ফন্ট সাইজ:
থিম:
মন দিয়েছে ধরা

১৭তম পর্ব

লেখক: প্রিমা ফারনাজ চৌধুরী

#মন_দিয়েছে_ধরা 

১৭
তোমার ভাই কি আসছে? আসলে তাড়াতাড়ি আসতে বলো। না আসলে বলে দিও আমি আর জীবনেও ওই বাড়িতে যাব না।
রাগে ফোঁসফোঁস করে কথাটা বললো নীরা। মুনা ফিক করে হেসে উঠে হাসি চওড়া করলো। হাসতে হাসতে বলল
ও তো দেখলাম বেরিয়েছে। ওভাবে বেরোয়নি। শার্ট প্যান্ট যা পড়েছিল সেভাবে বেরিয়েছে।
আচ্ছা আমি আসতে বলেছি এজন্য দামে উঠেছে তাই না? ঠিক আছে। ফিরলে বলে দেবে আমাকে যেন একটা ফোনও না করে। 
মুনা বলল
আরেহ এভাবে রেগে যাচ্ছিস কেন? এখনও তো সময় আছে। দেখ কি করে। 
আসবে না। আমি জানি। না আসুক। আমিও যাব না। ফোন রাখছি। মাকে গিয়ে বলি সব পোলাও কোরমা আমরা খেয়ে নেব। 
ওর গলায় কান্না কান্না ভাব,
মুনা হাসতে হাসতে বলল
তোকে কিভাবে রিপ সামলাচ্ছে আমার তো সেটাই অবাক লাগছে নীরু। তুই দেখছি জ্বালিয়ে মারছিস। 
তোমার ভাই আমাকে জ্বালাচ্ছে। আমি ফোন দিয়েছি ফোন রিসিভ করেনি উল্টো মেসেজ লিখে পাঠিয়েছি তোমার সাথে আমার কোনো কথা নেই। কেমন বজ্জাত লোক দেখেছ? 
আরেহ শান্ত হ। ও আসুক আমি দেখি বুঝিয়ে সুঝিয়ে পাঠিয়ে দেব। 
না বাপু থাক। অত বুঝাতে হবে না তোমার ভাই নামক বাচ্চাটাকে। উনি বড় বড় ভাবের ডিগ্রি নিয়ে বসে থাকে সারাদিন আর এটুকু বুঝেনি বউ তাকে আবদার করে যেতে বলেছে। বাজে লোক। আজ এলেও দরজা বন্ধ করে রাখবো আমি। রাখি। 
নীরা ফোন রেখে দিল রেগেমেগে। 
রিপ তার ঘন্টাখানেকের মধ্যে বাড়ি ফিরলো। হাতে নানারকম ব্যাগ। মুনা এসে জানতে চাইলো
কি রে কই গিয়েছিলি? নীরু ফোন দিয়ে কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছে তুই নাকি ফোন তুলিসনি। 
রিপ সে কথার জবাব না দিয়ে বলল
বাজার এনেছি। আর এগুলো ওদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। 
তারমানে যাচ্ছিস। তাহলে ওর ফোনটা ধরলি না কেন? 
এমনি। 
দু-হাত ঝাড়তে ঝাড়তে ঘরের দিকে পা বাড়ালো সে। মুনা মিষ্টির কার্টুন, ফলমূলের ঝুড়ি আর বাজারের থলেটা নিয়ে চলে গেল। 
_______________
জামাই আসবে না শুনে মন খারাপ করে বসেছিলেন নওফুজ সাহেব। ভাইপো গুলো এসে সুখবর দিয়ে বলল, 
' কাকা তোমাদের জামাইকে এগিয়ে নিয়ে আসতে যাচ্ছি। রাস্তায় গাড়ি থামলো দেখলাম। 
নওফুজ সাহেবের চোখেমুখে আনন্দ উচ্ছ্বাস। নীরাকে ডেকে বললেন
নীরা মা সাহেব তো চলে এসেছে দেখি। তুই মাঝেমাঝে এমন এমন কথা বলিস চমকে দিস আমাকে। 
নীরা এসে উত্তেজিত গলায় বলল
সত্যি? 
হ্যা। আমি যাচ্ছি। 
নীরা ছুটতে ছুটতে দোতলার বারান্দায় চলে গেল। উঁকিঝুকি দিয়ে দেখলো নীরার বড় জেঠাতো ভাই শিহাবের সাথে কথা বলতে বলতে আসছে রিপ। নীরার খুশি দেখে কে? সে একছুটে রান্নাঘরে চলে এল। মা তাকে ধমকে বললেন
পাজি মেয়ে। না জেনেশুনে ছেলেটাকে বকাবকি করছিস এতক্ষণ। আমি বলে দেব সব। 
নীরা হেসে ডাকলো চুমু ছুঁড়ে দিয়ে বলল..
ওমমমমমাহ।
মা ঝামটি মেরে বললেন,,
যাহহহ অসভ্য। এ নাকি একজন এডভোকেটের বউ। 
______________
নীরার বাবা জামাইকে পেয়ে মহাখুশিতে কি বলবে ভেবে পাচ্ছেন না। এইসেই কতকথা। জামাই শ্বশুরের কথার তালে তালে উত্তর দিচ্ছে বলে তিনি আরও মজা পাচ্ছেন কথা বলে। উনার মেয়েটা আজকাল বদ হয়েছে বেশ। ভালো ছেলেটার নামে উল্টাপাল্টা কথা বললো শুধু শুধু।  
নীরা নাশতার নিয়ে আসা যাওয়া করতে করতে কয়েকবার এল আর গেল। রিপ ওকে আড়চোখে একবার দেখেছিল বৈকি নীরা একবারও তাকায়নি। 
এই বাড়িতে তার অন্যরূপ। কেমন চটপটে উড়ুউড়ু। বাড়ির আদুরে কন্যা। সেলোয়ার-কামিজ পরিহিত এক যুবতী। চঞ্চল চলনবলন তার। রিপ ভারী অবাক হলো তার দিকে একবারও না তাকানোর কারণ কি? বরং বেশিবেশি তাকানো দরকার সে এককথায় চলে এসেছে বলে। 
নাশতা খেয়ে নীরার ঘরে এল রিপ। নীরা তার পিছু পিছু হেঁটে এল। রিপ তার ঘরময় পায়চারি করলো। দেয়ালে টাঙানো পেইন্টিংগুলো দেখলো। 
এগুলো তুমি এঁকেছ? 
পেছনে ফিরে নীরার দিকে তাকালো সে। নীরা লজ্জাবতীর মতো মাথা নাড়ালো। 
সুন্দর! 
নীরা বেশ খুশি হলো। বলল,
আরও আছে আমার আলমিরায়। আপনাকে দেখাচ্ছি। বসুন। 
রিপ দেয়ালের পেইন্টিংগুলো নেড়েচেড়ে দেখলো। বেশ সুন্দর আঁকে তো। 
নীরা তার বাকি পেইন্টিংগুলো বের করে বিছানায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখলো। রিপের সামনে বসে একটা একটা দেখাতে লাগলো। রিপ মনোযোগ সহকারে দেখলো। তখনি মুনা ফোন দিল। নীরা ফোন কানে দিতেই নীরা বলল
হ্যা আপা। এসেছে।
কত বকাঝকা করলি পাগল। 
নীরা লাজুক মুখে বলল
আচ্ছা তোমাকে পরে ফোন দিচ্ছি। 
মুনা হেসে বলল
আচ্ছা রাখ। 
রিপ ওর দিকে চোখ তুলে বলল
কি বললো? 
কিছু না। 
এত এত পেইন্টিংয়ের মাঝে রিপের চোখ আটকে গেল একটি পেইন্টিংয়ে। সেটি নিতেই নীরা সেটি খপ করে নিয়ে উঠে গেল। বলল
এগুলো দেখুন। 
রিপ সন্দিগ্ধ গলায় বলল
ওটা কার? আমাকে দেখাও। 
নীরা গলায় জোর দিয়ে বলল,
নাহহহ। 
রিপ উঠে দাঁড়ালো। নীরা সরে গেল। বলল
দেব না।
রিপ তার পেছনে গিয়ে বলল
দাও বলছি নীরা। আমাকে দেখতে দাও। 
নীরা বলল
না এটা দেখাতে পারব না। এটা আমার পার্সোনাল জিনিস। 
রিপ ভারমুখে চেয়ে বলল
তুমি দেখাবে কি দেখাবে না? 
নীরা গালফুলিয়ে বলল
নাহ। 
ঠিক আছে। আমি আজকে থাকব না। খেয়েদেয়ে চলে যাব। 
নীরা ফিক করে হেসে উঠে বলল
আমি আপনাকে থাকতে বলেছি?
রিপ তাজ্জববনে গেল। বিস্ময় নিয়ে বলল
মানে? 
মানে আপনি খাবেন দাবেন তারপর চলে যাবেন। 
ওহহ আচ্ছা।ঠিক আছে। 
দরজা খুলে বেরিয়ে যেতে যাচ্ছিলো রিপ। নীরা গিয়ে পেছন থেকে ঝাপটে জড়িয়ে ধরে রেখে বলল
আচ্ছা আচ্ছা দেখাচ্ছি। নিন। 
বুকের সামনে নীরার হাত থেকে পেইন্টিংটা নিয়ে সেটি দেখলো রিপ। নীরা চোখদুটো চেপে ধরলো ওর পিঠের সাথে। রিপ পেইন্টিংটা মনোযোগ সহকারে তাকিয়ে তীর্যক হাসলো। ছবিতে সে। আর কিছু ঠিকঠাক আঁকতে না পারলেও চোখ, নাক, ঠোঁট ঠিকঠাক তার মতো আঁকতে পেরেছে। 
বাঁধন হালকা হয়ে আসতেই রিপ সামনে ফিরলো। নীরা ওর কাছাকাছি এসে দু'হাতে মুখ ঢেকে রাখলো। রিপ হেসে উঠে বলল
হয়েছে হয়েছে। 
নীরা দু-হাত মেলে তাকাতেই রিপকে হাসতে দেখে আবারও মুখ ঢেকে রিপকে পিছু করে দাঁড়ালো। রিপ ধীরপায়ে হেঁটে গিয়ে নীরার পেছনে দাঁড়িয়ে খানিকটা ঝুঁকে পেইন্টিংটা নীরার সামনে রাখলো। ইচ্ছে করেই জানতে চাইলো
এটা কে? 
নীরা ধীরেধীরে মুখ থেকে হাত নামিয়ে পেইন্টিংটাতে চোখ রেখে বলল
বনমানুষ। 
প্রগাঢ় নিঃশ্বাসের শব্দতরঙ্গ ঢেউ খেলে গেলে নীরার কর্ণরন্ধ্রে। ঘাড়টা একপাশে হেলতেই রিপ কাঁধে থুঁতনি ঠেকিয়ে বলল
অথচ তুমি লিখেছ "মনমানুষ"। 
চলমান......
🙈🙈🙈🙈🙈🙈🙈

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১৭তম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন