিবে আর তার দিদিভাই খাবে না এমনটা হতেই পারে না তাই সে ও আর কিছু না বলে খাওয়া শুরু করলো।
[খেতে খেতে পরিচয় পর্ব দেওয়া যাক সোফিয়া বেগম তার স্বামী মৃত সিরাজ উদ্দিন তিনি ছিলেন ব্যাবসায়ী তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে ছেলে সেহেরান হোসেন বর্তমানে বাবার সম্পূর্ণ ব্যাবসা টাই তার। তার স্ত্রী শিরিন আরা সে একজন গৃহীনি তাদের এক ছেলে শ্রাবণ হোসেন বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশুনা শেষ করে এখন নিজেদের ব্যাবসায় বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সোফিয়া বেগম এর মেয়ে শতরুপা সৌমি তিনি ছিলেন একজন ডাক্তার তার স্বামী ইফাজ শেখ ছিলেন প্রথম শ্রেণির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তবে তিনি বারো বছর আগে মারা গেছেন আর শতরুপা শেখ পাঁচ বছর আগে ব্লাড ক্যান্সারে মারা গেছেন। তাদের এক মেয়ে ইসারা সাইয়ারা সে রাজশাহী মেডিকেল এর স্টুডেন্ট। দাদা বাড়িতে কেউ ই ছিল না ইসারা কে দেখার মতো তার সে তার মামা মামীর সাথেও থাকতে রাজি না সে তার মায়ের তার জন্য সাজিয়ে দেওয়া কাজলার সেই ফ্ল্যাট এই থাকতে চায় এতে তার মামা মামী কিছুই বলেন নি অবশ্য এতে তাদের কিছু আসে যায় না। তবে সোফিয়া বেগম তার নাতনির সাথেই থাকবেন বলে ঠিক করলেন তারপর থেকে ইসারা আর তিনি একসাথে থাকেন। শতরুপা শেখ মরার আগে সব সম্পত্তি ইসারার নামে করে দিয়ে গেছেন তবে বাবার ব্যাবসায় যা ছিল তা সেহেরান হোসেন নিজের নামে নিয়ে নিয়েছে তবে ইসারার এতে সমস্যা নেই কারণ তার মা তাকে সব ই দিয়ে গেছে। অন্য অভিভাবকহীন পরিবারের মতো তাদের আর্থিক অস্বচ্ছতা নেই বরং ইসারা মেডিকেল এর স্টুডেন্ট তাই তার ডিমান্ড ও বেশি সে টিউশনি করিয়ে যা পায় তার থেকেই বেশ সেভিংস হয়। ইসারা সপ্তাহে তিনদিন করে এক এক জনকে একঘন্টা সময় দিয়ে আটটা স্টুডেন্ট পরায় একদিনে চারটা করে। সকাল সাতটা থেকে ১০টা পর্যন্ত তিনটা আার সন্ধ্যার পর একটা। আবার কখনো সকানে দুটো বিকালে দুইটা। সারা দিন কাটে মেডিকেল কলেজে। বাসায় একজন আছেন যিনি সব কাজ করেন আর সোফিয়া বেগম এর দেখা শুনা করেন। তবে এতে সে বেশ বিরক্ত সে টিউশনি ছাড়তে চাচ্ছে তবে তারা তাকে ছাড়ছে না এর চক্করে সে তিন বছর ধরে ঠিক করে ঘুমাতে পারে না। সকাল থেকে সারাদিন বাইরে তারপর বাসায় এসে রাত জেগে পরা শেষ করা। তবে এর মধ্যে তাদের নানি নাতনির ছোট্ট সংসার ভালোই চলছে। দুজন বেশ আনন্দের সাথে দিন পার করছে। ইসারার আটটা পাবলিক ইউনিভার্সিটি তে চান্স হয়েছিল তবে তার ইচ্ছা ছিল ইন্জিনিয়ারিং পরবে কুয়েট ও চুয়েটেও চান্স হয়েছিল তবে কোন এক কারণে সে খুলনা যাবে না তার চট্টগ্রাম দূরের জন্য যাওয়া হলো না আর বুয়েটের ও রুয়েটের পরিক্ষা ই সে দিতে পারে নি সোফিয়া বেগম অসুস্থ ছিলেন তাই। এরপর মায়ের পেশায় যাওয়ার রাস্তায় উপরওয়ালার ইচ্ছায় চলে আসলো। দেখতে দেখতে তার মেডিকেল জীবনের তার দুই বছর সম্পূর্ণ হয়ে গেছে।]
সোফিয়া বেগম ইসারা কে খাইয়ে শেষ করলো তারপর মুখ মুছিয়ে দিয়ে বললো,
"নে এবার শুয়ে পর দেখি অনেক রাত হয়েছে এখন আর পড়তে হবে না।"
"না নাম্মা এখন না আর একটু পড়ি তারপর শুবে।"
"না এখন ঘুমাবি বলেছি তার মানে এখন ই।"
অগত্যা ইসারা আর কথা ব্যয় করলো না। নাম্মার কথামতো শুয়ে পরলো। সোফিয়া বেগম ও নাতনির মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে চলে গেলেন। ইসারা বার বার তাকে না করে এতো রাত তার সাথে না জাগতে তবে তিনি শোনেন না নিজের মতো করে ইসারা যতক্ষণ পড়ে ততক্ষণ আশেপাশেই থাকেন।।।।
To be continue............