ফন্ট সাইজ:
থিম:
ডিসেম্বরের শহরে

২য় পর্ব

লেখক: সমকালীন ও রোমান্টিক উপন্যাস

ডিসেম্বরের শহরে 

লেখক: সবুজ আহম্মদ মুরসালিন।

বিছানায় শুয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে শুনে আজানের সুরের ওঠানামা। তারপর ধীরে ধীরে উঠে বসে। অযু সেরে নামাজ আদায় করে সে দীর্ঘ সময় মোনাজাতে তার দুই মেয়ের জন্য দোয়া করে। চারদিকে নিস্তব্ধতার মধ্যে শুধু তার কন্ঠের ধ্বনি। মায়ের অন্তরের গভীর প্রার্থনা আর চোখের অস্ত্র বুঝিয়ে দেয় তার সমস্ত চাওয়া তার দুই মেয়ের জন্যই। চোখের কোণে জমে থাকা জল সে হাতের আঙ্গুলে মুছে নেয়। আজ বিশেষ দিন। আজ সে মন খারাপ করবে না বলে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে। আজকের দিনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছে সে। আজ তার বড় মেয়ে নীলার জন্মদিন। জাহানারা মোনাজাত শেষ করে নীলার ঘরে চলে যায়। ঘরটা কেমন ফাঁকা। নীলা ছাড়া সবকিছুই আছে। কিন্তু তবুও জাহানার মনে হচ্ছে পুরো ঘরটা ফাঁকা। কেমন শূন্য চারপাশ। চাহানার চোখ চলে যায় দেয়ালে টাঙানো পুরনো ফটোফ্রেমটার দিকে। নীলার ছোটবেলার একটা ছবি সেখানে রাখা। মাথায় সামান্য চুল চোখে বিশ্বয় মুখে একটা কৌতুহল ভরা হাসি। এই ছবি দেখলেই আজও তার মনে পড়ে সে দিনটার কথা। যেদিন প্রথমবার নিজের কোলে তুলে নিয়েছিল নীলাকে। নীলা যখন পৃথিবীতে আসে তখন সে ছিল একটুখানি হাতের তালুতে রাখা যায় এমন ছোট্ট প্রাণ। সদ্য জন্মানো একটা শিশু। সেইদিনই জাহানার এক অদ্ভুত উপলব্ধিতে কেঁপে উঠেছিল। সে আবিষ্কার করেছিল এইটুকু একটা মানুষ। অথচ কি আশ্চর্য মিল তার নিজের সঙ্গে। চোখের পাতার বাঘ, নাকের ছা, ঠোটের টান। যেন আয়নায় এসে নিজের ছোট্ট প্রতিচ্ছবি দেখছে। তার ছোট মেয়ে নিহা দেখতে অনেকটা তার বাবার মত হলেও নীলা ছিল হুবহু তার মায়ের মত। তার ছোটবেলার ছবি আর নীলার ছবি দেখলে কেউ আলাদা করতে পারবে না এটা আলাদা মানুষ চাহনার চোখ আবারও ভেজে উঠলো কিন্তু সে নিজেকে সামনে নিল আজ সে মন খারাপ করবে না সে কাঁদবে না সকালের আলো ধীরে ধীরে ঘরের কোণে ছড়িয়ে পড়েছে জানালার ফাঁক গোলে আসা নরম রোদ ঘুম ভাঙ্গিয়ে দিচ্ছে ঘরের প্রতিটি কোণ নীলার ঘরের জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে দেখা যায় পাশের ছাদে কাক আর কবুতরের ভিড় দূরে কোথাও অটোরিক্সার হুবহু শব্দ ভেসে আসছে। বাইরে এখন ঢাকা শহরের ব্যস্ততা বাড়ছে। নীলার ঘর থেকে বেরিয়ে জাহানারা রান্নাঘরের দিকে রওনা করল। যত সময় যাচ্ছে জাহানার ব্যস্ততা ক্রমশ বাড়ছে। তাকে একা হাতে পুরো পরিবার সামলাতে হয়। হাসান আহমেদকে বেরোতে হবে বলে সে কয়েকবার তাকে তাড়া দিয়েছে। অন্যদিকে নিহাকে একবার ডেকে এলেও সে ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু গতকালই মাকে সকাল সকাল ডেকে দেওয়ার জন্য কয়েকবার বলেছে সে। জাহানারা নেহার রুমে এসে আবারও ডেকে গেল। তবুও নেহার ঘুম ভাঙলো না। জাহানারা হাল ছেড়ে দিয়ে সোজা চলে এলো রান্নাঘরে। চুলায় চা বসাতে বসাতে শুনতে পেল হাসান আহমেদ বলছে জাহানারা আমার রেডি হওয়া দরকার। দেরি হয়ে যাচ্ছে। জাহানারা কন্ঠ ছেড়ে বললেন, তোমার চাটা বসিয়ে এক্ষনি আসছি। পাশের ঘর থেকে হাসানের গলায় আবারও ভেসে এল। এই জাহানারা আমার সাতটা আয়রন করেছো? জাহানারা চা বানানো শেষ না করেই হাতে থাকা চামচটা চুলার পাশে রেখে ছুটে গেল ঘরে। কাল রাতে আয়রন করে শার্টটা তো তোমার খাটের উপর রেখেছি। হাসান তখনও বিছানার একপাশে বসে মোবাইল দেখতে দেখতে বলল তুমি জানো না আজকে মিটিং আছে সাদা শার্টটা লাগবে তুমি তো নীলটা রেখেছো জাহানারা একটু বিরক্ত হলেও কিচ্ছু বলল না রান্না ফেলে আবার আয়রন বের করে শার্টটা আয়রন করতে লাগল আয়রন শেষ হলে শার্ট দিয়ে তিনি আবার ছুটলেন রান্নাঘরে দুধটা ফুটে গেলে পায়েশ বসাবেন ঠিক এমন সময় নেহার ঘর থেকে আবার একটা ডাক পড়ল মা তুমি আমাকে ডাকোনি কেন গতকাল কতবার বলেছি আজ সকালে ভার্সিটিতে যেতে হবে জাহানারা রান্নাঘর থেকেই বলল তোকে একটু আগেও ডেকে এসেছি ওঠার কোন ইচ্ছে নেই দেখে চলে এসেছি নিহা ঘুম ঘুম চোখে রান্নাঘরে চলে এল ঘুম চোখে ফ্যাকাসে মুখে বলল মা আজ আপুর জন্মদিন না তোর মনে আছে মনে থাকবে না কেন এ দিনটার কথা কি ভুলতে পারি আমি আপু আজ আমাদের সাথে থাকলে কত মজা হতো কিন্তু নেহাকে কথা শেষ করতে দিল না জাহানার সে বলল কাজ শেষ করে নীলার জন্য কেক নিয়ে সোজা চলে আসিস আমি এদিকটা গুছিয়ে রেখে নীলার কাছে চলে যাব আচ্ছা মা এবার যা তোর বাবাকে নাস্তা চা দিয়ে আয় মানুষটা আমায় তাড়া দিয়ে পাগল করে ফেলল নিহা বাবাকে খাবার দিয়ে সোজা চলে এল তার রুমে তার হাতে সময় নেই তাকেও বেরোতে হবে জাহানার পায়েশ রান্না করা শেষ কিন্তু একটা ঝামেলা হয়ে গেছে সে পায়েশে বেশি চিনি দিয়ে ফেলছে নীলা চিনি কম খেতে পছন্দ করে সে বিরক্ত হলো কিন্তু প্রকাশ করল না। তার বিরক্ত প্রকাশ করা অর্থহীন। সে কার কাছে বিরক্ত প্রকাশ করবে। এখন সে কি করবে ভাবতে ভাবতে রুম থেকে হাসান আহমেদের কন্ঠ ভেসে এল। জাহানারা আমার ঘড়িটা কোথায় রেখেছো? একটা জিনিসও পায় না ঠিক জায়গায়। জাহানারা ঘরে এসে ড্রেসিং টেবিলের পাশে থাকা ঘড়িটা হাতে নিয়ে এগিয়ে দিয়ে বলল, এই নাও। কাল রাতে তুমি ঘড়িটা এখানে রেখেছিলে। সকাল হতেই ভুলে গেলে? জাহানার ভার মুখটা হাসানের চোখে পড়ল। সে তখন সে তার কাছাকাছি এসে বলল, তোমাকে ছাড়া যে কি হতো আমার হয়েছে আর ঢং করতে হবে না। জাহানার কথা উপেক্ষা করে হাসান তার বুকের মধ্যে জড়িয়ে নিল তাকে। নিস্তব্ধতায় কেটে গেল। নিস্তব্ধতায় কেটে গেল সময়। হাসান বলল, তুমি কখন আসবে? হাতের কাজগুলো শেষ করেই বের হব। জাহানারা বলল, গাড়ি পাঠিয়ে দিব আমি। আমি একটা রিক্সা নিয়ে চলে যাব আচ্ছা এসে আমাকে মেসেজ দিয়ে জানিও কল দিও না মিটিংয়ে থাকতে পারি আচ্ছা তাই করবো হাসান বেরিয়ে গেলে জাহানারা তার ছোট মেয়ে নেহার জন্য খাবার রেডি করতে লাগলো তখনই নেহা এসে বলল মা আমি বেরোলাম খেয়ে যা সময় নেই আমি বাইরে খেয়ে নিব জাহানারা তবুও খাবার প্লেট নিয়ে নেহার কাছে ছুটে এল জোর করে নিজ হাতে সামান্য খাইয়ে দিল মেয়েকে সে বলল সাবধানে চলাফেরা করিস আচ্ছা আচ্ছা মা, এত চিন্তা করতে হবে না, আমি সাবধানেই থাকবো। চিন্তা করি কি শুধু শুধু? আমি সাবধানে থাকবো, এত চিন্তা করতে হবে না। চিন্তা করে করে নিজের শরীরটা কি করেছো দেখেছো? এখন একটু নিজের যত্ন নাও। তোমার মেয়ে আর ছোট নেই। জাহানার মুখে এক বিষণ্য হাসি ফুটে উঠলো। নেহা জানে এই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে। এক দুঃখবোধ। সে তার মাকে বলল, এবার সত্যিই দেরি হয়ে যাবে। আমি বের হলাম। তুমি সাবধানে যেও নিহাও বেরিয়ে গেল। দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দের সঙ্গে সঙ্গে জাহানার মনে দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দের সঙ্গে সঙ্গে জাহানার মনে হলো বাসাটা হঠাৎ করে শূন্য আর নিস্তব্ধ হয়ে গেছে। একটু আগের বিরক্তিটা উবে গেল। এখন তার মন কেমন করছে? একা লাগছে। মানুষ আসলে একাকিত্বের মধ্যে টের পায় আপনজনদের গুরুত্ব। তাই হয়তো মানুষ একা বাঁচতে পারে না। অন্তত কথা বলার জন্য একজন মানুষ তো দরকারি। ভীষণ দরকার। নীলার পছন্দের খাবারগুলো রান্না শেষ করে চাহানারা সেগুলো টিফিন বক্সে সুন্দরভাবে গুছিয়ে নিল। তারপর ব্যাগটা হাতে নিয়ে সেও বেরিয়ে পড়ল। বাসার নিচে নেমেই রিক্সা পেয়ে গেল সে। রিক্সায় বসে এসে ভাবছে নীলার কথা ভাবছে। নীলার কথা ভাবতে গেলেই তার মন খারাপ হয়ে যায়। এটার জন্য তার বুকে ভীষণ দুঃখবোধ। রিক্সা যখন ধীরে ধীরে তার গন্তব্যের পথে এগিয়ে চলেছে তখন সে পেছনে ফেলে আসা সেই সকালের ব্যস্ততার কথা ভেবে জাহানার মনে হতে লাগলো। ভালোবাসা মানে কখনো কখনো কেবল রান্নাঘরে সময় কাটানো একটা সকাল। নিশ্চিত্র নীরবতার মধ্যেও একটা অজানা অস্থিরতা যেন ঘরটাকে ঘিরে রেখেছে। জানালার পর্দা নড়ছে হালকা বাতাসে। কিন্তু সেই নড়াচড়াও যেন একটা আতঙ্ক লুকিয়ে আছে। ঘরের এক কোণে বিছানায় শুয়ে আছে নীলা। চোখ দুটি বিস্ফরিত। বুক ওঠানামা করছে অস্বাভাবিকভাবে। তার নিঃশ্বাস নিতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। মনে হচ্ছে এবার বুঝি সে আর নিঃশ্বাস নিতে পারবে না। সকালে ঘুম থেকে উঠেই নীলা বুঝতে পেরেছিল শরীরে কিছু একটা ঠিক নেই। বুকের ভেতর চাপা এক ব্যথা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়েছিল সারা শরীরে। চারপাশটা যেন ঘোলাটে হয়ে আসছিল তার। প্রথমে সে ভেবেছিল রাতে না ঘুমানোর কারণে তার এমন লাগছে কিন্তু মিনিট পাচাকের মধ্যে সে অনুভব করল তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে বুক ধরফর করছে হাত পা ঠান্ডা হয়ে আসছে আতঙ্কিত কন্ঠে কোনরকম সে নার্সকে ডাকল নার্স এসে তড়িঘুরি করে নীলার ব্লাড প্রেসার পালস আর অক্সিজেন লেভেল মাপল সব দেখে একটু থেমে বলল এটা প্যানিক অ্যাটাক মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা থেকে এমনটা হয় ভয় পাওয়ার কিছু নেই আমি ইনজেকশন দিচ্ একটু পরেই আপনি স্বাভাবিক হয়ে যাবেন। ইনজেকশন দেওয়ার পর কিছুটা সময় বেরতে নীলার নিশ্বাস স্বাভাবিক হতে শুরু করল। নার্স নরম কন্ঠে জিজ্ঞেস করল। আমি কি স্যারকে কল করব? না বাবাকে কল করার দরকার নেই। তাহলে ম্যামকে অন্তত জানাই। নলা মাথা নাড়ল। মাকেও না। মা আজ আসবে। এলে আমি নিজেই বলব। আপনি বরং একটু কষ্ট করে আমার জন্য এক কাপ চা এনে দিতে পারবেন। সে অনুরোধের সুরে বলল, নার্স মৃদু হেসে বলল, খাবার না খেয়ে চা খাওয়া ঠিক হবে না। আপনার শরীর এখন দুর্বল। এতে মাথা ঘুরে যেতে পারে। আমি এক কাজ করি। একটু শুকন বিস্কুট এনে দিচ্ছি। তারপর চা দেব। নীলা নিঃশব্দে মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। চোখে তার ক্লান্তির চাপ স্পষ্ট। একটু আগের ঘটনার কথা মনে পড়তে সে কেঁপে উঠল। সে ভাবল তার হাতে কি সত্যি আর সময় নেই? নার্স বেরিয়ে যেতে ঘরটা আবার নিস্তব্ধ হয়ে গেল। বাইরে করিডরে নার্সদের নরম পদার্থ নিয়ে দূরের কোন রোগীর কাশির শব্দ আর অক্সিজেন মেশিনের হালকা বিপ ভেসে আসছে। কিন্তু ঘরের ভেতরটা যেন একান্তই নীলার নিজের জগত। একা স্তব্ধ। অথচ গভীরভাবে জীবন্ত। সে চোখ বন্ধ করে বিছানায় হেলান দিল। বুকের ভেতর ধুকুকানি অনেকটা থেমে এসেছে। শরীর ধীরে ধীরে হালকা লাগছে। মন তার মায়ের কথা ভাবে। মানুষটা এখন নিশ্চয়ই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে। সকাল হলেই একা হাতে পুরো পরিবারটা সামনে নেন তিনি। নীলা মাঝে মধ্যে ভাবে মা কিভাবে পারে এত কিছু একা করতে? সে হলে কি পারতো? ঠিক তখনই তার মনে হয়। তার ভাগ্যে কি মা হবার সৌভাগ্য আছে। সে কি এতটা সময় পাবে? নীলার মন খারাপ হয়ে যায়। তার জীবনটা কেন এমন হলো? তার ভাগ্যে কেন এমনটা লেখা হলো? চোখের কোণে পানি জমতে না জমতে নার্স ফিরে আসে। ট্রেতে ধোয়া উঠা চা আর কয়েকটা শুকন বিস্কুট নিয়ে। এই নিন। বলল সে স্নেহ ভরে। আর কিছু লাগলে বলবেন আমি কাছে আছি। নীলা চায়ের কাপ হাতে নেয়। বাইরে তখন রোদ জানালায় ঝিকনিক করছে। হাসপাতালের ঘর সাদা বিছানা মনিটরে আলোর ছিলি। সবকিছুর মাঝেও একটু শান্তি নেমে আসে। হয়তো সাময়িক হয়তো কোন নতুন ঝড়ের আগের নিঃশব্দ বিরোতি। তবু এই ক্ষণিক শান্তিটুকু এখন কাছে অমূল্য। নীলার কেবিনটা হাসপাতালের অন্য কেবিন গুলোর মত নয়। একেবারে বাসার মত সাজানো। ঘরের এক কোণে ছোট্ট একটা বুক সেলফে সাজানো বইয়ের শাড়ি। নীলা বই পড়তে ভালোবাসে। এখন তার বেশিরভাগ সময় কাটে বইয়ের সঙ্গেই। রুমের ছোট বারান্দায় টপ ভর্তি ফুলের গাছ। উত্তরে হাওয়া বয়ে এলে সেই ফুলের ঘ্রাণে পুরো ঘরটা ভরে যায়। জানালায় চলছে কমলা রঙের পর্দা। সকালের নরম রোদ পর্দা ভেদ করে এসে ছুয়ে যায় নীলার শরীরকে। আজ তার ভালো লাগছে। একটু আগে অস্থিরতা নেই। মৃত্যু ভয় নেই। মৃত্যুর চিন্তা নীলাকে দুঃখিত করে না। কিন্তু এই পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবলেই তার বুকটা ভার হয়ে আসে। সে না থাকলেও সব রয়ে যাবে। প্রতিদিন সকাল হবে। ফুলেরা সুবাস ছড়াবে। সন্ধ্যায় পাখি নিড়ে ফিরে আসবে। জোচরা আলো ছড়াবে। মানুষ একে অন্যকে ভালোবাসবে। কিন্তু সে আর কাউকে ভালোবাসতে পারবে না। সে আর কারো ভালোবাসা পাবে না। এসব ভাবতে ভাবতে দুটো লাইন মনে পড়ে গেল নীলার। পৃথিবীর সবকিছু পেয়ে গেলেও তোমাকে আর পাওয়া হবে না। এসব ভেবে নীলার ভীষণ মন খারাপ হয়। তবে এসবের চেয়েও একটা গভীর কারণ আছে। যার জন্য তার মন ভীষণ ভারী হয়। কিন্তু সে সেটা ভাবতে চায় না। যা সম্ভব নয় যা হবার নয় তা ভেবে দুঃখ পাওয়াটা বোকামি। বাস্তবতাকে মেনে নিয়েছে সে। তবু মাঝের মধ্যে মাথার ভেতর অসম্ভব রকম যন্ত্রণা শুরু হয়। তখন সে ভাবে এসবের শেষ কবে? আস্তে আস্তে বিছানা থেকে নেমে বারান্দায় গিয়ে বসে। বারান্দায় বসার সুন্দর ব্যবস্থা আছে। সে বসে বসে ভাবে সে সুখী। জীবনে দুঃখ থাকবেই। সে সকল দুঃখের মধ্যেই আনন্দ আছে। দুঃখ আছে বলেই আমরা সুখী হলে বুঝতে পারি আমরা সুখী। নীলা যতই নিজেকে বোঝায় সে ভালো আছে ততই তার অবস্থা খারাপ হয়। তবুও সে ভেঙ্গে পড়তে চায় না। সময়গুলো নিজের মত করে কাটাতে চায়। দুনিয়াতে কেউ কাউকে সুখী করে না। সুখী হতে হলে দুঃখগুলোকে ভালো করে চিনতে হয়। যে দুঃখ আমাদের দুঃখী করে সেগুলোকে সহজভাবে মেনে নিতে পারলেই জীবন সুন্দর ও সুখী। সে যে হাসপাতালে আছে সেটি তার বাবার হাসপাতাল। নামটা রাখা হয়েছে তার মা জাহানার নামে। নীলার এই আরামদায়ক কেবিন প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা সবই মায়ের ইচ্ছায়। তার দেখাশোনার জন্য সারাক্ষণ কেউ না কেউ পাশে থাকে। সে কেবল বেডের পাশে বেল চাপলেই কেউ এসে হাজির হয়। কখনো কখনো নীলার মনে হয় সে যেন কোন ফাইভ স্টার হোটেলে আছে। পার্থক্য শুধু একটা ঘ্রাণে। হাসপাতালে অদ্ভুত একটা ঘ্রাণ আছে। প্রথমে তার অস্বাভাবিক লাগলেও এখনই অদ্ভুত ঘ্রাণ দাড় আর খারাপ লাগে না। শুধু তখনই খারাপ লাগে যখন কারো কানা শব্দ ভেসে আসে দূর থেকে। সে বুঝতে পারে আরো একটি প্রাণের সমাপ্তি হয়েছে। মানুষের জীবন অদ্ভুত। যেন কোন নিশ্চয়তা নেই। হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, কর্মচারী সবাই নীলাকে চেনে। সে খুব সহজেই মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। সবাইকে আপন করে নিতে জানে। এমনও হয়েছে কোন রোগীর ছাড়া পাওয়ার পরেও আবার এসেছে শুধু তার সঙ্গে দেখা করতে। এসব মুহূর্ত নীলার মন ভালো করে দেয়। মনে হয় জীবনে এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কিছু নেই। তবুও সবকিছুর মাঝেও এক কোণে তার মন খারাপ থেকে যায়। সে যার অপেক্ষা করে সে আসে না। সে কি আসবে? নীলা জানে না। তবুও সে অপেক্ষা করে। আজকাল তার অপেক্ষা করতেও ভালো লাগে। মানুষের জীবনে বড় একটা সময় কেটে যায় অপেক্ষায়। কারো কারো অপেক্ষা শেষ হয় মৃত্যু দিয়ে। তবুও মানুষ আশায় বাঁচে। যদি সেই আশাটাও কোনদিন একদিন শেষ হয়ে যায় তবে বাঁচার ইচ্ছেটাই মরে যায়। নীলা বিশ্বাস করে এমন কোনদিন সে মারা যাবে যেদিন তার কোন আশা থাকবে না। যেদিন তার সকল অপেক্ষার সমাপ্তি হবে। তার জীবনের সমাপ্তি হবে। চার্লস ডিকেন্সের গ্রেট এক্সপেক্টেশন বইটি পড়ছে নিলা। পিপ নামের এক ছেলের গল্প। তার বেড়ে ওঠার গল্প। তার জীবনের আশাগুলো একের পর এক ব্যর্থ হওয়ার পরেও সে কিভাবে জীবনের সাথে লড়ে বইটিতে তার সেই গল্পটাই দেখানো হয়েছে। দীপ তার পুরনো প্রেমিকাকে খুঁজে ফেলে। হয়তো পাবে হয়তো আর কখনো পাবে না। ঠিক এমন জায়গায় এসে নীলাকে থামতে হল। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো জাহানারা। মেয়েকে বই বন্ধ করতে দেখে তিনি মৃদু হাসলেন। কেমন আছিস? শরীর এখন ভালো। চেয়ার টেনে নীলার পাশে বসে জাহানারা জানতে চাইলেন সকালের দিকে একটু খারাপ লাগছিল কিন্তু এখন ভালো আছি তুমি কেমন আছো আমি ভালো আছি জাহানার চোখে গভীর মমতা মুখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট নীলার অসুখ তাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছে কিন্তু মেয়ের সামনে তিনি দুর্বলতা প্রকাশ করতে চান না তবু যতই সে নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করেন না কেন কোন এক মুহূর্তে তার চোখের কোন জল চলে আসে তুই আবার আবার এমন বই পড়ছিস মৃদুস্বরে বললেন জাহানারা সবসময় দুঃখের গল্প পড়িস কেন জীবনে এত কষ্টের মধ্যেও বই পড়ে আরো দুঃখ বাড়ানোর দরকার আছে নীলা হেসে বলল এই কষ্টগুলোর মধ্যেও এক ধরনের ভালো লাগা আছে না পিপ যেমন বারবার ভেঙে পড়ে উঠে দাঁড়ায় আমার ভেতরেও যেন সেরকম একটা শক্তি ছেকে ওঠে আমি যেন সাহস পাই ভেঙে না পড়ি সেই কারণেই এমন গল্প করি তাছাড়া গল্পটার শেষ এখনো জানিনা কি শেষ পর্যন্ত তার ভালোবাসাকে খুঁজে পাবে নাকি কখনোই পাবে না এই অনিশ্চয়তাটা বইয়ের পাতায় পড়তে ভালো লাগে জানো মা মানুষের জীবন অদ্ভুত আমরা যা চাই তা পাই না যা চাই না তা কেন হয় মা নীলার মুখে এক বিষণ্য হাসি নীলার হাসির মধ্যেও দুঃখ টের পায় জাহারানা সে বলে সকালে কি হয়েছিল তেমন কিছু না মা একটু অস্থির লাগছিল নার্স এসে দেখে বলেছে আমি একদম ঠিক আছি নীলা সবটা বলল না সে মানুষটাকে চিন্তায় ফেলতে চায় না দুঃখ দিতে চায় না তার জন্য এমনিতেই মানুষটার জীবন এলোমেলো হয়েছে নীলা মামু বলো মা আজ বাসায় চল মা তুমি কেন এই কথাটা বারবার বলো তুমি জানো আমার উত্তর কি হবে তবু কেন বল অন্তত আজ চল কাল আবার চলে আসিস আজকের দিনটা নামা সবাই মিলে জাহানার কথা শেষ করতে পারলো না। নীলা বলল, আজ কি? আজ কি এমন বিশেষ দিন যে বাসায় যেতে হবে? সে একটু থেমে আবার বলে, আজ আমার জন্মদিন তাইতো জন্মদিন বলে বাসায় যেতে হবে। বাসায় গেলে কি হবে? জাহান আর কোন কথা বলতে পারলো না। সে চুপচাপ বসে রইল। নীলা আবার বলল, আমি এখন ভালো আছি না। ব্যথা উঠলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা পাচ্ছি। এখানে থাকলে আমার কষ্ট কম। নীলা চুপ থেকে আবার বলল বাসায় গিয়ে তোমার ভেজা চোখ দেখতে ভালো লাগে না। তাছাড়া তুমি তো প্রতিদিন আসো। একবার করে আমাকে দেখে যাও। আমার সঙ্গে গল্প করো আমার ভালো লাগে। এছাড়া আমি এখানে ভালো আছি না। আমাকে নিয়ে এত চিন্তা করো না। নিয়তির উপর কারো হাত নেই। আমি সব মেনে নিয়েছি। তোমরাও মেনে নাও। চাইলেই কি মেনে নেওয়া যায়? তুই কি সত্যিই মেনে নিতে পারছিস? জাহানার চোখ ভেজা। তোমরা মেনে নিতে পারলে আমিও সহজে মেনে নিতে পারতাম। কিন্তু এই যে তুমি কাঁদছো। আমার খারাপ লাগে। তুমি বোঝো না। তুমি জানো তবু এভাবে সারাক্ষণ কাঁদো। আমার যতটা না কষ্ট হয় তার চেয়ে বেশি কষ্ট হয় তোমাদের কান না দেখলে। এবার চোখ মুছো প্লিজ। নীলা কথা শেষ করে সে তার মায়ের দিকে এগিয়ে এসে জাহানার চোখ মুছে দিয়ে বুকের মধ্যে ছড়িয়ে নেয়। এভাবেই কেটে যায় সময়। ততক্ষণে নীলার বাবা হাসান এসে বলে মা মেয়ের ভালোবাসা দেখে হিংসা হচ্ছে আমার নীলা বলে হিংসা করে লাভ নেই বাবা আমি কিন্তু মাকে বেশি ভালোবাসি নীলার কথা শুনে জাহানার মুখ আলোকিত হয়ে ওঠে সে হাসে আজ আমার ছোট মেয়ে নেহা নেই বলে আমাকে সবাই পর দিচ্ছে কে বলল আমি নেই এইতো আমি চলে এসেছি বাবা এবার দেখব কে কাকে পর করে দেয় নেহা রুমে ঢুকে বলল নিহার হাতে কে বক্স সে কেকটা টেবিলে রেখে বাবার পাশে এসে দাঁড়ালো সে আবার বলে বাবা আমি তোমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি আপু ভালোবাসতে হবে না হাসানের চোখও এবার উজ্জ্বল হয়ে উঠলো সবাই হাসছে সবার চোখে মুখে অনেক সময় হাসি লেগে থাকে জাহানারা পাশে বসে সবার হাসি তামাশা দেখে তার চোখ জলজল করে ওঠে সে বুকের মধ্যে সুখ অনুভব করে একটু আগের মন খারাপ এখন আর নেই আপু শুভ জন্মদিন নিহা এক গুচ্ছ ফুল নীলার হাতে গুজে দেয় ধন্যবাদ ছোট্ট দোয়া করি সবসময় ভালো থাকান আর জাহানারাও নীলাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালো ছোট্ট একটা উপহার দিল তারা সবাই মিলে কেক কাটার সময় নীলার মুখে হাসি ফুটল চোখে খুশির ছিলি মুহূর্তটা যেন এক টুকরো আলোয় ভরে উঠলো কেবিনটা দুপুরে তারা সবাই একসাথে মাদুর বিছিয়ে খেল এই পুরো সময়টা জাহানারা চুপচাপ কারো চোখে পড়েনি তার নীরবতা। তিনি সবার কথা শুনছেন মাঝে মধ্যে হেসে উঠছেন। কিন্তু ভেতরে কোথাও এক অদ্ভুত শূন্যতা খুব খাচ্ছে। জাহানারা চায় এই মুহূর্তটা যেন চিরদিন স্থির থাকে। সবাই এমনভাবেই পাশে থাকুক হাসুক। কথা বলুক একসাথে থাকুক। নীলার কথা তার মনে পড়ে যায়। মানুষ যা চায় তা সবসময় পায় না। জাহানারা ভাবে এই দুনিয়ায় অনন্ত সময় ধরে ভালোবাসার মানুষের পাশে থাকা যায় না কেন? কেন যায় না? আকাশ আমি কে? ভালোবাসা। ভালোবাসা? ভালোবাসা। আমার নাম কি? প্রেমিকা। কার প্রেমিকা? আকাশের প্রেমিকা। প্রেমিকার বুঝি নাম নেই। নাম কেন থাকতেই হবে? তুমি আজও আমার নাম মনে করতে পারছো না তাই না? পারছি না। আমি আর মনে করতে চাইও না। কেন চাও না? আমাকে মনে করতে ইচ্ছে হয় না। ইচ্ছে হয়। খুব ইচ্ছা হয়। কিন্তু যতই চেষ্টা করি না কেন মনে পড়ে না। তখন আমার ভীষণ কষ্ট হয়। মাথার ভেতর যন্ত্রণা হয়। তীব্র এক ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে শরীরে। তখন নিজেকে খুব অসহায় লাগে। কান্না পায়। তোমাকে মনে করতে হবে না আকাশ। আমি মনে হয় তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছি। না একদমই না। আমারই দোষ। আমি কথা দিয়েও কথা রাখতে পারিনি। তোমাকে আজীবন মনে রাখবো বলেছিলাম কিন্তু ভুলে গেছি। তুমি আমাকে ক্ষমা করে দিও। ক্ষমা তাকেই করতে হয়। যার উপর রাগ থাকে। আমি কিন্তু তোমার উপরে কখনো রাগ করিনি। অভিমানও করিনি। তাহলে কি জন্য ক্ষমা করব? কেন রাগ করোনি? তোমার রাগ করা উচিত। তোমার উপর রাগ করে থাকতে পারে না আকাশ। তবুও আমি দুঃখিত। আকাশ একটু থামে। তারপর সে বলে দেখো একদিন আমার সব মনে পড়ে যাবে। আর একবার যদি মনে পড়ে তোমাকে আর কখনোই ভুলবো না। কথা দিলাম। আমাকে মনে করতে যদি তোমার খুব দেরি হয়ে যায় তখন। প্রশ্নটা শুনে আব্বাস চুপ হয়ে যায়। চোখের কোণে অদৃশ্য এক ছায়া নামে। আচ্ছা শোনো এসব কথা আজ থাক তুমি কি আমাকে একটা কবিতা শোনাবে কবিতা শুনবে কেন শুনবো না তোমার কন্ঠে কবিতা শুনলে আমার মন ভালো হয়ে যায় তুমি যখন কবিতা শোনাও তখন আমার দুনিয়ার যাবতীয় দুঃখ যেন হাওয়ার মত উড়ে যায় আচ্ছা শোনো তাহলে আরেকটু ধরে থাকো হাত কাল যদি না আসে দিন কাল যদি ভালো না বাসো আমায় তাই আজ আরেকটুখানি বেশি ভালোবাসো আর তুই দুই পা একসাথে চলো কাল যদি হাঁটা না হয় চেনাপথের বাঘে কাল যদি উড়ে যাও অচিন কোন দেশে তাই আজ দুপা মিলিয়ে আরেকটুখানি হাঁটো আরেকটুখানি আমার পাশে থাকো একটা সন্ধ্যা কেটে যাক আরেকটু রাত হোক গভীর কাল যদি ঘুম না ভাঙ্গে তোমার আমার তাই আজ আরেকটু থাকো আরেকটু ভালোবাসো কি সুন্দর কবিতা তোমার চেয়ে সুন্দর নয় আমি সুন্দর হুম হুম সুন্দর তোমার চোখ নাক মুখ সবকিছু যেন এক একটা কবিতা হয়েছে আমাকে আর মিথ্যে বলতে হবে না মিথ্যা বলছি না যখন সুন্দর কোন লেখা পড়ি তখন তোমার কথা মনে পড়ে যায় মনে হয় লেখক যেন তোমাকে কল্পনা করেই লিখেছে আমি যদি কবি হতাম আমার সমস্ত লেখা তোমাকে ঘিরেই লিখতাম আমি যদি ভুল হতাম শুধু তোমার জন্যই ভুলতাম তোমার খোটাই বুঝে থাকতাম। আর যদি পাখি হতাম তোমাকে নিয়ে উড়ে যেতাম। কিন্তু আমি তো মানুষ। আর মানুষ যা চায় তা হয়তো সবসময় পায় না। যেমন আমি তোমাকে চেয়েও পাচ্ছি না। এবার আমাকে যেতে হবে আকাশ। কোথায় যাবে? অন্ধকারে। তুমি যেদিন আমাকে মনে করতে পারবে সেদিন আমি থেকে যাব। যেও না এখনি। যেতেই হবে। নিঃশব্দের মধ্যে আকাশ মৃদু গলায় বলে ওঠে তুমি যেও না। তুমি যেও না। তুমি চলে গেলে মৃত্যু আমাকে জড়িয়ে ধরে। আকাশের ঘুম ভাঙলো আবিরের ডাকে। সে ঘুম ঘুম চোখে বলল, কোথায় যাচ্ছিস? আজ আরেকটা ইন্টারভিউ আছে। আচ্ছা সাবধানে যাস। আর শুভকামনা। তুই উঠ। ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নে। সারাদিন রুমে থাকতে তোর ভালো লাগে। এখানে আসার পর কোথাও বের হলি না। আন্টি কল দিয়েছিল তোকে বাসায় যেতে বলেছে। বাসা থেকে আজ ঘুরে আয় ভালো লাগবে। বাসায় যাওয়ার ইচ্ছে নেই। ও বাসায় যেতে ইচ্ছে করে না। তবুও আন্টি সবসময় তোর জন্য চিন্তা করে। মানুষটার বয়স হয়েছে। অন্যের উপর রাগ করে আন্টিকে কেন অবহেলা করছিস? তোর খোঁজ নেওয়ার জন্য মানুষটা প্রতিদিন আমাকে একবার করে কল দেয়। অন্তত মাঝেমধ্যে বাসায় গিয়ে আন্টির সাথে দেখা করে আসতে পারিস। মানুষটা খুশি হবে আচ্ছা যাব যাস কিন্তু ভুলে যাস না আবার আচ্ছা আচ্ছা ভাবলেশীন ভাবে উত্তর দে আকাশ আমি বের হলাম সকালের খাবার তৈরি করে রেখেছি খেয়ে নিস আচ্ছা তুই এবার বের হ না হলে দেরি হয়ে যাবে ঢাকা যে জ্যাম আ বের হয়ে যায় দরজা বন্ধ করে আকাশ আবারো অলস ভঙ্গিতে শুয়ে পড়ে অনেকক্ষণ এপাশ ওপাশ করে তার ঘুম আসে বিরক্ত হয়ে একসময় উঠে ফ্রেশ হয়ে নেয়। তারপর নাস্তা করে নিজের জন্য এক কাপ চা বানায়। চায়ের মগ আর একটা কবিতার বই নিয়ে ছাদে চলে আসে। ইদানিং আকাশের কবিতা পড়তে ভালো লাগে। এই ভালো লাগার পেছনে একটা অদ্ভুত কারণ আছে। স্বপ্নে সে কাউকে কবিতা পড়ে শোনায়। একদিন ঘুম ভেঙে সে অবাক হয়ে ভাবে। সে তো কখনো কবিতার বই পড়েনি। তাহলে স্বপ্নে কবিতা জানলো কিভাবে? অবশ্য স্মৃতি হারানোর আগে সে বই পড়তে ভালোবাসতো কিনা তা তার মনে নেই মনে করতেও চায় না প্রতিটি কবিতা যেন তার না বলা কথা প্রতিটি লাইনে সে খুঁজে পায় নিজের হারিয়ে যাওয়া অনুভূতি মাঝেমধ্যে সে অবাক হয়ে ভাবে একজন মানুষ কেবল কয়েকটি লাইনে কিভাবে তার জীবনের গল্প বলে ফেলে বিষয়টা তাকে অবাক করে যেমন গত রাতে পড়া দুটো লাইন এখনো তার মাথার ভেতর ঘুরছে যারা মায়া কাটাতে পারে না তারা তারা কখনো উঠতে পারে না। আকাশ চায়ে চমক দেয়। হাতে থাকা বিষাদের আয়ু তিন প্রহর বইটি খোলে। গতকাল অর্ধেকটা পড়েছিল। আজ ঠিক করল যেভাবেই হোক পুরো বইটা শেষ করবে। কবিতার পাতায় চোখ রাখছে। মাঝেমধ্যে চায়ের মুখে ঠোট ছোয়াচ্ছে। হঠাৎ দূরের এক ছাদে তার দৃষ্টি পড়ে। একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেখানে। আকাশ একটু ভালো করে লক্ষ্য করল ভুল দেখছে না তো মেয়েটাকে সে চিনতে পেরেছে এই সেই মেয়ে যাকে সেদিন রাতে দেখেছিল মুহূর্তে বইয়ের প্রতি মনোযোগ হারিয়ে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে রইল দূর থেকে মুখ স্পষ্ট বোঝা না গেলেও খোলাচুলে মেয়েটাকে দারুণ লাগছে তার হাতেও একটা বই সে গভীর অনুযোগে পড়ছে সকালে রোদের উষ্ণতা তখন শহর জুড়ে তখন শহর জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ধীরে ধীরে তাপ বাড়ছে। কিন্তু মেয়েটার সেদিকে কোন খেয়াল নেই। মনে হলো পৃথিবীর বাকি সবকিছু তার কাছে গুরুত্বহীন। অন্যদিকে আকাশ তাকিয়ে আছে মেয়েটার দিকে। তার মনে অদ্ভুত এক মায়া ছুয়ে গেল। সে অনুভব করল মেয়েটার সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করছে। পরিচিত হতে মন চাইছে। কিন্তু সেটা সম্ভব নয়। কোন হাসপাতালের ছাদে গিয়ে কাউকে এভাবে ডেকে কথা বলা যায় না। তবু ইচ্ছেটা দমন করতে পারছে না। বরং কৌতুহালটা আরো বেড়ে যাচ্ছে। হঠাৎ মেয়েটা বই থেকে চোখ সরিয়ে আকাশের দিকে তাকালো। মুহূর্তেই আকাশ অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল। তাড়াতাড়ি দৃষ্টি সরিয়ে বইয়ের পাতায় চোখ রাখলো। যেন কিছুই হয়নি। কিছুক্ষণ পর আবার তাকাতেই দেখে মেয়েটা আর সেখানে নেই। পুরো ছাদ ফাঁকা। তীব্র রোদে খা করছে। সেই আলো তার চোখে লাগছে। আর বুকের ভেতর একরকম হালকা শূন্যতা অনুভব করছে। কেন যেন মনটা খারাপ হয়ে গেল আকাশের। রুমে ফিরে বইটা শেষ করলেও কোন তৃপ্তি পেল না। মেয়েটার ভাবনা বারবার মাথায় ঘুরছে। কে সে কোন রোগী নাকি ডাক্তার। অনুমান করতে চাইলেও কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারলো না। দুপুরের এক খেয়ে আরো বাড়ছে। অবশেষে কোন ভাবনা চিন্তায় না গিয়ে সে দ্রুত তৈরি হয়ে বের হয়ে গেল। হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে গেল জাহানার হাসপাতালের সামনে। ভেতরে ঢুকবে নাকি বাইরে থেকে ফিরে যাবে সে বুঝতে পারছে না। হাসপাতালের সামনে চায়ের দোকানে গিয়ে এক কাপ চা খেল। কিছুক্ষণ হাসপাতালের এপাশ ওপাশ হাঁটাহাটি করল। তুকুও কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারলো না। শেষে নিরুপায় হয়ে সোজা চলে এলো শাপলা চত্তর। আকাশ বসে আছে তার বড় ভাই ইমনের অফিসে। তাদের বাবার একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরি ছিল। বাবা মারা যাওয়ার পর ইমনি ব্যবসার দায়িত্ব নেয়। তার হাত ধরে ব্যবসা নতুন রূপ পায়। এখন শুধু বিস্কুট ফ্যাক্টরি নয়। তাদের আরো কয়েকটি ফ্যাক্টরি হয়েছে। ব্যবসার পরিধি বেড়েছে। সঙ্গেই মনের ব্যস্ততাও। আকাশ আসলে কোন বিশেষ কারণ ছাড়াই এখানে এসেছে। কোথায় যাবে ঠিক করতে না পেরে হঠাৎ মনে হলো ইমনের অফিসে যাওয়া দরকার। যদিও দরকার কথাটা ঠিক নয়। বরং অনেকদিন ভাইকে বিরক্ত করা হয়নি তাই এসেছে। আরেকটা কারণও আছে। মাঝেমধ্যে দেখা না হলে ইমন যেন ভুলে না যায় বাবার সম্পত্তির অর্ধেকের ভাগিদার সে। স্যার আপনাকে ডেকেছেন। অফিসের প্রিয় নেশা জানালো। আকাশ আস্তে ধীরে উঠল। দরজায় নক করতে ভেতর থেকে ইমনের কন্ঠ ভেসে এল ভেতরে আয় আকাশ ভেতরে ঢুকে বসতে বসতে বলল কেমন আছো ইমন ব্যস্ত দৃষ্টিতে ফাইলের পাতা উল্টাতে উল্টাতে বলল ব্যবসায় নানান রকম ঝামেলায় আছি তুই কেমন আমি ভালো আছি ভাবী কেমন আছে এমন একটু থেমে কিছুটা বিশিত মুখে উত্তর দিল ও ভালো আছে আকাশ ইচ্ছে করে ভাবীর কথা তুলেছে কারণ সে জানে এতে এমন একটু হলেও অসত করবে মানুষটার সাথে তার বিরাট ঝামেলা। সে আকাশকে দুচোখে দেখতে পারে না। সেজন্যই আকাশ বাসা ছেড়ে চলে গিয়েছে। একা একা জীবন কাটাচ্ছে। অবশ্য আকাশও চায়নি তার জন্য বাসায় প্রতিদিন ঝামেলা হোক। তাকে নিয়ে অশান্তি হোক। সেজন্যই সে একদিন হুট করে বাসা ছেড়ে আবিরের কাছে চলে আসে। তার চলে আসাতে সবাই খুশি হলো। মা অনেক কেঁদেছে। হঠাৎ অফিসে এলি কোন দরকার। ইমনের কথায় আকাশের ভাবনাস্রোত থেমে গেল। সে বলল না অনেকদিন তোমাকে দেখি না তাই ভাবলাম একটু দেখা করে যাই বাসায় গিয়েছিলি না যায়নি মাঝে মধ্যে আসিস মা তোকে নিয়ে খুব চিন্তা করে তুমি চাও আমি বাসায় যাই আকাশের এই আকশ্বিক প্রশ্নে ইমন কিছুক্ষণ চুপ করে রইল তারপর নিজেকে সামনে নিয়ে বলল কেন চাইবো না তুই তো আমার ছোট ভাই আচ্ছা আকাশ নিরাশক্তভাবে উত্তর দিল কিন্তু তার চোখ এড়িয়ে গেল না তার ভাইয়ের এর মুখে ওঠা তার ভাইয়ের মুখে ফুটে ওঠা বিব্রত ভাবটা এমন প্রসঙ্গ বদলাতে চাইল বলল টাকা পয়সা লাগবে কোন না আপাতত লাগবে না তবুও তোর একাউন্টে কিছু পাঠিয়ে দিচ্ছি যদি লাগে খরচ করিস টাকা লাগবে না যদি লাগে আমি চেয়ে নেব আকাশের কথা উপেক্ষা করেই ইমন মোবাইল বের করে দ্রুত একটা বড় অংকের টাকা ট্রান্সফার করে দিল তারপর বলল এত ভেবে লাভ নেই দরকার হলে আবার জানাস আচ্ছা আমি এখন উঠি তোমার অনেকটা সময় নষ্ট করলাম। দুপুরে খেয়ে যা। আমি পিয়নকে বলছি খাবার নিয়ে আসতে। না দরকার নেই ভাই। আমি খেয়ে এসেছি। মিথ্যা বলে আকাশ উঠে দাঁড়ালো। এক মুহূর্ত দেরি না করে অফিস থেকে বেরিয়ে এল। ভেতরে ভেতরে তার প্রচন্ড বিরক্ত লাগছে। আর কিছুক্ষণ সেখানে থাকলে হয়তো নিজেকে ধরে রাখতে পারতো না। তাই সে বেরিয়ে এসেছে। আকাশ কোন ঝামেলা চায় না। জীবনে কখনো সম্পত্তি বা টাকার লোভ তার ছিল না। কিন্তু এই কথাটা সে কোনদিন ভাই বা ভাবীকে বোঝাতে পারেনি। পুরনো কথা এখন আর তার ভাবতে ইচ্ছে করে না। অফিস থেকে বেরিয়ে রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে তার মন আবার ভেসে গেল অন্যখানে। যেখানে একটি মেয়ে ছাদে বসে পড়ছে। আচ্ছা মেয়েটার নাম কি? আকাশ ভাবতে থাকল। আকাশ দুপুরে এক হোটেলে খেয়ে সোজা চলে এলো তার বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। দুর্ঘটনার পর থেকে সে টিএসসির দিকে তেমন আসেনি। আসতেও চায়নি। কয়েকবার আবিরের জোড়াজোড়িতে এসেছিল। কিন্তু প্রতিবারই অভিজ্ঞতা ভালো হয়নি। এ জায়গার মানুষ, সময়, স্মৃতি কিছুই তার মনে নেই। সে কলাভবনের সামনে দিয়ে হাঁটছে। হঠাৎ দূর থেকে কেউ তাকে ডাকল। আকাশ থেমে দাঁড়ালো। দেখল এক যুবক তার দিকে তার দিকে ছুটে আসছে। আকাশ না? আকাশ লোকটিকে চিনতে পারলো না। তবুও ভদ্রভাবে উত্তর দিল। আমাকে বলছেন আর কাকে বলব? তুই কি আমাকে চিনতে পারছিস না? ঠিক চিনতে পারছি না। আকাশ সরলভাবে স্বীকার করল। বন্ধুকে ভুলে গেছিস? আমি মেহেদি। মেহেদি নামটা মুখে আনলেও আকাশের মনে কোন ছবি ফুটে উঠল না। মেহেদর উজ্জ্বল মুখ মুহূর্তে ফ্যাকাসা হয়ে গেল। সে বলল, বছরখানিক যেতেই ভুলে গেলি। আসলে থাক বাদ দে। মেহেদী আকাশের কথা কেটে দিল। এখন বল তুই কেমন আছিস? এই তো চলছে। সংক্ষিপ্ত উত্তর আকাশের। চল চা খেতে খেতে আড্ডা দি। আকাশ মুখের উপর না বলতে পারলো না। তারা হাঁটতে হাঁটতে লাইব্রেরির দিকে চায়ের দোকানে গেল। মেহেদি কথা বলছে একের পর এক। আর আকাশ শুধু হু বা না বলে সাড়া দিচ্ছে। ভেতরে ভেতরে সে খুব অস্বস্তিবোধ করছে। ভয়ানক বিব্রত করা লাগছে। তবুও যতটা সম্ভব স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছে। হঠাৎ মেহেদী জিজ্ঞেস করল, গোধুলির খবর জানিস? আকাশ থমকে গেল। কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল, গোধুলি? এখন আবার বলবি না তুই গোধুলিকেও ভুলে গেছিস। মেহেদীর চোখে মুখে কৌতুহল আর ব্যাঙের মিশ্রণ। আকাশ বুঝলো মেহেদি তার সঙ্গে মজা নিচ্ছে কিন্তু কথাগুলো তার ভেতরটা কেমন যেন ঝাকুনি দিল বিরক্ত হয়ে বলল আমার একটা জরুরি কাজ আছে যেতে হবে পালাচ্ছিস মেয়েদির ঠোটে জঘন্য এক হাসি খেলা করছে পালাবো কেন না পালাতেই পারিস এতে দোষ কি বধুকে আগেই বলেছিলাম তুই ওর জন্য সঠিক মানুষ না মেয়েটা আমার কথা শুনলো না এখন তো বুঝছে গরীবের কথা বাসি হলে ফলে আকাশ কোন উত্তর দিল না। সে বুঝতেই পারছে না মেহেদী কি বলছে কিংবা সে কেন এমনভাবে কথা বলছে। মেয়েটার জন্য দুঃখই হয়। মেহেদী অভিনয় করে দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কিন্তু চোখে মুখে স্পষ্ট বিদ্রুপ। আকাশ দ্রুত হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিল। সে এক মুহূর্তও আর সেখানে থাকতে চায় না। মেহেদী আরো কিছু বলছিল কিন্তু শব্দগুলো আকাশের কানে পৌঁছালো না। সে হেঁটে অনেকটা দূর চলে এসেছে। সে জানে মেহেদী এখনো হাসছে তাকে নিয়ে হাসছে। আকাশের সে পুরনো মাথা ব্যথা হঠাৎ ফিরে এল আবার। ধীরে ধীরে তা ভয়ঙ্কর রূপ নিতে লাগল। তার মাথার ভিতর অসংখ্য এলোমেলো চিন্তা ডানা প্রসারিত করে ছড়িয়ে পড়েছে। গুধুলিকে। নামটা তার মস্তিষ্কে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। কি তার পরিচয়? যাদের সে ভুলে গেছে তাদের মধ্যে কি গোধুলির একজন নাকি এই নাম অন্য কারো গোধুলির সঙ্গে তার সম্পর্ক কি ছিল সে কি তাকে ভালোবাসতো যদি ভালোবাসতো তাহলে এখন সে কোথায় কেন কোনদিন দেখা করতে আসেনি নাকি তাদের সম্পর্কে শেষ হয়ে গিয়েছে প্রশ্নগুলোর ভিড়ে আকাশের মাথা ভারী হয়ে উঠেছে তার মনে হচ্ছে সে কাউকে ভুলে গেছে এমন কাউকে যাকে তার ভোলা উচিত ছিল না কখনো ভাবনাগুলো একেবারেই অগোছালো তার মস্তিষ্কে যেন এক ভয়ানক ঝড় পড়েছে কখন সে টিএসসি থেকে হাঁটতে হাঁটতে মতিঝিল এসে পড়েছে নিজেই জানে না মানুষের ভিড় রোদের গরম বাতাস গাড়ির শব্দ সব মিলিয়ে সে যেন এক অজানা ঘুরে হাঁটছে পা ফেলছে অনিয়মিতভাবে শরীর ভারী লাগছে আকাশ অস্বাভাবিকভাবে হাঁটছে পা ফেলছে এলোমেলো নেশাগ্রস্ত মানুষের মত হেঁটে চলছে মাথার মধ্যে অসম্ভব যন্ত্রণা হচ্ছে সে আর কিছু ভাবতে চায় না। কিন্তু সে ভাবা বন্ধও করতে পারছে না। কেবল তার অবচেতন মন বলছে তার হাতে সময় নেই। স্মৃতির এই রহস্য তাকে দ্রুত সমাধান করতে হবে। যদি দেরি হয় তবে সে সবকিছু হারিয়ে ফেলবে। তাকে যা করার দ্রুত করতে হবে। হঠাৎ আকাশ অনুভব করল সে যেন শূন্যে ভাসছে। চোখের সামনে দুনিয়া ঘুরছে বৃত্তাকারে। দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে। একে একে সবকিছু দূরে সরে যাচ্ছে। তারপর হঠাৎ অন্ধকার চারপাশে মানুষের হইচই অস্পষ্ট শব্দে ভরে উঠেছে বাতাস আকাশের মনে হলো হাজার হাজার মানুষ তাকে ঘিরে আছে সে কোথায় কি হয়েছে তার কেন এভাবে মাটিতে পড়ে আছে উঠতে যাবে কিন্তু কিন্তু হাত তুলতেই বুঝলো তার শরীরে কোন শক্তি নেই চোখ নামিয়ে দেখলো হাত রক্তে ভিজে আছে মাথা থেকে গড়িয়ে পড়ছে রক্তের স্রোত চেতনা ক্রমশ ফিকে হয়ে আসছে তবু অনুভব করল কেউ কেউ তার মাথাটা তুলে নিজের কোলের উপর রেখেছে। এক কোমল নারী কন্ঠ বলছে। ভয় পাবেন না। আপনার কিছু হবে না। সাহস রাখুন। আকাশের মনে হলো এই কন্ঠস্বরটা তার খুব চেনা। স্বপ্নে যে মেয়েটির সঙ্গে এসে কথা বলে ঠিক সেই কন্ঠ। কন্ঠটা শুনলেই তার সব অস্থিরতা হারিয়ে যায়। মন শান্ত হয়ে যায়। আকাশ কষ্ট করে বলার চেষ্টা করল। আমার আর ভয় নেই। আমার খুব ঘুম পাচ্ছে। আমি ঘুমাবো। তার কথা কেউ শুনলো না। সে মেয়েটির মুখ দেখতে চাইল। চোখ খুলে তাকাতেই তার সামনে ভেসে উঠলো সে পরিচিত মুখ। খোলা চুলের মেয়েটা যাকে সে সকালে ছাদে দেখেছিল। যে মেয়েটার সঙ্গে কথা বলার জন্য সারাটা দিন সে নানা উপায় খুঁজছিল। মেয়েটা কি সত্যি এখন তার সামনে? নাকি এটা শুধুই বিভ্রম। আর কিছু ভাবার শক্তি নিয়ে আকাশে। ভারী হয়ে এলো চোখের পাতা। পৃথিবী ধীরে ধীরে অন্ধকারে ডুবে গেলো
চলবে...

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ২য় পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন