নিষিদ্ধ সীমানায় তুমি।
লেখিকা:ফাইজা নূর
পর্ব:১
বাইরে তখন কালবৈশাখীর চরম মাতম। আকাশের বুক চিরে ক্ষণে ক্ষণে নেমে আসছে তীব্র বজ্রপাত, আর তার নীলচে-সাদা আলোয় পলকের জন্য চাবুকের মতোন আলোকিত হয়ে উঠছে পুরো নিঝুম শহর। জানালার কাচে বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটাগুলো আছড়ে পড়ছে ঠিক যেন কোনো ক্ষুব্ধ, রক্তাক্ত হৃদয়ের আর্তনাদের মতো। কিন্তু সেই বাইরের প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের তাণ্ডবও ঘরের ভেতরের এক অদ্ভুত, দমবন্ধ করা নিস্তব্ধতাকে ভাঙতে পারছিল না। ঘরের ভেতর টেবিলের ওপর জ্বলতে থাকা একমাত্র মোমবাতির শিখাটা বাতাসের ঝাপটায় কাঁপছিল, আর তার হলদেটে আলোয় দেওয়ালে কাঁপছিল দুটো দীর্ঘ, রহস্যময় ছায়া।
ফারিহা ঘরের একদম কোণে, শক্ত কাঠের দেওয়ালটাতে নিজের পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ওর বুকের ভেতরটা তখন বাইরের কালবৈশাখীর চেয়েও হাজার গুণ দ্রুত গতিতে কাঁপছে। ভয়ে, নাকি এক অদ্ভুত অবশ করা অজানা অনুভূতিতে—তা ও নিজে ভালো করে জানে না। ওর ঠিক মাত্র কয়েক ইঞ্চি সামনেই পাহাড়ের মতো অটল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আদিয়ান। আদিয়ানের পরনে একটা কুচকুচে কালো শার্ট, যার ওপরের দুটো বোতাম খোলা। ওর সুঠাম বুকের ওঠানামা ফারিহা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে। আদিয়ানের সিল্কি চুলগুলো বাইরের বৃষ্টির জলে কিছুটা ভেজা, কপাল ছুঁয়ে আড়াআড়িভাবে নেমে আছে কয়েকটা অবাধ্য চুলের গোছা। সেখান থেকে দু-এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ছে ওর তীক্ষ্ণ চোয়ালে।
আদিয়ানের এক একটা তপ্ত দীর্ঘশ্বাস ফারিহার গলার কাছে এসে তীরের মতো আছড়ে পড়ছে। ফারিহা এই তীব্র পরিস্থিতি সহ্য করতে না পেরে চোখ দুটো শক্ত করে বন্ধ করে নেওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু আদিয়ান ওকে সেই সুযোগ দিল না। ও এক ঝটকায় ফারিহার নরম দুটো হাত একসাথে মুঠোয় পুরে নিয়ে মাথার ওপরে দেওয়ালে চেপে ধরল। আদিয়ানের হাতের সেই অতি পরিচিত অথচ ভিন্ন রকম স্পর্শে যেন এক লহমায় তীব্র কারেন্ট বয়ে গেল ফারিহার পুরো শরীরে। ও ব্যথায় এবং আতঙ্কে মোচড় দিয়ে ওঠার চেষ্টা করে প্রায় আর্তনাদ করে বলল,
"আদিয়ান, কী করছিস তুই? ছাড় আমায়! আমি তোর নিজের বোন হই আদিয়ান! এই নোংরা পাগলামি বন্ধ কর! বাড়ির আর কেউ যদি এই মাঝরাতে আমাদের এই অবস্থায় দেখে ফেলে, তবে কিন্তু এক মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে যাবে। আমাদের পরিবার সমাজে মুখ দেখাতে পারবে না!"
আদিয়ান ফারিহার কোনো আকুতি শুনল না, হাত ছাড়ার তো প্রশ্নই আসে না। উল্টো ও ফারিহার অবশ হয়ে আসা হাতের আঙুলগুলোর ফাঁকে নিজের শক্ত, দীর্ঘ আঙুলগুলো গলিয়ে দিয়ে লক করে দিল। বাঁধনটা যেন আরও নিখুঁত, আরও অলঙ্ঘনীয় হয়ে উঠল। আদিয়ানের চোখে তখন এক আদিম, অন্ধকার আর সর্বগ্রাসী আসক্তি খেলা করছে। ও ফারিহার মুখের এত কাছে নিজের মুখটা নিয়ে এল যে ফারিহার ঠোঁট ওর নিশ্বাসে কেঁপে উঠছে। আদিয়ান নিচু, গম্ভীর আর পাথরের মতো ঠান্ডা গলায় বলল,
"কে দেখবে ফারিহা? এই মাঝরাতে, এই নিকষ অন্ধকারের মাঝে আমাদের এই অবস্থায় দেখার মতো সাহস এই বাড়ির বা এই দুনিয়ার কারোর আছে বলে তোর মনে হয়?"
"তুই সত্যি সত্যি পাগল হয়ে গেছিস আদিয়ান! তুই আমার ভাই, রক্ত আর সমাজের এই পবিত্র সম্পর্কটা তুই এভাবে..." ফারিহার কথা শেষ হওয়ার আগেই আদিয়ান ওর অন্য হাতটা দিয়ে ফারিহার চিবুকটা অত্যন্ত শক্ত করে চেপে ধরল। ওর চোখের মণি দুটো যেন রাগে, জেদে আর এক নিষিদ্ধ কামনায় জ্বলজ্বল করে উঠছে।
"কী তুই আমার? বোন? নাকি অন্য কিছু?" আদিয়ানের কণ্ঠস্বর এবার আরও নিচু হয়ে এল, কিন্তু তাতে ছিল এক অদ্ভুত ধারালো চাবুকের মতো তীব্রতা।
"কোনো মিথ্যে সম্পর্কের দোহাই দিয়ে নিজেকে আমার থেকে দূরে রাখার এই ব্যর্থ চেষ্টা আর করবি না, ফারিহা। সমাজ আমাদের কী চোখে দেখে, তোকে আমার কী ডাকতে হয়—ওইসব কাগজের নিয়মকানুন আর লোকদেখানো পবিত্রতা আমি এক পয়সাও মানি না। আমি ছোটবেলা থেকে শুধু একটাই সত্যি জানি, তুই আমার। আর যা আমার, তা যদি খোদ জাহান্নামের আগুনেও পুড়তে থাকে, আমি সেখানে নিজে ঝাঁপ দিয়ে তোকে টেনে বের করে আনব। সমাজ পুড়লে পুড়ুক, আমার কিছু যায় আসে না।"
আদিয়ানের গলার স্বরে এক অদ্ভুত, হিপনোটিক ডমিনেন্সে ফারিহা ভেতর থেকে কেঁপে উঠল। এই ছেলেটা কোনো সাধারণ প্রেমিক নয়, ও একটা মানসিক ঝড়। ওর ভালোবাসা মানেই এক অন্তহীন বিষাক্ত দহন, এক তীব্র অন্ধ অধিকারবোধ—যা চোখের পলকে গ্রাস করে নিতে পারে একটা মানুষের গোটা অস্তিত্বকে। ফারিহা নিজের সর্বশক্তি দিয়ে আদিয়ানের শক্ত চওড়া বুকে দুহাত দিয়ে ধাক্কা মারার একটা শেষ চেষ্টা করল। চোখ দিয়ে ওর অশ্রু গড়িয়ে পড়ে আদিয়ানের আঙুল ভিজিয়ে দিল। ও ভাঙা গলায় বলল,
"এটা কোনো ভালোবাসা হতে পারে না আদিয়ান, এটা তোর একটা নোংরা জেদ! এটা একটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ আসক্তি! তুই নিজেকে ধ্বংস করছিস, সাথে আমাকেও!"
আদিয়ান ফারিহার চোখের জল দেখেও গলল না, বরং ও ফারিহার কানের লতির খুব কাছে নিজের মুখটা ঠেকিয়ে দিল। ওর ঠোঁটের উষ্ণ ছোঁয়া আর গরম নিশ্বাস ফারিহার সংবেদনশীল ঘাড়ে লাগতেই ফারিহার সারা শরীর এক অজানা শিহরণে শিউরে উঠল। আদিয়ান ফিসফিস করে ওর কানের কাছে বলল
, "তাহলে এটা আসক্তিই সই, ফারিহা। আমি তো কখনো বলিনি আমি খুব ভালো ছেলে।
"The difference between love and affection is us, distinct as the difference between a dark night and a bright day"
. তুই যদি আমার জীবনের সেই অভিশপ্ত, নিকষ কালো রাত হোস, তবে আমি আলোর এই চেনা পৃথিবী ছেড়ে চিরকালের জন্য সেই অন্ধকারেই হারিয়ে যেতে সানন্দে রাজি। তুই কি পারবি আমার এই অন্ধকারের অংশ হতে?"
ফারিহা আর কোনো কথা মুখ দিয়ে বের করতে পারল না। আদিয়ানের এই রূপটা ওর কিছুটা চেনা, আবার ভীষণ রকম অচেনা। গত কয়েকটা বছর ধরে আদিয়ান একটা অদৃশ্য ছায়ার মতো ওর পিছে লেগে আছে। ও কলেজে যাক, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিক—আদিয়ানের তীক্ষ্ণ, ঈর্ষান্বিত নজর সবসময় ওখানেই স্থির থাকত। ভাই-বোনের এই সামাজিক ও পবিত্র সম্পর্কের আড়ালে আদিয়ানের এই গোপন জেদ আর পাগলামি দিন দিন ফারিহার জন্য এক গভীর মানসিক ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে মারাত্মক আর অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এই ভয়ের আড়ালে ফারিহার নিজের অবচেতন মনও যেন এক তীব্র নিষিদ্ধ টানে আদিয়ানের দিকেই বারবার ছুটে যায়। ও নিজেকে সমাজ আর বিবেকের দোহাই দিয়ে যতই দূরে সরিয়ে নিতে চায়, আদিয়ানের এই কুহকী অন্ধকার মায়া ওকে ততটাই গভীরভাবে আষ্টেপৃষ্ঠে নিজের জালে বেঁধে ফেলে। এটা এক অদ্ভুত মানসিক রোগ, যার কোনো নিরাময় নেই।
আদিয়ান ফারিহার চিবুকের ওপর থেকে নিজের হাতের শক্ত গ্রিপটা আলতো করে ছেড়ে দিল। তারপর ওর ডান হাতের বুড়ো আঙুলটা ফারিহার কাঁপতে থাকা ভেজা ঠোঁটের ওপর খুব সাবধানে, পরম মমতায় ছুঁইয়ে দিল। ফারিহা তীব্র এক আবেশে আর ভয়ে নিজের চোখ দুটো বন্ধ করে ফেলল।
"চোখ খোল ফারিহা," আদিয়ানের কণ্ঠে এবার এক হুকুমের সুর, যা অমান্য করার ক্ষমতা ফারিহার নেই। "আমার চোখের দিকে তাকা।"
ফারিহা ধীর গতিতে ওর চোখের পাতা মেলল। মোমবাতির শেষ আলোয় আদিয়ানের ঠোঁটের কোণে একটা রহস্যময়, বাঁকা হাসি ফুটে উঠল। ও বলল,
"তোর মুখ মুখে আমায় ভাই বলে চিৎকার করলেও, তোর এই বুকের ভেতরের দ্রুত চলা পাগলাটে হৃদস্পন্দন কিন্তু আমার হাতের তালুতে অন্য কথা বলছে ফারিহা। তোর এই শরীর, তোর এই মনও ভালো করেই জানে যে তুইও আমার মতোই এই নিষিদ্ধ সীমানাটা পার করতে চাস। তুইও এই অপরাধের সমান অংশীদার।"
ফারিহা কোনোমতে নিজের জড়তা কাটিয়ে গলা উঁচিয়ে বলল,
"না, আমি চাই না! তুই জোর করছিস আদিয়ান। তুই আমার দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছিস।"
"আমি কোনো জোর করছি না ফারিহা, আমি শুধু আমার নিজের জিনিসটা নিজের অধিকারে নিচ্ছি।" এই বলেই আদিয়ান এক ঝটকায় ফারিহার কোমর জড়িয়ে ধরে ওকে নিজের শক্ত, চওড়া বুকের সাথে একদম পিষে ফেলল। ফারিহা আদিয়ানের সেই লোহার মতো শক্ত বুকের ভেতর নিজেকে খুব ছোট, অসহায় আর একই সাথে সুরক্ষিত আবিষ্কার করল। ঠিক সেই মুহূর্তেই বাইরে একটা বিকট ও কানফাটানো শব্দে বাজ পড়ল, আর পুরো অন্ধকার ঘরটা এক সেকেন্ডের জন্য তীব্র আলোয় ভেসে উঠল। সেই ক্ষণিকের আলোয় ফারিহা আদিয়ানের চোখের দিকে তাকিয়ে শিউরে উঠল—সেখানে কোনো অনুশোচনা, কোনো পাপবোধ বা সমাজের ভয় কিচ্ছু নেই; আছে শুধু এক আদিম, সর্বগ্রাসী আর অন্তহীন প্রেমের নেশা।
আদিয়ান আর এক মুহূর্তও নষ্ট না করে ফারিহার কপালে নিজের ঠোঁট দুটো শক্ত করে চেপে ধরল। সেই দীর্ঘ চুম্বনের স্পর্শে কোনো সাধারণ ভাই-বোনের স্নেহ বা কোমলতা ছিল না, ছিল এক আজন্ম লালিত তৃষ্ণা, তীব্র অধিকার আর এক চরম বিজয়ের আনন্দ। ও ফারিহাকে নিজের বাহুবন্ধনে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ফিসফিস করে বলল,
"আজ থেকে তুই আমার এই নিষিদ্ধ সীমানার চার দেওয়ালে আজীবনের জন্য বন্দি। আর এই খাঁচার চাবিটা আমি চিরকালের জন্য অতল সমুদ্রে হারিয়ে ফেলেছি। তুই চাইলেও আর আলোতে ফিরতে পারবি না।"
ফারিহা আর কোনো প্রতিরোধ করল না। ওর ভেতরের সমস্ত সামাজিক দেয়াল যেন এক নিমেষে ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গেল। ও বুঝতে পারল, আদিয়ানের এই মায়াবী এবং বিষাক্ত অন্ধকার থেকে ওর আর কোনো ইহজন্মে মুক্তি নেই। ও নিজের অজান্তেই আদিয়ানের কালো শার্টের কাপড়টা নিজের হাতের মুঠোয় শক্ত করে চেপে ধরল, যেন ও নিজেও সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে এই অন্ধকারের রাজপুত্রের কাছে নিজের আত্মাকে পুরোপুরি সমর্পণ করছে।
বাইরের কালবৈশাখীর ঝড়টা যখন ভোরের দিকে কিছুটা শান্ত হয়ে এল, চারপাশটা এক ধূসর আলোয় ভরে উঠল। আদিয়ান ফারিহাকে আলতো করে ছেড়ে দিয়ে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। বাইরে তখনো পাতা ঝরার শব্দ আর হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। আদিয়ান ওর পকেট থেকে একটা দামি সিগারেট বের করে লাইটার দিয়ে জ্বলাল। তামাকের চড়া ধোঁয়ার কুন্ডলী জানালার বাইরে বৃষ্টির বাতাসে মিলিয়ে যাওয়ার সময় ও ঘাড় ঘুরিয়ে ফারিহার দিকে তাকাল। ফারিহা তখনো খাটের এক কোণে একা বসে নিজের দুহাতের কবজির দিকে তাকিয়ে আছে, যেখানে আদিয়ানের হাতের শক্ত বাঁধনের গাঢ় লাল দাগ বসে গেছে।
আদিয়ান সিগারেটটা জানালার বাইরে ফেলে দিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে এল এবং ফারিহার সামনে মেঝেতে হাঁটু গেড়ে বসল। ও ফারিহার সেই লাল হয়ে যাওয়া কোমল হাতটা নিজের দুহাতের ভেতর নিয়ে খুব আলতো করে ঠোঁট ছোঁয়াল। এবার ওর চোখে কোনো হিংস্রতা বা ডমিনেন্স ছিল না, ছিল এক বুক ভাঙা গভীর ভালোবাসা।
"খুব ব্যথা পেয়েছিস, মায়াবিনী?" আদিয়ান একদম নিচু সোজা স্বরে জিজ্ঞেস করল।
ফারিহা কোনো উত্তর দিল না, শুধু মুখটা অন্য দিকে ঘুরিয়ে চোখের জল আড়াল করার চেষ্টা করল। আদিয়ান ফারিহার থুতনি ধরে মুখটা আবার নিজের দিকে ঘুরিয়ে দিয়ে বলল,
"তোর এই নীরবতা আর এই চোখের জল আমায় আরও বেশি উন্মাদ করে দেয় ফারিহা। কিন্তু একটা কথা আজীবনের জন্য মাথায় গেঁথে রাখিস—তুই আমার জগত। আর আমার তৈরি এই জগতে আমি ছাড়া অন্য কোনো পুরুষের প্রবেশ একদম নিষিদ্ধ।"
আদিয়ান উঠে দাঁড়িয়ে ঘরের দরজার দিকে এগিয়ে গেল। দরজাটা খোলার আগে ও শেষবারের মতো ফারিহার দিকে তাকিয়ে বলল,
"আগামীকাল রাতে আমি আবার আসব। আর তখন যেন এই চোখে আমার জন্য কোনো ভাই-বোনের পবিত্র সম্পর্কের দেওয়াল না দেখি, আমি শুধু আমার প্রতি তোর নিখাদ আসক্তি দেখতে চাই।"
আদিয়ান ঘর থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর ফারিহা ভোরের স্তব্ধতার মাঝে একা বসে রইল। ওর মনের ভেতর তখন একটা কথাই বারবার তীরের মতো বিঁধছিল—ও কি আসলেই আদিয়ানের এই বিষাক্ত ও নিষিদ্ধ মায়ায় নিজেকে বিলীন করে দিল? কাল সকালে যখন বাবা-মায়ের সামনে যাবে, তখন সমাজকে ও মুখ দেখাবে কী করে? এই পাপের শেষ কোথায়?
চলবে.....