ফন্ট সাইজ:
থিম:
বসন্তের চৈত্র

১ম পর্ব

লেখক: নুসরাত পুতুল

আমার স্বামী সঙ্গে ভাইয়ের মেয়েকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখে আমার পায়ের তলার মাটি সরে গেলো।

ফোনের স্কিকে জলজল করছে একটা নোংরা ছবি। সে ছবিটাতে দৃশ্যমান মুখ দুটি আমার সুপরিচিত আপন দু জন মানুষ।

একজন আমার প্রাণ প্রিয় স্বামী অর্ণ আর একজন আমার অতি আদরের ভাগ্নি তুলি।

আমি মিসকাতুল জান্নাত অনি । বাবা মায়ের আদরের ছোট সন্তান। এক ভাই এক বোন আমরা। বড় ভাই তামিম। তার মেয়েই অনি,

আমার মা বাবা মা*রা গেছেন আমার বিয়ের আগেই।

যখন আমার বিয়ে হয় তখন আমার বয়স ১৬। আমার ভাইজি তুলির বয়স মাত্র ৩ বছর।

আদৌও আদৌও বুলিতে আমায় ডাকে ফুপপি ।

আজ সে ভাইজি আমার জীবনে এতো বড় কাল হয়ে দাড়াবে কল্পনা করতেও আমার কলিজা কাপছে।

১৪ বছরের সংসার আমার। আমাদের বিয়েটা ছিল পারিবারিক ভাবে। ভাই ভাবির পছন্দেই আমার আর অর্ণের বিয়ে হয়।

১৪ বছর আগে যখন এ বাড়িতে আসি তখন আমার শশুর শাশুড়ী অনেকটা শক্ত ছিল। বয়সের ছাপ ছিল না তাদের মধ্যে।

আমার মনে আছে বিয়ের প্রথম রাতে সাদা শাড়ি পড়তে দেওয়া হয় আমাকে।

যেখানে বিয়েতে লাল বেনারসি পড়িয়ে নববধূকে বাসর ঘরে উপস্থাপন করা হয় সেখানে বিয়ের লাল শাড়ি পাল্টে সাদা কাপড় পড়িয়ে বসানো হলো আমায়,

বাড়ি ভরা মানুষ, নিজেকে কেমন বিধবা লাগছিলো সে দিন।

অল্প বয়স, মুখ ফুটে প্রশ্ন করার সাসটুকু হয়ে উঠেনি কেন এ সাদা কাপড় পরিয়েছে।।

মনের অস্বস্তি মনে রেখে চুপচাপ বসে ছিলাম।

অর্ন ও ছিল ২০ বছরের তরতাজা যুবক। বাবার এতো বড় ব্যবসা জমিদারি থাকায় ছেলেকে বিয়ে করাতে সময় বিলম্ব করেনি তারা।

সাদা আঁচল টেনে মুখটা ডেকে রাখি আমি।

মনে ভয় আর সংশয়,

অর্ণ এসে ঘুমটা সরিয়ে বলে,

" কি বেপার নববধূ এমন রুপে কেন?

পুরুষ নালী কন্ঠে কেঁপে উঠি আমি। মুখ ফুটে কথা বলতে পারছিনা ভয়ে,

অর্ণ আমার সকল ভয় ভেঙে দেয়,

" তুমি কি নার্ভাস ফিল করছো?

এতো ভয় পাওয়ার কিছু নেই, মনে করো আজ থেকে আমি তোমার আপন ভাই ।

তুমি আমাকে নিজের ভাই মনে করতে পারো,

অর্ণের কথায় সপ্তদশী আমি খিলখিল করে হেসে উঠি মুহূর্তে। সদ্য বিয়ে করা বরকে কিনা বলছে নিজের ভাইয়ের চোখে দেখতে।

অর্ণ ও হাসে,

মাথা চুলকে বলে,

" না মানে বন্ধু ভাবতে পারো।

সে থেকে শুরু হয় আমাদের প্রেম।

প্রথম রাতে অর্ণ ছুয়েও দেখেনি আমায়। তেমন কিছু হয়নি আমাদের মধ্যে।

এ নিয়ে সকাল হতে তোলপাড় লেগে যায় সারা বাড়িতে।

সমস্ত বাড়িতে কানাঘুঁষা শুরু হয় - বউ বিয়ের আগে সতীত্ব হারিয়েছে ।

আমার শাশুড়ী আমায় টেনে এনে ভালো করে দেখলো।

ফেসফেসে গলায় দাঁত কিরকির করে বললো।

" এই মাইয়া বিয়ার আগে কয় পুলার লগে রাইত কাটাইছত।

আমি ভয়ে কুঁচকে গেলাম।

" এ সব কি বলছেন আম্মা,

আমি অমন মেয়ে না,

আমার হাতটা চেপে ধরলেন তিনি,

" তুই কেমন মাইয়া তা তো সকালে ঘুম থেকে উঠার পরেই বুইঝা গেছি।

সতীত্ব নাই তোর। আল্লাহ জানে বিয়ার আগে কয় জনার লগে,

আম্মার কথা শোনে হুহু করে কেঁদে দেই আমি। অর্ণ রুমে আসে তখনই।।

আমাকে কাঁদতে দেখে তার মা কে জিগ্যেস করে কেন কাদছে,

মহিলা আরও খেপে যায়,

" কেন কাঁদব আবার, বিয়ার আগে নষ্টামি কইরে আইছে, এখন যেই সে কথা ধরা পরলে তাই কানতাছে। সত্য গোপন থাহে না।

মায়ের কথার মানে অর্ণ বুঝল না ঠিক,

" এসব কি বলছেন মা, বিয়ের আগে নষ্টামি করছে মানে?

আমার শাশুড়ী লাজ সরমের মাথা খেয়ে নিজের ছেলেকে বলল,

" কি বলছি বুঝস না। তোর বউ যে সতীত্বহীন এডা বাসর ঘরে বুঝস নাই তুই?

" মানে এসব কি বলছেন আপনি?

শাশুড়ী কপাল চাপটালো,

আমাকে পিছন ঘুরিয়ে দেখিয়ে বলল,

" দেখ তোর বউয়ের সাদা কাপড়ে র*ক্তের দাগ লাগে নাই।

আরে পয়লা সোয়ামির লগে শুইলে র*ক্ত না লাগলে সে মাইয়ার সতীত্ব নাই এডা আর কার বুঝার বাকি থাকে।

অর্ণের মাথায় র*ক্ত চেপে যায়,

রাগী গলায় বলে,

" ব্যাস মা যথেষ্ট বলছেন।

নিজের ঘরে যান। নিজের ছেলে আর ছেলের বউকে নিয়প এসব নোংরা মন্তব্য করতে একটু ও বিবেকে বাধল না আপনার?

স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কি হয়েছে কি হয়নি তা না জেনে এসব বলছেন।

আরও কিছু কথা শুনিয়ে শাশুড়ী কে বের করে দিয়েছিল অর্ণ।

শাশুড়ী চলে গেলে অর্ণের বুকে শব্দ করে কেঁদে ফেলি আমি,

" কেন আপনি আমায় ছুয়ে দেখেননি কাল।

তাহলে আজ এতো বড় অপবাদ গায়ে লাগতো না আমার,

অর্ণ দুষ্টু হেঁসে বলে,

" এখন দিব নাকি তোমায় ছুয়ে?

কথাটা কর্ণদ্বয়ে আসতেই শরীর ঝাঁকুনি দিয়ে উঠে আমার।

অর্ণ হেসে জবাব দেয়,

" আগে মনের মিলন হোক বধূ পরে না হয় দেহের মিলন হবে।

যাও ফ্রেস হয়ে কাপড় পাল্টে নাও, সকালের নাস্তা করব একসাথে

।

সে দিন থেকে অর্নকে ভালোবাসতে শুরু করি। এমন মানুষ ভালোবাসা ডিজার্ব করে। বাধ্য করে আমায় ভালোবাসতে। ভরসার হাত পাই আমার হাতের উপর।

শাশুড়ি সহ বাড়ি শুদ্ধ লোকের কটু কথা এক নিমিষেই খুশিতে পরিনত হয়ে যায়, স্বামী নামক মানুষটার এতো বিশ্বাস দেখে আমার উপর।

সে অর্ণের পাশে আর নিজের ভাইজীকে উল*ঙ্গ অবস্থায় মেনে নেওয়াটা আদৌ আমার সান্নিধ্যে আসে কি?

ফোনের স্কিনের আলো নিভতেই চোখটা নিভু নিভু হয়ে আসছে আমার।

এই বুঝি মৃ*ত্যু অতি নিকটে,

শেষ একটা কথা মনে হলো,

" এ ছবি গুলো কি মিথ্যা হতে পারে না কোনো ভাবে?আচ্ছা এখন আমি মা'রা গেলে কি অর্ণ তুলিকে বিয়ে করে আনবে এ ঘরে?

#চলবে

#বসন্তের_চৈত্র

পর্ব-১

#নুসরাত_পুতুল

প্রথম পর্ব ভালো লাগলে সকলে রেসপন্স করবেন🥰

পর্ব সম্পন্ন!

আপনি সফলভাবে ১ম পর্ব শেষ করেছেন।

আরও দ্রুত ও মসৃণভাবে পড়তে চান?

প্রেমময় অ্যাপে সকল উপন্যাস সম্পূর্ণ বিজ্ঞাপন ছাড়া এবং অফলাইনে ডাউনলোড করে পড়তে পারবেন।

Google Play থেকে অ্যাপ নামান
প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতায় অ্যাপে পড়ুন
অ্যাপে পড়ুন