ফন্ট সাইজ:
থিম:
ব্লু_এঞ্জেল

১ম পর্ব

লেখক: Shifa Akter
#গল্পের_নামঃব্লু_এঞ্জেল
#লেখিকার_নামঃন্যানসি_আক্তার
#এই_গল্পে_রয়েছে_
মাফিয়া
যৌথপরিবার
কাজিন লাভ
 টক্সিক রোমাঞ্চ 
 ভৌতিক
 থ্রিলার 
রাজনৈতিক
(যাদের মাফিয়া, যৌথপরিবার, কাজিন লাভ, ভৌতিক,  রাজনৈতিক, থ্রিলার রিলেটিভ গল্প পছন্দ তাদের জন্য এই গল্পটা।) 
#প্রথম_পর্ব
ব্যানার্জি পরিবারের ছোট মেয়ে শিফা এবার 
এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে ,। রেজাল্টও বের হয়েছে — গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছি। কিন্তু কোন কলেজে ভর্তি হবে তার সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি। সেটা নিয়ে শুয়ে শুয়ে ভাবছে শিফা।
“কি ভাবতেছোছ, হাসের বাচ্চা?”ভি হেসে বলল,।
“তুমি আমাকে এই নামে ডাকবে না—বলে দিলাম ভাইয়া। ওকে ওকে, এত রাগ কেন আমার পিচ্চি বোনটার? আমি কার নাতি সেটা দেখতে হবে না—আমি এমপি নিহাল ব্যানার্জির নাতি। বুঝছো?”
“হ্যাঁ বুঝছি, বাবা। চল, এখন নাস্তা করতে?"সকাল কয়টা বাজে দেখছোছ? দশটা বেজে গেছে।
ভাইয়া আমার খেতে ইচ্ছে করছে না এখন, তুমি যাও আমি পরে খেয়ে নিব।”
“তুই খাবি—তোর ঘাড় খাবি একটা থাপ্পড় মেরে, সব দাত ফেলে দেবো, শিফা।” তুই জানোস অনিয়ম করা আমার একদমই পছন্দ না। তারপরও এইরকম করোছ তুই। তোর সাহস দিনে দিনে বাইরা যাইতেছে শিফা।
শিফা ভয়ে চুপ হয়ে যায়।
তারপর শিফা ভির সাথে নাস্তা করতে চলে যায়।
“শুভ সকাল, দাদাই।” “শুভ সকাল, দাদি।” “শুভ সকাল, পাপা।” “শুভ সকাল, মাম্মা।”
ঘুম ভাঙছে আমার প্রিন্সেসের। ভি বলল, “না পাপা, ও  গভীর চিন্তায় মগ্ন ওর ভবিষ্যৎ নিয়ে। যদি আমি না নিয়ে আসতাম, তাহলে আর ওর মুখ আজকে আর  দেখা লাগত না।”
“ভাইয়া, তুমি সবসময় আমার সাথে এমন করো। আমি খাবই না।”
“ভি, তুমি ওর সাথে এমনভাবে আর কথা বলবে না। ওকে ‘দাদা।”ল
আর দাদুভাই তোমাকে কতবার বলছি ঠিকমতো চলবে আর কোনো অনিয়ম করবে না। তুমি জানো না তুমি অসুস্থ তারপর তুমি যেরকম ইচ্ছে সেরকম চলো। আর জানি এরকম না হয় দাদু ভাই। 
"স্যরি দাদাই। আর হবে না। 
“হ্যাঁ, হয়েছে—আর আমার দাদাভাই ও দাদুভাইকে  বকাঝকা লাগবে না। দাদুভাই, তুমি কোন কলেজে ভর্তি হবে সেটা ঠিক করেছো?”
“না, দাদি।”
“তোমার আর ঠিক করা লাগবে না, আমি তোমাকে DMRC-তে ভর্তি করে দিয়ে আসবো।”
“ওকে, মাম্মা।
“হ্যাঁ, ওই কলেজটাই তোমার জন্য বেস্ট হবে, প্রিন্সেস।” 
“তাহলে আমার দাদুভাইয়ের- কলেজ ঠিক হয়ে গেল?” 
ভি, তুমি ওকে কলেজে ভর্তি করিয়ে দিয়ে আসো।” 
“ওকে, দাদা।” 
“দাদাই, ফিওনা আর কিউহি আমার সঙ্গে ভর্তি হবে; আমি ওদেরকেও নিয়ে যাব।”
 “নিয়ে যাও, দাদুভাই।”
ফিওনা আর কিউহি শিফা শিশুকালের বেস্ট ফ্রেন্ড। ওদের ছাড়া ওর কিছুই চলে না।
এবার চলো ব্যানার্জি পরিবারের পরিচয় দি
রাজধানী ঢাকার বিলাসবহুল ব্যানার্জি ম্যানশন—যেটা মার্বেল পাথর আর ব্ল্যাক ডায়মন্ড দিয়ে তৈরি। দেখতে একেবারে রাজপ্রাসাদের মতো।
এই বাড়ির মালিক: ঢাকার এমপি নিহাল ব্যানার্জি (বয়স ৬৫ বছর)। এখনও অনেক স্টং এবং খুব রাগী মানুষ। এই বাড়িতে তার কথাই শেষ কথা। প্রয়োজনে মানুষ খুন করতে পর্যন্ত পারেন।
এই বাড়ির কর্তী: সুফিয়া ব্যানার্জি (নিহাল ব্যানার্জির স্ত্রী, বয়স ৬০ বছর)। পুরো সংসারটা তিনি সামলান। শান্ত স্বভাবের মহিলা। সবকিছু সুন্দরভাবে সামলে নিতে পারেন। তাদের ৮ ছেলে-মেয়ে—৫ ছেলে, ৩ মেয়ে। সবাই বিদেশে থাকে, শুধু ছোট ছেলে বাবা-মার সঙ্গে থাকে।
ছোট ছেলে: ঝসব ব্যানার্জি (বয়স ৩৮ বছর)। পেশা: বাবার রাজনৈতিক কাজ সামলায় এবং পারিবারিক ব্যবসা ব্যানার্জি ইন্ডাস্ট্রি-র বর্তমান মালিক।
তার স্ত্রী: প্রিতি ব্যানার্জি (বয়স ৩৬ বছর)। পেশা: ডাক্তার। নিজের একটি মেডিকেল সেন্টার আছে। তাদের দুই ছেলে-মেয়ে।
বড় ছেলে: ভি ব্যানার্জি (বয়স ২৫ বছর)। রাজনীতি করে দাদা আর বাবার মতো; বুয়েটে AI নিয়ে পড়াশোনা করছে—তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। দেখতে সুদর্শন; সব মেয়ের ক্রাশ। কিন্তু অনেক রাগী। 
ছোট মেয়ে: শিফা। বয়স ১৫ বছর। ব্যানার্জি পরিবারের সবচেয়ে ছোট মেয়ে। সবে মাত্র স্কুলজীবন শেষ করেছি। শিফার চোখগুলো নীল—রাশিয়ানদের মতো। ফর্সা রঙ। এই নীল চোখ একবার যে দেখে, সেই পাগল হয়ে যায়।
  
বাকি সবার কথা গল্পে যখন আসবে তখন দিবো।
 
শিফা ও ভি বের হয়ে ফিওনা ও কিউহিকে তাদের বাসা থেকে ড্রপ করে নিয়ে যায়।
ওরা কলেজে পৌঁছে যায়।
“ফিওনা, কলেজটা তো অনেক সুন্দর, তাই না?”
“হ্যাঁ।”
তখন কিউহি তামাশা করে বলল:
“তোরা ঐখানে বসে ছেচরামি করিস না।”
ফিওনা রেগে বলল, “তুই ছেচড়া।ওর সঙ্গে কথা বলিস না তো।”
ভি সবাইকে ধমক দিয়ে বলল আর একটা কথা বললে , সবগুলোরে থাপ্পড় মেরে গাল লাল করে দেবো। এক সপ্তাহ আর মুখ দেখাতে পারবি না।” যদি এরকম না চাস তাহলে চুপ থাক।
ফিওনা বলল, “তোর ভাই একটা গুন্ডা। —ঠিক বলছোছরে ফিওনা, আমার এই গুন্ডা ভাইটারে নিয়ে যে আমি কি করি।”
হঠাৎ পাস থেকে অনেকগুলো ছেলে ভিকে দেখে বলল, “ভাই, আসসালামু আলাইকুম। ভাই, আপনি এখানে?”
“এই তো, আমার বোন আর ওর বন্ধুদের ভর্তি করাতে নিয়ে এসেছি তোমাদের কলেজে।”
শিফা জিজ্ঞেস করল, “ওরা কারা ভাইয়া ? 
তোমাদের জানতে হবে না।”
 শিফা গাল ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
এখন চল — প্রিন্সিপালের রুমে।
“না, যাবো তুমি আগে বলো ওই ছেলেগুলো কারা?”
“আরো—ওরা দাদার সাথে কাজ করে।”
“চল এবার।”
প্রিন্সিপালের রুমে ওরা চলে যায়।
“ভি, তুমাকে অনেক দিন পর দেখলাম,তোমাকে এখন আর খুজেই পাওয়া যায় না ” প্রিন্সপাল  বলল।
 ফিওনা আস্তে শিফাকে বলল, “তোর ভাই কি সবাইকে চেনে?
 আরে, আমার ভাই একজন রাজনৈতিক নেতা—সবাইকে চেনা স্বাভাবিক।”
কিউহি কি যেনো ভাবছে। শিফা ওকে ধাক্কা দিল। “এই কিউহি, কি ভাবছো?” শিফা জিজ্ঞেস করল। কিউহি বলে, “আমি ভাবছি—ভি ভাই সবাইকে চেনে; স্যার-ম্যাডাম—এমনকি প্রিন্সিপালকে ও। যদি আমাদের কোনো কিছু করলেই , ভি ভাইকে এরা সব বলে দিবে ওখান থেকে আমাদের মা-বাবা জানবে।
 হ্যাঁ, এটা ঠিক বলছোছ কিউহি।”
“কিন্তু কিছু করার নেই, আমাদের এখানেই ভর্তি হতে হবে। আর যেখানেই যাই না কেন, ভাইয়া সবকিছুই চেনে।”
“সেটাও ঠিক।”
প্রিন্সিপাল বলল, ভি তোমার কি দুই বোন আর দুই ভাই?”
“না, স্যার। ওরা আমার বোন বা ভাই না।—ও আমার বোন শিফা ব্যানার্জি।” আর ওরা ওর বন্ধু ফিওনা চৌধুরী ও কিউহি সিকদার
"ও তাই বলো আমিওতো সেটাই জানতাম তোমার শুধু একটা বোন। তোমারা সবাই  বসো। ভি তুমি ওদের সবাইকে ভর্তি করাবে।
"হ্যা স্যার"।
ভি তারপর ওদের সবাইকে ভর্তি করিয়ে দিয়ে সবাই নিয়ে কলেজ থেকে বের হয়ে যায় । শিফা বলল, “ভাইয়া আমি আইসক্রিম খাবো।” ওকে চল।  সবাই একটা আইসক্রিমের দোকানে গেলো। সবাই সবার পছন্দের ফ্লেবারের আইসক্রিম নিয়ে খেতে থাকল আর গল্প করতে লাগল। আর ভি ওদের থেকে একটু দূরে করো সাথে ফোনে কথা বলতেছে।
তখন কয়েকটা ছেলে শিফাদের পাশ থেকে যাচ্ছিল ওদের দেখে ফিসফিস করে বলল, “ওই নীল চোখ ওয়ালা মেয়েটাকে দেখ—পুরো রাশিয়ান মাল।” আজকে আমাদের মেয়েটাকে চলবে এই মেয়েটা পুরো ১০০ মেয়ের সমান ভাই। এত হট মেয়ে আমি জিবনে দেখেনি।
  কিউহি শিফা ও ফিওনাকে বলল, “এখান থেকে চল—তোর ভাই; এগুলো শুনলে ঝামেলা হবে।”
হঠাৎ অনেক জোরে একটা শব্দ উঠলো। শিফা, ফিওনা ও কিউহি কিছু বুঝার আগেই। ওরা, নিচে তাকিয়ে  দেখে যে ছেলেটি শিফাকে বাজে কথা বলেছিল, তাকে কেউ গুলি করেছে।
 শিফা ওর ভাইয়ের দিকে তাকাল—ভাইয়ের হাতে পিস্তল। শিফা ও ফিওনা ভয়ে কেঁপে উঠল। 
ভি চিক্কার দিয়ে বলল শিফা, ফিওনা, কিউহি গাড়িতে উঠ। ভি ফিওনা ও কিউহিকে তাদের যার যার বাড়ি পৌঁছে দিয়ে শিফাকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসে।
শিফা দৌড়ে গিয়ে দাদীলে জরিয়ে ধরে কান্না করতে থাকে। ভি আসে পেছন পেছন।সুফিয়া ব্যানার্জি জিজ্ঞেস করে, “ওর কি হয়েছে, ভি?” ভি সোফায় বসে মোবাইল বের করে টিপটাছে এমনভাবে যেন কিছুই হয় নায়। দাদী আমাকে জ্বালিয়ো না তোমার নাতিকে জিজ্ঞেসা করো।
শিফা দাদীকে সব খুলে বলল। সুফিয়া বেগম  চিৎকার করে বলল, “তুমি কি আবার খুন করছো, ভি?”
“দাদী, আমার বোনের ওপর যে নজর দিবে, সেই লাশ হয়ে যাবে।”
এই কথা বলে ভি তার রুমে চলে গেল।
সুফিয়া বেগম বলল, “দাদুভাই, তুমি জানোই তোমার ভাই কিরকম। তোমাকে যদি কেউ কিছু বলে, ও সহ্য করতে পারো না।
"দাদুভাই তুমি এখন রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে একটু ঘুমাও দেখবে ভালো লাগবে।" শিফা দাদীর কথা চলে যায়।"
"সুফিয়া বেগম শিফার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে একটা নিশ্বাস ছেড়ে; মনে মনে বলল আল্লাহ না করুক, দাদুভাই তোমার এই রুপ না যেন কাল না হয়। তুমি যে অতিরিক্ত সুন্দর।"
চলবে_
(আমি নতুন লেখিকা সবাই আমাকে সাপোর্ট করবেন প্লিজ। এই গল্পটা ভালো লাগলে পরের পর্ব দিবো। সবাই জানাবেন কেমন হয়েছে।  জানি বড়ো বড়ো লেখিকাদের মতো হয় না আমার লেখা গল্প হয়তো আপনাদের ভালো নাও লাগতে পারে তাও একবার পড়বেন প্লিজ । এই গল্পটা পুরাটা আমার মন থেকে লেখা।)

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন