ফন্ট সাইজ:
থিম:
হৃদয়াবেগ

১৩তম পর্ব

লেখক: রূপন্তি রাহমান

#হৃদয়াবেগ

#পর্বঃ১৩ (Bonus)

#রূপন্তি_রাহমান (ছদ্মনাম)

ভাইয়ের গাঁয়ে হাত চমকিত হয় ফাহিম। সারা শরীর জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে। যার দরুন চক্ষুদ্বয় লাল আকার ধারণ করেছে। ফাহিম উচ্চস্বরে ডাকলো আমেনা বেগম আর নাযীফাহ কে। ফাহিমের আচমকা এমন ডাকে ঘাবড়ে যায় দু'জন। তড়িৎ গতিতে রুমে এসে কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই তাহমিদ কে দেখে বুঝতে পারে ওর কিছু একটা হয়েছে। আমেনা বেগম তাহমিদের কপালে হাত দিয়ে নাযীফাহ কে বলে একটা বাটিতে পানি আর কাপড়ের টুকরো নিয়ে আসার জন্য। জলপটি দিতে হবে। নাযীফাহ এসব নিয়ে এলে চোখের ইশারায় বলে তাহমিদের কপালে জলপটি দেওয়ার জন্য। ফাহিম নিচে গিয়েছে গলির মোড়ের ফার্মেসীতে বসা ডাক্তার কে নিয়ে আসার জন্য।

নাযীফাহ অনবরত জলপটি দিয়ে যাচ্ছে। শরীরের তাপমাত্রা কমার কোনো লক্ষণ নেই। ডাক্তার জ্বর মাপার পর বলেছে ১০৪° জ্বর। আপাতত জ্বর কমার জন্য ঔষধ দিয়ে গেলেও বলেছে, যদি কালকের ভিতর জ্বর না কমে তাহলে যেন হাসপাতালে নিয়ে যায়। বার কয়েক ভিজা তোয়ালে দিয়ে শরীরও মুছে দেওয়া হয়েছে।

বিকাল তিনটা!

তাহমিদের শরীরের তাপমাত্রা নামতে শুরু করেছে। সে চোখ বন্ধ করে রাখলেও সব শুনতে পাচ্ছে। ভাইয়ের শিয়রের কাছে বসে ফাহিম বলল,

'ভাইয়ার জ্বরের খবরটা মাকে দেওয়া দরকার।'

তৎক্ষনাৎ চোখ মেলে তাকায় তাহমিদ। তারপর দূর্বল গলায় বলল,

'মাকে এসব বলিস না। আমরা দুই ভাই এখানে থাকি বলে এমনিতেই মায়ের টেনশনের শেষ নেই। এসব বললে মা পাগলামি করবে। তাছাড়া এখানে তো দাদি আছে। অযথা মাকে টেনশন দিস না।'

আমেনা বেগমও বললেন,

'এখন এসব বলার দরকার নাই। যদি সকালের ভিতরে একেবারে জ্বর না ছাড়ে তখন বলা যাবে।'

ফাহিমেরও কথা গুলো যৌক্তিক মনে হলো। আমেনা বেগম নাযীফাহ'র কাছে এসে ওর মাথায় হাত রাখলো।

'সকালে তো নাস্তা করলি না। এখনও দুপুর গড়িয়ে বিকেল হলো আয় কিছু একটা খেয়ে নিবি।'

বিস্ফোরিত নয়নে তাকায় তাহমিদ।

'ও এখনো কিছু খায়নি?'

আমেনা বেগম প্রাণহীন, নির্জীব গলায় বললেন,

'সকালে তুই পরে খাবি বলাতে ও বলেছিলো তোর সাথে খাবে৷ এরপর তো তোর এই অবস্থা। তোর কপালে জলপটি দিলো।খাওয়ার সুযোগ হলো কই?'

'তাহলে এক প্লেটে খাবার নিয়ে আয়। তুইও খাবি আমিও খাবো।'

তাহমিদের এমন কথায় চোখ বড় বড় করে তাকায় নাযীফাহ। বিস্মিত গলায় বলে,

'আপনি আমার হাতে খাবেন?'

শরীরের উষ্ণতার জন্য এমনিতেই চোখ লাল তাহমিদের। নাযীফাহ'র এমন কথায় চোখ গরম করে তাকায় সে। মুখ টিপে হাসলো আমেনা বেগম এবং ফাহিম।

____________________________________________

নাযীফাহ এক লোকমা ভাত তাহমিদের মুখে দিতেই তাহমিদের মনে হলো কেউ তার মুখে নিম পাতার রস ঢেলে দিয়েছে। ভাত মুখে নিয়ে থম মে'রে রইলো তাহমিদ। নাযীফাহ ভ্রু কুঁচকে তাকাতেই তাহমিদ চোখ মুখ খিঁচে ভাত গলাধঃকরণ করলো তাহমিদ। তারপর ইশারায় নাযীফাহকে খেতে বলল।

তাহমিদের শরীরের তাপমাত্রা এই কমছে এই বাড়ছে। রাতে জ্বর হালকা কমতেই আমেনা বেগম বললেন,

'নাযীফাহ তো ছোট ও তাহমিদের সাথে থাকতে পারবে না। আর ফাহিম তোরও রাতে না ঘুমালে মাথা ব্যথা করে।আমি বরং দাদু ভাইয়ের কাছে থাকি।'

নাযীফাহ আমতাআমতা করে বলল,

'দাদি, বলছিলাম কি আমি থাকি? তুমিও অসুস্থ।'

আমেনা বেগম মলিন গলায় বললেন,

'না রে বোন তুই পারবি না।তার চেয়ে ভালো আমিই থাকি।'

নাযীফাহ আমেনা বেগমের হাত দু'টো ধরে বলল,

'আমার অন্য জায়গায় বিয়ে হলে তো সব কাজ করতে হতো সবাইকে আগলে রাখতে হতো।সেখানে তোমরা আমাকে একটা বিড়াল ছানার মতো যত্নে রাখছো। আমি না হয় উনার কাছে। যদি রাতে বেশি ছটফট করে তাহলে তোমাদের ডাকবো।'

ফাহিম এগিয়ে এসে নাযীফাহ'র মাথায় হাত রেখে বলল,

'আমাদের ডানপিটে নাযীফাহ তাহলে একটু একটু করে বড় হচ্ছে।'

____________________________________________

মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে তাহমিদের মাথার কাছে বসেই ঘুমিয়ে পড়ে নাযীফাহ। মাঝরাতে গোংরানির শব্দে ঘুম ভেঙে যায় তার। তাহমিদের কপালে হাত দিয়ে বুঝতে পারে জ্বরের মাত্রা আবারও বেড়েছে। হাতের কাছের বাটি থেকে কাপড়ের টুকরো টা নিয়ে আবারও জলপটি দিতে শুরু করে সে। তাহমিদের কানের কাছে মুখ নিয়ে বলে,

'বেশি খারাপ লাগছে আপনার? দাদি কে ডাকবো?'

কোনো সাড়াশব্দ করলো না তাহমিদ। উঠে দাঁড়াতেই নাযীফাহ'র হাত শক্ত করে ধরে সে। চকিত হয় নাযীফাহ। শান্ত, নিস্তরজ স্বরে তাহমিদ বলে উঠলো,

'তুই আমার পাশে থাক। আমার আর কাউকে লাগবে না। একটু ভালোবেসে মাথায় হাত বুলিয়ে দে।দেখবি আমার জ্বর কমে গেছে। কোথাও যাস না আমার কাছেই থাক। আমার শুধু তোর সঙ্গ চাই।'

বিড়বিড় করে ঘুমিয়ে গেলো সে। আর উঠে গেলো না নাযীফাহ। তাহমিদ মাথায় জলপটি দিতে লাগলো। তারপর একটা তোয়ালে ভিজিয়ে দুপুরের মতো আবারও বুক, হাত, গলা মুছে দিলো। তোয়ালেটা ওয়াশরুমে মেলে দিয়ে রুমে এসেই দেখলো তাহমিদ খাটে বসে আছে। নাযীফাহ কাছে এসে বসেই কপালে হাত দিয়ে বলল,

'জ্বর কি ছেড়েছে?'

তাহমিদ তাকালে নাযীফাহ'র দিকে। চোখ দুইটা পূর্বের ন্যায় টকটকে লাল। নাযীফাহ প্রথমে ভয় পেলেও সামলে নিলো নিজেকে। অকস্মাৎ তাহমিদ নাযীফাহ'র বক্ষঃস্থলের দিকে ইশারা করে বলে,

' তোর এইখানে আমাকে একটু জায়গা দিবি? আমার অশান্ত মনটাকে একটু শান্ত করবি? তোর,,,'

আর কিছু বলার আগেই নাযীফাহ বলল,

'আপনি পাগলামি করছেন। আমি দাদিকে ডেকে নিয়ে আসি।'

তাহমিদের সেই আগের উত্তর,

'তুই কোথাও যাবি না। আমার শুধু তোকে প্রয়োজন। আচ্ছা থাক তোর বুকে আমাকে জড়িয়ে নিতে হবে না। কিন্তু আমার পাশ থেকে কোথাও যাবি না।'

বলেই শুয়ে পড়লো সে। নাযীফাহ বোকার মতো তাকিয়ে আছে আর তাহমিদের পাগলামি দেখছে। সেখানেই থম মে'রে বসে রইলো সে। আকস্মিকভাবে তাহমিদ নাযীফাহ'র কোলে মাথা রেখে পেটে মুখ ডুবিয়ে দিলো। তাহমিদের এহেম কান্ডে হতবিহ্বল হয়ে গেলো নাযীফাহ। সমস্ত কায়া কেঁপে উঠল তার। হৃদপিণ্ডের লব ডবের মাত্রা যেন কয়েকগুন বেড়ে গেলো। তাহমিদের শরীরের উষ্ণতা যেন নাযীফাহ'র শরীরেও ছড়িয়ে পড়ছে। নাযীফাহ কি করবে বুঝে উঠতে পারলো না। তাহলে কি তাহমিদ এই গভীর, প্রগাঢ়, আবেগময় স্পর্শের কথাই বলেছিলো?

তাহমিদ নাযীফাহ'র একটা হাত নিজের মাথায় রেখে বলল,

'দেখ আমি কিন্তু তোর বুকে মাথা রাখিনি। তোর কোলে মাথা রেখেছি। এখন তোর আলতো হাতে আমার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দে। আর কিচ্ছু লাগবে না।' বলেই দু'হাতে পেট জড়িয়ে ধরলো।

নাযীফাহ পরপর কয়েকবার শুকনো ঢুক গিলে। তারপর কাঁপতে কাঁপতে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলো তাহমিদের মাথায়।

____________________________________________

বিছানায় শুয়ে ছটফট করছেন ওয়াহিদা। আজ সকাল থেকেই মনটা অশান্ত তার। একে তো ধান কাটা পড়েছে তারপর কোনো কাজে মন বসাতে পারছে না সে। বুকে শুধু অজানা হাহাকার। রাত প্রায় শেষ হতে চলো কিন্তু উনার চোখে ঘুম নেই। এপাশ ওপাশ কখন থেকে করছেন কিন্তু শান্তি পাচ্ছেন না। সারা শরীর জ্বালাপোড়া করছে। আর থাকতে না পেরে জামান সাহেব কে ডাকলেন উনি। পরপর তিনবার ডাকার পরে পিটপিট করে তাকান জামান সাহেব। স্ত্রীর ফোলা ফোলা আঁখি দেখে ঘুম গায়েব হয়ে যায় উনার। তটস্থ, ভীত গলায় বললেন,

'শরীর খারাপ লাগছে তোমার? আগে বলবে না।'

'আমার শরীর ঠিকই আছে। মনে শান্তি পাচ্ছি না। আমার মন বলছে ছেলে দুইটা ভালো নেই। আপনি একটা ফোন দিন না।' কাতর গলায় বললেন ওয়াহিদা।

জামান সাহেব মোবাইল হাতরে দেখলেন রাত দু'টো বাজে। স্ত্রীর হাত ধরে বললেন,

'অনেক রাত হয়েছে ওয়াহিদা। কাল সকালে ফোন দেই? এখন যদি আমি ফোন করি তাহলে উল্টো ওরা ভয় পাবে। মনে করবে আমরা বোধহয় বিপদে। তুমি শুয়ে পড়ো আমি তোমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছি।'

____________________________________________

খুব সকালে ঘুম ভাঙে নাযীফাহ'র। তারপর নিজের অবস্থান আর তাহমিদের অবস্থান দেখে লজ্জায় মিইয়ে যায় সে।

#চলবে

বানান ভুল ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। নেন বোনাস পার্ট দিলাম। তবে কালকে কেউ গল্পের জন্য অপেক্ষা করবেন না।

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৩তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন